খুবই কষ্টকর একটা সপ্তাহ পাড় করলাম। কানার ঢিল ছোড়ার মত ' জাস্ট ট্রাই' করার জন্য স্কলার্শীপর জন্য এপ্লাই করলাম। আর আমাকে অবাক করে দিয়ে লিস্টে ও নাম চলে আসলো। স্কলার্শীপের আকার-আয়তন দেখেত চোখ ছানাবরা।
১০ মাসের স্কলার্শীপ
--- ২০০০ ইউরো (যাতায়াত)
--- ২ সেমিস্টারের এডুকেশন ফি
--- ১০০০ ইউরো/মাস (থাকা-খাওয়া)
মানে আমার মাস্টার্সের রিসার্চ/ থিসিস পার্ট পুরো ফ্রি
কিন্তু সমস্যা ১ টাই ৩ সপ্তাহের মধ্যে আইএলটিএস স্কোর লাগবে, মিনিমাম ৬ । কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়াই আইএলটিএস দিতে বইসাগেলাম। একে বারে কানের পাশ দিয়ে গুলি যাওয়া যাকে বলে আর কী, পাইলাম ৬ (আমার আগের একটা পোস্টে বিস্তারিত লিখেছি)।
এবার ভিসার খোজ-খবর করার পালা। ঐ খানেত একেবারে লঙ্কা কান্ড, মনে হলো বাংলসদেশের সব পোলাপাইন ইংলেন্ডে যাবার লাইনে দাড়াইছে। আগষ্টের ১৬ তারিখে হেল্থ টেস্টের জন্য বুকিং দিলাম ৩-৪ ঘন্টা মোবাইলে ট্রাই করে । কিন্তু ডেট পেলাম অক্টোবরের ৮ তারিখ চিটগং এ
৭ তারিখে গ্রিনলাইনের ভলভোতে চিটগং -- রাতে হোটেলে ঘুম আর ৮ তারিখে সেনসিভ ডাইগোনোস্টিক সেন্টারে টেস্ট।
টেস্টের জন্য যা যা প্রয়োজন: (যদি কারো কাজে লাগে)
১। বুকিং -নির্ধারিত ৪-৬ টি মোবাইল নম্বরে কল করে বুকিং দিতে হয়। ৪-৬ ঘন্টা ট্রাই করে পাওয়া যায়।
২। পাসপোর্ট
৩। পাসপোর্টের প্রথম ৬ পৃষ্ঠার ফটকপি
৪। টাকা-৩৮১৫
৫। পাসপোর্ট সাইজ ছবি -২ টা
করনীয়:
১। সকল জায়গায় পাসপোর্টের অনুরুপ স্বাক্ষর।
২। ছবির পেছনে মাঝ খানে কেপিটাল লেটারে নাম
৩। ফটকপির প্রতি পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর
৪। সকল ফর্ম কেপিটাল লেটারে পুরন করতে হবে এমন কী ই-মেইল এড্রেস ও।
৫। সময়ের অনেক আগেই উপস্থিত হওয়া।
আমার এপয়েন্টমেন্ট ৯:৩০ হলেও ৮ টায় গিয়ে হাজির ....যার ফল পেলম প্রায় হাতেনাতে ... ওরা প্রথম ৫০ জনকে ডাকায় ১০:০০ টা পর্যন্ট যাদের এপয়েন্টমেন্ট ছিল সবাই একসাথে সুযোগ পেলাম। প্রথমেই ১ টা ফর্ম দিল। আমাদের সবারই মনে হয় 'ফর্ম-ফোবিয়া ' আছে না হলে যেটা পুরোন করতে ১৫ মিনিট লাগে না সেটা নিয়ে ঘন্টা পার করে দিল অনেকেই। ফলে এখানেও অনেটা এগিয়ে গেলাম।
ফর্ম ও পাসপোর্ট জমা দেবার মিনিট ২০ পরেই ফর্মের একটা প্রিনটেড কপি ও পাসপোর্ট ফেরত দিল। প্রিনটেড কপি ভাল করে দেখতে হবে কোন ভুল আছে কী না .. ভুল থাকলে তা ঠিক করে টাকা জমা দিয়ে রশিদ নিতে হবে। এর পর একটা স্চেস্ট এস্করে ......ব্যাস ঘটানা ক্ষতম।
১১:৩০ হোটেলে ফিরে ফ্রেস হয়ে ...গোছগাছ করে আবার ৩ টায় সেনসিভে হাজির। ৪:৩০ রিপোর্ট নিয়ে সোজা সৌদিয়ার বাস কাউন্টারে। মার্সিটিজ বেঞ ....শুধু নামেই
সকালে অফিসে পৌছে দেখি ২ দিনের জমে থাকা কাজের পাহাড়। কী আর করা শুরু করে দইলাম......... অবশেষে গতকাল দুপুরে সব শেষ হল....কঠিন একটা সপ্তাহ পার করলাম আরকি।
ইউ কে এর ইউনিভার্সিটি থেকে এখনও কোন কাগজ পত্র পাইনি। ৩০ তারিখের মধ্যে না পেলে অক্টোবরে নয় মলে হচ্ছে আগামী জানুয়ারিতে যেতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



