ধন্যবাদের সংস্কৃতি
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:২১
আচ্ছা, বাংলাদেশে থাকতে কেউ দিনে কতবার ধন্যবাদ বলেছেন, তা কি গুণে দেখেছেন?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর প্রথম যে সবক নিতে হয়, তা হলো কথায় কথায় থ্যাংক ইউ বলা। দোকানে গেলেন, জিনিষ খুঁজে পাচ্ছেন না, দোকানদারকে প্রশ্ন করাতে সে বললো কোথায় আছে। ব্যাস, "থ্যাংকু"। জিনিষ কিনে টাকা দিলেন, পয়সা ফেরত দিল, "থ্যাংকু"। কাউকে কিছু প্রশ্ন করলেন, ব্যাস জবাব পেলে থ্যাংকু।
আমার বাঙালি মনে তো আর ভিতর থেকে কথায় কথায় থ্যাংকু আসে না। মাঝে মাঝে এটাকে ভং মনে হয়। অথচ এখানকার সংস্কৃতিতে এটা অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে মিশে আছে। আপনি থ্যাংকু না বললে মানুষ আপনাকে অভদ্র ভাববে, বা খাইস্টা মনে করবে।
কিন্তু এই দিনে হাজারো বার বলা থ্যাংকুর কতটুকুই বা মন থেকে বলা? দোকানদারকে টাকা দিলে ব্যাটা তো পয়সা ফেরত দিতে বাধ্য, এর মধ্যে থ্যাংকু বলার কী আছে? (থ্যাংকু'র আবার জবাবও দিতে হবে, "ইউ আর ওয়েলকাম" বলে!!)
বাঙালি সংস্কৃতিতে ধন্যবাদ বা শুকরিয়া বলা হয় শুধু আসলেই ধন্যবাদ দেয়ার মতো কাজ করলে। দেশে কোনোদিন শুনেছেন, মা ছেলেকে বা মেয়েকে, বা উল্ট্টাটা , ধন্যবাদ বলতে, সামান্য সব কাজের জন্য? সৌজন্য বোধ ভালো, কিন্তু মেকি সৌজন্য রীতিমত বিরক্তিকর। জানিনা আমাদের সংস্কারে এটা নাই বলে এরকম মনে হচ্ছে কি না। জানিনা জার্মানি বা ইউরোপে কী দশা। কিন্তু এই মেকি ধন্যবাদের মহড়া দিতে আর ভালো লাগে না। এক মাস দেশে ছুটি কাটানোর সময় মেকি থ্যাংকু আর আনুসঙ্গিক দাঁত দেখানো নকল হাসির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম। এখানে ফিরে এসে আবারো এই ভং এর সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মন থেকে না আসলেও দন্তবিকশিত করে বিনা কারণেই বলতে হচ্ছে, কারণ এটা এখানের সংস্কারের সাথে অঙ্গাঅঙ্গীভাবে মিশে আছে।
নইলে তো আবার খবিশ বলে গালি খাওয়া শুরু করবো!
[পাদটীকাঃ সত্যিকারের ধন্যবাদ বলাতে আমার কোনোই আপত্তি নাই। কারো কাছে সাহায্য পেলে, বা ঐ রকম কাজের জন্য ধন্যবাদ দেশেও বলতাম, এখানেও বলি। কিন্তু রোবোটের মতো প্রতিটা কথার পিছনে থ্যাংকু বলতে বলতে মাথা বিগড়ে যায়। উপরের প্রলাপ এরই ফল। পড়ে থাকলে, নিন দন্তবিকশিত (ক্লোজআপহাসি) "থ্যাংকু" ]
প্রকাশ করা হয়েছে: , বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:২৮
অতিথি বলেছেন:
থ্যাঙ্কয়ু।
রাগিব বলেছেন:
মন থেকে, নাকী ২ নাম্বারি?
অতিথি বলেছেন:
এদের সংস্কৃতি যে হিপোক্রেসি সমর্থন করে ... এটা তারই প্রমান .... [কিমজা]
রাগিব বলেছেন:
মি মো হু ভাই, জাপানে কি অবস্থা? ওখানে তো মাথা নত করাটা একেবারেই বাধ্যতামূলক, তাই না? কিন্তু আলতু ফালতু কারণেও কি থ্যাংকু টাইপের কথা বলতে হয়?
