somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাইবারক্রাইম -- ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড স্কিমিং কী এবং কীভাবে রক্ষা পাবেন?

১২ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ৩:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নিয়ে ঘুরছেন? এটিএম থেকে আরামে টাকা তুলছেন? কিংবা দোকানে খেয়ে দেয়ে বা জিনিষ কিনে কার্ডে দাম দিচ্ছেন? সাবধান!!! অভিনব কায়দায় আপনার কার্ড এবং টাকা পয়সা লোপাট করতে মাঠে নেমেছে সাইবারক্রিমিনালেরা!! এবং বাংলাদেশেও তারা হাজির। সাবধান!!

বাংলাদেশে সাইবারক্রাইম খুব জোরেসোরে শুরু হবে, বছর দুয়েক আগে ভবিষ্যতবাণী করেছিলাম। এটাও বলেছিলাম যে, সরকারী নানা সংস্থা এসব সাইবারক্রাইমের ব্যাপারে একেবারেই প্রস্তুত না। এমনকি সরকারী পর্যায়ে ওয়েবসাইট ডিফেস করা ছিঁচকে লোকজনকে ধন্য ধন্য করা হয়, আর অন্য দিকে ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়।

আমার আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করে সম্প্রতি দেশে ডেবিট কার্ড স্কিমিং জালিয়াতির বড় বেশ কিছু ঘটনা শুরু হয়েছে। এবং এক বিদেশী বাটপার ধরা পড়লেও শান্তিতে থাকার কিছু নাই। এভাবে সহজে পয়সা কামানো যায় সেই ব্যাপারটা আরো অনেক চোট্টাবাটপারের নজরে এসে গেছে, কাজেই এই ঘটনা ঘটবেই।

তো, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড স্কিমিং কাকে বলে? আসুন দেখা যাক।

ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের পিছনে একটা ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ থাকে কালো বা খয়েরি রঙের। সেখানে কার্ডের নম্বর থেকে শুরু করে অন্যান্য তথ্য ভরা থাকে। আপনি যখন এটিএম এ কার্ড ঢোকান কিংবা দোকানে সোয়াইপ করেন, তখন কার্ড রিডার সেই স্ট্রিপ থেকে কার্ডের তথ্য পায়। এই তথ্যটুকু যদি কারো হাতে চলে যায়, সে কিন্তু চাইলেই আপনার কার্ডের একটা ক্লোন বা কপি বানিয়ে ফেলতে পারবে, তার পর সেটা দিয়ে আপনার ব্যাংক একাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ডে চার্জ করতে পারবে। অপরাধীরা এই সুযোগটাই নেয়। এটিএম এর কার্ড ঢোকানোর জায়গাটায় তারা অতিরিক্ত একটা যন্ত্রাংশ লাগিয়ে দেয়। সেটার কাজ হলো কার্ড ঢোকার সময়ে মেশিনে ঢোকার আগে আগে কার্ডের ম্যাগনেটিক স্ট্রিপটা পড়ে নেয়া, আর সেই তথ্য অপরাধীর কাছে পাঠানো। এই যন্ত্রটাকে বলা হয় স্কিমার (skimmer)। আবার অনেক সময়ে পোর্টেবল স্কিমার পাওয়া যায়। রেস্টুরেন্টে খেয়ে ওয়েটারের হাতে কার্ড দিলে আড়ালে গিয়ে এক সেকেণ্ডের মধ্যেই কিন্তু আপনার কার্ড স্কিমার দিয়ে কপি করে নিতে পারে। এর পর কার্ডের তথ্যগুলাকে ব্ল্যাংক একটা কার্ডে ঢোকানো হয়, ফলে সেটা কার্যত আপনার কার্ডের কপি হয়ে যায়।

ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে পিন সংখ্যাটি পেতে হলে আরেক ধাপ বেশি করতে হয়, অনেক সময়ে এটিএম এর কীবোর্ডের উপরে আলগা নকল কীবোর্ড লাগানো হয়। অথবা কীবোর্ডের জায়গাটা দেখা যায় এভাবে একটা গোপন ক্যামেরা বসিয়ে যায় অপরাধীরা। সেভাবেই আপনার পিন সংখ্যাটি পড়ে ফেলতে পারে।

স্কিমিং এর বাটপারিটা পশ্চিমা দুনিয়াতে বহুদিন ধরেই হয়ে আসছে। আপনি একটু সাবধান থাকলে এটা এড়াতে পারেন। যেমন --

- এটিএম বুথে কার্ড ঢোকাবার আগে দেখে নেন, কার্ড ঢোকানোর জায়গাটা কি আলগা বা আলাদা লাগছে নাকি। সেটা কি অস্বাভাবিক বা বেঢপ ধরনের, মনে হচ্ছে কি এটা পরে লাগানো হয়েছে? দরকার হলে হালকা টান দিয়ে দেখেন ঐটা আলগা নাকি।

