২০০৮ এর সেপ্টেম্বরে ঈদের ঠিক আগের দিন দেশ ছেড়েছিলাম, দুই বছরের কিছু বেশী। এরই মধ্যে কত পরিবর্তন! ৩/৪ টা মুখ নতুন এসেছে, এখনো ছুঁয়ে দেখা হয়নি। ক’জন আবার ছেড়ে চলে গেছে, সারাজীবনেও আর ছোঁয়া হবে না! বিদেশে থাকা আর অর্ধ মৃত থাকা যেন সমান কথা! আগামী পরশু ফিরছি; মাত্র দু’সপ্তাহের জন্য। কেমন আছে সব কিছু? অনেক পরিবরতন হয়ে গেছে, না?
ভাল লাগা, দুশ্চিন্তা, শঙ্কা, ভয়... এক মিশ্র অনুভুতি! বউ-বাচ্চা রেখে একাএকা দেশে যেতে হচ্ছে, তাই আনন্দটা পরিপুর্ণ না। শঙ্কা হচ্ছে এই অল্প সময়ে সব কিছু ঠিক মত শেষ করে আসতে পারব তো? বুয়েটে একটা কনফারেন্সে এটেন্ড করা, প্রফেসর কে গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া, কিছু অফিসিয়াল কাজ, আর কত লোকের সাথে যে দেখা করার প্লান! নিজের আত্মীয়, শশুর বাড়ীর আত্মীয়, স্কুল-কলেজ-ইউনিভারসিটি-জবপ্লেসের বন্ধুবান্ধব... শত খানিকতো হবেই। আর কবে দেশে যাওয়া হয়! সবার সাথে কি অন্তত একবার দেখা করে আসতে পারব না? এখান থেকেই তো সিডিউল মিলাতে পারছি না! দেশের ট্রাফিকের যা অবস্থা! চিন্তা করছি রিকশা জ্যামে আটকা পড়লে ছেড়ে দৌড় দিব, তাও সবার সাথে দেখা করে আস্তে হবে। এখানে তো প্রতিদিনই ২/৩ কিমি হাটি। একটা সাইকেল ম্যানেজ করতে পারলে ভাল হত! নিজের দেশে যাব অথচ ভয়ও আছে মনে; এক্সিডেন্টের ভয়, ছিনতায়কারীর ভয়, হরতালের ভয়। দোহায় খালেদা আপা, হাছিনা আপা! এই ক’টা দিন দেশটাকে একটু শান্ত রেখ!
হাজার সমস্যা, তারপরও সে আমার দেশ, আমার মাটি, আমার মা!
পাগলামি ধরনের একটা ইচ্ছা আছে, গ্রামের শেষে মাঠের মাঝখানের সেই বটতলাতে ধুলোর মধ্যে শুয়ে একটা ঘুম দিব। চারিদিক নিস্তব্ধ, বাতাসে শুধু পাতা নড়ার শব্দ, পাখির কিছির মিছির ডাক... আহ!কি শান্তি! জানি এটা আর কোন দিনই সম্ভব না। এখনও নিশ্চয় অনেকে গরুগুলোকে ঘাস খাওয়াতে বেধে রেখে বা মার্বেল খেলতে খেলতে ক্লান্ত হয়ে ওখানে ঘুমায়। কিন্তু আমি এখন ঘুমাতে গেলে সবার হাসির খোরাক হব, আমি এখন অনেক দুরের মানুষ!
যা হোক, অনেক দিন পর দেশে যাচ্ছি, ভাল অনুভুতি নিয়ে যেন আবার ফিরে আসতে পারি, এই কামনা!
সবাই ভাল থাকবেন!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