অতিথি বলেছেন:
হুম..... এখানেও একই রকম সামাজিকতা ..... কোথাও খাওয়ার সময় বলতে হয় ... খুউউউবইইইই মজা (জাপানিতে - ঐশি=মজা; উমাই=অমৃত!!)এজন্য একটা কথা প্রচলিত আছে - তাতেমায়ে ...... এর অর্থ (তাতে=মুখমন্ডল, মায়ে=সামনে) মুখোশ টাইপের .... সামনাসামনি ভদ্রতা করে যা বলা হয়!
আর যে কোন বিষয়ে: আরিগাতো (ধন্যবাদ) কিংবা সুমিমাসেন (ধন্যবাদ, দূঃখিত, মাফ করবেন.... অনেকগুলা অর্থে!) বলা আর মাথা নোয়ানো তো আছেই।
এইসব বোগাস ব্যাপারে জাপানিরাই বোধহয় পৃথিবীতে সেরা।
!@@!309402 !@@!309403 দেখুন - নিচে ইংরেজিতে সাবটাইটেল আছে!!

(আবার বিশ্বাস করে বসবেন না যেন.... বেশিরভাগই হিউমার)
অতিথি বলেছেন:
তবে ভিডিওতে ভদ্রতাবিষয়ক ব্যাপারগুলা সত্য!!
রাগিব বলেছেন:
তারমানে কি দাঁড়াচ্ছে ধন্যবাদ দেয়াতে আমরা কিপ্টা? নাকি মেকি ভাব/ অভিনয় করাতে আমরা অপটু?
হযবরল বলেছেন:
মিয়া ভাই এর ঘাড় ব্যাথা নিশ্চয়ই বাউ করতে করতে । আমরা ধন্যবাদ দেওয়ায় কিপ্টা বলার চেয়ে এটা বললে বোধহয় ভালো হবে যে , আমরা এখনো যে কোন ছোটখাট কাজের জন্য এপ্রিশিয়েট করতে শিখিনি। এখানে মেইনডোর দিয়ে ঢুকবার সময় নিজের ঠিক পেছনেই কেঊ আসলে, তার জন্য দরজা খুলে ধরে রাখাটা ভদ্রতা,এবং সেইসাথে ধন্যবাদ জ্ঞাপন। আমাদের দেশে আমরা এইগুলোকে আলপটকা পিরিত হিসেবে ট্রিট করি।
রাগিব বলেছেন:
কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ দরজাই তো আর এরকম না। তাই হয় তো আমাদের মধ্যে এটা আসেনি। আসলে অনেক সময় সামনের জন্য খুলে ধরবে নাকি ধরবে না, বা আমার পিছনের জন কত পিছনে আছে - এইসব নিয়ে মাথা ঘামাতে হয়। এর চেয়ে নিজের দরজা নিজে খোলাই ভালো (পিছনের জনের হাতে অনেক জিনিষ থাকলে অবশ্য অন্য কথা)।
অতিথি বলেছেন:
আমার মনে হয় এটার মূল আরেকটু ভিতরে। ধরুন .... (সিনেমায় যেমন দেখি + যেমন শুনি) ওদের বাচ্চারা ছোট থেকেই আলাদা শোয়। মায়ের ঘরে একটা কমুনিকেটর থাকে .... বাচ্চা কাঁদলে মা যায় (অথবা যায় না)। কাজেই ওরা ওভাবেই একাকিত্ব (!?) নিয়ে ও স্বাবলম্বি হয়ে বেড়ে ওঠে ... কিংবা বলা যায়, পেয়ে অভ্যস্থ না ... তাই কেউ সামান্য কিছু করলেই ধন্যবাদ দেয়। আমাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন .... একজন অপরকে আপ্যায়ন করবে এটা গ্র্যান্টেড হিসেবেই ধরে নেই (এবং করি)
ওরা কেন এমন তা ভিন্ন বিষয় .... আমাদের মত এ্যাত আরামে তো খাবার আর কোথাও মেলে না .... ওসব দেশে নিত্য চাহিদা মেটাতে লাল সুতা বের হয়ে যায় ...(আমরাও ঐ পথে যাচ্ছি -- ছোট পরিবার, বাবা-মা উভয়েই কর্মজীবি ইত্যাদি) তাই হয়ত রীতিনীতিগুলো অমন।
ভাল মন্দ দুটো দিকই দেখি ... ... আমাদের দেশে মায়ের আঁচলের তলে বড় হয়ে আমরা একটু নির্ভরশীল টাইপের হই; আত্মবিশ্বাস কম থাকে (এ অঞ্চলের ক্রিকেট খেলোয়াড়দের দেখুন!)। কিন্তু আবার আমরা অত্যন্ত সামাজিক/সাংসারিক। বন্ধনগুলোও বেশি অনুভব করি সেজন্য।
প্রসঙ্গান্তর ঘটে গেল ... দূঃখিত!
