![]()
ধুলোবালি মাখা দিন গুলোর গল্প করছিলাম! যাদের ছোট বেলাটা আমার মত গ্রামে কেটেছে, তাদের সাথে হয়ত অনেক ঘটনা মিলে যাবে। তবে শহুরে বাবুদের কাছে এই পোষ্ট গুলো ফালতু প্যাঁচাল বলে মনে হতে পারে ... ... ... কি আর করা! এই ফালতু প্যাঁচাল গুলোই যে আমার জীবনের সবচেয়ে মধুময় সৃতি!!!
আজ বলছি ছোটবেলায় করা ছোটখাট চুরি-চামারীর গল্প!
বলি মা তোর চরণ ধরে,
ননী চুরি আর করব না,
আর আমারে মারিস নে মা ... ... ...
লালনের সেই বিখ্যাত গানটার কথা মনে আছে???
ছোট বেলায় চুরি করে মায়ের লুকিয়ে রাখা মিষ্টি/চকলেট/আইসক্রিম খায়নি এমন মানুষ মনে হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। ছোট বেলায় আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভাল ছিল না, তার উপর ছিলাম ৫ ভাই বোন! সো, খাবার নিয়ে আমাদের পিছনে মা’কে ছুটতে হতো না (আমার ছেলের ক্ষেত্রে তার মা’কে যেমন ছুটতে হয়
মিষ্টি নিয়ে আর একটা কথা মনে পড়ল- আব্বার সাথে হাটে যেতাম এই লোভে যে, আব্বা বাজার শেষে ২/১ টাকা দিবে সেটা দিয়ে মিষ্টি কিনে খাব। আব্বা টাকা দিতেনও; কিন্তু তা দিয়ে একটা/দুইটার বেশি মিষ্টি কিনতে পারতাম না! দোকানের থরে থরে সাজিয়ে রাখা মিষ্টি দেখে মনে মনে ভাবতাম, বড় হয়ে আমি যখন অনেক টাকা ইনকাম করব তখন শুধু মিষ্টি খাব! হায়রে... এখন ইচ্ছা করলে ওই রকম মিষ্টির দোকান ২/৪ টা একবারে কিনতে পারি কিন্তু এখন আর মিষ্টি খেয়ে আগের মত মজা পায় না!!
যাহোক চুরি নিয়ে বলছিলাম, সেটাতেই থাকি ...
আপনাদের বাবার পকেট থেকে পয়সা চুরির অভ্যাস ছিল??
আর একটা চুরির কথা মনে পড়ছে; যদিও একটু লজ্জার!
অনেক গুলো চুরির কাহিনী রিমান্ড ছাড়ায় অকপটে স্বীকার করে ফেললাম, এবার একটু বিজ্ঞাপন বিরতী নিই ... ... ... চলে যাইয়েন না, আরো আছে!!
----- ---------------------------------------------
প্রকৃতির সাথে বেড়ে উঠা সিরিজের আগের ২ টি পোষ্ট এখানে
প্রকৃতির সাথে বেড়ে উঠা (২)ঃ হাফপ্যান্ট বয়সের খেলাধুলা
প্রকৃতির সাথে বেড়ে উঠা (১) – ঝড়ের দিনে আম কুড়ানোর সুখ!!!
---- -------------------------------------------------
আর যে সব চুরির কথা মনে আছে তার মধ্যে শীতকালে রস চুরি অন্যতম। এই চুরিতে রীতিমত সিদ্ধহস্ত ছিলাম! খেজুর গাছে উঠে পাটকাঠির নল দিয়ে রস খাওয়া। নিজেদের গাছ, কাওকে বললেই পেড়ে গ্লাসে করে দিত, তাছাড়া পরদিন সকালে তো যত খুশি খেতেই পারতাম! তারপরও কেন যেন চুরি করে খেতেই বেশি মজা লাগত!!
আর একটা চুরির গল্প দিয়ে শেষ করব। আগের পোষ্টে বলেছিল জাম্বুরা দিয়ে ফুটবল খেলার কথা। কিন্তু এত জাম্বুরা সাপ্লায় দিবে কে?? তাই মাঝে মাঝে জাম্বুরা চুরি করতে হতো। আমাদের বাড়ীর পাশে ছিল মুচি বাড়ী। ছোট বেলা থেকেই কেন যেন ওদেরকে আমরা নীচ চোখে দেখতাম। “চিত্রা নদীর পাড়ে” ছবিতে যেমনটি দেখিয়েছে; সত্যিই আমরা ভাবতাম মুচিরা হচ্ছে লাল পিঁপড়া আর আমরা হচ্ছি কালো পিঁপড়া তাই কামড়ায় না; মুচিরা নাকি কাঁদলে তাদের চোখ দিয়ে পানি পরে না। সাদা শাড়ী পড়া মুচি বুড়ি গুলোকে আমরা ডাইনী বুডী মনে করে ভয় পেতাম ... সেই মুচিদের ছিল বিশাল এক জাম্বুরা গাছ। একদিন আমি আর আমার চাচাত ভাই মিলে গেলাম জাম্বুরা চুরি করতে। ফেরার পথে যথারীতি মা’র কাছে খেলাম ধরা! মা’তো প্যাঁদানি দিলোওই সেই সাথে শর্ত দিল এই জাম্বুরা মুচি বুড়িকে ফেরত দিয়ে আসতে হবে আর সেই সাথে তার পা ধরে মাফ চাইতে হবে! বলেন দেখি কি অপমানের কথা!! কিন্তু যাবা কৈ বাছাধন!! মা ছিলেন খুবই কড়া!! দুইটার দুই কান ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেলেন মুচি বাড়ী। মহিলা তো আমাদের কান্ড বান্ড দেখে হেসেই খুন! মা’কে বকা দিলেন!! আরে পোলাপান মানুষ দুইডা ছোলম (জাম্বুরা) ছিড়িছে তাই নিয়ে আপনি ইরাম করতিছেন ক্যান, ছাইড়াদেন ওগো ... “ সেদিন থেকে মনে হয় বুঝতে পেরেছিলাম, আসলে মুচিরাও আমাদের মত রক্তমাংসের মানুষ!
কি!! শুধু আমার চুরির গল্পই শুনবেন?? নিজেরা কি ধুয়া তুলসী পাতা???
আপনাদের চুরির কাহিনী নির্দ্বিধায় এখানে বলতে পারেন! কথা দিচ্ছি, কাওরে কমুনা; দুর্নীতির মামলায়ও ফাসামু না!! প্রমিজ!!!!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



