somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... রিপোস্ট - কম্পিউটার নিরাপত্তার পাঠ - ডেনায়াল অফ সার্ভিস বা সেবা বিঘ্নকরণ আক্রমণ
(এতো ব্লগ লিখি, কিন্তু নিজের গবেষণার বিষয় কম্পিউটার নিরাপত্তার বিষয়েই কিছু লিখিনা। বাংলাতে এ নিয়ে লেখালেখি নেই বললেই চলে, হাতুড়ে কিছু "বিশেষজ্ঞের" ভুলভাল লেখা ছাড়া। তাই মাঝে মাঝে এই সিরিজে কিছু লিখবো ঠিক করেছি। লেখাগুলো একই সাথে বাংলা উইকিপিডিয়াতে যুক্ত করা হবে। অনেক পরিশব্দই আমার নিজের তৈরী করা, কাজেই বেখাপ্পা হতে পারে। আর মিস্তিরি মানুষ বলে লেখার হাত ও ভাষার কারূকার্য বেশি নাই, সেজন্য ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।)

ডেনাইয়াল অফ সার্ভিস অ্যাটাক বা সেবা-বিঘ্নকরণ আক্রমণ হলো কোনো কম্পিউটার সিস্টেমের কোনো রিসোর্স বা সেবার (service) প্রকৃত ব্যবহারকারীদের বাধা দেয়ার একটি কৌশল। কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বা ইন্টারনেট ওয়েবসাইটে এই আক্রমণ চালানোর মাধ্যমে ঐ সিস্টেম বা সাইটের যথাযথ কার্যক্রমকে ধীর গতির, বা অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়।


এই আক্রমণ চালানোর একটা বেশ জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো বাইরে থেকে ঐ সিস্টেম বা সাইটের সাথে যোগাযোগের জন্য অসংখ্য বার্তা পাঠাতে থাকা। একটি বার্তা বিশ্লেষণ করতে করতে আরো বেশ কয়টি বার্তা যদি এসে পড়ে, তখন ঐ সিস্টেমটি আক্রমণকারীর পাঠানো বার্তা বিশ্লেষণেই ব্যস্ত থাকে, এবং প্রকৃত ব্যবহারকারীরা ধীর গতির সম্মুখীন হন।


ডেনাইয়াল অফ সার্ভিস আক্রমণের প্রধান দুটি মাধ্যম হলো

* টার্গেট করা কম্পিউটারকে রিসেট করে দেয়া, অথবা তার সীমিত রিসোর্সগুলোকে ব্যবহার করে অন্যদের ব্যবহারের অযোগ্য করে ফেলা

* আক্রমণের লক্ষ্য যে সিস্টেম বা সাইট, তার সাথে প্রকৃত ব্যবহারকারীদের যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া।


উদাহরণ

ধরা যাক, করিমের একটি সাইট আছে যার নাম কখগ ডট কম। এই ওয়েবসাইটটি যে খানে হোস্ট করা হয়েছে, সেখানে দৈনিক ১ গিগাবাইট ব্যান্ডউইডথ কেনা আছে। দিনে ১০ হাজার হিট হয় এই সাইটে, এবং ৪০০ মেগাবাইটের বেশি ব্যান্ড উইডথ দরকার হয় না। এখন এই ওয়েবসাইটকে আক্রমনকারী শত্রু শওকত একটি স্ক্রিপ্ট লিখে ঐ সাইটে অজস্র ভুয়া হিট করতে থাকলো, ফলে এক ঘণ্টারও কম সময়ে ২৫০০০ হিট করে ১ গিগাবাইট সীমা অতিক্রম করে ফেলা হলো। এখন ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের কেউই আর ঐ সাইটে যেতে পারবেন না।


ধরা যাক, করিম এবার আক্রমণ ঠেকানোর জন্য অসীম ব্যান্ডউইডথের ব্যবস্থা করলেন, এবং শওকতের কম্পিউটারের আইপি অ্যাড্রেস নিষিদ্ধ করে দিলেন। এবার শওকত ভিন্ন পদ্ধতিতে আগালেন ... সরাসরি আক্রমণ করার বদলে "স্মার্ফ অ্যাটাক" (Smurf attack) নামের আক্রমণ করলেন। এই আক্রমণের সময়ে শওকত সরাসরি করিমের কম্পিউটারে আক্রমণ না করে ইন্টারনেটে হাজার হাজার সাইটে ping মেসেজ পাঠালেন। (সংযোগ ঠিক আছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য ping ব্যবহৃত হয়। এই মেসেজ কোনো কম্পিউটারে পাঠালে ঐ কম্পিউটার মেসেজের জবাবে আরেকটি মেসেজ প্রেরক কম্পিউটারে পাঠায়)। তবে শওকত পিং পাঠানোর আগে কারসাজি করে মেসেজের প্রেরকের নাম পালটে দিলেন, অর্থাৎ প্রেরকের ঠিকানার অংশে নিজের কম্পিউটারের আইপির বদলে করিমের সাইটের আইপি দিয়ে দিলেন। ফলে হাজার হাজার সাইট যখন এই পিং বার্তার জবাব দিবে, তখন সেই জবাব গুলো চলে যাবে করিমের কম্পিউটারে। একই সময়ে আসা এই হাজার হাজার বার্তা গ্রহণ করতে করতে করিমের কম্পিউটার আসল গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করার সময় পাবে না। ফলে ওয়েবসাইটটিতে যারা ঢুকতে যাবেন, তাঁরা ব্যর্থ হবেন।

(কম্পিউটারের জগতের বাইরেও এরকম আক্রমণ চালানো যায়। যেমন ধরাযাক খবিরের মোবাইল ফোনে গনেশ ফোন করতে পারে, তা শওকত চায় না। তাই ফোন ঠেকানোর জন্য অনবরত খবিরকে মিস কল দিতে থাকলো। লাইন ব্যস্ত থাকায় খবিরকে আর গনেশ ফোনে পেলো না। এটাও সেবা-বিঘ্নকরণ আক্রমণের একটা বাস্তব উদাহরণ।)

(বিস্তারিত জানতে ইংরেজি উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ দেখুন)।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29540180 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29540180 2012-02-13 10:20:35
স্মৃতির পাতায় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল

খুব ছোট্টবেলায় একদিন দেখলাম, হৈচৈ পড়ে গেছে আমাদের পাড়ায়, কারণ সেবার (১৯৮৫) আমাদের বাসার কাছেরই একজন ছাত্র পুরো কুমিল্লা বোর্ডে প্রথম স্থান পেয়েছেন। তখন বোর্ড স্ট্যান্ড কী, আর কুমিল্লা বোর্ডই কোথায়, তা বোঝার বয়স আমার হয়নি, কিন্তু মনে দাগ কেটে গিয়েছিলো সেই ছাত্রটির স্কুলের নাম – চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল। সেই বয়সেই পণ করেছিলাম, বড় হয়ে এই স্কুলটিতে পড়তেই হবে।

এক সময় স্বপ্নের সেই কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হলাম আমিও। ক্লাস সিক্সেই ভর্তি হবার কথা ছিলো, ভর্তি পরীক্ষার বৈতরণী পেরিয়ে নির্বাচিতও হয়েছিলাম দিবা-শাখায়, কিন্তু তার অল্প কিছুদিন আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ায় অত দূরের স্কুলে আর বাবা মা যেতে দেননি। বছর তিনের পরে ক্লাস নাইনে গিয়ে আবারও পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হই কলেজিয়েটে।


আমাদের সময়েই প্রথম ক্লাস নাইনে ই-সেকশন খোলা হয়। অর্ধেক নতুন ছাত্র, আর বাকিরা অন্য বিভিন্ন সেকশন থেকে আসা। অন্য সব সেকশনের চরম দুরন্ত সব ছাত্রদের নির্বাসন এই ই-সেকশন। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ ছাত্রদের কারণে কলেজিয়েটে আমার সময়টা কেটেছে খুব মজার সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। ক্লাসে যেমন পড়াশোনায় অতিমগ্ন ছাত্রের ঘাটতি ছিলোনা, তেমনি ক্রিকেট খেলায় চরম দক্ষ, কিংবা দুই ক্লাসের বিরতির মাঝে বেঞ্চে তবলা বাজিয়ে গলা ছেড়ে গান গাওয়া গায়কও ছিলো। তাই সব সময় আমাদের ই-সেকশনটি হয়ে থাকতো সরগরম, জমজমাট।

মাধ্যমিক পর্যায়ের সেরা শিক্ষকদের সান্নিধ্য পেয়েছিলাম কলেজিয়েটে। সাত্তার স্যার ছিলেন শ্রেণী শিক্ষক, আর পরে কাদের স্যার। শামসুল মতিন স্যার, মোহনলাল স্যার, জহিরুল হক স্যার, আজিজ স্যার, আর বিমল কান্তি বড়ুয়া স্যারের আদর মাখা শাসনের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে স্কাউট দলের কথা, মিলাদের সেই বিশাল খাবার দাবার হাপুস হুপুস করে খাবার কথা, আরো অনেক অনেক স্মৃতি। স্কুলের খেলার দিনে স্টেডিয়ামে গিয়ে জয়ধ্বনি দিয়ে গলা ভাঙা, জাতীয় প্রতিযোগিতায় স্কুলের পক্ষ থেকে অংশ নেয়ার সেই উত্তেজনা, তা কি আর ভোলা যায়?


সোনালী সেই দিনগুলোর শেষে ১৯৯৪ সালে এসএসসি পাস করি, সেবছর কলেজিয়েট স্কুল এসএসসিতে সর্বকালের সবচেয়ে ভালো ফল করে। বিজ্ঞান বিভাগে কুমিল্লা বোর্ডে ১ম ৪টি স্থানই পায়, এছাড়া মেধা তালিকায় সম্ভবত ১৫ জন স্থান করে নিয়েছিলো। এক স্কুলের এরকম ভালো ফল পুরো দেশেই ছিলো অদ্বিতীয়।

প্রিয় কলেজিয়েট স্কুলের সেই কয়েকটি বছর সারাজীবন মনে থাকবে। পরবর্তীতে প্রকৌশল শিক্ষার সময়ে সাথে পেয়েছি আমার কলেজিয়েটের প্রচুর বন্ধুকে। সময়ের সাথে সাথে চট্টগ্রাম শহর ছেড়েছি, কিন্তু আজও দেশে বেড়াতে গেলে আইসফ্যাক্টরি রোডে একবার ঢুঁ মারি। দেখে আসি আমার প্রিয় এই শিক্ষানিকেতনকে। বাইরে থেকে দেখতে পাই, নতুন প্রজন্মের ছাত্রদের কলতান, মনে পড়ে আমার কৈশোরের সেই সোনালী দিনগুলোর কথা, চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের করিডোরে কেটে যাওয়া স্মৃতিময় ক্ষণ।


আজ আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অনেকেই আর কলেজিয়েটে নেই। কিন্তু শিক্ষাজীবন শেষ করে এটা উপলব্ধি করতে পারি, জ্ঞানের যে বুনিয়াদ গড়ে দিয়েছিলেন সেই শিক্ষাগুরুরা, তা আমার পরবর্তী জীবনের পাথেয় হয়ে থেকেছে। আমার প্রিয় কলেজিয়েট স্কুলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি, সেই সাথে কলেজিয়েট স্কুলের সব শিক্ষক এবং ছাত্রদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। কলেজিয়েট স্কুলের মনোগ্রামের লেখাটার কথা মনে পড়ছে – Truth Shall Prevail – সত্যের মৃত্যু নেই। এই মহান বাক্যটিকে সঙ্গে নিয়ে কলেজিয়েট স্কুল এগিয়ে যাক উত্তরোত্তর সাফল্যের পথ ধরে, স্রষ্টার কাছে এই রইলো প্রার্থনা।

(রচনাকাল - ২০১০, মায়ানগর) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29536564 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29536564 2012-02-07 13:53:33
বাংলার স্বাধীনতা আনলো যারা - আমাদের সেই সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা (রিপোস্ট)

যাঁরা পোস্টটি পড়ছেন, তাঁরা কি কষ্ট করে একটা কাজ করবেন? আপনার পরিচিত শিশু কিশোরদেরকে এই পোস্টের লিংক পাঠান, কিংবা পড়তে দেন। আগামী প্রজন্মের জানা দরকার, কাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন। পাঠ্যপুস্তকে অনেকেই বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যমের বা মাদ্রাসা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা এসব হয়তো পড়ে না -- বাংলা মাধ্যমেও এখন কতটুকু আছে কে জানে। তাই শিশু কিশোরদের জানান, পড়তে দিন আমাদের বীরশ্রেষ্ঠদের বীরত্বের গাঁথা।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাংলার ইতিহাসে এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়। এই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তার স্থানীয় দোসর জামাত, আল-বদর, আল-শামস, ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন বাংলার আপামর জনসাধারণ। মুক্তিযুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য ৭ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বীরত্বের খেতাব - বীর শ্রেষ্ঠ উপাধি প্রদান করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ হয়ে গেছে ৪০ বছর আগে, ডিসেম্বরের সেই বিজয়েরও ৪০ বছর হয়ে আসলো। ছেলেবেলায় "আমার বই" নামের পাঠ্যপুস্তকে পড়েছিলাম এই বীরশ্রেষ্ঠদের কথা। জানিনা, আজকের শিশুরা সেটা পড়তে পারছে কি না।

বাংলা উইকিপিডিয়াতে তাই আমরা ধরে রাখার চেষ্টা করছি বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনীর কথা। তথ্য সূত্র অপ্রতুল, আর উইকিতে অল্প একটু করে সময় দেয়ার মতো কর্মীরও অনেক অভাব, তার পরেও কিছুটা তথ্য যোগাড় করা হয়েছে উইকিতে।

বীর বাঙালির বিজয়ের এই ডিসেম্বর মাসে বাংলা উইকিপিডিয়া হতে মুক্তিযোদ্ধা ও বীর শ্রেষ্ঠদের জীবনী তুলে ধরার প্রয়াস নিচ্ছি। জীবনী নিবন্ধ সমূহ বাংলা উইকিপিডিয়ার কর্মীরা বিভিন্ন তথ্যসূত্র ঘেঁটে সংকলন করেছেন।



-------------------

বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান




বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান (২৯শে অক্টোবর, ১৯৪১—২০শে আগস্ট, ১৯৭১) একজন বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত হন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে সর্বোচ্চ সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান তাদের মধ্যে অন্যতম।

১ জীবনী

মতিউর ১৯৪১ সালের ২৯শে অক্টোবর পুরান ঢাকার ১০৯ আগা সাদেক রোডের পৈত্রিক বাড়ি "মোবারক লজ"-এ জন্মগ্রহণ করেন। ৯ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে মতিউর ৬ষ্ঠ। তাঁর বাবা মৌলভী আবদুস সামাদ, মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন।


ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ষষ্ঠ শ্রেনী পাস করার পর সারগোদায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ডিস্টিংকসহ মেট্রিক পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৬১ সালে বিমান বাহিনীতে যোগ দেন।




(পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অন্য পাইলটদের সাথে মতিউর (সামনের সারিতে ডান থেকে ২য়)। সর্ববামে আরেক বাঙালি বৈমানিক ওয়ালিদ করিম)

১৯৬৩ সালের জুন মাসে রিসালপুর পি,এ,এফ কলেজ থেকে কমিশন লাভ করেন এবং জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসাবে নিযুক্ত হন। এরপর করাচির মৌরীপুরে জেট কনভার্সন কোর্স সমাপ্তি করে পেশোয়ারে গিয়ে জেটপাইলট হন। ১৯৬৫তে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ফ্লাইং অফিসার অবস্থায় কর্মরত ছিলেন। এরপর মিগ কনভার্সন কোর্সের জন্য পুনরায় সারগোদায় যান। সেখানে ১৯৬৭ সালের ২১ জুলাই তারিখে একটি মিগ-১৯ বিমান চালানোর সময় আকাশে সেটা হঠাৎ বিকল হয়ে গেলে দক্ষতার সাথে প্যারাসুট যোগে মাটিতে অবতরণ করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ইরানের রানী ফারাহ দিবার সম্মানে পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত বিমান মহড়ায় তিনি ছিলেন একমাত্র বাঙালি পাইলট। রিসালপুরে দু'বছর ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হিসাবে কাজ করার পর ১৯৭০ এ বদলি হয়ে আসেন জেট ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হয়ে।১৯৭১ এর ফেব্রুয়ারী মাসে ঢাকায় ছুটিতে আসেন।

২ যেভাবে শহীদ হলেন

২৫ মার্চের ঘটনায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হন। পরে তিনি দৌলতকান্দিতে জনসভা করেন এবং বিরাট মিছিল নিয়ে ভৈরব বাজারে যান। পাক-সৈন্যরা ভৈরব আক্রমণ করলে বেঙ্গল রেজিমেন্টে ই,পি,আর-এর সঙ্গে থেকে প্রতিরোধ বুহ্য তৈরি করেন। এর পরই কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে জঙ্গি বিমান দখল এবং সেটা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। ২০ই আগস্ট সকালে করাচির মৌরিপুর বিমান ঘাঁটিতে তারই এক ছাত্র রশীদ মিনহাজের কাছ থেকে একটি জঙ্গি বিমান ছিনতাই করেন। কিন্তু রাশেদ এ ঘটনা কন্ট্রোল টাওয়ারে জানিয়ে দিলে, অপর চারটি জঙ্গি বিমান মতিউরের বিমানকে ধাওয়া করে। এ সময় রশিদের সাথে মতিউরের ধ্বস্তাধস্তি চলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে রশিদ ইজেক্ট সুইচ চাপলে মতিউর বিমান থেকে ছিটকে পরেন এবং বিমান উড্ডয়নের উচ্চতা কম থাকায় রাশেদ সহ বিমানটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে থাট্টা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মতিউরের সাথে প্যারাসুট না থাকাতে তিনি নিহত হন। তাঁর মৃতদেহ ঘটনাস্থল হতে প্রায় আধ মাইল দূরে পাওয়া যায়। রশিদ মিনহাজকে পাকিস্তান সরকার সম্মানসূচক খেতাব দান করে এবং মতিউরকে করাচির মাসর"র বেসের চতুর্থ শ্রেনীর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্ত্রী মিলি রহমান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন, ফ্লাইট ল্যাফটেনেন্ট মতিউর রহমান শহীদ হবার সময় পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন। পাকিস্তানিরা তাঁকে এক অন্ধকার কক্ষে তাঁর শিশু বাচ্চা ও কাজের পরিচারিকাসহ দীর্ঘদিন বন্দী করে রাখে ও অত্যাচার করে। মুক্তি পাবার পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসে মুক্তিযুদ্ধের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।



(মতিউর রহমানের সমাধি। ছবি- ব্লগার রণদীপম বসু)

২০০৬ সালের ২৩ জুন মতিউর রহমানের দেহাবশেষ পাকিস্তান হতে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁকে পূর্ণ মর্যাদায় ২৫শে জুন শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।


-------------------

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান

মোহাম্মদ হামিদুর রহমান (ফেব্রুয়ারি ২, ১৯৫৩- অক্টোবর ২৮, ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। মাত্র ১৮ বছর বয়সে শহীদ হওয়া হামিদুর রহমান সাত জন বীর শ্রেষ্ঠ পদকপ্রাপ্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।


১ সংক্ষিপ্ত জীবনী

মোহাম্মদ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি যশোরের মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। (১) তাঁর পিতা আব্বাস আলী মন্ডল, মাতা মোসাম্মাৎ কায়সুন্নেসা। খালিশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পরবর্তীকালে স্থানীয় নাইট স্কুলে সামান্য লেখাপড়া করেন। ১৯৭১ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। যোগদানের পরই চট্টগ্রামের সেনানিবাসে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে প্রশিক্ষণের জন্য যান। ২৫শে মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমনের মুখে চাকরীস্থল থেকে নিজ গ্রামে চলে আসেন। বাড়ীতে একদিন থেকে পরদিনই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য চলে যান সিলেট জেলার শ্রীমঙ্গল থানার ধলই চা বাগানের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ধলই বর্ডার আউটপোস্টে।

২ যেভাবে শহীদ হলেন

১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের শেষভাগে হামিদুর রহমান ১ম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সি কোম্পানির হয়ে ধলই সীমান্তের ফাঁড়ি দখল করার অভিযানে অংশ নেন। ভোর চারটায় মুক্তিবাহিনী লক্ষ্যস্থলের কাছে পৌছে অবস্থান নেয়। সামনে দু প্লাটুন ও পেছনে এক প্লাটুন সৈন্য অবস্থান নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে শত্রু অভিমুখে। শত্রু অবস্থানের কাছাকাছি এলে একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। মুক্তিবাহিনী সীমান্ত ফাঁড়ির খুব কাছে পৌছে গেলেও ফাঁড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত হতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিবর্ষণের জন্য আর অগ্রসর হতে পারছিলো না। অক্টোবরের ২৮ তারিখে ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পাকিস্তান বাহিনীর ৩০এ ফ্রন্টিয়ার রেজিমেন্টের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে অংশ নেয়। মুক্তিবাহিনী পাকিস্তান বাহিনীর মেশিনগান পোস্টে গ্রেনেড হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রেনেড ছোড়ার দায়িত্ব দেয়া হয় হামিদুর রহমানকে। তিনি পাহাড়ি খালের মধ্য দিয়ে বুকে হেঁটে গ্রেনেড নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। দুটি গ্রেনেড সফল ভাবে মেশিনগান পোস্টে আঘাত হানে, কিন্তু তার পরপরই হামিদুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। (২) সে অবস্থাতেই তিনি মেশিনগান পোস্টে গিয়ে সেখানকার দুই জন পাকিস্তানী সৈন্যের সাথে হাতাহাতি যুদ্ধ শুরু করেন। এভাবে আক্রণের মাধ্যমে হামিদুর রহমান এক সময় মেশিনগান পোস্টকে অকার্যকর করে দিতে সক্ষম হন। এই সুযোগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল উদ্যমে এগিয়ে যান, এবং শত্রু পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে সীমানা ফাঁড়িটি দখল করতে সমর্থ হন। কিন্তু হামিদুর রহমান বিজয়ের স্বাদ আস্বাদন করতে পারেননি, ফাঁড়ি দখলের পরে মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ হামিদুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে। (২)

হামিদুর রহমানের মৃতদেহ সীমান্তের অল্প দূরে ভারতীয় ভূখন্ডে ত্রিপুরা রাজ্যের হাতিমেরছড়া গ্রামের স্থানীয় এক পরিবারের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। (৩) নীচু স্থানে অবস্থিত কবরটি এক সময় পানির তলায় তলিয়ে যায়।
২০০৭ সালের ২৭শে অক্টোবর বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার হামিদুর রহমানের দেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। (৪)। সেই অনুযায়ী ২০০৭ সালের ১০ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ রাইফেলসের একটি দল ত্রিপুরা সীমান্তে হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ গ্রহন করে, এবং যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে কুমিল্লার বিবিরহাট সীমান্ত দিয়ে শহীদের দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। ১১ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। (৫)।

৩ তথ্যসূত্র

১. "Birshreshtha Hamidur Rahman Laid To Rest", The Daily Star, ১২ই ডিসেম্বর, ২০০৭।

২. "বীর হামিদুরের ঘরে ফেরা", ছুটির দিনে, প্রথম আলো, ১৫ই ডিসেম্বর ২০০৭ ।

৩."Bangladesh takes home teenage war hero", রয়টার্স, Dec 10 2007।

৪. "বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের দেহাবশেষ দেশে এনে সমাহিত করা হবে", প্রথম আলো, ২৮শে অক্টোবর, ২০০৭।

৫. "Home they brought warrior dead: Bir Shreshtha Hamidur to be buried at Martyred Intellectuals' Graveyard today", The New Nation, ১১ই ডিসেম্বর, ২০০৭।


------------------

বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন



---
মোহাম্মদ রুহুল আমিন (১৯৩৫ - ডিসেম্বর ১০, ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

১ সংক্ষিপ্ত জীবনী

মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার বাঘচাপড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আজহার পাটোয়ারী, মাতা জোলখা খাতুন। রুহুল আমিন বাঘচাপড়া প্রাইমারী স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে আমিষাপাড়া হাই স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৫৩-তে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে পাকিস্তান নৌ-বাহিনীতে যোগদান করেন। আরব সাগরে অবস্থিত মানোরা দ্বীপে পি.এন.এস বাহাদুর-এ প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নেন। প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর পি.এন.এস. কারসাজে যোগদান করেন। ১৯৫৮-তে পেশাগত প্রশিক্ষণ শেষ করেন। ১৯৬৫ -তে মেকানিসিয়ান কোর্সের জন্য নির্বাচিত হন। পি.এন.এস. কারসাজে কোর্স সমাপ্ত করার পর আর্টিফিসার পদে নিযুক্ত হন। ১৯৬৮ -তে চট্টগ্রাম পি.এন.এস. বখতিয়ার নৌ-ঘাটিঁতে বদলি হয়ে যান। ১৯৭১-এর এপ্রিলে ঘাটিঁ থেকে পালিয়ে যান। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত অতিক্রম করে ২ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে থেকে বিভিন্ন স্থলযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। বাংলাদেশ নৌ বাহিনী গঠিত হলে কলকাতায় চলে আসেন। ভারত সরকার বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী কে দুটি গানবোট উপহার দেয়। গানবোটের নামকরণ করা হয় 'পদ্মা' ও 'পলাশ'। রুহুল আমিন পলাশের প্রধান ইঞ্জিনরুমে আর্টিফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২ যেভাবে শহীদ হলেন

৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী যশোর সেনানিবাস দখলের পর 'পদ্মা', 'পলাশ' এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর একটি গানবোট 'পানভেল' খুলনার মংলা বন্দরে পাকিস্তানি নৌ-ঘাটিঁ পি.এন.এস. তিতুমীর দখলের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ-এ প্রবেশ করে। ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে গানবোটগুলো খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছে এলে অনেক উচুঁতে তিনটি জঙ্গি বিমানকে উড়তে দেখা যায়। শত্রুর বিমান অনুধাবন করে পদ্মা ও পলাশ থেকে গুলি করার অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু অভিযানের সর্বাধিনায়ক ক্যাপ্টেন মনেন্দ্রনাথ ভারতীয় বিমান মনে করে গুলিবর্ষণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এর কিছুক্ষণ পরে বিমানগুলো অপ্রত্যাশিত ভাবে নিচে নেমে আসে এবং আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু করে। গোলা সরাসরি 'পদ্মা' এর ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে ইঞ্জিন বিধ্বস্ত করে। হতাহত হয় অনেক নাবিক। 'পদ্মা'-র পরিণতিতে পলাশের অধিনায়ক লে. কমান্ডার রায় চৌধুরী নাবিকদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দেন। রুহুল আমিন এই আদেশে ক্ষিপ্ত হন। তিনি উপস্থিত সবাইকে যুদ্ধ বন্ধ না করার আহ্বান করেন। কামানের ক্রুদের বিমানের দিকে গুলি ছুড়ঁতে বলে ইঞ্জিন রুমে ফিরে আসেন। কিন্তু অধিনায়কের আদেশ অমান্য করে বিমানগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। বিমানগুলো উপূর্যপুরি বোমাবর্ষণ করে পলাশের ইঞ্জিনরুম ধ্বংস করে দেয়। শহীদ হন রুহুল আমিন। রূপসা নদীর পারে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধির এই ছবিটি বাংলা উইকিপিডিয়াকে দান করেছেন ব্লগার ঝড়ো হাওয়া।



-------------------

বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ

----
মুন্সি আব্দুর রউফ (১৯৪৩ - এপ্রিল ৮, ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

১ সংক্ষিপ্ত জীবনী

মুন্সি আব্দুর রউফ ১৯৪৩ সালের মে মাসে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার (পূর্বে বোয়ালমারী উপজেলার অন্তরগত) সালামতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মুন্সি মেহেদী হোসেন এবং মাতার নাম মকিদুন্নেসা। কিশোর বয়সে রউফ-এর পিতা মারা যান। ফলে তিনি উচচশিক্ষা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। তিনি অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। ১৯৬৩-র ৮ মে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস-এ ভর্তি হন। তাঁর রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ১৩১৮৭। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতে চট্টগ্রামে ১১ নম্বর উইং এ কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদান করেন।

