\ ভাষার ধর্ম | ধর্মের ভাষা /
২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:১৪
৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কথা, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের কয়েকজনে গিয়েছিলেন খেতে কলকাতার এক রেস্তোঁরাতে। পেটপুরে ভাত খাবার পরে বেয়ারাকে “পানি” দিতে বলাতে রেস্তোঁরার গোঁড়া মালিক সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে জেরা করেছিলেন, “আপনারা কি মোহামেডান”?
জবাবে রসিক এক খেলোয়াড় বলেছিলেন, “কী যে বলেন দাদা, মোহামেডান হতে যাবো কেনো!! আমরা সবাই ভিক্টোরিয়ান”*।
এক বাঙালি জাতি, সেই চর্যাপদের আমল থেকে বাংলা বলতে বলতে কখন যেনো নিজের অজান্তেই ভাষাকে ভাগ করে ফেলেছে ধর্মীয় লেবাসে।
--
জল নাকি পানি, এই বিতর্ক এই ভেদাভেদ এখন প্রকট হয়ে গেছে পূর্ব আর পশ্চিমবঙ্গে, আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে মুসলিম প্রধান এবং হিন্দু প্রধান এলাকাতে। এক সময় অর্কুট নামের ব্যর্থ সোশাল নেটওয়ার্কের এক কমিউনিটির সদস্য ছিলাম, যার মূল প্রতিপাদ্য ছিলো (কাগজে কলমে), দুই বাংলার মিলন সাগর। কিন্তু ঘটিদের বাগে পেলে বাঙালেরা যেমন সাইজ করে, সেই কমিউনিটিতে হাতে গোনা দুই বাংলাদেশীর একজন হওয়াতে আমি হাড়ে হাড়ে টের পেলাম, উল্টোটাও সত্য। বাংলাদেশ = মুসলিম = সন্ত্রাসী এই ফরমুলাতে ধাতানী দেয়ার এক পর্যায়ে মস্তান দাদা যে থিওরি দিলেন, তা এরকম – বাংলাদেশের বাংলা আর বিশুদ্ধ বাংলা নেই, তা এখন উর্দুঘেষা বাংলাতে পরিণত হয়ে গেছে, যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই “জল” এর বদলে “পানি” বলে, যা নাকি খাস উর্দু থেকে চাপানো হয়েছে।
ঘটি পশ্চিমবঙ্গবাসীদের এই তত্ত্ব আগেও শুনেছি ... কেবল আমিই শুনেছি তা না, আমাদের বাঙাল গর্ব সুনীল গাঙ্গুলীকেও শুনতে হয়েছে বহুকাল। হাজার হলেও সুনীল ফরিদপুরের খাস বাঙাল, ৪৭ এর দেশ বিভাগের পরে যখন তাঁর স্থায়ী নিবাস কলকাতায়, তখন তাঁকেও “পানি” নিয়ে উপহাসের স্বীকার হতে হয়েছে। আত্মজীবনী “অর্ধেক জীবন” বইটাতে সুনীল “পানি” শব্দের এই “ধর্মীয় লেবাস” সম্পর্কে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন, কেননা পানি শব্দটি আদতে সংস্কৃত মূল “পান্য” থেকে এসেছে বাংলাতে, তার পাশাপাশি হিন্দুস্থানীতে (ও তার অধুনা সন্তান হিন্দি ও উর্দুতে)। এক মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে আসা জল হয়ে গেলো “খাঁটি বাংলা”, আর “পানি” হয়ে পড়লো “মুসলমানী (বিকৃত) বাংলা”, পশ্চিমবঙ্গে (এবং হয়তো পূর্ববঙ্গেও) প্রচলিত এই ধর্ম-শব্দ-ধারনার কারণ কী, সুনীল প্রশ্ন করেছেন সেখানে।
---
সুনীলের প্রশ্নটা আমাকেও ভাবায়, বাংলাতে আরবী শব্দ যে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ নির্বিশেষে সবাই ব্যবহার করেন না, তা নয়। “কাগজ”, “কলম”, এরকম আরবী শব্দ ব্যবহারে তো কারোরই কোনো আপত্তি নেই। নেই আপত্তি “আইন” শব্দটিতে, কিন্তু সংস্কৃত পানি শব্দটি কীভাবে হয়ে গেলো “মুসলমান”, আর জল হয়ে গেলো “হিন্দু”?
