সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও চিংড়ি ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০-১২ জনের একদল র্যাব সদস্য তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলেন।
প্রথমআলোঃ তাঁর বাড়িতে অস্ত্র রয়েছে বলে দাবি করে র্যাব সদস্যরা বাড়ির প্রধান দরজা খুলতে বলেন। সফিকুলের অভিযোগ, তিনি দরজা না খুললে রাত দেড়টার দিকে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে তাঁর ঘরের বারান্দায় একটি কাপড়ের ব্যাগে করে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ফেলা হয়। এ সময় তিনি ঘটনাটি মুঠোফোনের মাধ্যমে প্রতিবেশী কয়েকজনকে জানান। রাত পৌনে দুইটার দিকে বাড়ির উত্তর ও পশ্চিম দিকের দুটি দরজা ভেঙে র্যাব সদস্যরা তাঁর ঘরে ঢোকেন এবং ওই অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে তাঁকে আটক করেন। এ সময় তাঁর ভাই জিয়াউল ইসলাম ও প্রতিবেশী আনিসুর রহমান প্রতিবাদ করলে তাঁদের মারধর করা হয়। এ খবর রাতে গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের মানুষ ধীরে ধীরে তাঁর (সফিকুল) বাড়ির আশপাশে জড়ো হতে থাকেন।
সমকালঃ প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, র্যাব সদস্যরা বাড়ির গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বারান্দায় একটি ব্যাগ ছুড়ে দেয়। ব্যাগের মধ্যে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় প্রচণ্ড শব্দ হয়। শব্দ শুনে গৃহকর্তা শফিসহ বাড়ির সবাই জেগে ওঠেন। এ সময় র্যাব সদস্যরা দরজা খোলার জন্য গৃহকর্তাকে নির্দেশ দেয়। গৃহকর্তা ব্যাগটি হাতে নিয়েই বুঝতে পারেন ভেতরে অস্ত্র। মুহূর্তে বুঝে ফেলেন ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে! শফি তার বাড়ির বারান্দার লাইট জ্বালিয়ে দেখতে পান, একদল র্যাব তার বাড়ির গ্রিলের বাইরে। তারাই ডাকছেন তাকে। দ্রুত ব্যাগটি তুলে গৃহকর্তা বাইরে ছুড়ে ফেলে দেন। তখন র্যাব সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগটি তুলে আবারও ভেতরে ছুড়ে দিলে শফি নিশ্চিত হন যে, তাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে। শুরু হয় আর্তচিৎকার।
মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত তার বাড়িতে চলে ভীতিপ্রদ এক নাটকীয় ঘটনা। মধ্যরাতে শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের আর্তচিৎকারে গোটা গ্রাম ছুটে আসে তার বাড়িতে। বিপুলসংখ্যক জনতার বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত শফিকুল ইসলাম শফিকে র্যাব তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার নাটক সফল করতে পারেনি। পক্ষান্তরে র্যাবের দলটিকেই একটি ঘরে গ্রামবাসী অবরুদ্ধ করে রাখে। রাতভর সেই অবরোধ শেষে সকালে ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটে।
অবশেষে র্যাবের ২১ সদস্যের অবরুদ্ধ দলটি সমবেত বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসীর কাছে 'ভুল স্বীকার' করে ক্ষমা চেয়ে মুক্ত হয়। আর 'অবৈধ অস্ত্রধারী' হওয়ার সাজানো অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন ঘটনার শিকার চিংড়ি ঘের মালিক ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি হাসেম খান বলেন, এ ঘটনায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র র্যাব-৬-এর উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) দেলোয়ার হোসেন তাঁর কাছে জমা দিয়েছেন। র্যাবও একই থানায় পৃথক একটি ডায়েরি করেছে।
সূত্রঃ প্রথমআলো Click This Link সমকাল http://www.shamokal.com/
আলোচনাঃ বিষটি নিয়ে দেশের স্বার্থে, আইন শৃংখলার স্বার্থে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে, ব্যপক আলোচনা সমালোচনা হওয়া উচিত। যে কোন বিষয় ব্যাপক জনগনের অংশ গ্রহনে আলোচনা হওয়াই নিশ্চত করতে পারে সঠিক সিদ্ধান্ত আর এর নামই গনতন্ত্র। অথচ আমরা অন্য সকল বিষয়ের মত এধরনের ঘটনা গুলো চেপে যাই, ভয়ে কথাও বলি না। এমনটা ঠিক নয়। প্রকৃত পক্ষে যে সংস্থার বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে তার যে কোন সদস্যও ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে দেশের মঙ্গল ছারা অমঙ্গল চাইবে না। কিন্তু দিন শেষে আর সবার মত সেও বাধ্য হয়েই সিস্টেমের ভাষায়ই কথা বলে। এভাবে আর কতকাল চলবো আমরা। এ ভাবে চলতে পারে না। তাই আমার ছোট্টো এই প্রশ্ন ও মতামতটুকু তুলে ধরলাম।
১. এটাই কি প্রথম ঘটনা না অতীতে আরও অসংখ্য হয়েছে ?
২. RAB ঐ অস্ত্র তিনটি কৈ পেল ? ওরা কি আর্মস রিকভারির পর ঐগুলি সঠিক ভাবে রেজিস্টারে উঠায় না ?
৩. অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়ার আগে অবৈধ্য অস্ত্র কি ভাবে সাথে নিয়ে যায় ? আমাদের সিস্টেমে তাহলে খুব বিপদজনক ফাঁক আছে। জনগন কে সব কিছু পরিষ্কার জানাতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



