প্রধানমন্ত্রীর অফিস চলবে সৌর বিদ্যুতে। আগামী মাসেই (অর্থাৎ মার্চ ২০১০) সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে পাওয়া বিদ্যুতের এ ব্যবহার শুরু হবে। এ জন্য তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সোলার সিস্টেম প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে।এই প্লান্ট থেকে শিগগিরই ২০ থেকে ২১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
সেদিনের সভায় আরও জানানো হয়, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে চার হাজার তিনশ মেগাওয়াট। ঘাটতি রয়েছে গড়ে এক হাজার দুইশ মেগাওয়াট। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার নানামুখী কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে সোলার ও বায়োগ্যাসের সহায়তায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেখান থেকে ২১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। সুবিদ আলী ভূঁইয়া বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট ধরে কাজ শুরু করছে সরকার।
প্রথমআলো নিউজ লিংকঃ Click This Link
ভালো উদ্দোগ্য তবে বিষয়টি এই মুহুর্তে সকল সরকারী অফিসে অনুকরনীয় না হওয়া জাতির জন্য মঙ্গল জনক, কারন সোলার এনার্জি অনেক কস্টলী মানে খুবই ব্যয়বহুল তাই বিষয়টা নিয়ে প্রথমেই সরকারের কিছু গৃহস্থালী গবেষণা করে দেখে এবং সাধারন মানুষকে চিনিয়ে দেয়া প্রয়োজন কি কি ভাবে এর খরচ কমিয়ে সহজ টেকনোলজিতে নামিয়ে আনা যায়। সে লক্ষ্যে প্রচন্ড আগ্রহে কাজ করে যাওয়াই সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে এই ২১ কিলোওয়াটের সোলার পাওয়ারে খরচ কত হয়েছে তা না বললেও প্রচুর টাকা যে লাগে তা আমার মত একজন লেমেনও আন্দাজ করতে পারে। আর জানাশোনা মানুষ বলবে ২১ কিলোওয়াটের প্রতি কিঃওঃ চার লাখ টাকা ধরে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হয়ে থাকতে পারে। হিসেবটা পেয়ে প্রাসঙ্গিক কারনেই বলছি সম্প্রতী আমাদের বিমান বন্দরের নাম বদলের টাকায় আমরা পিএম অফিসের সাইজের ১৪০০ অফিস সোলার ইলেক্ট্রিফিকেশনের কভারেজে আনতে পারতাম। সে বিষয়টি খুবই বিশাল প্রাপ্তি হতে পারতো। বিষয়টি এই গরীব দেশের কর্তা ব্যাক্তিদের না ভাবালেও আমাদের সংগত কারনেই যথেষ্ট ভাবায়।
অন্যদিকে নতুন টেকনোলোজি হওয়ায় বরাবরের মত আমাদের দেশের অনেকেই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ব্যাক্তিদের সাথে যোগাযোগ রেখে অলরেডি বিদেশী অনেক সোলার সেলারের সাথে চিঠি পত্র ইমেইল দিয়ে লাইসেন্স অর্গানাইজ করে ফার্ম খুলে বসে আছে টেন্ডার হলেই বিদেশ থেকে সম্পূর্ন প্লান্ট ইমপোর্ট করে ইনস্টল দিয়ে আর্লী বার্ডস হিসেবে হিউজ একটা ব্যবসা করার পরিকল্পনা নিয়ে বসে আছে। জাস্ট টেন্ডার, ইম্পোর্ট, ইনস্টল এন্ড গিভ মি এ্যা হউজ সাম।