পারিবারিক সম্পর্কের শব্দগুলো চুড়ান্ত রকমের ধর্ম-ভিত্তিক, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সম্ভবত কেউই “আম্মা” বা “আব্বা” বলেননা, যেমন মুসলমানেরা বলেননা “পিসি”। পশ্চিমবঙ্গে সম্ভবত “ভাইয়া” শব্দটি সর্বত্র মুসলমান শব্দ বলেই বিবেচিত হয়, (গল্পে নাটকে মুসলমান চরিত্রগুলোর মুখেই আসে দেখি)। অথচ আরেকটু পশ্চিমে গেলেই হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সবাই ভাইয়া বলে চলে। ভাই শব্দটি কোথা থেকে এসেছে, অ-ভাষাবিদ আমার পক্ষে জোরসে বলা অত সহজ নয়, কিন্তু প্রায় নিশ্চিত যে সংস্কৃত “ভ্রাতঃ” শব্দ থেকেই এটা এসেছে, ইন্দো-ইয়ুরোপীয় সংযোগের সুবাদে যার ইংরেজি রূপ “ব্রাদার”। তাহলে ভাইয়া কেনো মুসলমান আর দাদা হলো হিন্দু?
বাংলার এই ধর্মীয় শব্দভেদ তাহলে এলো কীভাবে? বাংলার পশ্চিমের এলাকাগুলো সব সময়ে যে মুসলিম শাসকদের অধীনে ছিলো, তাও নয়, বরং বাংলার চাইতে ভারতের সেই সব এলাকায় মোগল পাঠান শাসকদের শাসন চলেছে অনেক বেশি। খোদ বাংলাদেশ তথা পূর্ববঙ্গেও সর্বত্র মুসলিম শাসন ছড়িয়ে যায় নি, তার পরেও কেনো পূর্ববঙ্গের ভাষায় তথাকথিত “মুসলিম” বাংলার আধিক্য, যেখানে পশ্চিমবঙ্গে তথাকথিত “শুদ্ধ” শব্দের ব্যাপকতা বেশি?
--
কলকাতার সেই হোটেল মালিক জল আর পানিতে ধর্ম চিনতে চেষ্টা করেছিলেন। দাদা আর ভাই, জল আর পানি, -- কেমন করে যেন বাংলা শব্দগুলো চাপা পড়েছে ধর্মের লেবাসে, তাই গোসল আর স্নানে, নিমন্ত্রণ আর দাওয়াতে আমরা চিনে নেবার চেষ্টা করি মানুষের ধর্মীয় পরিচয়, এক লহমায় ফেলে দেই স্টেরিওটাইপে। সেই স্টেরিওটাইপ আমাদের মন মানসে নিয়ে আসে মরিচ, কিংবা স্থানভেদে লংকার ঝাল, কিংবা লবন অথবা নুনের মতো স্বাদ।
-----------------------------
[পাদটীকা ১] ভাষার উপরে উপরের লেখাটিতে বিস্তর “সম্ভবত” ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ অনেকটাই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। কুপমন্ডুক হিসাবে আমার দৃষ্টিসীমা একটু সীমাবদ্ধ, কাজেই অনেক শব্দের ব্যবহার সম্পর্কে ধারণাটিও সেরকম। দয়া করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখবেন।
[পাদটীকা ২] সেই সময়ে ঢাকার দুই বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব ছিলো মোহামেডান আর ভিক্টোরিয়া
[পাদটীকা ৩] বাংলা উইকিতে এই সংক্রান্ত ঝামেলা বাঁধার আগেই আমরা ভাবছি, ব্রিটিশ-আর-আমেরিকান বানানের/শব্দের মতো রীতিটা হয়তো বেছে নিবো। অর্থাৎ কেউ একটা বানান/শব্দ বেছে নিয়ে নিবন্ধ শুরু করলে সেটা "ঠিক" করার চেষ্টা হবে না, আর এলাকা ভিত্তিক বিষয়বুঝে শব্দ/বানান ব্যবহার করা হবে। দেখা যাক, এই ব্যাপারে শেষমেশ কী ঠিক করা চলে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভাষা, ধর্ম ;
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:১৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
পারভেজ রবিন বলেছেন:
ভাষার এই ধর্মীয় বিভাজন উপমহদেশের মধ্যে সম্ভবত শুধু বাংলাতেই প্রকট। হিন্দিতে কিন্তু 'ভাই' ও 'পানি' বলে।
কৌশিক বলেছেন:
উইকির বাংলা হিস্টরি চাপ্টারটা এগুচ্ছে না...নিদেনপক্ষে ইংরেজীর মত থাকলেও হইতো...এখন উইকির বাংলা ভলান্টিয়ারদের কাজের স্পিড কেমন?
