বিশেষ করে সাংবাদীক ভাইদের পোষ্টটি অবশ্যই পড়ার অনুরোধ রইলো। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল্ কোম্পানী লিমিটেড (বিএসসিসিএল) এর বিগত ০৩ (তিন) বছরের কার্যক্রম ও অগ্রগতি সম্পর্কিত প্রতিবেদনঃ
বোনাস হিসাবে সমগ্র ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মকান্ড, ব্যাখ্যা, আলোচনা, সমালোচনা সহ উত্তরনের পথ ও বাস্তব ডিজিটাল বাংলাদেশ মডেল।
বর্তমানে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি খাতের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘ভিশন ২০২১’ পরিকল্পনার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ একটি আধুনিক টেলিনেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিগত ০৩ (তিন) বছরে বিএসসিসিএল এর কার্যক্রম ও অগ্রগতি :
১. ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইড্থ মূল্য হ্রাসকরণঃ
ভিশন ২০২১ এর দিকে লক্ষ্য রেখে এবং অধিকতর ব্যবহার ও র্বসাধারণের সামর্থের মধ্যে আনার লক্ষ্যে ২০০৯ সালের আগষ্ট মাসে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ চার্জ সাবমেরিন কেবল্রে ক্ষেত্রে (Wet Segment -এ) ১০% কমানো হয়েছে এবং ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসে পুনঃরায় ১০% কমানো হয়েছে।এই চার্জ আরও ১০% কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।বর্তমান সরকার গত তিন বছরে কয়েক ধাপে প্রতি মেগাবিট/সেকেন্ড ব্যান্ডউইথের মূল্য ২৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৮ হাজার টাকা করেছে। উল্লেখ্য গত কেয়ার টেকার সরকার এই মূল্য ১ লাখ ২৭ হাজার থেকে কমিয়ে মাত্র ২৭ হাজার টাকা করে রেখে গিয়েছিল।তবে ব্যান্ডউথের দাম কমালেও এই বাড়তি ব্যান্ডউইথ ইউজার পর্যন্ত পরিবহন করার জন্য প্রয়োজনীয় তরঙ্গের দাম কয়েক শত কোটি টাকা নির্ধারিত থাকার কারনে দাম কমার সুবিধা কখনও পায়নি, পেয়েছে শুধু সার্ভিস প্রভাইডারেরা।
২. ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধিঃ
২০০৬ সালের শুরুতে দেশের ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি যেখানে ৭.৫ Gbps ছিল, তা এখন ৪৪.৬ Gbps এ উন্নীত হয়েছে। কর্নসোর্টিয়ামের সদস্য দেশ হিসেবে কোন বিনিয়োগ ছাড়াই উপরোক্ত ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধি পেয়েছে।এখানে উল্লেখ্য এতে বর্তমান সরকারের কোন অবদান নেই বরং ক্ষতির পরিমান দেখলে যে কারও মাথা খারাপ হয়ে যাবে।পড়তে থাকেন নিচে পাবেন।এখানে শুধু বলবো এটা সাবমেরিন ক্যবলের একটি সাধারন বৈশিষ্ট।২০০৫ সালে স্থাপিত সিমিউই-৪ সাবমেরিন ক্যবলে যখন বাংলাদেশ সংযুক্ত হয় সেখানে ব্যান্ডউইথের পরিমান ছিল ৭.৫ Gbps যা ২০০৭ সালে ডিসেম্বরে প্রথম আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে ২৪ Gbps ও ২০০৮ সালে ডিসেম্বরে দ্বিতীয় আপগ্রেডেশনে ৪৪.৬ Gbps এ উন্নিত হয়।যা ২০০৯ ডিসেম্বরে তৃতীয় আপগ্রেডেশনে ১৪০ Gbps হওয়ার কথা ছিল।এইযে এখানে আছে এই ওয়েবসাইটের ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারীতে পাওয়া একটি প্রেস রিলিজের চিত্র ।
৩. ব্যান্ডউইথ এর ব্যবহারঃ
বর্তমান সরকারের আমলে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার ৭.৫ Gbps হতে বৃদ্ধি পেয়ে ২২ Gbps অতিক্রম করেছে।আন্তর্জাতিক সার্কিট বৃদ্ধি, ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সম্প্রসারণের কারণে ব্যান্ডউইথ এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।তিন বছরে ৭.৫ Gbps থেকে ২২ Gbps, শুনে খুশি হয়ে গেলেন ? সাবমেরিন ক্যবল কোম্পানীর ওয়েবসাইটের ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারীতে পাওয়া এক প্রেসরিলিজে দেখা যায় সারাদেশে ৮ Gbps ব্যান্ডউথ ব্যবহার হচ্ছে।যা ২০১১ সালের শেষে দেখা যায় ১৫ Gbps আজ হঠাৎ দেখলাম ২২ Gbps অবশ্য ইংলিশ প্রেসরিলিজে এখনও ১৫ Gbps দেখাচ্ছে।প্রমান ছবিতে -
৪. আপগ্রেড#৩ এ অংশগ্রহণ
