somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ইভিএম : সল্প অথবা অপপ্রচারের শিকার এক বাংলাদেশী প্রযুক্তি

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে তুমূল আলোচিত-সমালোচিত এক যন্ত্র বিশেষ। সপ্ল প্রচার অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে অপ-প্রচারের শিকার এই যন্ত্রটি সম্পুর্ন ভাবেই দেশীয় প্রযুক্তির ফসল যা দ্রুত ও নির্ভুল ভাবে ভোট গ্রহন ও ফল প্রকাশে তাৎপর্যপূর্ন এক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে । আমরা ইতিমধ্যেই এর কার্যকরিতার প্রমান পেয়েছি চট্রগ্রাম, নারায়ণগন্জ্ঞ ও সর্বশেষ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। নুন্যতম ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিটে ভোট গননায় সক্ষম এই যন্ত্রগুলোর মাধ্যমে ৪-৬ ঘন্টার মধ্যেই পুরো নির্বাচনের ফল ঘোষনা সম্ভব। ফলে বহুল প্রচলিত গভীর রাতের ভোট কার্চুপির অভিযোগ (পরাজিত দলের কমন অভোযোগ) থেকে অন্তর্ত রেহাই পাবে আমার মত আমজনতা আর দেশের নির্বাচনী ব্যায়ও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

ইভিএম কি ?
দেশে প্রচলিত মান্ধাত্বা আমলের কাগুজে বেলট পেপার, সিল ও লোহার/প্লাস্টিক বেলট বক্সের বিকল্প হিসেবে তৈরী হয়েছে এই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন। যা মূলত আমাদের প্রচলিত ভোট দান পদ্ধতি থেকে বেলট পেপার, সিল ও বেলট বক্সকে রিপ্লেস করবে। ভোটার সনাক্তকরন, স্বাক্ষর গ্রহন ও অমোচনিয় কালি দিয়ে ভোট দাতা চিন্হিত করন, ভোট গননা ও ফল প্রকাশ ইত্যাদি কাজ আগের নিয়মেই সম্পন্য হবে। আমাদের ইভিএমগুল কোন নেটওয়ার্কের আওতায় কাজ করে না বরং এগুলোর প্রত্যেকটিই স্টেন্ডএলোন সিসটেম হিসেবে স্বয়ংসম্পুর্ন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ক্যালকুলেটগুল যেমন সতন্ত্র ভাবে কাজ করে ঠিক সেই ভাবে কাজ করে প্রত্যেকটি ইভিএম ইউনিট। এমনকি একটি ভোট কেন্দ্রে ব্যবহৃত ৩-৫ টি ইভিএম ইউনিটও কোন লোকাল নেটওয়ার্কের আওয়ায় থাকে না ফলে একটির কারনে অন্যগুল কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয় না।

ইভিএম কি হ্যাক করা সম্ভব ?

বহিঃবিশ্বে ব্যবহৃত ইভিএমগুল সাধারনত একটি নেটওয়ার্কের আওতায় পরিচালিত হয় ফলে নেটওয়ার্ক ফিশিং বা সেন্ট্রাল/সাব-সেন্ট্রাল ডাটা সেন্টার হ্যাক করে পুরো ভোটের ফলাফল বদলে ফেলা যায়। যার বড় একটি নজির আমরা দেখেছি যুক্তরাষ্ট্রের বুশ-আলগোরের নির্বাচনী দ্বৈরথে।

আবার অনেক দেশে ইভিএমগুল স্টেন্ডএলোন মেশিন হলেও ভোট গ্রহন শেষে সবগুল ইভিএম ইউনিটকে একটি সেন্ট্রাল লোকেশনে নিয়ে আসা হয় এবং ভোট গ্রহনের অনেক পড়ে ভোট গননা করা হয়। ফলে ভোট দান ও গননার মধ্যবর্তি ৫-৭ ঘন্টায় ইউনিট হ্যাক করা বা ভোট গননার সেন্ট্রাল লোকেশনে ভোট কার্চুপি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

আমাদের ইভিএম ও কী হ্যাক করা সম্ভব ?

যেহেতু আমাদের ইভিএম ইউনিটগুল কোন নেটওয়ার্কের আওতায় থাকে না সেহেতু নেটওয়ার্ক ফিশিং বা সেন্ট্রাল ডাটা সেন্টার হ্যাক করার প্রশ্ন অবান্তর। আবার সেহেতু ইউনিটগুল আলাদা আলাদা ভাবে ভোট গননা করে সেহেতু হ্যাক করতে হলে প্রত্যেকটি ইভিএম ইউনিটকে আলাদা আলাদা ভাবে হ্যাক করতে হবে, যা অনেক ব্যায়বহুল ও নিশ্চিত ভাবে ঝুকিপূর্ন। অর্থাৎ একটি ভোট বক্স ছিনতাই করার মত করেই একটি ইভিএম ইউনিটিকে দখলে নিতে হবে।

যেহেতু আমাদের ইভিএমগুলতে কোন ব্লটুথ, ও্য়াই-ফাই ইত্যাদি ওয়ারলেস ডাটা কানেক্টোভিটি মেকানিজম নেই সেহেতু রিমোটলিও একে হ্যাক করা সম্ভব নয়। হ্যাক করার অবশিষ্ট যে উপায়টি বাকি থাকে তা হল কোন ওয়ার-ডিভাইস কানেক্ট করে ইভিএম এর অপারেটিং প্রগ্রামটি বদলে দয়া।

আমাদের দেশে যেহেতু প্রতিটি ভোট কন্দ্রে স্হানীয় ভাবেই ভোট গননা ও ফল প্রকাশ করা হয় যেহেতু সেন্ট্রাল কোন লোকেশনে নিয়ে ভোটের ফল পালটে ফেলার ও কোন সুযোগ নেই।

আমাদের ইভিএম ইউনিট কনফিগারেশন:

১। আমাদের ইভিএম ইউনিটের ২ টি অংশ -

ভোটিং ইউনিট/বেলট ইউনিট - বেলট পেপারের অল্টারনেটিভ। একটি নিউনিটে সর্বোচ্চ ১২ টি প্রতীক থাকে। বেশি প্রয়োজন হলে একাধিক ভোটিং ইউনিক একটি কন্ট্রল ইউনিটে যোগ করতে হয়।
কন্ট্রল ইউনিট - ই বেলট পেপার ইশু, ভোট কাস্ট, মোট গ্রহনকৃত ভোট ডিসপ্লে ও ভোট গননার কাজ করে এটি।

২। একটি ভোট কাস্ট হবার ১০ সেকেন্ড পরে ২য় ভোট কাস্ট হয়। তাই চাইলেই একাধিক ভোট দ্রুত দেয়া সম্ভব নয়।

৩। কন্ট্রল ইউনিট থেকে ই-বেলট ইশু না হলে ভোটিং ইউনিট চেপে ভোট কাউন্ট করা সম্ভব নয়। ফলে ইশুকৃত ১ টি ই-বেলটের জন্য মাত্র ১ টি ভোটই কাস্ট হবে।

৪। কন্ট্রল ইউনিটটিতে মোট ৪ টি OTP (One Time Programmable) মাইক্রোকন্ট্রোলার চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। চিপগুল শুধুমাত্র একবারই রাইট করা সম্ভব। কনটেন্ট ইরেজ/ রি-রাইট করার কোন অপশন নাই।

৫। কন্ট্রল ইউনিটে একটি ইমার্গেন্সি ক্লোজ বাটন রয়েছে যা চাপলে কন্ট্রল ইউনিটটি লকড হয়ে যাবে। ফলে ইউনিট দখল অনেকাংশে রোধ করা যাবে।

অর্থাৎ হ্যাক করার একমাত্র ওপায় হলো ঐ ৪ টি চিপ রিপ্লেস করা অথবা প্রগ্রাম রাইট করার সময় ভেজাল কোড রাইট করা। যা কোড রিভিও করে বের করা সম্ভব। আবার এই ধরনের কার্চুপি করতে হলে নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অতি-উচ্চ পর্যায়ের জোগসাজড় প্রয়োজন পরবে। আর তথ্যপ্রমান গায়েব করতে হলেও প্রতয়েকটি ইভিএম এর সীল ভেঙ্গে চিপগুল বদলাতে হবে।

ইভিএমকে আরো কার্যকরী করতে যা প্রয়োজন:

১। যেহেতু এটি একটি ইনভিজিবল ভোটিং সিস্টেম (ভোটারে কাছে) সেহেতু এর বেলট ইউনিটের সাথে প্রিন্টিং ফেসিলিটি যোগ কারা যেতে পারে যা ভোট দানের সময়, ভোটার নম্বর ও কাকে ভোট দেয়া হল তা প্রিন্ট করবে।

২। এর কন্ট্রল ইউনিটে একটি ফিংগার প্রিন্ট স্কেনার যুক্ত করা যেতে পারে যা শুধু ফিংগার প্রিন্টটি রেকর্ড করে রাখবে কোন রুপ ভেরিফিকেশন করবে না (এটি করতে হলে ইউনিটটিকে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে হবে) । পরে ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হলে সেন্ট্রাল ভোট ডাটা বেজের সাথে ক্রস চেক করা যাবে।

৩। এটি আকটি এডভান্স অপশন যা এই মুহুর্তে কস্ট ইফেক্টিভ নয়। তবু ভবিস্যতের ইভিএম কন্ট্রল ইউনিকে একটি উচ্চ ক্ষমতার প্রসেসর যুক্ত করে যেন তা ফিংগার প্রিন্ট মেচ করতে পারে সেই অপশনটি যুক্ত করা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে ভোট ডাটা বেজের প্রয়োজনীয় একটি ক্ষুদ্র অংশ (শুধু ঐ কেন্দ্রের ভোটারদের) কন্ট্রল ইউনিট টিতে থাকার ব্যাবস্থা করতে হবে।

ব্যাক্তিগত ভাবে আমি মনে করি শুধুমাত্র প্রযুক্তিভীতি অথবা বিরোধীতার জন্যই বিরোধীতা করার জন্যই অনেকে ইভিএম এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অপপ্রচার ও তথ্য প্রাপ্তির সল্পতার জন্য ইভিএমকে ঘিরে যে অবিশ্বাসের জন্ম হয়েছে তা শুধু প্রযুক্তি মনস্ক ব্যাক্তিদের লেখনী ও তথ্যের অবাধ প্রচারেই দূর করা সম্ভব।





[খুব সল্প সময়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের ভোটার-ডাটাবেজ প্রজেক্টে কাজ করার দায় বদ্ধতা থেকেই অনুপ্রানীত হয়েছি আপনাদের সাথে তথ্য শেয়ার কারতে]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29521673 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29521673 2012-01-13 14:19:09
আবার বাড়ল জ্বালানী মূল্য : আবুল মন্ত্রীদের হাত থেকে আমাদের বাচাঁবে কে ?
মাত্র এক সপ্তাহ আগেই আমি লিখেছিলাম যে, আমাদের অর্থনীতি এখন ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে আছে । তাই খুব একটা অবাক হচ্ছিনা এই আচমকা মূল্য বৃদ্ধিতে কারন মুমূর্ষ রোগীকে বাচাঁতে তেতো কুইনাইন থেকে শুরু করে অস্কিজেন-মাস্ক পর্যন্ত যে কোন কিছুই হতে পারে।

এবারের মূল্য বৃদ্ধিতে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ৬১ টাকা, কেরোসিন ৬১ টাকা, অকটেন ৯৪ টাকা, পেট্রোল ৯১ টাকা ও ফার্নেস অয়েল ৬০ টাকা দরে বিক্রি হবে। সরকারী ভাষ্য মতে এই মূল্য সমন্বয়ের পড়েও ডিজেল, কেরোসিন ও ফার্নেস অয়েল বিক্রিতে লিটারে প্রতি যথাক্রমে ১৬ টাকা ৩৪ পয়সা, ১৪ টাকা ৮৪ পয়সা ও ৪ টাকা ৯৫ পয়সা ভর্তুকি দিতে হবে। আর বৃদ্ধির পেছনে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে

১। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়া
২। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া।
৩। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভর্তুকি বেড়ে যাওয়া

টাকার মূল্য কমে গেছে এটা সত্যি নভেম্বরের শুরুতে যে ডলার ৭৭ টাকায় পাওয়া যেত তা গতকাল বিক্রি হয়েছে ৮২ টাকায় (আর কাব মার্কেটে তা ৮৫-৮৬) । অর্থাৎ ২ মাসে টাকা ৬'৪% মূল্য হারিয়েছে অথচ গরীবের জ্বালানী খ্যাত ডিজেলের মূল্য বাড়ান হল ৮'৯২% ভাগ !

আন্তর্জাতীক বাজারে মূল্য-বৃদ্ধি স্রেফ একটি অযুহাত মাত্র; গত নভেম্বরেই পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ২০০৯ এর পর আন্তর্জাতিক জ্বালানী মূল্য যে কোন সময়ের চেয়ে স্থীতিশীল অবস্থায় রয়েছে। গতকাল ও ব্য্যরেল প্রতি ক্রুড অয়েলের মূল্য ১০০ ডলারের নিচে ছিল (২০০৯ এ ছিল ১২০ ডলার)। আর স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার জ্বালানী মূল্য বৃদ্ধির কোন রিপোর্ট ও চখে পরেনি।

সব শেষে বলা হয়েছে বিদ্যুত উৎপাদনে ভর্তুকির পরিমান বেড়ে যাওয়ার ধাক্কা সামাল দিতেই এই মূল্য সমন্বয়। গত এক-দেড় বছর ধরে অর্থনীতীবিদরা বললেও সরকার কোন কথা শেনেনি রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ব্যপারে। বরং যারা এ নিয়ে লেখা-লেখি করছেন তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে-দেয়ার হুমকি প্রকাশ্য সভাতেই দিয়েছেন আমাদের ৩ ডজন ডক্টরের ডিগ্রীধারী প্রধানমন্ত্রী ! দেরীতে হলেও সরকার তাদের ভুল বুঝতে পেরে আর কোন তেল ভিত্তির রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি না দেবার ঘোষনা করেছে। অবশ্য ক্ষতি যা হবার তা ইতিমধ্যেই হয়েগেছে কারন অনুমতি প্রাপ্ত সবগুল কেন্দ্র এখনও উৎপাদনে আসেনি। অথচ এখনই ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানী সর্বরাহ করতে গিয়ে সরকার ও দেশের অর্থনীতির ত্রাহী অবস্থা দেখা দিয়েছে। মাত্র ৩৮% বাংলাদেশী বিদ্যুৎ সুবিধা পায় কিন্তু ৯০% জনতা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভাবে ডিজেল-কেরসিনের ভোক্তা। তাহলে এখন এই প্রশ্ন উঠা অস্ভাবিক নয় যে ৩৮% ভাগের ভোগ-বিলাসের জন্য ৯০% মানুষ কেন তার পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা দেবে ?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছেন ঋণ করে সরকার ঘি খাচ্ছে না অথচ আমরা দেখছি নাম না জানা অখ্যাত-নিভৃত গ্রামের মজুর-কৃষকের ঘামের টাকায় শহরের পাচ-তারা হোটেল-মোটেল অট্টালিকা ঝলমল করছে। রাতের আধার ফুরে স্টেডিয়ারগুলর ফ্লাড-লাইটে বসছে তারার মেলা। বিদ্যুতের ভর্তুকি মূল্য কেন জ্বালানী মূল্যের সাথে সমন্বয় হবে? যিনি বাতি জ্বানাচ্ছেন ভর্তুকি মূল্য তিনিই শোধ করবেন, সরকার কেন এই কারনে খেটে খাওয়া দিনমজুরের পকেট কাটছে।

এবার ব্যক্তিগত দুঃখের কথা বলি , ৭৭ টাকার পেট্রল ১ বছর ঘুরতে তা ঘুরতেই ৯১ টাকা হল। শখের মটর-বাইকটি (শক হলেও ঢাকার রাস্তায় জ্যাম বিবেচনায় প্রয়োজনীয়তা অসামান্য) আর কত দিন চালাতে পারব <img src=" style="border:0;" /> জানি না। যখচ প্রতি লিটার পেট্রল থেকে সরকার ৮ টাকা (নভেম্বরের সরকারী হিসাব অনুযায়ী) লাভ করছে। আমার মত আম-জনতার পকেট ও নিরাপদ নয় এই সরকারের আবুল মন্ত্রীদের কাছ থেকে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29512652 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29512652 2011-12-30 08:55:32
বাংলাদেশ এখন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে
বিজয়ের এই মাসে আমরা সবাই এখন হিসেব মিলাতে বেস্ত, স্বাধীনতার ৪০ বছরে কত টুকু এগিয়েছি আমরা ? টিভি-সংবাদপত্র তথা সব মিডিয়াতেই আমাদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব কষছেন নানা বিষয়ের বিশেষজ্ঞগন। খুব আগ্রহ নিয়ে তাদের কথা পড়ছি-শুনছি সারা মাস জুড়েই।

একথা নিশ্চই সবাই মানবেন যে, বিগত ৪০ বছরে আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন। ৭২ এ ৫৭% প্রোভার্টি রেট নিয়ে যাত্রা শুরু করে ৯০ এর দশকে ৪২% ও ২০১০ এ আমরা তা থিউরেটিকালী ৩৪% নামিয়ে আনতে পেরেছি। বিগত ৪০ বছরের সরকারগুলর তাৎপর্যপূর্ন কোন সহায়তা ছাড়াই (কোন কোন ক্ষেত্রে সরকার সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে) বাংলাদেশের সাধারন জনমানুষের বিপুল প্রাণশক্তি ও অদম্য আকাংখায় তিলে তিলে গড়ে উঠেছে আমাদের আজকের অর্থনীতি।

গত চার দশকে আমাদের কৃষকরা খাদ্য উৎপাদন ৩ গুন বাড়িয়েছে। দুই-তিনটি বছর ছাড়া ১৯৯৭ এর পর থেকে আমরা কার্যত খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ন একটি দেশ। সম্পুর্ন কৃষি নির্ভর অর্থনীতি থেকে আমরা ধীরে হলেও হালকা ও মাঝারি শিল্প নির্ভর অর্থনীতিতে নিজেদের নিয়ে এসেছি। পাশা-পাশি প্রায় ১ কোটি (সরকারী হিসেবে ৭০ লাখ) প্রবাসী শ্রমজীবী বাংলাদেশীর প্রেরিত অর্থ, প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক ঝন্জ্ঞা-বিক্ষুদ্ধ বাংলাদেশকে বার বার বিপদ থেকে রক্ষা করেছে।

আমাদের শ্রমে-ঘামে তিলে তিলে গড়ে উঠা এই অর্থনীতির অবস্থা এখন প্রায় চুড়ান্ত রকমের খারাপ অবস্থায় পরেছে। ২০১০ সাল শুরু হয়েছিল ১০ ভাগ মুদ্রাস্ফিতি, ডলার মূল্য ৭০ ও ১১ বিলিয়ন বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ নিয়ে। আর আজ শেষ সময়ে এসে মুদ্রাস্ফিতি ১২, ডলার মূল্য ৮১ ও বৈদেশিক রিজার্ভ ৯ বিলিয়নের নিচে নেমে এসেছে।

দূর্নীতি মুক্ত মন্ত্রী সভা নিয়ে আত্নতুষ্টিতে ভোগা প্রধান মন্ত্রী ৩য় বছরে এসেই শুনলেন তার সুযোগ্য দৌড়বিদ যোগাযোগ মন্ত্রীর কৃতকর্মের ফিরিস্তি। অবস্থা এতই খারাপ যে বিশ্বব্যাংক, জাইকা যুগপত ভাবে বছরের সর্ববৃহত বৈদেশীক ঋণ আটকে দিয়েছে। সরকারের ব্যার্থতা ও মধ্যপ্রাচ্চ্যে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় রেমিটেন্স প্রবাহে ভাটার টান শুরু হয় বছরের শুরুতেই। গোদের উপর বিষফোড়া হয়ে দেখা দিয়েছে সরকারের উচ্চাভিলাসি কুইক রেন্টাল বিদ্যুত কেন্দ্র। ৩ বছর মেয়াদি এই কোন্দ্রগুলো শুরুর পেছনে যুক্তি ছিল ৩-৫ বছরের মধ্যেই সরকারী-বেসরকারী বড় বড় বিদ্যুত কেন্দ্রগুল উৎপাদনে চলে আসার মধ্যবর্তি সময়ে আপদকালিন ও অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে এগুল নির্মিত হবে।

ঐ বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলের একটি ও এখন পর্যন্ত উৎপাদনে আসেনি এবং আগামী ১'৫-২ বছরেও আসার কোন সম্ভবনা নেই। ফলে কুইকরেন্টাল কেন্দ্রগুলোর মেয়াদ ইতিমধ্যেই আরো ২ বছর বাড়ান হয়েছে। সরকারী দলের নেতা,কর্মি, ব্যবসায়ীদের আনুকূলে বরাদ্য হওয়া এই কুইকরেন্টাল কেন্দ্রগুলো নিয়ে ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, ওভার ইনভয়েসিং করে যন্ত্র আমদানীর নামে এক দিকে বিদেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে অন্যদিকে ৩-৫ বছরের পুরন যন্ত্রপাতি দিয়ে তৈরী করায় ঐগুল ১৫-২০% ও কোন কোন ক্ষত্রে ৫০% কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। অথচ ৫৫ টাকার ফার্নেস অয়েল ২৬ টাকায় প্রদান ও ৩'৫-৪ টাকায় বিদ্যুৎ ৬-৮ টাকায় কেনার চুক্তি করে সরকার বিপুল পরিমান টাকা ঐ কুইকরেন্টাল মালিকদের পেছনে ভর্তুকি দিচ্ছে। অথচ নতুন শিল্প-কারখানা দূরে থাক খোদ মহানগরী ঢাকাতেই ১৬ হাজার তৈরী ফ্লাটে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারছে না। দেশের জিডিপির ১৬% যোগানদাতা আবাসন শিল্প গত এক বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে। আটকে গেছে শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ ও ৩ লাখ লোকের কর্মসংস্থান।

দেশের প্রধান দুই শেয়ার বাজারের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই, বিগত ১ বছর ধরেই লাল বাতি জ্বলছে। অর্থবছরের (জুলাই ১১ -জুন ১২ ) প্রথম ৫ মাসেই সরকার স্থানীয় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে যেখানে সারা অর্থবছরের লক্ষমাত্রা ছিল ২০ হাজার কোটি টাকা।
প্রথম দিকে অর্থ মন্ত্রী ও প্রাধান মন্ত্রী তুরী মেরে উড়িয়ে দিয়ে দম্ভ করেছেন 'দেশ চালাতে রিজার্ভের প্রয়োজন হয় না, চালাতে জানলে এমনিতেই চালান যায়। বঙ্গবন্ধুর আমলে রিজার্ভ ছিলনা বলে কী দেশ চলে নি ?'