২ যেভাবে শহীদ হলেন

মুন্সি আবদুর রউফ ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি কোম্পনীর সাথে বুড়িঘাটে অবস্থান নেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি জলপথ প্রতিরোধ করার জন্য ৮ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্যাটেলিয়নের দুই কোম্পানী সৈন্য, সাতটি স্পীড বোট এবং দুটি লঞ্চে করে বুড়িঘাট দখলের জন্য অগ্রসর হয়। তারা প্রতিরক্ষি বূহ্যের সামনে এসে ৩" মর্টার এবং অন্যান্য ভারী অস্ত্র দিয়ে হঠাৎ অবিরাম গোলা বর্ষন শুরু করে। গোলাবৃষ্টির তীব্রতায় প্রতিরক্ষার সৈন্যরা পেছনে সরে বাধ্য হয়। কিন্তু ল্যান্সনায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ পেছনে হটতে অস্বীকৃতি জানান। নিজ পরিখা থেকে মেশিনগানের গুলিবর্ষণ শুরু করেন। মেশিনগানের এই পাল্টা আক্রমনের ফলে শত্রুদের স্পীড বোট গুলো ডুবে যায়।
হতাহত হয় এর আরোহীরা। পেছনের দুটো লঞ্চ দ্রুত পেছনে গিয়ে নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে শুরু করে দুরপাল্লার ভারী গোলাবর্ষণ। মর্টারের ভারী গোলা এসে পরে আব্দুর রউফের উপর। লুটিয়ে পড়েন তিনি, নীরব হয়ে যায় তাঁর মেশিনগান। ততক্ষণে নিরাপদ দূরুত্বে সরে যেতে সক্ষম হন তাঁর সহযোদ্ধারা।

শহীদ ল্যান্স নায়েক বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি পার্বত্য জেলা রাঙামাটির নানিয়ার চড়ে। তাঁর অপরিসীম বীরত্ব,সাহসীকতা ও দেশপ্রেমের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্ব্বোচ সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করে।


-------------------

বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর

----

মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর (১৯৪৮- ডিসেম্বর ১৪, ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

১ সংক্ষিপ্ত জীবনী

মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ১৯৪৮ সালে বাবুগঞ্জ থানার রহিমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল মোতালেব হাওলাদার। জাহাঙ্গীর ১৯৬৪ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন এবং ১৯৬৬ তে আই.এস.সি পাশ করার পর বিমান বাহিনীতে যোগদানের চেষ্টা করেন, কিন্তু চোখের অসুবিধা থাকায় ব্যর্থ হন। ১৯৬৭ সালে তিনি পাকিস্তান সামরিক একাডেমীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬৮-র ২ জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ার্স কোরে কমিশন লাভ করেন। ১৯৭১-এ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় তিনি পাকিস্তানে ১৭৩ নম্বর ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটেলিয়ানে কর্তব্যরত ছিলেন। মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য তিনি ছুটে এসেছিলেন পাকিস্তানের দুর্গম এলাকা অতিক্রম করে, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে। ৩ জুলাই পাকিস্তানে আটকে পড়া আরো তিনজন অফিসারসহ তিনি পালিয়ে যান ও পরে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মেহেদীপুরে মুক্তিবাহিনীর ৭নং সেক্টরে সাব সেক্টর কমান্ডার হিসাবে যোগ দেন। বিভিন্ন রণাঙ্গনে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখানোর কারণে তাঁকে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ দখলের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। স্বাধীনতার ঊষালগ্নে বিজয় সুনিশ্চিত করেই তিনি শহীদ হয়েছিলেন। ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরকে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক সোনা মসজিদ আঙিনায় সমাহিত করা হয়।

২ যেভাবে শহীদ হলেন

১০ ডিসেম্বর ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর, লেফটেন্যান্ট কাইয়ুম, লেফটেন্যান্ট আউয়াল ও ৫০ জনের মতো মুক্তিযোদ্ধা চাঁপাইনবাবগঞ্জের পশ্চিমে বারঘরিয়া এলাকায় অবস্থান গ্রহন করেন। ১৪ ডিসেম্বর ভোরে মাত্র ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বারঘরিয়া এলাকা থেকে ৩/৪ টি দেশী নৌকায় করে রেহাইচর এলাকা থেকে মহানন্দা নদী অতিক্রম করেন। নদী অতিক্রম করার পর উত্তর দিক থেকে একটি একটি করে প্রত্যেকটি শত্রু অবস্থানের দখল নিয়ে দক্ষিণে এগোতে থাকেন।
তিনি এমনভাবে আক্রমণ পরিকল্পনা করেছিলেন যেন উত্তর দিক থেকে শত্রু নিপাত করার সময় দক্ষিণ দিক থেকে শত্রু কোনকিছু আঁচ করতে না পারে। এভাবে এগুতে থাকার সময় জয় যখন প্রায় সুনিশ্চিত তখন ঘটে বিপর্যয়। হঠাৎ বাঁধের উপর থেকে ইস্ট পাকিস্তান সিভিল আর্মড ফোর্সের ৮/১০ জন সৈনিক দৌড়ে চর এলাকায় এসে যোগ দেয়। এরপরই শুরু হয় পাকিস্তান বাহিনীর অবিরাম ধারায় গুলিবর্ষন। ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর জীবনের পরোয়া না করে সামনে এগিয়ে যান। ঠিক সেই সময়ে শত্রুর একটি গুলি এসে বিদ্ধ হয় জাহাঙ্গীরের কপালে। শহীদ হন তিনি।


-------------------

বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ

----

নূর মোহাম্মদ শেখ(ফেব্রুয়ারি ২৬, ১৯৩৬- সেপ্টেম্বর ৫, ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

১ সংক্ষিপ্ত জীবনী

১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে নূর মোহাম্মদ শেখ জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ আমানত শেখ, মাতা জেন্নাতুন্নেসা। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানকার লেখাপড়া শেষ না করে ১৯৫৯-এর ১৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস-এ যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে নূর মোহাম্মদকে দিনাজপুর থেকে যশোরে বদলি করা হয়। বদলি স্থানে যোগ দানের আগেই স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদান করেন।

২ যেভাবে শহীদ হলেন

১৯৭১- এর ৫ সেপ্টেম্বর সুতিপুরে নিজস্ব প্রতিরক্ষার সামনে গোয়ালহাটি গ্রামে নূর মোহাম্মদকে অধিনায়ক করে পাঁচ জনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্ট্যান্ডিং পেট্রোল পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ পাকিস্থানি সেনাবাহিনী পেট্রোলটি তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে গুলিবর্ষন করতে থাকে। পেছনে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা থেকে পাল্টা গুলিবর্ষন করা হয়। তবু পেট্রোলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। এক সময়ে সিপাহী নান্নু মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নূর মোহাম্মদ নান্নু মিয়াকে কাঁধে তুলে নেন এবং হাতের এল.এম.জি দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে শত্রুপক্ষ পশ্চাৎপসরণ করতে বাধ্য হয়। হঠাৎ করেই শত্রুর মর্টারের একটি গোলা এসে লাগে তাঁর ডান কাঁধে।
ধরাশয়ী হওয়া মাত্র আহত নান্নু মিয়াকে বাঁচানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেন। হাতের এল.এম.জি সিপাহী মোস্তফাকে দিয়ে নান্নু মিয়াকে নিয়ে যেতে বললেন এবং মোস্তফার রাইফেল চেয়ে নিলেন যতক্ষণ না তাঁরা নিরাপদ দূরুত্বে সরে যেতে সক্ষম হন ততক্ষণে ঐ রাইফেল দিয়ে শত্রুসৈন্য ঠেকিয়ে রাখবেন এবং শত্রুর মনোযোগ তাঁর দিকেই কেন্দ্রীভুত করে রাখবেন। অন্য সঙ্গীরা তাদের সাথে অনুরোধ করলেন যাওয়ার জন্যে। কিন্তু তাঁকে বহন করে নিয়ে যেতে গেলে সবাই মারা পড়বে এই আশঙ্কায় তিনি রণক্ষেত্র ত্যাগ করতে রাজি হলেন না। বাকিদের অধিনায়োকোচিত আদেশ দিলেন তাঁকে রেখে চলে যেতে। তাঁকে রেখে সন্তর্পণে সরে যেতে পারলেন বাকিরা। এদিকে সমানে গুলি ছুড়তে লাগলেন রক্তাক্ত নূর মোহাম্মদ। একদিকে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী, সঙ্গে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র, অন্যদিকে মাত্র অর্ধমৃত সৈনিক (ই.পি.আর.) সম্বল একটি রাইফেল ও সীমিত গুলি। এই অসম অবিশ্বাস্য যুদ্ধে তিনি শত্রুপক্ষের এমন ক্ষতিসাধন করেন যে তারা এই মৃত্যুপথযাত্রী যোদ্ধাকে বেয়নেট দিয়ে বিকৃত করে চোখ দুটো উপড়ে ফেলে। পরে প্রতিরক্ষার সৈনিকরা এসে পাশের একটি ঝাড় থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে।


-------------------

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল






মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল (ডিসেম্বর ১৬, ১৯৪৭- এপ্রিল ১৭, ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।


১ সংক্ষিপ্ত জীবনী


(বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের মা, নভেম্বর ২০০৯। ছবি, ব্লগার যুবরাজ)

মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলা জেলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হাবিবুর রহমান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার ছিলেন। শৈশব থেকেই দুঃসাহসী হিসেবে খ্যাত ছিলেন। পড়াশোনা বেশিদূর করতে পারেননি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর উচচ বিদ্যালয়ে দু-এক বছর অধ্যয়ন করেন। ১৯৬৭-র ১৬ ডিসেম্বর বাড়ী থেকে পালিয়ে গিয়ে সেনাবাহিনীতে চাকরি গ্রহন করেন। তিনি ছিলেন চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক। ১৯৭১-এর প্রথম দিকে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঠানো হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার সাথে সাথে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে ঘিরে তিনটি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গড়ে তোলে এন্ডারসন খালের পাঁড়ে। আখাউড়ায় অবস্থিত চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট দক্ষিন দিক থেকে নিরাপত্তার জন্য দরুইন গ্রামের দুই নম্বর প্লাটুনকে নির্দেশ দেয়। সিপাহী মোস্তফা কামাল ছিলেন দুই নম্বর প্লাটুনে। কর্মতৎপরতার জন্য যুদ্ধের সময় মৌখিকভাবে তাঁকে ল্যান্স নায়েকের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়।

২ যেভাবে শহীদ হলেন

১৬ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য কুমিল্লা-আখাউড়া রেললাইন ধরে উত্তর দিকে এগুতে থাকে। ১৭ই এপ্রিল পরদিন ভোরবেলা পাকিস্তান সেনাবাহিনী দরুইন গ্রামে মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের উপর মর্টার ও আর্টিলারীর গোলাবর্ষণ শুরু করলে মেজর শাফায়াত জামিল ১১ নম্বর প্লাটুনকে দরুইন গ্রামে আগের প্লাটুনের সাথে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেন। ১১ নম্বর প্লাটুন নিয়ে হাবিলদার মুনির দরুইনে পৌছেন। সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল তার নিকট থেকে গুলি নিয়ে নিজ পরিখায় অবস্থান গ্রহন করেন। বেলা ১১ টার দিকে শুরু হয় শত্রুর গোলাবর্ষণ। সেই সময়ে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। সাড়ে ১১টার দিকে মোগরা বাজার ও গঙ্গা সাগরের শত্রু অবস্থান থেকে গুলি বর্ষিত হয়।
১২ টার দিকে আসে পশ্চিম দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ। প্রতিরক্ষার সৈন্যরা আক্রমণের তীব্রতায় বিহ্বল হয়ে পড়ে। কয়েক জন শহীদ হন। মোস্তফা কামাল মরিয়া হয়ে পাল্টা গুলি চালাতে থাকেন। তাঁর পূর্ব দিকের সৈন্যরা পেছনে সরে নতুন অবস্থানে সরে যেতে থাকে এবং মোস্তফাকে যাবার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু তাদের সবাইকে নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগের জন্য মোস্তফা পূর্ণোদ্যমে এল.এম.জি থেকে গুলি চালাতে থাকেন। তাঁর ৭০ গজের মধ্যে শত্রুপক্ষ চলে এলেও তিনি থামেননি। এতে করে শত্রু রা তাঁর সঙ্গীদের পিছু ধাওয়া করতে সাহস পায়নি। এক সময় গুলি শেষ হয়ে গেলে, শত্রুর আঘাতে তিনিও লুটিয়ে পড়েন।

---

ছবিতে দেখছেন, বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি। প্রথম ছবি দুইটি ব্লগার ঝড়ো হাওয়া উইকিপিডিয়াকে দান করেছেন, আর পরেরটি দিয়েছেন ব্লগার যুবরাজ, এজন্য তাঁদের অসংখ্য ধন্যবাদ।




-------------------


কপিরাইট নোটিশ

এই পোস্টের তথ্যাবলী ও লেখা বাংলা উইকিপিডিয়া হতে জিএনইউ ফ্রি ডকুমেন্টেশন লাইসেন্সের অধীনে নেয়া হয়েছে। এই লেখা বিনা বাঁধায় সর্বত্র ব্যবহার করা যাবে, যদি লেখার মূল উৎসের (বাংলা উইকিপিডিয়া) কথা সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়। বিস্তারিত জানতে দেখুন, GNU Free Documentation License
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29503366 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29503366 2011-12-15 14:42:18
রাগিবনামা - যেমন ইচ্ছে লেখার আমার ব্লগের খাতা নোটাকারে ফেইসবুকে শেয়ারিত )

আমার বাংলা ব্লগিং এর বয়স ৫ বছর পেরিয়েছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ব্লগে নানা বিষয়ে লেখা আমার পোস্টগুলোর তালিকা রইলো এখানে। তালিকাটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। বিভিন্ন বিষয়ে লেখা পোস্টগুলোকে বিষয় অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।

(উল্লেখ্য - উইকিপিডিয়াতে দেয়া বা নেয়া লেখাগুলো বাদে অন্য কোনো লেখা আমার অনুমতি ছাড়া অন্যত্র প্রকাশ করা যাবে না)


ইতিহাস

শেখ সাহেবের গপ্পো http://www.sachalayatan.com/ragib/36929 (* এই লেখাটি পরবর্তিতে প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছে। Click This Link)



ইতিহাসের সাক্ষী - বিবি মরিয়ম কামান http://www.sachalayatan.com/ragib/11840



দেখা হয়েছে চক্ষু মেলিয়া - গুরুদুয়ারা নানকশাহী, ঢাকা Click This Link



আরমানিটোলার তারা মসজিদ (বাংলা উইকিপিডিয়া থেকে) Click This Link



বিনত বিবির মসজিদ: ঢাকার প্রাক-মুঘল স্থাপনার নিদর্শন Click This Link







দর্শন


মিলগ্রামের পরীক্ষা - কোথায় রয়েছে আদেশ, আনুগত্য, বিবেক, আর নৈতিকতার সীমারেখা? http://www.sachalayatan.com/ragib/18413



স্টেরিওটাইপের কথকতা http://www.sachalayatan.com/ragib/13583







স্মৃতিচারণ



বাকের ভাইয়ের একদিন ... http://www.sachalayatan.com/ragib/20112



লাখের বাতি http://www.sachalayatan.com/ragib/15873





রশীদ হলের চিড়িয়াখানা - ৫ (অথঃ চোর সমাচার) http://www.sachalayatan.com/ragib/15183

রশীদ হলের চিড়িয়াখানা - ৪ (ডাইনিং, মোষ, ডিম চাইনিজ, ... আর লেপ-তোষকের বনফায়ার) http://www.sachalayatan.com/ragib/14564

রশীদ হলের চিড়িয়াখানা - ৩ (পানি বিশারদ ও নেতা কাহিনী) http://www.sachalayatan.com/ragib/14376

রশীদ হলের চিড়িয়াখানা - ২ (রুমমেট সমাচার) http://www.sachalayatan.com/ragib/14107

রশীদ হলের চিড়িয়াখানা - ১ http://www.sachalayatan.com/ragib/13990

আমি যখন ভূত http://www.sachalayatan.com/ragib/13937



বঙ্গবাজার দীর্ঘজীবী হোক http://www.sachalayatan.com/ragib/12130



মামু কাহিনী http://www.sachalayatan.com/ragib/11783



চীনা পাড়ায় বসবাস http://www.sachalayatan.com/ragib/11408



আমেরিকার উল্টোরথ http://www.sachalayatan.com/ragib/9254



লাইব্রেরি কথন http://www.sachalayatan.com/ragib/8974



দৃষ্টিহীন ভালোবাসা http://www.sachalayatan.com/ragib/1055



অতিথি পাখি, অতিথি আমি Click This Link



ইস্কুল খুইলাছেরে মাওলা ইস্কুল খুইলাছে Click This Link



অথ: বরফ সমাচার এবং 28 বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ (সচিত্র ও স-ভিডিও) Click This Link



ধন্যবাদের সংস্কৃতি Click This Link



বরফ চাপা চৌরাস্তা Click This Link



চার ধাক্কা Click This Link





ভ্রমণ


গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে একদিন (৩/শেষ) - প্রকৃতি, বিষ্ময়, আর জীবন যেখানে বহমান Click This Link

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে একদিন (২) - অতল খাতের গহীন বিষ্ময় Click This Link

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে একদিন (১) - প্রতীক্ষার রাত্রি Click This Link

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে একদিন (প্রারম্ভ) Click This Link





সিলিকন ভ্যালির ঢাকা Click This Link





আমেরিকার এপার ওপার : অবশেষে ক্যালিফোর্নিয়া (শেষ পর্ব) Click This Link

আমেরিকার এপার ওপার - সল্ট লেক থেকে উইনেমুকা Click This Link

আমেরিকার এপার ওপারঃ মরমনদের রাজ্যে Click This Link

আমেরিকার এপার ওপারঃ সমতল থেকে পর্বতে Click This Link

আমেরিকার এপার ওপার - যাত্রা হলো শুরু Click This Link







জীবনী



কনশিতার দিনরাত্রি http://www.sachalayatan.com/ragib/18311



এলোচিন্তা ১: আবদুস সালাম, সারাবিশ্বে সমাদৃত, নিজগৃহে নিপীড়িত জ্ঞান-তাপস http://www.sachalayatan.com/ragib/33262



নেলসন ম্যান্ডেলা - বর্ণবাদ বিরোধী সংগ্রামী - ২য় পর্ব http://www.sachalayatan.com/ragib/33897

নেলসন ম্যান্ডেলা - বর্ণবাদ বিরোধী সংগ্রামী - ১ম পর্ব http://www.sachalayatan.com/ragib/33724



২০০১ কিংবা ২০০৮/ অডিসির স্বপ্নদ্রষ্টার প্রস্থান http://www.sachalayatan.com/ragib/13374



শ্রদ্ধাঞ্জলি : সিদ্দিকা কবীরের রান্না খাদ্য পুষ্টি http://www.sachalayatan.com/ragib/11814



আমাদের ব্রজেন http://www.sachalayatan.com/ragib/9092



বাংলাদেশের সাহসী সন্তান (৪)- উল্লাসকর দত্ত Click This Link

বাংলাদেশের সাহসী সন্তান (৩) - প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার http://www.sachalayatan.com/ragib/1293

বাংলাদেশের সাহসী সন্তান (২) - প্রফুল্ল চাকী http://www.sachalayatan.com/ragib/1236

বাংলাদেশের সাহসী সন্তান - বিনয় বসু http://www.sachalayatan.com/ragib/1164



এক ক্ষণজন্মা প্রতিভার জীবনী - শহীদ বুদ্ধিজীবী মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী Click This Link

মুনীর চৌধুরী - রাজাকার/আল-বদরদের হাতে নির্বাপিত হলো যে প্রাণ (বাংলা উইকি থেকে জীবনী) Click This Link



শিবনারায়ণ দাশ - বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকার প্রথম নকশা-প্রণেতা Click This Link



বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সিপাহী হামিদুর রহমান Click This Link

বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - ইঞ্জিন আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন Click This Link

বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ Click This Link

বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর Click This Link

বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ Click This Link

বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সিপাহী মোস্তফা কামাল Click This Link

বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান Click This Link







উইকিপিডিয়া আন্দোলন



উইকিনামা - ২ : উইকি-রাজনীতির রকমফের http://www.sachalayatan.com/node/41760

উইকিনামা - ১ : উইকিপিডিয়াতে লেখে কারা? http://www.sachalayatan.com/node/41721



আমি কী হনু রে সিনড্রোম ও তার গপ্পো http://www.sachalayatan.com/ragib/23535



আজকের উইকি - লাল সবুজের পতাকার জয়যাত্রা http://www.sachalayatan.com/ragib/22816



দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ... (২) http://www.sachalayatan.com/ragib/20336

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া http://www.sachalayatan.com/ragib/20252



যে আগুন ছড়িয়ে গেলো সবখানে ... http://www.sachalayatan.com/ragib/12391



তারিফ এজাজের স্বপ্ন - আর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের কথা http://www.sachalayatan.com/ragib/12313



ভাষার ভালোবাসার ২১শে, আর জনমানুষের বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া http://www.sachalayatan.com/ragib/12276



ছবি চাই, ছবি। দিন না একটা ছবি। http://www.sachalayatan.com/ragib/11883



উইকিপিডিয়া খুঁজছে ... আপনাকেই! http://www.sachalayatan.com/ragib/11091



মডারেশন ১০২ : সক পাপেট কত প্রকার ও কি কি? http://www.sachalayatan.com/ragib/1631

মডারেশন ১০১ (অথবা উইকিপিডিয়াতে মডারেশনের প্রথম পাঠ) http://www.sachalayatan.com/ragib/1585



উইকিপিডিয়া: জনমানুষের বিশ্বকোষ - ১ http://www.sachalayatan.com/ragib/1025



বাংলা উইকিপিডিয়াতে সরাসরি লিখুন বাংলা http://www.sachalayatan.com/ragib/872



উইকিপিডিয়ার Troll কাহিনী http://www.sachalayatan.com/ragib/844



১০ বছরে উইকিপিডিয়া - জনমানুষের বিশ্বকোষের জয়যাত্রা Click This Link



উইকিপিডিয়ার প্রথম পাতায় বাংলাদেশ, ২৬শে মার্চ, ২০১০ Click This Link



আসুন, গড়ে তুলি জ্ঞানের ভাণ্ডার Click This Link





প্রিয় বাংলাদেশ - দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া তোমাকে (৬) - (উইকি কমন্স থেকে বাংলাদেশের ছবি) Click This Link

প্রিয় বাংলাদেশ - দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া তোমাকে (৫) - (উইকি কমন্স থেকে বাংলাদেশের ছবি) Click This Link

প্রিয় বাংলাদেশ - দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া তোমাকে (৪) Click This Link

প্রিয় বাংলাদেশ - দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া তোমাকে (৩) Click This Link

প্রিয় বাংলাদেশ - দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া তোমাকে (২) Click This Link

প্রিয় বাংলাদেশ - দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া তোমাকে (১) Click This Link



বিন্দু থেকে সিন্ধু গড়া - আমার উইকি অভিজ্ঞতা - ২ Click This Link

বিন্দু থেকে সিন্ধু গড়া - আমার উইকি অভিজ্ঞতা - ১ Click This Link



একুশের সকাল - উইকিপিডিয়াতে ভাষা আন্দোলন Click This Link



ভাষার ভালোবাসার ২১শে, আর জনমানুষের বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া Click This Link





উইকি-আড্ডাতে আমন্ত্রণ Click This Link



আলপিন এখন উইকিপিডিয়ার প্রথম পাতায় Click This Link



ঢাকাতে আজ বাংলা উইকিপিডিয়ানদের আড্ডা Click This Link



বিডিনিউজে উইকিপিডিয়ার ছবি ব্যবহার, এবং মেধাসত্ত্ব নিয়ে কিছু কথা Click This Link



চট্টগ্রাম ভূমিধ্বস এখন ইংরেজি উইকিপিডিয়ার প্রথম পাতায় Click This Link



এবার উইকিপিডিয়ার প্রথম পাতায় ঢাকা শহরের নিবন্ধ Click This Link



পহেলা বৈশাখে বাংলা উইকিপিডিয়ার সমাবেশ ও শোভাযাত্রা Click This Link



উইকিপিডিয়ার প্রথম পাতায় জিয়াউর রহমান Click This Link



বাংলা উইকিপিডিয়া সিডি প্রকল্প : জনমানুষের জন্য তথ্য ভাণ্ডার Click This Link



আবারো উইকিপিডিয়াতে বাংলাদেশ /একুশে ফেব্রুয়ারি Click This Link





উইকিপিডিয়া: জনমানুষের বিশ্বকোষ (পর্ব ৬) Click This Link

উইকিপিডিয়া: জনমানুষের বিশ্বকোষ (পর্ব ৫) Click This Link

উইকিপিডিয়া: জনমানুষের বিশ্বকোষ (পর্ব ৪) Click This Link

উইকিপিডিয়া: জনমানুষের বিশ্বকোষ (পর্ব ৩) Click This Link

উইকিপিডিয়া: জনমানুষের বিশ্বকোষ (পর্ব ২) Click This Link

উইকিপিডিয়া: জনমানুষের বিশ্বকোষ (পর্ব ১) Click This Link



উইকিপিডিয়ার প্রথম পাতায় শেখ মুজিবুর রহমান Click This Link



ইতিহাসের সন্ধানে: পুরানো ঢাকায় উইকি-অভিযান - দ্বিতীয় পর্ব Click This Link

ইতিহাসের সন্ধানে: পুরানো ঢাকায় উইকি-অভিযান - প্রথম পর্ব Click This Link

পুরানো ঢাকার হারানো পুরাকীর্তি Click This Link



উইকিপিডিয়া টিউটোরিয়াল - ২য় পর্ব Click This Link

উইকিপিডিয়া টিউটোরিয়াল - ১ম পর্ব Click This Link



বাংলাদেশের ছবি Click This Link



বাংলা ভাষার বিশ্বকোষ Click This Link





উচ্চশিক্ষা



চিলের হাতে বিপন্ন কান, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং নিয়ে বিভ্রান্তি http://www.sachalayatan.com/ragib/34878 (সচলায়তনের অন্যতম বহুলপঠিত পোস্ট, ৭৭০০ বার পঠিত)



যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর শিক্ষা - ফান্ডিং এর সোনার হরিণ Click This Link

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর শিক্ষা -- আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু তথ্য http://www.sachalayatan.com/ragib/28313

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর শিক্ষা - পিএইচডি নাকি মাস্টার্স Click This Link

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর শিক্ষা - কীভাবে লিখবেন স্টেটমেন্ট অফ পারপাস Click This Link







ডিগ্রী বেচার প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ (৩) (শেষ) http://www.sachalayatan.com/ragib/9434

ডিগ্রী বেচার প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ (২) http://www.sachalayatan.com/ragib/9414

ডিগ্রি বেচার প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ (১) http://www.sachalayatan.com/ragib/9369







প্রযুক্তি



যন্ত্রগণকের যন্তর মন্তর - ৩ http://www.sachalayatan.com/ragib/28664

যন্ত্র গণকের যন্তর মন্তর - ২ http://www.sachalayatan.com/ragib/21754

যন্ত্র গণকের যন্তর মন্তর - ১ http://www.sachalayatan.com/ragib/21652



স্মৃতিচারণে হ্যাল, ইলিয়াক আর মোজাইক - তারুণ্যের দিনবদল http://www.sachalayatan.com/ragib/23367



গুগলের বাংলা ইন্টারফেইসে কী সমস্যা? জানিয়ে দিন সরাসরি গুগলকেই ... http://www.sachalayatan.com/ragib/21302



নমস্য ইউজার - গুগল, ইয়াহু!, আর আন্তর্জালের দূরদর্শিতা http://www.sachalayatan.com/ragib/14410





কম্পিউটার নিরাপত্তার পাঠ: ডিজিটাল সিগনেচার বা স্বাক্ষর http://www.sachalayatan.com/ragib/12714

কম্পিউটার নিরাপত্তার পাঠ - Encryption বা তথ্যগুপ্তিকরণ (২) http://www.sachalayatan.com/ragib/12354

কম্পিউটার নিরাপত্তার পাঠ - Encryption বা তথ্যগুপ্তিকরণ (১) http://www.sachalayatan.com/ragib/12297

কম্পিউটার নিরাপত্তার পাঠ: Denial of Service attack বা সেবা-বিঘ্নকারী আক্রমণ http://www.sachalayatan.com/ragib/12232





গুগল কথন (বোনাস) - টেস্টিং অন দ্য টয়লেট আর কুকুর সমাচার http://www.sachalayatan.com/ragib/28214

গুগল কথন ৬: প্রযুক্তির স্রোতে অবগাহন (সমাপ্ত) http://www.sachalayatan.com/ragib/11048

গুগল কথন ৫: কর্মীরা যেখানে রাজা http://www.sachalayatan.com/ragib/10684

গুগল কথন ৪: ব্রিন আর পেইজের কথা http://www.sachalayatan.com/ragib/10655

গুগল কথন ৩: গুগলপ্লেক্সের ভিতরে বাইরে http://www.sachalayatan.com/ragib/10601

গুগল কথন ২: ডাইনোসরের ছায়ায় স্পেসশীপ http://www.sachalayatan.com/ragib/10580

গুগল কথন ১: প্রযুক্তির প্রাণকেন্দ্রে বসবাস http://www.sachalayatan.com/ragib/10560