ভবিষ্যতে দেশের ব্যান্ডউইথ চাহিদা সামনে রেখে বিএসসিসিএল সরকারের অনুমতিক্রমে কনসোর্টিয়ামের আপগ্রেড#৩প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অতিরিক্ত 4 Million MIU*Km ক্যাপাসিটি আনয়নের ব্যবস্থা করেছে।গত ৩রা এপ্রিল ২০১১ তারিখে গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উক্ত Upgradation প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন। ইতিমধ্যে বিএসসিসিএল আপগ্রেড#৩ তে অংশগ্রহণ করার জন্য ৫০ কোটি টাকা নিজস্ব তহবিল হতে SEA-ME-WE-4 কনসোর্টিয়াম কে প্রদান করেছে।এর ফলে ব্যান্ডউইথ পরিমান ২০১২ সালের মে মাস নাগাদ ৪৪.৬০ Gbps হতে বৃদ্ধি পেয়ে ১৬০ Gbps এ পৌঁছাবে।এইটা আসলে হইয়া গেছে গত বছর অক্টবর মাসে, এখানে দেখুন মন্ত্রী বলছে -
তবে ভয়ংকর কথা হচ্ছে এই কাজটা ২০১০ সালেই হয়ে যাওয়ার কথাছিল যা একই ওয়েবসাইট সেসময় এক প্রেসরিলিজে বলেছিল।তখন ঐটা স্থগিত করা হয়েছিল যেহেতু যা ছিল তারই চারগুন ব্যান্ডউইথ অব্যবহৃত ছিল এত ব্যান্ডউইথ দিয়ে কি হবে, রপ্তানীর উদ্দোগ্যও প্রকাশ্য নেয়া যাচ্ছে না এই অজুহাতে।আর এদিকে এই একই সাবমেরিন ক্যবলে অন্যান্য দেশগুলো আজ ১.২৮ Tbps এ উন্নিত হয়ে গেছে।যেমন শৃলংকা নিচের ছবিতে দেখুন -
আলোচনাঃ ইদানিং দেখছি দেশের প্রায় সবগুলো টেলিভিশন ও জাতীয় পত্রিকা প্রায়দিনই ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় নিয়ে কথা বলছে।অনেক দেরীতে হলেও খুবই ভালো লক্ষ্যন।তবে দূঃখের বিষয় জটিল এই টেলিযোগাযোগ তথা ইন্টারনেট সম্পর্কে সমাজের সবচেয়ে ইডুকেটেড লেভেলও বকলম হওয়ায় সেদিন এক রিপোর্টারকে দেখলা সাবমেরিন ক্যবল কোম্পানীর গাড়ি বারান্দা পর্যন্ত গিয়ে কার গাড়ি কে ব্যবহার করছে তার রিপোর্ট নিয়ে চলে আসলেন।আরএকজনকে বরাবরের মত তিনচারবার ভিওআইপি ভিওআইপি করে রিপোর্ট শেষ।অথচ এর ভিতর হয়ে যাচ্ছে কত বড় রাষ্ট্রীয় ক্ষতি। যেমন ধরুন এই মুহুর্তে সারাদেশ যদি ১৫ Gbps এবং তার প্রতি মেগাবিট/সেকেন্ডের দাম ৮ হাজার টাকা হয় তাহলে মোট ১২ কোটি টাকার ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করছে।আর অব্যবহৃত রাখছে ১২০ কোটি টাকার ব্যান্ডউইথ।ব্যান্ডউইথ ব্যবহার না করা মানে সংরক্ষন করা না অথচ আমাদের ইডিয়ট পলিসি মেকাররা ব্যান্ডউইথ সংরক্ষনের নীতি গ্রহন করে।
আজকাল মার্কেটে ১ জিবি কন্টেন্টের ভ্যাট সহ প্রায় ৪০০/- টাকায় বিক্রি হয় -গ্রামীনফোন ইন্টারনেটের পি-6 প্যাকেজে।আরএক প্যাকেজে ৩ এমবি কন্টেন্ট এর দাম ৯/- টাকা, অন্যএক প্যাকেজে ৯৯ এমবি ৯৯/- টাকা - গতি অবশ্যই সর্বদা সমান, ৫ কেবিপিএস। আর আমরা গত ৩ বছর ধরে কি করে আসছি ? মাত্র ১৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করছি আর বাকি ৩০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের ফেলে দিচ্ছি, এর পরিমান কত ? গত ৩ বছরে (৩০ x ৬০ x ৬০ x ২৪ x ৩৬৫ x ৩) ভাগ ১০০০ = ২৮,৩৮,২৪০ টেরাবিট বা প্রায় ৩০ লক্ষ টেরাবিট কন্টেন্ট অব্যবহৃত ছিল।এখন প্রতি জিবি ১০০/- টাকা করে ধরলেও এই ক্ষতির আর্থিক পরিমান ২৮,৩৮,২৪০ x ১০০ x ১০০০ = ২৮৩,৮২,৪০,০০,০০০ টাকা বা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই পরিমানের সাথে তৃতীয় আপগ্রেডেশনে বিলম্ব ও ১.২৮ টেরাবিট আপগ্রেডেশনের বিষয়টা যদি ধরি তাহলে সমগ্র জাতীর মাথা খারাপ হয়ে যাবে।
ইন্টারনেট সর্ম্পকে মিনিমা ধারনাও যে আমাদের সর্বোচ্চ শিক্ষিত, সচেতন মানুষগুলোর নেই ইহা তারই প্রমান। একটা দেশ জনগণের টেলিকমিউনিকেশন স্বাধীনতায় সরকার কতটা সৈরাচারী হলে ২০১২ সালেও এই গতির ইন্টারনেট থাকতে পারে তার একমাত্র উদাহরন বাংলাদেশ।নব্বুইয়ের দশকে ইউরোপ আমেরিকা ছাড়াও এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকার অনেক দেশ তাদের ডিজিটাল টেলিফোন লাইনগুলো অপটিক ক্যাবল দিয়ে প্রতিস্থাপন করে ইউজারদের একই তাড়ে এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ও টেলিফোন দেওয়া শুরু করে দেয়।এদিকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে সারা দুনিয়া জুরে মোবাইল ইন্টারনেট চলে আসে।জিপিআরএস ও ইডিজিই টেক্নোলজিতে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদেরও ৪০ কিলোবাইট/সেকেন্ডের কম ব্যন্ডউইথ পাওয়ার রেকর্ড বিশ্বে নেই। ২০০০ সালের পরে তো দেশে দেশে ৩জি, ওয়াইম্যাক্স, ৪জি চলে এসেছে।