আমার প্রিয় পোস্ট

মায়ানগরের কড়চা

দৃষ্টিহীন ভালোবাসা

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৩:৪০

শেয়ার করুন:                   Facebook

আজ সন্ধ্যায় বাজারে যাচ্ছিলাম বাসে করে (বরফ থেকে আর গাড়ি বের করতে পারিনি, তাই)। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যামিলি হাউজিংএ থাকি বলে অনেক সুবিধা আছে, তার একটা হলো সন্ধ্যা বেলাতে ছোট আকারের ভ্যানে করে আশে পাশের বাজারে নিয়ে যায়। ফোন করে বললে বাসা থেকে নিয়ে আসে। এটা শুধু আমাদেরই না, নিকটবর্তী বাড়িঘরে যারা থাকে, তাদেরকেও নিয়ে থাকে।

সাধারণত মার্কিনীরা এই ছোট বাসে চড়ে না, কারণ তাদের নিজেদের প্রায় সবারই গাড়ি থাকে। কিন্তু আজকে বাসটা সরাসরি দোকানে না গিয়ে ঘুরে এক গলিতে ঢুকে এক বাড়ির সামনে থামলো। আমার কৌতুহল হলো, এখানে কে আবার বাস ডেকেছে?

বাইরে বরফ, পিছলা হয়ে আছে, তার মধ্যে দেখি আস্তে আস্তে এক মহিলা আসছেন। কাছে আসতেই দেখি গাইড ডগ (পথ প্রদর্শক কুকুর) নিয়ে এক মহিলা আসছেন। চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম দৃষ্টি শক্তি নেই তাঁর। এদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য এরকম প্রশিক্ষিত কুকুর পাওয়া যায়।

যাহোক, মহিলার আস্তে আস্তে বাসে উঠে আসলেন। পেছনে আরেকজনকে আসতে দেখে ভাবলাম বোধহয় পৌছে দিতে এসেছেন মহিলাকে। কিন্তু না, তাকিয়ে দেখলাম সাদা ছড়ি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এক বৃদ্ধ আসছেন। তিনিও জন্মান্ধ।

বাসে উঠে এই দুইজন দৃষ্টি শক্তিবিহীন মানুষ পরম মমতায় পাশাপাশি বসে হাতে হাত ধরলেন। মহিলা আর তাঁর স্বামী, দুজনেই সম্পূ্র্ণভাবে দৃষ্টি শক্তিহীন। কিন্তু তা থামিয়ে রাখেনি তাঁদের পথচলা। কারো করুণায় নয়, বরং নিজেদের যতটুকু শক্তি আছে, তা নিয়েই স্বাবলম্বী হয়ে পথ চলছেন। বাসে করে যাচ্ছেন শুধু গাড়ি নিজেরা চালাতে পারবেন না বলে।

মাঝে মাঝেই তাঁরা একে অন্যের দিকে ফিরছিলেন। দেখতে পান না, কিন্তু তার পরেও ফিরে দেখা একে অন্যের দিকে, হয়তো বা মনের চোখে দেখা ...

কিছু পথ চলে এই দম্পতি তাঁদের বাড়ির সামনে এসে গেলেন। তার পর হাত ধরাধরি করে আস্তে আস্তে সেই পিছল বরফের উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে চলে গেলেন বাড়ির ভিতরে। পথ চলার সঙ্গী কেবল সেই কুকুরটা।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরিআমার দিনকাল  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

 