গুগল Click This Link

গুগলে আমি Click This Link



বাংলাদেশের জন্য কাংক্ষিত প্রযুক্তি http://www.sachalayatan.com/ragib/1580





বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ



মুক্তিস্মৃতি ১ - মুক্তিযুদ্ধের টুকরো খবর http://www.sachalayatan.com/ragib/30037





উইকিযুদ্ধ - মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখার সমবেত প্রয়াস (পর্ব ২) http://www.sachalayatan.com/ragib/29476

উইকিযুদ্ধ - মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখার সমবেত প্রয়াস (পর্ব ১) http://www.sachalayatan.com/ragib/29373





বাংলার স্বাধীনতা আনলো যারা - আমাদের সেই সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা http://www.sachalayatan.com/ragib/28963



উইকিপিডিয়ায় যুদ্ধাপরাধীদের কালো থাবা -- প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে আপনাকেই! http://www.sachalayatan.com/ragib/27130



মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থপঞ্জি, পত্রিকার খবর, এবং তথ্যসূত্রের সংকলন http://www.sachalayatan.com/ragib/11460



মুক্তিযুদ্ধ উইকিয়াতে সবাইকে স্বাগতম http://www.sachalayatan.com/ragib/1482



মুক্তিযুদ্ধ http://www.sachalayatan.com/ragib/1440



গুরুত্বপূর্ণ - মুক্তিযুদ্ধের উপরে উইকি সাইট http://www.sachalayatan.com/ragib/1377



২৬শে মার্চ, ১৯৭১ | জগন্নাথ হল | গণহত্যা Click This Link



টুকরো টুকরো মুক্তিযুদ্ধ - টাইম ম্যাগাজিনে ১৯৭১ Click This Link





বাংলার স্বাধীনতা আনলো যাঁরা - বীর প্রতীক মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা Click This Link

বাংলার স্বাধীনতা আনলো যাঁরা - বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা Click This Link

বাংলার স্বাধীনতা আনলো যারা - বীর উত্তম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা Click This Link



স্বাধীনতার পরিক্রমা - বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র Click This Link







সাম্প্রতিক ঘটনাবলী



ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণ - বারাক ওবামা আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিতে গেছেন!!! Click This Link



একুশের চেতনা নিয়ে মিথ্যাচার - ডাকটিকিট সমাচার http://www.sachalayatan.com/ragib/12167







ভাষা ও সমাজ



নামের বাহার, বাহারী নাম, ফরমুলাতে, ফেলেছি ঘাম! (২) http://www.sachalayatan.com/ragib/31074

নামের বাহার, বাহারী নাম, ফরমুলাতে, ফেলেছি ঘাম http://www.sachalayatan.com/ragib/30219



\ ভাষার ধর্ম | ধর্মের ভাষা / http://www.sachalayatan.com/ragib/21371



বাংলা যখন হিন্দি হলো - হায় রবীন্দ্রনাথ! http://www.sachalayatan.com/ragib/9218





ভাষার কড়চা - ৩ http://www.sachalayatan.com/ragib/847

ভাষার কড়চা - ২ http://www.sachalayatan.com/ragib/656

ভাষার কড়চা - ১ http://www.sachalayatan.com/ragib/653



বাফেলো বাফেলো বাফেলো বাফেলো বাফেলো বাফেলো বাফেলো বাফেলো Click This Link



বাংলা যখন অচ্ছুৎ , অবহেলিত Click This Link



বাংলা নববর্ষে - নতুন প্রজন্মের জন্য বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির কথা Click This Link



ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তের তপসে মাছ Click This Link



বঙ্গবাণী - আবদুল হাকিমের কাব্য Click This Link









রাজনীতি



অর্থনীতি , বাংলাদেশ, এবং কিছু এলোমেলো ভাবনা http://www.sachalayatan.com/ragib/15637



দেশ বিভাগ - সুফল ও কুফল http://www.sachalayatan.com/ragib/1018



আত্মপরিচয়ের সন্ধানে http://www.sachalayatan.com/ragib/939











বিবিধ আলোচনামূলক পোস্ট



এলোপ্রশ্ন - ১ http://www.sachalayatan.com/ragib/35561



এলোচিন্তা ২ – ট্র্যাজেডির সেই নায়কেরা http://www.sachalayatan.com/ragib/33412



আজ ঘোষণা দিয়ে আমি দালাল হলাম ... http://www.sachalayatan.com/ragib/25507



হৃদয়ের কথা - দুই বছর পর http://www.sachalayatan.com/ragib/9435]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29481038 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29481038 2011-11-11 02:07:00
উইকিনামা - ২ : উইকি-রাজনীতির রকমফের কর্তৃপক্ষের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে ...

উইকিপিডিয়ার নানা নিবন্ধের লেখা নিয়ে খাপ্পা, এমন মানুষের সংখ্যা কম নয় বটে। "অমুক নিবন্ধে তমুক নাই কেনো?", "তমুক রাজনীতিবিদকে চোর বলা হয়েছে কেনো?", "সমুক ব্যাটার যুদ্ধাপরাধ উল্লেখ করা হয়েছে কেনো?" -- এমন অভিযোগ আছে অনেকেরই, আর সেজন্য উইকিপিডিয়ার কর্তৃপক্ষের গদিতে আগুন জ্বালাতে তারা পারলে এখনই রওনা দিতে প্রস্তুত। কেউ কেউ আবার এক কাঠি এগিয়ে, বাংলাদেশের এক কুখ্যাত রাজাকার তার জীবনী নিবন্ধে তাকে রাজাকার বলা হয়েছে কেনো, এই নিয়ে উকিল নোটিশ পর্যন্ত পাঠিয়েছিলেন সরাসরি উইকিপিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েল্সের নামে!!

তা, উইকিপিডিয়ার "কর্তৃপক্ষটা" কে? বেচারা জিমিকে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে খুব একটা ফায়দা হবে কি?

এই প্রশ্নের জবাবটা বেশ ইন্টারেস্টিং। উইকিপিডিয়ার কর্তৃপক্ষ টাইপের কিছু আসলে সেরকম নেই। আদৌই।

খোলাসা করে বলি, উইকিপিডিয়ার সার্ভারগুলো আর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ভার রয়েছে উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন নামের একটা নন-প্রফিট সংস্থার হাতে। এর সদরদপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিস্কোতে। (সেখানেই রাজাকারটির উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছিলো!!)। আর উইকিপিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েল্স এই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এমেরিটাস পদে আছেন। তবে খুব অল্প কিছু বিষয় বাদে (যেমন, চাইল্ড পর্ন, ব্যক্তি আক্রমণ) আর কোনো ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন বা জিমি ওয়েল্সের কোনো হাত নেই উইকিপিডিয়ার কোনো নিবন্ধে। খোদ জিমি ওয়েল্সের উইকি-জীবনী নিবন্ধেই তার নামে একগাদা সমালোচনা রয়েছে (রেফারেন্স সমেত)। (আর উইকিতে কী লেখা হচ্ছে, তার দায় দায়িত্ব মার্কিন আইন অনুসারে উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের না, সে দায়টা যে লেখা যোগ করবে, তার।)

তাহলে উইকিপিডিয়ার লেখা কী হবে, সেটা চালায় কে?



ঢাল নেই তলোয়ার নেই, নিধিরাম প্রশাসক


উইকিপিডিয়ার সম্পাদকেরা? মানে নিবন্ধিত লেখকেরা? তাহলে দেখা যাক নিবন্ধিত লেখকদের রকমফের। উইকিপিডিয়ার কিছু নির্ভরযোগ্য এবং মোটের উপরে নিরপেক্ষ ইউজারকে বেশ খুঁটিনাটি দেখা একটি ভোটের প্রক্রিয়া পেরিয়ে "প্রশাসক " পদে উন্নীত করা হয়। এই প্রশাসকেরা কিন্তু আবার বাংলাদেশের জেলা প্রশাসক বা এমপি মার্কা নন ... নামে প্রশাসক হলেও কামে এরা কিন্তু খুব সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতা রাখেন। কাগজে কলমে প্রশাসকদের ক্ষমতার মধ্যে আছে, নিবন্ধ মুছে ফেলা, বেয়াড়া ইউজারকে ব্যান করা, কিংবা খুব বেশি ভ্যান্ডালাইজ হয় এমন পাতাকে সুরক্ষিত করে রাখা। কিন্তু প্রতিটা কাজের লগ হলো পাবলিক, আর প্রতিটা ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক অ্যাকশনের জবাবদিহি করতে এই প্রশাসকেরা বাধ্য। কাজেই নিজের ইচ্ছামতো কোনো মতামত উইকিতে ঢোকানোর এখতিয়ার এদেরও নেই, বরং এরকম ধান্ধা করতে গিয়ে অনেকেই নানা সময়ে প্রশাসকের গদি হারিয়ে ফেলেছে। প্রশাসকদের কাজকে বড়োজোর ঝাড়ুদারের সাথে তুলনা করা যেতে পারে, উইকি থেকে আবর্জনা, জঞ্জাল এসব দূর করাই তাদের কাজ, নিদেনপক্ষে দুই ইউজারের ঝগড়া মেটাতে প্রশাসকেরা কড়াভাবে নিয়ম মেনে তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন, এই যা।


ঝগড়া, চুলাচুলি, এবং অতঃপর


প্রতিষ্ঠাতাও চালাননা, প্রশাসকেরাও না, তবে উইকিপিডিয়ার কোন নিবন্ধে কী থাকবে, তা নির্ধারিত হয় কীভাবে? এইখানেই হলো ইন্টারেস্টিং ব্যাপার, উইকিপিডিয়ার নানা নিবন্ধের লেখা কেমন হবে তা কিছু নীতিমালা এবং উইকির লেখকদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়ে থাকে। গত পোস্টের কমেন্টেই বলেছিলাম, উইকিতে লেখা যোগ যে কেউ করতে পারে, তবে নিয়ম না মানলে সেই লেখা টিকে থাকবে না। নিয়মগুলোর সংখ্যা অল্পই, আর তা হলো, প্রতিটা কথার রেফারেন্স নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র থেকে চাহিবা মাত্র দিতে বাধ্য থাকতে হবে, আর লেখাকে লিখতে হবে নিরপেক্ষভাবে। যেমন, "হাবুল ব্যাটা চোর, তার মতো ভয়ানক দুইনম্বর মানুষ আর হয়না" টাইপের কথা লেখা চলেনা, বরং লেখা চলে, "অমুক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাবুল একজন চোর", ব্য্স। মানে উইকিতে কথা বলতে হলে নিজের বরাতে বলা যাবে না, বরং সূত্রের উল্লেখ রেখে নানা সূত্রে কী বলা হয়েছে, সেটা উল্লেখ করাই যাবে কেবল। আর ফ্যাক্ট ছাড়া বিশেষণ বাদ দিয়ে ("নৃশংস", "মর্মান্তিক", "ভয়াবহ") লিখতে হবে সবখানে।

নীতিমালা সুস্পষ্ট থাকলেও অনেক সময়ে বিতর্ক শুরু হয় বটে। কোন সূত্র বিশ্বাসযোগ্য, কোনটা না, কিংবা কোনো নিবন্ধে কোন কোন মতবাদ প্রকাশ পাবে, সেটা নিয়ে প্রায়ই রীতিমতো মারদাঙ্গা ঝগড়া বেধে যায়। ঝগড়া, থুক্কু "আলোচনা" করার জন্য উইকিপিডিয়ার প্রতিটি পাতার সাথে রয়েছে একটি আলাপ পাতা। বলা বাহুল্য, আলাপের চাইতে সেখানে ঝগড়াই বেশি হয়। প্রাত্যহিক জীবনের মতোই কুতর্কে পারদর্শী লোকজনের সংখ্যা উইকিতে কম নয়, আর নিজের (চরমপন্থী) মতাদর্শে প্রচন্ডভাবে নিবেদিত, এমন লোকের সংখ্যা পারলে উইকিতে অনেক অনেক বেশিই বটে। ফলে সামান্য বা গুরুতর, সব বিষয়ের মতপার্থক্যেই পাতার পর পাতা লিখে লিখে ঝগড়া করতে এদের উৎসাহ কিংবা সময়ের কমতি নেই।

থিওরেটিকালি, আলাপ পাতায় আলোচনা করে একটা ঐক্যমতে পৌছানোটা উইকির নিয়ম। অনেক ক্ষেত্রেই সেটা কাজ করে। এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার চাইতে যুক্তির সঠিকতাই বেশি গুরুত্ব পায়। তবে, সেটা থিওরেটিকালি। বাস্তব ক্ষেত্রে বাস্তব জীবনের মতো উইকিতেও গড়ে উঠেছে নানা মতাদর্শের লেখকগোষ্ঠী। আগের পোস্টেই দেখিয়েছিলাম, উইকির লেখক হলো গড় হিসাবে ৩০ এর নিচে বয়সী, পুরুষ, সিঙ্গল, পিতা নন, এরকম। আর ইন্টারনেটে পড়ে থাকার অঢেল সময় আছে। এরকম কেউ যদি চরমপন্থী মনোভাবাপন্ন হন, তবে তো কথাই নেই, দিনের পর দিন মন্তব্যের পর মন্তব্যের ঝড় বইয়ে দিয়ে আলাপ পাতার সাইজ কয়েক মেগাবাইট বানিয়ে ফেলতে তারা পিছপা হয়না। ফলে উইকিপিডিয়ার বেশ কিছু বিতর্ক মিমাংশা হয়না কখনোই। এর মাঝে হাস্যকর কিছু ইস্যু যেমন আছে (তারিখ লেখার সিস্টেম কি মার্কিনী নাকি ইংরেজি হবে, বলিউডের সিনেমাগুলো কি হিন্দি নাকি উর্দু, নাকি হিন্দুস্তানী ভাষার), তেমনি আছে গুরুতর সব বিষয় (জলবায়ু পরিবর্তন, ফিলিস্তিন-ইজরায়েল বিতর্ক, তুর্কি-আর্মেনিয় বিতর্ক)। গুরুতর ঝগড়া মেটাতে শেষ রক্ষা হলো উইকির নিজের আর্বিট্রেশন কাউন্সিল বা সালিশী বোর্ড, যেখানে "মামলা" দায়ের করে কোনো বিষয়ের মিমাংসা করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার পরেও রয়ে যায় গুরুতর সব বিতর্ক।

তাহলে চলে কীভাবে উইকি?

যাহোক, এর পরেও উইকিপিডিয়া চলছে। আম জনতা মোটের উপরে কুতর্ক অপছন্দ করে, এই থিওরিটা উইকির সাফল্যেই প্রমাণিত। তবে উইকির নিবন্ধগুলোর সবগুলো নিরপেক্ষ নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে চরমপন্থী লেখকগোষ্ঠী তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আর গলাবাজির জোরে নিজেদের দিকে নিবন্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বটে। ভারতীয়, চীনা, কিংবা আর্মেনিয় উইকিপিডিয়ানেরা এর উদাহরণ -- উইকিতে এসব দেশের বিপক্ষে যায় এমন কিছু লিখে পার পাওয়াটা বেশ কঠিন, সাথে সাথে ঝাঁপিয়ে পড়বে এসব দেশের হাজারো উইকিপিডিয়ান সেই মতের বিপক্ষে লড়তে। দুঃখজনক হলো, বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করার মতো সেরকম কাউকে পাওয়া যায় না, ফলে উইকিযুদ্ধ মহাসমারোহে শুরু হয়েও হয়ে পড়ে স্থবির, কিংবা শর্মিলা বোসের মতবাদ উইকিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়া ঠেকাতে হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করতে হয় সবাইকে। সে তুলনায় বাংলাদেশ বা তার স্বাধীনতাবিরোধী চরমপন্থীরা বেশ নিবেদিতপ্রাণ। সব দেশেই তাই। ফলে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণাত্মক উগ্র জাতীয়তাবাদী মতবাদ যেমন ধীরে ধীরে ঢুকে যাচ্ছে উইকিতে, তেমনি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের নিবন্ধেও সুক্ষ্ণভাবে চুনকামের কাজটা চলছে। উইকিতে দেয়ার মতো সময় সবার না থাকলেও এই চরম নিবেদিতপ্রাণ চরমপন্থীদের কিন্তু ঠিকই আছে।

---

তো, জিমি ওয়েলসকে ঢাকার উত্তরা থেকে পাঠানো উকিল নোটিশের কী হলো? বলাই বাহুল্য, ঐ নোটিশটা ট্র‍্যাশে ফেলা ছাড়া ফাউন্ডেশনের আর কোনো কাজ ছিলোনা, যেহেতু তারা "কর্তৃপক্ষ" নয়। তবে তার মানে কি সেই যুদ্ধাপরাধীর কুকীর্তি উইকিতে আছে? নাহ, তা আর নেই। আর সেটা নেই উকিল নোটিশের ভয়ে নয়, বরং উইকিপিডিয়ার যাচাইযোগ্যতার নিয়মের কারণে -- ব্লগে পত্রিকায় যুদ্ধাপরাধীদের কথা নিয়ে উৎসাহ কম না থাকলেও ঠিকমতো শক্ত রেফারেন্স দিয়ে লেখার লোকের অভাব বাংলাদেশে ব্যাপক। ফলে রেফারেন্সবিহীন তথ্যগুলো নিতান্ত অপারগ হয়ে সরিয়ে ফেলতে হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধীদের কুকীর্তি কি তবে হারিয়ে যাবে জনমানুষের বিশ্বকোষ থেকে? না, সেটা হবে না, তবে সেই হারিয়ে যাওয়াটা এড়াতে হলে কোনো একজনকে এগিয়ে আসতে হবে।

সেই কোনো একজনটা কে?

আপনি?

(উইকিনামার ১ম পর্ব )

(ছবির কৃতজ্ঞতা - ফ্রিফোটোডটকম , গ্রাফিক্সহান্ট্ডট্কম, ফায়ারস্যাম)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29475460 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29475460 2011-10-31 02:00:26
উইকিনামা - ১
উইকিপিডিয়ার সাথে আমার সম্পর্ক প্রায় সাড়ে সাত বছরে গড়াতে চললো। সেই ২০০৪ সালের মার্চ মাসে একাউন্ট খুলেছিলাম ইংরেজি উইকিপিডিয়াতে। তার বছর দুয়েক পর কাজ শুরু করি বাংলা উইকিপিডিয়াতে। এই সাত বছরে উইকিপিডিয়াতে দেখেছি নানা রঙ্গ, আর পরিচয় হয়েছে মানব মনোস্তত্ত্বের নানা দিকের সাথে। এই সিরিজটা আসলে উইকিতে কেনো লিখবেন, তার আহবান নয়, বরং উইকির নানা বৈচিত্র‍্যময় দিকের উপস্থাপনা মাত্র।

(এক) উইকিতে লেখে কারা?

উইকিপিডিয়ার বিপুল বিস্তর নিবন্ধগুলো কারা লেখে, তা নিয়ে কৌতুহল দেখেছি অনেকের মাঝেই। সাধারণত এই ব্যাপারগুলা বেরিয়ে আসে উইকির কোনো নিবন্ধের উপরে খাপ্পা হয়ে থাকা, অথবা উইকিকে রেফারেন্স টানা - এই দুই দলের লোকজনের মাঝেই ("উইকিতে লিখেছে অমুক", অথবা "উইকির সব তথ্য ভুলভাল" ইত্যাদি ইত্যাদি)।

ব্যাপার হলো, উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলো কিন্তু কোনো বিশেষজ্ঞের হাতে লেখা না। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উইকির নিবন্ধের মূল লেখকদল হলো

(১) কিশোর বা তরুণ বয়সী
(২) পুরুষ
(৩) ছাত্র
(৪) অবিবাহিত
(৫) বিবাহিত হলেও সন্তান নেই
(৬) একটু বোরড, কিংবা চরম নিবেদিতপ্রাণ

তো, উইকির লেখককূলের মধ্যে এহেন বৈশিষ্ট্যধারীদের সংখ্যা কীরকম? কিছু পরিসংখ্যান দেখা যাক - উইকিপিডিয়ার লেখককূলের ৮০ শতাংশ হলো পুরুষ, ৬৫ শতাংশ অবিবাহিত বা কোনো সম্পর্কে জড়িত নন, ৮৫ শতাংশের বেশির সন্তান নেই, আর ৭০ শতাংশের বয়স ৩০ এর নিচে!! আরেকটা জরীপে দেখা যায়, উইকিপিডিয়ার লেখকদের মধ্যে নারীদের হার মাত্র ১৩ শতাংশ!

বাংলা উইকিপিডিয়ার লেখকদের ডেমোগ্রাফিক্স নিয়ে সেরকম গবেষণা হয়নি, তবে সক্রিয় লেখকদের যে তথ্য আমার জানা আছে, তাতে করে এই প্রবণতা বাংলা উইকিপিডিয়াতেও খুব ভালো করেই চালু, তা বলতে পারি।

উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলোতে কি এর প্রভাব পড়েছে? অবশ্যই!! অবিবাহিত তরুণবয়সী পুরুষদের আগ্রহ যেসব বিষয়ে, উইকিপিডিয়াতে সেগুলোর উপরে বিশাল বিশাল বিস্তারিত এবং উন্নতমানের সব নিবন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। পক্ষান্তরে নারীদের কাছে জনপ্রিয় বেশি এমন সব বিষয়ের উপরে নিবন্ধের সংখ্যা কম, আর তাতে তথ্যের ঘাটতিও ব্যাপক। নিউ ইয়র্ক টাইম্সের এক নিবন্ধ অনুসারে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষিতে) কিশোর বা তরুণদের কাছে জনপ্রিয় এমন বিষয়, যেমন অ্যাকশন সিরিজ, খেলাধুলা এসব বিষয়ের নিবন্ধের আকার বেশ বড়, আর তাতে তথ্যের ব্যাপকতাও অনেক বেশি। সেই তুলনায় কিশোরীদের বা তরুণীদের কাছে জনপ্রিয় বিষয়, যেমন ফ্রেন্ডশিপ ব্রেসলেট অথবা ফ্যাশন ডিজাইনার অথবা রোমান্টিক চলচ্চিত্রের নিবন্ধে বড়জোর তিন চার প্যারাগ্রাফ তথ্য থাকে। একইভাবে সাইন্স ফিকশন ঘরাণার সিরিজ কিংবা লেখকদের উপরে যেখানে পাতার পর পাতা তথ্য যোগ হয়ে চলে, সেখানে নারীবাদী লেখক/লেখিকাদের নিবন্ধ প্রায় ফাঁকা রয়ে যায়। আবার তরুণদের কাছে জনপ্রিয় সিনেমার নায়িকাদের নিবন্ধগুলো হয়ে পড়ে বিপুল তথ্যে সমৃদ্ধ। (বাংলা ভাষায় অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নিবন্ধটি দেখুন, বাংলা উইকিপিডিয়ার সবচেয়ে সুলিখিত নিবন্ধগুলোর মধ্যে এটা রয়েছে হাসি )। আর স্টার ট্রেকের কিশোর বা তরুণ ভক্তরা উইকিপিডিয়াতে স্ট্রার ট্রেকের উপরে কয়েকশ নিবন্ধ তৈরী করেই ক্ষান্ত দেয়নি, বরং স্ট্রার ট্রেকের নিবন্ধগুলোর আরো বিস্তারিত সংকলন করার জন্য আলাদা একটা উইকি খুলে বসেছে!

অবশ্য প্রশ্ন হলো, বোরড হয়ে থাকা কিশোর বা তরুণদের হাতে সংকলিত বলে নিবন্ধগুলোর মানের কি অবনতি ঘটছে? উইকিপিডিয়ার শুরুর দিকে প্রথাগত বিশ্বকোষ প্রকাশকেরা উইকির মান নিয়ে শুরু করেছিলো বিশাল হৈচৈ -- নিম্নমান টান বলে এক ব্যাপক প্রপাগান্ডা ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছিলো সেসময়। (কারণ বুঝতে সময় লাগেনা, মাগনা বিশ্বকোষ হাতে পেলে কে আর হাজার হাজার টাকা খরচ করে খণ্ড খণ্ড ব্রিটানিকা বা বাংলাপিডিয়া কিনবে??)। নিন্দুকের মুখ বন্ধ করে দেয় ২০০৫ সালে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান জার্নাল নেচারে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র , যাতে দেখানো হয় উইকিপিডিয়া আর এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার নিবন্ধের মান প্রায় সমতূল্য। আর গত ৬ বছরে তো উইকিপিডিয়ার নিবন্ধের মান আর বিষয়ের বৈচিত্র‍্য ছাপার সব বিশ্বকোষকে ছাড়িয়ে গেছে বহুগুণে।

উপরে বৈশিষ্ট্যের তালিকা যা দিয়েছি, তার ১-৫ নাহয় বোঝা গেলো। একাকী কিশোর বা তরুণ সময় কাটাতে উইকিপিডিয়াতে বিশাল অবদান রাখছে। কোনো সম্পর্কে জড়ালে কিংবা পরবর্তীতে সন্তান আসলে সে রকম সময় আর দেয়া হয় না। কিন্তু ৬ নম্বরের ব্যাপারটা কী? আসুন সেটা দেখা যাক ... পরের পর্বে?