আজ ১ এমবিপিএস এর নিচের গতিকে ইন্টারনেটই বলা হয় না, ব্রডব্যন্ডের সংঙ্গা ৫ এমবিপিএস করার দাবি উঠছে আজকাল।আপনি জানেন কি বাংলাদেশের টেলি আইনে ২৫৬ ও অধিক গতিকে ব্রডব্যন্ড বলা হয়।( উল্লেখ্য প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশে ১৯৯৭ সালেই মোবাইলফোন চালু হলেও মোবাইল অপারেটর গুলো ইন্টারনেট সার্ভিস বিক্রির অনুমতি পেয়েছে ২০০৬ সালে।জেনে রাখা ভালো বিশ্বে বাণিজ্যিক মোবাইলের যাত্রা ১৯৭৯ সালে, আজ যে আমাদের এত পরিচিত এসএমএস তার ইতিহাস ১৯৮৫ সালে শুরু।বাংলাদেশে প্রকৃত পক্ষে ১৯৯৭ সালেই মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু হয়েছিল।বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে এরশাদ সরকার বিটিএল নামক একটি কোম্পানীকে বাংলাদেশে সেলুলার ফোন, পেজিং ও অন্যান্য নেটওয়ার্ক বেইসড সাভিস দেয়ার লাইসেন্স দিয়ে গেলেও ১৯৯১ সালে এসে সব বন্ধ করে দেয়।পরে মালিক বদলে ১৯৯৩ সালে এইচবিটিএল ঢাকায় সীমিত পর্যায়ে নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম মোবাইল নেটওয়ার্ক যাত্রার শুরু করে।পরবর্তীতে সেবা নামে দেশের একমাত্র মাত্র মোবাইল কোম্পানী, এম মোরশেদ খান জোটের মন্ত্রী, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত একচেটিয়া কুবাইয়া মোবাইল ব্যবসা করে যায়।এক লাখ, দুই লাখ টাকায় এক একটা সংযোগ বিক্রি করেছে।তখনকার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম বিটিসিএল সহ সমগ্র টেলিকমকে চুটিয়ে খেয়ে গেছে।নব্বুইয়ের দশকের প্রথম দুই তৃতীয়াংশ সময়ে দেশে টি এ্যান্ড টি'র ল্যান্ড ফোনের সংযোগেরও ছিল এক মহারমরমা ব্যবসা।ঢাকাতেই একটি সংযোগের জন্য এক লাখ টাকার উপর ঘুষ বিতরন করতে হতো, লাইনম্যান থেকে শুরু করে বিটিসিএলের চীফ ইঞ্জিনিয়ার পর্যন্ত।
এদিকে গত শতাব্দীতে বাংলাদেশে মূলত ইন্টারনেট ছিল, তা বলা যাবে না।কারন তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ ছিল না।তাই অতি ব্যায়বহুল ও সীমিত পর্যায়ের ভিস্যাটে আনা ইন্টারনেট অল্প কিছু ভিআইপি লোক ও প্রতিষ্ঠানের কপালে জুটতো।আমার মত অতি সাধারন কেউ সর্বচ্চ শুনেছি, ইন্টারনেট নামক একটা জিনিষ আছে।প্রসংঙ্গত, আপনারা সবাই জানেন ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ বঙ্গপোসাগরে সিমিউই-৩ নামক সাবমেরিন ক্যবলে সংযোগ প্রত্যক্ষান করে। ১৯৮৫ সালে সিমিউই-২ তেও তৎকালীক সরকার। এর আগে ১৯৭৮ সালে সিমিউই-১ প্রত্যাক্ষান করে তৎকালীন সরকার বড় লোকের বিলাসীতা বলে।হয়তো ভাবছেন তখন সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে কি হতো ? সাবমেরিন ক্যবলের প্রথম ধারনার জন্ম ১৭৮৫ সালে স্পেনে আন্তমহাদেশীয় টেলিগ্রাফের নেটওয়ার্কের ধারনা থেকে। অবশ্য বিশ্বের প্রথম সফল সাবমেরিন স্থাপন হয়েছিল ১৮৫৬ সালে ইংলিশ চ্যানেলে। ১৮৭৬ সালে আটলান্টিকে , রানী এজাবেথ তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্টের কাছে টরেটক টেলিগ্রাফ করে তা উদ্বোধন করেছিল।এরপর সাবমেরিন ক্যবলের শুধু প্রসার আর প্রসার ১৯৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রতলদেশে জালেরমত ছড়িয়ে পরে সাবমেরিন ক্যবল আর প্রতি ১৫-২০ বছর পরপর তাড়গুলো প্রতিস্থাপন হতে থাকে আরও উন্নত ও দক্ষ তাড় দিয়ে।
এই এ্যালবামের আরও ছবিঃ সাবমেরিন ক্যবলের ইতিহাস
ব্যান্ডউথের দাম ও গতিঃ ১৯৯৩ সাল থেকে গুনিতক হারে প্রতিটি সরকার দেশের তথ্যপ্রযুক্তির বারটা বাজাতে বাজাতে আজকাল দেখি অনেকেই দেশের ইন্টারনেটর গতি নিয়ে কথা বলে। মন্ত্রী, আমলা, সচিব, এমপি থেকে শুরু করে সেদিন সাধারন মানুষও।এতদিনে মাত্র গতি সচেতনতা! সেদিন দেখি বিটিআরসি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) জিয়া আহাম্মেদও মূর্খের মত বললেন যে, সরকার গত ৩ বছরে ব্যান্ডউইথের দাম ৩ দফা কমিয়ে ১২৭,০০০/- হাজার টাকা থেকে মাত্র ৮০০০/- টাকায় নামিয়ে আনার পরও দেশে ইউজার ল্যাভেলে নেটের দাম তুলনা মুলক কমে তো নিই'ই ইন্টারনেটের গতিরও সামান্যও উন্নতি হয়নি। অথচ ওরই জানার কথা সব ঘটনা। বরাবরের মত মোবাইলের নম্বর সেইভ করার যোগ্যতাও না থাকা জাতির মাথায় বিষয়টি কখনই ঢোকে না -জিয়া কইলো কি ?