এদিকে রহিমআফরোজরাও কস্ট কমানোর চেয়ে কি ভাবে দেশের মানুষের (মূলত গ্রামের কৃষক) কাছ থেকে ব্যবসা করা যাবে সে দিকেই বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে। শাইক শিরাজের মত কৃষকের মানুষও এদের পৃষ্টপোশকতা করছে। আর ডঃ ইউনুসের গ্রামীন শক্তি অনেক বছর ধরে জার্মান থেকে ইনট্যাক সোলার পাওয়ার এনে এদেশে বিক্রি করলেও টেকনোলোজিটার সিলগাল আজও খোলেনি, ছড়িয়ে দেয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। তাই সরকার এই মুহুর্তে সব সোলার লাগিয়ে ফেলার চেয়ে কিভাবে দাম কমিয়ে সোলার ব্যবহার করা যায় সে খাতে মনোযোগ দিয়ে টেকনোলজীটাকে চারপাশে ছড়িয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়ার দিকে নজর দেবে সাটাই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।
আমাদের সংশ্লিষ্ট ইনজিনিয়ার ভাইবোনদেরও এগিয়ে আসা উচিত হোম মেইড সোলার খুজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে। উল্লেখ্য আমাদের দেশে টেকনিকেল কলেজগুলোতেও বিষয়টি অনেক বছর ধরে পড়ানো হচ্ছে।
সোলার কস্ট কমানোর যে অনেক সুযোগ আছে তা একজন ননটেকনিকেল হয়েও আমি বুঝি এবং দুইটা টিপস দেয়ার স্পর্ধাও এখানে রখছি, আমি ইন্টারনেটে দেখেছি বিষয়টা সম্ভব খুবই সম্ভব।
১. আমরা সোলার প্লান্ট গুলি যে এঙ্গেলে ফিট করি তা না করে যদি সারাদিন সূর্য আকাশের যে দিকে থাকে তার পেছন পেছন ঘুরতে পারি তাহলে দিনের ৯০ শতাংশ সৌরালোক পেতে পারি। যেখানে ফিক্সড ফিটিং (হয়তো ৪০ বা ৪৫ ডিগ্রী এঙ্গেলে) থেকে পাওয়া যায় দিনের মাত্র ৩০ শতাংশ সোলার এনার্জি।
সে যা হউক আমাদের পক্ষে কাউকে বা এই মুহুর্তে ফটোক্যমেরা হাতে নিয়ে সূর্যের পেছন পেছন ঘোরার ব্যবস্থা করা সম্ভব না, তবে আমরা বড় প্লান্ট গুলোর সাথে যদি শুধু মাত্র একটা হেন্ডেল টাইপের কিছু ফিট করে দেই আর সকালে এই দিকে এবং দুপুরে ঐ দিকে ঘুড়াতে পারি তাহলেও ৩০ শতাংশর অনেক বেশী সূর্য পেতে পারি। অতএব কম প্লান্ট ইউজ করেই ব্যটারীতে বেশী বিদ্যুৎ জমা করতে পারি ব্যবহারের জন্য।
২. আমরা কৃষকদের সেচ কাজে ২৫ বা ৩০ লক্ষ টাকার যে সমস্ত প্লান্ট ডিজাইন করছি তার থেকে যদি ঐ গুলিকে ব্যটারীলেস বানাতে পারি তাহলে হউজ একটা কস্ট কমে যাবে। কারন সোলার প্লান্টের বড় একটা খরচ এই ব্যটারী যা কিনা মডিউল গুলিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রিজার্ভ করে পরে ব্যবহার করার জন্য।
আর যেহেতু কৃষি সেচে রাতের বেলা সেচ না হলেও চলবে তাই দিনের বেলা যখন আকাশে সূর্য থাকবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে, ইনভার্ট বা কনভার্ট বা ক্যপাসিটার জাতিয় কিছু একটা স্টীডি ভোলটেজ আউটপুট দেবে, পাম্প চলবে পানি উঠবে তাতেই চলবে। বৃষ্টির সময়ও লাগবে না রাতেও না খরচ কমলেই চলবে।
এই আর্টিকেল দেখাচ্ছে কি ভাবে একটি ইনভার্টার বেটারীর প্রয়োজন থেকে বের হওয়া যায়ঃ http://www.aesystems.com/solar.html
সোলারের উপর আমার ফেইসবুক নোটে কিছু ভালো লিংকঃ Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