(পরের পর্ব - উইকিপিডিয়ার রাজনীতি - উইকির নিবন্ধগুলো কি নিরপেক্ষ? পুরোপুরি না।)

(ছবির কৃতজ্ঞতা - র‍্যান্ডির গিক হিরো কমিক )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29473915 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29473915 2011-10-28 20:36:17
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা - প্রফেসরদের ইমেইল করবেন কীভাবে?
ফান্ডিং পাওয়া নিয়ে আগের পর্বে লিখেছিলাম। ফেলোশীপ বা টিচিং অ্যাসিস্টান্টশীপ ছাড়া ফান্ডের অন্য উৎস হলো প্রফেসরদের কাছ থেকে রিসার্চ অ্যাসিস্টান্টশীপ পাওয়া। প্রফেসরেরা সরকারী বেসরকারী নানা উৎস হতে গবেষণার জন্য অনুদান পেয়ে থাকেন, সেই প্রকল্পে কাজ করার জন্য ছাত্র দরকার তাদেরও। কাজেই অনেক সময় প্রফেসরদের হাত করা গেলে ফান্ড পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

দেশে থেকে সেটা কীভাবে করবেন? এখানেই আসছে সুলিখিত ইমেইলের ভূমিকা।

কোনো প্রফেসরকে ইমেইল করতে হলে শুরুতেই তার ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে প্রকাশনার তালিকা, সব ঘেঁটে দেখুন। প্রফেসরের গবেষণা সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিন। তারপর ভেবে দেখুন, আপনার পছন্দের কোন বিষয়ের সাথে সেটা মিলছে। এসব পড়াশোনা করে তারপর ঠিক করুন কী বিষয়ে আলোচনা করতে লিখবেন।

প্রথমেই আসা যাক, ইমেইলের শিরোনাম ও ধাঁচ নিয়ে। অধিকাংশ ভর্তিচ্ছু ছাত্ররা একটা বড় ভুল করে ... ইমেইল করেই সরাসরি বলে, আপনার কাছ থেকে ফান্ড চাই, অথবা আপনার গ্রুপে ঢুকতে চাই। এরকম কয়েকশো ইমেইল প্রতিবছর একেকজন প্রফেসর পান। কাজেই টাকা দিন বললেই কাজ হবে, সেই আশা করাটা বাতুলতা মাত্র। সেজন্য সরাসরি শুরুতেই ফান্ডের কথা না বলে বরং রিসার্চ নিয়ে বলা ভালো। প্রফেসরের গবেষণার এলাকা বা তাঁর কোনো গবেষণাপত্র নিয়ে প্রশ্ন করে শুরু করতে পারেন। কয়েকবার ইমেইল চালাচালি করে তারপর তার গ্রুপে ছাত্র নেয়া হবে কি না, সেটা তখন বলতে পারেন। আপনার মূল লক্ষ্য হবে যাকে ইমেইল পাঠাচ্ছেন, তার আস্থা অর্জন করা আর আপনাকে ছাত্র হিসাবে নিলে ভালো হবে, এই ধারণা দেয়া।

ইমেইলে আরেকটা বড় ভুল ছাত্ররা করে, তা হলো ইমেইল পাঠাবার সময়ে ভাষা ও বানানের দিকে খেয়াল না করা। কেবল বাংলাদেশ না, বিদেশের নানা জায়গার ছাত্ররাও এই কাজ করে। আমি কোনো ছাত্রের ফান্ড না দিলেও কিছু ইমেইল পেয়েছি চীনা ছাত্রদের থেকে। এমন এক ছাত্র ইমেইল করলো, আমার সাথে কাজ করতে চায়, কিন্তু মেইলের ভিতরে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম লেখা, মানে কপিপেস্ট করে একই মেইল শখানেক জায়গায় পাঠিয়েছে। এভাবে ইমেইল করলে তা ধরে ফেলাটা খুব সহজ।

সবশেষে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটা ব্যাপার বলি, অফিশিয়াল কাজে ব্যবহার করার জন্য একটা আলাদা ইমেইল খুলুন। অনেকেই "কুল" হওয়ার জন্য বিদঘুটে সব ইমেইল খুলে, যেমন কুলগাই২১২@জিমেইল, কিংবা সুইটগার্ল৫৪৪ ইত্যাদি। এধরণের ইমেইল থেকে মেইল পাঠালে সেই ছাত্র/ছাত্রীকে যে কারো পাত্তা দেয়ার সম্ভাবনা কম। কাজেই আলাদা ইমেইল খুলুন নিজের নামে, সবচেয়ে ভালো হয় নিজের নামের প্রথমাংশ ডট শেষাংশ, এভাবে খুলতে পারলে। যেমন, আপনার নাম আবদুল করিম হলে আবদুল.করিম@জিমেইল, তা না পেলেও আবদুল.করিম৫@জিমেইল, এভাবে খুলতে পারেন। মেইল পাঠাবার আগে বানান খেয়াল করে নিন, ব্যকরণ ঠিক আছে নাকি দেখুন।

(আগের পর্ব )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29355304 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29355304 2011-04-02 01:37:11
১০ বছরে উইকিপিডিয়া - জনমানুষের বিশ্বকোষের জয়যাত্রা
জ্ঞান-বিজ্ঞানকে একসাথে জড়ো করে রাখার প্রচেষ্টা কিন্তু আজকের নয়। আজ থেকে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি বছর আগে অ্যারিস্টোটল লিখেছিলেন বিশ্বকোষ। তাঁর পর ইতিহাসবিদ প্লিনি লিখেন ৩৭ খন্ডে এক বিশাল বিশ্বকোষ। ৯ম শতকে এরকম একটি বিশ্বকোষ তৈরীর কাজ করেন চীনা পন্ডিতরা। মুসলিম বিজ্ঞানী আবু বকর আল রাযী লিখেন বিজ্ঞানের বিশ্বকোষ। ইবনে সিনা লিখেছেন চিকিৎসার বিশ্বকোষ। অষ্টাদশ শতকে ফরাসি দার্শনিকেরা ২৯ বছর চেষ্টা করে লিখেন একটি বিশ্বকোষ। তার জবাবে ১৭৬৮ সালে স্কটল্যান্ডে অনেক জন বিশেষজ্ঞের প্রচেষ্টায় ব্রিটেনে তৈরী হয় এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার প্রথম সংস্করণ, ৩ খন্ডে। বাংলা ভাষায় প্রথম বিশ্বকোষ রচনা করা হয় সেই উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে, নরেন্দ্রনাথ বসুর হাতে। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলাদেশের এশিয়াটিক সোসাইটির উদ্যোগে ও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরী হয় বাংলা ভাষার বিশ্বকোষ বাংলাপিডিয়া।

প্রথাগত বিশ্বকোষ ছাপার বইভিত্ত্বিক হওয়ায় বিশ্বকোষ কেনাটা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব। আর বিশ্বকোষের বিস্তীর্ণ জ্ঞানভাণ্ডারের পরিসর চিন্তা করলে যেকোনো সংস্থার পক্ষেই বিশ্বকোষ তৈরী করাটা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এই ব্যাপারটা চিন্তা করে ২০০০ সালের দিকে জিমি ওয়েলস নামে একজন ব্যবসায়ী একটি অনলাইন বিশ্বকোষ তৈরীর উদ্যোগ নেন। এর নাম দেয়া হয় নুপিডিয়া (NuPedia)। এটা অবশ্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য স্থানের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় তৈরীর কথা ছিলো। কিন্তু এক বছর কেটে গেলেও দেখা গেলো যে, মাত্র গোটা বিশেকের বেশি নিবন্ধ শুরু করা যায় নি। ২০০১ সালে জিমি ওয়েলসের সহযোগী ল্যারি স্যাঙ্গার তাঁকে পরামর্শ দেন যে, উইকি প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি পুরাপুরি উন্মুক্ত বিশ্বকোষ তৈরী করার জন্য। উইকি প্রযুক্তির মূল ধারণাটি হলো, ওয়েবসাইটের পাতাগুলো পাঠকেরা সম্পাদনা ও হালনাগাদ করতে পারেন। শুরুতে কেউ ভাবতেই পারেনি এটা ব্যবহার করে বিশ্বকোষ লেখা আসলে সম্ভব। কিন্তু অল্প কিছু দিনের মধ্যেই হাজার কয়েক নিবন্ধ তৈরী হয়ে গেলো -- উইকিপিডিয়ার আত্ম প্রকাশ ঘটলো ইংরেজি ভাষায়। ইংরেজির পর আস্তে আস্তে নানা ভাষায় উইকিপিডিয়ার আবির্ভাব হতে থাকে, আমাদের বাংলা ভাষার উইকিপিডিয়ারও পত্তন ঘটে ২০০৪ সালের শেষভাগে (http://bn.wikipedia.org)।

অন্যান্য বিশ্বকোষের সাথে উইকিপিডিয়ার বড়ো ধরণের কিছু পার্থক্য আছে। প্রথাগত বিশ্বকোষগুলোর প্রতিটি নিবন্ধ একজন বা অল্প কয়েকজন বিশেষজ্ঞের একটি দলের হাতে লেখা হয়। নিবন্ধের তথ্য ও দৃষ্টিভঙ্গী তাই সেই একজন বা গুটিকয়েক বিশেষজ্ঞের জ্ঞান ও চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটে। কিন্তু উইকিপিডিয়ার যে কোনো নিবন্ধ যে কেউ সম্পাদনা করতে পারে। ফলে প্রতিটি নিবন্ধের সর্বশেষ সংস্করণে বহু বহু ব্যক্তির অবদান থাকে। এর সুবিধাটি হলো, তথ্যের পরিপূর্ণতা এবং নিরপেক্ষতা। কোনো বিষয়েই আসলে একজন বা গুটিকয় বিশেষজ্ঞ সব খুঁটিনাটি নাও জানতে পারেন। পক্ষান্তরে আমাদের সবার কাছেই হয়তো বিষয়টি নিয়ে কিছু না কিছু তথ্য জানা আছে। উইকিপিডিয়ার দর্শনটি হলো, গুটি কয়েক বিশেষজ্ঞের গভীর জ্ঞানের চাইতে বহু মানুষের জানা অল্প অল্প তথ্যগুলোর সংকলন অনেক বেশি পরিপূর্ণ। এছাড়া সব মতের মানুষ কোনো লেখা সম্পাদনা করলে তাতে কোনো বিশেষ মতাদর্শের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও কম।

বিশ্বকোষ লেখার উইকিপিডিয়া মডেলটির শক্তি ও সাফল্য শুরুতে কেউই আঁচ করতে পারেনি। অবিশেষজ্ঞদের হাতে উচ্চমানের বিশ্বকোষ লেখা সম্ভব -- এটা অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেনি। আর যে ওয়েবসাইট যে কেউ নামে বা বেনামে সম্পাদনা করতে পারে, সেটা হিজিবিজি লেখায় ভরে যাবে, এটাও ছিলো অনেকের ধারণা। কিন্তু সবার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে উইকিপিডিয়া আজ আত্মপ্রকাশ করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ও বহুল ব্যবহৃত জ্ঞানভাণ্ডার হিসাবে। নেচার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, মানের দিক থেকে উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলো অনেক ক্ষেত্রেই প্রখ্যাত বিশ্বকোষ ব্রিটানিকার সমতূল্য।

উইকিপিডিয়ার মডেলের এই সাফল্যের কারণ কী? উইকিপিডিয়ার শুরু থেকেই জনমানুষের সমবেত প্রয়াসের উপরে আস্থা রাখা হয়েছে, আর তার সাথে সাথে অলঙ্ঘনীয় কিছু মূলনীতি বেছে নেয়া হয়েছে। উইকিপিডিয়ার সবচেয়ে বড়ো মূলনীতি হলো যাচাইযোগ্যতা। উইকিপিডিয়াতে যে কেউ যেকোনো তথ্য যোগ করতে পারেন বটে, কিন্তু প্রতিটি তথ্যের জন্য দিতে হবে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র। আরেকটি মূলনীতি হলো নিরপেক্ষতা। উইকিপিডিয়ার উদ্দেশ্য হলো সূত্র সহ তথ্য উল্লেখ করা মাত্র - তথ্যের ভিত্তিতে আবেগময় মন্তব্য করা নয়। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, "অমুক মতবাদটি একটি ভ্রান্ত মতবাদ" - এধরণের মন্তব্যমূলক বাক্যের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। এর বদলে যদি বলা হয়, "তমুকের মতে অমুক মতবাদটি ভ্রান্ত", তাহলে সেটা মন্তব্যের বদলে হয় কেবল একজন ব্যক্তির মতের কথার উল্লেখ। উইকিপিডিয়াতে কড়া ভাবে এই নিরপেক্ষতার নীতিটি মেনে চলা হয়। এসব মূলনীতির ভিত্তিতে নিবন্ধগুলোর মাননিয়ন্ত্রণ করার ফলে উইকিপিডিয়াতে অসংলগ্ন তথ্য যোগ করা হলে সাথে সাথে সেটা অন্যরা মুছে ফেলতে পারেন।

কেনো মানুষ উইকিপিডিয়ার উপরে কাজ করে? উইকিপিডিয়াতে লিখে কেউ কখনো কোনো পারিশ্রমিক পায়নি। কোনো লেখার মালিকানাও নেই, লেখকদের নাম কেবল দেখা যায় নিবন্ধের ইতিহাস পাতায়। আর উইকিপিডিয়াতে যোগ করা তথ্য রীতিমত সম্প্রদান কারকে বিলিয়ে দেয়া হয় -- যে কেউ যে কোনো উদ্দেশ্যে উইকির তথ্য ব্যবহার করতে পারেন, শর্ত কেবল উইকি থেকে নেয়া এই কথাটি উল্লেখ করতে হবে। তাহলে উইকিপিডিয়াতে লিখে কী লাভ? জবাবটার পেছনে আসলে লুকিয়ে আছে মানব মনস্তত্ত্ব -- ভালো কাজ করা, অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতা আমাদের সবার মাঝেই লুকিয়ে আছে। উইকিপিডিয়ার নিরলস কর্মীদের অনুপ্রেরণাও আসলে সেটাই -- কোনো নিবন্ধের তথ্যগত ভুল ঠিক করা, কিংবা কোনো বিষয়ে নিজের জ্ঞানটুকু সেখানে যোগ করে অন্যদের সাহায্য করা -- এই প্রেরণাতেই কর্মীরা কাজ করে চলেন উইকিপিডিয়াতে। বর্তমানে নানা ভাষার ৩৫০টির অধিক উইকিপিডিয়াতে মোট নিবন্ধ রয়েছে দেড় কোটিরও বেশি। বাংলাতে রয়েছে ২২,০০০টি নিবন্ধ। বাংলা উইকিকে এগিয়ে নিতে আরো দরকার উৎসাহী কর্মী। খুব বেশি কিছু করতে হবে না, প্রতিদিন ৫টা মিনিট সময় ফেইসবুক বা অন্যত্র ব্যয় না করে বাংলা উইকিপিডিয়াতে আসুন, নিবন্ধগুলো দেখুন অথবা কোথাও ভুলচুক থাকলে শুধরে দিন। প্রতিদিন দুইটি বাক্যও যদি যোগ করেন, তাহলেই চলবে। আর উইকিপিডিয়ার ব্যাপারে সাহায্য চাইলে বাংলা উইকির কর্মীরা সব সময়েই এগিয়ে আসবেন।
আমাদের প্রত্যেকের কাছেই কিছু না কিছু তথ্য আছে, এই ছোট ছোট তথ্যগুলোকে আমরা যদি একত্রিত করতে পারি, তাহলে কিন্তু খুব বিশাল একটা জ্ঞানের ভান্ডার গড়া সম্ভব।



উইকিপিডিয়ার ১০ বছর পূর্তির উৎসব


সারাবিশ্বের ৪১৪টি স্থানে উইকিপিডিয়ার ১০ বছর উপলক্ষ্যে উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকাও। ২ সপ্তাহব্যাপী কর্মকাণ্ডের আওতায় গত ৩১শে জানুয়ারি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর ছবি তোলার জন্য হয়েছে ফটোওয়াকে। ১৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে উইকিপিডিয়ার জন্মোৎসব। বিস্তারিত তথ্য রয়েছে http://ten.wikipedia.org/wiki/Dhaka সাইটে।

(আমার এই লেখাটি গত ১৫ই জানুয়ারি দৈনিক সমকালের উপসম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হয়েছে ।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29308410 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29308410 2011-01-16 11:47:24
বাফেলো বাফেলো বাফেলো বাফেলো বাফেলো বাফেলো বাফেলো বাফেলো
ইংরেজি ভাষার পাগলা ব্যকরণ ও অন্যান্য উদ্ভট জিনিষের চক্করে পড়ে তৈরী হয়েছে অদ্ভুত সব বাক্য বা শব্দ। কিন্তু আমার দেখা সবচেয়ে পাগলাটে বাক্যটা হলো এরকম-

Buffalo buffalo Buffalo buffalo buffalo buffalo Buffalo buffalo

আপাত: দৃষ্টিতে এটাকে বাফেলো অর্থাৎ মোষ শব্দটি ৮ বার লেখা মনে হলেও এটা পুরোপুরি ব্যকরণগতভাবে শুদ্ধ একটি বাক্য।

কীভাবে?

দেখা যাক।

এখানে ব্যবহার করা বাফেলো শব্দটির মূল অর্থ মোষ বা মহিস হলেও শব্দটির আরো কয়েকটা অর্থ আছে। সেই অর্থগুলাকে কাজে লাগিয়েই তৈরী করা হয়েছে এই বাক্যটি।

অর্থগুলো হলো-

বাফেলো - মহিষ
বাফেলো - এই নামের একটি শহর আছে যুক্তরাষ্ট্রে
বাফেলো - (ক্রিয়াপদ) ভয় দেখানো

এবার আসা যাক বাক্যটির ব্যবচ্ছেদে। এখানে ৪ জোড়া বা ৮বার বাফেলো শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথম জোড়া Buffalo buffalo কে দেখা যাক -- এই অংশে বোঝানো হয়েছে, বাফেলো শহরের বাফেলো, অর্থাৎ বাফেলো শহরের মোষদের।

৩ ও ৪ নম্বর অর্থাৎ Buffalo buffalo দিয়ে বোঝানো হয় আবারো, বাফেলো শহরের মোষদের।

৫ নম্বর buffalo আসলে ক্রিয়াপদ, যার অর্থ ভয় দেখানো।


পরেরটিও তাই।

আর সবার শেষের দুইটি অর্থাৎ Buffalo buffalo দিয়ে বোঝানো হচ্ছে বাফেলো শহরের মোষদের।

তাহলে ব্যাপারটা কী দাড়ালো?

বাফেলো শহরের যেসব মোষদের বাফেলো শহরের অন্য মোষেরা ভয় দেখায়, তারাও আবার বাফেলো শহরের অন্য মোষদের ভয় দেখায়।

তালগোল পাকিয়ে গেলে উপরের বাক্যটাতে কমা দিয়ে দেখুন, অথবা সাহায্য নিন নিচের চিত্রটির।

Buffalo buffalo, Buffalo buffalo buffalo, buffalo, Buffalo buffalo



এই উদ্ভট বাক্যটির সূত্রপাত করেন বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক উইলিয়াম জে র্যাপাপোর্ট, ১৯৭২ সালে।

----

কী, সব তালগোল পাকিয়ে গেছে? তাহলে কেবল একটা কথাই মনে রাখুন, বাফেলো শহরের মোষরা খুব মারকুটে, তাদের থেকে ১০০ হাত দূরে থাকাই ভালো <img src=" style="border:0;" /> ।


(ছবি ও তথ্য: উইকিপিডিয়া )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29298528 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29298528 2010-12-30 00:44:57
শেখ সাহেবের গপ্পো

নাহ, ইনি শেখ মুজিব নন, কিংবা তেলের সাগরে ভাসা আরব শেখও নন -- ইনি হলেন শেখ দীন মুহাম্মদ। আর এই গল্পের সূচনা আজ থেকে প্রায় আড়াইশ বছর আগে।
‌‌
শ্যাম্পু শব্দটি আজ ইংরেজি ভাষার একেবারে নিজের শব্দের মতো বনে গেছে। সানসিল্ক কিংবা আরো দামি নানা শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপণে ভর্তি থাকা টিভি/পত্রিকা দেখে কিন্তু বোঝার অবকাশ নাই, এই শ্যাম্পুর সাথে শেখ সাহেব আর বাংলার সম্পর্কটা কী। চলুন ফেরা যাক আজ থেকে আড়াইশ বছর আগের ভারতবর্ষে, যেখানে শেখ সাহেবের মাত্র জন্ম হয়েছে।

শেখ দীন মুহাম্মদের জন্ম ১৭৫৯ সালে, "বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা"র নবাবী আমল তখন মাত্র ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আর লর্ড ক্লাইভের হাতে ধরাশায়ী। এক বাঙালি মুসলিম পরিবারে দীন মুহাম্মদের জন্ম, নিবাস ছিলো পাটনায়, যা এখন বিহারে পড়েছে। দীন মুহাম্মদের আত্মজীবনী অনুসারে তার পূর্বপুরুষেরা মুগল সম্রাটদের প্রশাসনে কাজ করতেন, আর বাংলার নবাব পরিবারের সাথেও তাদের ছিলো লতায় পাতায় আত্মীয়তা।

দীন মুহাম্মদের যখন জন্ম, নবাবী আমল প্রায় শেষ, মীর জাফর, মীর কাসিম এরা নামে মাত্র নবাব বনে আছেন। মুগল সম্রাটও প্রায় ক্ষমতাহীন। বড় হতে হতে দীন মুহাম্মদ শিখে ফেললেন মুগল আমলের সব রসায়ন বিদ্যা, সাবান, সুগন্ধি, তেল সবকিছু বানাবার কৌশল। সাথে উপরি হিসাবে কিছু চিকিৎসাবিদ্যাও। নবাবী আমলও নেই, দরবারও নেই, তাই দীন মুহাম্মদ যোগ দিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ফৌজে, শিক্ষানবিশ চিকিৎসক হিসাবে। খুব অল্প বয়সেই যোগ দিয়েছিলেন, আর ইঙ্গ-আইরিশ অফিসার ক্যাপ্টেন গডফ্রি ইভান বেকারের সাথে কাজ করতেন। ১৭৮২ সালে ক্যাপ্টেন বেকার সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করেন, কেউ কেউ বলে করতে বাধ্য হন, আর ফিরে যান ব্রিটেনে। দীন মুহাম্মদ তার এই ক্যাপ্টেন সাহেবের সাথে সাথে চলে আসেন বিলেতে। বেকার পরিবারের সাথেই তিনি ১৭৮৪ সালে চলে যান আয়ারল্যান্ডের কর্কে। ইংরেজি শেখার জন্য ভর্তি হন স্কুলে, সেখানে পরিচয় আইরিশ কিশোরী জেইন ডেলির সাথে। সুন্দরী জেইনের প্রেমে পড়ে যান দীন মুহাম্মদ, কিন্তু জেইনের পরিবার অমত করায় পালিয়ে যান দুজনে পাশের শহরে ১৭৮৬ সালে, বিয়ে করেন। ততোদিনে দীন মুহাম্মদ খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষা নিয়েছেন।

নানাদেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে নিয়ে দীন মুহাম্মদ ১৭৯৪ সালে The Travels of Dean Mahomet বা দীন মুহাম্মদের সফর নামা নামের বই লিখেন। ভারতবর্ষ নিয়ে ইউরোপে তখন কৌতুহলের কমতি নেই, তাই বইটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

দীন মুহাম্মদের গল্পের পরের অধ্যায় লন্ডনে। ১৮১০ সালে সেখানে মুহাম্মদের পরিবার চলে আসার পরে একটা রেস্তোরা খুলেন দীন মুহাম্মদ। এটাই ছিলো ইংল্যান্ডের প্রথম ভারতীয় খাবার দাবারের রেস্তোরা। লন্ডনের জর্জ স্ট্রিটে খোলা হিন্দুস্তান কফি হাউজ নামের এই দোকানটি অবশ্য খুব ভালো চলেনি, অল্পদিন পরেই লোকসানের চোটে বন্ধ হয়ে যায়। দুশো বছর পরে ভারতীয় তথা বাঙালি খাবারের কী জয়জয়কার হবে ইংল্যান্ডে, শেখ দীন মুহাম্মদ জানতে পারেননি, লালবাতি জ্বেলে রেস্তোরার ব্যবসা বাদ দিয়ে লন্ডন ছেড়ে চলে যান।


(জর্জ স্ট্রিটে সম্প্রতি স্থাপিত স্মারক ফলক)

লন্ডনে রেস্তোরার ব্যবসাতে সাফল্য না পেলেও দীন মুহাম্মদের ভাগ্য ফিরে যায় ব্রাইটনে। ১৮১৪ সালে সপরিবারে এই শহরে বসতি স্থাপনের পর দীন মুহাম্মদ খুলে বসেন তার স্নানাগার। সেসময়কার একটি স্থানীয় পত্রিকায় তার দোকানের বিজ্ঞাপন দেয়া হয় এভাবে -


The Indian Medicated Vapour Bath (type of Turkish bath), a cure to many diseases and giving full relief when every thing fails; particularly Rheumatic and paralytic, gout, stiff joints, old sprains, lame less, aches and pains in the joints
এই সুগন্ধি স্নানাগারে খদ্দেররা পেতেন দীন মুহাম্মদের তৈরী করা মাথার চুলে মাখাবার তেল -- সেই তেল দিয়ে খদ্দেরদের চুলে মাথায় মালিশ করে দেয়া হতো। তেল মালিশের এই কাজটাকে হিন্দুস্তানী ভাষায় বলায় হতো চ্যাম্পু করা, আর সেই শব্দটিই সাগর পেরিয়ে মুহাম্মদের স্নানাগারে গিয়ে হয়ে যায় শ্যাম্পু।


(দীন মুহাম্মদের শ্যাম্পু স্নানাগার)

ইংরেজদের কাছে এই শ্যাম্পুর দোকান অভিনব ঠেকেছিলো, তাই দীন মুহাম্মদের দোকান Mahomed's Steam and Vapour Sea Water Medicated Baths ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় উনবিংশ শতকের ইংল্যান্ডে। দূর দূরান্ত থেকে লোকজন কেবল দীন মুহাম্মদের দোকানে শ্যাম্পু করাতে ছুটে আসতো। শ্যাম্পু করে রোগবালাই দূর হয়, এই বিশ্বাসে হাসপাতাল থেকে রোগীদের পাঠানো হতো ব্রাইটনে। আর তেল মালিশ করে করেই দীন মুহাম্মদ পেয়ে যান ড: ব্রাইটন খেতাব। জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌছে যাওয়া এই মালিশ-চিকিৎসার সুবাদে খোদ ইংল্যান্ডের রাজা ৪র্থ জর্জ ও ৪র্থ উইলিয়ামের "শ্যাম্পু সার্জন" হিসাবে মুহাম্মদ নিয়োগ পান। ১৮৫০ এর পরে তেলের বদলে সুগন্ধি সাবান দিয়ে চুল ধোয়ার রীতি চালু হয়, কিন্তু রয়ে যায় শ্যাম্পু নামটি।


(১৮১৮ সালে "শ্যাম্পু সার্জন শেখ দীন মুহাম্মদ")

দীন মুহাম্মদ মারা যান ১৮৫১ সালে, নব্বইয়ের কোঠায় পৌছে। জেইনের সাথে দীন মুহাম্মদের সংসারে এসেছিলো ছয়টি সন্তান - রোসানা, হেনরি, হোরেশিও, ফ্রেডেরিক, অ্যামেলিয়া, ও আর্থার। এর মাঝে ফ্রেডেরিক বাপের পেশায় যোগ দেন। ফ্রেডেরিকের ছেলে ফ্রেডেরিক হেনরি হোরেশিও আকবর মুহাম্মদ (বাপরে, বাপ দাদা সবার নামের সমাস!!) চিকিৎসক হিসাবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। লন্ডনের গাইস হাসপাতালে কাজ করার সময়ে উচ্চ রক্তচাপের উপরে গবেষণা করে আবিষ্কার করেন অনেক নতুন তথ্য।


(দীন মুহাম্মদের স্ত্রী জেইন)

দীন মুহাম্মদের কথা ইতিহাস ভুলে যায় ধীরে ধীরে। বিস্মৃতির আড়ালে একশো বছর কাটাবার পরে সত্তর ও আশির দশকে আস্তে আস্তে ঐতিহাসিকরা আবার খুজে পান শেখ দীন মুহাম্মদের সেই কাহিনী, বাংলা থেকে ব্রাইটন অবধি এই বঙ্গসন্তানের অভিনব জীবনগাথা। ইংরেজদের ভারতীয় খাবার ধরাতে দীন মুহাম্মদ পারেননি, দেউলিয়া হয়ে গেছিলেন, কিন্তু আজ দুশো বছর পরে সেই খাবার ছড়িয়ে গেছে সেখানে। আর শ্যাম্পু? শেখ সাহেবের সেই শ্যাম্পুর দোকান থেকে শুরু হওয়া শ্যাম্পু করার ধারা ছড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়েই।

আর এভাবেই শেষ কিংবা শুরু সেই শেখ সাহেবের গপ্পো ...


সূত্র

# উইকিপিডিয়া

# Mahomet, Dean. The Travels of Dean Mahomet: An Eighteenth-Century Journey through India. Berkeley: University of California Press, c1997 1997. http://ark.cdlib.org/ark:/13030/ft4h4nb20n/

ছবিগুলো শেখ দীন মুহাম্মদের রচনা এবং উপরোক্ত বই থেকে নেয়া।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29297917 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29297917 2010-12-29 00:12:52
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর শিক্ষা - ফান্ডিং এর সোনার হরিণ
উচ্চ শিক্ষার খরচ যুক্তরাষ্ট্রে বেশ বেশি, কাজেই নিতান্ত উচ্চবিত্ত ছাড়া নিজের পয়সায় পড়াটা কঠিন। রাজ্য সরকারের বিশ্ববিদ্যালয়ে খরচ কম। তবে রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য যে সুযোগ সুবিধা ও ফি-মাফ রয়েছে, সেটা বিদেশী ছাত্ররা পায় না। কাজেই বিদেশে পড়তে আসার আগে ভর্তির পাশাপাশি ফান্ডিং জোগাড় করাটা খুব দরকার।

কী রকম খরচ হবে?

দেখা যাক টিউশন ফি-র ব্যাপারটা। অধিকাংশ সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স বা পিএইচডি পর্যায়ে প্রতি সেমিস্টারে টিউশন ফি দেয়া লাগে কয়েক হাজার ডলার। যেমন, ফুল কোর্স লোড নিলে ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসে গ্রাজুয়েট পর্যায়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এ লাগে প্রতি সেমিস্টারে প্রায় ১২ হাজার ডলার, ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়েও তাই লাগে। কিন্তু বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি-টা এর প্রায় ২ গুণ -- যেমন জন্স হপকিন্স মাস্টার্সেই লাগে ২১ হাজার। নিচের দিকের র্যাংকে থাকা জায়গাতে টিউশন কম লাগলেও সেটা বাংলাদেশের হিসাবে অনেক।

এতো গেলো কেবল টিউশন। থাকা-খাবার জন্য খরচটা জায়গা ভেদে নানা রকম। বড় বড় অনেক শহরে খরচ ব্যাপক। কারো সাথে রুম শেয়ার করে থাকলেও হয়তো বাড়িভাড়া বাবদ মাসে ৪০০/৫০০ ডলার চলে যাবে। মিডওয়েস্টের ছোট শহর গুলোতে খরচ কম। সেখানে ৩০০/৪০০ ডলারে আস্ত ১ রুমের অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে থাকা চলে। খাবার খরচ একা মানুষের ২০০-২৫০ ডলারে হয়ে যাবার কথা, চেষ্টা করলে আরো কমানো যায় (চীনাদের গাজর খেয়ে থাকার গল্প বহুল প্রচলিত!!)। আর দূরে কোথাও না গেলে এবং শহরে বাস সার্ভিস ভালো থাকলে গাড়ির দরকার নেই। সব মিলে একা কারো জন্য জায়গাভেদে ১০০০-১২০০ ডলার থাকা খাবার খরচে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেয়ার সময়ে তাই টিউশন ছাড়াও লিভিং কস্ট খেয়াল করে নিতে হবে।

খরচ যোগাবেন কীভাবে?