বর্তমানে গ্রামীন সহ অন্যান্য মোবাইল অপারেটররা যেহেতু আগের ১২৭,০০০/- টাকায় ১ মেগাবিটের পরিবর্তে এখন ১৩ মেগাবিট/সেকেন্ড ব্যান্ডউইথ পাচ্ছে সেখানে ইউজার এন্ডে বর্তমান গড় গতি ৫ কিলোবাইট/সেকেন্ডের পরিবর্তে ১২০ কিলোবাইট/সেকেন্ড না হলেও অন্তত এজ নেটেওয়ার্কের সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট না হলেও ৫০ কেবিপিএস হওয়া উচিত।হারামজাদা মোবাইল অপারেটররা অবশ্যই আমাদের সাথে প্রতারনা করছে ? এমনিতেই বাতাস বেঁচে বিদেশিরা দেশের টাকা নিয়ে গেল এইরকম দেশপ্রেমে আমাদের সপ্তাহে একবার স্বপ্ন দোষ হয়।অথচ বুঝে না কি দিয়া কারে কি বুঝাইতেছে আর জনগণেরই বারটা বাজাইতেছে।
আচ্ছা এই যে কারেন্টে আমরা বাতি জ্বালাই, ফ্যান চালাই, এই কারেন্ট কিসের ভেতর দিয়ে পাস হয় ? উত্তর সবার জানা। কারেন্টের তাড়ের ভিতর দিয়ে কারেন্ট পাস হয়! আচ্ছা অপটিক ক্যাবলের ভিতর দিয়ে কি পাস হয় ? এর উত্তরও অনেকেই জানে, ব্যান্ডউইথ/ইন্টারনেট পাস হয়। তাহলে বলুন, এই যে মোবাইল চলে, মোবাইলে, ওয়াইম্যাক্সে আমরা ইন্টারনেট পাই তা কিসের ভিতর দিয়ে পাস হয়ে ইউজারের মডেমে ঢুকে ?
হ্যাঁ, ঐ জিনিষটা তরঙ্গ! তরঙ্গের মাধ্যমে। মোববাইল, মোবাইল ইন্টারনেট, ওয়াইম্যাক্স, থ্রিজি সহ তাড়বিহীন সকল যোগাযোগের প্রাণ হলো এই তরঙ্গ - যা প্রাকৃতিক সম্পদ।পৃথিবীতে অঞ্চল ভেদে নানা খনিজ সম্পদের তারতম্য থাকলেও এর কোন তারতম্য নেই, আমেরিকায় যা বাংলাদেশেও তাই। তবে এর ব্যবহার নিয়ে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে চলে গণবিরোধী অসংখ্য নীতি ও রাজনীতির খেলা।জন্মগত ভাবেই মানুষ তার মাথার উপর আকাশের তরঙ্গে উপর অধিকার লাভ করে বায়োলজিক্যাললী ও ম্যাথামেটিক্যাললী।বাংলাদেশের সামরিক, একনায়ক, গণতন্ত্রের নামে ইজারাতান্ত্রীক সরকার ও রাজনীতি জনগণকে তাদের এই অধিকার থেকে ৯৮% বঞ্চিত রেখেছে।বাংলাদেশে মূলত কোন তরঙ্গ নীতিমালাই নেই।যা চলছে তা পৃথিবীতে নজির বিহীন। পদাধীকার বলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব ফ্রিকোয়েন্সি এলোকেশন কমিটির চেয়ারম্যান, আর চালাচ্ছে সর্বনিম্ন ব্যবহার নীতিতে।বাংলাদেশে বর্তমানে ১ মেগাহার্ড্স তরঙ্গের জন্য সরকারকে গড়ে ৫০০ কোটি টাকা ফি দিতে হয় -সেই সাথে ভয়েস ও ডাটা বেকহাউলিং আরও শত টেটনামি।
এদিকে গত তিন বছরেও বিটিআরসি থ্রিজি স্পেকটার্ম অকশন নীতিমালা করতে পারেনি।ওয়াইম্যাক্স স্পেকটার্ম নিয়ে যত বেশি তরঙ্গ ব্যবহার না করে ফেলে রাখা যায় তত মঙ্গল, এই নীতিমালায় চলছে - পুলিশকে বিনা কাজে ১০ মেগাহার্স্ড ফাউ দিয়ে রেখেছে।ওয়াইড ব্যান্ড, ৪জি স্পেকটার্ম সম্পর্কে সচেতনতাও নেই।তাছাড়া ভিএইচএফ, এফএম সহ আরও হাজার রকমের নীতিহীনতায় ভুগছে দেশের সমগ্র তাড়বিহীন তথ্যযোগাযোগ ব্যবস্থা ও সম্ভাবনা।অথচ এই তাড় বিহীন যোগাযোগকেই হতে হবে বাংলাদেশের ডমেস্টিক কানেক্টিভিটির প্রথম ও অন্যতম মাধ্যম।কারন এদেশে কখনওই দেশ জুরে টেলিফোন সিস্টেম ক্যাবল নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠেনি এবং ভৌগলিক অবস্থার জন্য সম্ভবও না।আর ২০১২ সালে দেশে ২০০ কিলোমিটার অপটিক ক্যবল স্থাপন হয়েছে কিনা সন্দেহ আছে -যেখানে বাকি বিশ্ব ২০০০ সালের আগে ন্যাশনাল অপটিক ব্যাকবোন দ্বিতীয় মেয়াদে আপগ্রেড করে ফেলেছিল।তাই সারাদেশ তাড় দিয়ে কানেক্টিভিটির কথা আপনার সামনে যদি কেউ বলে, নির্দিধায় তাকে একটা থাপ্পর মেরে বলতে পারেন /মোবাইল/ওয়ারলেস ব্রডব্যন্ড'ই হবে বাংলাদেশের ডমেস্টিক ব্রডব্যন্ড বেকবোন।