শুনে হাসব না কাদব ঠীক বুঝতে পারিনি। সরকারী কর্মি-সমর্থক, মন্ত্রীদের কাছে ৭২-৭৫ স্বর্নযুগ হলেও দেশের আমজানতার কাছে তা ছিল দুঃসপ্ন ........ ৭৪ এর দুর্ভিক্ষে ২ লাখ স্বজনের মৃত মুখ ওনারা ভুলে গেলেও দেশবাসী ভুলে যায় নি। জিয়া পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে পন্চমুখ প্রধান মন্ত্রী রীতিমত বিশ্ব ব্যংককে ধমকে বলছেন 'প্রমান ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ অগ্রহযোগ্য। এটা তাদেরকেই (বিশ্ব ব্যাংক) প্রমান করতে হবে'। ভাব এমন ঋণ দাতা যেন বিশ্বব্যাংক নয় স্বয়ং বাংলাদেশ সরকার। অথচ তত্বাবধায়ক আমলে দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে শেখ হাসিনা প্রতি দিনই জিয়া পরিবারকে চোর-বাটপার বলে বেড়াচ্ছেন। মামুনের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে তারেকের ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করার বিদেশী এফবিআই এজেন্টের স্বাক্ষী যোগার করতেই মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ৩ বছর ফুরিয়ে গেছে আর প্রমান করাত বহু দূর। অথচ আদালতে মোকাবেলা না করেই একই তত্বাবধায়ক আমলে করা ১৫ দূর্নীতি মামলা থেকে নিজের নাম কাটিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি সরকারের বিদায়ের পর আমরা শুনেছি লক্ষ কোটি টাকার দূর্নীতির খবর। এই সরকারের তিন বছরেই যা অবস্থা দাড়িয়ে তাতে ঠিক বুঝতে পারছি না যে এই সরকারের বিরুদ্ধে ঠিক কত শত কোটি টাকার দূর্নীতির অভিযোগ উঠবে।

এদিকে ব্যংক ব্যবস্থাও প্রায় লাটে উঠেছে। সরকার ও সরকরার দলীয় লোক জনের রাজনৈতিক বিবেচনায় নেয়া লোনের ভারে সোনালী, জনতা, অগ্রণী সহ ৮ বিশেষায়িত সরকারী ব্যংক প্রকোট অর্থ সংকটে পরেছে ( প্রথম আলো ২৩-১২-২০১১)। বেসরকারী ব্যাংকগুল ও সরকারের দানবীয় ক্ষুদা মেটাতে মুমূর্ষ প্রায়, ১২ টি বেসরকারী ব্যাংক গ্রাহককে লোন দেয়া দূরের কথা আমানতকারীদের আমানতের নিরাপত্তা সণ্চিতির নির্ধারিত টাকাও (সিআরআর) বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে ব্যার্থ হয়েছে (কালের কন্ঠ ২৪-১২-২০১১)। শেয়ার বাজারের ৩০ লাখ আগেই সর্বশান্ত হয়েছে আর এখন চরম ঝুকির মুখে পড়েছে ৫ কোটি আমানতকারী সন্চয়।

ইউরোপ-আমেরিকায় শুরু হওয়া রিসিশনের ২য় ধাক্কা বাংলাদেশের রফতানী খাতকে ও বিশাল চেলেন্জ্ঞের মুখে দার করিয়ে দিয়েছে। শুধু ইউরোপ থেকেই ৮ হাজার কোটি কাটার রফতানী আদেশ বাতিল হয়েছে বিগত ২ মাসে। অপর দিকে ১ সপ্তাহেই ৩ টাকা বেরে ডলারের বিপরিতে টাকার বিনিময় মূল্য দাড়িয়েছে ৮১ টাকা।

সর্বগ্রাসী এক কালো ছাড়ায় এখন ঢাকা পরেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যংকের নির্বুদ্ধিতা ও চলমান বৈশ্বিক মন্দা পুর অবস্থাকেই দিন দিন দুঃস্বহ করেতুলছে। মন্দের ভাল এই যে মাল সাহেবরা ২-৪ দিন ধরে আস্তে আস্তে মুখ খুলছেন....... দেরীতে হলেও স্বীকার করছেন যে তাদের ভ্রান নীতি এই পতনের জন্য দায়ী আর প্রভাবক হিসেবে রিসিশন ত রয়েছেই।

বাজারে বেশ কিছু গুজব ইতিমধ্যেই বাস্তবতা পেয়েছে বা পেতে যাচ্ছে
১। ডলার মূল্য ৯০ এমনকি ১০০ ছুটে পারে। ( গত বৃহস্পতিবার কাব মার্কেটে ৮৫ ও ব্যংকে ৮১ ছিল)।

২। আইএমএফ থেকে সরকরার যে কোন শর্তে জরুরী ঋণ নিচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ মূল্য বাড়ানো ও আরো রক্ষনাত্বক ব্যাংকনীতি গ্রহন করতে যাচ্ছে । ( আজ কালের কন্ঠে এ নিয়ে ২ টি রিপোর্ট এসেছে)

৩। সরকার দ্রুত সরকারী চাকরীর বয়সসীমা ২ বছর বৃদ্ধি করবে। কারন চাকরী পরবর্তী পেনশনের টাকা দেয়ার মত অবস্থায় সরকার নেই। (বয়সসীমা ২ বছর বৃদ্ধির ঘোষনা ইতিমধ্যেই দেয়া হয়েছে। প্রভিডেন্ড ফান্ডের টাকা পুরোটা এক সাথে না দেয়ারও আদেশ অচিরেই অলিখিত ভাবে হলেও জারি করা হবে।)

৪। সরকার উচ্চ সুদে সভরেণ তথা সার্বভৌমত্ব ঋণ নেয়ার জন্য দ্রুতই ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। আর এই ঋণ নিয়ে এখন চরম বেকায়দায় পরেছে ইটালি, গ্রীস।


অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সামনে একটি কঠিন বছর অপেক্ষা করছে। আইসিইউ তে থাকা বাংলাদেশের অর্থনীতির মুমূর্ষ অবস্থা দেশের মানুষকে হয়ত এই দশকের কঠিনতম পরীক্ষায় ফেলবে..............।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29509408 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29509408 2011-12-24 21:29:03
ওরা যখন আমর জন্য এল তখন প্রতিবাদ করার কেউ অবশিষ্ট ছিল না
কাল রাতে হটাৎ রিএকশল হওয়ার মূলে রয়েছে প্রথম-আলোর এই Click This Link নিউজটি । আমি আশা করেছিলান আজ অন্তর্ত পত্র-পত্রিকাগুলতে অথবা নিদেন পক্ষে প্রথম আলোতে এর বিরুদ্ধে জড়ালো কোন প্রতিবাদ ছাপা হবে । কিন্তু হায়! আমার প্রত্যাশা বৃথা হয়ে গেল, আতি-পাতি করে খুজেই কোন প্রতিবাদের চিন্হ পর্যন্ত পেলাম না।

আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় (!) কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবীগত অনেক আগেই তাদের মগজ ও কলম দুটিই বন্ধক রেখেছে আত্ন-উন্নয়নে। আজ প্রমান পেলাম এদের বিবেকটাও বন্ধক পড়েছে সংকির্ণ দলীয় আনুগত্বে।

ঠিক একই অবস্থা ছিল তৎকালীর জার্মানিতে যখন নাজিরা ক্রমশ্য শক্তিশালী হচ্ছিল। জেগে ঘুমানো বুদ্ধিজীবী প্রেতাত্বাগুলকে নাজি উৎথানের বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন মার্টিন নওমুলার তার বিখ্যাত পংতিমালার মাধ্যমে

First they came for the communists,
and I didn't speak out because I wasn't a communist.

Then they came for the trade unionists,
and I didn't speak out because I wasn't a trade unionist.

Then they came for the Jews,
and I didn't speak out because I wasn't a Jew.

Then they came for me
and there was no one left to speak out for me.

প্রথম তারা এল কম্যুনিস্টদের ধরতে
আমি প্রতিবাদ করিনি কারন আমি কম্যুনিস্ট নই
তার পর ওরা এল শ্রম নেতা-কর্মিদের ধরতে
আমি প্রতিবাদ করিনি কারন আমি শ্রমিক নই
তার পর ওরা এল জিওসদের ধরতে
আমি প্রতিবাদ করিনি কারন আমি জিওইস্ট নই
তার পর ওরা যখন এল আমায় ধরতে
তখন প্রতিবাদ করার জন্য কেউ অবশিষ্ট ছিল না


আজ আমাদের অবস্থাও তাই হতে যাচ্ছে

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা কবী আল-মাহমুদকে রাজাকার বলেছে,
আমরা কেউ প্রতিবাদ করিনি;
হাফ-মন্ত্রী কামরুল বীর উত্তম জীয়াকে পাকিস্তানী চর বলেছে,
আমরা কেউ প্রতিবাদ করিনি।
আজ শওকত মোমেন শাহজাহান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে যুদ্ধাপরাধীবলেছে,
আমরা এর ও কোন প্রতিবাদ করব না;
অচিরেই বীর উত্তম কর্নেল অলী আহমেদ ও হয়ত রাজাকার আক্ষা পাবে
আমরা কেউ হয়ত প্রতিবাদ করব না।
এক সময় এরা আমাকেই রাজাকার বানিয়ে ফেলবে
আর তখন প্রতিবাদ করার জন্য আমি চিৎকার ও করতে পারব না।

- - এই ১০ টি লাইনগুল কাল প্রথম আলোর মন্তব্যে লিখে ছিলাম, আর আজ আশ্চর্য হয়ে দেখলাম পত্রিকাটি তা ছাপতেও ভয় পাচ্ছে..........।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29484945 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29484945 2011-11-17 10:37:49
নূর হোসেন আমাদের ক্ষমা করে দিও

ঈদের সৌরভ এখও ভেসে বেড়াচ্ছে ঢাকার আকাশে-বাতাসে। বাসা থেকে অফিসের দূরত্ব মাত্র ২২ কিলো হলেও সাধারন দিনে তা পুলসিরাত সম মনে হয়। শুধু ঈদের ঢাকা বলেই ৩ ঘন্টার দূরত্ব মাত্র ১ গন্টায় পাড়িদেবার উদ্দেশ্যে পথে নেমেছি ঠিক ৮ টায়।

লাল চকচকে বিআরটিসি সিটি বাসটি যখন গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে তখন নগড় ভবনের বিশাল ঘরি বেমানান ভাবে সকাল সাড়ে-আট্টার ঘোষণা দিচ্ছে ! হেমন্তের হালকা কুয়াশ মেশান হিমেল হাওয়া আর প্রায় জনশুন্য রাস্তায় ২-৪ টা গাড়ির নিঃশব্দ চলাচল কেমন যেন অলসতা নিয়ে এসেছে দু-চোখে। আলসে চোখ জিরো পয়েন্ট তথা নূর হোসেন চত্তরে কেন্দ্রিভুত হতেই মনে হল ২৪০ ভোল্টের শক খেয়ে পূর্ন সচেতন হয়ে উঠলাম।

চত্তরে জড়ো হওয়া ৮-১০ জনের ছোট-খাট জটলা, ২-১ টি পুস্পস্তবক আর অবধারিত ভাবে গুটিকয় মিডিয়া কেমেরা............ঘোড় কেটে কিছুটা স্বাভাবিক হতেই নিজেকে আবিষ্কার করলাম পুরন পল্টন মোড়ে। আজ ১০ ই নভেম্বর কেলেন্ডার অথবা মনে দাগ কেটে রাখার মত বিশেষ কোন দিন নয় আজ; ঠিক নিশ্চিত নই তবে মন বলছে আজ নূর হোসেন দিবস। নূর হোসেন ! পাঠন মনে করতে পারছেন ? ১৯৮৭, ৯০........ সৈরাচার বিরোধী গনআন্দোলন.......মনুষ্য ত্বকের শ্যাম কেনভাসে আকাঁ 'সৈরাচার নিপাত যাক গনতন্ত্র মূক্তিপাক'।



হ্যা গনতন্ত্রের শপ্নে বিভোড় এই তরুণ মরে গিয়ে বেচে গেছে। ৯০ এর গনআন্দোলন আমার কাছে এখনও ভাসা ভাসা। রাস্তায় বিরামহীন মিছিলের শব্দ, পায়ে হেটে ক্লান্ত অফিস ফেরত বাবা-মা আর সন্ধায় পরিবারের সবাই গোল হয়ে তিন বেন্ডের রেডিওতে বিবিসি শোনার প্রাণপন চেষ্টা। অবশ্য ক্লাস টু-থ্রী'তে পড়া বাচ্চাদের পক্ষে এর চেয়ে ঢের-কিছু মনে রাখাই অস্বাভাবিক। ২০-২২ বছর পর এই আজকের আমি তাই নূর হোসেনদের বুকের রক্তে কেনা গনতন্ত্রের বিশবাষ্পে হাপিয়ে উঠেছি। তথা কথিত গনতন্ত্রের নামে যে নির্বাচিত পরিবারকেন্দ্রীক সৈরশাসনের যাতাকলে আমার কৈশর-যৌবন পিষ্ট হয়েছে/হচ্ছে তার জন্য নিজের/নিজেদের ধীক্কার দেই আর অবচেতন মনে প্রশ্ন করি ' হায় ! নূর হোসেন, ডাঃ মিলন তোমরা কি অনন্তকাল ধরেই ক্ষমতালিপ্সুদের দাবার ঘুটি হিসেবেই ব্যাবহৃত হতে থাকবে ? ৯০ এর পর থেকে প্রতি নির্বাচনেই আমরা বিপুল উৎসাহে ভোট দিয়ে শোষক নির্বাচন করি। ডাকাতের হাত ঠেকে বাচতে চোর আর চোরের হাত থেকে বাচতে ডাকাত নির্বাচনের এই পালাবদলে আমরা আমজনতা প্রতি বারই নিষ্ঠুর থেকে নিষ্ঠুরতর ভাবে শোষিত হয়ে যাচ্ছি...............।

হায় নূর হোসেন এই গনতন্ত্রের জন্যই কি তুমি লাশ হয়েছ ? তুমি মরে বেচেঁ গিয়েছ আর আমরা জিন্দা লাশ হয়ে প্রতিনিয়ত ধুকছি, নূর হোসেনের প্রাণহীন দেহ প্রতিবাদ জানাতে পাড়লেও জীবনমৃত আমরা এখন সেটাও পারছি না অথবা করছি না........... হায় এ কেমন সপ্ন দেখেছিলে নূর হোসেন.......]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29480598 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29480598 2011-11-10 12:31:36
নাসিক নির্বাচন ও লীগ সরকারের দিবা সপ্ন
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শামিম- আইভি আওয়ামী সমর্থক হলেও এই নির্বাচন পরিনত হয় কেন্দ্রের আ-লীগ বনাম নারায়ণগন্জ্ঞ আ-লীগ ভোটযুদ্ধে। দুই-মেয়াদে প্রায় ৮ বছর দায়ীত্ব পালন করে ও সন্ত্রাস-দূর্নীতি মূক্ত ইমেজের ( বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যা প্রায় অভাবনীয়) অধীকারি আইভিকে প্রত্যাখ্যান করে কেন্দ্রীয় আ-লীগ স্পষ্টতই নারায়ণগন্জ্ঞবাসি ও স্থানীয় আ-লীগের আশা-আকাঙ্খাকে দুমড়ে-মুচড়ে সন্ত্রাস ও পেশী শক্তির পক্ষে তাদের অবস্থান ঘোষনা করে।

কেন্দ্রীয় আ-লীগের সমর্থন এতটাই আকাশ-কুশুম ছিল যে আম সমর্থক থেকে শুরু করে উল্লেখযোগ্য সংখক লীগ নেতা-কর্মী আইভীর পক্ষ নেয়। ঐতিহ্যগত ও বর্তমানে সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল বিএনপি ও তাই লীগের সুস্পষ্ট বিভাজনের ফলে নির্বাচনী বৈতরনী পার হবার সম্ভাবনায় বিভোড় ছিল। যদিও বিএনপির জয় ততটা নিশ্চিত ছিলনা যতটা ছিল আইভীর।

ফলে তৈমুরের প্রার্থিতা প্রত্যাহার নিশ্চিত ভাবেই শামিমের মিরাকুলাস জয়ের ক্ষীণ সম্ভাবনাও নস্বাত করে দেয়। অবশ্য তৈমুরের প্রার্থিতা প্রত্যাহার নিয়ে বিশ্লেষকগন নানা কথার ফুলঝুরি ফোটাচ্ছেন কিন্তু আমি মনে করি বিএনপি মূলত ইভিএম ও তত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে চলমান আন্দলনের নৈতিক অবস্থান ঠিক রাখতেই তাদের প্রার্থিকে প্রত্যাহার করেছে। যার বিরুদ্ধে আন্দোলন ঠিক সেই ব্যবস্থা মেনে নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার মত হিপোক্রেসি বিএনপি অন্তর্ত করেনি।

নির্বাচনে আইভির বিশাল বিজয়কে এখন দলীয়করন করতে সরকারের নিঃলজ্জ মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে লীগের গৃহপালিত কলামিস্টরা পর্যন্ত মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন।

আওয়ামিলীগই ফার্ষ্ট আওয়ামিলীগই সেকেন্ড - প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচনে থাকলে তৈমুর তৃতীয়ই হতেন - আনিসুল হক।
নাসিক নির্বাচনের ফলাফল থেকে বিরোধী দলের শিক্ষা নেয়ে উচিত - সুরন্জ্ঞিত।

কাস্ট হওয়া ভোটের ৯৩ শতাংশ পড়েছে আইভি শামিমের পক্ষে, আর এতেই শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সুশিল লীগার আনিসুল হক পর্যন্ত আনন্দে লুটুপুটি খাচ্ছে <img src=" style="border:0;" /> দিবাসপ্নে এরা এতই বিভোর যে অন্ধ সেজেই তারা প্রলয় বন্ধ করতে চাইছে। আশা করি তারা অতিত দর্শনে বাস্তবতা বুজতে পারবে ....

নসিক নির্বাচন ২০১১

আইভী- ১,৮০,০৪৮ ভোট (৬৫%)
শামিম- ৭৮,৭০৫ ভোট (২৮%)
তৈমুর ও অন্যান্য - ৭%

আর নারায়ণগন্জ্ঞ সিটিকর্পোরেশন যে এলাকাগুরল অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত সেই সংসদিয় আসনগুলর সর্বশেষ নির্বাচনী ফল (২০০৮)

নারায়ণগন্জ্ঞ-৩ [আ-লীগ ৬১%, বিএনপি ৩৫%]
নারায়ণগন্জ্ঞ-৪ [আ-লীগ ৪৮%, বিএনপি ৪৭%]
নারায়ণগন্জ্ঞ-৫ [আ-লীগ ৫৬%, বিএনপি ৪১%]

অর্থাৎ গড়ে ৪১% ভোট ছিল বিএনপির। আর ২০০৮ এর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে এই ৪১% ভোটারই প্রো-বিএনপি; যুক্তির খাতিরে যদি আমরা ধরেও নেই যে এটা ৩৫-৩৮%। যৌক্তিক কারনে এটাও ধরে নেয়া যায় যে প্রো-বিএনপি ভোটের ৯৯% ই আইভির বাক্সে গেছে। আর কট্টর লীগ ও কেনা ভোট মিলিয়ে লীগ তথা শামিমের পকেটে গিয়েছে মাত্র ২৮%।

বিগত পাচ জাতিয় নির্বাচনের ফলাফল থেকে আমরা এটাই জানি যে, হতভাগা এই দেশে প্রো-বিএনপি প্রো-লীগ ভোটার প্রায় ৪২% ও ৪৩% আর বাকি ১৫% সুইং ভোটারই নির্ধারন করে কে যাবে ক্ষমতার মসনদে। এই ১৫% সুইং ভোটার যে আইভীর পক্ষ নিয়ে প্রকারন্তরে লীগ সরকারের বিদাই ঘন্টা ঘোষনা করেছে তা কি হাসিনা-সুরন্জ্ঞিত-হকদের চোখে পড়েছে ? না কি ক্ষমতার রঙ্গিন চশমার জাদুকরী কারিশমায় তারা রাতকেও দিনের মতই উজ্জ্বল দেখছে ?

কতিপয় আওয়ামী সুশিল ও অতিচালাক চশমখোর তৈলবাজ বলার আপ্রান চেষ্টা করছে যে সরকার সেনাবাহিনী ছাড়াই ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম নির্বাচন কমিশন দিয়ে সুশৃঙ্খল নির্বাচন করতে পরেছে। তাদের কাছে একটাই প্রশ্ন - বিশৃঙ্খলা হওয়ার সুযোগ কী ছিল? লীগের গৃহযুদ্ধে অংশনেয়ার মত স্থানীয় লোকবল ও কিন্তু আদলে শামিমের ছিল না। বরং সামিমের ভারাটে সমর্থকরাও নুন খেয়ে গুন (ভোট) গায়নি। ইভিএম এর ৫৮ কেন্দ্রের (মোট ভোটের ৩৩%) ফলাফল ৩ ঘন্টায় চলে আসায় যে বিশাল ব্যবোধান তৈরী হয় (প্রায় ৫৫,০০০ ভোট) তা হাতে গোনা অবশিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফলে ছোট-খাট কারচুপি করে সামাল দেয়া সম্ভব নয় তাই ঐ সকল কেন্দ্রগুলর ফলাফল রাত ৯ টা পর্যন্ত আটকে রেখেও পুকুর চুরি করার সাহস করেনি কারন ভোটারগন ভোট দিয়ে বাড়িতে নয় বরং কেন্দ্রের আশ-পাশেই নিঃশ্বদ্ধ পাহাড়ায় ছিল। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29478105 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29478105 2011-11-04 23:32:42
নারায়ণগন্জ্ঞ সিটিকর্পোরেসন নির্বাচন: আমজনতার ভোট ভাবনা
আজ আনুষ্ঠনিক ভাবে সমাপ্ত হল প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনা তাই ১৫-২০ দিন ধরে চলে আসা নির্বাচনী ডামাডোলে হটাৎ ছেদ পড়ায় কেমন যেন প্রাণহীন হয়ে গেছে আজকের সন্ধা। নিস্তরঙ্গ সন্ধায় তাই ভাবছিলাম আগামী রবিবার যখন ভোটিং বুথে বেলট পেপার হাতে ঢুকব, তখন আমার ভোটটি ঠিক কোন কোন প্রার্থির প্রতীকে পড়বে ?