পিএইচডি পর্যায়ে প্রায় সবাই কোনো না কোনো উপায়ে ফান্ডিং পায়। ভর্তির সময়েই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফান্ডের গ্যারান্টি দেয়। আগের লেখাতেই বলেছিলাম, মাস্টার্স পর্যায়ে ফান্ডিং শুরুতে কমই পাওয়া যায়। তবে একবার এসে যাবার পরে ২য় সেমিস্টার নাগাদ চেষ্টা করে ফান্ড জোগাড় করা সম্ভব।

টিউশন ফি মাফ করার বেশ কিছু উপায় আছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার ভিত্তিতে টিউশন ওয়েইভার বা ফি-মাফ দেয়া হয়। মাস্টার্স বা পিএইচডি পর্যায়ে টিচিং অ্যাসিস্টান্ট বা রিসার্চ অ্যাসিস্টান্ট হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ পেলে বেতন পাওয়ার সাথে সাথে টিউশন মাফ হতে পারে, বা কম দিতে হতে পারে। আবার মেধাবী ছাত্রদের ভর্তির সময়ে ফেলোশীপ বা স্কলারশীপ দেয়ারও ব্যবস্থা আছে। কিছু নির্দিষ্ট বৃত্তিতে বাংলাদেশের ছাত্ররা বেশ ভালো সুযোগ পায়। যেমন, "আব্বাসী ফেলোশীপ" নামে একটা বৃত্তি ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়ের ভারত, পাকিস্তান, ও বাংলাদেশের ছাত্র/ছাত্রীরা পায়। আবার দেশ থেকে ফুলব্রাইট নিয়েও অনেকে ইদানিং আসছেন।

অ্যাসিস্টান্টশীপ পেলে সপ্তাহে ১০ থেকে ২০ ঘণ্টা শিক্ষকতায় সহায়তা (যেমন, স্নাতক পর্যায়ে ক্লাস নেয়া, খাতা দেখা) অথবা প্রফেসরের গবেষণায় সহায়তা করতে হবে। টিচিং অ্যাসিস্টান্টশিপ বা টি এ পেতে হলে ডিপার্টমেন্টের অফিসে খোজ নিতে হবে সে ব্যাপারে। অনেক জায়গায় এজন্য টোফেল এর স্পিকিং অংশে ভালো স্কোর চায়। রিসার্চ অ্যাসিস্টান্টশীপ বা আর এ নির্ভর করে প্রফেসরের উপরে। ভর্তির আবেদন করার আগে থেকে প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ করে সেটার ব্যবস্থা করা সম্ভব, অথবা ১ম সেমিস্টারে কারো সাথে ফ্রি কাজ করে ভালো কাজ দেখিয়ে পরে তার কাছ থেকে আরএ পাওয়া যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে, আরএ দের বেতন প্রফেসরের নিজের রিসার্চ ফান্ড থেকে আসে, আর সেটা পাওয়া না পাওয়া প্রফেসরের মর্জির উপরে নির্ভর করে। কাজেই ভালো কাজ দেখানো, গবেষণা ঠিকমতো করা, এগুলো ভালোভাবে করতে হবে। প্রফেসরদের সাথে ইমেইলে যোগাযোগ করা নিয়ে আরেকদিন লিখবো।

এছাড়াও উপার্জনের আরেকটা উপায় হলো ক্যাম্পাসের নানা জায়গা, যেমন লাইব্রেরিতে ঘণ্টা হিসাবে কাজ করা।

অফ ক্যাম্পাস কাজ করাটা শুরুতে যায় কি না, আমার এখন মনে পড়ছে না, তবে যতদূর জানি, প্রথম ৯ মাসে সেটার অনুমতি বের করা কঠিন। সেমিস্টার চলা কালে অন বা অফ ক্যাম্পাসে সপ্তাহে মোট ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ করা যায় না। তবে গ্রীষ্মকাল বা দুই সেমিস্টারের মাঝের বন্ধে ৪০ ঘন্টা কাজ করা চলে।

উপরের সব পদ্ধতিতেও ফান্ড জোগাড় না হলে সর্বশেষ তরিকা হলো শিক্ষা ঋণ নেয়া। মার্কিনীদের জন্য সেটা ডাল ভাত, কিন্তু বিদেশী ছাত্রদের জন্য সেটা বেশ কঠিন। পরিচিত কেউ মার্কিন নাগরিক হলে এবং ঋণে কো-সাইন করলে (মানে ঋণের অংশীদার/জামিনদার হলে) তবেই ঋণ মিলতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সেটা ছাড়া হয়তো উপায় থাকে না, যেমন কেবল কাজ করে দামি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির বছরে ৪০ হাজার ডলার টিউশন দেয়াটা প্রায় অসম্ভব -- সেক্ষেত্রে টিউশন ওয়েইভার বা ঋণ ছাড়া উপায় নেই।

আগের লেখা

(মাস্টার্স না পিএইচডি? ) |
(আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু তথ্য ) | (কীভাবে লিখবেন স্টেইটমেন্ট অফ পারপাস )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29279770 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29279770 2010-11-28 23:57:13
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা - পিএইচডি নাকি মাস্টার্স
মার্কিন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাইরেক্ট পিএইচডি করার সুযোগ আছে। অর্থাৎ, বিএসসি ডিগ্রিধারীরা সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পান। বাংলাদেশে অনেকের মাঝে একটা ভুল ধারণা দেখেছি -- পিএইচডি করতে গেলে আগে মাস্টার্স থাকা প্রয়োজন। অন্তত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেটা ঠিক না -- সুযোগ্য প্রার্থীদের সরাসরি পিএইচডিতে ভর্তি করা হয়। আর পিএইচডি করতে করতে মাস্টার্স ডিগ্রিটা নেয়া বা না নেয়া অনেক জায়গাতেই ছাত্রের ইচ্ছার উপরে নির্ভর করে। যেমন, আমার গ্র্যাড স্কুল ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স করতে হলে ৬টা কোর্স আর থিসিস লিখতে হতো। অনেক জায়গায় আবার ৬/৭টা কোর্স করলেই মাস্টার্স নেয়ার সুযোগ আছে।

এবারে দেখা যাক, মাস্টার্স আর পিএইচডির মধ্যে সুবিধা অসুবিধা কেমন।

১) ফান্ডিং
মাস্টার্স পর্যায়ে ফান্ড পাওয়াটা বেশ কঠিন। মার্কিন অর্থনীতির এই দুর্দিনে মাস্টার্স পর্যায়ের ফান্ড প্রায় গায়েব হয়ে গেছে। কাজেই মাস্টার্সে ভর্তি হলে অন্তত ১ম সেমিস্টারে ফান্ড পাওয়াটা প্রায় অসম্ভব। সেক্ষেত্রে টিউশন ফি দিয়ে পড়তে হবে, যা অনেক ক্ষেত্রেই নাগালের বাইরের পর্যায়ে।

স্টেইট ইউনিভার্সিটি, অর্থাৎ রাজ্য সরকারের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন কম। যেমন, ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়ে এক সেমিস্টারে খরচ পড়ে প্রায় ৩ থেকে ৬ হাজার ডলার, তবে বিদেশী ছাত্রদের জন্য বেশি চার্জ সহ মোট ফি প্রায় ১০/১২ হাজার ডলারের মতো। আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় হলে সেই ফি এর পরিমাণ বেড়ে যাবে অনেকখানি। আমার বর্তমান কর্মস্থল জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব দিতে পারি, এখানে মাস্টার্স পর্যায়ে প্রতি সেমিস্টারের ফি প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার ডলার।

মাস্টার্সে ১ম সেমিস্টারে ভালো কাজ দেখিয়ে প্রফেসরের কাছ থেকে রিসার্চ অ্যাসিস্টান্টশিপ (আরএ) যোগাড় করতে পারলে টিউশন মাফ হতে পারে, আর বেতনও পাওয়া যেতে পারে।

পক্ষান্তরে, পিএইচডিতে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই ফান্ড দেয়া হয়, টিচিং/রিসার্চ অ্যাসিস্টান্টশীপ বা ফেলোশীপের মাধ্যমে। এর সাথে টিউশন ফীও মাফ করা হয়। যা বেতন দেয়া হয়, তা খুব বেশি না, তবে এদিক সেদিক করে বিদেশী ছাত্ররা ভালোই থাকতে পারে।

মাস্টার্সে ফান্ড দেয়া কম হয় বলে ভর্তির কড়াকড়িও কম, অ্যাডমিশন পাওয়া সহজ। পক্ষান্তরে পিএইচডির অ্যাডমিশন পাওয়াটা কঠিন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই কয়েকশ মাস্টার্স ছাত্র থাকে, কিন্তু পিএইচডি ছাত্র নেয়া হয় জনা দশেক/বিশেক প্রতি বছরে।

২) সময়

মাস্টার্সে সময় লাগবে দেড় থেকে দুই বছর। আর পিএইচডিতে জায়গা ভেদে ৫ থেকে ৭ বছর। কাজেই ভেবে নিন, আপনার হাতে এতোটা সময় আছে কি না। জব মার্কেটের অবস্থা পাল্টায় নিয়মিত। আর বিষয়ও পাল্টে যায় -- আজ যে বিষয়টি একেবারে হট টপিক, ৫ বছর পরে সেটার কথা ভুলে যেতে পারে সবাই।


৩) খাটুনি

মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের খাটুনির মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। মাস্টার্সের কোর্স রিকয়ারমেন্ট পিএইচডির প্রায় অর্ধেক, আর থিসিসের পার্থক্যও বিশাল। মাস্টার্সের থিসিস প্রায় ক্ষেত্রেই একটি মাত্র প্রজেক্ট নির্ভর, যেখানে পিএইচডি থিসিসে একাধিক রিসার্চ পেপারের কাজ নিয়ে বেশ বড় আকারের কাজ করতে হয়। এক সেমিস্টার খেটেই এক্সপেরিমেন্ট সহ মাস্টার্স থিসিস অনেকে লিখে ফেলে, যেখানে পিএইচডির গবেষণা শেষ হবার পরে থিসিস লিখতেই অনেকের এর চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে। কাজেই কয়েক বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করার মতো উদ্যম বজায় রাখতে পারবেন কি না, সেটা আগেই ভেবে দেখুন।

৪) চাকুরি

আপনার লক্ষ্য যদি হয় কোনো মার্কিন কোম্পানিতে চাকুরি পাওয়া, তাহলে তার জন্য মাস্টার্স করাই যথেষ্ট। অধিকাংশ চাকুরির জন্য মাস্টার্স ডিগ্রি হলেই চলে। আর ২ বছর পড়েই চাকুরির বাজারে ঢুকতে পারছেন, যা বড় একটা সুবিধা।

অনেক চাকুরিতেই পিএইচডি থাকাটা কোনো অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসাবে ধরা হয় না। উদাহরণ দেই - গুগলে বিএসসি, মাস্টার্স, বা পিএইচডি সব রকমের লোকজনই নেয়া হয়। মাস্টার্সের চাইতে পিএইচডিতে ৩ থেকে ৪ বছর সময় বেশি লাগে। কাজেই আজ যিনি মাস্টার্স নিয়েই ঢুকছেন সেখানে, ৩/৪ বছর পরে স্টক অপশন, বেতন, আর বোনাস সব মিলে কয়েক মিলিয়ন ডলার এগিয়ে থাকবেন। অধিকাংশ টেক কোম্পানিতেই পিএইচডি ডিগ্রি থাকলে শুরুতে অল্প একটু বেশি বেতন থাকে, কিন্তু ৩/৪ বছর আগে যোগ দেয়া মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা সেই সময়টাতে তার চেয়ে অনেক বেশিই সুবিধা পেয়ে গেছে। গুগলে যখন ইন্টার্নশীপ করতাম, তখন অনেক গ্রুপের ম্যানেজারকে দেখেছি মাস্টার্স বা ব্যাচেলর্স করা, যেখানে তাদের অধীনে কাজ করা অনেকেই আবার পিএইচডি করা। কাজেই চাকুরির বাজারের অনেক জায়গাতেই পিএইচডি বা মাস্টার্সের কোনো পার্থক্য নেই।

অবশ্য একাডেমিক ও রিসার্চ লাইনে আবার পিএইচডি অপরিহার্য। কাজেই আপনার লক্ষ্য যদি হয় একাডেমিক বা রিসার্চ লাইনে থাকা, সেক্ষেত্রে পিএইচডি করতেই হবে

যেসব জিনিষ বিবেচনা করবেন

- আপনার মূল লক্ষ্য কী -- রিসার্চ/একাডেমিক লাইন, নাকি চাকুরি?
- ফান্ড পাবেন কি পাবেন না? ফান্ড না পেলে টিউশন ফি অন্তত ১ম সেমিস্টারে দিতে পারবেন কি?
- ৫/৬ বছর আরো পড়ার ধৈর্য্য আছে কি?

সব বিচার করে বেছে নিন, পিএইচডি নাকি মাস্টার্স, কোনটিতে আবেদন করবেন। উল্লেখ্য, একবার একটা বেছে নিলে অন্যটাতে যেতে পারবেন না, তা কিন্তু না। দরকার হলে পরেও প্রোগ্রাম পাল্টানো যায়, যদিও সেটা সময়সাপেক্ষ।

(আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু তথ্য ) (কীভাবে লিখবেন স্টেইটমেন্ট অফ পারপাস )

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29279262 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29279262 2010-11-28 01:25:17
এলোপ্রশ্ন - ১
বাংলাদেশের সবাই কি এক সময় জমিদার ছিলো?

প্রবাসে বাংলাদেশী যার সাথেই কথা হয়, এক সময় শুনতে পাই তার দাদা বা নানা জমিদার ছিলো। শুনে কৃষক দাদার নাতি আমি মাথা চুলকাই, গাদায় গাদায় জমিদার কোথায় জমিদারী করতো, সেই হিসাব মিলে না।

(২)

আমরা বাঙালিরা সব কিছুই "খাই" কেনো?

খাবার নাহলে খেলাম, কিন্তু তরল পানীয়ও কেনো খাই? পাশ্চাত্যের ভাষাতে, যেমন ইংরেজিতে, তরল পানীয় গ্রহণের জন্য আলাদা ক্রিয়াপদই আছে, হিন্দিভাষীরাও "পানি পিয়ে", কিন্তু সেখানে বাঙালিরা কেনো সব খেতে শুরু করলাম? অবশ্য বাংলাতে পানি পান করার কথা বলা চলে, কিন্তু বাস্তবে কি কেউ সেটা বলে - "পানি পান করবেন?" মনে হয় না -- আমরা সব কিছুই "খাই", পানি থেকে শুরু করে ওষুধ পর্যন্ত!!

প্রাচীন বাংলাতেও কি এমন ছিলো? সাহিত্যে কী ছিলো তা না হয় মঙ্গলকাব্য বা অন্য কিছু পড়ে জানা যাবে, কিন্তু সে আমলের আম জনতাও কি পানি "খেয়ে" চলতো, পান করার বদলে?

(৩)

আমরা কি স্বভাবগত ভাবেই কান-পাতলা?

প্রশ্নটা মাথায় এলো, পত্রপত্রিকা কিংবা নানাজনের মুখে নানা কথা শুনে। সেদিন পত্রিকায় পড়লাম, "জলমানব" নওশের আলীর কথা , যিনি পানির নিচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে পারেন বলে দাবি করেন, আর আবেগাপ্লুত সাংবাদিকের কাছে সেটা গিনেস রেকর্ডে ওঠাবার স্বপ্নের কথা বলেছেন। ৭২ ঘণ্টা পানির তলায় ডুবে থেকে, সেখানেই খাবার/পানীয় খেয়ে নাকি নওশের তার এই "ক্ষমতা"র "ডেমো" দিয়েছেন ও আরো দিবেন।

মনে পড়ে গেলো ৯০ এর দশকের কথা। এই একই নওশের আলী তখনও এরকম পানির তলায় ডুবে থাকার প্রদর্শনী করতেন, আর দাবী করে বেড়াতেন অলৌকিক ক্ষমতার। নানা পত্রিকার গালভরা রিপোর্টে ব্যাখ্যাও করা হতো, নওশের কীভাবে এই "ক্ষমতা" পেলেন। কিন্তু একদিন হাতে নাতে ধরা পড়েন নওশের, প্রকাশ পেয়ে যায় খাবার/পানীয়ের নলের মাধ্যমে পানির তলায় শ্বাস নিতেন এই প্রতারক। সে রিপোর্ট বেরুবার পর নওশেরের নাম আর সে দশকে পত্রিকায় দেখা যায়নি।

৯০ এর দশক খুব আগের কথা না, সেই প্রতারকের কথা এতো তাড়াতাড়ি মানুষ ভুলে যাবে, তা বিশ্বাস হতে কষ্ট হয়। তাই পত্রিকায় যখন ফলাও করে "জলমানব" নওশেরের গালগল্প ছাপা হতে দেখি, মনে হয় কেবল, আমরা আসলে জন্মগতভাবেই কান-পাতলা, যেখানে যা বলা হয়, সবই হয়তো বিশ্বাস করে বসি। আর এই কান-পাতলাগিরির দোষটা কেবল বাঙালির নয়, পুরো বিশ্বের সব খানেই একই দশা। হয়তো এটা মানবজাতিরই আজন্ম বৈশিষ্ট্য -- যুগ যুগান্তর ধরে পাতলা কান নিয়েই ঘুরছি আমরা। কেনো??

(৪)

১৪ বছর বয়সে ম্যাট্রিক পাশ করেছি -- এরকম দাবি কেনো প্রায় সব মুরুব্বীরাই করেন?

এটা মূলত ৪০ থেকে ৬০ এর দশকে যারা ম্যাট্রিক দিয়েছেন, তারা প্রায় সবাই-ই দাবি করেন। অনেকে আরো এক কাঠি এগিয়ে বলেন, তার নাকি ১৪ বছরের কম বয়স ছিলো, সরকারী নিয়ম মানার জন্য সার্টিফিকেটে বয়স বাড়িয়ে ১৪ করে পরীক্ষা দেয়া লেগেছিলো।

এই দাবিটা একজন না, বহুজনের কাছে শুনে শুনে কিছুতেই আর বিশ্বাস হতে চায় না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29265415 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29265415 2010-11-02 05:40:09
চিলের হাতে বিপন্ন কান, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং নিয়ে বিভ্রান্তি
চিলে কান নিয়েছে, এই শুনে চিলের পেছনে দৌড়ানোটা আমাদের অনেকের প্রিয় স্বভাব। আর সেই চিল যদি বিদেশী চিল হয়, তবে তো কথাই নেই। ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত বিদেশী চিল হলে তো সোনায় সোহাগা। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাংকিং বা মেধাক্রম নিয়ে বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে, এমনকি খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছেও কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ঐ তালিকায় অন্য কাউকে কাউকে পেছনে ফেলতে পেরে রয়েছে আত্মহারা হবার পথে। জ্ঞানগর্ভ নানা লেখা আসতে শুরু করেছে, বিশেষজ্ঞরা গবেষণা শুরু করেছেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা সম্পর্কে "চিন্তাশীলদের" চিন্তার আর কমতি নেই আজ।

(১)

ঘটনার শুরুতে যাওয়া যাক। স্পেনের একটি সংস্থা Consejo Superior de Investigaciones Científicas (CSIC), যা দেশটির বৃহত্তম সরকারী গবেষণা সংস্থা। এর একটি গবেষণাগার এর নাম সাইবারনেটিক্স ল্যাব। এখান থেকেই প্রতি বছর প্রকাশ করা হয় ওয়েবোমেট্রিক্স র‍্যাংকিং অফ ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিস । সম্প্রতি ২০১০ এর র‍্যাংকিং প্রকাশিত হয়েছে, আর তাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান এরকম -

"বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (২৯১৬), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় (৪৫৭৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (৫৫৩১),আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (৫৮৮২তম স্থান), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (৬২১০), ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (৬৩৫৯), ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (৬৮৬০), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (৭০৭৮), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (৭১৯৬), ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (৮৭৫৯), জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় (৮৭৮৯), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (৯৪০৯), আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১০২০৩), ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (১০৪৭৪), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১০৫০৩), ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক বাংলাদেশ (১০৫১৮), চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১০৬৪৭), এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (১০৬৬৭), ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (১১০৪৩), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (১১১৪২), ঢাকা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১১২৩৫), খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১১৪২২) এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (১১৬৪৩)। "

বিস্তারিত র‌্যাংকিং পাবেন এখানে।

বলাই বাহুল্য, এই র‍্যাংকিং দেখে পত্রপত্রিকায় তুলকালাম কাণ্ড হয়ে চলেছে। ঢাবির এমন অবস্থা হবারই কথা, এরকম ইঙ্গিত গিয়ে ব্যাপারটাকে রাজনৈতিক রঙ দেয়ার চেষ্টা চলছে। আবার শিক্ষাখাতে ব্যয় বাড়ানো নিয়েও অনেকে কথা বলছেন। মানবজমিনের একটি রিপোর্টে ব্যঙ্গ করে লেখা হয়েছে,

র‌্যাংকিংয়ের দিক দিয়ে পাঁচ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান হয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। এমনকি বাংলাদেশের একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান।


(২)

এই র‍্যাংকিং দেখে শুরুতেই খটকা লাগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং করাটা বেশ কঠিন একটা কাজ। মার্কিন ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল গত চার বছর ধরে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং করার চেষ্টা করে এখনো তাদের রিপোর্ট বের করতে পারেনি, সেখানে CSIC কি না প্রতি বছর ১২০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং বের করে চলেছে! কৌতুহলবশত CSIC এর সাইটে গিয়ে তাদের র‌্যাংকিং এর কৌশল ঘাটতেই থলের বেড়াল বেরিয়ে এলো। এই র‌্যাংকিং আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের বিচার নয়, বরং তাদের ওয়েবসাইটের মানের বিচার!!

কীভাবে? দেখা যাক, CSIC এর র‌্যাংকিং এর ফরমুলা

প্যারামিটার

Size (S). Number of pages recovered from four engines: Google, Yahoo, Live Search and Exalead. For each engine, results are log-normalised to 1 for the highest value. Then for each domain, maximum and minimum results are excluded and every institution is assigned a rank according to the combined sum.

Visibility (V). The total number of unique external links received (inlinks) by a site can be only confidently obtained from Yahoo Search. Results are log-normalised to 1 for the highest value and then combined to generate the rank.

Rich Files (R). After evaluation of their relevance to academic and publication activities and considering the volume of the different file formats, the following were selected: Adobe Acrobat (.pdf), Adobe PostScript (.ps), Microsoft Word (.doc) and Microsoft Powerpoint (.ppt). These data were extracted using Google and merging the results for each filetype after log-normalising in the same way as described before.

Scholar (Sc). Google Scholar provides the number of papers and citations for each academic domain. These results from the Scholar database represent papers, reports and other academic items.

অর্থাৎ, চারটি প্যারামিটার হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইটে কতোটি ওয়েবপেইজ আছে, বাইরের অন্যান্য সাইট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে কতোটি লিংক এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইটে কতোটি পিডিএফ ফাইল রাখা আছে, আর গুগল স্কলারে বিভিন্ন একাডেমিক ডোমেইনের প্রতি কতোটি গবেষণাপত্র ও সাইটেশন পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে প্রথম তিনটিই হলো পুরোই ওয়েবসাইটের গুণাগুণ। এবার দেখা যাক, এই চারটি প্যারামিটারকে কীভাবে ফরমুলায় ব্যবহার করা হয়েছে,
Visibility (50%), size (20%), rich files (15%), scholar (15%).

অর্থাৎ, ফরমুলাতে মূল বিষয় হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইটে বাইরে থেকে কতোটি লিংক এসেছে। গবেষণার সাথে জড়িত একমাত্র প্যারামিটারটির গুরুত্ব মাত্র ১৫%।

এই ফরমুলাতে কী প্রকাশ পাচ্ছে তাহলে? এখানে প্রকাশ পাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির অনলাইন প্রেজেন্স, তথা ইন্টারনেটে উপস্থিতি কতটুকু। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট যথেষ্ট সমৃদ্ধ হলে, আর গাদায় গাদায় পিডিএফ বা ওয়ার্ড ফাইল দেয়া থাকলে, তাদের র‌্যাংকিং সামনের দিকে চলে আসবে এমনি এমনিই।

ওয়েবে উপস্থিতি কিংবা ওয়েবসাইটের অবস্থা মাপার এই ব্যাপারটিকে বলা হয় ওয়েবোমেট্রিক্স বা ওয়েব পরিমাপ। ফরমুলা থেকেই দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার মাপ আদৌ এই হিসাবে নেই, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার পরিমাণ অল্পই গুরুত্ব পেয়েছে। CSIC নিজেই বলছে, এই র্যাংকিং এর উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনলাইন উপস্থিতি বাড়ানো, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংক কম হলে যেনো তারা তাদের ওয়েবসাইটের মান বাড়ানোতে মনোযোগী হয়, সেটাতে উদ্বুদ্ধ করা, ইত্যাদি। কোনোভাবেই এটা দাবী করেনি CSIC নিজেও যে, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদীক্ষার মানের পরিমাপ, অথবা গবেষণামূলক তৎপরতার হিসাব।

(৪)

CSIC এর র‍্যাংকিং এ আগে যাওয়ার উপায় কী? খুব সহজ। অল্প পয়সা খরচ করে ভালো একজন ওয়েব ডিজাইনার লাগবে, যার কাজ হবে ওয়েবসাইটে পাতার সংখ্যা বাড়ানো, আর বিভিন্ন জায়গা থেকে ওয়েবসাইটে ইন-লিংক বাড়ানো। ধরাযাক, বাদুরতলা ইউনিভার্সিটি চাইছে, চৌকিরতলা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইতে র‌্যাংকে আগাতে। যেহেতু ফরমুলাতে মূল গুরুত্ব (৫০+২০=৭০%) এসেছে ওয়েবসাইটের লিংক এবং পাতার সংখ্যা থেকে, বাদুরতলার ওয়েবসাইট ডিজাইনারের কাজ হবে ওয়েবসাইটে পেইজের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়া, আর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে অন্য বিভিন্ন সাইটে বাদুরতলার সাইটের লিংক যোগ করা। (উল্লেখ্য, CSIC এর ফরমুলাতে কিন্তু কোথা থেকে লিংক এসেছে, তার বিচার করা হয়না, বরং কয়টা লিংক আছে, তাই বিবেচ্য, সুতরাং ব্লগে ব্লগে বাদুরতলার সাইটের অজস্র লিংক যোগ করলে তাদের র‌্যাংক বাড়বে)। বাদুরতলার ওয়েব ডিজাইনারের পরের কাজটা হবে তাদের সাইটে হাবিজাবি পিডিএফ, ওয়ার্ড এসব ফাইল রাখা, বিভিন্ন পাতায় ওয়েবপেইজের মধ্যে সেগুলোর লিংক রেখে দেয়া। সেটার গুরুত্ব আবার ১৫%। সব মিলে ওয়েব ডিজাইনারের হাতে আছে ৮৫%। বাকি মাত্র ১৫% হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের গবেষণাপত্র গুগল স্কলারে কতটুকু এসেছে সেটা। কাজেই অল্প একটু খেটেই বাদুরতলা ইউনি টেক্কা দিতে পারবে চৌকিরতলা ইউনিকে।

অথচ বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়াতে এটাকে তুলে ধরা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মানের তুলনা হিসাবে। র‍্যাংকিং কেনো কম, এই নিয়ে ঢাবির শিক্ষকদের তলব করে কৈফিয়ত নেয়া হয়েছে, বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি বিশাল গর্ব করেছে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরে আছে এই নিয়ে। কলামের পর কলাম লেখা হয়ে চলেছে এই নিয়ে। কিন্তু এতো সব লেখালেখি, এতো সব বিজ্ঞ ব্যক্তিরা, কেউই এটা কীসের র‌্যাংকিং, একবারও পড়ে দেখার প্রয়োজন অনুভব করেননি। কেউ খেয়ালও করেননি, এটা ওয়েবসাইটের র‍্যাংকিং, তা না করে সবাই বলে চলেছেন গেলো গেলো, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা রসাতলে গেলো!