এবার নিচের ভিডিওতে দেখেন ডিজিটাল বাংলাদেশ ৩ বছর খতিয়ান - খুবই গুরুত্বপূর্ন।
মাত্র ১ মিনিট ২১ সেকেন্ডের ১ এমবি ভিডিও,
থ্রীজি হলো তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক। ১জি প্রজন্মের নেটওয়ার্ক প্রথম স্থাপন হয়েছিল জাপানে ১৯৭৯ সালে।এই প্রজন্মটি ছিল এ্যানালগ মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন।১৯৯১ সালে ২জি বা প্রথম ডিজিটাল মোবাইল নেটওয়ার্ক ফিনল্যান্ডে শুরু হয়।আর ৩জি নেটওয়ার্ক চালু হয়েছিল ১ অক্টবর, ২০০১ জাপানে, প্রথম।
আপনাদের মনে থাকবে ওয়ারীদ বাংলাদেশে ৩জি'র আওয়াজ তুলেছিল ২০০৪ সালেই। ওয়ারিদকে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনের লাইসেন্সের সাথে থ্রী-জি অনুমোদনের ফাইল গেলে সেদিন কেবিনেট মিটিং এ সকলে এর বিপক্ষে জোর দাবী তুলেছিল।শানেনজুল ছিল, "এটা দিলে আমাদের ইয়ং জেনারেশন নষ্ট হয়ে যাবে, ওরা ভিষন পাপ করবে, ফ্রি সেক্স হইয়ে যাবে, ঘরে বসে ওরা একে অন্যের ব্লুফিল্ম দেখবে।কোরান, হাদিস সব ঘেটে ঐ মিটিংয়েই ইসলামে ৩জি'র অনুমোদনের কোন সুযোগ নেই তা সেদিন মিটিংয়ে প্রমান হয়েছিল।এখনও এই নীতিই চলমান। উল্লেখ্য থ্রীজি'র সাথে ধর্মীয় বিষয়টি সবদেশেই কম বেশি ছিল এবং বাংলাদেশে এই প্রতিবন্ধকতাটি সবচেয়ে বেশি যার বীজ উপ্ত হয়েছিল ২০০৪ সালে।তাই থ্রীজিকে একমাত্র বাংলাদেশেই আজও আটকে রাখতে পারছে।
ইকমার্স পেপলের কতা তো কইলামই না, এর অভাবে জুকারবার্গ ও স্টিভ জবসেরও সর্বচ্চ একটা ফেইসবুক আইডি থাকতো - মাথায় ঢোকে ইডিয়ট বাংলাদেশ ? আচ্ছা বলেন তো টাকা লেনদেন করা যায়না এমন ইন্টারনে বিশ্বের কোন দেশে আছে ? যেই ইন্টারনেটে দিয়া টাকা লেনদেন করা যায় না ঐডা হিজরা ইন্টারনেট ।
বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও এই রকম ইন্টারনেট ২০০৩ সালের পরে আর নেই।বাংলাদেশের ইন্টারনেটের একদিকে যেমন সামান্যতম গতি নেই তেমনি বীর্যও নেই।এটাকে বলতে পারেন ফাইজিল ডিজিটাল বাংলাদেশের ফাউল নেট।এটা দিয়া ফাইজলামী ও পর্নগ্রাফি ছাড়া আর কোন কামের না।
এমনি করে ডিজিটাল অর্থনীতির সমস্ত দরজাই বন্ধ।যেমন আউটসোর্সিয়ের কথাই ধরুন।সরকার ক্ষমতায় আসার পরপর সজিব ওয়াজেদ জয় এক ডিজিটাল বাংলাদেশ মিটিংয়ে বলেছিল তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের আউটসোর্সিংয়ের হাব হওয়ার পথে যাত্রা করবে।সেদিন তারে বিশ্বাস করে আশা করেছিলাম।অথচ আজ আমার রিয়ালাইজেশন দেখুন-
দেশের সর্বশেষ রেমিটেন্স রেকর্ড ১২.৫ বিলিয়ন যা প্রায় ১০ মিলিয়ন প্রবাসীর অবদান।এই রেমিটেন্স গতি ৩ বছরের প্রথম ৬ মাসেই দ্বিগুনের কাছাকাছি যাওয়ার কথা ছিল। দেশে এই মুহুর্তে জেএসসি থেকে মাস্টার্স উত্তর ৫ বছর পর্যন্ত ৩ কোটির উপর শিক্ষিত বেকার তরুন'ই আছে - এবছর জেএসসি পরীক্ষার্থী সংখ্য ছিল ১৯ লাখ, এসএসসি ১৪ লাখ।সরকারের সামান্য পদক্ষেপেই ৩ মাসের মধ্যে বর্তমান প্রবাসীদের সাথে আরও ১৫ মিলিয়ন অনলাইন রেমিটেন্স উপার্জনকারী যোগ হতে পারে।এই প্রবাসীদের সাথে এরাও কাজ করবে, রেমিটেন্স আনবে।তবে এরা কাজ করবে আরও পাওয়ারফুল পথে।