হযবরল বলেছেন:
আমার অভ্যেস হয়ে গিয়েছে। আর আশে পাশে সুন্দরী থাকলে , হাঁটার স্পিড নামিয়ে দিই, যাতে ওর জন্য দরজা খুলতে পারি।
রাগিব বলেছেন:
হয ..., বিয়ে তো করেননি। তাই দরজা খুলতে ভালো লাগে। (আমার এখানকার নাপিতের কাহিনী মনে পড়লো, পরে পোস্ট করবো)।
অতিথি বলেছেন:
আমি তো আমার আম্মুকে মাঝে মাঝে ধন্যবাদ/থ্যাক্কু দুইটাই দিয়ে থাকি। বড় ভাই কেও দিয়ে থাকি। এগুলো তো দুই নাম্বারী করে নেয়। আর প্রতি উত্তরে হয় তো ভাই বলে ইউ আর ওয়েলকাম।আপনাকেও ধন্যবাদ।
আর হ্যা, আপনি তো গতকাল একটা পোস্ট করেছিলেন, বাংলা চ্যাটিং নিয়ে। পোস্ট টি কোথায় গেল?

আপনাকে ধন্যবাদ। (সব গুলো ধন্যবাদ মন থেকেই দিলাম।)
অতিথি বলেছেন:
সংশোধন: দুই নাম্বারী করে নয়।
রাগিব বলেছেন:
সাকিব, আমাকে বলছিলেন চ্যাটিং এর পোস্টের কথা? কই, আমিতো লিখিনি কিছু।
অতিথি বলেছেন:
আরেকটা সুন্দর কথা আছে। হ্যাভ আ নাইস ডে। মনটাই ভাল হয়ে যায়।
অতিথি বলেছেন:
সরি... ভাই... রাজ ভাই বাংলা চ্যাটিং নিয়ে একটা লেখা লিখেছে। আমি ভুলে গিয়েছিলাম কে পোস্টটি করেছিলো। [link|http://www.somewhereinblog.net/sakib/post/28697990|
রাগিব বলেছেন:
সাকিব, ঠিকই আছে, আমার সেই চিরন্তন দুঃখ, সারা জীবন বাংলাদেশে "রাজিব", "রাকিব", "রকিব", ইত্যাদি শুনতে হয়েছে
অতিথি বলেছেন:
আমাদের সংস্কৃতিতে একজন আরেকজনকে সহযোগীতা করাটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।রাস্তায় যদি কোন দূর্ঘটনা ঘটে আমাদের দেশে হাজার লোক দাড়িয়ে যায় সাহায্য করার জন্য।অন্য কোন দেশে কি এরকম হয়?
মাহবুব সুমন বলেছেন:
এটা অনেকটাই যান্ত্রক ভাবে বলা হলেও দেশে গেলে যখন শুনি না তখন পার্থক্য টা কানে বাজে।আরেকটা কথা " প্লিজ " এটাও এখানে খুবি ব্যব হার করা হয় যা , দেশে ব্য ব হার করা হয় না বল্লেই চলে।
রাগিব বলেছেন:
@মেন্টালঃ আমাদের দেশে কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তামাসা দেখতে দূর্ঘটনার পাশে দাঁড়ায়। সাহায্য করার জন্য না। ছিনতাই হয়ে দেখুন, কয়জন লোক ছিনতাইকারীকে ধাওয়া দিবে?বিদেশেও যে মানুষ দাঁড়াতে আগ্রহী তা না। কিন্তু এখানে আইন করে এদের বাধ্য করা হয়।
@মাহবুব সুমনঃ ঠিক, প্লিজ কথাটাও একই রকম। বাংলাদেশে আমরা খুব আন্তরিক ভাবে বললেও এটা কমই বলি, আর এখানে প্লিজ না বলাটাকে খুব অভদ্রতা ধরা হয়। আমাদের আসলে বাকরীতি, ভাষা, সংস্কার, কোনোটার মধ্যেই এটা নাই। দেশের মানুষের আন্তরিকতার কোনো অভাব নাই, কিন্তু সেই সাথে মেকী ভদ্রতার থ্যাংকু/প্লিজ এগুলাও নাই।