(৫)

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংক CSIC এর ওয়েবোমেট্রিক্স র‍্যাংকিং এ কম কেনো, তা কিন্তু সহজেই বোঝা চলে। অধিকাংশ সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের বেশ দুরবস্থা। প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করা হয় না, বিভাগওয়ারী ওয়েবপাতা থাকলেও তাতে অল্প কিছু তথ্য/পাতা তৈরী করেই শেষ। অবশ্য অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইটের বয়স খুব বেশি নয়, তাই অন্য সাইট থেকে তাদের প্রতি লিংকের সংখ্যাও কম। কাজেই ওয়েবোমেট্রিক্সের ফরমুলার মোটামুটি ৮৫% এ পিছিয়ে থাকার জন্য দায়ী হলো ওয়েবসাইট নির্মাণে অদক্ষতা – মোটেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা বা গবেষণার মান এখানে দায়ী নয়।

বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং খুব দরকার। কিন্তু সেটা হতে হবে একাডেমিক র‌্যাংকিং। ওয়েবসাইটের র‍্যাংকিং এর মতো ফালতু ব্যাপারকে নিয়ে মাতামাতি করার মাঝে এই একাডেমিক র‍্যাংকিং এর ব্যাপারটা সবার নজর এড়িয়ে যায়। আর এই একাডেমিক র‍্যাংকিং এর কাজটা করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন বা এদের মতো নিরপেক্ষ সরকারী কোনো সংস্থাকেই। একাডেমিক প্রকাশনার সংখ্যা, গবেষণাকর্মের ইম্প্যাক্ট, ছাত্রশিক্ষক অনুপাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা অবকাঠামো -- এসব কিছু বিবেচনা করে র‌্যাংক করতে হবে। US News and World Report নামের সংস্থাটি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংক প্রকাশ করে পড়াশোনার মান ও গবেষণার উৎকর্ষের ভিত্তিতেই। । সেটা না করে ওয়েবসাইটের পেইজের সংখ্যার ভিত্তিতে বানানো র‍্যাংককে নিয়ে মাথা ঘামানোটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

উপসংহার

চিলে কান নিয়েছে শুনে ছুটেই চলেছি আমরা, আর স্পেনীয় চিল, ইন্টারনেট থেকে জানা গেছে শুনেই মাতম শুরু করেদিয়েছি, দেশের উচ্চ শিক্ষা রসাতলে গেছে বলে রায় দিয়ে চলেছি … অথচ আসলে কীসের র‍্যাংকিং, তা পড়ে দেখার ইচ্ছে কারো নেই। পরের মুখে ঝোল খেতেই সবাই ব্যস্ত। আসুন, স্পেনীয় ওয়েব চিলকে তার যথার্থ স্থানে রাখি, আর দৌড়ানো থামিয়ে একটু হাত দিয়ে দেখি কানটা আছে কি না, যথার্থ মাপকাঠিতেই মেপে দেখি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে। সোনালী ডানার চিল চলে যাক ওয়েবের নির্বাসনে …

(চিলের ছবি, ফার্ডিনান্ড গ্রাসমান, উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেয়া)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29237266 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29237266 2010-09-08 22:53:54
বসন্তে, মায়ানগরে



(শব্দ বাড়িয়ে নিয়ে শুনুন)

*ছবিগুলো উইকিপিডিয়ার মুক্ত ভাণ্ডার থেকে নেয়া]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29231166 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29231166 2010-08-28 12:34:32
ইউটিউবের দেবশিশুরা
ইউটিউবের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রদর্শিত ভিডিওর একটা তালিকা আছে, সেখানে ব্যবসায়িক মিউজিক ভিডিও রয়েছে বিস্তর, কিন্তু তার মাঝেও গুটিকয় অপেশাদার ভিডিওচিত্র স্থান করে নিয়েছে। আর এসব ছবির মধ্যে সবার আগে আছে যে ভিডিওটি, তা হলো, "চার্লি বিট মাই ফিঙ্গার, অ্যাগেইন!" (চার্লি আবার আমার আঙুল কামড়ে দিয়েছে!)

বর্ণনার আগে, দেখে নিন ভিডিওটি একবার। শব্দ চালু করে দেখতে ভুলবেন না কিন্তু!!



ভিডিওটা আসলে দুই ভাইয়ের ভিডিও। বড়ভাই হ্যারি, বয়স ২ বা আড়াই। ছোটভাই চার্লি, সদ্য দাঁত গজিয়েছে চারটি বা ছয়টি। কুট কুট করে বলে সারাক্ষণ এটা ওটা কামড়ে বেড়ায়।

এই চার্লি আর হ্যারিকে নিয়েই তাদের বাবার তোলা এই ভিডিও, এক চেয়ারে বসে আছে দু-ভাই। খেলার ছলে হ্যারির আঙুল মুখের সামনে পেয়েই কামড়ে দেয় হ্যারি। চট করে সরিয়ে নিলেও হ্যারি বেশ মজা পায় এতে। আনন্দের স্বরে বলে, "চার্লি আমার আঙুল কামড়েছে"।

জবাবে চার্লি এক গাল, চতুর্দন্তি হাসিটি দিতে ভোলেনা। কী মনে করে হ্যারি এবার তার অন্য হাতের আঙুলটি তুলে ধরে চার্লির মুখের সামনে। পড়বি তো পড় চার্লির মুখে, সাথে সাথে ঘ্যাঁচ করে আবার কামড় বসায় চার্লি।

হ্যারি বেশ মজা পায় শুরুতে, এক গাল হাসি সেও দেয়। কিন্তু চার্লি এবার বসায় মরণকামড়, আর সেই কামড়ের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে হ্যারির মুখের জিওগ্রাফিও পাল্টাতে থাকে, বেদনায় কাঁদার উপক্রম হয়, অবশেষে ছাড়াতে পারে চার্লির মুখ থেকে তার এই আঙুলটা। আঙুল ছাড়ার পরে চার্লি এক গাল হাসি দেয়, প্রচণ্ড আনন্দের এক কাজ করে বসে তৃপ্তির হাসি হাসে।

কামড় খেয়ে কষ্ট পেলেও হ্যারি কিন্তু তার ছোট্ট ভাইটিকে বেজায় ভালোবাসে। তাই চোখের নিমেষেই তার কান্না থেমে যায়, মুখে আবার ফিকফিকে হাসি ফিরে আসে, বলে সে, "চার্লি আমাকে আবারো কামড়েছে, আর বড্ড ব্যাথা পেয়েছি"।

জবাবে চার্লি আবারও হাসে। ভূবন ভোলানো হাসি।

---

এই ভিডিওটি ইউটিউবে ২০০৭ সালের মে মাসে আপলোড করা, ৩ বছরে মোট দেখা হয়েছে প্রায় ২২ কোটি বার। প্রচুর প্যারোডি বেরিয়েছে এই ভিডিওর, আর এর দৌলতে চার্লি আর হ্যারি হয়ে গেছে ইন্টারনেটের সেলিব্রিটি। ভিডিওর মূল পাতায় গেলে চার্লি, হ্যারির অন্য সব ভিডিও, আর তাদের আরো নতুন ভাই জ্যাসপারের সব কাজকর্ম দেখতে পাবেন।

----

ইউটিউবের সর্বাধিক দেখা ভিডিওর তালিকার আরেকটা ভিডিও হলো এটা --



ছোট্ট এক বাবু চেয়ারে বসে ছিলো, নীল জামা গায়ে দিয়ে, আর তার বাবা বা অন্য কেউ মজার মজার শব্দ করে বেড়াচ্ছিলো। ছোট্ট বাবুটা এসব শব্দে দারুণ মজা পায়, আর হো হো করে হাসতে থাকে। এই বাবুটার স্বর্গীয় হাসিকে নিয়েই এই ভিডিও। বাবুটার এই অনাবিল হাসি ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড ধরে চলতে থাকে, আর এই ভিডিওটা দেখে নেয় অজস্র মানুষ, গত চার বছরে মোট দেখা হয়েছে ১৩ কোটি বার। সর্বাধিক দেখা ভিডিওর তালিকায় এটি রয়েছে আট নম্বরে, আর অপেশাদার ভিডিওর মধ্যে তৃতীয়।

---

স্বর্গীয় এই শিশুদের হাসির অজস্র এমন ভিডিও রয়েছে ইউটিউবে, যা দেখে মনে হয়, এর চেয়ে সুন্দর আর কোনো দৃশ্য বোধহয় পৃথিবীতে নেই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29225616 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29225616 2010-08-19 11:02:58
কুহুনামা - আগস্ট ১৭, ২০১০

ফেইসবুকের চাইতে টুইটারে ইদানিং যাচ্ছি অনেক বেশি।। টুইটারে আমার দৈনন্দিন টুইট তথা কুহুধ্বনিগুলো তুলে ধরছি এই অনিয়মিত সিরিজে।

--------------------------------------------------------------------

১৯৫০ এর দশকে তদানিন্তন পাকিস্তানে গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটেছিলো জেনারেল ইস্কান্দার মীর্জার হাতে। ক্ষমতা দখল করা এই জেনারেল ইস্কান্দার মীর্জা ছিলেন কুখ্যাত বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরের সরাসরি বংশধর!! (পরে আইয়ুব খান ইস্কান্দারকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাসনে পাঠায়)।
Gen. Iskander Mirza, first military dictator of Pakistan (1950s), was a descendant of Mir Jafar, the infamous turncoat http://bit.ly/dv2URk

--------------------------------------------------------------------

ছবি কী ক্যামেরায় আর কীভাবে তোলা হচ্ছে, তার উপরে নির্ভর করে ছবির মানুষটিকে সবাই সুন্দর না কুৎসিত ভাবে। তাই, Don’t Be Ugly By Accident! http://bit.ly/cx3aG6

--------------------------------------------------------------------

ভলতেয়ার বলেছিলেন, কমন সেন্স মোটেও কমন নয়, "Common sense is not so common." -- Voltaire (1694‐1778)

--------------------------------------------------------------------

খাদ্য সংকট আসছে সামনে, আর বিজ্ঞানীরা তা মোকাবেলার জন্য চিন্তা করছেন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে কৃত্রিম ভাবে মাংস তৈরী করার কথা ভাবা হচ্ছে। আর এ নিয়ে সাইন্স ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন - Scientists say meat grown in vats may be necessary to feed the 9 billion people expected to be alive in 2050. http://bit.ly/du5Cps

--------------------------------------------------------------------

লুই পাস্তুর ভাগ্যে বিশ্বাস করতেন অল্পই, বলতেন, যে প্রস্তুত থাকে, ভাগ্য সহায় হয় তারই, "Luck favors the prepared mind", Louis Pasteur.

--------------------------------------------------------------------

কল্পরাজ্যের সুপারহিরোদের নিয়ে সারা জীবন গল্প বানিয়েছেন কার্টুনিস্ট স্ট্যান লী, কিন্তু তিনি এখন একটা সিরিজ করেছেন, যাতে বাস্তব জীবনের অসামান্য কিন্ত বিচিত্র ক্ষমতাধর সব মানুষকে তুলে ধরা হচ্ছে। (এদের মধ্যে আছে ভারতের একজন, কোনো প্রভাব ছাড়াই যার গায়ের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ বইতে পারে অনায়াসে) - Stan Lee's "Real Superhumans" http://bit.ly/cwqQQx

--------------------------------------------------------------------

গবেষণার উপরে ১৯৮৬ সালে দেয়া বেল ল্যাবসের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী রিচার্ড হ্যামিং এর চমৎকার একটি বক্তৃতা - An oldie, but goodie. "You and Your Research", by Richard Hamming (THE Hamming of Hamming distance) http://bit.ly/cfweNM

--------------------------------------------------------------------

চীনাদের মাথায় বুদ্ধি কম নয়!! রাস্তায় যানজট এড়াতে এমন দ্বিতল বাসের পরিকল্পনা এঁটেছে তারা, যার তলা দিয়ে অন্য গাড়ি চলে যেতে পারবে। "Straddling Bus", like a Double Decker but without lower deck. Interesting idea from China. http://bit.ly/bsrDth

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29224534 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29224534 2010-08-17 13:12:57
কুহুনামা - আগস্ট ১, ২০১০

ফেইসবুকের চাইতে টুইটারে ইদানিং যাচ্ছি অনেক বেশি।। টুইটারে আমার দৈনন্দিন টুইট তথা কুহুধ্বনিগুলো তুলে ধরছি এই অনিয়মিত সিরিজে।

--------------------------------------------------------------------

বিদেশী টানে ইংরেজি বললে শ্রোতারা বক্তার কথার সত্যতায় সন্দীহান থাকে। এক সমীক্ষায় তাই দেখা গেছে। Hmmm "Does a Foreign Accent Hurt Credibility? People with a foreign accent are perceived as less truthful by listeners" http://bit.ly/cJrGA3

----------------------------------

সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর মেরি সানসালোনকে বাংলাদেশে অবস্থিত এশিয়ান ইউনভার্সিটি অফ উইমেনের প্রভোস্ট নিযুক্ত করা হয়েছে। Mary Sansalone, engineering dean at Washington Univ in St Louis appointed provost,Asian University for Women,Bangladesh http://bit.ly/dCgZ6b

----------------------------------

সালমান খান। না, অভিনেতা নন, ইনি হলেন অনলাইন ভিত্তিক টিউটোরিয়াল সাইট খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা। সম্পূর্ণ ফ্রি এই সাইটে রয়েছে নানা বিষয়ের স্কুল/কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ভিডিও টিউটোরিয়াল। স্বয়ং বিল গেইটস এই সাইটের ভিডিও দেখেছেন বসে বসে, আর প্রশংসা করে টুইট করলেন, RT @BillGates on Khanacademy "I’ve been spending time watching some of the courses on http://bit.ly/bOCPzn many of which are quite good"

----------------------------------

লেনিনের মারফত পেলাম, গুগলের অনেকগুলো অপ্রকাশিত ফিচার - Rather than the cheatsheet you are most likely to like the "Hidden features of Google" http://bit.ly/bCQgjf

----------------------------------

বিশ্বকাপে বাজে ফলাফল শেষে উত্তর কোরিয়ার ফুটবল দেশে ফেরত গেছে, আর গিয়েই পড়েছে বিশাল বিপদে। ডিম থেরাপি না দিলেও সরকারী পর্যায়ে তাদের মঞ্চে তুলে অপমান ও জিজ্ঞাসাবাদ করা চলছে।
Obvious! "North Korea soccer coach fears for his life" - http://bit.ly/bCIL8Y

----------------------------------

২০১০ সালের ডাইক্‌স্ট্রা পুরস্কার পেলেন তুষার চন্দ্র ও তাঁর দুই সহকর্মী। The 2010 Dijkstra prize in Distributed Computing goes to Tushar Chandra, Vassos Hadzilacos, and Sam Toueg. http://bit.ly/argQMT

----------------------------------

বিশ্বের সেরা কম্পিউটার বিজ্ঞানী কারা? মাইক্রোসফট রিসার্চের এশিয়া ল্যাব থেকে তৈরী করা হয়েছে তালিকাটি। "Top authors in Computer Science Overall" from Microsoft Academic Research http://bit.ly/agu2s5

----------------------------------

"গোঁপের আমি গোঁপের তুমি গোঁপ দিয়ে যায় চেনা" - নানা রকমের গোঁফের তালিকা নিয়ে ক্র্যাক্‌ড এর রম্য রচনা - 10 Mustache Styles That Must Be Stopped: http://bit.ly/bJ8kLk

----------------------------------
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29213130 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29213130 2010-08-01 23:51:36
ছবি চাই, ছবি। দিন না একটি ছবি!! (রি রি রি রিপোস্ট)
(বছর কয়েক ধরে এই পোস্টটা চার বার দেয়ার পরে অনেক সাড়া পেয়েছিলাম। আরো ছবি চাই, তাই আবারো জানাচ্ছি এই আহবান।)

আমাদের দেশটা এতো সুন্দর, কিন্তু তাকে দুনিয়ার কাছে তুলে ধরার চেষ্টাটা আমাদের কম। বসে আছি, কবে বিদেশী মহাজ্ঞানী মহাজনেরা এসে এদেশের সৌন্দর্য নিয়ে কিছু বুলি কপচাবে, দয়া করে এটা সেটা একটা পত্রিকা বা ম্যাগাজিনে গরীব দেশের সৌন্দর্য নিয়ে কিছু লিখবে! যদি বা লিখে, তা হবে তাদের বিদেশী দৃষ্টিকোন থেকে ... তাদের নিজেদের বাণিজ্যিক সুবিধার্থে। দেশকে ভালোবেসে আমরা যে গভীর আবেগে বাংলার চিত্রকল্প, সৌন্দর্য কাব্য তুলে ধরতে পারি, তা কি আর বিদেশী কেউ পারবে?

ইন্টারনেট আমাদের এই মহা সুযোগটা করে দিয়েছে। আর দুনিয়ার ২৫০টি ভাষায় রচিত, সর্বকালের সবচেয়ে বড়ো তথ্যভাণ্ডার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করা উইকিপিডিয়া এইক্ষেত্রে আমাদের মহা সহায় হতে পারে ... আমাদের দেশের তথ্য, সৌন্দর্য সবার কাছে তুলে ধরার জন্য।

একটু পরীক্ষা করে দেখুন। গুগলে গিয়ে Dhaka বা cox's bazar লিখে সার্চ দিন। প্রথম লিংকটা আসছে কোথা থেকে? উইকিপিডিয়া থেকেই, তাই না? এভাবে উইকিপিডিয়াতে যোগ করা তথ্য দুনিয়ার সবার কাছে পৌছে যায় খুব সহজেই।


কথায় বলে, A picture is worth a thousand words। বাংলার নকশী কাঁথার মাঠের ছবির অবশ্য বড়ই অভাব ইন্টারনেটে। আর মুক্ত লাইসেন্সে ব্যবহার করা যায়, এরকম ছবি তো নাই বললেই চলে। উইকিপিডিয়াতে বাংলাদেশের ছবি যোগ করতে গিয়ে তাই অনেক খুঁজতে হয়েছে আমাদের। বাংলাদেশের তথাকথিত খ্যাতনামা ফটোগ্রাফারদের কাছে চাওয়া হয়েছিলো, তাঁরা আবার মোটা অংকের অর্থ চেয়ে বসেছেন অল্প কয়েকটা ছবির বদলে। কিন্তু দেশের জন্য যে প্রেম, তা কী টাকা পয়সার হিসাবে মাপা যায়?

এই অবস্থার পরিবর্তন কে ঘটাতে পারে? আপনিই। হ্যাঁ, আপনি, আমি, আমরা সবাই। জনমানুষের বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়াতে ছবি যোগ করা খুব সহজ, আর বাংলা উইকিপিডিয়ার কর্মীরা পুরো প্রক্রিয়াটাকে আরো সহজ করে দিয়েছে। আপনার তোলা যেকোন ছবি দিতে পারেন... ঢাকা শহরের, চট্টগ্রাম, সিলেট, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নদীর, বিরিসিরি অথবা তেতুলিয়ার, রিকশার, সিএনজির, লালবাগ কেল্লা থেকে শুরু করে রেললাইনের বস্তি - সবকিছুই সাদরে গৃহীত হবে।

** গত চারবারের আহবানে প্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে নির্বাচিত কিছু ছবি পাবেন এখানে , যা এবছরের বইমেলাতে ই-বুক হিসাবে উদ্বোধন করা হবে **

--------------------------------------------------------
ছবি পাঠানোর পদ্ধতি

আপনার নিজের তোলা ছবি পাঠিয়ে দিন wikiphotos AT bdosn.org এই ঠিকানায়। ইমেইলের মধ্যে I release the photos under GNU Free Documentation License এই বাক্যটি দিয়ে দিবেন, আর ছবিগুলোর সংক্ষিপ্ত এক দুই বাক্যের বর্ণনা দিয়ে দিবেন। ব্যাস। বাকিটা বাংলা উইকিপিডিয়ার কর্মীরা দেখবে।

উল্লেখ্য, ছবির বর্ণনা পাতায় ফটোগ্রাফার হিসাবে আপনার নাম/ক্রেডিট সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হবে। এখানে ছবি দিলেও সেই ছবি আপনি আপনার ব্লগে বা যেখানে খুশি যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারবেন ... উইকিকে মুক্ত লাইসেন্সে "ছবি দেয়া"র অর্থ হলো আপনি দেশের সেই ছবিটি ব্যবহার করতে অন্য সবাইকে অনুমতি দিচ্ছেন।

(খেয়াল রাখবেন, কেবল নিজের তোলা ছবিই দেয়া যাবে ...)

--------------------------------------------------------


দেশকে ভালোবাসা আমাদের সবার কর্তব্য। আসুন, যে যেভাবে পারি, আমাদের এই সোনার দেশের জন্য কাজ করি। আপনার যোগ করা দেশের ছোট্ট একটি ছবি, ছোট্ট একটি দৃশ্য দুনিয়ার জ্ঞানের মহাসাগরে আমাদের দেশের রূপ, রস, মানুষকে তুলে ধরতে পারে খুব চমৎকার ভাবে।

তাই, দিন না একটা ছবি।

(পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি সুন্দরবনের, তোলা হয়েছিলো ঘুর্ণিঝড় সিডরের কয়েক মাস পরে। সিডরের তান্ডবের পরে নতুন করে আবার প্রাণের পুনর্জাগরণ ঘটছে সেখানে ... )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29211569 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29211569 2010-07-31 02:41:11
নেলসন ম্যান্ডেলা - বর্ণবাদ বিরোধী সংগ্রামী - ২য় পর্ব - কারাবাস ও মুক্তি
(১৯৩৭ সালে ম্যান্ডেলা)

গত কয়েকদিন ধরে বাংলা উইকিপিডিয়ার জন্য নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনী অনুবাদ করছি। আজ এই অনুবাদের দ্বিতীয় অংশটি তুলে দিলাম।

৫ কারাবাস

ম্যান্ডেলার কারাবাস শুরু হয় রবেন দ্বীপের কারাগারে। এখানে তিনি তাঁর ২৭ বছরের কারাবাসের প্রথম ১৮ বছর কাটান।[৪৪] জেলে থাকার সময়ে বিশ্বজুড়ে তাঁর খ্যাতি বাড়তে থাকে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষ্ণাঙ্গ নেতা হিসাবে সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেন।[১] সশ্রম কারাদণ্ডের অংশ হিসাবে রবেন দ্বীপের কারাগারে ম্যান্ডেলা ও তাঁর সহবন্দীরা একটি চুনাপাথরের খনিতে শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে বাধ্য হন।[৪৫] কারাগারের অবস্থা ছিলো বেশ শোচনীয়। কারাগারেও বর্ণভেদ প্রথা চালু ছিলো। কৃষ্ণাঙ্গ বন্দীদের সবচেয়ে কম খাবার দেয়া হতো।[৪৬] সাধারণ অপরাধীদের থেকে রাজনৈতিক বন্দীদের আলাদা রাখা হতো। রাজনৈতিক বন্দীরা সাধারণ অপরাধীদের চাইতেও কম সুযোগ সুবিধা পেতো।[৪৭] ম্যান্ডেলা তাঁর জীবনীতে লিখেছেন, তাঁকে ডি-গ্রুপের বন্দী হিসাবে গণ্য করা হতো, অর্থাৎ সবচেয়ে কম সুবিধাপ্রাপ্ত বন্দীদের তালিকায় তাঁকে রাখা হয়েছিলো। তাঁকে প্রতি ৬ মাসে একটিমাত্র চিঠি দেয়া হতো এবং একজনমাত্র দর্শনার্থীর সাথে দেখা করার অনুমতি দেয়া হতো।[৪৮] ম্যান্ডেলাকে লেখা চিঠি কারাগারের সেন্সরকর্মীরা অনেকদিন ধরে আটকে রাখতো। চিঠি ম্যান্ডেলার হাতে দেয়ার আগে তার অনেক জায়গাই কালি দিয়ে অপাঠযোগ্য করে দেয়া হতো।[১০]




(রবেন দ্বীপের কারাগারে ম্যান্ডেলার কক্ষ। এখানেই কাটে তাঁর কারাজীবনের অধিকাংশ সময়)

কারাগারে থাকার সময়ে ম্যান্ডেলা লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় পড়াশোনা শুরু করেন এবং আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।[৪৯] পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে তাঁকে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু তিনি প্রিন্সেস অ্যানের কাছে সেই নির্বাচনে হেরে যান।[৪৯]

দক্ষিণ আফ্রিকার গোয়েন্দা বিভাগের গুপ্তচর গর্ডন উইন্টার ১৯৮১ সালে আত্মজীবনী লিখেন, যার শিরোনাম ছিলো Inside BOSS [৫০]। এই আত্মজীবনীতে উইন্টার দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের একটি গোপন ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করে দেন। এই ষড়যন্ত্র অনুসারে ১৯৬৯ সালে ম্যান্ডেলাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে কারাগারে হামলা চালাবার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো। উইন্টারের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার গুপ্তচরেরা এই ষড়যন্ত্রে অংশ নেয় ও মদদ দেয়। উদ্দেশ্য ছিলো, কারাগার থেকে ম্যান্ডেলাকে পালাতে দেয়া, যাতে তাঁকে ধাওয়া করে পুনরায় গ্রেপ্তারের নামে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা যায়। এই ষড়যন্ত্রের খবর ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা জেনে ফেলায় তা নস্যাত হয়ে যায়।[৫০]

১৯৮২ সালের মার্চ মাসে ম্যান্ডেলাকে রবেন দ্বীপের কারাগার থেকে পোলস্‌মুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এসময় ম্যান্ডেলার সাথে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের উচ্চপদস্থ নেতা ওয়াল্টার সিসুলু, অ্যান্ড্রু ম্লাগেনি, আহমেদ কাথরাদা এবং রেমন্ড ম্‌লাবাকেও সেখানে নেয়া হয়।[৪৮] ধারণা করা হয়, রবেন দ্বীপে কারারুদ্ধ নতুন প্রজন্মের কৃষ্ণাঙ্গ রাজনৈতিক বন্দীদের উপর ম্যান্ডেলা ও অন্যান্য নেতার প্রভাব কমানোর জন্যই এটা করা হয়। তরুণ কর্মীদের উপরে ম্যান্ডেলা ও তাঁর সহযোদ্ধাদের এই প্রভাবকে ব্যঙ্গ করে "ম্যান্ডেলা বিশ্ববিদ্যালয়" বলা হতো।[৫১] তবে ন্যাশনাল পার্টির তদানিন্তন মন্ত্রী কোবি কোয়েটসির মতে ম্যান্ডেলাকে স্থানান্তর করার মূল লক্ষ্য ছিলো ম্যান্ডেলার সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের গোপন বৈঠক ও আলোচনার ব্যবস্থা করা।[৫২]

১৯৮৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার তদানিন্তন রাষ্ট্রপতি পি ডব্লিউ বোথা ম্যান্ডেলাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব দেন। শর্তটি ছিলো, ম্যান্ডেলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সশস্ত্র সংগ্রাম ত্যাগ করতে হবে।[৫৩] কোয়েটসি সহ অন্যান্য মন্ত্রীরা অবশ্য বোথার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তারা মত প্রকাশ করেন যে, ম্যান্ডেলা ব্যক্তিগত কারামুক্তির লোভে পড়ে কখনোই নিজের সংগঠনকে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ থেকে সরিয়ে আনবেন না।[৫৪] ম্যান্ডেলা আসলেই এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। তিনি তাঁর মেয়ে জিন্দজির মাধ্যমে একটি বিবৃতি দেন, যাতে তিনি বলেন,

"What freedom am I being offered while the organisation of the people remains banned? Only free men can negotiate. A prisoner cannot enter into contracts." (আমাকে মুক্ত করার জন্য দেয়া এ কেমনতরো প্রস্তাব, যেখানে জনগণের সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে রাখা হচ্ছে? কেবল মুক্ত মানুষই আলোচনায় বসতে পারে। বন্দীরা কখনো চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে না।)[৫২]


ম্যান্ডেলা ও ন্যাশনাল পার্টি সরকারের মধ্যকার প্রথম আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ডিসেমব্র মাসে। কোবি কোয়েটসি ম্যান্ডেলার সাথে কেপ টাউনের ভোক্স হাসপাতালে দেখা করেন। ম্যান্ডেলা তখন প্রস্টেট গ্রন্থির শল্য চিকিৎসা শেষে আরোগ্য লাভ করছিলেন।[৫৫] পরের চার বছর ধরে ম্যান্ডেলার সাথে সরকার একাধিকবার আলোচনায় বসে। কিন্তু এসব আলোচনায় বিশেষ কিছু অগ্রগতি হয়নি।[৫২]

১৯৮৮ সালে ম্যান্ডেলাকে ভিক্টর ভার্সটার কারাগারে সরিয়ে নেয়া হয়। মুক্তির আগ পর্যন্ত ম্যান্ডেলা এখানেই বন্দী ছিলেন। আস্তে আস্তে তাঁর উপরে কড়াকড়ি কমানো হয় এবং দর্শনার্থীদের সাথে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়। ম্যান্ডেলার ছাত্রজীবনের বন্ধু হ্যারি শোয়ার্জ এসময় তাঁর সাথে দেখা করেন।