লেখক বলেছেন: স্পিড হলো সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং এর মতো। কখনো নিজের উৎসাহ ও সময় পেলে বাড়ে, আবার কখনো নাই হয়ে যায়। অনুবাদ করার লোক হাতে গোনা, আর সবাই সাধারণত নিজেদের পছন্দের জিনিষেই কাজ করে। ইদানিং ভারতের নিবন্ধ দ্রুত আগাচ্ছে, কারণ কলকাতার কয়েকজনে যোগ দিয়ে বিপুল উৎসাহে কাজ করছেন। বাংলাদেশ থেকে নতুন কোনো ইউজার ইদানিং আর পাইনি।
পারভেজ বলেছেন:
এই সমস্যাটা পশ্চিম বঙ্গের। ভারতের অন্য কোথাও 'পানি' বা 'ভাইয়া' না বল্লেই বরং লোকে বেশী অবাক হয়!
লেখক বলেছেন: ঠিক পশ্চিমবঙ্গ নয়। বাংলাদেশের ভেতরেও আমাদের ধারণা হয়ে গেছে, জল হিন্দুদের বলা শব্দ, পানি মুসলমানদের।
আছহাবুল ইয়ামিন বলেছেন:
আরেকটি শব্দ যেটি অনেকে হিন্দু-মুসলিম ট্যাগ দেয়ার চেষ্টা করে, সেটি হচ্ছে মাংস বা গোস্ত। বিশেষ করে কোরবানীর সময়। কোরবানীর মাংস কে গোস্ত (অনেকে গোস্ উচ্চারণ করেন) বলতে হবে, মাংস বলা যাবে না। মাংস বলায় চোখ বড় বড় করে আমার নানী এই তত্ত্ব শুনিয়েছিলেন একবার।
আরেকটা ব্যাপার মনে পড়লো ... লাল পিঁপড়াকে হিন্দু পিঁপড়া, কালো পিঁপড়াকে মুসলিম পিঁপড়া এসবও পোলাপান বলতো ... আল্লাহই জানে কই থেকে এই আবিস্কার (মনে হয় কামড় দেয়া না দেয়া থেকে)
লেখক বলেছেন: পিপড়ার ব্যাপারটা আমিও শুনেছি অনেকের মুখে। এটা কীভাবে দেশজুড়ে ছড়ানো হলো, কে জানে।
রাতুল" বলেছেন:
আপনার আক্খেপ আমারও। আপনি বিশেষজ্ঞ না হলেও যা বলেছেন তাতে অনেক কিছুই নতুন করে ভাবায়।
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
মাংস কিন্তু আমরা সবসময়ই বলি, গোশত কয়জনে বলে?
রেজওয়ান শুভ বলেছেন:
++ , প্রিয়তে রাখলাম স্যার ...
রাজর্ষী বলেছেন:
ভালো লাগলো পড়ে। আপনার অনুভুতি শেয়ার করি।
কসওয়ে বলেছেন:
রাগিব ভাই,ও্য়ার্কার্স পার্টি নাকি ভেংগে গেছে? আপনি কি মেনন-বাদশা গ্রুপে না হা্য়দার আকবর খান রনোর গ্রুপে?
