''আমি বিয়ে কব্বো, ওয়া, আম্মুউউ'' বলে নাকের পানি চোখের পানি ভর্তি চেহারা নিয়ে চিৎকার করছিল লোপা, আর আমি বোকার মত দাড়িয়ে ছিলাম ওর পাশে।
সেদিন সকালবেলা খেলতে গেলে লোপা বলতে লাগল ও নাকি কে কয়টা বিয়ে করবে জীবনে, সেটা বের করার উপায় জানে। আমি অতি কৌতুহল হয়ে পরলাম। ''কি কিভাবে?'' জিজ্ঞাসা করলাম ওকে।
ও আমাকে বলল, ''কাউকে বলবি না, বল প্রমিস?''
আমি আর কি করব, বললাম ''প্রমিস''
যাই হোক, ও বলল অনেক ভনিতা করার পর, ''বুঝলি, যাদের গালে একটা টোল পড়ে তাদের একটা, যাদের দুইটা টোল পড়ে তাদের দুইটা বিয়ে হয়!''
আর যাদের পড়ে না তাদে কোন বিয়েই হয়না!
আমিতো ওর আশ্চর্য উত্তরে আরও আশ্চর্য হলাম, তারাতারি আয়নায় নিজের মুখ দেখলাম, ''ইয়াপি, আমার ডান গালে টোল পড়ে'' বলে চিৎকার করলাম।
আমার তাহলে একটাই মাত্র বিয়ে হবে?
ও বলল ওর মুখ দেখে বলতে ওর কি টোল পড়ে নাকি গালে, কিন্তু হায় হায়!
ওর গালে কোন টোল নাই, এবার ওকে এটা কিভাবে বলি!
ও আমার দেরী দেখে নিজেই আয়নার সামনে গিয়ে দেখতে লাগল, তারপর হটাৎ, যেই মুহুর্তের জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম, সেই মুহুর্তেই ও বলল, ''আমার গালে টোল নাই!''
আমি ওকে সান্তনা দিব কি, ওর চিৎকার শুরুর আগেই কান বন্ধ করব ভাবতে পারছিলাম না!
তখনি ও চিৎকার শুরু করল, ''আমি বিয়ে কব্বো, ওয়া, আম্মুউউ!''
কি করা, বন্ধু বলে কথা, তাই দ্রুত উপায় বের করলাম। ওর গালে টিপে টিপে টোল বানাব, কৃত্তিম টোল।
যেই ভাবা, ভাবতে না ভাবতেই কাজ শুরু করে দিলাম। উঠতে বসতে ওর গালে টিপ দিতে থাকলাম! :>
এরপর ওর গালে টিপতে থাকলাম, কিন্তু কোন টোলতো পড়েনা!
আমি ওকে বুঝানো শুরু করলাম এসব মিথ্যা, ও কানই দেয়না আমার কথায়!
যাই হোক, ওকে পরে কি বুঝাব বুঝতে পারছিলাম না, এমন সময় কাজের মহিলা আমাদের এই অবস্থা দেখে কেন এমন করছি তা জিজ্ঞাসা করল।কি করব, বলতে হল সব!
তারপর আমার কথা যে ঠিক তা ওকে বহু কষ্টে বুঝালেন তিনি।
অতপর ওর মুখে হাসি আসলো, আর আমাদের ''অকাল-পক্ক'' উপাধি অর্জনও হল!
তখন মনে হয় ক্লাস ওয়ানে পড়ি।যাই হোক, মজার আরও স্মৃতি আছে, আর আমার বন্ধুটিও পরে অনেক বদলে গিয়েছিলো।আসলই অকাল-পক্ক ছিলাম, সব বুঝতাম না, কিন্তু বুঝতে চাইতাম!
ভালো থাকুন!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ ভোর ৬:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