এরা যে শুধু দেশে বসেই কাজ করবে তা নয়, এরা ঘরে বসেই ভিসা ফ্রী বিশ্বের যে কোন দেশেই কাজ করবে - কাজ শেষে প্রতি ঘন্টায় তার মোবাইলের ফ্লেক্সিব্যাংকে ১ ডলার ভেঙ্গে ৭৬ টাকা জমা পরবে - যান সিগেরেটের দোকানে, মোবাইল থেকে ৬৫ টাকা দিয়ে দশটা ব্যানসন এ্যান্ড হ্যাজেস নিয়ে আসেন। কি কাজ ? সেও সামান্যই! কঠিন কাজের মধ্যে, আমাকে ১০০ ইউটিউব এ্যাকাউন্ট করে দেন - ১০ ডলার ইত্যাদী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলে পেপল ভ্যারিফাই করলে দেশের সব টাকা পাচার হয়ে যাবে।ডক্টর আতিয়ার রহমান যখন বিবি গভর্নর হইলো তখন মনে করছিলাম এই গরীবের পোলা জনগণের কষ্ট বুজবো।কিন্তু যেদিন দেখলাম দেশের ৮ কোটি লোকের কাছে পৌছে যাওয়া মোবাইলের ফ্লেক্সীলোড ভাংঙ্গানীর ফ্লেক্সিব্যাংক অনুমোদন না দিয়া যখন ট্রাস্টব্যাংক, ডাচবাংলাব্যাংককে মোবাইল ব্যাংকিং লাইসেন্স দেয় সেদিনই বুঝছি এও একই চক্রের সদস্য।তানা হলে ২০০৯ সালের মধ্যে দেশে পেপল ভ্যারিফাই করতো।
আজকাল আবার আরেক নতুন ধান্দা শুরু করছে, বলতেছে পেপলকে বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশ ভেরিফাই করতে তদবীর চলছে।বিশেষ ব্যবস্থা হলো কোন দেশ যদি তার দেশে টাকা আসা ও টাকা যাওয়া, মানে লেনদেন উভয় ক্ষেত্রেই ইন্টারনেট ব্যাংকিং অনুমোদন না থাকে তাকে ভেরিফাই করে না।বাংলাদেশ যেহেতু পেপলের শালা লাগে তাই দুলভাই যদি বাংলাদেশে ডলার আসার ক্ষেত্রে ভেরিফাই করে !
বাংলাদেশ পাকিস্তান ভাই ভাই কোন দেশে পেপল নাই।
ছবি বড় করে দেখুন
রিট for Paypal in bd Now - দৃষ্টিআকর্ষন হাইকোর্ট
তাই বলিঃ বাংলার পুলাপানরে বলছিঃ আউটসোসিংয়ের কাজ করতে হবে না, আপনি লোম ফালানোর কাজ করেন, উন্নতি করবেন।
এবার আসুন + পাগলা দোয়েলের খবর বলি।
সেদিন একটা ইনট্যাক পেকেট খুইলল্লা অন করলাম, দেখলাম তিন-চার'টা বারি মাইরা চললো, পুরাই ৪৯ এর মত আচরন।একটু পর দেখি মেশিন অটোমেটিক চলিতেছে- টাচ প্যাডে হাত দিতে হয়না, কার্সার একবার দৌড় মারতাছে এই কোনায়, আবার আইতেছে ঐ কোনায়, এখানে দারাচ্ছে, ওখানে যাচ্ছে।কখনও কন্টেন্ট সিলেক্ট করতেছে, ক্লিয়ার হচ্ছে।৮ ঘন্টায় একটা এফবি স্যাটাস দিতে পারলাম না। লেখতেছেন, হঠাৎ সিলেক্ট মারে, ডিলিট অয়।এই উইনডো মিমাইজ করে এই নতুন উইনডো ট্যাব ওপেন করছে।সে এক মাথা খারাপ করা অবস্থা।ডেরহি মুরগীর মত কার্সারকে ধরা'ই যাইতেছে না।একটু পরে দেখি অবার অটো সাটডাউন মারতাছে, না রিস্টার্ট না, ফুল সাট ডাউন, বোঝেন অবস্থা।আমি শিওর আর দুইদিন থাকলেই ব্লুস্ক্রীন মারা শুরু করবে, ১৫ দিনেই নেভার কাম ব্যাক।আর চেহারার কথা যদি বলতে বলেন সাইজ, ফিনিশিং ও পুরুত্ব দেখে আমার পুলায় কয়, বাজান, তুমি খেলনা ল্যাপটপ লইয়া কই যাও ? চার্জারের তাড়রে মনে হয় তিন টাকা গজের ফ্লাক্সিবল তাড়, বডি সিলভারের বাসনকোসনের সিলভার দিয়া তৈরী।
সেই কোন কালে, ২০০৯ সালে, ছয় মাসের মধ্যে দেশের প্রথম স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ বাজারে আনছে টেশিশ স্লোগান শুনতে শুনতে অতিষ্ট হয়ে আজ হাতে পাইলাম।দোয়েল বেসিক মডেলের একটি মেশিন কিনলাম।দাম পরেছে ১৭৫০০/= টাকা যদিও এই মডেলটির সরকারী দাম ১৩৫০০/- টাকা।এবার বোঝেন বানিজ্যের কি হিরিক পরেছে ? অথচ ভারত ২০০৮ সালেই ৫০০০/= টাকার ল্যাপটপ তৈরী করেছিল।বর্তমানে ভারতে ৩৫০০/= টাকায় ট্যাবলেট পাওয়া যাচ্ছে আর দোয়েলের ট্যাবলেটের দাম ১০,০০০/= টাকা।