লেখক বলেছেন: হুহ?
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
ধর্ম আমার কাছে একটা পচা মাল, তারে ফালায়া দিছি। দেখবেন লুঙ্গি, পিয়াজ, আলু, -----------এসব নিয়া কোনও প্রবলেম নাই, কিন্তু এসব যে কবের বাংলা শব্দ। পানি কইলেই একটা সাব স্টান্ডার্ড নজর আপনার উপর বর্ষিত হয়। আমি যদিও জল বলতে অভ্যস্ত কারন জল শুনেছি আর লেখাতেও জল শব্দের ব্যবহারই বেশি। নদীর জল বললে ভালই শুনতে কিন্তু আমিই বলি, ধরুন একটা তরকারি ভাল লাগছে না, পানসে মনে হচ্ছে, সেটা কিন্তু হবে, এক্কেবারে পানি, কী রানসো?
এখন আবার দেখেছি, এটা নিয়া ঠিক ঠিক কিছু ধর্মীয় ফোতোয়া ধারীরা কারবার করে। আমি যেখানে থাকি সেখানে জল শব্দটাই চলে কিন্তু একটা/দুইটা লোক, মনে করে পানি বলবে নইলে তারা ভাবে তাদের জাত গেল। ঠিক যেমন একটা/দুইটা কিছুতেই পানি বলবে না, বল্লে বলবে " শেকেদের মত কথা"।
ছাগল গুলি এটা জানেনা আরব দুনিয়ার 'শেখ' কথাটার কী মানে,।
তেমন শেখ পয়সা ছড়াইলে ঠিক লেজ নাড়ায়া খাড়া হইব এই ব্যাটারাই।
আর একটা মজার জিনিস দেখবেন------------'আরে তোমাকে দেখে ত বুঝতেই পারিনি তুমি বাঙালি'---------------মুসলিম হলেকী ও বাঙালি নয়।
এখন যে পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যজায়গাতেও( বাংলাদেশেও বোধহ্য় এর প্রভাব পড়ছে) অকারনে কথায় কথায় হিন্দি শব্দ প্রয়োগ হয় উৎকট ভাবে তার বেলা কোনও কথা নেই। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া ছেলে/মেয়ের এবং তারা দেখবেন বলে " ওর না ঠিক বাংলাটা আসেনা/আমি বাংলা জানি কিন্তু কান্ট রাইট ইট আরামসে"
এই সব নিয়া কিন্তু কোনও কথা হয় না।
এখন কিন্তু আমি ঘটি বাংগালের করচাটা রিভার্সে খেলি।
আমি বহুবছর ধরেই কলকাতায় গেলে একদম খাটি বাঙালের, মানে যেমনটা আমি বলি সেরকম বলি, উল্টে মাঝে মাঝে ভরকি দিতে কঠিন সিলেটি চালাই।
আমার কোনও বিদ্বেস নাই আবার নাক কোচকানও বিষয়টা সোজা করেও দিতে হয়।
ভাষা ত একে অপরের থেকে নিয়েই সমৃদ্ধ হয়, তাই বলে, মি তো গোয়িং ফর সপিং .....লাইক ভিন্ডি,সব্জি, বগরা বগরা ...................মুখে একদম ধানি লংকা ঘসে দিতে হবে।
আর বাঙালডের স্মার্ট হয়ে ওঠা, ছোটদের বাড়িতে ঘটিদের মত বলানো...চল মাম্মা এক চক্কর ঘুরান্টি দিয়ে আসি...আমার বমি বমি করে।
লেখক বলেছেন: ![]()
কঁাকন বলেছেন:
আসলেই
কঁাকন বলেছেন:
সুধু ভাষা না আমার মনেহয় বাঙালী সবজায়গায়ই ভাগাভাগি পছন্দ করনাইলে বলেন জয় বাংলা, তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা তো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সল্োগান, সবার স্লোগান
অথচ এইটা এখন আওমি স্লোগান
মানচুমাহারা বলেছেন:
ধর্মতো দেখি সব জায়গাতে ঝামেলা করছে।
গল্পেরা শেষ পর্যন্ত ফুরিয়েই যায় বলেছেন:
"ভাষার ধর্ম" আসলে "ধর্মের রাজনীতি" এর সাইড ইফেক্ট।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
এই নির্মাণটার পেছনে দায়ী বাঙালি বুদ্ধিজীবিরা। সেই যে মোহডোনের ধারক-বাহক যারা। আর ছিলেন সংস্কৃত মনা পন্ডিতরা-দুইয়ে মিলে এমন সব শব্দ বংলা ভাষায় ঢুকিয়েছেন যার পরিচয় ধর্মের ভিত্তিতে। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জাতীয়তাবাদ সংক্রান্ত বইটি পড়লে এমন অনেক কিছুই জানা যায়। কতো ভাষাইতো হারয়ে গেছে-এদের দাপটে। দেশ ও ভাঙলো।
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
আমাকে একবার এক কৃষিবিষয়ক সম্পাদক বললেন, আমার পত্রিকায় জল লেখা যাবে না। আমার লেখায় 'পানীয় জল' শব্দটি ছিল। আমি বললাম-পানীয় জলের বদলে 'পানীয় পানি' লিখব কি না। সম্পাদক কী বলবেন ভেবে পেলেন না।
লেখক বলেছেন: হা হা ...
