রুনা-রত্না-আসমার বিয়ে হলো গণভবনে :
ঢাকা, জুন ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে রুনা-রত্না-আসমার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় বুধবার রাত ১১টার দিকে। রুনা-জামিল, রত্না-সুমন এবং আসমা-আলমগীরের বিয়ে পড়ানোর পর অতিথিদের আপ্যায়ন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গণভবনে এটিই প্রথম কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান।
গণভবনের নবনির্মিত ব্যাংকোয়েট হলে এই তিন কনের বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন শেখ হাসিনা।
নিমতলীর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্বজন হারিয়েছেন দুই বোন রুনা-রত্না এবং আসমা। ওই দুর্ঘটনার পর নিঃস্ব এই দুই বোনের বিয়ের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে বুধবার আসমার দুর্ভাগ্যের কথা জানতে পেরে তারও বিয়ের ব্যবস্থা করেন তিনি।
গণভবনে রুনা-রত্নার বিয়ের বিষয়টি আগেই নির্ধারিত ছিল এদিন।
প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে তিন কনের গায়ে বিয়ের গহনা পরিয়ে দেন। প্রত্যেককে আট ভরি করে গহনা দেন তিনি। তাদেরকে ধানমণ্ডির একটি বিউটি পারলার থেকে সাজিয়ে আনা হয়। তিন কনে পরেন একই রকমের লাল জরির শাড়ি।
এছাড়া শেখ হাসিনা সোফা, ফ্রিজ-টিভি, ডিনার টেবিল, ডিনার সেট, রান্না-বান্নার তৈজসপত্রসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তাদের জন্য কিনে আনেন।
তিন কনের বর নীল-সবুজ পাগড়ী পড়ে গণভবনে আসেন। পুরান ঢাকা থেকে ৮০টি গাড়িতে করে আসেন বরযাত্রীরা।
গণভবনে আসার পর তিন কনের বর জামিল, সুমন ও আলমগীরকে ঐতিহ্য অনুযায়ী শরবত খাওয়ানো হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
বরযাত্রী হয়ে আসেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও সাবেক সাংসদ হাজী মো. সেলিম। তিন কনের উকিল বাবা হন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ, হাজী মো. সেলিম ও সাংসদ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।
বিয়ের মঞ্চ সাজানো হয় তাজা গোলাপ, জেসমিন ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে।
বিয়ে পড়ানোর জন্য পুরান ঢাকার হোসনী দালান ইমামবাড়া থেকে দু'জন মৌলভী আনা হয়। এরা হচ্ছেন- সৈয়দ রেজা হোসেন ও নকী ইমাম।
রুনা-জামিলের বিয়ের দেনমোহর ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা, রত্না-সুমনের ৩ লাখ টাকা এবং আসমা-আলমগীরের দেনমোহর ২ লাখ টাকা ধরা হয়।
বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে নববিবাহিত তিন দম্পতির সুখী জীবন কামনা করে দোয়া করা হয়। প্রধানমন্ত্রী দোয়ায় সামিল হন।
বর-কনের ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজন, পুরান ঢাকার নিমতলী এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় সাংসদ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আজকে আমার দুই মেয়ে নয়, তিন মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। একজন মা হিসেবে কন্যাদের বিদায় দিতে গিয়ে যা যা করার আমি সবই করেছি।"
তিনি বলেন, রত্না আর রুনার সঙ্গে আজকে আসমা নামের আরেকটি মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। গত শুক্রবার তার বাগদান হওয়ার কথা ছিলো। দুপুরে ফিরেই আসমার কথা জানতে পারি। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এই মেয়েটির কথা জানান। আমি তাদের বলেছি, ওকে নিয়ে আসো। আমরা দু'মেয়ের সঙ্গে আমার তৃতীয় মেয়েরও বিয়ে হবে।"
প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, ওদের শাড়ি-গহনার ব্যবস্থা হয়েছে। এখন বাকি ক্রোকারিজ ও ফার্নিচার। তারও ব্যবস্থা হবে।
এ সময় স্পিকার আব্দুল হামিদ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ শাহীন মনোয়ারা হকের কাছে জানতে চান, তিনি এই বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়েছেন কিনা। সরকারি দলের এই সাংসদ রুনা-রত্নার বিয়ের ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
এসময় সংসদ নেতা বলেন, "আমি সবাইকে দাওয়াত দিতে পারবো না। আমি সবার কাছে এই রত্না, রুনা ও আসমার জন্য দোয়া চাই। আমি ওদের ব্যথা বুঝি। আমি আর রেহানা একদিনেই আমাদের বাবা-মাকে হারিয়েছি।"
সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে কক্্রবাজার-৪ আসনের সাংসদ আব্দুর রহমান বগি বলেন, "আমরা কী এই বিয়েতে গিফট দিতে পারবো।"
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "গিফট দেওয়ার দরকার নেই। কারো কিছু দিতে হলে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেবেন। কার কী দরকার- তা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এক জামাইয়ের জন্য বেসিক ব্যাংকে চাকরির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বিয়ের পর তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে বলেও জানান শেখ হাসিনা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে আমার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে ভালোবাসা।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।