- পিন এন্টার করার সময়ে কীবোর্ডটা আলগা নাকি দেখে নেন।

- পিন এন্টার করার সময়ে কোন কী চাপছেন সেটা অন্য হাত দিয়ে ঢেকে রাখেন।

- রেস্টুরেন্টে বা অন্যত্র ওয়েটারের হাতে নিশ্চিন্তে কার্ড দিয়ে ফেলবেন না। সম্ভব হলে কাউন্টারে গিয়ে নিজের চোখের সামনে থাকা অবস্থায় বিল দেন। রেস্টুরেন্ট যত নামিদামিই হোক না কেনো, বিশ্বাস করবেন না। (আমি ভুক্তভোগী। আমেরিকার এক নামকরা জায়গায় রেস্টুরেন্টের ওয়েটার আমার ক্রেডিট কার্ড কপি করে নিয়েছিলো। ভাগ্য ভালো ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি সন্দেহজনক চার্জ দেখে আমাকে ফোন করেছিলো।

স্কিমিং এখন বেশ লো-টেক সাইবারক্রাইম। তবে বাংলাদেশে এটা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষসহ কারো ধারণা নাই বলে পিটার নামের ঐ বিদেশী প্রতারক তার সুযোগ নিয়েছে। এবার নামবে মাঠে দেশি প্রতারকেরাও। কাজেই সময় থাকতে সাবধান হন।

‪#‎সাইবারক্রাইম‬ ‪#‎এলোচিন্তা‬

(বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ এই লেখাটি কোনো পত্রিকায় বা ফেইসবুকে শেয়ার করতে অনুমতি দিচ্ছি। তবে শর্ত হলো লেখক হিসাবে আমার নামটা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে)।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য ২ঃ ৩ বছর আগে দৈনিক সমকালে নিচের এই লেখাটা লিখেছিলাম। গরীবের কথা বাসি হলেই ফলে, সাম্প্রতিক স্কিমিং এর ঘটনা এরই প্রমাণ। )

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ৩:০৬
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হোস্টেল জীবনের টুকরো গল্প(স্মৃতির পাতা থেকে)

লিখেছেন উম্মে সায়মা, ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১:৩৩





আমি সাধারণত চা খাইনা। আসলে তেমন পছন্দ না। আজ ইউনিভার্সিটির ক্লাস নেই। তবু অভ্যাসবশত সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম থেকে উঠে মনে হল এক কাপ চা খাওয়া যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতনভূক্ত ইমামের পিছনে নামাজ পড়া কি জায়েজ

লিখেছেন স্বতু সাঁই, ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:০৯

যে ক'দিন সামুতে আসা হয় নি, সেই ক'দিনে জন্য অনেক সঞ্চয় রয়েছে। এর মধ্যে অনেক জায়গায় ভ্রমন করেছি। ভ্রমনে একটি লাভ হয়, পথে ঘাটে অনেক সাধারণ মানুষকে ভজন করা যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা টু চিৎপুর

লিখেছেন সাদা মনের মানুষ, ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:০৪


ঢাকা থেকে কলকাতার ভ্রমণটা কেমন হয় তা জানার জন্য ভিসাতে বাই ট্রেন লাগিয়ে নিলাম। কিন্তু ভ্রমণের সময় মনে হল আসলে সিদ্ধান্তটা ভুল হয়ে গেছে। অনেক খুঁজে আমার ভ্রমণ সঙ্গী যাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

|| হায়রে মানুষ ||

লিখেছেন নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন, ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:১০



দারুণ কনকন শীত-কম্পিত শরীরে কাটে রজনী,
কুড়ে ঘরের বেড়ার ফাঁকেফাঁকে প্রবেশিত
ঝিরঝির বায়ু-ঘন কোয়াশাঁয় বেঁধেছে সর্দিকাশি।
অস্বচ্ছল পরিবার- দিন আনে দিন খায়
ঘরে নাই কম্বল লেপ কাঁথা বেশি,
কোথায় পাবে ঔষধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহাঃ মানুষ - কবিতা

লিখেছেন গেম চেঞ্জার, ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৯



আমাদের বড় তাড়াহুড়া,
বেচারা সুবোধ কোনদিকে পালাবে সে রাস্তা যেখানে খুজে পাচ্ছে না,
সেখানে আমি!
দিব্যি বেনসন ফুকে ইশ্বরের দিকে ধোয়া ছুড়ে আরাম খুজি।
আহাঃ মানুষ!
দু-পায়ের ফাকের ফিকির নিয়ে সবসময় তারা মত্ত,
আর চিত্রকরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×