চাণক্য বলেছেন:
এইসবই মৌলবাদীতের ষড়যন্ত্র।
আমি-ই গণিতের শূন্য বলেছেন:
সহমত
নুভান বলেছেন:
অনেকদিন আগে বিবিসি বাংলা বেতারে শুনেছিলাম পশ্চিমবঙ্গের এক শ্রোতা বলেছিলেন 'ভাগীরথী নদী ও তার আশপাশের যে সভ্য(!) সমাজ বিরাজমান তার ভাষা বাংলা, তবে বাংলাদেশের বাংলাকে বিশুদ্ধ বাংলা বলা যায়না, তাকে বাংলার এক অধঃপতিত রূপ বলা যায়।' স্বভাবতই খবর পাঠক-পাঠিকা খুব জোর গলায় হাসলেন ও উত্তরে বললেন, 'কোন বাংলাদেশী যদি দাবী করে বুড়িগঙ্গা ও তার আশপাশের সভ্য সমাজের ভাষা বাংলা, আর পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষা বাংলার এক অধঃপতিত রূপ, তবে কি তার কোন উত্তর আছে?' একথাটি আমার প্রায়ই মনে হয়। ভালো লাগলো ভাইয়া আপনার পোষ্টটি।
মিছে মন্ডল বলেছেন:
অবস্থা যা দাঁড়াচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে জল আর পানিতে মিশ খাবে না...ধন্যবাদ আপনাকে এমন একটি বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপনের জন্য।
---------------------------------------------------------------------------------
অফটপিকঃ আজ আমার ব্লগের ভিজিট লিস্টে আপনার নাম দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত।
মন মণষা বলেছেন:
আমাদের (বাংলাদেশসের) জেনারেশন নেক্সট এর কিছু চলতি ভাষাঃ“আরে ইয়ার, কালকে টিএসসি তে চলে আয়” (এই না হলে স্যাটেলাইটে হিন্দি চ্যানেল)
“’সালাম, দোস্ত’...’অয়ালাম’” (আসালামু ওয়া আলাইকুম ও অয়ালাইকুম অয়া সালাম এর সংক্ষিপ্ত)
“কেমন যাচ্ছে?...আরে বিন্দাস” (শব্দটা খুব সম্ভবত হিন্দি থেকে আসা)
“আরে কালকে কন্সার্টে যা ধামাকা হল না...” (!!!হিন্দি/উর্ধূ???)
তালকানা বলেছেন:
আপনি খুব গুছিয়ে লিখতে পারেন।প্রিয়তে রাখলাম
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
সিউল রায়হান বলেছেন:
ভাইয়া সুন্দর লিখেছেন.....ফেভারিট করলামআমাদের দেশে যারা ভাষার মাঝে ধর্ম খুঁজে পায় তাদের কিছু বলার নাই.......... কপাল ভাল এরা আম্মা না বলে মা বললে জাত গেল, জাত গেল বলে উঠে ন......