কাউন্সিলর: ৯ জনের মধ্য থেকে বেছে নিতে হবে মাত্র ১ জন। এদের মধ্যে যে ৩ জনকে চিনি তাদেরকে ভোট দেয়ার প্রশ্নই উঠে না, কারন গত ১৬ বছর ধরে কোন ভাল কাজেই তাদেরকে দেখিনি বরং স্থানীয় পর্যায়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে তারা রীতিমত আইকন। বাকি ৬ জন যেহেতু অপরিচিত সেহেতু তাদের শিক্ষাগতযোগত্যা, কর্মক্ষেত্র ও গনসংযোগ থেকে পাওয়া ধারনাই নির্ধারন করবে তাদের সম্ভাব্যতা। এই বিবেচনায় শর্টলিস্টেড ৩ জনের এক জন ব্যবসায়ী, ইউরোপ ফেরত প্রবাসী ও অবসর প্রাপ্ত সরকারী প্রকৌশলী। ষাটোর্ধ প্রবাসী ও চল্লিশ ছুইছুই ব্যবসায়ী বোধগোম্য কারনেই এই পদের জন্য অটমেটিক চয়েস নয় তারন তাদের কর্মক্ষত্র থেকে পাওয়া অভিগ্যতা খুব কমক্ষেত্রেই শহরবাসীর জন্য প্রনীত উন্নয়ণ পরিকল্পনা প্রনয়নে কাজে আসবে। এক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত এলজিইডি প্রকৌশলীই অনেকদূর এগিয়ে আছে। অথচ এই এস্ক-ইন্জিনিয়ার এখন শুনছি স্থানীয় রাজনীতিতে জামায়াত-পন্থী, তাই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত নয়। আগামী ৩৬ ঘন্টায় মনস্থীর করতে হবে ঠিক কাকে ভোট বেদ।

সংরক্ষীত মহিলা কাউন্সীলর: নির্বাচন করতে হবে মাত্র ১ জন অথচ এই শেষ সময়ে এসেও নিশ্চিত নই ঠিক কয় জন প্রতিদ্বদ্ধিতা করছে। এদের প্রচারনা ও লিফফেট দেখে বোঝার উপায় নেই কার কী যোগ্যতা <img src=" style="border:0;" /> । জানা-শোনার তো প্রশ্নই উঠে না; শুধু পোস্টারে ছাপা নাম ও চেহারা দর্শন করেই তাদের সাম্ভাব্য যোগত্যা আন্দাজ করতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যে ৭-৮ জনের লিফলেট-পোস্টার দেখেছি তাদের মধ্যে স্হানীয় মানবাধিকার সংস্থায় কর্মরত এক এডভোকেটকে টার্গেট করেছি ভোট দেব বলে।

পাঠকগন ইতীমধ্যেই বুঝতে পারছেন যে এই নির্বাচনে প্রার্থিদের প্রচার-প্রচারনার কী দুঃরাবস্হা। সব প্রার্থীই ফুলের মত পবিত্রতার দাবীদার হলেও নূন্যতম তথ্য প্রাপ্তির সুযোগ না থাকায় শিক্ষিত, সচেতন ভোটারদের পক্ষেও কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে যোগপ্রার্থী খুঁজে বের করা। এমতাবস্থায় বলার অপেক্ষা রাখে না যে অশিক্ষিত/সল্পশিক্ষিত খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষগুল শুধুমাত্র প্রার্থীদের মিষ্টি কথা অথবা শ-পাচেক টাকার বিনিময়ে তার মূল্যবান ভোটটি দিয়ে দেবে কারন তাদের পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব নয় সবার যোগ্যতা-সামর্থের তুলনামূলক বিচার করা (মূল কারন তথ্য প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা)। এই কাউন্সিলররাই ওয়ার্ড পর্যায়ে আমাদের প্রতিনিধীত্ব করবে যদিও তথ্যের অপ্রতুলতার কারনে আমরা অনেকেই হয়ত ভুল প্রার্থিকে বেছে নেব।

মেয়র: কাগজে কলমে প্রার্থী ৬ জন হলেও মাঠ পর্যায়ে ৩ জন অস্তিত্বহীন। ডাঃ আইভী, শামিম ও তৈমুরের ক্ষেত্রে ভোটারগন তুলনামূলক ভাবে কিছুটা ভাল অবস্থানে কারন মিডিয়ার কল্যানে আমরা এখন জানি তাদের আর্থীক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা ও অতীত কর্মকান্ড।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে শামিম ওসমানের মত এক জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী গডফাদারকে নারায়গন্জ্ঞবাসী হাড়ে-হাড়ে চেনে। ৯৬-২০০১ তিনি স্বীয় কার্যকলাপে এমনই নাম কামিয়েছেন যে শুধু নারায়ন্জ্ঞ নয় বরং জাতিয় পর্যায়েই তিনি দুঃশ্চিন্তার কারন হয়ে দাড়ান। শোনা বা পত্রিকার রিপোর্ট বাদ দিয়ে বরং নিজের অভিগ্যতাই বলি, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার রোড-মার্চ কর্মসূচী আটকে দেয়ার জন্য আগের দিন মধ্য রাত থেকেই ঢাকা-চট্রগ্রাম রোডে এলোপাথারী ভাবে খালি ট্রাক ফেলে ৪ লেন রাস্তার উভয় পাশ আটকে দেয়া হয়। রাতের হাইওয়েতে আটকে যাওয়া শত শত আন্তজেলা কোচ ও মালবাহী ট্রাকে চলে নির্বিচার ভাংচুর, লুট, ডাকাতি; এমন কি নারী ধর্ষনের কাহিনী ও বাতাসে চাউর হয় পরদিন সকালে। স্কুলে এসএসসি টেস্ট পরীক্ষা থাকায় পায়ে হেটেই ৮ কিলো রাস্তা পার দেবার সময় দেখেছি ভাংচুর-লুটের ভয়াবহতা ও আটকে যাওয়া মানুষের অবর্ননীয় কষ্ট। বিকেলে পরীক্ষা শেষেও ফিরতি পথে ও সেই একই চিন্ত্র। কিশোর বয়সে ১৬ কিলো রাস্তা হাটার কষ্ট ও ভংচুর-লুটের ভয়াবহতা এতটাই তাজা যে, সুস্হ কারো পক্ষে শামিম ওসমানকে আবার ক্ষমতায় দেখার দঃস্বপ্ন কল্পনায় আনা সম্ভব নয়। মনে প্রশ্ন যাগে যোগ্য বিকল্প থাকা সত্যেও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর অবস্থা কী এতটাই খারাপ যে জনসেবায় ওনার লাঠিয়াল বাহিনীর প্রয়োজন পরে গেছে।

বিএনপি সমর্থিত মিঃ তৈমূর সাহেবের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের তেমন অভিযোগ না থাকলেও ( যদিও তিনি নারায়ণগন্জ্ঞ বোমা হামলার মূল আসামি। অবশ্য বোমা হামলার শিকার শামিম ওসমান তার সংশ্লিষ্টতার ব্যপারে সন্ধিহান ফলে ধরে নেয়া যায় যে ঐ অভিযোগের পেছনে রয়েছে স্হানীয় রাজনীতি) রয়েছে দশের অধিক দূর্নীতির মামলা। এই দশ মামলার অন্যতম হল বিআরটিসি -এর চেয়ারম্যান থাকাবস্তায় লক্ষাধীক টাকার বিনিময়ে হাজার খানেক নারায়ণগন্জ্ঞবাসিকে সরকারী সংস্থাটিতে চাকরী দেয়া। সাম্প্রতীক প্রচারিত এক টিভি টকশোতে তিনি এই অভিযোগ শুধু স্বীকারই করেন নি বরং ভবিস্যতে ক্ষমতা পেলে তিনি আবার ও নারায়গন্জ্ঞবাসীর জন্য একই অপকর্ম করার ঘোষনা দিয়েছেন। যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেই যে তিনি কোন আর্থিক সুবিধা নেন নি তবু শুধু স্ব-জেলার অধীবাসি হওয়ায় তিনি যদি জাতীয় পর্যায়ে নিয়োগ প্রকৃয়ায় পক্ষপাতীত্ব করতে পারেন তবে, নবগঠিত এই সিটিকর্পোরেশনের কোটি কোটি টাকায় টেন্ডার প্রকৃয়াগুল যে নিরপেক্ষ হবে না তা নির্দিধায় বলা যায়।

সব শেষে বাকি রইলেন ডাঃ আইভি, যিনি মূলত স্থানীয় জনসমর্থন, অতীত রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও দূর্নীতিমুক্ত তথা ক্লিন ইমেজকে পুজি করে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন। তার বিরুদ্ধে কোন কেস না থাকলেও জনাব শামিম ওসলান বেশ কিছু দূর্নীতির অভিযোগ মিডিয়ায় ও পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। আর অবধারিত ভাবেই অভিযোগসমূহের যে ব্যাখ্যা ডাঃ আইভি দিয়েছেন তা পূর্নমাত্রায় সন্ধেহ দূর করতে না পারলেও প্রতিপক্ষকে চুপ করাতে সমর্থ হয়েছে। এই প্রার্থি আবার রাজনৈতিক ভাবে বর্তমান সরকারের সমর্থক। বর্তমান সরকারের কোন সাফল্য নেই - এটা যেমন সত্য নয় ঠিক তেমনি ভাবে এটাও ঠিক ক্রমবর্ধমান দব্যমূল্য, আইন-শৃঙ্খলা, শেয়ার-বাজার, আদালত, মন্ত্রীদের নির্লজ্জ ব্যর্থতা সত্যেও চেয়ার আকড়ে থাকা ও তাদের রক্ষার্তে প্রধান মন্ত্রীর বিরামহীন সমর্থন যে অস্বস্তিকর অবস্তা তৈরী করেছে তাতে সরকার সমর্থক কাউকে ভোট দেয়া কতটা যৌক্তিক তা বিবেচনা করা উচিত। তবে সুখবর এই যে সরকার পরিবর্তনের জন্যে ভোট দেয়ার সুযোগ আর মাত্র ২৪ মাস দূরে ....................।

অবস্থদৃষ্টে মনে হচ্ছে প্রর্থিদের সততা-যোগত্যার পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও আমাকে যথেষ্ট বেকায়দায় ফেলেছে টার্গেট ঠিক করতে। স্হানীয় সরকারের এই নির্বাচনে সম্ভবত রাজনৈতিক পরিচয়ের চাইতে ব্যক্তিগত সততা-যোগ্যতাই অধিক গুরুত্বপূর্ন অতএব আরো কিছু চুল-চেড়া বিচার-বিশ্লেষণ করেই ৩৬ ঘন্টা পড় চূড়ান্ত সীদ্ধান্ত নিতে হবে। ২০০৮ এর নির্বাচনে নিজের ভোট নষ্ট করে এখন যেমন হাত কামড়াচ্ছি ঠিক একই কান্ড আবার ঘটুক নিশ্চিত ভাবেই তা চাই না ................
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29473993 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29473993 2011-10-28 22:37:30
দেখে এলাম বাংলার পাহাড়ী মেয়ে রাঙ্গামাটি
কর্পোরেট জীবনে অবসর খুজে পাওয়া আর হাতে আসমনের চাঁদ পাওয়া প্রায় সমার্থক। আর কর্মক্ষেত্র বেসরকারী আইটি ফার্ম হলে অবস্থা কী দাড়ায় তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। অবশ্য এবারের ঈদ অসাধ্য সাধন করেছে <img src=" style="border:0;" /> টানা ৫ দিনের ছুটি পেয়ে তাই স্ববান্ধবে বেড়িয়ে পড়লাম প্রকৃতি দর্শনে।

ঈদের পরদিন রাত ১১ টা নাগাদ রওনা হলাম রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্য, বাহন ইউনিক পরিবহনের নন-এসি চেয়ার-কোচ। কপাল মন্দ হয়ে যা হয় আরকি <img src=" style="border:0;" /> ঢাকা- রাঙ্গামাটি রুটে কোন এসি সার্ভিস নেই, তাই এটাই ভরসা; পড়ে অবশ্য জানতে পারলাম যে, এই রুটের সেরা সার্ভিসই নাকি এটি <img src=" style="border:0;" />

ঢাকা থেকে প্রায় চোখের পলকে চলে এলাম মেঘনা-ব্রিজ টোল প্লাজায় অথচ আমরা ৯ জন এখন ও ঠিক ভাবে জাকিয়ে বসতেই পারলাম না ! কুমিল্লায় রাতের খাবার সেরে আরার শুরু হল যাত্রা। ঈদ পরবর্তি সময় বলে স্বভাবতই বাসের সবাই আমার মত পর্যটক, সুতারাং সদ্য-পরিচিত ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা চলল প্রায় ৪ টা পর্যন্ত। ক্লান্ত দেহগুল যখন নিদ্রা দেবীর আরাধনায় ব্যাস্ত তখনই শুরু হল আবুল সাহেবের অত্যাচার। আরে চিনতে পারলেন না ? আমাদের সৈয়দ প্লাস পীর বংশিয় জামাতা - যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল সাহেব রাস্তার যা অবস্থা করেছেন তাতে মুরুব্বী শ্রেণীর পাবলিকেরও মুখে লাগাম টানা দায়, আর এখানে বাসভর্তি সব তরুণ-যুবার দল। অবস্হা কোথায় পৌছে ছিল তা না লিখলেও নিশ্চই আপনারা বুঝতে পারছেন, দুঃখ শুধু এই যে আবুল সাহেব কে শুভেচ্ছা বাণীগুল পৌছে দেয়া গেল না। অবশ্য তার পরেই ওনি পদত্যাগ করতেন কিনা আল্লাহ মালুম...........।


ভোর ৬ টার মধ্যে নিজেদের রাঙ্গামাটি শহরে আবিষ্কার করলাম; চট্রগ্রামের পড় বুড়ো ড্রাইভার যেন বুলেট ট্রেন চালিয়েছে। মূলত মহাসড়কের দু-পাশে গড়ে উঠেছে ছোট্ট শহর রাঙ্গামাটি, যাকে চারদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে কাপ্তাই লেক। প্রাতরাস সেরে তাই নেমে পরলাম হোটেলের খোজে। প্রায় ৪৫ মিনিটের খোঁজাখুজি শেষে মিলল মহার্ঘ হোটেল-রুমের চাবি। এক ঘন্টার মধ্যে সবাই গোসল সেরে চলে এলাম স্থানীয় ফিসারী ঘাটে। ১৮শ টাকা চুক্তিতে সারাদিনের জন্য ইন্জিনবোট নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম লেকের জলে।






প্রথম গন্তব্য বৌদ্ধ মঠ ও রাজার বাড়ি। জুম ফসল তোলার মৌসুম শুরু হয়ে গেছে তাই পূজা-আচনায়ও সেই জৌলুস ঠিকরে বেরুচ্ছিল।








স্বর্গীয় সিড়ি









কিছুদিন আগে রাজবাড়ীটি পুড়ে যাওয়ায় রাজার বর্তমান নিবাস এখন এটি।

পরবর্তি গন্তব্য শুভলাং। রোদ আর বৃষ্টির খেলা ভালই জমে উঠেছে- এই রোদ তো এই বৃষ্টি। শুভলং এ পৌছতেই শুরু হল ঝুম বৃষ্টি....











ভরা বর্ষায় শুভলং এর ঝড়না হতাশ করলেও আশ-পাশে বেশ বড় কিছু ঝড়না রয়েছে তবে সমস্যা একটাই ঐগুলতে গোসল করা যায় না।









ফেরার পথে পেদা-টিংটিং এ সাড়লাম দুপুরের খাবার। এখানকার স্পেশাল হল বেম্বু-চিকেন ও কলাপাতা-রুই। তেমন আহামরি কিছু নয়, রান্না করা মাছ ও মাংস শুধু বেম্বু ও কলাপাতায় সার্ভ করা হয়। খেয়ে তৃপ্ত না হলেও দাম চুকিয়ে তৃপ্ত হবেন <img src=" style="border:0;" /> যাকে বলে রিতিমত বেম্বু খাওয়া আরকি <img src=" style="border:0;" />








জুম ক্ষেত

বিকেলে চলে আসলার রাঙ্গামাটির ট্রেডমার্ক হয়ে যাওয়া জুলন্ত সেতুতে



সন্ধা কেটেছে শহরের বিভিন্ন দোকানে ঘোড়াঘুরি করে। রাতের খাবার শেষ করেই দে ঘুম কারন ব্যাস্ততম দিন অপেক্ষা করেছে আগামীকাল।



আজকের গন্তব্য কাপ্তাই জল-বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ইউএনডিপির অর্থায়নে সদ্ব-নির্মিত সড়ক পথে কাপ্তাই-এর দূরত্ব ১৮ কিলো তবে রাস্তা খুব একটা প্রসস্ত নয়, শুধু মটর বাইক ও সিএনজি চলে। এক ঘন্টার এই জার্নি প্রায় অবিশ্বাস ! রাস্তা তো নয় যেন রোলার-কোস্টার আর উচু জায়গা থেকে চোখ রাখলেই আর যেতে ইচ্ছে করে না, মনে হয় থেকে যাই এখানেই














কাপ্তাই জল-বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেখা হলেও, এখানকার কোন ছবি নেই ! শত হলেও রেসট্রিকটেড এড়িয়া বলে কথা। প্রায় ১ ঘন্টা বন্ধুদের ডিফেন্সে কর্মরত মামা-চাচাদের ফোন করে তবেই প্রবেশের অনুমতি মিলল! এক সময় মনে হল কেন যে ডিফেন্সে চাকরি নিলাম না <img src=" style="border:0;" /> অবশ্য পথ এখনও একটা আছে বটে <img src=" style="border:0;" /> বিয়ে যেহেতু করিনি তাই ব্রিগেডিয়ার-কর্নেল দেখে একজন শ্বশুর যোগার করতে পারলে মন্দ হয় না.......।

এত কাছে এসেও যদি কক্সবাজার না-ই গেলাম তবে কেমন হয়, অতএব দে ছুট ..........











কক্সবাজার যায় নি এমন ভ্রমণ বিনাসী খুঁজে পাওয়া দায় কিন্তু তাদের কয় জন কক্সবাজার শহরটি দেখেছেন ? ভোরে রিক্সা নিয়ে বেড়িয়ে পরুন শহর ও মেরিন ড্রাইভ ধরে; দেড়-দুই ঘন্টা ঘুরে আসেতে খরচ মাত্রই ৮০-১০০ টাকা।



প্রয়োজনীয় লিংক :

Click This Link
http://en.wikipedia.org/wiki/Kaptai
http://www.dcrangamati.gov.bd/ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29460014 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29460014 2011-10-04 17:28:55
গাছেরটা খেয়েছে এবার তলার টা ও চাই: প্রসঙ্গ শেয়ার বাজার
ভাবুন একবার ১:২ অনুপাতে ২০১০ এর শুরুতে ঋণ দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুল, যেখানে অন্যান্য খাতে ১:১ অনুপাতে ঋণ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এই একই ব্যাংক গ্রাহকের ১ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা লোন দিলেও শেয়ার-মার্কেটে এলেই ঐ গ্রাহক ১ লাখের বিপরীতে লোন পেয়েছে ২ লাখ টাকা। আর বলাই বাহুল্য যে, ১ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের চাইতে ১০ গুন ঝুকিপূর্ণ সম্পদ হল ১ লাখ টাকার শেয়ার। তাই বুঝতেই পারছেন যে কী আকারের বাবল সৃষ্টি করা হয়েছিল ২০১০ এর শেয়ার বাজারে। বেলুন ফুটো হওয়ায় এখন সবার মাথাতেই হাত।

নতুন ফর্ম হওয়া এসইসি ও ডিএসসি'র শত চেষ্টা সত্যেও ঋণের ফাদে আটকে যাওয়া সপ্নবাজ বিনীয়োগকারী ও অতিব্যাবসায়ী ব্যাংক উভয়ই নিজেদের খোড়া গর্তে পড়েছে যে বাজার ২ দিন উঠে ত ৬ দিন নামে ঠিক বানর ও তৈলাক্ত বাশের অংকের মতই অবস্থা।

মরার উপর খড়ার ঘা হয়ে ডিএসসি'তে আবার ফিরে এসেছে সালমান এফ রহমান ও রকিবুর রহমান। পাঠক নিশ্চই অবগত আছেনে যে, এই দু-জনকেই ৯৬ ও ২০১০ এর পতনের জন্য দায়ী করা হয়। বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হলেও ইনাদের ব্যবসায়ীক বুদ্ধির তারিফ করতে হয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে প্লসেমেন্ট শেয়য়ার, প্রেফারেন্ছ শেয়ার ও ডাইরেক্ট লিস্টিং এর মাধ্যমে এরাই হরিলুট করেছে ২০১০ এ, যা সরকারী তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ও উঠে এসেছে।

অভিযুক্ত হওয়া স্বত্যেও এরা কী ভাবে ডিএসই'র পরিচালক হলেন, তা আমাদের অর্থ ও প্রধান মন্ত্রীই জানেন। ফিরে এসেই এরা নতুন ব্যবসায়িক আইডিয়া নিয়ে হাজির হয়েছে।

Click This Link

বাজার চাঙ্গা থাকার সময় বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কেনার পর বাজার পড়ে যাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারীই বিপাকে পড়েন। শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় তারা তা বিক্রি করতে পারছেন না। অন্যদিকে তাদের ঋণের সুদও বাড়ছে। আবার মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর টাকাও আটকে থাকছে। এই পরিস্থিতিতে এক ধরেনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বাজারে। এ কে আজাদ জানান, বেসরকারি ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ছাড়াও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সংগঠন এই তহবিল গড়তে অর্থায়ন করবে। যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কেনার পর দাম কমে যাওয়ায় বিক্রি করতে পারছেন না, তাদের কাছ থেকে সেই পোর্টফোলিও কিনে নেবে এই তহবিল। বিনিময়ে টাকার বদলে তাদের দেওয়া হবে একটি 'ইউনিট সার্টিফিকেট', যা পুঁজিবাজারে লেনদেনও করা যাবে। '