ম্যাস জনগণের জন্য এরকম মেশিনের ধারনা প্রথম এসেছিল জাতিসংঙ্ঘের কাছ থেকে ২০০৪-২০০৫ সালে সম্ভবত, "পার স্টুডেন্ট ওয়ান ল্যাটপ" না যাত্রা শুরু করেছিল।তাতে ভর করেই ভারত ২০০৮ সালে তার দেশের সস্তা ল্যাপটপ করেছে অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ লাইসেন্স দিয়ে মাত্র ৫০০০ রুপিতে।থাইল্যান্ড করেছে, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোও ভর্তুকি দিয়ে হলেও সস্তার ল্যাপটপ করেছে। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডও বানিয়ে ফেলেছে ২০০৯ সালের মধ্যেই।
যেখানে চীনে অলস বসে থাকা যে কোন ফ্যাক্ট্রিতে যেকোন মডেলর, যেভাবে, যেভাবে খুশি চেয়ে, ল্যাপটপ বানিয়ে ক্যারিং সহ ভারতের চেয়ে কম দামে সাপ্লাই দিতে পারবে, যত লাখ চান যত দিনে।এই সূতেই আপনি ইডিয়ট না হলে কোন ভাবেই নিজে ফ্যাকটরি সেটআপ দিয়ে ৫ হাজার টাকার জিনিষ ২০ হাজার টাকা খরচ করে বানাবেন না।ডিজাইন দিবেন, বানাইয়া পাঠাইয়া দিবো। আরও বেশি চাইলে বাংলাদেশের হাজার এক পায়ে খাড়া তরুন চীনে গিয়ে নিজের ফ্যাকটরি ভাড়া করে, দেশের মমতায় প্রডাক্ট কাস্টাইজ করে ল্যাগেজে, কন্টেইনার ছয় মাসে ৬০ লক্ষ মেশিন দেশে ঢুকিয়ে দিতে পারবে। শুধু ঘোষনা দেন এয়ারপোর্ট ও বন্দরে "কম্পিউটার ডিভাই নো চেক", যত খুশি, কত কমে চান।
এর সকল দায় সজিব ওয়াজেদকেই নিতে হবে, কারন সেই'ই কম্পিউটার বিজ্ঞানী।ডিজিটাল বাংলাদেশের যেখানে যাকিছু হচ্ছে, হয়েছে ও হচ্ছে না, জনগণকে তার উত্তর সজিব ওয়াজেদ জয়কেই দিতে হবে, এটা কনফার্ম।
ডিজিটাল বাংলাদেশের ইগভার্নেন্স স্বপ্ন গত আড়াই বছর দেখলাম ফ্রি জুমলা দিয়া, ওহন বানাই ধ্রুপল দিয়া।
অপচয়ের সময় আমাদের হাতে আনলিমিটেড!ডিজিটাল বাংলাদেশের ইগভার্নেন্স স্বপ্ন গত আড়াই বছর দেখলাম ফ্রি জুমলা দিয়া।আপনাদের মনে থাকবে অবশ্যই এক বছর আগে জুমলা দিয়ে বানানো প্রতিটি জেলার তথ্যবাতায়ন উদ্বোধন কালে শুধু ডেকোরেশনের বিল পঞ্চাশ হাজার টাকা, আর ভিডিও টিউটরিয়াল নিষিদ্ধ থাকায় শুধু ট্রেনিং দিতে এত সময়, এত মোবিলাইজেশন, এত অর্থ।এতদিন বেগার খেটে এখন বানাই ধ্রুপল দিয়া।কেবল নেটের এই অবস্থার জন্য এতবছরে জাতিকে ধ্রুপল চিনাই, মক্কা মেলা দূর!আড়াই বছর আগে একই ভবিষ্যতবানী করেছিলাম, যান দুই বছর আগে আরেক ভবিষ্যতবানী করে দিলাম - লোডের ভারে ধ্রুপল মিসফাংশন শুরু করবে।জুকারবার্গ সাংঙ্ঘাতীক ভুল করে ফেলেছে, জুমলা দিয়া ফেইসবুক বানানো উচিত ছিল - এ্যাকাউন্টও করা যায়, আনলিমিটেড এ্যাপলিকেশনও সাপোর্ট করে।ধর তক্তা মার পেরেক মিস্ত্রী দিয়া নৌকা বানানো সম্ভব হতে পারে, কিন্তু ইগভার্নেন্স!!!!!!
গাজিপুর জেলা
ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে কি শুধু আধুনা তথ্যপ্রযুক্তির বাংলাদেশ, তাই যদি হবে তাহলে ওরা ডিজিটাল আমেরিকা, ডিজিটাল দক্ষিন কোরিয়া, ডিজিটাল ভিয়েতনাম, ডিজিটাল মিশর, ডিজিটাল নেপাল বলে না, আমরা কেন ডিজিটাল বাংলাদেশ বললাম ? বিশ্বের কোন দেশই তো তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অবস্থায় নেই।ব্রডব্যান্ড ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ও মৌলিক সিদ্ধান্তগুলোও তো তারা ২০০৮ এর মধ্যে নিয়ে নিয়েছে!এই তালিকায় সুদান সোমালিয়াও তো এই মুহুর্তেও ডিজিটাল বাংলাদেশের চেয়ে ৫ বছর এগিয়ে।তাহলে কেন ডিজিটাল সুদান, ডিজিটাল সোমালিয়া বললো না ?
