somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রকৃতির সাথে বেড়ে উঠা (৩) : চুরি-চামারীর হাতেখড়ি ;) :P

২০ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ধুলোবালি মাখা দিন গুলোর গল্প করছিলাম! যাদের ছোট বেলাটা আমার মত গ্রামে কেটেছে, তাদের সাথে হয়ত অনেক ঘটনা মিলে যাবে। তবে শহুরে বাবুদের কাছে এই পোষ্ট গুলো ফালতু প্যাঁচাল বলে মনে হতে পারে ... ... ... কি আর করা! এই ফালতু প্যাঁচাল গুলোই যে আমার জীবনের সবচেয়ে মধুময় সৃতি!!!
আজ বলছি ছোটবেলায় করা ছোটখাট চুরি-চামারীর গল্প! ;)

বলি মা তোর চরণ ধরে,
ননী চুরি আর করব না,
আর আমারে মারিস নে মা ... ... ...

লালনের সেই বিখ্যাত গানটার কথা মনে আছে???

ছোট বেলায় চুরি করে মায়ের লুকিয়ে রাখা মিষ্টি/চকলেট/আইসক্রিম খায়নি এমন মানুষ মনে হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। ছোট বেলায় আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভাল ছিল না, তার উপর ছিলাম ৫ ভাই বোন! সো, খাবার নিয়ে আমাদের পিছনে মা’কে ছুটতে হতো না (আমার ছেলের ক্ষেত্রে তার মা’কে যেমন ছুটতে হয় ;) ) আমরাই ছুটতাম মজাদার খাবারের পিছনে। এমন অনেকবার হয়েছে, হাট থেকে বাবা মিষ্টি কিনে এনেছেন, আমাদের ভাগ করে দেওয়াও হয়েছে। কিন্তু ওই যে বললাম, পাঁচ ভাগ হওয়ার পর ওটা খেয়ে পেট ভরলেও মন ভরত না! মা কিছুটা মিষ্টি লুকিয়ে রাখতেন হঠাত যদি কোন আত্মীয় স্বজন বেড়াতে আসে তাঁকে যেন নাস্তা দেওয়া যায়! আমার নজর থাকত ঐটার উপর; চাঞ্চ পাইলেই সাবাড়! মা টের পেয়ে জিজ্ঞাসা করলে ভাল মানুষের মত মুখ কাচুবাচু করে বলতাম, কৈ জানিনাতো, মনে হয় বিড়ালে খেয়েছে; মা’র যা বুঝার বুঝে নিতেন!!! :-*

মিষ্টি নিয়ে আর একটা কথা মনে পড়ল- আব্বার সাথে হাটে যেতাম এই লোভে যে, আব্বা বাজার শেষে ২/১ টাকা দিবে সেটা দিয়ে মিষ্টি কিনে খাব। আব্বা টাকা দিতেনও; কিন্তু তা দিয়ে একটা/দুইটার বেশি মিষ্টি কিনতে পারতাম না! দোকানের থরে থরে সাজিয়ে রাখা মিষ্টি দেখে মনে মনে ভাবতাম, বড় হয়ে আমি যখন অনেক টাকা ইনকাম করব তখন শুধু মিষ্টি খাব! হায়রে... এখন ইচ্ছা করলে ওই রকম মিষ্টির দোকান ২/৪ টা একবারে কিনতে পারি কিন্তু এখন আর মিষ্টি খেয়ে আগের মত মজা পায় না!! /:)

যাহোক চুরি নিয়ে বলছিলাম, সেটাতেই থাকি ...
আপনাদের বাবার পকেট থেকে পয়সা চুরির অভ্যাস ছিল?? :) আমার ছিল; তবে সাহস খুব বেশি ছিল না বলে কখনও ৫ টাকার উপরে সরানোর সাহস হয় নাই। তবে আমার টাকা মারার আর একটা চরম খাত ছিল; সেটা হচ্ছে যখন ছোট খাট বাজার করা শুরু করলাম তখন! বুদ্ধিটা হচ্ছে, মা বাজারের যে লিষ্ট করে দিত তার সব কিছুই কিনতাম কিন্তু পরিমানে একটু কম করে। ধরুন একটা জিনিস ৫ কেজি কিনতে বলেছেন, আমি কিনতাম সাড়ে চার কেজি, এক্ষেত্রে মা’র বুঝতে পারার কোন কারন ছিল না, আবার জিনিষ পত্রের দাম বাড়িয়ে বলে ধরা পড়ার সম্ভাবনাও থাকত না!! বুদ্ধিটা কেমন??? ;)