আইডিয়াটা ভাল নিঃসন্দেহে কারন এতে অন্তর্ত ঋনে আটকে যাওয়া মার্চেন্ট ব্যাংক ও বিনীয়োগকারী উভয়েরই ঋণ মুক্তি ঘটবে। প্রস্তাবিত এই ফান্ড ইতিমদ্ধেই আগামী ২ বছরের জন্য সুদ মৌকুফের জন্য আবেদন করেছে বাংলাদেশে ব্যংকে। বিশেষ কোন ব্যাত্যয় না ঘটলে এরা অনুমোদোন পেয়েও যাবেন।

এবার আসুন এত ভালর মাঝে কেন আমি চিন্তিত হচ্ছি তার ব্যাখ্যা দেই। ৫ শ কোটি টাকার এই ফান্ড যদি ৩ শ কোটি টাকার পোর্টফলিও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কিনে নিতে সক্ষম হয় (এর বিপরিতে গ্রহক টাকা নয় বরং ফান্ডের ইউনিট শেয়ার পাবে) এবং বাকি টাকায় (এই টাকাই উদ্দোগতারা ইনভেস্ট করবেন) নতুন শেয়ার কিনে মূল্য সমন্বয় (এভারেজিং) করে নিতে পারে তবে বাজারে তারা একটি সাময়িক চাহিদা সৃষ্টি করতে পারবে আগামী ১-২ বছরে। আর যেহেতু এই সময়ে সুদ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না সেহেতু এই ফান্ড তাদের হাতে থাকা কোন শেয়ার মার্কেটে বিক্রি ও করবে না। ফলে অবধারীত ভাবেই দাম বাড়তে থাকবে।

ইতিমধ্যেই বাজার থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাক খুদ্র বিনীয়োগকারী সরে গেছে, অবশিষ্টদের ও এই ফান্ডের মাধ্যমে ভার্চুয়ালী মার্কেট থেকে বের করে দেয়া হবে; কারন তাদের হাতে থকবে এই ফান্ডের ইউনিট, কোন শেয়ার নয়। পাঠকরা বিশেষত শেয়ারবাজারের খোজ-খবর যারা রাখেন তারা নিশ্চই শেয়ার ও মিচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটের তফাত বোঝেন। এতে যা হবে তা হলো বাজারে তখন থাকবে - ১। মার্চেন্ট ব্যংক ২। মিচ্যুয়াল ফান্ড ও ৩। আমার মত কিছু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী যারা তাদের সেভিংসের একটি অংকশ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন।

৩য় শ্রেণীর বিনিয়োগকারী অন্তর্ত লস দিয়ে শেয়ার হাত ছাড়া করবেন না আর যেহেতু তারা শেয়ার থেকে আসা আয়ের উপর সরাসরি নির্ভরশীল নয় সেহেতু বাজার পড়ে গেলেও তারা মতিঝিলের রাস্তায় ভাংচুর-আন্দলন করতে নামবে না। আর মার্চেন্ট ব্যংক ও মিচ্যুয়াল ফান্ডের মত ইনিস্টিটিউট ও তাদের বিনীয়োগ নিরাপদ রাখার জন্য বাজারকে একাটা নির্দিষ্টা মাত্রার নিচে পড়তে দেবেনা।

ফলে আগামী ২ বছর বাজার হবে তুলনামূলক স্থিতিশীল যা সরকারের জন্য (নির্বাচন) ও বড় বিনীয়োগকারীদের জন্য সুখবর হবে করন আবার তাদের হাতে থাকা শেয়ারগুল কেনা মূল্যের দ্বীগুনের কাছাকাছি চলে আসবে বিক্রির চাইতে কেনার প্রেসার বেশি থাকায়।

বাজার থেকে আউট হয়ে যাওয়া অথবা নতুন মফিজরা তাদের সহায়-সম্পদ বেচে দিয়ে, চাই কি ১:২ লোন নিয়ে, আবার মার্কেটে ফেরত আসবে এবং বড় খেলয়ারেরা আবার তাডের হাতে থাকা শেয়ারগুল মফিজদের হাতে গছিয়ে দিয়ে সল্প সময়ের জন্য মার্কেট থেকে কেটে পড়বে।

এভাবে কি একই কাহিনী বার বার নতুন আঙ্গীকে অভিনীত হতে থাকবে ? লুটেরা শ্রেনী কি বার বার ক্ষুদ্র ও দূর্বলকে লুট করতেই থাকবে ? এর কি কোন সমাধান নেই ?

নিতীনির্ধারকদের কাছে শুধু একটাই জিজ্ঞাসা, প্রাস্তাবিত এই ফান্ড যদি ২ বছরের জন্য ঋণ মৌকুফ সুবিধা পায় তবে কেন মার্জিন লোনের খাড়ায় আটকে যাওয়া ক্ষুদ্রবিনীয়োগকারীরা তা পাবে না ? কেন তাদের ঋণের সুদ ও আসল ২ বছরের জন্য স্থগিত করা হবে না ? এড় ঝড়ের পড়েও যারা তাদের শেয়ারগুল বিক্রি করে নি, তাদের ধৈর্যের মেওয়া কেন 'উদ্ধারকারী ফান্ড' এর উদ্দোগতা ব্যাংক ও বীমা সংগঠন, এফবিসিসিআই ও বড় বিনীয়োগকারীদের পকেটে যাবে?

এই ফান্ড যদি সুদ মৌকুফ সুবিধা পায় তবে একই সুবিধা ফান্ডে অংশগ্রহনে অনিচ্ছুক ঋণগ্রস্থদের ও পাওয়া উচিত। নইলে ক্ষদ্র বিনীয়োগকারীদের ধৈর্যের সুফল আবার ও লুট হয়ে যাবে, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসইসি ও ডিএসই উভয়ের উচিত সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা। রকিবুর রহমান ও সালমান এফ রহমানের ভুত সাওয়ার হওয়া এসইসি ও ডিএসই কি তা পাড়বে ? ঘর পোড়া গরু কিন্তু সিদুর রঙ্গা মেঘ দেখলেই ভয় পায়, আমরা ও ভিত এই দুই রহমানের দৌড়ঝাপ দেখে .............


প্রথম প্রকাশ : http://dse-amateurs.blogspot.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29458670 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29458670 2011-10-02 11:31:36
উচ্চ শিক্ষায় ভর্তুকির নামে অপচয় বন্ধ হোক
অন্ন,বস্ত্র, বাসস্থানের মত চাহিদাগুলার পরই মানুষের প্রয়োজন শিক্ষা ও চিকিৎসা। মৌলিক এই চাহীদাগুল রীতিমত অধিকারের পর্যায়ে পৌছে গেছে এখন। রাষ্ট্র তাই যথাসাধ্য চেষ্টা করছে তার নাগরীকদের নূন্যতম চাহীদার যোগান দিতে।

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল এখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, যদিও আগাম ছুটি ঘোষনা করে পরিস্থিতি 'আপাতত' সামাল দিতে চাইছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকার। উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সম্পদ অসীম নয় তাই অবধারিত ভাবেই সীমিত সম্পদ প্রায়রিটির ভিত্তিতে বন্টিত হয়। যদিও দূর্নীতি ও অদক্ষতার করনে অপ্রতুল বরাদ্যে ও হরিলুট নিত্য দিনের ঘটনা।

অস্বীকার করার উপায় নেই যে শিক্ষার হার বৃদ্ধির সাথে সাথে উচ্চশিক্ষার্থির সংখ্যাও বাড়ছে। প্রথমটি খুশির কারন হলেও দ্বিতীয়টি দুঃশ্চিন্তার কারন যা মূলত প্রয়োজনীয় সংখ্যক কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় না থাকার ফলে সৃষ্ট।

এতক্ষন যা বললাম তার সবই কোয়ান্টিটির পেচাল কিন্তু কোয়ান্টিটির সল্পতায় কোয়ালিটির অবস্থা আরো খারাপ। খাবার প্রাপ্তির অনিশ্বয়তায় ভোগা ব্যাক্তি যেমন স্বাদ ও পুষ্টিগুন নিয়ে খুব এখটা চিন্তার সুযোগ পায়না ঠিক তমনি ভাবে শিক্ষর্থীদের ও একই অবস্থা। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুল তাই অন্ধের যোস্ঠী হয়ে উঠেছে অবস্থা সম্পন্ন শিক্ষার্থিদের। অতএব মেধার জোরে আর্থিক অসামর্থ ঘোচানোর সুযোগ কেবল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলতেই উন্মুক্ত।

কিন্তু সীমিত সম্পদ দিয়ে চাইলেই আগামীকাল প্রয়োজনীয় সংখ্যাক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গ তৈরী ও পরিচালনা কারা সম্ভব নয়। শিক্ষা অধিকার কিন্ত প্রত্যেক নাগরীকের জন্য উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়, বিশেষত তা যদি হয় বাংলাদেশের মত জনসংখ্যার ভাড়ে নজ্জু কোন দেশ। পাঠকগন নিশ্চই বেসিক এডুকেশন ও হায়ার-এডুকেশনের তফাত বুঝবেন, বেসিক এডুকেশন প্রত্যেক নাগরিকের অধীকার হলেও হায়ার-এডুকেশ প্রাপ্তি মেন্ডেটরী নিড নয়।

জার্মানী, ফিনল্যান্ডের মত গুটি কয় স্কেন্ডেনেভিয়ান দেশ ছাড়া অন্যরা সবাই এই অবৈতনিক/ সল্প মূল্যে উচ্চশিক্ষা বিতরনের ধরনা থেকে বেরিয়ে এসেছে। আর বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগকৃত সম্পদের ঠিক কতটা ফেরত পাচ্ছে শিক্ষার্থিদের কাছ থেকে ? গুটিকয় ব্যাতিক্রম বাদে যারা সুযোগ পাচ্ছে না তারাই সরকারী চাকরীতে থাকছে আর তুলনামূলক মেধাবী অংশ বেসরকারী ও দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। অধিক অর্থ জেনারেট করতে পারায় এদের কাছ থেকে বাংলাদেশ হয়ত আর্থিক নিরাপত্তা পাচ্ছে কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রে পরোজানীয়ে মেধার প্রয়োগ ঘটাতে পারছে না ফলে আমাদের অবস্থার পরিবর্তন ও দ্রুততর হচ্ছে না। গত ৩০ বছরে শুধু এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই ১৩৮ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় পিএইচডি করে দেশে ফেরত আসেনি। আর বাৎসরিক দেড়-দুই লাখ টাকা ভর্তুকি দিয়ে আমরা যে মেডিক্যাল স্টুডেন্টদের পড়াচ্ছি সেই তারাই ২ বছরের জন্যে ও ঢাকার বাইরে থানা ও উপজেলা পর্যায়ে যেতে চায় না। অথচ এই গরিব মানুষগুলর টাকাতেই তারা বিগত ৫ বছর পড়া-শোনা করেছে।

তাই উচ্চশিক্ষা খাতে সরকারের দেয়া ভর্তুকি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আশু প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আমার প্রস্তাবনা

১। ভর্তুকি বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃত্তি এই দুই খাতে ব্যায় হবে।

২। বিশ্ববিদ্যায়লগুল তাদের পার্ফর্মেন্স অনুযায়ী ভর্তুকি পাবে, শিক্ষার্থির সংখ্যানুযায়ী নয়। পাবলিশ হওয়া রিসার্চ পেপারের সংখ্যা ও এ ধরনের ক্রিয়েটিভ ওয়ার্ক পার্ফর্মেন্স মূল্যায়নের অনেকগুল মাপকাঠির একটি হতে পারে।

৩। বিশ্ববিদ্যায়গুলর নিজস্ব আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে যার মূল দ্বায়ীত্ব বর্তাবে সিনিয়র শিক্ষকদের কাধে। এক জন প্রফেসরের মূল কাজ রিসার্চ করা, ছাত্র পড়ানো নয়। কর্পোরেট ও ইন্ডাস্ট্রি ওরিয়েন্টেড কাজ করে (রিসার্চ, প্রজেক্ট) তিনি ফান্ড যোগার করবেন পাশাপাশি ছাত্রও পড়াবেন। ফান্ড নাই তো প্রফেসবের চাকরী ও নাই। আর ফান্ডের একটা অংশ পাবেন ঐ শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র (স্কলার্শিপ আকারে)।

৪। সরকারী বিশ্ববিদ্যায়লগুল ২য় শিফ্ট চালু করে অর্থের যোগান বাড়াতে পারে যার একটি অংশ পাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকগন।

৪। এইচ এস সি পর্যন্ত শিক্ষা কে বেসিক এডুকেশনের আওতায় এনে সকলের জন্য সকলের জন্য তা অবৈতনিক করা।

৫। আন্ডারগ্রেড/ পোস্টগ্রেড ছাত্রদের রেজাল্ট (পড়া চলা-কালিন সময়ের) অনুযায়ী তাদের আর্থিক বৃত্তি দেয়া হবে যেন সচ্ছল ভাবে কোর্স শেষ করতে পারে। তবে এই সংখ্যা হবে সীমিত।

৬। যারা বৃত্তি পাবে না তারা সরকারী ব্যাংক থেকে বিনা সুদে এডুকেশন লোন পাবেন যা তারা এমপ্লয়েড হবার পর শোধ করবেন।

৭। অর্জিত শিক্ষার স্তর অনুযায়ী নুন্যতম বেতন কাঠামো প্রনোয়ণ করতে হবে। ফলে আন্ডার এমপ্লয়মেন্ট রোধ হবে।

এর ফলে সরকারের ভর্তুকির পরিমান যেমন কমবে ঠিক তেমনি ভাবে অপচয় রোধ হবে কারন ভর্তুকির টাকায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে কেউ ঘরে বসে থাকবে না (বিশেষত মেয়েরা)। আবার কেউ গ্রেজুয়েশন করে বিদেশে শ্রমিকের চাকরী নিয়ে দেশ ছাড়বে না। মানে শিক্ষার্থি তার মেধানুযায়ী সরকারী খরচে উচ্চশিক্ষা লাভ করবে। আর উৎসাহীরা উচ্চশিক্ষা পেতে চাইলে যথাযথ অর্থ ব্যায় সাপেক্ষে তা করবে।

ইংল্যেন্ড, ফ্রান্স, আমেরিকার অনেকেই স্কুল শেষ করে কলেজ/ইউনিভারসিটিতে যায় না কারন হয় তারা যথেষ্ট মেধাবী নয় অথবা এডুক্যাশন লোনে পড়াশোনা করে তা শোধ করার ব্যপারে যথেষ্ট আত্নবিশ্বাসী নয়। বরং প্রয়োজনীয় ১-২ টি ডিপ্লমা করে তারা কৃষি, সেবা, পরিবহন, লাইট ইন্জিনিয়ারিং ইত্যাদি কাজে নিয়জিত হয়ে পরে। ইংল্যান্ডে অনেকেই একাডেমিক অফার পাওয়া সত্বেও পিএইচডি রিফিউজ করে কারন ঐ লেভেলের জব পাওয়া বা করার ব্যাপারে সে যথেষ্ট নিশ্চিত নয়। আর চাইলেই এখ জন পিএইডি হোল্ডার প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক হতে পাড়বেন না, কারন পিএইডি হোল্ডারের বেতন কাঠামো তা সাপর্ট করে না। আর এভাবেই কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাব্যাবস্থার মধ্যে সাম্মাবস্থা আনা হয়েছে পাশ্চাত্যে।

আর এগুল ইমপ্লিমেন্ট করলে সরকারী অর্থ দক্ষ জনশক্তি গড়তে আরো ইফিশিয়েন্ট ভাবে ব্যয় হবে, আর বোনাস হিসেবে আমরা শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতির ধংসাত্বক পরিনতি থেকে ও বেচে যাব। নতুবা আমরা এখন যে রকম 'আল্লাহ ওয়াস্তে' উচ্চ শিক্ষায় ভর্তুকি দিচ্ছি তাতে অল্প দিনেই বাংলাদেশ চেরেটি স্টেটে পরিচত হবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29458213 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29458213 2011-10-01 16:16:15
জননেত্রী, গনভাবন ছেড়ে জনতার কাতারে আসুন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পেটোয়া বাহিনী বিরোধী দলকে ধবল-ধোলাই করার পর আমজনতাকে টার্গেট করেছে। চোর-ডাকাত সাজিয়ে নির্দোষ মানুষকে পিটিয়ে পঙ্গু অথবা গনধোলাই করে মেরে ফেললেও আড়াই বছরের ভাঙ্গা রেকর্ড ( 'দেশের আইন-শৃংখলা যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল' ) উচ্চ ভলিউমেই বাজছে ..................

ভেজিটেবল অয়েল মিনিস্টার উরফে চিনি ফারুকের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় 'টিসিবি' মুলা ঝুলিয়ে ৩য় রমজান পাড় করে দিলেও দ্রব্যমূল্যের পাগলা-ঘোড়ার লাগাম উনি ভালই সামলাচ্ছেন। যদিও দূর্জনের মনভাব আলাদা <img src=" style="border:0;" /> ' চিনি ফারুক মুখ খললেই নাকি চড়া বাজার বারে আরো এক দফা।'

গৌরি সেন মুহিত সাহেবের কার্টুন মার্কা ভাব ভংগি লোক হাসালে ও কাদিয়েছে শেয়ার বাজারের ৩০ লাখ বিনিয়োগকারিকে। ৭১ এ ইয়াহিয়া আর ২০১১ তে মুহিত দুই জনেরই টার্গেট সমান <img src=" style="border:0;" /> এক জন প্রান নিয়েছে তো আরেক জন মাল নিয়েছেন।

হাল সময়ের হিট মন্ত্রী আবুল সাহেব আদম এক খান। সৈয়দ সাহেব আবার পীর বংশিয় জামাতা মানে সেরের উপর সোয়া-সের আর কি। বিগ প্রফাইলের এই মিনিস্টারের কর্মকান্ডও বড়-সর। পদ্মা ব্রীজ; যাত্রাবাড়ি,কুড়িল,মীরপুর,মালিবাগ-মগবাজার ইত্যকার ডজন খানেক এলিভেটেড এস্কপ্রেস ও ফ্রাইওভার নিয়ে উনি মহা ব্যাস্ত। উনি বাঙ্গালিদের এলিভেটেড ও ফ্রাই করিয়েই ছাড়বেন। তাই ভূমির আন্তজেলা মহা সড়কগুলতে নৌকা চলার ব্যাবস্থা পাকা করে ফেলেছেন। শুধু বেরসিক পাবলিক ও মিডিয়ার কারনেই ফেসে গেছেন; নইলে ৫০ হাজার কোটি বাজেটের বঙ্গবন্ধু বিমান বন্ধরের টাকা ম্যানেজ করতে পারলেও সামান্য মহাসড়ক মেড়ামত ব্যায় যোগার করতে পারেননি। যদি টাকার কারনেই কাজ না হয়ে থাকে, তা হলে সড়ক বিভাগে 'বদলী ঝড়' কেন ? এটা ত অর্থ বিভাগ/মন্ত্রণালয়ে হওয়ার কথা । কিন্ত মফিজ মার্কা এই প্রশ্নের জবাব কে দেবে বলেন ........

লাস্ট বাট নট দ্যা লিস্ট, মহামান্য চিফ মিনিস্টার জনাবা শেখ হাসিনা ও আজ জ্ঞান বিলিয়েছেন। সাফল্যের মহা সমুদ্রে এই গুটি কয় ব্যার্থতার কথা উচ্চারিত হওয়ায় উনি যারপর নাই দুঃখ পেয়েছেন। নিন্দুকেরা পাহাড় সম সাফল্যকে আড়াল করে শুধু এই সুই সম ব্যার্থতাগুলই দেখছে । তার নিজের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয় দেড় বছর ধরে নতুন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র করে যাচ্ছে। আজই ৫১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন রেকর্ড হয়েছে। কী সাফল্য ! মারহাবা <img src=" style="border:0;" /> সরকারী-বেসরকারী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলর উৎপাদন খরচ যেখানে ২-৪ টাকা (ইউনিট প্রতি) সেখানে ৭ টাকা ই্উনিটের এই কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ গরিব দেশের পেটে সইলেই হয় ৯৬ এর মত না আবার রিজার্ভে আকাল দেখা দেয়, আল্লা ভারসা। সাফল্যের লিস্টে আরো রয়েছে গোটা পাচেক বিচার (বঙ্গবন্ধু হত্যা, ২১ আগস্ট, ৭১ এর যুদ্ধাপরাধী, পিলখানা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা)। অবশ্য আজ সাধারন সম্পাদক কাম মিনিস্টার টাল আশরাফ থলির বেড়াল প্রায় বেড় করে দিয়েছেন ' ২১ আগস্ট এর বিচার ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চাইতেও গুরুত্বপূর্ন।' বোধ করি জামাতের চাইতে সরাসরি বিএনপিকে জব্দ করার মতলবেই এই প্রয়রিটি <img src=" style="border:0;" />

মাননিয়া শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন, ২১ আগস্টের হামলার মত বৃহত ঘটনা কোন ভাবেই তৎকালীন সরকারের সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়। যদি তার অনুমান সত্য হয় তবে যুগপতে ভাবে বিএনপির ও আওয়ামিলীগের জন্য দুঃসংবাদ। কারন এই থিউরি এপ্লাই করলে বিডিয়ার বিদ্রহের দায় কিন্তু এই সরকারের ঘাড়েই পড়ে। আশা-করি প্রধানমন্ত্রী ও বাগারাম্বর সাহারা/ বটতলার উকিলগন কিন্চিত চিন্তা-ভাবনা করে আরো জোড়াল যুক্তি দাড় করাবেন।

সাফল্যের লিস্টে ত আর কিছু দেখছি না। যে সরকারের অর্থ,বাণিজ্য, স্বরাস্ট্ট ও যোগাযোগ মন্ত্রণায়য় ব্যার্থ হয় সে সরকারের আর থাকেটা কি ? এখন শিক্ষা ও শিল্প মন্ত্রণাল গেলে ত লাল বাতি জ্বলবে বাংলাদেশের। দুঃখিত মেডাম প্রাইম মিনিস্টার পাহার সম সাফল্যের রেকর্ড বাজিয়ে ঐ সব লুজার মিনিস্টারকে বাচাবার চেষ্টা করবেন না। আল্লাহর উপর আস্থাহীন রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম সমেত সংশোধিত যগাখিচুরি সংবিধান ও এই চাটুকার ফেল্টুস মন্ত্রীরা আগামী নির্বাচনে আপনার সহায় হবে না। জননেত্রী, গনভাবনে নয় জনতার কাতারে নেমে আসুন তবেই বাস্তবতা বুঝতে পারবেন।

তথ সূত্র:
১। Click This Link
২। চেনেল-আই ৯ টার সংবাদ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29438070 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29438070 2011-08-24 23:24:31
কান নিয়েছে চিলে: প্রসঙ্গ আমাদের শেয়ার বাজার
যারা 'কান নিয়েছে চিলে' শুনেই কানের পেছনে ছুটছেন তারা কত জন কানর দেখা পেয়েছেন ? বাজারের কিছু শেয়াল শ্রেনীর ব্যাবসায়ী তথা গেম্বলারদের কান-কাথায় লাভের চাইতে ক্ষতির শিকার হয়েছেন এমন বিনিয়োগকারীরাই সম্ভবত আমাদের বাজারে সংখ্যাগরিষ্ঠ হবেন।


গেল ১৫-২০ দিনের পতনের পেছনে এমনই কিছু গুজব ও ট্রেন্ড কাজ করছে। 'কিছু ছোট-মাঝারি সাইজের ফ্রডদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে' এটা শুনেই বাজারে পতনের শুরু। অথচ মাস ২-৩ পূর্বেই যারা ঐ সকল ধান্দাবাজদের শাস্তি চেয়ে মতিঝিলের রাস্তা কাপিয়েছেন তারাই এখন বলছেন 'বিচারের নামে বাজার অস্থিতিশীল' করা ডিএসই/এসইসির উচিত নয় ! আসলেই লাভের দেখা পেতে বাঙ্গালীর ভোল পাল্টাতে জুড়ি নেই।

এটা সত্যি যে ঐ সকল ধাপ্পাবাজরা বেশ সক্তিশালী কোটি-কোটি টাকা কেপিটাল তাদের, চাইলেই বাজার কে ছোট-খাট নাড়া দিতে পারে। কিন্তু তাদের এই চেষ্টাতেই আমরা ছোট বিনিয়োগকারীরা ভীত হয়ে 'পেনিক সেল' শুরু করি যা তাদের কু-চেষ্টাকে আরো জোড়ালো করে।

আশা করেছিলাম ২০১১ র মহাপতন থেকে বিনিয়োগকারীরা কিছু না কিছু শিখেছেন। বাজার পড়লে তা এক সময় উঠেও দাড়ায় কিন্তু 'পেনিক সেল' কারীরাই সবচেয়ে বেশী ক্ষতির শিকার হয় এই উঠা-নামায়। হ্যা তুলনামূলক খারাপ শেয়ারগুল লসে বেচে দেয়ার পেছনে না হয় যুক্তি যাছে কিন্তু হাতে থাকা ভাল শেয়ারগুল কেন ছেড়ে দিচ্ছেন ?

