উৎসর্গ করা হল
আশরাফুল ইসলাম দূর্জয় ও রিয়েল ডেমোন কে।
একজনের কাছ থেকে সঙ্গ, ও আরেক জনের কাছ থেকে বু্দ্ধি পেয়েছি, তাই।
নিজেকে দেখি আর বিস্মিত হই, এতটা বদলে দিলে তুমি আমায়, মাঝ মাঝে গাইতে ইচ্ছা করে ''girl what you do to me!''
প্রিন্স জানালা দিয়ে সমুদ্র দেখল, কি বিশাল, যদিও তার ভালোবাসার কাছে ঐ সমুদ্রও হার মেনেছে।কত ভালো লাগে, যখন সে হাত ধরে সমুদ্রের পাশে হাটে সোনিয়া সাথে।ওর টোল পড়া গালের হাসিতে মন ভরে যায়, উদাসী হতে দমকা হাওয়ার প্রয়োজন আর অনুভব করেনা।কতটা ভালোবাসে সেটা জানতে চেয়েছিলো সোনিয়া একদিন, প্রিন্স বলেছিলো ওজন করতে পারলে হার হবে সোনিয়ার, শুনে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলো সোনিয়া।কিছুটা অভিমানী লাজুক মেয়েটা নিরব হয়েছিলো, আর সমুদ্রের উচ্ছাসে বিরল হতে লাগছিলো সূর্য।
অবাক হয়ে গেলো, এতটা দেরি করেনা ক্যাম্পাসে আসতে সোনিয়া।আজ কেমন লাগছে প্রিন্সের, মনে হতে লাগল প্রানহীন এক বৃক্ষ সে! ঐ মেয়েটার জন্যসে সকালে ছয়টার সময় উঠে, আগে সে প্রচুর সকালের ক্লাস করতো না, কিন্তু এখন আর মেয়েটা আসছে না।
তাকালো চারদিকে, হটাৎ করে মনে হল এতদিন যা দেখেনি তা আজ দেখল।চারদিকের সবাই কিন্তু দোকলা নয়, কেউ কেউ অপেক্ষা করছে।ক্যাম্পাসের এইদিকটায় কখনো সে শিক্ষকদের দেখেনি, সবসময় শিক্ষার্থিরা এখানে ঘুরে।এখান থেকে সূর্যোদয় দেখা যায়। আর সবাই তাই এখানে বসে থাকে তাদের কাছের মানুষটার সাথে, উপভোগ করে সূর্যোদয়।কি সুন্দর আকাশটা সোনালী বর্ণ হয়ে যাচ্ছে।সোনালি রংটা পছন্দ করেনা সোনিয়া, অথচ এটা প্রিন্সের পছন্দের রং!
শাহরিয়ার কে ছুটে আসতে দেখে অবাক হল, ''কি হয়েছে'' প্রিন্স বলল।
''কিছু শুনিস নি তুই, কাল কথা বলেছিস সোনিয়ার সাথে?'' হাপাতে হাপাতে বলল শাহরিয়ার।
''কেনো? বলতে পারিনি, ওর ফোন বন্ধ ছিল, তুই হটাৎ করে একথা জানতে চাচ্ছিস কেনো?''অবাক গলায় বলল প্রিন্স।
''ওর বাসায় গিয়েছিলি?'' শাহরিয়ার ধাতস্ত গলায় বলল।
''ও আমাকে নিষেধ করেছে, তাছাড়া মনে নেই গত মাসে ওর বাবা সব জানতে পেরে কি ঘটনা হয়েছিলো?''অবাক হওয়া গলায় বলল প্রিন্স।
শাহরিয়ারকে চুপ থাকতে দেখে প্রিন্স বলল '' কি হল, চুপ করে আছিস কেনো? কি হয়েছে সোনিয়ার?''
''কথা বল!'' অধৈর্য গলায় বলল প্রিন্স।
''সোনিয়া সুইসাইড করতে চেয়েছিলো, এখন হাসপাতালে'' শাহরিয়ার বলল।
''তুই, তুই মিথ্যা বলছিস কেনো?'' কাপা গলায় বলল বলল প্রিন্স।
..................................................................................................
হাসপাতালে বসে, সোনিয়ার সামনে, কথা বলল প্রিন্স ''তুমি কেনো এমন করলে জানিনা, জানতেও চাইনা। কিন্তু আত্মহত্যা করার আগে আমার কথা একটুও কি মনে পরেনি তোমার, তুমি না থাকলে আমি কি করব জেনেও এটা করলে কেনো?''
সোনিয়ার বলতে ইচ্ছা করছিলো, তোমাকে না পেলে আমার বেচে থাকা বৃথা তাই করতে চেয়েছিলাম আত্মহত্যা, কিন্তু ওই চাহনির সম্মুখে সে কিছু বলতে পারল না, অবশ হয়ে বসে রইল।
Girly, never mind, I'll find somebody like you, because I just can't stop loving you! প্রিন্স বলল।
অবাক হয়ে রইল তাকিয়ে সোনিয়া।সোনিয়ার অশ্রুতে টলমল চোখদুটো মুছে দিলো প্রিন্স, আর বলল, ''কোনদিন মরতে হলে মরব একসাথে, বুঝলে?''
হেসে ফেলল সোনিয়া, সুন্দর আগামির পথে প্রিন্সের সাথে পাড়ি দিতে প্রস্তুত সে।
.....................................................................................................
''এই এতো দেরি হচ্ছে কেনো তোমার?'' ফোনের এপ্রান্ত থেকে বলল সোনিয়া।
''আমি সুইসাইড এটেম্পট করছিতো তাই'' বলল প্রিন্স।
''কি?'' বসে পড়ল সোনিয়া।
''এই, আমি আসছি, ?তুমি যদি কিছু কর এর মধ্যে তাহলে খবর আছে তোমার বললাম!'' বলল সোনিয়া।
প্রিন্স হেসে ফোন বন্ধ করল, আর অপেক্ষা করতে লাগল সোনিয়ার, আজ সোনিয়াকে বলবে সে তাকে যেনো আর প্রতিদিন সোনিয়াকে দেখতে যেতে না হয় কোথাও, যেনো ওকে সবসময় পাশে পায় এখন থেকে!
......................................................................................................
''রোড এক্সিডেন্ট, কোথায় হলো?'' বলল প্রিন্স।
''সোনিয়া ঐ গাড়িতে ছিল,'' বলে চিৎকার করল লুনা।
হাসপাতালে আবারো দেখতে পেল সোনিয়েকে, কিন্তু এবার আর সেই প্রানবন্ত হাসি আসলো না কেনোনা ঐ লাজুক মুখ আর দেখতে পেলনা প্রিন্স, শুধু দেখল নিথর দেহে পড়ে আছে একই কেবিনে, যেমনটা আগেও দেখছিলো সে।
এবার মনে হল আবার....... Girly, never mind, I'll find somebody like you, because I just can't stop loving you!
এগিয়ে গেল অন্তিম সমু্দ্রের কাছে প্রিন্স, করল আত্মহত্যা যা সে কখনই করতে চায়নি বা দেয়নি। তাই সমুদ্রের কাছেই হল শেষ সমার্পন তার।
(সমাপ্ত)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