  • ১৮ টি মন্তব্য
  • ৪৯৩ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:৪২
comment by: অতিথি বলেছেন: পড়তে পড়তেই দেখতে পেলাম সে ভালোবাসা। সুন্দর!
২. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:৪৪
comment by: অতিথি বলেছেন: পড়লাম, ভালো লাগলো।
৩. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:৪৬
comment by: রাগিব বলেছেন: ধন্যবাদ, আপনাদের দুজনকেই।
৪. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:৫১
comment by: আশরাফ রহমান বলেছেন: রাগিব হাসান, ছোট্ট একটি বিষয়কে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন, মনে হচ্ছে যেন ঘটনাটা আমার সামনেই ঘটলো। ওদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেলেও প্রেমের শক্তি হারিয়ে যায় নি বলেই ওরা সুখী মানুষ।
৫. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:৩৪
comment by: অতিথি বলেছেন: ভালবাসার কোন বর্ণ নেই যেমন, তেমনি নেই কোন গন্ধ, অনুভূতি দিয়ে এর স্বাদ নিতে হয়।
সত্যিই সে এক বিশাল অনুভূতি !!!!!!!
৬. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:৩৮
comment by: নূর-ই-হাফসা বলেছেন: অসাধারন ভালবাসা।দৃষ্টিহীন চোখ তাদের হার মানাতে পারেনি।
৭. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:০৬
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: সত্যিকারের ভালোবাসা, অন্তর ছুঁয়ে গেলো।
৮. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:১৮
comment by: অতিথি বলেছেন: অন্তরের আলোতে দেখেছিলেম তারে...
৯. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৩
comment by: রাগিব বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে। আসলেই, প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যেই এই ছোট্ট ঘটনাটার জন্যই মনটা ভালো হয়ে গেছিলো।
১০. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৫
comment by: অতিথি বলেছেন: এখানে ডিসএবলডদের জন্য যে পরিমান ভালোবাসা, সহায়তা আর মমতা দেখেছি সেটা দেখে অভিভুত হয়ে গেছি। এমনিতেই খোদা তাদের কিছু কম দিয়েছেন, তারপর আমাদের মানুষের অবহেলা তাদের বাঁচার ইচ্ছেটাই মেরে ফ্যালে অনেক সময়।

ঘটনাটা দারুন, হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
১১. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:৪৪
comment by: রাগিব বলেছেন: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক প্রতিবন্ধী পড়ে। আমি প্রতিদিন বাসে করে ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় একজনকে দেখি, কুকুরের দড়ি ধরে আর সাদা ছড়ি নিয়ে কষ্ট করে হলেও বাসে করে যাচ্ছে। উনি পিএইচডি করছেন আইন বিষয়ে।
১২. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৫৯
comment by: বিবর্তনবাদী বলেছেন: জ্বীনের বাদশাকে ধন্যবাদ। নিজের সেরা পোস্ট নির্বাচন করবার পোস্ট না দিলে, একবছর আগেকার এই সুন্দর পোস্টটি খুজে পেতাম না।

খুব ভাল লাগল।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:০৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। এটা কিন্তু বাস্তব ঘটনা ... গত বছর এই সময়ের কথা।

১৩. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:০৪
comment by: রাশেদ বলেছেন: ভালো লাগছে।
১৪. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৪৩
comment by: সামী মিয়াদাদ বলেছেন: ভাল লাগলো লেখাটি রাগিব ভাই....ভালবাসা সত্যিই সুন্দর
১৫. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৫৫
comment by: মন মণষা বলেছেন: আমি থাকি মিরপুরে। মিরপুর ১নং গোল চক্করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিদের জন্য একটা প্রতিষ্ঠান আছে। সেখানে মাঝে মাঝে অন্ধ যুগল দেখা যায়। অন্ধত্ব তাদের রুখে দেয়নি বরং দৃঢ প্রত্যয়ে সামনে চলার শক্তি যুগিয়েছে। এদের মধ্যে একটি পরিবারও দেখেছি যাদের মেয়ে ও ছেলে সন্তান রয়েছে, স্বাভাবিক দৃষ্টি স্বপন্ন।

বিধাতা সকলকেই পৃথিবীতে টিকেয়ে রাখেন তাদের জীবনি শক্তি দিয়ে।
১৬. ১৭ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৪৭
comment by: আহমেদ রাকিব বলেছেন: বিবর্তনবাদী বলেছেন: জ্বীনের বাদশাকে ধন্যবাদ। নিজের সেরা পোস্ট নির্বাচন করবার পোস্ট না দিলে, একবছর আগেকার এই সুন্দর পোস্টটি খুজে পেতাম না।

খুব ভাল লাগল।
১৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ৩:২৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

 

 


আমি রাগিব হাসান। ভুট্টা ক্ষেতের মাঝে বসে আমি গণক মশাইকে পাহারা দিতাম। আর পাহারা দেয়ার তরিকা নিয়ে গবেষণা করতাম।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