ঐতিহাসিক ভাবেই আমাদের শেয়ার বাজারের যেমন উত্থান পিরিয়ড আছে ঠিক তেমনি আছে পতনের সময়। মূলত মার্চ-জুলাই এর মধ্যেই অধিকাংশ কম্পানী তাদের লভাংশ দিয়ে দেয় ফলে প্রাইস এডজাস্টমেন্টের কারলে এমনিতেই সূচকে পতনের ধারা শুরু হয়। তার উপর আগস্ট-নভেম্বর এ দুটি বৃহত ধর্মিয় উৎসবের কারনে বাজার থেকে সাধারন সময়ের চাইতে অধিক টাকা বেরিয়ে যায়। ফলে বাজারে কিছুটা পতনের আলামত দেখা দেয়। আবার ডিসেম্বরে যেহেতু আর্ধিক প্রতিষ্ঠন সমূহের ইয়ার ক্কোজিং সুতরাং তারাও তাদের পোর্টফলিও খালি করে বৎসর শেষের বিসাব নিকাশ শুরু করে। এই তৃ-মুখি সেল প্রেসারের কারনেই সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর হল আমাদের শেয়ার বাজারের 'ডাল' পিরিয়ড।

সুতরাং পতনের ভয়ে ভীত না হয়ে ভাল শেয়ার হাতে রাখুন আর চোখ রাখুন টার্গেট শেয়ারগুলর দিকে, মৃদু-মাঝারি পতনের সুযোগে নিজের পোর্টফলিওটিকে সমৃদ্ধ করুন সামনের ডিভিডেন্ড মৌসুমের জন্য। বি রেজি ফর হ্যাপি হান্টিং

1st published at http://dse-amateurs.blogspot.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29433678 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29433678 2011-08-17 13:47:49
নেড়ার পুনরায় বেলতলা গমন: প্রসংগ শেয়ার বাজারে আবার কালো টাকা প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজারে ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ ও ১০ শতাংশ হারে কর রেয়াত দিয়ে প্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন ।"

শেয়ার মার্কেটে নভেম্বর ২০১০ এর মহা পতনের সূনচা হয় মূলত আর্থিক খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূদ্রা সংকোচন নীতি গ্রহনের ফলে। ২-৩ মাস আগেও যেখানে ব্যাংক ব্যবস্থায় আড়াই হাজার কোটি টাকা অলস পড়েছিল সেখানে ব্যাংকগুল অনেকটা বাদ্ধ হয়েই তাদের অলস অর্থ পুজিবাজারে নিয়ে আসে। কারন অবকাঠামো ও জ্বালানী সংকটের জন্য আবাসন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরের লোন নেয়ার হার অনেক কমে গিয়েছিল। ফলে ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে প্রদেয় সুদ হার ১০-১২ ও সরকারী বন্ডে সুদ হার ১০ (সাথে ১০% উৎসে টেস্কস কর্তন) মিলিয়ে বড়-মাঝারি-ছোটা সবারই শেষ আশ্রয় স্থলে পরিনত হয় শেয়ার বাজার।

আর একারনেই নিয়ম ভংগে নামী-দামি ব্যাংক থেকে শুরু করে চাকরীজীবি করিম-রহিম, রিটায়ার্ট বাবা-চাচারা পর্যন্ত পুজিবাজারে হাজির হন। বাংলাদেশের পুজিবাজার ২০০৭-২০০৮ সাল থেকেই অপ্রতুল সংখ্যক শেয়ারের জন্য টাল-মাটাল অবস্থায় ছিল কিন্তু ২০০৯-১০ এ হঠাৎ করে সম্পূর্ন নতুন ১০-১৫ লক্ষ লোক হামলে পড়ায় শেয়ার সংকট চরম আকার ধারন করে।

যার অবধারিত ফল সরুপ ২-৩ বছর বন্ধ হয়ে থাকা কম্পানির ''জেড' ক্যাটাগরি শেয়ারের মূল্যও ভাল শেয়ারের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। এর উপর প্লেসমেন্ট, প্রেফারেন্স শেয়ার, ১০ টাকায় স্প্লিটিং, সম্পদ পূর্নমূল্যায়ন ইত্যাদি হরেক রকমের চটকদার আইডিয়ার ইম্লিমেনটেশন শুধু দামের আগুনে ঘী-ই যুগিয়েছে।

অপর দিকে বিনিয়োগ শুন্য পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের ছন্দপতনে ইনফ্লুয়েশন রেট হুহু করে বাড়তে বাড়তে ১০ অতিক্রম করার শেষ প্রতিশেধক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মূদ্রা প্রবাহের রাশ টানতে বাদ্ধ হয়। কুইনাইন প্রয়োগে ব্যাংক ব্যাবস্থা ও অর্থনীতির প্রাণ বাচলেও, এর তেতো স্বাদ ভোগ করতে হয় পুজিবাজারকে। ব্যাংকগুল যখন একে একে মূলধন গুটিয়র বাজার থেকে বিদাই নিতে শুরু করে তখন ক্ষদ্র বিনিয়োগকারীদের পক্ষে অস্ভব হয়ে পড়ে টাকার প্রবাহ ঠিক রাখা। ফল স্বরুপ শুরু হয় মহা পতন। যে বাজারের দৈনিক টার্নোভার ছিল ২'৫-৩ হাজার কোটি টাকা তা দেখতে দেখতেই ৭-৮ শ কোটি টাকায় নেমে এল।

মৃতপ্রায় এখনকার পুজিবাজারে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন বড় অংকের ফ্রেশ বিনিয়োগ। এর সাথে আমিও একমত কিন্তু চোরের হাত থেকে বাচতে যেমন ডাকাতের স্বাহায্য প্রার্থনা আত্নঘাতি ঠিক তেমনি ভাবে অর্থ সংকট কাটাতে সাময়িক সময়ের জন্য কালো টাকার প্রবেশ শেয়ার বাজারে ঘটা চিন্তার কারন। অনেকেই ভাবছেন কী ভাবে ?

যারা এই কালো টাকার মালিক তাদের সিংহভাগই বিনিয়োগকারী নয় ফলে আগামী অর্থ-বৎসরের শেষেই তারা তাদের বিনিয়োগকৃত কাল টাকা সাদা করে নিজ নিজ ব্যাবসায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। চিন্তাকরুন কাল টাকার বিপুল প্রবাহ যদি মৃতপ্রায় বাজারকে জাগাতে পারে তবে ১ বছর পর এই টাকার ৫০-৬০% ভাগোও যদি তুলে নেয়া হয় তবে আরেকটি পতন ঘটা শুধু সময়ের ব্যাপার হবে। হয়ত এবারের মত বড় পতন না হয়ে ছোট বা মাঝারি আকারের হবে, তবে পতনের সম্ভবনা প্রায় শত ভাগ। তাহলে জেনে-শুনে এমন টাইম বোমা পুজিবাজারে কেন ডেকে আনা হচ্ছে ?

শুধু কাল টাকাই নয় <img src=" style="border:0;" /> সাদা টাকার ক্ষেত্রেও ১০% কর রেয়াত পাবেন বিনিয়োগকারীরা ২০১১-১২ অর্থবছরে। সুতরাং আশা করা যায় পুজিবাজারে মোটা অংকের অর্থাগমন অনেকটা নিশ্চিত। সরকারী ২৫ কম্পানির একটিও এখন পর্যন্ত বাজারে আসে নি। হাতে-গোনা ২-৪ টি যাও এসেছে যেগুল শুরুতেই অতিমূল্যায়িত। অনেক নাটকের পর কিছিদইন হল এমজেএল বাজারে আসল ১১৫ টাকা আইপিও মূল্যে যার ইপিএন ১'৫৭ টাকা মানে পিই ৭৫ ! শুধু তাই নয় ২ দিনেই দাম বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বাজারে ! ২ টাকার নিচে আয় করা শেয়ারের দাম কি ভাবে ১৫০ টাকা হয় তা শুধু আল্লাই জানে ? আগামী বছর ঐ কম্পানি যখন ১০-১৫% বা পুরটাই (২০%) মানে ২ টাকা ক্যাশ ডিক্লায়ার করবে তখন এই ১৫০ মূল্যের শেয়ারের দাম কত হবে তা কি এখনকার ক্রেতারা ভেবে দেখেছেন ? কেনার সময় এরকম আহাম্মকি কান্ড করে পড়ে রাস্তায় গাড়ি ভঙ্গে- অনশন করে হিমপেথি পাওয়া গেলেও টাকা ফেরত যে পাওয়া যাবে না তা নিশ্চিত।

সুতরাং ঘটনা কি দাড়াল ? শেয়ারের সংখ্যা না বাড়িয়ে আবার অর্থ প্রবাহ বাড়ানোর দিকে ঝুকেছে সরকার। ধিরে ধিরে আবার দাম বেড়ে একই নাটকের পুনঃদৃশ্বায়ন ঘটতে যাচ্ছে আবার .....১৯৯৬, ২০১০ এর পড় হয়ত ২০১৫-১৬ তেই ফাটবে টাইমবোম।

শেয়ার বাজারে উত্থানের সাথে সাথে পতন ও ঘটবে, এটাই নিয়ম কিন্তু জেনে শুনে পতনের অনুঘটক যোগানোর কোন মানে নেই। সরকারের উচিত বাজের পর্যপ্ত সংখ্যক শেয়ারের উপস্থিতি নিশ্বিত করা। পাশা-পাশি কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখতে হলে তা যেন ধীর্ঘ মেয়াদে বাজারে থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২-৩ বছরের লকইন প্রয়োগ করা যেতে পারে। বাজারের সুস্থতার জন্য সরকার ও বিনিয়োগকারী উনহয়েরই সু-বুদ্ধির উদয় ঘটুক, একজন সাধারন বিনিয়োগকারী হিসেবে এটুকু চাওয়া।


শেয়ার-বাজার বিষয়ক সব পোস্ট একত্রে পেতে ক্লিক করুন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29404229 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29404229 2011-06-29 10:25:48
রিপোস্ট: নেটিজেনরা আসুন মাতৃভাষা বাংলার জন্য এবার হাত বাড়াই নেটিজেনরা আসুন মাতৃভাষা বাংলার জন্য এবার হাত বাড়াই ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29403663 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29403663 2011-06-28 09:18:43 নেটিজেনরা আসুন মাতৃভাষা বাংলার জন্য এবার হাত বাড়াই

খবরটা এতদিনে বেশ পুরন হয়ে গিয়েছে, তবু আবার জানাই - 'গুগল স্ট্টান্সলেটরে যুক্ত হয়েছে বাংলা ।'

বাংলা বিশ্বের ৫ম বৃহত ভাষা হওয়া সত্যেও মাত্রই এটি যুক্ত হয়েছে গুগল স্ট্টান্সলেটরে। সম্ভবত ৬১ তম ভাষা হিসেবে এটি যুক্ত হওয়ায় আমরা এখন সহজেই অন্য ৬৩ টি (গুগল স্ট্টান্সলেটরে এখন মোট ভাষার সংখ্যা ৬৪ টি) ভাষার কন্টেন্টকে বাংলায় অনুবাদ করতে পারব।

তবে আলফা ভার্শনের এই অনুবাদকটি নিতান্তই শিশু। বলতে পারেন মাত্রই অ, অা, ক, খ লিখতে ও বলতে পারছে। অবশ্য সদ্য স্কুলে ভর্তি হওয়া শিশুটিকে নিয়া আমাদের হাসি-তামাশা ও বেশ ভালই চলছে।
'it's raining cats and dogs' এর 'বিড়াল ও কুকুর বৃষ্টি হয়' অথবা 'মুষলধারা পড়ছে' গোছের বংগানুবাদ অনেকেরই বিনোদনের খোরাক যুগিয়ে চলেছে।

তবে আশংকার ব্যাপার হল স্রেফ মজা করার জন্য অনেকে ভুল-ভাল বাংলা শেখাচ্ছে এই বাচ্চা অনুবাদককে। যা প্রকারান্তরে এটিকে একটি ভাল বাংলা অনুবাদ যন্ত্রে পরিনত হওয়ার পথকে দূর্গম করে তুলছে। এর লার্নিং এলগোরিদমে আমরা এখন যত ভুল ইনপুট দিব ঠিক তার চাইতেও অনেক বেশি সময় পরবর্তিতে আমাদের ব্যায় করতে হবে ঐ ভুলগুল সংশোধন করতে।

বাংলার জন্য এক সময় বুকের তাজা রক্ত ঢেলেছে রফিক,জব্বার, বরকতেরা। তারা তাদের সময়ের সেরা কাজটি করেছে এবার আমাদের পালা, একটি ভাল বাংলা ট্রান্সলেটর সাইবার দুনিয়া বাংলা প্রসারকে আরেক ধাপ উপরে তুলতে সহায়তা করবে নিঃসন্দেহে।

গুগল স্ট্রান্সলেট অথবা গুগল স্ট্রান্সলেট টুল কিট দিয়ে আসুন আমরা শুরু করি আমাদের অভিযাত্রা। আমাদের প্রত্যেকের ক্ষদ্র ক্ষদ্র প্রচেষ্টাগুল একত্রিত হয়েই গড়েতুলতে পারে অনেক বড় কিছু। শুধু ভাবুন ফ্রান্স-জার্মানীর কোন উৎসাহী তরুন আমাদের সমৃদ্ধ বাংলা সহিত্যের সুধা আস্বাদন করছে তার নিজ ভাষায় অথবা বাংলা মায়ের কোন দামাল ছেলে বিজ্ঞানের কঠিন সব তত্বের খোজে অনলাইন জার্নালের পাতায় চোখ বুলাচ্ছে মাতৃভাষায়।

এই ব্লগটিও হয়ত আমার কোন লিবিয়ান/ইংলিশ বন্ধু নিজ ভাষাতেই পড়তে পারবে ফেসবুক ও গুগল ট্রান্সলেটের কল্যাণে। হ্যা খুব তারা তারিই তা সম্ভব হবে যদি আমরা আমাদের অবিমৃস্বকারিতা ত্যাগ করে হাত লাগাই অনুবাদকটির উন্নয়ণে। আমরা যারা ঘন্টার পর ঘন্টা নেটদুনিয়ায় ঘুরে বেড়াই তারা চাইলেই ১০-১৫ মিনিট ব্যায় করতে পারি আমাদের প্রয়োজনীয় কোন ডকুমেন্ট বা ওয়েব পেজের কন্টেন্ট গুগল ট্রান্সলেট টুলকিট দিয়ে বাংলায় অনুবাদ করে। এতে যেমন আমাদের বাংলা অনুবাদের চর্চা বৃদ্ধি পাবে ঠিক তেমনি ভাবে গুগলের বাংলা অনুবাদকটির ও বিকাশ ঘটবে। আর যদি এটুকু করতেও আলসেমি হয় তবে অন্তর্ত ভুল বাংলা শিখিয়ে অন্যের ভাল প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি না করি। বাংলাদেশে আমরা শেষ পর্যন্ত ভাল কোন কিছুকেই ভাল থাকতে দেই না, বিগড়ে যাওয়ার হাত থেকে এই অনুবাদকটিকে অন্তর্ত মুক্তি দেই। নিজের ভাল না কি পাগলেও বোঝে কিন্তু আমরা নেটিজেনরা কি বুঝব ?

যে ভাবে গুগলকে সাহায্য করবেন:

১। গুগল ট্রান্সলেট

কোন শব্দের ভুল অনুবাদ দেখলে সেই বাংলা শব্দটির উপর ক্লিক করে সঠিক শব্দটি যোগ করুন। অনেক সময় শব্দের বিন্যাস/স্থান উলট-পালট হয়ে যায়। তখন কি-বোর্ডের শিফ্ট কি চেপে 'গ্রেগ এন্ড গ্রপ' মানে মাউস দিয়ে টেনে সঠিক স্থানে বসিয়ে দিন।

২। গুগল ট্রান্সলেট টুল কিট

ব্যাপক ভিত্তিক কাজ করার জন্য এই টুল কিট। এর ব্যবহার প্রণালী লিখতে আরেকটি পোস্টের প্রয়োজন। তবে চাইলে আপনিও শুরু করতে পারেন। প্রথমেই আপনার প্রয়োজনিয়/পছন্দের কোন ডকুমেন্ট পিসি থেকে আপলোড করুন। আপলোড অপশনে আপনি চাইলে নেটে থাকা কোন ওয়েব পেজ ও অনুবাদ করতে পারেন ঐ পেজের লিংক সর্বরাহ করে। আপলোড হয়ে যাওয়ার পর স্ক্রিনের বাম পাশে অরিজিনার টেক্সট ও ডান পাশে অনুবাদকৃত টেক্সট দেখাবে। ডানপাশের ছোট এডিট উইনডোতে নেক্সট চেপে চেপে চালিয়ে যান আপনার অনুবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29402210 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29402210 2011-06-25 13:11:36
আহসান মন্জ্ঞিল: ইট-কাঠের জঞ্জালে ঘেড়া এক শৈল্পিক স্হাপত্য
ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করলেও, এর ধকল সামলাবার ভয়ে খুব একটা ঘোরা-ঘুরি হয় না। তবে এক বছরের প্রবাস জীবন থেকে যা ভাল কিছু শিখেছি তার মধ্যে ভ্রমণ অন্যতম। ট্রেস ঝড়ে ফেলে প্রাণশক্তি ফিরে পেতে ভ্রমণের বিকল্প খুব কমই আছে। বিশেষ করে উইকেন্ডের 'ডে-ট্রিপ' গুলছিল আমার বিলেত জীবনের অন্যতম প্রিয় অনুসঙ্গ।

তাই দেশে ফিরেও অভ্যেসটা পালটাবার কোন ইচ্ছে হয় নি। ধন্যবাদ সামু ব্লগার রিপেনডিল যার পোস্ট থেকে যাতায়াত, সময়সূচি ইত্যাদি প্রয়োজনী তথ্যে পেয়ে দেখে আসলাম পুরোনো ঢাকার নবাব বাড়ি আহসান মন্জ্ঞিল। উৎসাহীরা আহসান মন্জ্ঞিল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে উইকির সহায়তা নিতে পারেন।

তাহলে চলুন ঘুরে আসি আহসান মন্জ্ঞিল



























আর ফ্রি হিসেবে পাশের বুড়িগঙ্গা ও দেখতে পারেন অবশ্য একে নদী না বলে বৃহদাকার নর্দমা বলাই শ্রেয়। সুরম্য এই নবাব বাড়ির পাশের বুড়িগঙ্গা ও পুরন ঢাকার ইঠ-কাঠের জন্ঙ্গলকে বড়ই বেমানান লাগে। তাই সেগুলোর ছবি দিতে ইচ্ছে করছে না।

যে ভাবে যাবেন: পুরন ঢাকার ব্লগাররা ত জানেনই ওটা কোথায় তবে অন্যরা যেতে চাইলে প্রথমেই পৌছে যান গুলিস্তান। গুলিস্তান মাজার থেকে মিরপুর-সদরঘাট গামী দিশারী পরিবহনে চলে যাবেন ইসলামপুর। সেখান থেকে হেটে অথবা রিকশায় পৌছতে পারবেন গন্তব্যে। অথবা গুলিস্তান থেকে সরাসরি ৩০-৪০ টাকায় রিকশা ও নিতে পারেন।

লক্ষনীয় :
১। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহীক বন্ধ
২। শুক্রবার দুপুরের পড় খোলা
৩। নবাব বাড়ির মিউজিয়ামটিতে বেগ, কেমেরা নিয়ে প্রবেশ করা যায় না তবে এগুল রাখার ব্যাবস্থা আছে।
৪। ৫ টাকা মূল্যের প্রবেশ টিকিট দিয়েই মিউজিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন।
৫। বাড়ির উঠোনে সৃষ্ট বাগানে চাইলে ছোট-খাট ফেমিলি পিকনিক ও করতে পারেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29393363 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29393363 2011-06-08 12:17:00
সাইবার ফ্যাশন: বাঙ্গালীর দেশপ্রেম
বৃটিশ খেদাও আন্দলনে তরুন-যুবা বিলেতি মিহি কাপড় ছেড়ে মোটা চালের ভাত ও তাতে বোনা মোটা কাপড় পড়েই দেশের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করত। আর হাল আমলের ডিজুস জেনারেশন তো দূরের কথা মাঝ বয়সী চাচা-চাচিরা পর্যন্ত রেমন্ডের স্যুট, কাশমেরী শালের জন্য হাপিত্যেস করে মরে। বিপনীবিতানের সোকেসগুলতে দেশী পন্যের খোজ পেতে রিতীমত অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়।

সময়ের চাকা আরেকটু সামনে এগুতেই দেখা চাই বাঙ্গালীর স্বর্নালী সময়ের ৪৭ থেকে ৭১ এ তরুণ, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার নির্মোহ দেশপ্রেমের উপর ভরকরেই ৯ মাসে রক্তসমুদ্র পাড় হয়ে পৃথীবির বুকে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ব-দ্বীপটিকে নিজেদের করে নিয়েছি। অথচ ৩০ লক্ষ শহীদ আর ৩ লক্ষ মা-বোনের সম্প্রমের বিনিময়ে পাওয়া দেশে গত ৮০ বছরে কত জন খুন-ধর্ষনের শিকার হয়েছে তার কি কোন হিসাব আছে ? ৭১ যে তরুন-যুবা অস্ত্র হাতে প্রাণবাজী রেখে লড়েছে তাদেরই উত্তর প্রজন্মের তরুনেরা অস্ত্র হাতে স্বজাতীর প্রাণ সংহারী লাঠিয়াল বাহীনিতে পরিনত হয়েছে। শুধু কি তাই ৭১ এর লড়াকু যোদ্ধাদের কেউ কেউ আজ ফেনীর জয়নাল হাজারী, মিরপুরের কামাল মজুমদার বা টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকী হয়ে আমজনতার মাথায় কাঠাল ভাংছে।

ঘরের কোনে পড়ে থাকা বোকা-বাক্স থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরার ম্যানু পর্যন্ত সব-কিছু ভিনদেশী চাকচিক্কে মোড়া। গায়ে বিলেতি ডিওডরেন্ট/পারফিউম মেখে হাল ফ্যআশনের ফরেন মেড কাপড় জড়িয়ে এমেরিকান বর্গার অথবা পিজাহাটের ফাস্টফুডে অভ্যস্ত হয়ে পড়া আমাদের দেশপ্রেম এতটাই দূর্লভ হয়ে গেছে যে তা জাদুঘর আর পূর্বপুরুষদের গড়া মন্যুমেন্টগুলতেই আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ দিনগুলতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, শহীদমিনার, সৃতিসৌধে ফুলের তোড়া হাতে শ্রদ্ধা (?) জানানতেই আমাদের দায়িত্ব শেষ। অথচ সেই সকল শহীদের স্ত্রী-পুত্র-কন্না পথে-ঘাটে ধুকে মরে। যে দেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নাতি-নাতনিরা পর্যন্ত সরকারী চাকরী/ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায় সে দেশে আবার মুক্তিযোদ্ধাকে কেন রিকশা চালিয়ে জীবন নির্বাহ করতে হয় ?