এবার ডিজিবিডি বেসিক মডেল দেখুনঃ
কথোপকথনঃ পাঠক - ভাই, আমাদের নিজেদের প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত এফ এম রেডিও ট্রান্সমিটার এর ব্যাপারতা একটু ভাবেন। আমরা এতাকে স্বল্পমূল্যে বাজারজাত করতে চাই।এর সাথে ভি এল সি মিডিয়া প্লেয়র ও একটা ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে বানানো ওয়েব সাইটের মাধ্যমে অনলাইন ও এফ এম একই সঙ্গে ব্রডকাস্ট সম্ভব।
লেখক - ট্রান্সমিটারটা সম্পর্কে আরও ডিটেইল বলুন।পারলে রিসোর্স লিংক দেন। আমারা বাংলাদেশে আগামী দুই বছরের মধ্যে ৫০০০ এফএম রেডিও স্টেশন চালানোর নীতিমালা নিয়ে ভাবছি।যা মাত্র ৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করো ১৫ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে বিশ্বের সাথেও প্রাথমিক সংযোগ করবে।
পাঠক - প্রথম দিকে ২ কিলোমিটার চললেও কিছু স্পেয়ার ২ /৩ হাজার টাকার বেশিনা ইন্ডিয়া থেকে এনে এটার একটু একটু উন্নয়ন করি নিজ উদ্যোগে এখন এর ব্রডকাস্টিং এরিয়া ১৫ কিমি।এ নিয়ে অনেকের সাথে কথাও বলি, যাদের বেশির ভাগই আমাকে ভয় দেখায় , র্যাব পুলিশ আর্মির। পিছু হটি আবার আগাই। কেও বলে দেখছি এটা কি ভাবে আনা যায় কেও ভয় দেখায়।
লেখক - ধন্যবাদ, আপনারা একটি গ্রেট কাজ করেছেন।কয়েকটা টুকটাক জেনে নেই।ট্রান্সমিটার, এ্যান্টেনায় টোটাল খরচ কত ? ট্রান্সমিটারটি কত ওয়াটের ? একটি গড় মানের ২০ হাজার টাকার ১০০ ওয়াট ট্রান্সমিটার দিয়ে ১৭ কিলোমিটার রেডিয়াসে এফএম ট্রান্সমিট করা যায়।
এখন আর ভয়ের কিছু নেই।সেই দিন অনেক অতীত।এই ২০০৯ সালেই থাইল্যান্ডে ব্যাংঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা লাইসেন্স বিহীন কয়েক হাজার এফএম ট্রান্সমিটার তিন মাসের নোটিশ দিয়ে লাইসেন্স দেয়া হয়।ইন্দোনেশিয়ায় চলছে হাজার হাজার, ভিয়েতনামে।শুধু ভারতেই নাই।বাংলাদেশে থাইল্যান্ড ফর্মূলা বাস্তবায়ন করতে হবে।জনগণকে এফএমের বিষয়টি যত বেশি জানানো যাবে এনএসআই, ডিজিএফআই, থানা, পুলিশ তত অর্থহীন হয়ে যাবে।ভয় দূরে থাক পুলিশ নিজে সকাল, বিকাল গ্রামেগঞ্জে এফএমে আইনশৃংখলার ঘোষনা পড়বে।
তাছাড়া এফএম ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া অসম্ভব বা দরিদ্র শোষনের আরেক অধ্যায়।কারন আমাদের গ্রামেগঞ্জে বসবাসকারী সাত আট কোটি প্রান্তিক জনগণের তথ্যপ্রযুক্তির হাইওয়ের সাথে সংযুক্ত করার একমাত্র মাধ্যম এফএম।কারন এই জনগোষ্ঠিকে আমরা যদি সত্যিই তথ্য দিতে চাই তাহলে তা ফ্রী দিতে হবে।তা গ্রহনে সর্বচ্চ শুধু ব্যাটারী খরচ করে হাতের মোবাইল বা ৫০ টাকার একটা রেডিওর বেশি সামর্থ নেই।তাদের দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার ল্যাপটপের প্রয়োজন আগামী ২০ বছরেও নেই, ভাবাটাই অন্যায়।আর এফএম ছাড়া ফ্রী তথ্য দেয়া অসম্ভব।আর বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে এরকম একটি এফএম স্টেশনে অবশ্যই ল্যাপটপ ইন্টারনেট থাকবে যা দিয়ে একদিকে যেমন দেখা যাবে একটি ল্যাপটপ দিয়েই একটি উপজেলা বা ইউনিয়ের লক্ষাধীক মানুষ রেডিও ব্রাউজ করছে আবার সামান্য একটি ইন্টারনেট রেডিও এ্যাপলিকেশন ব্যবহার করে সুনামগঞ্জের একটা ইউনিয়ন এফএম রেডিও লন্ডন আমেরিকা সহ সারাবিশ্বে চলে গেছে।সিকিউরিটিরও সুবিধা হতো।
আমি শিঘ্রই ব্যবস্থা করছি।আমার উপজেলায় কয়েক দিনের এফএম রেডিও ডেমন্সট্রেশনের একটা প্রজেক্ট আয়োজন করছি।বাজারের মোড়ে মোড়ে মাইকে রেডিও লাগিয়ে বাজাবো।এরপর জনগণকেই জিজ্ঞেস করবো বলেন এটা ভালো না খারাপ ?
পাঠক - ভাই, এন্টেনায় খরচ কিছুই না আমরা শুধুমাত্র একটা এলুমিনিয়ামের চ্যানেল কে ২৫ ফিট বাশের খুটির (!) সাথে বেধে এটা দিয়ে ১৫ কিলো কাভার করছি। একে প্রাতিষ্টানিক রুপ দেয়ার জন্যে হয়তবা একটা স্টিলের পাইপ ব্যাবহার করা লাগবে। আর ওটাতে সার্কিট বলতে খুব সাধারন মানের একটা সার্কিট (মুলত ডায়োট) লাগানো এই । বিএনএনআরসি যে স্টেশন বানাতে ১৫ লক্ষাধিক টাকার মেশিনারিজ লাগে সেখানে আমরা এর পাচ ভাগের এক ভাগ দিয়ে স্টুডিও সহ সেটআপ করতে পারব। ধন্যবাদ ভাই। আপনি শুরুটা করেন আমরা আপনার পাশে আছি।
লেখাটির সাথে জাতীয় গুরুত্বের কথা বিবেচনায় সূত্র ছাড়া কপিপেস্ট মাইরা ১০০০ জায়গার পুষ্টানির লক্ষ্য ছিল, একা আর কত পারুম, একটু হাত লাগাইবেন কি ? ইচ্ছা হলে স্টিকির দাবী তুইলেন।
"Review 3y ডিজিটাল বাংলাদেশ and way out.
Wireless Bangladesh Warriors -WBW (উুবু)
চলবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