ভাষাকে ধর্মের সাথে মিলিয়ে ফেলা শুধুমাত্র মৌলবাদীদের পক্ষেই সম্ভব
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
সমস্যাটা দুই বাংলাতেই আছে। শব্দ দিয়ে স্টেরিওটাইপ করা ... জল পানি দিয়ে নাড়ি নক্ষত্র চেনা ...
হিমালয়৭৭৭ বলেছেন:
ভাষাভিত্তিক বিভাজন বা শ্রেণীকরণ অনেক পুরনো, উচ্চারণগত ভিন্নতা যেমন আছে, তেমনি "ভাষার মেরুকরণ' তো আছেই।জল নাকি পানি, মাংস নাকি গোশত...এটা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
এই বিভাজন নিয়ে একটা খুবই পরিচিত কৌতুক আছে এরকম, এক কলকাতার বাবু অন্য আরেক বাঙালি কে বলছে "আজ্ঞে দাদা, আপনারা চাউলকে চাল, ডাউলকে ডাল বলেন। তাহলে বাউলকে 'বাল' বলেন নাকি?"..............এই বিভাজনের নেপথ্যে জাত্যাভিমান ইস্যুতো অবশ্যই আছে, এর সঙ্গে ধর্মীয়করণের ব্যাপারটি জুড়ে দিয়ে বিভাজনের সঙ্গে বিদ্বেষ সৃষ্টির প্রয়াসও লক্ষণীয়।...........আমার ভাষা নিয়ে অল্প বিস্তর পড়াশোনা আছে, এই বন্ধে আরও বিস্তৃত পড়ার পরিকল্পনা আছে।
আপনার লেখাটি ভালো লাগল, স্বল্প পরিসরে হলেও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্ট এখানে উঠে এসেছে।
Click This Link
এটা "বইসংগ্রহ " সংক্রান্ত একটা পোস্ট। পড়ুয়া মানুষদের বইসংগ্রহের ইতিহাস জানতে খুব ইচ্ছে হয়। তাই আপনাকে লিংক দিলাম। আশা করি পড়ে, আপনার ইতিহাসটা শেয়ার করবেন।।
কিরণময়ী বলেছেন:
জল বললেই কি সমস্যা ? আমরা এখানে জল বললেই নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বুঝি , এই ধারণা বদলানোর প্রয়োজন।কিন্তু এতোদিনের চেতনা , কুসংস্কারাচ্ছন জাতির মাথা থেকে সহজে কি যাবে ? দাদা বললেই কি ? এখনো সম্ভ্রান্ত অনেক ইস্লামিক পরিবারে বড় ভাইকে ছোটরা দাদা বলে।দাদা ভাই বলে। মাংস=মায়ের অংশ,তাই এটা এক আল্লাহতে বিশ্বাসীরা না বলাই উচিত,আবার যেমন বিশ্বব্রম্মান্ড ,ব্রম্মের ব্যাপার আসে যেটা এক আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসীরা জেনে শুনে বলতে পারেনা।
বিশ্বাস মানুষের অনেক অভ্যাস বদলে দেয়।বিশ্বাস এমনি শক্ত জিনিশ। হাই ,বায় ,হেল্লো ছেড়ে হটাত করে আসসালামুয়ালাইকুম , আল্লাহ হাফেয ,ইনশাল্লাহ ...শুরু করাতে পারে একমাত্র বিশ্বাসের পরিবর্তন।নিজের চোখেইতো দেখছি।
আমার ব্যক্তিগত অভিমত ,কলকাতার বাংলার চে আমাদের বাংলা অনে......ক বেশী সুন্দর। ড্রামা সিরিয়াল গুলো দেখেইতো বুঝি।
আমাদের পানি ই ভাল।আবার জল ও ভাল। ভাইয়া আরো ভাল।দাদা ও ভাল। কত্তার চেয়ে কর্তা ই ভাল। কিন্তু আমরা নাকি স্বরে এগুলো বলিনা। ছ কে চ বলিনা।
আপনার লেখা ভাল লাগলো।হানিফ সঙ্কেতের কৌতুক মনে পড়েছে।
:ভাই আপনি কি মোহামেডান?