ইদানিং কালে আবার আরেক প্রজাতির দেশপ্রেমিকদের রমরমা অবস্থা। তথাকথিত এই চেতনাবাদিরা হালের তরুন সমাজকেও মুক্তিযুদ্ধের জ্ঞান বিলিয়ে বেড়ায়। বিএমডব্লু, মার্সিটিজ হাকান অথবা পত্রিকায় ঝড়তোলা জাদরেক কলামিস্ট/লেখকদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শুধুই যেন 'পাকিস্তানকে' ঘীরে আর্তিত হয়। ভাব খানা এমন ভিনদেশী কেউ টেনে-হিচড়ে শরীরের কাপড় খুলে নিয়ে যাক, কোন বিকার নেই। কিন্তু বেটা পাকি চোখের সীমানায় পড়লেই প্রলয় শুরু'

গত ৪৮ ঘন্টায় পাক-ওয়েস্টইন্ডিজ ম্যাচ নিয়ে ব্লগ-ফেসবুক তথা সাইবার দুনিয়ার ঘটে যাওয়া মহা-প্রলয়ের মূল কারন আর কিছুই নয়, চাদ-তারা খচিত পতাকার উড়াল যেন না ঘটে বাংলার মূক্ত আকাশে। কী অভূতপূর্ব দেশপ্রেম ? অথব এরাই উদ্ভদোনী ম্যাচে ভারতীয় তেরঙ্গার উচ্ছল প্রদর্শনীতে সামান্য বিচলিত হয়নি। দূর্মূল্যের বাজারে মধ্যবিত্ত শ্রেনীও যখন চালের জন্য লাইনে দাড়িয়েছে তখন হাজার টাকায় টিকিট কেটে শিলার যৌবন অথবা শাহরুখের বুড়োহাড়ের ভেলকি দেখতে ঠিকই লাইন দিয়েছে বাঙ্গালী। এটাও তাদের তেমনবিচলিত করেনা। হবেই বা কিভাবে, হিন্দি/ইংলিশ চেনেলে বুদ হয়ে থাকা বাংলিশ/ হিংলা আওড়ান এই বিশেষ শ্রনীর মগজ অনেক আগেই ধোলাই করা হয়ে গেছে চেতনাবাদীদের দ্বারা। নইলে চাঁদ-তার পতাকা দেখে খ্যাপে যাওয়া ষাড় কেন সীমানা-প্রাচীরে লটকে থাকা বোনের লাশ দেখতে পায় না ? টিভি-পত্রিকা কাপান চেতনার ফেরীওয়ালাদের কলম কেন থেমে যায় এখানে ?

আজ স্বনামধন্য এক পত্রিকায় তেমনি এক জনের কলাম পড়লাম যনি বলছেন , ''তাই স্বাধীনতার এই অগ্নীঝড়া মাসে পাকিস্তানের পাছে কোয়ার্টার ফাইনালের অনিবার্য পড়াজয় এড়াতে পারাটাকেই আমি এখন মন্দের ভাল মনে করছি। ভারত, ওয়েস্টইন্ডিজ, সাউথ আফ্রিকার কাছে পরাজিত হলেও পাকিস্তানের কাছেত হারিনি

এই আকালের দিনে তাও ভাল 'পাকিস্তান' শব্দটা কারো কারো মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করছে - এই অনেক। কি বলেন? ........নাই মামার চাইতে...........। দেশপ্রেম বাস্তবে চোখে না পড়লেও সাইবার দুনিয়ায় তার অভাব নেই, অভূতপূর্ব ডিজিটালাইজেশন কি বলেন <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29350361 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29350361 2011-03-24 15:33:24
কুৎসিত একটি সকালের অনিন্দ সুন্দর হয়ে উঠা
অনেকেই বিনোদনের জন্য পত্র-পত্রিখায় ছাপা কৌতুক/রম্য রচনা পড়েন, আর আমি পড়ি 'রাশি ফল'। এক কথায় বললে 'রাশি ফল' হল পত্রিকায় ছাপা সর্ববৃহত বিনোদন। অবশ্য মাঝে মধ্যে আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রী ও মহামাননীয়া প্রাধান মন্ত্রী ও কম যান না।

ডে-১ প্রাধান মন্ত্রী : দেশের দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির জন্য বিএনপি দায়ী। (অর্থাৎ সরকারের চাইতে বিএনপির দ্রব্যমূল্য নিয়ত্রন ক্ষমতা বেশী।)

ডে-২ প্রাধান মন্ত্রী : এখন বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে চালের কেজি ১০০ টাকা হত। (মানে বিরোধী দলের চাইতে ওনার দলের দ্রব্যমূল্য নিয়ত্রন ক্ষমতা বেশী। )

এরকম স্ববিরোধী স্বীকারোক্তি/ ভবিষ্যৎ বাণী আমার মত আমজনতাকে শুধু কনফিউজ-ই করেনা উপরোন্তু হাসি-তামাশার খোরাক ও যোগায়। আর বাণিজ্য মন্ত্রীতো এই কাজে লা-জওয়াব 'পৃথীবির কোথাও দ্রব্যমূল্যের দাম বাংলাদেশের মত কম নয়'। উনায় মন্ত্রনালয় খুব সম্ভবত মহাজাগতিক কোন গ্রহ থেক খাদ্য-পন্য আমদানী করেন যতে সর্বরাহকারীর চাইতে ভোক্তা দেশে পন্য-মূল্য কম হয় <img src=" style="border:0;" />

সে যাই হোক, মূল আলোচনা থেকে সরে গিয়ে মন্ত্রীদের গুনগান করে বিনোদিত হওয়ার চাইতে বরং আমার প্রীয় 'রাশিফল' নিয়েই আবার শুরু করি। নিজের জন্মদিন এমনই শুভক্ষনে হয়েছে যে বৃশ্চিক আর তুলা একনও ঠিক করতে পারে নি আমি কোন পক্ষের। সুতরাং আমি দুটাই পড়ি এবং পছন্দ মত যে কোনটা বেছে নেই। এই যেমন ধরুন ১৪ই ফেব্রুয়ারী আই মিন ভেলেনটাইন ডের হরোরস্কোপ বলছে নতুন-পুরাতন সব প্রিয়সীদের নিয়ে দিন আমার ভালই যাবে। ভবিষ্যত বানীটা পুরা অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেছে, সারা দিন শখের পঙ্খীরাজ ডিসকভারী-১৩৫ নিয়ে ইকুরিয়া গমন ও ড্রাইভিং এস্কাম দিয়ে দিন আমার ভালই কেটেছে <img src=" style="border:0;" />


অথবা আজকের কথাই ধরুন, চাকরীজিবী বাবা-মা ও স্কুল পড়ুয়া ভাই সহ ঘরের সবাই সকালের সুখনিদ্রায় মগ্ন, আর আমি কিনা রেডি হচ্ছি ছুটির দিনে ও অফিসে গিয়ে চেয়ার-টেবিল পাহাড়া দেয়ার জন্যে। তাও ভাল যে ছুটির কারনে রাস্তাটা বেশ ফাকা থাকবে। কিন্তু সুখ কি আর কপালে সয় <img src=" style="border:0;" /> যাত্রাবাড়ি মোড়ে ৩০ মিনিটের অনির্ধারিত জেম ঠেলে তবেই অফিসে পৌছেছি সকাল ৯ টা নাগাদ। অবশ্য মোটর-বাইকের কল্যাণে ঢাকার ট্রাফিক জেম এখন আর তেমন কষ্টদায়ক নয়। আপ-ডাইন ৪৫ কিলো রাস্তা পাড়ি দিতে বড়-যোড় ২-২।৫ ঘন্টা লগে। কিন্তু সকালবেলার ঘুম ছেড়ে আসার যন্ত্রণা কি এত সহযে ভোলা যায় ? এমন বিশ্রি রকমের বিরোক্তিকর সকালে বসদের মন্ডুপাত করা ছাড়া আর কি-ই বা করতে ইচ্ছে করে।

তবে বিশ্রি রকমের সুন্দর সকালটাকেই এখন অপরূপ মনে হচ্ছে। কারন আর কিছুই নয়, মেইল বক্সের একটা মেইল ও তাতে এটাস্ড পিডিএফ ফাইলটাই সকালটাকে বদলে দিয়েছে। প্রায় ৪ মাস অপেক্ষার পর ইংল্যান্ডে করে আসা মাস্টার্সের রেজাল্ট হাতে পেলাম। প্রাত্যাশা ছাড়িয়ে যাওয়া ফলই বলতে হবে; টানা তিন বার পড়ার পর পিডিএফ ডকুমেন্টটাকে কিছুটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হল- ইংরেজী বোল্ড হরফে লেখা ডিস্টিংশন শব্দটাকে কেমন যেন অপার্থিব মনে হচ্ছে।

মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ আমার ও আমার পরিবারকে আবারও খুশির উপলক্ষ এনে দেয়ায়। ও হ্যা আজকের 'রাশিফল' কিন্তু বলছে ' শিল্পকলায় অবদানের জন্য সম্মাননা পেতে পারেন।' <img src=" style="border:0;" /> এই না হলে 'রাশিফল' <img src=" style="border:0;" /> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29327726 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29327726 2011-02-16 11:32:39
শেয়ার বাজার : পতনের শেষ কোথায় ?

কিন্তু আবার লিখতে বসতে হল, কারন যারা ইতিমধ্যেই বাজারে প্রবেশ করে ফেলেছে তাদের দূর্দিন শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। অনেকে হয়ত বলবেন ' শুধু দূর্দিন নয়, প্রায় নিশ্ব হয়ে যাবার যোগার হয়েছে'। যারা আমার আগের লেখাগুল পড়েছেন তারা নিশ্বই লক্ষ করেছেন যে আমি সব সময়ই ফান্ডামেন্টালি স্ট্রং শেরারগুলতে বিনিয়োগ করার কথা বলি। আর এই দূর্যোগপূর্ণ বাজারে ফান্ডামেন্টালি স্ট্রং শেরারগুলর কদর নিশ্বই আপনারা বুঝতে পারছেন (অবশ্য ইতিমধ্যেই যদি তা লস দিয়ে বিক্রি করে না থাকেন)।

শেয়ার বাজারে শুধু লাভই হবে -এমনটা শুধু নির্বোধ লোকেরাই ভাবতে পারে। লসের সম্ভবনা না থাকলে দুনিয়ার সব লোক শুধু শেয়ারেই বিনিয়োগ করত অন্য কিছুতে নয়। অবশ্য আমাদের বাজারের ক্ষুদ্রবিনিয়োগকারীদের সর্ববৃহত অংশটি অনেক আগেই বিনিয়োগকারী থেকে ব্যাবসায়ীতে পরিনত হয়েছে। ফলে সূচকের মাঝারি বা বড় পতন হলেই তারা যুদ্ধংদেহী হয়ে রাস্তায় নামছে। যা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়।


অনেকেই এর জন্য সরকার-ব্যাংক-যুয়াড়িচক্র ইত্যাদির কারোসাজিকে দায়ী করছেন। কিন্তু এর জন্য নিজের দায়টুকু স্বীকার করছেন না। গত জানুয়ারী'১০ থেকে অক্টোবর'১০ পর্যন্ত গড়পরতা ৮০ ভাগ বিনিয়োগকারী ৩০-৮০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি মুনাফা করেছে। যা সাধারন বিচারে সম্ভব নয় এবং হওয়া উচিত ও হয়নি। কিন্তু আমরা তখন তা আমলে নেইনি বরং চোখ বন্ধ করে লভ্যাংশ পকেটে পুরেছি। অন্যের কথা কি আর বলব, আমি নিজেই ১০০ শতাংশ লাভ করেছি। তাই প্রস্তুত হয়েই ছিলাম পতনকে স্বাগত জানাবার জন্য।

পার্থক্য এটুকুই বড়-বড় রুই কাতলারা ঐ লাভ নিয়েই সটকে পড়েছে আর আমি বা আমরা যাই নি। তাই পতনের ধাক্কা আমাদের গায়েও লেগেছে। কিন্তু যারা ভাল শেয়ারে ছিলেন বা আছেন তাদের এই ধাক্কা লাভের উপর দিয়েই গিয়েছে। তাই সর্বোশ্ব হারিয়ে ফেলার কথা যারা বলছেরন তাদের জন্য শুধুই সমবেদনা। কারন এর জন্য তাদের অগ্যতা ও অতি মূনাফা করার মানসিকতাই দায়ী। উর্ধগতির সময় বাজার যেমন কোন নিয়ম মানে না ঠিক তেমনি ভাবে পতনের ধাক্কাও বাছ-বিচার করে আসে না। ফলে জাঙ্ক ও কমশক্তিশালী শেয়ারগুলর পাশাপাশি ভাল শেয়ার ও মূল্য হারায়।

ডিএসইর সামনে হইচই করা মানুষগুল সমস্বরে বলছে সরকার কেন বাজার উঠাচ্ছে না ? সরকার যে চেষ্টা করেনি এমন ও নয়, প্রায় ৬ শ থেকে হাজার কোটি টাকার শেয়ার কিনে বাজার উঠাতে চেষ্টা করেছে। যার ফলে গত দুই মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৫০-২০০ পয়েন্ট সূচক পতনের মধ্যেও হটাৎ করে ২০০-৪০০ পয়েন্ট সূচক উঠে যেতেও আমরা দেখেছি।

কিন্তু এই উত্তরন স্থায়ী হয় নি যার মূল কারন আমরা নিজেরাই । কি ভাবে ? কারন আমরা অনেকেই লস দিয়ে সব শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছি। খারাপগুলোর ব্যাপারে কিছু বলার নেই কিন্তু ভাল শেয়ারগুল কেন আমরা ছেড়ে দিচ্ছি ? আমরা বিনিয়োগকারী; ব্যাবসায়ী নই। রেখেদিন না আপনার হাতে থাকা ভাল শেয়ারগুল। প্রয়োজনে সামনে ঘোষিত হওয়া ডিভিডেন্ডগুল গ্রহন করুন। এতে লাভ দুই দিকে - ১) তাতে আপনি ফিজিকালী লস দিয়ে ভাল শেয়ার হাত ছাড়া করছেন না (দাম কমে লস যা হবার তা হল ভার্চুয়ার ফিজিকাল নয়) ২) ডিভিডেন্ড পাবার ফলে আপনার ভার্চুয়ার লসের পরিমান কমে আসবে

তাই আতংকিত না হয়ে ভাল শেয়ার হাতে রাখুন। অনেকে হয়ত ভাবছেন দাম কিছুটা বাড়লে অথবা আরো কমার চাইতে এখনই বিক্রি করে নগদ টাকা হাতে রাখি। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল এই টাকা নিয়ে কি করবেন ? হয়ত আপনি আর শেয়ার বাজারে আসবেন না, যদি তাই হয় তবে তাদেরকে কিছুই বলার নেই। কিন্তু যদি ভাবেন দাম আরো পরলে তখন কিনব তাই এখন বিক্রি করে ফেলি। এমন যারা ভাবছেন তাদেরকে শুধু সেই গল্পটাই মনে করিয়ে দিতে চাই যেখানে প্রাণ প্রিয় রাজার পুকুরে দুধ রাখার কথা থকলেও সবাই পাত্রে করে পানি নিয়ে গিয়েছিল এই ভেবে যে, 'সবাইত দুধই আনবে তাতে আমার এক কলসি পানি কেউ টেরই পাবে না'। রাজার সেই পুকুরে শেষ পর্যন্তু শুধু পানিই জমা হয়েছিল দুধ নয়।

সার কথা এই যে বাজারে সংশ্লিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক না চাইলে, সরকার বা কোন সংস্থার পক্ষেই বাজারের পতনরোধ করা সম্ভব নয়। আর আমরা সকলে মিলে যদি চাই তবেই বাজারকে উর্ধমূখী করা সম্ভব। নতুন বিনিয়োগ করতে না পারি অন্তর্ত হাতে থাকা ভাল শেয়ারগুল ছেড়ে দিয়ে বাজারের পতনকে আরো তরান্বিত না করাই আমাদের এখনকার দায়িত্ব। রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া না ভেঙ্গে বরং হাতে থাকা শেয়ারগুল আগলে রাখুন। মনে রাখুন আপনি বিনিয়োগকারী, ব্যাবসায়ী নন। আর বিনিয়োগকারীদের সর্বোতম যোগ্যতা হল ধীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করার মানসিকতা; আজ কিনে চতুর্থ দিনে ২-৩ টাকা লাভের জন্য বিক্রির চিন্তা করা মুদি ব্যবসায়ীদের কাজ আপনার নয়। তাই এই বিপদে ভীত না হয়ে ধীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে হাতে থাকা ভাল শেয়ারগুল সংরক্ষণ করুন।


শেয়ার বাজার নিয়ে আমার সব লেখা একত্রে পেতে ক্লিক করুন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29325823 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29325823 2011-02-13 17:09:23
হেল্প: মটর বাইক চালান শিখতে চাই , কোথায় ? " style="border:0;" />


কোথায় শিখতে পাড়ি আপনাদের জানা থাকলে প্লিজ শেয়ার করুন ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29277037 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29277037 2010-11-24 12:39:12
শেয়ার বাজার-১৬: মুভিং এভারেজ

মুভিং এভারেজ (MA) : এর ভাল বাংলা কি হবে তা নিয়ে আমি বেশ সদ্ধিহান তার পরেও সাহস করে এর একটা বাংলা নাম দিলাম 'চলমান গড়' (বাংলা সাহিত্য অনুরাগী বা বাংলা একাডেমির পাবলিকরা আমেরে নিশ্চিত দৌড়ানি দেবে এমন কু-কর্মের জন্য <img src=" style="border:0;" /> )। তা এই চলমান গড় কি জিনিস তার ডেফিনেশন না দিয়ে বরং একটা উদাহরন দেই তা হলে হয়ত সবাই ভাল ভাবে বুঝতে পারবেন-

ধরুন শেয়ার 'ক' এর গত ৬ দিনের মূল্য হলো - ৫০, ৫২, ৫৫, ৫৩, ৫৪, ৫৫ টাকা ।

তা হলে ২ দিনের চলমান গড় - ৫১, ৫৩'৫, ৫৪, ৫৩'৫, ৫৪'৫
এবং ৪ দিনের চলমান গড় - ৫২'৫, ৫৩'৫, ৫৪'২৫।

অনেক ধরনের মুভিং এভারেক রয়েছে, যেমন - simple moving average (SMA), Cumulative moving average, Weighted moving average, Exponential moving average(EMA)।

এর মধ্যে আমাদের কাজে লাগবে Exponential moving average(EMA) যা exponentially weighted moving average (EWMA) নামেও পরিচিত। এর ইংরেজী নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে কি ভাবে তা কেলকুলেট করা হয় <img src=" style="border:0;" /> । পদ্ধতিটা হল গড় নির্নয়ের সময় প্রতিটি সংখ্যাকে এক্সপিনেনসিয়ালি কমতে থাকা একটি সংখ্যা (ভর) দিয়ে গুন করে যোগ করা হয়। সাম্প্রতিক ডাটায় ভর বেশি ও পুরন ডাটায় ভর কম। যারা আরো বিস্তারিত জানতে চান তারা উইকি থেকে ঘুরে আসতে পারেন http://en.wikipedia.org/wiki/Moving_averag