ম্যান্ডেলার কারাবন্দীত্বের সময়ে তাঁর মুক্তির জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের উপরে চাপ বাড়তে থাকে। ম্যান্ডেলার মুক্তির জন্য এই আন্দোলনের বহুল ব্যবহৃত শ্লোগানটি ছিলো, Free Nelson Mandela! (ম্যান্ডেলার মুক্তি চাই)[৫৬] ১৯৮৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি বোথা হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ফ্রেডেরিক উইলেম ডি ক্লার্ক।[৫৭] রাজনৈতিক এই পটপরিবর্তনের পরেই ডি ক্লার্ক ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ম্যান্ডেলাকে মুক্তি দেয়ার কথা ঘোষণা করেন।[৫৮]

ম্যান্ডেলার কারাবন্দীত্বের সময়ে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির দূতেরা বেশ কয়েকবার তাঁর সাথে রবেন দ্বীপ ও পোলস্‌মুর কারাগারে দেখা করেন। এই সাক্ষাতগুলো সম্পর্কে ম্যান্ডেলা বলেন, "to me personally, and those who shared the experience of being political prisoners, the Red Cross was a beacon of humanity within the dark inhumane world of political imprisonment." (ব্যক্তিগত ভাবে আমার জন্য এবং আমার মতো অন্য রাজনৈতিক বন্দীদের জন্য রেড ক্রস ছিলো কারাগারের অমানুষিক নিষ্ঠুর অন্ধকার জগতে আলোর দিশা।)[৫৯][৬০]


৬ মুক্তি

১৯৯০ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার তদানিন্তন রাষ্ট্রপতি এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ক আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সহ অন্যান্য বর্ণবাদ বিরোধী সংগঠনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। একই সাথে তিনি ঘোষণা দেন, ম্যান্ডেলাকে অচিরেই মুক্তি দেয়া হবে।[৬১] ভিক্টর ভার্সটার কারাগার থেকে ম্যান্ডেলাকে ১৯৯০ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি তারিখে মুক্তি দেয়া হয়। ম্যান্ডেলার কারামুক্তির ঘটনাটি সারাবিশ্বে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।[৬২]

মুক্তির দিনে ম্যান্ডেলা জাতির উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ দেন।[৬৩] এই ভাষণে তিনি শান্তি রক্ষা করা ও দেশের শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আহবান জানান। একই সাথে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সশস্ত্র সংগ্রাম শেষ হয়ে যায়নি। এই বিষয়ে তিনি বলেন,



“Our resort to the armed struggle in 1960 with the formation of the military wing of the ANC (Umkhonto we Sizwe) was a purely defensive action against the violence of apartheid. The factors which necessitated the armed struggle still exist today. We have no option but to continue. We express the hope that a climate conducive to a negotiated settlement would be created soon, so that there may no longer be the need for the armed struggle." (১৯৬০ সালে আমরা সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করতে বাধ্য হই। বর্ণবাদের হিংস্রতার হাত থেকে আত্মরক্ষার খাতিরেই আমরা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সশস্ত্র অঙ্গসংগঠন উমখান্তো উই সিযওয়ে গঠন করেছিলাম। সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করার পেছনের কারণগুলো এখনো রয়ে গেছে। তাই এ সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের হাতে আর কোনো পথ নেই। আমরা আশা করি, শান্তি আলোচনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ অচিরেই সৃষ্টি হবে এবং আমাদের আর সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাবার দরকার থাকবে না।) ”

ম্যান্ডেলা আরো বলেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হলো সংখ্যাগুরু কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য শান্তি নিয়ে আসা, আর স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা।[৬৩]

(চলবে)

(এবার আর রেফারেন্সগুলো দিলাম না। পোস্টের শেষ পর্বে সব রেফারেন্স দেয়া হবে। কৌতুহল থাকলে উইকির মূল পাতাটিতে গিয়ে দেখে নিতে পারেন।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29210792 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29210792 2010-07-30 02:56:58
কুহুনামা - জুলাই ২৭, ২০১০

ফেইসবুকের চাইতে টুইটারে ইদানিং যাচ্ছি অনেক বেশি।। টুইটারে আমার দৈনন্দিন টুইট তথা কুহুধ্বনিগুলো তুলে ধরছি এই অনিয়মিত সিরিজে।

----------------------------------

অর্থনীতির বা শেয়ার বাজারের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ (long run investment) হলো শেয়ার বাজারের কনসালটেন্টদের প্রিয় বিষয়, কিন্তু আধুনিক বাজার অর্থনীতির প্রবক্তা জন মেইনার্ড কেইন্স এর মতে? "জন্মিলে মরিতে হবে", "In the long run, we are all dead", John Maynard Keynes, A Tract on Monetary Reform (1923) Ch. 3, http://bit.ly/brVrV6

-------------------------------

চা আর কফির উপরে চলে আমাদের নিত্য দিনের পথচলা, কিন্তু চাঙা হবার জন্য খাবেন কোনটি?, চা, কফি, নাকি কোক? জেনে রাখুন তাহলে -- "Caffeine Content of Drinks - How Much Caffeine in Coffee, Soft Drinks, Tea" http://bit.ly/bGh63W

-------------------------------

টুইটারে টুইট করাটা অনেকের এখন নিত্য দিনের অভ্যাস। টুইটের ভাবসাব অনুসন্ধান করে বিজ্ঞানীরা এক চমৎকার মানচিত্র তৈরী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের, দেখুন এই ভিডিওতে। "Twitter mood maps reveal emotional states of America", via @newscientist http://bit.ly/9ib665

-------------------------------

উইকিমিডিয়ার সাপ্তাহিক প্রকাশনা সাইনপোস্টে আলোচিত হলো গুগলের যান্ত্রিক ও ভাড়াটে অনুবাদ প্রকল্পের সাথে বাংলা উইকির নীতিগত বিরোধের কথা -- Wikimedia Signpost, the weekly newsletter, discusses recent media coverage of Bengali #Wikipedia's translation policies http://bit.ly/ac0EyQ

-------------------------------

সাধু সাবধান!! বর্মীরা কিন্তু পারমাণবিক বোমা বানাতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা এই ব্যাপারে প্রায় নিশ্চিত। বাংলাদেশের জন্য এ এক দুঃসংবাদ --- "Burma is working on nuclear weapons programme" http://bit.ly/9lR5yR


-------------------------------

ওয়েবসাইটে লগিন করতে গিয়ে ছবিতে থাকা সংখ্যা টাইপ করেছেন নিশ্চয়? ওটার অর্থাৎ রিক্যাপচার আবিষ্কারক কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ অধ্যাপক লুই ভন আহ্‌ন। ব্লগার হিসাবে তিনি বেশ জনপ্রিয়। মজা করে লিখেছেন, তাঁর রিসার্চ গ্রুপটাকে চীন কিংবা ভারতে আউটসোর্স করতে চান, তাতে খরচ কম পড়বে। Luis von Ahn's arguments for and against outsourcing his research group http://bit.ly/bRJKH2


-------------------------------

জনপ্রিয় কার্টুন দ্য সিম্পসনে প্রখ্যাত ব্যক্তিদের অতিথি শিল্পী কার্টুন চরিত্র হিসাবে আনার চল আছে, সেই সূত্র ধরে এবার সিম্পসনে দেখানো হবে ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসকে।।Muhammad Yunus, Nobel laureate & Microcredit pioneer, to appear in The Simpsons. http://bit.ly/c5E9w4

---------------------------------

নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনী অনুবাদ করছি বাংলা উইকির জন্য, আস্তে আস্তে। আপাতত ৭৫% এর মতো অনুবাদ শেষ হয়েছে, দেখতে পারেন এইখানে, http://bit.ly/dC155f ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29209282 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29209282 2010-07-28 10:02:22
কুহুনামা - জুলাই ২৪, ২০১০

ফেইসবুকের চাইতে টুইটারে ইদানিং যাচ্ছি অনেক বেশি।। টুইটারে আমার দৈনন্দিন টুইট তথা কুহুধ্বনিগুলো তুলে ধরছি এই অনিয়মিত সিরিজে।

------------------------------------

শ্রদ্ধেয় লুৎফুল কবীর স্যার ও বুয়েটের আইআইসিটির অন্যান্যদের প্রচেষ্টায় প্রিপেইড মিটার প্রজেক্ট চালু হয়েছিলো অনেকদিন আগে। এখন খবর এসেছে, সরকার সারা দেশেই এটা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্যার ও তাঁর গবেষক দলকে অনেক অভিনন্দন।

Hat's off to Lutful Kabir sir and others of the BUET IICT team @bbcbangla বাংলাদেশে প্রিপেইড মিটার: এবার চালু সারা দেশে http://bit.ly/cAGxYO

----------------------------

ইন্টারনেটে আইপি অ্যাড্রেস শেষ হয়ে আসছে, এ প্রায় বছর দশেকের পুরানো খবর। সেটা ঠিক করার জন্য আইপি প্রটোকলের নতুন সংস্করণ আইপি ভি-৬ বেরিয়েছে প্রায় বছর ১৫ আগে। কিন্তু সিএনএন মাত্রই যেন সেটা আবিষ্কার করেছে .।

Suddenly, media has found out a decade old problem!! With usual panic. "We're running out of internet addresses" http://bit.ly/9fj5NB #cnn

----------------------------

মানুষের সাথে দেখা হলে ভালো ইম্প্রেশন রাখার ১০টি কৌশল। প্রথমটিই হলো, শক্ত করে করমর্দন, আর চোখে চোখ রেখে স্মিত হাসি।

10 Ways to Make a Positive Impression When Greeting People | Little Things Matter http://bit.ly/9mWOed

----------------------------

আইফোনের সমস্যা নিয়ে যারা বিরক্ত, তাদের অনেককেই ফ্রি ফোন দেয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে স্যামসং। তবে খুব বেশি কাউকে দিচ্ছে না।

Samsung offers free phones to frustrated iPhone users - http://bit.ly/dcWoI6 #cnn

----------------------------

ঢাকা চিড়িয়াখানার সবচেয়ে পুরানো বাসিন্দা, পবনতারা নামের হাতিটি, মারা গেছে। ১৯৫৮ সালে চিড়িয়াখানা খোলার সময় থেকেই সেখানে সে ছিলো। দাঁত ও অন্যান্য কিছু জিনিষ দেখে বয়স ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১০০।

Pabantara, the Elephant, dies at 100, in Dhaka Zoo. http://bit.ly/94sMMZ

----------------------------

আলোয় জীবন। একটু আলো, একটু উষ্ণতার জন্য আলোর দিকে বেঁকে যায় জীবন, বাড়তে থাকে আলোর আশায়।

Phototropic life. The seedlings changed direction by 45 degrees within half an hour of switching on the light. http://bit.ly/dxBUfm #life]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29208230 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29208230 2010-07-26 23:19:45
নেলসন ম্যান্ডেলা - বর্ণবাদ বিরোধী সংগ্রামী - ১ম পর্ব
গত কয়েকদিন ধরে বাংলা উইকিপিডিয়ার জন্য নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনী অনুবাদ করছি। এই অনুবাদের প্রথম অংশটি নিচে তুলে দিলাম।

নেলসন রোলিহ্লাহ্লা ম্যান্ডেলা (জুলাই ১৮, ১৯১৮) ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৯৯৪ হতে ১৯৯৯ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ম্যান্ডেলা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সশস্ত্র সংগঠন উমখন্তো উই সিযওয়ের নেতা হিসাবে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৬২ সালে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকার গ্রেপ্তার করে এবং অন্তর্ঘাত সহ নানা অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারাবাস করেন, যার অধিকাংশ সময়ই তিনি ছিলেন রবেন দ্বীপের কারাগারে। ১৯৯০ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি তিনি কারামুক্ত হন। এর পর তিনি তাঁর দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকারের সাথে শান্তি আলোচনায় অংশ নেন। এর ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসান ঘটে এবং সব বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে ১৯৯৪ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যান্ডেলা তাঁর গোত্রের দেয়া মাদিবা নামেও পরিচিত।

গত চার দশকে ম্যান্ডেলা ২৫০টিরও অধিক পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার।

১ জীবনের প্রাথমিকভাগ

নেলসন ম্যান্ডেলা থেম্বু রাজবংশের ক্যাডেট শাখায় জন্মগ্রহণ করেন। থেম্বু রাজবংশ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ প্রদেশের ট্রান্সকেই অঞ্চলের শাসক। [২] তাঁর জন্ম হয় ট্রান্সকেই এর রাজধানী উমতাতার নিকটবর্তী ম্‌ভেজো গ্রামে। [২] তাঁর প্রপিতামহ ছিলেন নগুবেংচুকা (মৃত্যু ১৮৩২), যিনি ছিলেন থেম্বু জাতিগোষ্ঠীর ইনকোসি এনখুলু অর্থাৎ রাজা।[৩] এই রাজার পুত্র ম্যান্ডেলা হলেন নেলসন ম্যান্ডেলার পিতামহ। নেলসনের বংশগত নাম ম্যান্ডেলাই এই পিতামহ থেকেই পাওয়া। তবে নেলসনের পিতামহী ইক্সহিবা গোত্রের হওয়ায় রীতি অনুযায়ী তাঁর শাখার কেউ থেম্বু রাজবংশে আরোহন করার অধিকার রাখেন না [৪]।

ম্যান্ডেলার বাবা গাদলা হেনরি মপাকানইসা ম্‌ভেজো গ্রামের মোড়ল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। [৫] তবে ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরাগভাজন হবার পরে তারা ম্যান্ডেলার পিতাকে পদচ্যুত করে। তিনি তখন তার পরিবারসহ কুনু গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তবে তা সত্ত্বেও ম্‌পাকানইসা ইনকোসিদের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন এবং থেম্বুর শাসনকর্তা হিসাবে জোঙ্গিন্তাবা দালিন্দ্যেবোকে নির্বাচিত করায় ভূমিকা রাখেন। ম্‌পাকানইসার মৃত্যুর পর দালিন্দ্যেবো ম্যান্ডেলাকে পোষ্যপূত্র হিসাবে গ্রহণ করেন। [৬] ম্যান্ডেলার পিতা ম্‌পাকানইসার ছিলো চারজন স্ত্রী, ও সর্বমোট ১৩টি সন্তান (৪ পুত্র, ৯ কন্যা)। [৬] ম্যান্ডেলার মা ছিলেন ম্‌পাকানইসার ৩য় স্ত্রী নোসেকেনি ফ্যানি। ফ্যানি ছিলেন ম্‌পেম্ভু হোসা গোত্রের ন্‌কেদামার কন্যা। নানার বাড়িতেই ম্যান্ডেলার শৈশব কাটে।[৭] তাঁর ডাক নাম "রোলিহ্লাহ্লা"র অর্থ হলো "গাছের ডাল ভাঙে যে", অর্থাৎ দুষ্ট ছেলে। [৮][৯]

ম্যান্ডেলা তাঁর পরিবারের প্রথম সদস্য যিনি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। স্কুলে পড়ার সময়ে তাঁর শিক্ষিকা ম্‌দিঙ্গানে তাঁর ইংরেজি নাম রাখেন "নেলসন"।[১০]

ম্যান্ডেলার বয়স যখন ৯ বছর, তখন তাঁর পিতা যক্ষা রোগে মারা যান। শাসক জোঙ্গিন্তাবা তখন তাঁর অভিভাবক নিযুক্ত হন।[৬] ম্যান্ডেলা রাজপ্রাসাদের কাছের একটি মিশনারী স্কুলে পড়াশোনা করেন। থেম্বু রীতি অনুযায়ী ১৬ বছর বয়সে ম্যান্ডেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর গোত্রে বরণ করে নেয়া হয়। এর পর তিনি ক্লার্কবারি বোর্ডিং ইন্সটিটিউটে পড়াশোনা করেন।[১১] সেখানে ম্যান্ডেলা ৩ বছরের জায়গায় মাত্র ২ বছরেই জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষা পাস করেন।[১১] ১৯৩৭ সালে ম্যান্ডেলা প্রিভি কাউন্সিলে তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হন। এরপর তিনি ফোর্ট বোফোর্ট শহরের মিশনারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হেল্ডটাউন স্কুলে ভর্তি হন। এখানেই থেম্বু রাজবংশের ছাত্ররা পড়াশোনা করতো।[১২] এই স্কুলে পড়ার সময়েই ১৯ বছর বয়সে ম্যান্ডেলা দৌড় ও মুষ্টিযুদ্ধের মতো খেলাধুলায় নিয়মিত অংশ নিতে শুরু করেন।[৭]

স্কুল থেকে পাস করার পর ম্যান্ডেলা ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অফ আর্টস কোর্সে ভর্তি হন। এখানেই অলিভার টাম্বোর সাথে তাঁর পরিচয় হয়। টাম্বো আর ম্যান্ডেলা সারাজীবন ধরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ম্যান্ডেলার আরেক বন্ধু ছিলেন ট্রান্সকেই এর সিংহাসনের উত্তরাধিকারী কাইজার (কে ডি) মাটানজিমা [৪]। এই বন্ধুর সাথে ঘনিষ্ঠতার সুবাদেই পরবর্তীতে ম্যান্ডেলা বান্টুস্থানের রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণে জড়িত হন। তবে এসব নীতিমালার ক্ষেত্রে ম্যান্ডেলা ও মাটানজিমার মতবিরোধ হয়।[৭]

বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ম বর্ষের শেষে ম্যান্ডেলা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্র সংসদের ডাকা আন্দোলনে জড়িত হয়ে পড়েন। এর ফলে তাঁকে ফোর্ট হেয়ার থেকে চলে যেতে বলা হয়। শর্ত দেয়া হয়, কেবল ছাত্র সংসদে নির্বাচিত সদস্য হতে পারলেই তিনি সেখানে ফেরত আসতে পারবেন।[১৩] জীবনের পরবর্তী সময়ে কারাগারে বন্দী থাকার সময়ে ম্যান্ডেলা লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের অধীনে আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

ম্যান্ডেলা ফোর্ট হেয়ার ছাড়ার অল্প পরেই জানতে পারেন, জোঙ্গিন্তাবা তাঁর সন্তান জাস্টিস (যুবরাজ ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী)এবং ম্যান্ডেলার বিয়ে ঠিক করার ঘোষণা দিয়েছেন। ম্যান্ডেলা ও জাস্টিস এভাবে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না। তাই তাঁরা দুজনে জোহানেসবার্গে চলে যান।[১৪] সেখানে যাবার পর ম্যান্ডেলা শুরুতে একটি খনিতে প্রহরী হিসাবে কাজ নেন।[১৫] তবে অল্পদিন পরেই খনির মালিক জেনে যান যে, ম্যান্ডেলা বিয়ে এড়াতে জোঙ্গিন্তাবার কাছ থেকে পালিয়ে এসেছেন। এটা জানার পর খনির কর্তৃপক্ষ ম্যান্ডেলাকে ছাঁটাই করেন। পরবর্তীতে ম্যান্ডেলা জোহানেসবার্গের আইনী প্রতিষ্ঠান উইটকিন, সিডেলস্কি অ্যান্ড এডেলম্যানে কেরানি হিসাবে যোগ দেন। ম্যান্ডেলার বন্ধু ও শুভাকাঙক্ষী ওয়াল্টার সিসুলু এই চাকুরি পেতে ম্যান্ডেলাকে সহায়তা করেন।[১৫] এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময়ে ম্যান্ডেলা ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ আফ্রিকার দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের অধীনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এর পরে ম্যান্ডেলা ইউনিভার্সিটি অফ উইটওয়াটার্সরান্ডে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শুরু করেন। এখানে তাঁর সাথে জো স্লোভো, হ্যারি শোয়ার্জ এবং রুথ ফার্স্টের পরিচয় হয়। পরবর্তিতে এই বন্ধুরা বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী হিসাবে অংশ নেন। এসময় ম্যান্ডেলা জোহানেসবার্গের উত্তরের দিকের শহর আলেক্সান্ড্রিয়াতে বাস করতেন।[১৬]

২ রাজনৈতিক জীবনের শুরু

দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯৪৮ এর নির্বাচনে আফ্রিকানারদের দল ন্যাশনাল পার্টি জয়লাভ করে। এই দলটি বর্ণবাদে বিশ্বাসী ছিলো, এবং বিভিন্ন জাতিকে আলাদা করে রাখার পক্ষপাতি ছিলো।[১৭] ন্যাশনাল পার্টির ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপটে ম্যান্ডেলা সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের ১৯৫২ সালের অসহযোগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৫৫ সালের জনগণের সম্মেলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই সম্মেলনে মুক্তি সনদ প্রণয়ন করা হয়, যা ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের মূল ভিত্তি।[১৮][১৯] এই সময় ম্যান্ডেলা ও তাঁর বন্ধু আইনজীবী অলিভার টাম্বো মিলে ম্যান্ডেলা অ্যান্ড টাম্বো নামের আইনী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন। এই প্রতিষ্ঠানটি উকিল নিয়োগ করার মতো টাকা নেই, এমন দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের স্বল্প মূল্যে আইনগত সাহায্য প্রদান করতো।[২০]

ম্যান্ডেলার রাজনৈতিক জীবনের প্রথমভাগে তিনি মহাত্মা গান্ধীর দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হন। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী কর্মীরা আন্দোলনের প্রথম দিকে গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের নীতিকে গ্রহণ করে বর্ণবাদের বিরোধিতা করেছিলো।[২১][২২] ম্যান্ডেলাও প্রথম থেকেই অহিংস আন্দোলনের পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সরকার ১৯৫৬ সালের ৫ই ডিসেম্বর তারিখে ম্যান্ডেলা সহ ১৫০ জন বর্ণবাদ বিরোধী কর্মীকে দেশদ্রোহিতার মামলায় গ্রেপ্তার করে। এই মামলাটি সুদীর্ঘ ৫ বছর ধরে (১৯৫৬-১৯৬১) চলে, কিন্তু মামলার শেষে সব আসামী নির্দোষ প্রমাণিত হন।[২৩]

৩ বর্ণবাদ বিরোধী সংগ্রাম

১৯৬১ সালে ম্যান্ডেলা এএনসির সশস্ত্র অঙ্গসংগঠন উমখোন্তো উই সিযওয়ে (অর্থাৎ "দেশের বল্লম", সংক্ষিপ্ত নাম MK) এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন এই সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।[২৫] তিনি বর্ণবাদী সরকার ও তার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতী ও চোরাগোপ্তা হামলা পরিকল্পনা ও সমন্বয় করেন। এতে বর্ণবাদী সরকার পিছু না হটলে প্রয়োজনবোধে গেরিলা যুদ্ধে যাবার জন্যও ম্যান্ডেলা পরিকল্পনা করেন।[২৬] এছাড়া ম্যান্ডেলা বিদেশে এমকে-র জন্য অর্থ জোগাড় ও সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য কাজ শুরু করেন।[২৬]

ম্যান্ডেলার সহকর্মী উলফি কাদেশ ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই সশস্ত্র আন্দোলনের ব্যাপারে বলেন, "When we knew that we [sic] going to start on 16 December 1961, to blast the symbolic places of apartheid, like pass offices, native magistrates courts, and things like that ... post offices and ... the government offices. But we were to do it in such a way that nobody would be hurt, nobody would get killed."[২৭] উলফির ব্যাপারে ম্যান্ডেলা বলেন, "His knowledge of warfare and his first hand battle experience were extremely helpful to me."[৯]

ম্যান্ডেলা নিজে তাঁর এই সশস্ত্র আন্দোলনকে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিতান্তই শেষ চেষ্টা বলে অভিহিত করেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা নিপীড়ন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন সফল হবে না বলে তিনি উপলব্ধি করেন এবং এ জন্যই সশস্ত্র আন্দোলনের পথ বেছে নেন। [৯][২৮]

পরবর্তীতে ১৯৮০র দশকে এমকে বর্ণবাদী সরকারের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। এতে অনেক বেসামরিক লোক হতাহত হন।[২৬] ম্যান্ডেলা পরে স্বীকার করেন, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাতে গিয়ে এএনসি অনেক সময় মানবাধিকার লংঘন করেছে। বর্ণবাদের অবসানের পরে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (সত্য ও আপোষ কমিশন) এর রিপোর্ট থেকে এএনসির অনেক নেতা এই বিষয়ের তথ্য অপসারণ করতে চেয়েছিলো -- ম্যান্ডেলা এর তীব্র সমালোচনা করেন।[২৯]

২০০৮ এর জুলাই পর্যন্ত ম্যান্ডেলা ও এএনসি কর্মীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা থেকে নিষিদ্ধ ছিলো। কেবল মাত্র নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে তাঁদের আসার অনুমতি ছিলো। এর কারণ ছিলো ম্যান্ডেলার ষাটের দশকের সশস্ত্র আন্দোলনের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার তদানিন্তন সরকার ম্যান্ডেলা ও এএনসিকে সন্ত্রাসবাদী হিসাবে ঘোষণা করেছিলো। ২০০৮ এর জুলাইতে এসেই কেবল ম্যান্ডেলাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারে প্রণীত সন্ত্রাসবাদীদের তালিকা হতে সরিয়ে নেয়া হয়।[৩০][৩১]

৪ গ্রেপ্তার ও রিভোনিয়ার মামলা

প্রায় ১৭ মাস ধরে ফেরারি থাকার পর ১৯৬২ সালের ৫ই আগস্ট ম্যান্ডেলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জোহানেসবার্গের দূর্গে আটক রাখা হয়।[৩২] মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ম্যান্ডেলার গতিবিধি ও ছদ্মবেশ সম্পর্কে দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তা পুলিশকে জানিয়ে দেয়, ফলে ম্যান্ডেলা ধরা পড়েন।[৩৩][৩৪][৩৫] তিন দিন পরে তাঁকে ১৯৬১ সালে শ্রমিক ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেয়া এবং বেআইনীভাবে দেশের বাইরে যাবার অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। ১৯৬২ সালের ২৫শে অক্টোবর ম্যান্ডেলাকে এই দুই অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এর দুই বছর পর ১৯৬৪ সালের ১১ই জুন ম্যান্ডেলার বিরুদ্ধে এএনসির সশস্ত্র সংগ্রামে নেতৃত্বদানের অভিযোগ আনা হয় ও শাস্তি দেয়া হয়।[৩৬]

ম্যান্ডেলা কারাগারে বন্দী থাকার সময়ে পুলিশ এএনসির প্রথমসারির নেতাদের ১৯৬৩ সালের ১১ই জুলাই জোহানেসবার্গের কাছের রিভোনিয়ার লিলেসলিফ ফার্ম থেকে গ্রেপ্তার করে। রিভোনিয়ার মামলা নামে খ্যাত এই মামলায় ম্যান্ডেলাকেও অভিযুক্ত করা হয়। সরকারের প্রধান আইনজীবী ডক্টর পারসি ইউটার ম্যান্ডেলাসহ এএনসির নেতাদের অন্তর্ঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এ ছাড়াও তাঁদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়।[৩৭] ম্যান্ডেলা অন্তর্ঘাতের অভিযোগ স্বীকার করে নেন। কিন্তু বিদেশী রাষ্ট্রের দালাল হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য আনা দেশদ্রোহিতার অভিযোগটি ম্যান্ডেলা অস্বীকার করেন।[৩৭]

প্রিটোরিয়ার সুপ্রিম কোর্টে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ম্যান্ডেলা ১৯৬৪ সালের ২০শে এপ্রিল তারিখে তাঁর জবানবন্দী দেন। ম্যান্ডেলা ব্যাখ্যা করেন, কেনো এএনসি সশস্ত্র আন্দোলন বেছে নিয়েছে।[৩৮] ম্যান্ডেলা বলেন যে, বহু বছর ধরে এএনসি অহিংস আন্দোলন চালিয়ে এসেছিলো। কিন্তু শার্পভিলের গণহত্যার পর তাঁরা অহিংস আন্দোলনের পথ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।[৩৯] এই গণহত্যা, কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকারকে অবজ্ঞা করে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র ঘোষণা দেয়া, জরুরি অবস্থার ঘোষণা এবং এএনসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরে ম্যান্ডেলা ও তাঁর সহযোদ্ধারা অন্তর্ঘাতমূলক সশস্ত্র সংগ্রামকেই বেছে নেন। তাঁদের মতে সশস্ত্র আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো কিছুই হতো বিনাশর্তে আত্মসমর্পণের নামান্তর।[৩৯] ম্যান্ডেলা আদালতে আরো বলেন, ১৯৬১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে তাঁরা উমখোন্তো উই সিযওয়ে অর্থাৎ এমকে-এর ম্যানিফেস্টো লিখেন। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হিসাবে তাঁরা বেছে নেন সশস্ত্র সংগ্রাম। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিলো, অন্তর্ঘাতের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশী বিনিয়োগকে তাঁরা নিরুৎসাহিত করবেন, আর এর মাধ্যমে বর্ণবাদী ন্যাশনাল পার্টির সরকারের উপরে চাপ সৃষ্টি করবেন। [৪০] জবানবন্দীর শেষে ম্যান্ডেলা বলেন,

