সপ্তাহ খানিক ধরে ব্লগ রোহিঙ্গা ইস্যুতে খুব গরম! কম করে হলেও ৫০০ পোষ্ট এসেছে এই ইস্যুতে; আর কমেন্ট তো হাজারে হাজারে... বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে বিপক্ষে অসংখ্য যুক্তি তর্ক ভালই জমে উঠেছে। বরাবরের মত এই ইসুতেও ছাগু-ভাদা দুটি গুরুপ দাঁড়িয়ে গেছে। একপক্ষ আরেক পক্ষকে গালিগালাজ করে আত্মতৃপ্তির টেকুর তুলছেন। আসলে কাজের কাজ কি কিছু হচ্ছে ???
প্রথমেই এই বিতর্কে আমার অবস্থান পরিষ্কার করে নেই একটা উদাহরন দিয়েঃ রাস্তায় যখন আমি একটা পথ-শিশু কে খাবারের থালা হাতে ভিক্ষা করতে দেখি খুব খারাপ লাগে, সাধ্যমত সাহায্য করতে চেষ্টা করি, কিন্তু তাকে আমার ঘরে নিয়ে এসে আমার সন্তানের মত লালনপালন করিনা। সেটা করতে পারে শুধু মহামানবেরা; আমার মত সাধারন মানুষের জন্য সেটা অবাস্তব সিধান্ত। সামুতে যারা রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেওয়ার কথা বলছেন, তাদের মানবিকতার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, তাদের কে যদি এ্কজন করে রোহিঙ্গার আজীবন ভরন পোষনের দায়িক্ত নিতে বলা হয়, তাহলে কয়জন এগিয়ে আসবেন সে প্রশ্ন থেকেই যায়। আমাদের বর্তমান সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এমন কি নৈতিক ইসুতেও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়।
একমাত্র মানবিক ইসু চিন্তা করলে তাদের ঠাই দেওয়া যায়; কিন্তু এই ইসু কোন ভাবেই অবহেলা করার মত নয়। নৌকায় ভাসমান অসহায় ভয়ার্ত শিশুগুলোর মুখের দিকে তাকালে যদি আমাদের মন কেঁদে না উঠে তাহলে বুঝতে হবে আমরা আর মানুষ নেই – পশু হয়ে গেছি।
আসলে এই ইস্যুতে নিজেকে কোন পক্ষে দাড় করাতে পারছি না; তাছাড়া আমাদের মত আমজনতার পক্ষ অবলম্বনে কি-ই বা আসে যায়! এই ব্যাপারে কার্যকর কিছু করাটা আসলেই আমার সাধ্যের বাইরে, একটা গ্রুপ নিয়ে মিয়ানমার বা জাতিসংঘ অফিসের সামনে দাড়াব, বাস্তবতার বিচারে সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। তাহলে কি একদম হাত গুটিয়ে বসে থাকব???
জানিনা আদোও এর কোন ইফেক্ট পড়বে কি না, তবে আমি নিজের সান্তনার জন্য একটা কাজ করছি; রোহিঙ্গাদের হয়ে জাতিসংঘের রিফুজি এজেন্সীর (UNHCR)বিভিন্ন দেশের অফিসে ই-মেইল করছি। চিঠিতে লিখছি তারা যেন রহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে এই অসহায় মানুষ গুলোকে বাচানোর দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সেই সাথে আমার সংগ্রহে থাকা রোহিঙ্গাদের অসহায় অবস্থার ছবি গুলো এটাস্ট করে পাঠাচ্ছি। ব্লগে চিল্লাচিল্লি করার চেয়ে এটা আমার কাছে ইফেক্টিভ মনে হয়েছে।
একটা-দুইটা মেইল এ হয়ত কিছু হবে না, কিন্তু হাজার খানিক মেইল গেলে কিছুটা কাজ হলেও হতে পারে। আপনার কাছেও যদি বিষয়টি ইফেক্টিভ কিছু মনে হয়, তাহলে আপনিও ৫ মিনিট খরচ করে (পোষ্টে একটা কমেন্ট করতে যতটুকু সময় লাগে)কিছু ছবি সহ ইংরেজিতে ২/৩ লাইনের একটি চিঠি লিখতে পারেন। চিঠিটি একটি এড্রেসে পাঠিয়ে বাকি গুলো BCC দেওয়াই ভাল হবে; তাহলে একবারে অনেকের কাছে চলে যাবে কিন্তু কেও কারোটা দেখতে পারবে না।
আরো যা যা করতে পারেন তা হলো, ফেইসবুক, ইউটিউব সহ সম্ভাব্য সব মিডিয়ায় এই ছবি গুলো আপলোড করে বিশ্বের মানুষের কাছে রোহিঙ্গাদের দুরবস্থার কথা প্রচার করতে পারেন। মিয়ানমারের লোকজন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ইন্টারনেটে প্রচুর প্রচার চালাচ্ছে; আমার এক ল্যাবমেট কে দেখছি আদাজল খেয়ে লেগেছে রোহিঙ্গাদের সেদেশ থেকে তাড়াতে। রোহিঙ্গারা অবহেলিত অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী; তাদের পক্ষে প্রচারণা চালানো লোকের খুব অভাব, আমরা তাদের এবিষয়ে সাহায্য করতে পারি।
আমি এখান থেকে মেইল এড্রেস গুলো পেয়েছি; আপনি ইচ্ছা করলে UNHCR হেড অফিসেও অনলাইন মেসেজ পাঠাতে পারেন। নিচে আমি কিছু দেশের UNHCR এর কার্যালয়ের ই-মেইল এড্রেস দিলাম; আরো চাইলে আপনি উপরের লিঙ্ক থেকে পেতে পারেন।
The United Nations High Commissioner for Refugees (UNHCR)
[email protected] Myanmar
[email protected] Japan
[email protected] China
[email protected] Thailand
[email protected] India
[email protected] Pakistan
[email protected] Korea
[email protected] Malaysia
[email protected] Saudi Arabia
[email protected] Singapore
[email protected] Indonesia
[email protected] Russia
[email protected] USA
[email protected] Britain
[email protected] Australia
[email protected] France
[email protected] Germany
[email protected] Canada
[email protected] Italy
[email protected] Switzerland
[email protected], [email protected] UN Human Rights (OHCHR)
এখানে মিয়ানমার লোকেরা রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে, এখানে কমেন্ট করুন এবং ছবির লিঙ্ক দিন।
http://www.facebook.com/ElevenMediaGroup
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