MACD (Moving Average Convergence / Divergence) : <img src=" style="border:0;" /> এটার বাংলা করা আর সাহসে কুলোচ্ছে না । বিশাল সব ডেফিনেশ না দিয়ে একটা ছবি দিলাম আশা কেরি এটা দিয়েই এমএসিডি বোঝাতে পারব




উপরের ছবিটি দেখুন - ২ টা গ্রাফ রয়েছে, ১ম টিতে থাকা লাইন ২ টির একটি (খয়েরি রং) ২৬ দিনের এক্সপোনেনসিয়াল চলমান গড় ও অপরটি (গোলাপি) ১২ দিনের এক্সপোনেনসিয়াল চলমান গড় নির্দেশ করছে।

অপর দিকে ২য় গ্রাফে (ছবির নিচের অংশ) ও ২টি লাইন প্রদর্শন করছে যার একটি (নীল) সেই ২৬ ও ১২ দিনের এক্সপোনেনসিয়াল চলমান গড়ের পার্থক্য নির্দেশ করছে আর অন্য লাইনটি (লাল) ৯ দিনের এক্সপোনেনসিয়াল চলমান গড় নির্দেশ করছে। আর বার ডায়াগ্রামের মাধ্যমে লাল ও নীল রঙ্গের লাইন দুটির দূরত্ব দেখান হয়েছে।




Relative Strength Index (RSI) : আরো একটি চার্ট যা সাম্প্রতিক সময়ে একটি শেয়ারের শক্তিমত্যা বুঝতে কাজে লাগে। কি ভাবে কেলকুলেট করা হয় তা জানতে উইকি ঘাটুন Click This Link । তবে আমাদের কাজ মুলত এপ্লাইড মানে কি ভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানা। আর এটা খুবই সহজ।




ছবি দেখুন ৩০ ও ৭০ এ ২ টি লাইন টানা হয়েছে । ৩০ বা এর নিচে নামলে আন্ডার বাই এবং ৭০ বা তদুর্ধ অবস্থাকে ওভার বাই কনডিশন হিসেবে দেখা হয়। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা কি পরিমানে শেয়ারটি কিনছে তা ০-১০০ রেন্জে প্রদর্শন করে RSI গ্রাফ।


আজ এ পর্যন্তই <img src=" style="border:0;" /> অনেকে হয়ত গত পর্ব ও আজকের পর্ব নিয়ে বিরক্ত হচ্ছেন (কি শুধু তত্ব নিয়ে নাড়া-চারা; কি ভাবে কেনা-বেচায় কাজে লাগবে তা বলছে না )। আমাদের বেসিক জ্ঞান লাভ এই পর্বেই শেষ আগামী পর্বে ইনশাল্লাহ ট্রেডিং সিগ্নাল নিয়ে আলোচন করব। সবাই ভাল থাকবেন।



শেয়ার বাজার নিয়ে আমার লেখা সব পোস্ট একত্রে পেতে ক্লিক করুন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29257635 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29257635 2010-10-19 11:08:52
শেয়ার বাজার-১৫: স্বাগতম টেকনিকাল এনালাইসিসের জগতে " style="border:0;" /> প্রায় দের মাস পর আবার লিখছি। তাই প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি পাঠকদের কাছে অনিচ্ছাকৃত দীর্ঘসূতিতার জন্য। মাস্টার্সের থিসিস সাবমিশন-ডিফেন্স, প্রবাসের পাঠ চুকিয়ে দেশে ফেরা সব মিলিয়ে এক রকম মেরাথন রেস করতে হয়েছে শেষ ২ মাসে।

দেখতে দেখতে এই সিরিজের ১৫ তম পোস্ট লিখছি আজ তাই আর খুব বেশি বড় করার ইচ্ছে নেই। টেকনিকাল এনালাইসিস নিয়ে ৩ টি পর্ব লিখেই ইতি টানার চেষ্টা করব, মানে খুব বেশি হলে ১৭ কিংবা ১৮ পর্বেই শেষ হবে শেয়ার বাজার নিয়ে লেখা এই সিরিজ। আসলে আপনাদেরকে জানাবার মত আর খুব বেশি মেটারিয়াল নেই আমার ঝুলিতে তাই দিন থাকতেই তল্পি-তল্পা গোছানোর ফন্দি এটেছি <img src=" style="border:0;" />

টেকনিকাল এনালাইসিস শেয়ার বাজারে বেশ পরিচিত ও ক্রমবর্ধমান ভাবে জনপ্রিয় হতে থাকা একটি ট্রেডিং টেকনিক যা মূলত গানীতিক তথা স্টেটেস্টিকস থেকে শুরু করে হাল আমলে ডাটা মাইনিং (টাইম সিরিজ ডাটা এনালাইসিস) পর্যন্ত বিসৃত। আর পেশগত ও একাডেমিক কারনে (আমি পেশায় এক জন ডাটাবেজ এডমিনিস্ট্রেটর আর সর্বশেষ একাডেমিক স্টাডি এরিয়া ছিল ডাটা মাইনিং) অদূর ভবিস্যাতে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারেও ডাটা মাইনিং এর বিভিন্ন টেকনিক এপ্লাই করার ইচ্ছে আছে। তবে এই সিরিজে এত সব কাঠখোট্টা টাইপের জিনিস নিয়ে আলোচনা না করে টেকনিকাল এনালাইসিসের বেসিক কিছু টুল - ১। কেন্ডেল স্টিক ২। মুভিং এভারেজ (MA, MACD) ও ৩। RSI নিয়ে আলোচনা করব। আশা করি যা আপনাদের শেয়ার কেনা-বেচার স্বীদ্ধান্ত নিতে কিন্চিত হলেও কাজে লাগবে।

স্বতর্কীকরণ: গত ১৪ টি পোস্টে আমি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে শুধু শেয়ারের ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস নিয়েই কথা বলেছি। শেয়ার ট্রেডিং এ ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস হল প্রধান বিবেচ্য ও মূল গুরুত্বপূর্ন বিষয় যা বিস্তারিত ভাবে কোন নির্দিষ্ট শেয়ার ও শেয়ার বাজার সম্পর্ক সমক্য ধারনা দেয়। শেয়ার মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি, এর পেছনের কারন, কম্পানির আর্থিক ভিত্তি ও বাজারের সামর্থ নিয়ে কাজ করে ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস। অপর দিকে টেকনিকাল এনালাইসিস বিশেষ করে স্টেটিসটিকাল গ্রাফ/চার্ট নির্ভর টুলগুল (এই পোস্ট ও আগামীতে আলোচ্য টুলগুল) শুধুমাত্র বাজারের ট্রেন্ড এনালাইসিস করে ফলাফল দেয়; অনেকটা স্রোতে গা ভাসাবার মত করে বাজারের গতি-প্রকৃতির উপর ভর করেই কাজ করে। শেয়ার মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি, এর পেছনের কারন, কম্পানির আর্থিক ভিত্তি বা বাজারের সামর্থ ইত্যাদি এই সকল টেকনিকের বিবেচ্য বিষয় নয়। তাই টেকনিকাল এনালাইসিসকে, ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিসের সহায়ক টুল হিসেবে ব্যবহার করুন। কিন্তু কখনই শুধুমাত্র টেকনিকাল এনালাইসিস নির্ভর হবেন না, হলে কপানে দূর্গতি নিশ্চিত।

টুল -১ : কেন্ডেল স্টিক

১৮ শতকের এক জাপানি মাছ ব্যাবসায়ির অবদান এই কেন্ডেল স্টিক যা যুগপত ভাবে লাইন চার্ট ও বার চার্টকে রিপ্রেজেন্ট করে। নিচের ছবি দেখুন যা একই সাথে শেয়ারের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন, ওপেনিং ও ক্লোজিং প্রাইস রিপ্রেজেন্ট করছে।



ছবিতে সাদা ও কাল ২ ধরনের কেন্ডেল স্টিক দেখালেও টেকনিকাল এনালাইসিসে ব্যাবহৃত সফ্টওয়ারগুলতে লাল ও সবুজ রং এর কেন্ডেল স্টিক দেখতে পাওয়া যায়। লাল/কাল - দাম হ্রাস এবং সাদা/সবুজ দাম বৃদ্ধিকে রিপ্রেজেন্ট করে।

এখন কথা হল এই স্টিক দেখে আমরা কি বুঝব ? মূলত কিছু পেটার্ন দেখেই এই স্টিক গ্রাফের মাজেজা বুঝতে হবে। আর এই পেটার্নগুলর সংখ্যা নিতান্ত কম নয় তাই সবগুল নিয়ে পোস্টে রচনা না লিখে মূল সোর্সের লিংক দেয়াই ভাল হবে। আর টেকনিকাল এনালাইসিস যেহেতু এডভান্স লেভেলের জিনিস তাই দাত-ভাঙ্গা ইংলিশগুল পড়ে বোঝার কষ্টটুকু নিজে নিজেই করুন, আর প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়াতে আমি ত আছিই। তা হলে শুরু করে দিন........ <img src=" style="border:0;" />

Click This Link

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

শেয়ার বাজার নিয়ে আমার লেখা সব পোস্ট একত্রে পেতে ক্লিক করুন
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29248869 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29248869 2010-10-03 11:09:02
আবার শূন্য থেকে শুরু: সময় এখন অভিযোজনের <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> " style="border:0;" /> ২০ শে সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পড় থেকেই ১১ মাসের বিরতীটা ধীরে ধীরে বেশ বড় মনে হচ্ছে।

গত ৮-১০ দিন ধরে চলছে আমার অভিযোজন পিরিয়ড। প্রথম ২-৩ দিন শুধু ঘুমিয়েই কাটালাম, টানা ২৫ ঘন্টার ভ্রমণ ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেলেও সময়ের ফাঁদে আটকে যাওয়া দেহ-ঘড়ি বেশ সমস্যায় ফেলেছে। ইংল্যান্ড-বাংলাদেশের ৫ ঘন্টার টাইম ডিফারেন্স খাওয়া-দাওয়া ঘুমে মারাত্নক বিগ্ন ঘটাচ্ছে।

অথচ আগামী সোমবার থেকেই পুরোদমে অফিস-আদালতে ছোটা-ছুটি শুরু হবে <img src=" style="border:0;" /> এই রকম রাজার হালে ১০ টায় ঘুম ভাঙ্গলে কপালে নির্ঘাত দুর্গতি আছে। এর উপর উটকো ঝামেলা হয়ে ঘারে চেপেছে শরতের তাপদাহ ! (হাসবেন না <img src=" style="border:0;" /> ঢাকাবাসিদের জন্য ২৫-২৭ ডিগ্রী বেশ আরামপ্রদ টেম্পারেচারই কিন্তু -৪-১৮ ডিগ্রী থেকে হটাৎ করে ২৫-২৬ শে প্রত্যাবর্তন প্রায় অশনীয় মনে হচ্ছে যেন থার্মোমিটারের পারদ ৩৫-৩৮ ছুয়েছে )

আমি থাকি নারায়ণগন্জ্ঞে আর অফিস বনানী, ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত তেমন কোন সমস্যা ছাড়াই প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করলেও এখন রিতীমত ভয় হচ্ছে; গোদের উপর বিষফোড়া হয়ে আবার যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ অংশে শুরু হয়েছে ফ্লাইওভারের কাজ। আল্লাহ মালুম সোমবার থেকে শুরু হওয়া দুর্ভোগ কত দিন স্থায়ী হয়।

কপাল ভাল বাসায় আইপিএস আছে তাই বিদ্যুতের আসা-যাওয়া খুব একটা ভোগাচ্ছে না তবে গরুগাড়ি মার্কা নেট স্পিড নিয়ে ত্যাক্ত-বিরক্ত...লেপটপে ব্রাউজার ওপেন করলেই মেজাজ খারাপ হচ্ছে। ফলে ব্লগেও আসা-যাওয়া কমে গেছে। আশা করছি অফিসের ২ এমবি নেট এই বিরোক্তি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।

২৮ বছরে বাংলাদেশের আলো-বাতাসে অভিযোজিত আমি ১১ মাসেই বদলে গেছি এমনটা ভাবার কোন কারন খুজে পাচ্ছি না; নিশ্চিত জানি কিছুটা সময় দিলেই শরীর মহাশয় মানিয়ে নিতে পারবে চেনা পরিবেশের সাথে। এখন কামনা একটাই এই 'অভিযোজন পিরিয়ড' এর সময় কাল যেন কম হয়। দোয়া করবেন আমার জন্যে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29248410 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29248410 2010-10-02 11:04:49
বিলেতের ডায়েরী-১৪: ১১ মাসের অপেক্ষা শেষে স্বদেশের পথে " style="border:0;" /> । শনিবার সকাল ১০ টা ফ্লাইট হলেও, হিথরোর পথে রওনা হতে হবে শুক্রবার রাতেই।

পেকিং-টেকিং শুরু করেছি বেশ আগেই। তবু শেষ বারের মত আজ রাতে আবার বসতে হবে। পেকিং করতে বেশ মজাই লাগে, কেমন যেন অদ্ধুত এখটা ভাল লাগা গ্রাস করে। দেশে থাকা প্রিয় জনদের প্রতি ভালবাসার তৃব্রতা টের পাই তখন। বাংলাদেশে থাকতে দেশে ও আশ-পাশে থাকা মানুষগুলর প্রতি মমত্যবোধটা ঠিক সে ভাসে অনুভব করিনি, যা এখন করি।

অন্তর্ত এ কারনেই প্রত্যেকের উচিত কিছু দিনের জন্য হলেও দেশের বাইরে থাকা; তা হলে নিজের ভেতরের সুপ্ত অনুভূতিগুলকে আবিষ্কার করা সম্ভব হবে। বলতে দ্বিধা নেই আগের যে কোন সময়ের চেয়ে দেশ ও স্বজনদের প্রতি দায়িত্ব ও মমত্ববোধ অনেক বেশী তৃীব্র হয়েছে এই ১১ মাসে।

এখানকার জীবন অনেক সার্টেইন বেচে থাকার জন্য নুন্যতম প্রয়োজনের চাইতে অনেক বেশি কিছুই এখানে পাওয়া যায়। তবে দেশের জ্যাম-জন্ঝাল ঠেলে ঘরে ফেরার প্রশান্তি এখানে অনুপস্থিত। হয়ত একারনেই মুঠোয় পাওয়া পিএইচডি অফারটা পায়ে ঠেলে দেশে ফিরছি .......... বন্যা-খরা, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ সমস্যায় ধুকতে থাকা দেশটাকে এখন বিলেতের চাইতেও পরম কাঙ্খীত গন্তব্য মনে হচ্ছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29240699 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29240699 2010-09-16 21:53:08
আমার প্রিয় কিছু ছবি-২
























পূর্বের পোস্ট:
আমার প্রিয় কিছু ছবি-১ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29236775 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29236775 2010-09-08 00:06:58
বিলেতের ডায়েরী-১৩: বাংলাদেশ ফুড ফেস্টিভাল " style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

তবে আজ বাইন্ডার নয় বরং আমার কুক হয়ে উঠার গল্প শোনাব আপনাদের। চাকরীজীবি ফেমিলির জেষ্ঠ সন্তান হওয়ায় বেশ ছোট বেলা থেকেই রান্নায় খাতে খড়ি হয়েছে। আর কোন এক অদ্ভুত কারনে মেয়ে না হয়ে ও রান্নার প্রতি অজানা আগ্রহ ও ভাললাগা জন্মে গেছে, তাই নতুন নতুন রেসিপি ট্রাই করা আমার অনেক গুল শখের মধ্যে একটি।

পরিবার ও কাছের বন্ধু মহলে আমার রান্নার কিন্চিত সুমান থাকলেও আমি নিজে খুব একটা কনফিডেন্ট ছিলাম না কখনই। তবে ১ বছরের স্কলার্শিপে ইংল্যান্ডে এসে শখের রান্না মারাত্নক কাজে লেগেছে। আমি যে টাউনে থাকি তা পুরই ব্রিটিশ অধ্যুসিত। এদের রান্নার যা বাহার তা আর কি বলব <img src=" style="border:0;" /> আলু, ফুলকপি, মটরশুটি সেদ্ধ, কাচা বাধাপকি, ফ্রুট জুস, ব্রেড-বাটার আর হ্যাম/চিকেন এই হল এদের খাবার। এগুল খেয়ে আর যাই হোক ১ বছর পার করা অস্ভব

৩ বাঙ্গালীর ছোট্ট পরবাসী সংসারে তাই আমাকেই শুরুতে কিচেন সামলাতে হয়েছে। পরে আসা আরো ৪ জনের মধ্যে ফায়াজ আমার যোগ্য প্রতিদ্ধন্ধী <img src=" style="border:0;" /> (আমি অবশ্য সহযোগীই ভাবি)। হাউজমেটরা বলে ও আসায় নাকি আমার রান্না আরো ভাল হয়ে গেছে.......হা হা হা

আর বাঙ্গালী কালচারে যা হয় আরকি <img src=" style="border:0;" /> লেন্ড লর্ড কেভিনকে স্বপরিবারে ডিনারে নিমন্ত্রণ। এর পর আর যাই কোথায় ! বেটা বাঙ্গালী খাবারের স্বাদ পেয়ে গেছে। অতএব আমি-ফায়াজ মিলে ওর আব্দার রক্ষা করা সুরু করলাম। অবশ্য ৩-৪ মাসে বাকি সবাই চলনসই রান্না শিখে ফেলায় আমাদের লোড অনেক কমে গিয়েছিল। আর সামারে বার্বিকিউ পার্টি হয় নি এমন উইকেন্ড খুজে পাওায় দায় <img src=" style="border:0;" />। এখানকার ২ বাঙ্গালী পরিবার, আমরা আর কোর্ট ফেমিলিতে হোস্ট আর গেস্ট যাই হই না কেন বার্বিকিউ গ্রীলের ভার আমার আর ফায়াজের কাধে <img src=" style="border:0;" /> এই যন্ত্রণা আর কাহাতক মেনে নেয়া যায় <img src=(" style="border:0;" />

সামার শেষে তাই হাফ ছেড়ে বাচলাম <img src=" style="border:0;" />। কিন্তু ২ সপ্তাহ যেতে না যেতেই কেভিন যা শোনাল তাতে আত্নারাম খাচা ছাড়া হবার যোগার। এবার বেটা বায়না ধরেছে কোন এক উইকেন্ডে চেরেটি ফান্ড রেইজ করতে ও স্থানীয় ব্রিটিশ বন্ধুদের কাছ থেকে চাদা তুলতে চায় আর এর জন্য আমাদেরকে বুফে লান্চ এর এরেন্জমেন্ট করতে হবে <img src=" style="border:0;" /> মনে মনে বেটার মুন্ডু পাত কলেও <img src=" style="border:0;" /> রাজি হয়ে গেলাম। ভাবলাম কত আর হবে খুব হলে ১০-১২ জন; ৭ জনের রান্না এমনিতেই করি, এটা আর এমন কি হবে। তখনও টের পাইনি কি বিপদে পড়তে যাচ্ছি <img src=" style="border:0;" /> ১ সপ্তাহ পরে বেটা বলে কি না ৪০-৫০ জনের জন্য খাবারের আয়োজন করতে হবে ! বুঝেন অবস্থা <img src=(" style="border:0;" /> কোথায় ১০-১২ আর কোথায় ৪০-৫০, এত পুরো বিয়ে বাড়ির আয়োজন।



শেষ পর্যন্ত রাজি হলাম একটা বিশেষ কারনে <img src=" style="border:0;" /> বুফে আয়োজন করা হবে স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে আর সেই সুযোগে আমরা ৭ বাঙ্গালী ও পাব সুযোগ পাব রেস্টুরেন্টের কিচেন ব্যাবহার অনুমতি। এমন সুযোগ কি আর হেলায় হারানো যায় <img src=" style="border:0;" /> প্রফেশনাল কিচেনে রান্না করার শখ পুরনে তাই যুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নিলাম। ২১ তারিখে ২-৩ জন মিলে গেলাম বারমিংহাম, এক গাদা বাজার নিয়ে দুপুরেই ঢুকে গেলাম কিচেনে। বেশ কিছু আইটেম হাফ-কুকড করে কোল্ড স্টোরেজে রেখে আসলাম। আর পর দিন শুরু আসল রান্না <img src=" style="border:0;" /> । আমি-ফায়াজ হেড শেফ বাকিরা সহযোগী।


কেভিন ও তার রেষ্টুরেন্ট মালিক বন্ধু

রেস্টুরেন্টের মালিক বেটা সায়মনের সে কি ভাব আমাদের পাত্তাই দিতে চায় না। <img src=" style="border:0;" /> তবে আমাদের রান্না দেখে ও নিশ্চিত টের পেয়েছে বাঙ্গালী কি চিজ। আসুন এবার মেনুগুল দেখি <img src=" style="border:0;" />

স্টার্টার: ছোলা, পেয়াজু, সমুচা (কাচা নিকতে পাওয়া যায় ),হালিম।

মেইল কোর্স: পোলাউ, বিরীআনী, খীচুরি, বিফ ভুনা, চিকেন কোর্মা, রুই মাছ ভাজা, চিকেন ফ্রাই, আলুর চপ।

ডেজার্ট: ফিরনি, জর্দা















রোজা রেখে এগুল রান্না ও পরিবেশন করতে হয়েছে <img src=" style="border:0;" /> সংযোম আর কাকে বলে তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি <img src=" style="border:0;" />

তবে বিশাল এই আয়োজনের মাঝে নিজের দেশেকে তুলে ধরতে ভুলিনি আমরা। বাংলাদেশ নিয়ে ৩০ মিনিটের একটা প্রেজেন্টেশন দিয়েছি। এখানকার ইংলিশরা বাংলাদেশকে চিনেছে টিভির পর্দায় দেখা বন্যা-খরায় হাবুডুবু খাওয়া এক দেশ হিসেবে। কিন্তু এখন এরা জানে আমাদের সংস্কৃতি ঐতিজ্য ও খাদ্যাভ্যাস। বিদেশের মাটিতে নিজ দেশের প্রসংশা শুনতে আসলেই অনেক ভাল লেগেছে, আর বুকের গহীনে অবুভব করেছি এই সবুজ-শ্যামল দেশটাকে অনেক অনেক ভালবাসি। গুটিকতক ইংলিশকে বাংলাদেশ চেনাতে পেরে আমরা তাই গর্বিত। আর কেভিন ও প্রায় ৬০০ পাউন্ড ফান্ড যোগার করতে পেরেছে এই আয়োজন থেকে। ব্রিটিশরা বাংলাদেশে হরহামেশাই সাহায্য-সহযোগীতা করে; এবার না হয় আমরা ৭ বাঙ্গালী মিলে গরীব ব্রিটিশদের জন্য কিছু করলাম <img src=" style="border:0;" />




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29233864 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29233864 2010-09-02 02:19:20
প্রবাসের ডায়েরী-১২: আজ আমার স্বাধীনতা দিবস <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> " style="border:0;" /> নিজেকে কেমন যেন স্বাধীন স্বাধীন মনে হচ্ছে। গত দুই মাসে প্রায় শেকর গজিয়ে গেছে পায়; খাওয়া-দাওয়া আর এক বাংলাদেশ ফুড ফেস্টিভালের ২ দিন ছাড়া হাউজমেটদের সাথে ঠিক মত কথাও বলা হয় নি। তার উপর ভোর ৪টা- সন্ধা ৮ রোজা পুরো স্টীমরোলার চালাছে হয়েছে নিজের উপর। অবশেষে মিলেছে মুক্তি...