আর একটা চুরির কথা মনে পড়ছে; যদিও একটু লজ্জার!:P! আমি ছোট বেলায় চুরি করে কয়লা খেতাম! এই জন্য মার হাতে কত যে মার খেয়েছি!! একদিনের ঘটনা বলি, আমরা গেছি নানা বাড়ি বেড়াতে। রান্না ঘরের পিছনে ছিল বিশাল ছায়ের গাদা। আমি লুকিয়ে ওখানে গিয়ে মজা করে গাদার পাশে বসে আপন মনে কয়লা খাচ্ছি। ওদিকে সবাই আমাকে বাড়িতে খুঁজে অস্থির; হঠাত দেখে আমি কয়লা খেয়ে মুখ কালো করে ফেলেছি ... ... সেবার মা’ এমন প্যাঁদানি প্যাঁদাইছিল যে এক প্যাঁদানিতেই সারাজীবনের মত কয়লা খাওয়া ছেড়েছি আর জীবনে কখনও ছুয়েও দেখিনি। এত ছোট বেলার কথা কিন্তু আমার কেন যেন মনে আছে। এক এক কয়লার ছিল এক এক টেষ্ট! কাঠের কয়লা ছিল শক্ত, ভাংতে গেলে দাঁত ব্যাথা করত; ঘুটের কয়লা ছিল ঘিন্না; পাটকাঠির কয়লা ছিল নরম পানসে; সবচেয়ে বেশি টেষ্টি কয়লা ছিল বাঁশের কয়লা; চরম! মচমচে, একটু ঝাঁঝাল টেষ্ট!! :P

অনেক গুলো চুরির কাহিনী রিমান্ড ছাড়ায় অকপটে স্বীকার করে ফেললাম, এবার একটু বিজ্ঞাপন বিরতী নিই ... ... ... চলে যাইয়েন না, আরো আছে!!
----- ---------------------------------------------
প্রকৃতির সাথে বেড়ে উঠা সিরিজের আগের ২ টি পোষ্ট এখানে
প্রকৃতির সাথে বেড়ে উঠা (২)ঃ হাফপ্যান্ট বয়সের খেলাধুলা ;)

প্রকৃতির সাথে বেড়ে উঠা (১) – ঝড়ের দিনে আম কুড়ানোর সুখ!!! :) B-)
---- -------------------------------------------------


আর যে সব চুরির কথা মনে আছে তার মধ্যে শীতকালে রস চুরি অন্যতম। এই চুরিতে রীতিমত সিদ্ধহস্ত ছিলাম! খেজুর গাছে উঠে পাটকাঠির নল দিয়ে রস খাওয়া। নিজেদের গাছ, কাওকে বললেই পেড়ে গ্লাসে করে দিত, তাছাড়া পরদিন সকালে তো যত খুশি খেতেই পারতাম! তারপরও কেন যেন চুরি করে খেতেই বেশি মজা লাগত!! :D

আর একটা চুরির গল্প দিয়ে শেষ করব। আগের পোষ্টে বলেছিল জাম্বুরা দিয়ে ফুটবল খেলার কথা। কিন্তু এত জাম্বুরা সাপ্লায় দিবে কে?? তাই মাঝে মাঝে জাম্বুরা চুরি করতে হতো। আমাদের বাড়ীর পাশে ছিল মুচি বাড়ী। ছোট বেলা থেকেই কেন যেন ওদেরকে আমরা নীচ চোখে দেখতাম। “চিত্রা নদীর পাড়ে” ছবিতে যেমনটি দেখিয়েছে; সত্যিই আমরা ভাবতাম মুচিরা হচ্ছে লাল পিঁপড়া আর আমরা হচ্ছি কালো পিঁপড়া তাই কামড়ায় না; মুচিরা নাকি কাঁদলে তাদের চোখ দিয়ে পানি পরে না। সাদা শাড়ী পড়া মুচি বুড়ি গুলোকে আমরা ডাইনী বুডী মনে করে ভয় পেতাম ... সেই মুচিদের ছিল বিশাল এক জাম্বুরা গাছ। একদিন আমি আর আমার চাচাত ভাই মিলে গেলাম জাম্বুরা চুরি করতে। ফেরার পথে যথারীতি মা’র কাছে খেলাম ধরা! মা’তো প্যাঁদানি দিলোওই সেই সাথে শর্ত দিল এই জাম্বুরা মুচি বুড়িকে ফেরত দিয়ে আসতে হবে আর সেই সাথে তার পা ধরে মাফ চাইতে হবে! বলেন দেখি কি অপমানের কথা!! কিন্তু যাবা কৈ বাছাধন!! মা ছিলেন খুবই কড়া!! দুইটার দুই কান ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেলেন মুচি বাড়ী। মহিলা তো আমাদের কান্ড বান্ড দেখে হেসেই খুন! মা’কে বকা দিলেন!! আরে পোলাপান মানুষ দুইডা ছোলম (জাম্বুরা) ছিড়িছে তাই নিয়ে আপনি ইরাম করতিছেন ক্যান, ছাইড়াদেন ওগো ... “ সেদিন থেকে মনে হয় বুঝতে পেরেছিলাম, আসলে মুচিরাও আমাদের মত রক্তমাংসের মানুষ! :|

কি!! শুধু আমার চুরির গল্পই শুনবেন?? নিজেরা কি ধুয়া তুলসী পাতা??? X(X(

আপনাদের চুরির কাহিনী নির্দ্বিধায় এখানে বলতে পারেন! কথা দিচ্ছি, কাওরে কমুনা; দুর্নীতির মামলায়ও ফাসামু না!! প্রমিজ!!!! ;)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:২৫
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×