:কে কইসে ??আমি ওয়ান্ডার্স!
ধন্যবাদ।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
লেখাটা চিন্তাউদ্দেপক। ভাল লেগেছে।
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
কাক শালিখের কথায় হাসি দিলেন কেন?বাংলাদেশে প্রভাব পড়েছে মানে কি?
বাংলাদেশের কোন পোলাপানকি বাংলায় হিন্দী শব্দ ঢুকায়? জীবনে শুনছেন?
লেখক বলেছেন: হাসি কেনো দিয়েছিলাম, এখন আর মনে নাই। তাই ঐ প্রশ্নের জবাব এখন আর দিতে পারছি না।
তবে, পরের প্রশ্নের জবাবে বলতে পারি, হ্যাঁ, বাংলাদেশী পোলাপাইনকে হিন্দি শব্দ বলতে শুনেছি। আগে হয়তো হতো না, কিন্তু ইদানিং কালে হিন্দি সিরিয়াল ও বিভিন্ন গেইম শো'র প্রভাবে দেখি, অনেকেই "বিন্দাস", "কাশ" এই টাইপের হিন্দি শব্দ কথাবার্তায় ঢুকাচ্ছে। ঠিক যেমন পোলাপাইন কথার মধ্যে ইংরেজি শব্দ অকারণে ঢুকিয়ে "ইস্মার্ট" সাজতো, এখন হিন্দি ঢুকিয়ে "খুল" সাজে। দুঃখজনক হলেও এটাই ঘটছে।
অচেনা সৈকত বলেছেন:
রন্টি চৌধুরী@ আপনি কি অনেকদিন হল দেশের বাইরে? কেন যেন মনে হচ্ছে।রাগিব ভাই@ কোন এক বিচিত্র কারণে পুরো বাংলা এলাকায় (বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ) সাম্প্রদায়িকতার প্রকোপটা বড় বেশী। এটার কারণ কি সেটা সমাজতাত্বিকরা ভাল বলতে পারবেন। শব্দকে ট্যাগিং করে পাপ-পূন্যের বিচার!!! সত্যিই সেলুকাস!!! আসসালামু আলায়কুম-কে বিকৃত করে 'স্লামালেকুম' বলাটা আবার কিন্তু স্মার্টনেস যদিও সেটার আদতে কোন অর্থই হয় না।
লেখক বলেছেন: না, সাম্প্রদায়িকতা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যত্র আরো অনেক বেশি। গত ২০০ বছরে অন্যত্র যেরকম ভয়াবহ দাঙ্গা হয়েছে, পুরো বাংলায় তার চেয়ে অনেক কমই হয়েছে। ১৯৪৭ এর দেশ ভাগের সময়ে পুরো পাঞ্জাবে রঙের বন্যা বয়ে গেছিলো, সেই তুলনায় বাংলায় সহিংসতা অনেক কম হয়েছে। এখনো ধর্মীয় গোড়ামী ও সাম্প্রদায়িকতা ভারতের বা পাকিস্তানের অন্যত্র অনেক অনেক বেশি।
অচেনা সৈকত বলেছেন:
বাই দি ওয়ে, আমার হিন্দু বান্ধবী দেখি আমার সাথে কথা বলবার সময় খোদা হাফেজ, ইনশাল্লাহ, দোয়া এসব টার্ম ব্যবহার করে। পারিপার্শ্বিকতাও তাহলে কথ্য ভাষায় ভালই অবদান রাখে।
কানুপা বলেছেন:
রন্টি কই থাকে?
জইন বলেছেন:
ধন্যবাদ
নরাধম বলেছেন:
আমি ফেসবুকে আমার নামের আগে "শ্রীযুক্ত" লাগিয়েছি। যাস্ট ফান করেই। এরপরে অন্তত ১০ জনের কাছ থেকে আমি হিন্দু হয়ে গেছি কিনা, গুনাহ হবে যে, এসব শুনতে হয়েছে!!
লেখক বলেছেন: ![]()
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