ও আচ্ছা আসল কথাটাই ত বলিনি <img src=" style="border:0;" /> আজ দুপুরে আমার থিসিস লিখা শেষ হল। রং-চঙ্গে বাইন্ড করা পেপারটা এখন আমার টেবিলে কাল এরকম আরেকটা প্রিন্ট-বাইন্ড করে প্রফেসরের টেবিলে জমা দিলেই শেষ। ভাইবা এর আগ পর্যন্ত পুরা ফ্রী <img src=" style="border:0;" /> নিজেকে কেমন যেন বেকার বেকার লাগছে।

মাস দুই ঘরে বন্ধি থাকলেও অন-লাইনে কেনা কাটা ভালই হয়েছে <img src=" style="border:0;" /> স্কলার্শিপের কড়-কড়ে পাউন্ডগুলোর ভালই শ্রাদ্ধ হয়েছে। শখ আর হটাৎ পাওয়া সামর্থের পূর্ন সদ্ব্যাবহার কারা আর কাকে বলে। আগামী ৫-৭ দিন এগুল নিয়েই অলস সময় কাটারা প্লেন আটছি।


প্রথম ৩ দিন নতুন ভিউজিক্স এর থ্রীডি চশমা ও নকিয়া ৫৮০০ নিয়ে থ্রীডি মুভি দেখেই সময় কাটবে।




এর পরের ২ দিন দেড় মাস পেকেটে ঘুমিয়ে থাকা এসিআরের এস্ক ১১০ প্রজেক্টরের ঘুম ভাঙ্গাতে হবে। লিস্টে বেশ কিছু মুভি জমে গেছে তাই এগুল দেখে সময় পাড় করা ইচ্ছা আছে....



এর পরে বের হব কেনা-কাটা আর ফটিগ্রাফীর ধান্দায়। সনির ডি এচসি এইচ-২০ টির নতুন কিছু কনভার্শন লেন্স কিনেছি গত সপ্তাহে, এই সুযোগে সেগুলোর একটা পরীক্ষা ও নেয়া হয়ে যাবে।



আগামী ৫-৭ দিন তাই বেশ আয়েশ করেই কাটবে। <img src=" style="border:0;" /> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29233190 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29233190 2010-08-31 22:52:07
ধুর হতচ্ছারা আজও বুঝিসনি ভালবাসা ভাল নয় মানব-মানবীর প্রেম নাকি স্বর্গ থেকে আসা এক অপার্থীব সুধা;
কিন্তু আমি দেখেছি তার খ্যাপাটে চেহারা
ঠিক যেন চৈত্রের খরো তাপ অথাবা কাল বৈশাখীর উন্মাদনা।
কৈশোর না পেরতেই দেখেছি পরম প্রীয় বন্ধুকে ছিন্নভিন্ন হতে;
কিশোর প্রেমের ঝাঝাল এসিডে ঝলসে গেছে মেধাবীর তীক্ষ্মতা
বুয়েট-মেডিকেল দাবড়ে বেড়ানোর সপ্ন দেখা বন্ধুটি-
আজ জা.বি.র আঙ্গীনায় ঘুরেবেড়ায় মুখে একরাশ অন্ধকার নিয়ে।
কলেজ জীবনেও ভালবাসা পিছু ছাড়েনি আমার <img src=" style="border:0;" />
এবার সে নারীর ছলনাময়ী রূপ নিয়ে হাজির স্বমহীমায়;
অন্যের কাছে ওয়াদা বদ্ধ হওয়া সত্যেও নারীর অমোঘ আবাহন
দু-নায়ে পা রাখা নারীমূর্তিটি বেচেঁ গেলেও বন্ধুটি পারেনি
নেশার ছোবলে নীল হয়ে অন্ধকার জীবনে ঠিকানা গড়েছে সে।
দেখেছি আর নিজেই নিজেকে বলেছি, রশো বাছা
সাহিত্যের রসাল ভালবাসা বাস্তবে কিন্তু খুব একটা ভাল নয়।
প্রাইভেট ইউনির চৌকাঠ মাড়াতেই উদ্ভত যৌবনা ভালবাসা হাজির <img src=(" style="border:0;" />
বেটা হতচ্ছারা কম্পিউটার কি এত সগজেমই পোশমানে ?
প্রগ্রামিং শেখার যন্ত্রণা আর ৪ মাস আয়ূস্কালের সেমিস্টারগুল চাপে
যখন আমার ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা; ভালবাসা তখনও রমরমা <img src=" style="border:0;" />
সেমিস্টার বদলের সাথে সাথে ভালবাসা বদলও তাই ডাল-ভাত,
যেন ঠিক ঝলমলে শোরুমে সাজান রংচংয়ে হাল ফ্যাশনের জামা;
ছেলে-মেয়ে পড়ছে দেদারসে,আজ এটা তো কাল সেটা, যেন রেস লেগেছে!
গুনীজন বলে বুদ্ধিমান নাকি ঠেকে নয় দেখে শেখে <img src=" style="border:0;" />
গেল দশ বছরে কম দেখিনি; তবু অবুঝ হৃদয় ভালবাসা পেতে চায়!
মস্তিষ্ক তখন চেচিয় উঠে, ধুর হতচ্ছারা আজও বুঝিসনি ভালবাসা ভাল নয় ।
হা হা হা...........


পুনশ্চ: ভুল বাংলা বানানের জন্য অগ্রিম ক্ষমা প্রার্থি। শুধরে দিলে কৃতার্থ থাকব।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29229440 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29229440 2010-08-25 14:11:45
শেয়ার বাজার-১৪: অতিমূল্যায়িত ও অবমূল্যায়িত শেয়ার
'অতিমূল্যায়িত' শব্দটি এতই ব্যাবহৃত যে এটা শুনতে শুনতে সব বিনীয়োগকারীর কান ঝালা-পালা <img src=" style="border:0;" />। এই শব্দের আবার ভংঙ্কর চেহারা ও আছে, বাজার নিয়োন্ত্রক সংখ্যা মানে DSE অথবা SEC এর মুখ থেকে 'অতিমূল্যায়িত' শব্দটি বেরন মানেই বাজার সংশোধনের জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ অত্যাসন্ন; ফলস্বরুপ মূল্য পতন। ভয়-ভীতি এমন স্থানে পৌচেছে যে, DSE অথবা SEC পূর্বনীর্ধারিত মিটিং এর দিন বাজেরে মূল্য পতন নিয়মিত ঘটনায় পরিনত হয়েছে।

তা হলে আসুন এই 'অতিমূল্যায়িত' দৈত্য ও 'অবমূল্যায়িত' আলাদিনের চেরাগের সাথে পরিচিত হই আজ।

অতিমূল্যায়িত (Overvalued): যে শেয়ারের বর্তমান বাজার মূল্য তার আর্থিক সামর্থকে অনুসরন করে না, সে শেয়ার গুলই অতিমূল্যায়িত শেয়ার বলে পরিচিত হয়। আর বাজার সংশোধনে এরাই সবার আগে মূল্য হাড়ায়। অর্থাৎ আয়ের তুলনায় কোন শেয়ারের উচ্চ বাজার মূল্যই অতিমূল্যায়নের লক্ষণ।

আর অবমূল্যায়ন বা নিম্নমূল্যায়ন (Undervalued) হল অতিমূল্যায়িত (Overvalued) এর বিপরীত অবস্থা। সুতরাং অতিমূল্যায়িত শেয়ার খুজে বেরকরতে পারলে অবমূল্যায়িত শেয়ার গুলও বের করা সম্ভব। মূলত ৬ ভাবে অতিমূল্যায়িত শেয়ার চিন্থিত করা যায়:

১। High p/e or low earnings yield: আয় ও বাজার মূল্যের অনুপাত বেশি হলেই তা অতিমূল্যায়িত। আমাদের বাজারে পিই ১৫-২০ গ্রহনযোগ্য কিন্তু তা ২৫ ছাড়ালেই শতর্ক হওয়া উচিত। আর earnings yield হল পিইর আরেক রূপ। earnings yield = ১/পিই = (১/২৫)*১০০ = ৪% এটা যত কম হবে ঝুকি তত বাড়বে।

২। Falling dividend yield: কম্পানির বোনাস পলিসির পরিবর্তন হলেই ডিভিডেন্ড দেয়ার হার কমে/বাড়ে। যে কম্পানি আগে ১০০ টাকা লাভ করলে ৭৫ টাকা বোনাস দিত সেই কম্পানি যদি হটাৎ করে ৬০ টাকা দেয়া শুরু করে কিন্তু বাজারে দামের কোন লক্ষনিয় হের-ফের হয় না তখন বুঝতে হবে এই শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে পরছে।


৩।High price to earnings growth ratio: ধরুন কম্পানি ক এর ২০০৮ এর আয় (EPS) ১০ ও ২০০৯ এ ১১ টাকা। অর্থাৎ আয় বৃদ্ধির হার {(১১-১০)/১০}*১০০ = ১০% আবার ২০০৯ এ পিই হল ২৫। মানে ২০০৯ এ আয় বৃদ্ধির হার ও পিই'র অনুপাত (২৫/১০)= ২'৫ । এই অনুপাত ২ এর বেশি হলে তা অতিমূল্যায়নের লক্ষণ বলে ধরা হয়।

৪।High price to book ratio: ধরুন কম্পানি ক এর শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (NAV) ২০০ টাকা আর বাজার মূল্য ৬০০ টাকা। অর্থাৎ দুটর অনুপাত হল ৩ ! যেখানে ২ হলেই শীর্ষস্থানীয় শেয়ার বাজারে হাউ-কাউ শুরু হয়ে যায়। তবে আমাদের দেশের অবস্থা ভিন্ন তাই এখেত্রে NAV কমলেও যদি বাজার মূল্য না করে তবে বুঝতে হবে এই শেয়ার অতিমূল্যায়নের দিকে যাচ্ছে।

৫।Low return on equity: কম্পানির নিট লাভ ও শেয়ার হোল্ডারদের হাতে থাকা শেয়ারের সব শেয়ারের দামের অনুপাত (বাৎসরিক গড় দাম * মোট শেয়ার সংখ্যা)। এই অনুপাত বিগত বছরগুলর সাথে মিলিয়ে যদি দেখা যায়, অনুপাতের পতন ঘটেছে তখন তা অতিমূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়।

৬।The boss is selling: সব চেয়ে সোজা উপায় আর কি ! কম্পানির মূল্য উদ্দোগতা বা স্পনসররা যখন তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দেয় তখন বুজতে হবে ঐ কম্পানির অবস্থা খারাপ হচ্ছে। ৩ কারনে এই বিক্রি হতে পারে -

ক। এক জন শেয়ার হোল্টার কোন কম্পানির বাজারে ছারা মোট শেয়ারের ৫% হোল্ড করতে পারেন। ফলে বোনাস আকারে এই শেয়ারের পরিমান বেড়ে গেলে অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রি করে দেয়া হয়।

খ। মূলধন অন্য কোন ব্যাবসায় স্থানান্তর করতে।

গ। উঠতি বাজারে বিক্রি করে তা আবার কম মূল্যে কেনার উদ্দশ্যে।

মূলত খ ও গ এর ক্ষেত্রে তা শেয়ারের অতিমূল্যায়ন ইনডিকেট করে।

তাই শেয়ার কেনার আগে দেখুন আপনার পছন্দের শেয়ারের বর্তমান অবস্থা কি? অতিমূল্যায়িত শেয়ার এড়িয়ে চলুন এবং খুজতে থাকুন অবমুল্যায়িত শেয়ার সমূহ <img src=" style="border:0;" /> কারন কিছু দিনের মধ্যেই তাদের মূল্য বৃদ্ধি শুরু হবে। আর শেয়ার বাজারে টিকে থাকার মূল মন্ত্র হল-

"শেয়ার কেনার সময়ই লাভ করতে হবে বিক্রির সময় নয়।"

কৃতজ্ঞতা: আরিফ ভাই যিনি টপিকটার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ইমেইলের মাধ্যমে।


শেয়ার বাজার নিয়ে আমার লেখা সব পোস্ট একত্রে পেতে ক্লিক করুন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29224186 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29224186 2010-08-16 21:52:44
শেয়ার বাজার-১৩ ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস, টেকনিকাল এনালাইসিস: সহযোগী না প্রতিদ্ধন্ধী ?
আজ সৌভাগ্যা ক্রমে পর পর ৩ টা লেখা পড়লাম, যা মূলত টেকনিকাল এনালাইসিস (TA) এর খারাপ ভাল দিকগুল নিয়ে লেখা হয়েছে। এ সম্পর্কিত নিজস্ব মতামত তুলে ধরাই আজকের লেখার মূল্য উপলক্ষ। তাহলে আসুন আগে দেখি FA,TA কি জিনিস-

ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস (FA): মূলত কম্পানির ফিনানসিয়াল ফান্ডামেন্টাল তথা লাভ-লোকশান/আয়-ব্যায়কে কেন্দ্র করেই এ ধরনের এনা লাইসিস করা হয়। আমার ব্লগে শেয়ার বাজার সম্পর্কিত সব লেখাই এ ধরনের এনালাইসিসের ভিত্তিতে লেখা। তাই পাঠেক মাত্রই জানেন কি ভাবে এই টেকনিক কাজ করে।

টেকনিকাল এনালাইসিস (TA): এটি একটি স্টেটিস্টিকাল টেকনিক যা মূলত বাজারে শেয়ারের মূল্য ও চাহিদার আনুপাতিক হার দ্বারা নিয়ন্ত্রীত। যেহেতু ব্লগার তৌফিক কামাল অলরেডি এটা নিয়ে আলাদা পোস্ট দিয়েছেন তাই পাঠকগন ঐ ব্লগ থেকেই বিস্তারিত জানুন। সময় সল্পতা ও লেখার আকার সীমিত রাখার জন্য বিস্তারিত আলোচনায় গেলাম না।

যারা ঐ পোস্টটি পড়েছেন তারা নিশ্চই অবাক হচ্ছেন কী সহজেই না গ্রাফ/চার্ট দেখে শেয়ার কেনা-বেচা করা যায়। সংক্ষেপে বললে সিসটেমটা এমন " ৫-৬/১০-১৫ দিনের এভারেজ মূল্য ও ট্রেড ভলিউমের চাইতে এখন কার মূল্য ও ভলিউম বেশী হলেই বাই আর তা কমতে শুরু করলেই সেল। "

টেকনিকটা যে কার্যকরী এ ব্যাপারে কোন সন্ধেহ নেই কিন্তু সমস্যা হল এর ব্যাবহারকারী। ছবি ত সবাই তুলতে পারে কিন্তু আমার আর একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারের হাতে একই কেমেরা থাকলেও ছবির মান যে আকাশ-পাতাল হবে তা বলাই বাহুল্য। তবে আমি কিন্তু খারাপ ছবি তুলি না Click This Link <img src=" style="border:0;" />

টেকনিকাল এনালাইসিস (TA) এর সীমাবদ্ধতা ও কুফল সম্পর্কে ব্লগার হা হা পোস্ট করেছেন আজ। আর এই পোস্টের কাউন্টার পোস্ট ও এসেছে একই দিনে। আমি বরং টেকনিকাল এনালাইসিস (TA) এর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আরো বিস্তারীত আলোচনা করি।

প্রথকেই কিছু প্রশ্ন করি, TA যারা বুঝেছেন তাদের জন্য

১। বর্তমান মূল্য ও ট্টেডিং ভলিউম গড় মূল্য ও গড় ট্টেডিং ভলিউমের চেয়ে বেশী হলেই শেয়ার কিনতে হবে। কেন এই বৃদ্ধি তা কি কেউ ভেবেছেন ?

২। ঠিক কতটুকু বেশী হলে/ কমলে আপনি ক্রয়-বিক্রয় শুরু করবেন ?


১ এর জবাবে অনেকেই বলবেন, দাম ও ক্রয়-বিক্রয় বৃদির পেছনের কারন চাহীদা বৃদ্ধি <img src=" style="border:0;" />। তাদের জন্য সম্পূরক প্রশ্ন এই চাহিদা কে সৃষ্টি করল গেম্বাররা না কি কম্পানির আর্থিক ভিত্তি ?
২ এর জবাবে অনেকে হয়ত বলবেন, ১০-১৫% বৃদ্ধি পেলেই কিনতে হবে আবার ১০-১৫% কমে গেলে বিক্রি।

এবার আসুন একটা উদাহরন দেখি -

কম্পানি : ক (কোন কল্পিত কম্পানি নয়, নীতিমালার কারনে নাম ডিসক্লোজ করা গেল না )
কেটাগরি: IT Sector - মাত্র ৫ টি কম্পানি রয়েছে এই কেটাগরিতে সুতরাং তা মেনুপুলেট করা তুলনামূলক সহজ

Last Trade 50.00
52 Week's Range 26.5 - 88.9 - দাম বেশ ফ্লাকচুয়েট করে
Face Value 10.0
Market Lot 500
Market Category A - ভাল
Electronic Share Y - ভাল
Total no. of Securities 22853600
Share Percentage: Sponsor/Director 52.24 Govt.0 Institute 0 Foreign 0 Public 47.76
Total no. of Securities 22853600
মানে প্রায় ১,০৯,৬৭, ৯২৮ (Total no. of Securities*Share Percentage) টি শেয়ার ও ২১,৯৩৯ টি লট (১,০৯,৬৭, ৯২৮/৫০০) রয়েছে সাধারন বিনিয়োগকারীর হাতে। অর্থাৎ বেশ ভাল ভাবেই একে মেনুপুলেট করা সম্ভব।

এখন যদি কোন গ্রুপ সেই ২১,৯৩৯ টি লটের ২০% কম দামে কিনে এবং আরো ৫-৭% লট গড় মূল্যের চাইতে বেশী দামে কেনা শুরু করে (ধরুন ৫-২০ ট্রেডিং ডে এর মধ্যে কিনবে) তা হলে কিন্তু আমাদের এই টেকনিকাল এনালাইসিস (TA) ঠিকই বাই সিগনাল জেনারেট করবে। যদিও এই চাহিদা বৃদ্ধি মেনুপুলেটেড <img src=" style="border:0;" />। দু:খজনক হলেও সত্য যে MACD গ্রাফ, Candle stick গ্রাফের সাধ্য নেই এই ম্যানুপুলেশনকে ইনডিকেট করার । তাই গ্রাফ দেখে আপনি যখন কিনতে শুরু করবেন, ঐ গ্রুপ তখন কেনা থামিয়ে দিয়ে হাতে থাকা ২০% লটগুল বিক্রি শুরু করবে আপনার কাছে।

আর যেহেতু গড় মূল্যের ১০-১৫% বেশি দামে আপনি শেয়ার কিনছেন সেহেতু আপনি বড় রিস্ক নিচ্ছেন কারন এই দাম কম্পানির আর্থিক ভিত্তি দ্বারা সাপোর্টেড নয়। ফলে শেষ দিকের বিনিয়োগকারীরা মিনিমাম ২০-২৫% ক্ষতির স্বীকার হবেন।


তাই টেকনিকাল এনালাইসিস (TA) ফলো করার আগে জাচাই করুন এই চাহীদা বৃদ্ধির কারন। যদি এটা কম্পানির আর্থিক লাভের পরিমান দ্বারা ট্রিগার্ড না হয়ে থাকে তবে শত হাত দূরে থাকুন ঐ শেয়ার থেকে (TA যতই বাই সিগনাল জেনারেট করুক না কেন <img src=" style="border:0;" /> )


আমার ব্যাক্তিগত মতামত হল টেকনিকাল এনালাইসিস ব্যাবহার করুন আপনার বিনীয়োগের সময়কাল কমিয়ে আনতে তবে অবশ্যই দেখুন এই চাহীদা বৃদ্ধি যেন কম্পানির আর্থিক ভিত্তি দ্বারা সাপোর্টেড হয়। তাহলে সেলিং সিগনাল মিস করলেও দুশ্চিন্তা নেই কারন আর্থিক ভিত্তি আপনাকে সুরক্ষা দেবে। আর কম্পানির আর্থিক ভিত্তি নিরুপনের জন্য ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস (FA) হল সব চেয়ে গ্রহনযোগ্য উপায়।

নতুন বিনিয়োগকারীদের প্রতি অনুরোধ, অন্ধ হয়ে TA এর পেছনে ছুটবেন না, আগে অ-আ শিখুন পড়ে ক-খ নইলে অল্প বিদ্যা ভায়ঙ্করী হবার সমুহ সম্ভাবনা আছে। আর যারা টেকনিকাল এনালাইসিস শেখাচ্ছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ ভাল দিকগুলর পাশাপাশি এর খারাপ দিকগুল ও বলুন। নতুন দেরকে সচেতন করুন অন্ধ অনুকরন করতে শিখিয়েন না। কি এবং কোন কারনে বাইং সিগনাল জেনারেট হল এবং কে আপনি তা ফোলো করছেন তাও বলুন। আর ব্লগার তৌফিক কামালকে উদ্দেশ্য করে বলছি-

আপনার ব্লগ ও ফেসবুক একাউন্ট দেখলাম; আপনি এমন সব স্পেকুলেটিভ তথ্যা ব্লগ ও ফেসবুকে দিচ্ছেন যা ডিএসইর আইনে নিষিদ্ধ। ইতিমধ্যেই অনেক ব্লগ, ফোরাম ও ওয়েব সাইট বন্ধ করে দিয়েছে রেব। ৬ মাস আগে ৩ জনকে গ্রেফতার ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। তাই যা করবেন আইন মেনেই করুন।

শেয়ার বাজার নিয়ে আমার লেখা সব পোস্ট একত্রে পেতে ক্লিক করুন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29217139 http://www.somewhereinblog.net/blog/quest/29217139 2010-08-07 19:00:19