During my lifetime I have dedicated myself to the struggle of the African people. I have fought against white domination, and I have fought against black domination. I have cherished the ideal of a democratic and free society in which all persons live together in harmony and with equal opportunities. It is an ideal which I hope to live for and to achieve. But if needs be, it is an ideal for which I am prepared to die. [২৮]


ম্যান্ডেলার পক্ষে ব্র্যাম ফিশার, ভার্নন বেরাঞ্জ, হ্যারি শোয়ার্জ, জোয়েল জফ, আর্থার চাসকালসন, এবং জর্জ বিজোস ওকালতি করেন।[৪১] মামলার শেষভাগে হ্যারল্ড হ্যানসন আইনী সহায়তার জন্য যোগ দেন।[৪২] কিন্তু মামলায় রাস্টি বার্নস্টেইন ছাড়া অন্য সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে ১৯৬৪ সালের ১২ই জুন দেয়া রায়ে ফাঁসীর বদলে তাঁদের সবাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।[৪২]

৫ তথ্যসূত্র
1. ↑ Mandela 1996, pp. 16, 17
2. ↑ ২.০ ২.১ South Africa: Celebrating Mandela At 90। AllAfrica.com (17 July 2008)। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
3. ↑ Kopkind, Andrew (16 March 1990)। Book Review - Higher than Hope। Entertainment Weekly। Time Inc.। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
4. ↑ ৪.০ ৪.১ Mafela, Munzhedzi James (October 2008)। The revelation of African culture in Long Walk to Freedom। Indigenous Biography and Autobiography। Australian National University। 18 July 2009 তারিখে সংগৃহীত।
5. ↑ Guiloineau, Jean (2002)। Nelson Mandela: the early life of Rolihlahla Mandiba। North Atlantic Books প্রকাশিত। 13। ISBN 1556434170।
6. ↑ ৬.০ ৬.১ ৬.২ Aikman (2003), pp 70–71
7. ↑ ৭.০ ৭.১ ৭.২ Mandela, Nelson (2006)। Mandela: The Authorized Portrait। Kansas City, Mo., Andrews McMeel Pub প্রকাশিত। 13। ISBN 0-7407-5572-2। Retrieved on 26 May 2008।
8. ↑ Mandela 1996, p.7
9. ↑ ৯.০ ৯.১ ৯.২ Mandela, Nelson (1994)। Long Walk to Freedom। Little, Brown and Company প্রকাশিত।।
10. ↑ Mandela 1996, p. 9. "No one in my family had ever attended school [...] On the first day of school my teacher, Miss Mdingane, gave each of us an English name. This was the custom among Africans in those days and was undoubtedly due to the British bias of our education. That day, Miss Mdingane told me that my new name was Nelson. Why this particular name I have no idea."
11. ↑ ১১.০ ১১.১ Mandela celebrates 90th birthday। BBC (17 July 2008)। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
12. ↑ Healdtown Comprehensive School। Historic Schools Project: South Africa। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
13. ↑ Mandela 1996, pp. 18-19.
14. ↑ Mandela 1996, pp. 10, 20.
15. ↑ ১৫.০ ১৫.১ Nelson Mandela Biography - Early Years। Nelson Mandela Foundation। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
16. ↑ Nelson Mandela Children's Fund - Organise। Nelson Mandela Children's Fund। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
17. ↑ The 1948 election and the National Party Victory। South African History Online। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
18. ↑ The Defiance Campaign। African National Congress। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
19. ↑ Congress of the People, 1955। African National Congress। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
20. ↑ Callinicos, Luli (2004)। Oliver Tambo: Beyond the Engeli Mountains। New Africa Books প্রকাশিত। 173। ISBN 0864866666।
21. ↑ Mandela, Nelson (3 January 2000)। The Sacred Warrior। Time 100: The Most Important People of the Century। 26 May 2008 তারিখে সংগৃহীত।
22. ↑ Bhana, Surendra; Vahed, Goolam (2005)। The Making of a Political Reformer: Gandhi in South Africa, 1893–1914 149।
23. ↑ Nelson Mandela's Testimony at the Treason Trial 1956-60। African National Congress। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
24. ↑ ২৪.০ ২৪.১ ANC - Statement to the Truth and Reconciliation Commission। African National Congress (August 1996)। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
25. ↑ Umkhonto is Born। African National Congress। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
26. ↑ ২৬.০ ২৬.১ ২৬.২ Whittaker, David J. (2003)। The Terrorism Reader; Updated; Routledge প্রকাশিত। 244। ISBN 0415301017।
27. ↑ Tell me about the bomb at the brickworks - Frontline The Long Walk of Nelson Mandela। PBS।
28. ↑ ২৮.০ ২৮.১ Mandela, Nelson (20 April 1964)। "I am Prepared to Die" — Nelson Mandela's statement from the dock at the opening of the defence case in the Rivonia Trial। African National Congress। 26 May 2008 তারিখে সংগৃহীত।
29. ↑ 2 November 1998, “Mandela admits ANC violated rights, too”, Financial Times
30. ↑ BBC News: US shamed by Mandela terror link (10 April 2008)।
31. ↑ Mandela taken off US terror list। BBC News (1 July 2008)। 1 July 2008 তারিখে সংগৃহীত।
32. ↑ 5 August - This day in history। The History Channel। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
33. ↑ Blum, William। How the CIA sent Nelson Mandela to prison for 28 years। Third World Traveller। 26 May 2008 তারিখে সংগৃহীত।
34. ↑ Stein, Jeff (14 November 1996)। Our Man in South Africa। Salon.com। 26 May 2008 তারিখে সংগৃহীত।
35. ↑ Weiner, Tim (2007)। Legacy of Ashes। Penguin Group প্রকাশিত। 362। ISBN 978-1-846-14046-4।
36. ↑ Katwala, Sunder (11 February 2001)। The Rivonia Trial। The Guardian। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
37. ↑ ৩৭.০ ৩৭.১ ANC Lilliesleaf Farm arrests। South African History Online (11 July 1963)। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
38. ↑ Mandela, Nelson (20 April 1964)। An ideal for which I am prepared to die। The Guardian। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
39. ↑ ৩৯.০ ৩৯.১ 4 April 1960, “The Sharpeville Massacre”, TIME। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
40. ↑ Manifesto of Umkhonto we Sizwe। African National Congress (16 December 1961)। 26 May 2008 তারিখে সংগৃহীত।
41. ↑ Rivonia Trial Papers। Aluka। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।
42. ↑ ৪২.০ ৪২.১ Toward Robben Island: The Rivonia Trial। African National Congress। 28 October 2008 তারিখে সংগৃহীত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29207042 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29207042 2010-07-25 13:09:41
এলোচিন্তা ২ – ট্র্যাজেডির সেই নায়কেরা
উইম্বলডন শেষ হয়ে গেলো মাত্র, এবার বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলে পড়ে উইম্বলডন নিয়ে আগ্রহ আরও কম। অথচ দুই দিনে ১১ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে খেলা বিশ্বরেকর্ড করা ম্যারাথন ম্যাচটি হয়ে গেলো এবারেই।

টেনিস খেলাটা অবশ্য আমার বেশি পছন্দ না, গলফের মতো এটাও বেশ এলিটিস্ট খেলা। ফুটবলের সুবিধাটা এখানেই, কিচ্ছু লাগে না, কেবল একটা বল থাকলেই হলো, অথবা বলের মতো কিছু একটা। আমার বাবাদের সময়ে গ্রামে সেই বলটাও থাকতো না, কিন্ত সমস্যা হয়নি তাতে, বলের বদলে জাম্বুরা দিয়ে দিব্যি খেলা চলেছে। সে তুলনায় টেনিস খেলতে গেলে সরঞ্জাম লাগে বিস্তর।

হয়তোবা একারণেই টেনিস খেলাতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো পিছিয়ে আছে অনেক। ১০০ কোটি মানুষের দেশ ভারত থেকে টেনিসে ভালো ফল করা খেলোয়াড় বেরিয়েছে তাই বেশ অল্পই। এই অল্প কয়েকজনের মধ্যে হয়তোবা সবচেয়ে ভালো ফল করেছিলেন লিয়ান্ডার পেইজ আর মহেশ ভূপতির জুটি। টেনিসে একক সাফল্যগুলোই বেশি খবরে আসে, কিন্তু লিয়ান্ডার পেইজ ১৯৯৯ হতে ২০১০ অবধি ১২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ডাবলস ফাইনালে গেছেন, আর ৬বার শিরোপা জিতেছেন। মিক্সড ডাবলসে গেছেন ১০টি ফাইনালে, জিতেছেন ৫ টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা।

পেইজ ট্র্যাজেডির নায়ক নন, কিন্তু টেনিসের জগতে কোনো কোনো খেলোয়াড়কে যেন তাই মনে হয়। টেনিসের সবচেয়ে আরাধ্য শিরোপা উইম্বল্ডন, তা জেতার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা থাকে সব তারকার। এই ক্ষেত্রে ট্র্যাজেডির নায়ক হিসাবে বলতে হবে ইভান লেন্ডলকেই, আশির দশকের বিশ্ব সেরা টেনিস তারকা হয়েও জিততে পারেননি তিনি উইম্বলডনে একবারও।

এরকম ট্র্যাজিক হিরো অবশ্য ফুটবলে আছে গাদায় গাদায়। মেসির কান্না হয়তো সবার চোখে পড়েছে ২০১০ বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনার বিদায় লগ্নে, কিন্তু এমনও অনেক বিশ্বসেরা খেলোয়াড় ছিলেন, যাঁরা বিশ্বকাপ জেতা তো দূরের কথা, বিশ্বকাপে খেলারই সুযোগ পাননি। ঘানা এবার বিশ্বকাপে খেলেছে বটে, কিন্তু ঘানার কালজয়ী ফুটবলার আবেদি পেলে আশির দশকে ক্লাব ফুটবলে চরম সাফল্য পেলেও সেসময়ে ঘানা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়নি। ১৯৯১ হতে ৯৩ পর্যন্ত পর পর ৩ বছর আবেদি পেলে আফ্রিকার সেরা ফুটবলার হয়েছিলেন, কিন্তু বিশ্বকাপ রয়ে গেছে ধরা ছোয়ার বাইরেই। অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে আবেদি পেলের দুই ছেলে ঘানার জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছে। আবেদির চেয়েও দুর্ভাগ্যবান বলতে হবে জর্জ উইয়াহ-কে। ১৯৯৫ সালে উইয়াহ একই সাথে ফিফার বিশ্বের সেরা ফুটবলার, ইউরোপের সেরা ফুটবলার, ও আফ্রিকার সেরা ফুটবলারের পুরস্কার পান। কিন্তু বিধি বাম, উইয়াহর দেশ লাইবেরিয়াও বিশ্বকাপে আসতে পারেনি, ফলে ফিফার বিশ্বসেরা ফুটবলারদের মধ্যে উইয়াহ্ই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি বিশ্বকাপে খেলেননি।

তবে ফুটবলে ট্র্যাজেডির নায়ক বলতে হলে সবার উপরে যাঁর নাম আসবে, তিনি হলেন জর্জ বেস্ট। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ১১ বছর খেলেছেন বেস্ট, এর মধ্যে ৬ বছর দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন, জিতেছেন ইউরোপের সেরা সব কাপ। কিন্তু তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে তাঁর দেশ উত্তর আয়ারল্যান্ড বিশ্বকাপে সুযোগ পায়নি। ট্র্যাজেডির নায়কদের মতোই জর্জ বেস্টের ক্যারিয়ার আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে এসেছে, মদে আসক্তি তাঁর দেহকে আস্তে আস্তে ধ্বংস করে দিয়েছে, ২০০৫ সালেই অকালে প্রয়াণ হয় বেস্টের।

---

ট্র্যাজেডির নায়ক ভাবলে অবশ্য আমার মনে পড়ে মহাভারতের কর্ণ আর রামায়ণের রাবণের কথা। কর্ণের পুরো জীবনটাই ট্র্যাজেডি – জন্মের সময়েই কুমারী মা কুন্তি জলে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন কর্ণকে, তাঁর ভাইরা রাজ পরিবারে বড় হলেও কর্ণ মানুষ হয়েছেন রাজবাড়ির রথচালকের ঘরে। দুর্যোধনের বন্ধুত্ব আর তাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন আজীবন, দল পালটে পাণ্ডবদের সাথে যোগ দেননি। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৃষ্ণের কূটবুদ্ধিতে অর্জুন কায়দা করে হত্যা করেণ কর্ণকে, ষষ্ঠ পাণ্ডবের জীবনাবসান হয় এভাবেই।

পৌরাণিক এসব চরিত্র নিয়ে সিনেমা হচ্ছে ইদানিং, হালের বলিউডের রাজনীতি সিনেমাটি অনেকটা কর্ণেরই কাহিনী। বাংলাদেশের মিডিয়াতে পৌরাণিক কিছু নিয়ে ইদানিং আর কিছু বানানো হয় না, যদিও এক সময় রহিম-বাদশা-রূপবান অথবা এরকম কাহিনী নিয়ে সিনেমা হয়েছে, আর যাত্রা পালা তো হয়েছে বটেই। বাংলার যাত্রাশিল্প মরে যাচ্ছে আস্তে আস্তে, সরকারী কালাকানুনের চাপে পড়ে লোকনাট্য হারাতে বসেছে। বিটিভিতে এক সময় নিয়ম করে বছরে প্রায় দু’বার দেখানো হতো। একবার হতো দুর্গা পুজার সময়ে, অমল বোস দুর্দান্ত অভিনয় করতেন অসুরের চরিত্রে। বহুকাল বিটিভি দেখিনি, এখনো দুর্গাপুজার সময়ে যাত্রাভিনয় দেখানো হয় কি না জানিনা। অথবা হীরামণের সেই লোককাহিনীগুলো, বিটিভিতে প্রতি সপ্তাহে দেখানো হতো যা আশির দশকে।

যাত্রার প্রখ্যাত শিল্পী অমলেন্দু বিশ্বাসের অনেক অভিনয় দেখেছি একসময়ে, অমলেন্দুর একটা বাঁধা চরিত্র ছিলো ট্র্যাজেডির আরেক নায়ক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। দেড়শ বছর কেটে গেছে, কিন্তু এখনো মাইকেলের কবিতাগুলো, তাঁর সনেটগুলো পড়ে অবাক হয়ে যাই, কী প্রচণ্ড চমৎকার সুর ফুটে উঠেছে অমিত্রাক্ষর ছন্দে। সাগরদাড়ির জমিদার পরিবারের ছেলে মাইকেল বিখ্যাত কবি হবার জন্য এক সময় জাত, ধর্ম, ভাষা, দেশ – সব ত্যাগ করে বিদেশে গিয়েছেন, কিন্তু এক সময় কপোতাক্ষের কথা তাঁর মনে পড়েছে, দেশের ভাষা ত্যাগ করে বিদেশে যাবার ভ্রান্তি বুঝতে পেরেছেন। মেঘনাদ বধ কাব্যে মাইকেল ট্র্যাজেডির নায়ক হিসাবে রাক্ষসপতি রাবণকে তুলে ধরেছেন, চিরাচরিত সাহিত্যের ভিলেন রাবণের ব্যতিক্রমধর্মী বিশ্লেষণ করেছেন এই মহাকাব্যে। মাইকেলের লেখায় তাই রাবণ অনেকটা ট্র্যাজিক হিরো। হয়তো বা মাইকেলের নিজের জীবনের ট্র্যাজেডিগুলো রূপকের মাধ্যমে এসেছে। মধু কবির জীবনের শেষ অংশটাও কেটেছে দারিদ্রে, কপর্দকশূন্য মাইকেল মারা যান ১৮৭৩ সালে, কলকাতার লোয়ার সার্কুলার রোডের গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন মধু কবি।

ট্র্যাজেডির নায়ক মধু কবির পরম্পরা অবশ্য রয়ে গেছে, দ্বিতীয় স্ত্রী হেনরিয়েটার ঘরে তাঁর দুই সন্তান – নেপোলিওন ও শর্মিষ্ঠা। কয়েক পুরুষ পরে মধুসূদনের নাতি মাইকেল দত্তনের ঘরে জন্মান জেনিফার দত্তন, ভারতের হয়ে ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে বাস্কেটবল দলে অংশ নেন। ১৯৭৩ সালে তাঁর ঘর আলো করে আসে এক পুত্র সন্তান। মধু কবির ট্র্যাজেডি অবশ্য তাঁর এই নাতিকে স্পর্শ করেনি, ক্রীড়াঙ্গনে আন্তর্জাতিক সাফল্য লাভ করেন মধু কবির এই বংশধর। আর, তার নাম?

লিয়ান্ডার পেইজ ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29194301 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29194301 2010-07-07 12:12:45
এলোচিন্তা ১: আবদুস সালাম, সারাবিশ্বে সমাদৃত, নিজগৃহে নিপীড়িত জ্ঞান-তাপস

১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের সংসদ আহমেদিয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম হিসাবে সরকারীভাবে ঘোষণা করে। রীতিমত আইনে লিপিবদ্ধ করে দেয়া হয় এটা। এর প্রতিবাদে পদার্থবিজ্ঞানী ডঃ আবদুস সালাম চলে যান স্বেচ্ছা নির্বাসনে। মুশকিল হয় যখন ১৯৭৯ সালে আবদুস সালাম নোবেল পুরস্কার পেয়ে বসেন। ধর্মান্ধ জেনারেল জিয়া তখন ক্ষমতায়, সংবিধান পালটে আহমেদীয়াদের উপরে খড়গহস্তে চালাচ্ছেন নিপীড়ন, সেই জেনারেল জিয়াকেই টিভিতে কাষ্ঠ হাসি দিয়ে আবদুস সালামের পাশে দাঁড়াতে হয়। কাটমোল্লাদের খুশি করতে অবশ্য জিয়া কাঁচি নিয়ে নেমে পড়েন, যেখানেই আবদুস সালাম ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত কোনো শব্দ উচ্চারণ করেন তাঁর ভাষণে, আল-কুরআন থেকে উদ্ধৃতি দেন, কেটে দেয়া হয় সেই অংশ।



(ছবি, CERN-এ সালামের নামে রাখা হয়েছে রাস্তার নাম)

প্রচন্ড প্রতিভাবান আবদুস সালাম ম্যাট্রিক পাস করেন মাত্র ১৪ বছর বয়সে। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ নম্বর পান তিনি। ইতালির ত্রিয়েস্তে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার গবেষণাকেন্দ্র। শেলডন গ্লাসো আর স্টিভেন উইনবার্গের সাথে ১৯৭৯ সালে পদার্থে নোবেল পান সালাম, মৌলিক কণিকার দুর্বল নিউক্লীয় বল ও তড়িৎচুম্বকীয় বলকে একীকরণের তত্ত্ব ও দুর্বল তড়িৎ প্রবাহের উপরে তাঁদের কাজের জন্য। নোবেল পুরস্কারের ঘোষণায় বলা হয়,


"... for their contributions to the theory of the unified weak and electromagnetic interaction between elementary particles, including inter alla the prediction of the weak neutral current."

নোবেল পেয়েও কেবল ধর্মের কারণে আবদুস সালাম ছিলেন পাকিস্তানে উপেক্ষিত। সারা বিশ্বের কাছে সম্মাননা পেলেও লাহোরে তাঁর নিজের বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মান দেয়নি কোনো। দায়সারা গোছের একটা ডাকটিকিট পাকিস্তান সরকার প্রকাশ করেছে বটে, কিন্তু মৃত্যুর পরেও ছাড়েনি তাঁকে। ১৯৯৬ সালে অক্সফোর্ডে মারা যান সালাম। কবর হয় রাবওয়া শহরে। পাকিস্তান সরকারের আক্রোশের শিকার এই শহরের নাম সরকারী খাতায় পালটে চেনাব নগর করে দেয়া হয়েছে ততোদিনে, কারণ একটাই, এখানে আহমেদীয়া সম্প্রদায়ের বাস।

সালামের কবরের এপিটাফে লেখা ছিলো, "FIRST MUSLIM NOBEL LAUREATE"। সালামের মৃত্যুর দুই বছর পরে এই এপিটাফটিও রেহাই পায়নি। স্থানীয় এক ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মুছে ফেলা হয় "MUSLIM" শব্দটি, এপিটাফের শূন্যস্থানে এখন কেবলই লেখা রয়েছে,


"FIRST __ NOBEL LAUREATE"


(এখানে ক্লিক করে ছবিটি দেখে নিন)

ধর্মান্ধতার আক্রোশ এখনো রেহাই দেয়নি প্রফেসর সালামকে, মৃত্যুর এতো পরেও। ২০০৬ সালে সালামের মৃত্যুর ১০ম বার্ষিকীতে পাকিস্তানের ডেইলি টাইমসে তাই দুঃখ করে লেখা হয়,

Pakistan needs to feel guilty about what it has done to the greatest scientist it ever produced in comparison to the lionisation of Dr AQ Khan who has brought ignominy and the label of ‘rogue state’ to Pakistan by selling the country’s nuclear technology for personal gain. Can we redeem ourselves by doing something in Dr Salam’s memory on this 10th anniversary of his passing that would please his soul and cleanse ours?

এতো বঞ্চনার পরেও সালাম ছিলেন দেশপ্রেমিক, দেশ ছেড়ে চলে যেতে হলেও নোবেল পুরস্কারের অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে তাঁর এই সম্মানকে তাঁর দেশের সম্মান বলে তুলে ধরেছেন। তবে সালামের চোখে পদার্থবিজ্ঞান ছিলো সার্বজনীন, সারা বিশ্বের সব দেশের জ্ঞানপিপাসু বিজ্ঞানীদের পরিশ্রমের ফল, সালামের ভাষায়,

"The creation of Physics is the shared heritage of all mankind. East and West, North and South have equally participated in it." Nobel prize Banquet speech

(ছবি - উইকিপিডিয়া)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29188991 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29188991 2010-06-30 22:43:38
ব্যানের রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়
সেন্সরশীপের রীতিমত প্রাতিষ্ঠানিক রূপটি দিয়েছিলো রোমান সভ্যতা। ৪৪৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমে স্থাপিত হয় সরকারী সেন্সরশীপ দপ্তর, যার কাজ ছিলো ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে যায়, এমন সব তথ্য, জ্ঞান বা মতবাদের উপরে খড়গহস্ত হওয়া। সেসময়ের অন্য সভ্যতাগুলোও তৎপর হয়ে ওঠে সেন্সরশীপে, গণতন্ত্রের জন্মভূমি গ্রিসেও চালু হয় বিরোধীপক্ষীয় মতবাদ ব্যান করার প্রয়াস। এই গ্রিক সেন্সরের হাতে বলি হতে হয় দার্শনিক সক্রেটিসকে, ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সক্রেটিসের মতবাদকে সেন্সর করা হয় হেমলক বিষের মরণকামড়ে।

প্রাতিষ্ঠানিক সেন্সরশীপ কঠোরতর হয় রোমান ক্যাথলিক চার্চের হাতে। অখ্রিস্টান, কিংবা খ্রিস্টধর্মের অন্যান্য শাখার, বা বিজ্ঞানের বিভিন্ন মতবাদ, অথবা বইপত্র গণহারে নিষিদ্ধ হতে থাকে চার্চের হাতে। ১৫৫৯ সালে পোপ চতুর্থ পল নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকা প্রকাশ করেন। সভ্যতা এগিয়ে গেলেও বইপত্র সেন্সর করা কিন্তু থামেনি, নিষিদ্ধ বইয়ের এই তালিকাটি প্রকাশ পেয়ে চলেছিলো বিংশ শতকেও, মাত্র ১৯৬৬ সালে এই তালিকাটি ভ্যাটিকান প্রত্যাহার করে নেয়।

রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন মতামত/তথ্য সেন্সর করার রীতি সব স্বৈরাচারী সরকারই চালু রেখেছে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে। নাৎসি জার্মানি, সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে শুরু করে হালের বার্মা কিংবা গণচীনের সরকার চেষ্টা করে চলেছে জনগণকে তথ্যবঞ্চিত করে রাখার, দ্বার বন্ধ করে তথ্যকে রোখার। ছাপা বইপত্রের আমলে এটা করা ছিলো বেশ সহজ। সরকারই যেখানে ছাপাখানাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম, সেখানে গোপনে ছাপা বা হাতে লেখা ছাড়া অন্য সব কিছুকে দমন করা চলে সহজেই।

দমন-পীড়ণে পারঙ্গম এই তথ্য-খেকো সরকারগুলোর সমস্যা করে দেয় ইন্টারনেট। নব্বইয়ের দশকে গবেষণাগার থেকে আম-জনতার কাছে ছড়িয়ে যাওয়া এই ইন্টারনেটে তথ্য বিস্তার পেয়ে চলে দুর্দম গতিতে; দেশ স্থান কাল নির্বিশেষে তথ্যের অবাধ চলাচল শুরু হয়ে যায় সারা বিশ্বে। ইন্টারনেটের এই সর্বব্যাপ্ত রূপটির কারণে তথ্য সেন্সর করা হয়ে যায় রীতিমত অসম্ভব। আগে যেখানে দেশের ভেতরের বিরোধীমতবাদের কর্মীটিকে পুলিশী হয়রানী কিংবা নির্যাতন করে চাপা দেয়া যেতো তার কণ্ঠকে, সেখানে ইন্টারনেট দেশের সীমার বাইরে ছড়িয়ে দেয় সেই তথ্যের বিস্তার। দেশের জেলে-রিমান্ডে কাউকে পুরে তথ্য চাপা দেয়া চলে, কিন্তু ইন্টারনেটের আমলে হয়তো সেই তথ্যটি রয়েছে দুনিয়ার অপর প্রান্তের কোনো সাইটে, যেখানে তথ্যখেকো সরকারের দলবলের প্রভাব নেই।

তাই ইন্টারনেট সমস্যা করে দেয় গণচীন, ইরান, বার্মা, কিংবা উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর। চীনে গণতন্ত্রকামী তরুণদের অভাব নেই, তারা চায় তাদের দেশের বর্তমান ব্যবস্থার সমস্যাগুলোর সমাধান। ইন্টারনেটের এই সর্বব্যাপ্ত তথ্য জোয়ার ঠেকাতে শুরুতে অনেক কায়দা কৌশল খাটানোর প্রয়াস চলে। বাংলাদেশের ফেইসবুক বা ইউটিউব ব্যানের মতো অতি সাধারণ কৌশল, অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা ইন্টারনেট গেইটওয়েতে ব্যান করে দেয়া হয় বিভিন্ন সাইট। কিন্তু এসব কৌশল খুব সহজেই এড়ানো যায়, প্রক্সি সার্ভার দিয়ে এসব বাধা এড়ানোটা রীতিমত ডাল-ভাত।

চীনা সরকার এটা বুঝে ফেলে অল্প দিনেই। বাংলাদেশের ফেইসবুক বিরোধী মোল্লাদের দৌড় ও স্ট্যামিনা অল্পই, রাস্তাঘাটে বাদ-জুমা মিছিল করে ফেইসবুকের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েই তারা খালাশ, বড়জোর সরকারকে চাপ দিয়ে কয়েকদিন লোক হাসানো ফেইসবুক ব্যান করাতে পারে, কিন্তু তার পর এই প্রজেক্টে ক্ষান্ত দেবে তারা, এ মোটামুটি জানা কথা। কিন্তু চীনা সরকারের একেবারে গোড়ায় কুঠারাঘাত করতে পারে বিরোধী মতাদর্শ। তাই ইন্টারনেট সেন্সরশীপে চীনারা নিয়োগ করেছে অত্যাধুনিকতম সব প্রযুক্তি।

বাংলাদেশের গেইটওয়ে ব্যানের মতো যেসব ব্যান-প্রযুক্তি মামুলি কৌশলে এড়ানো চলে, তা তো আছেই, তার পাশাপাশি চীনা সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে একটি রাষ্ট্রীয় ইন্টারনেট সেন্সরশীপ ব্যবস্থা। এ নিয়ে চীনের বাইরের ইন্টারনেট প্রযুক্তিবিদদের আগ্রহের কমতি নেই, চীনের এই সেন্সর পদ্ধতির ডাকনাম দেয়া হয়েছে, দ্য গ্রেট ইন্টারনেট ফায়ারওয়াল (অর্থাৎ চীনের মহা-ইন্টারনেট-প্রাচীর)। প্রায় ৩০ হাজার সরকারী পুলিশ নিযুক্ত আছে এই প্রজেক্টে। সরকারীভাবে গোল্ডেন শিল্ড নামে পরিচিত এই প্রজেক্টে যেসব কৌশল খাটানো হয়, তার মধ্যে রয়েছে, আইপি ব্যান করা, ডমেইন নেইম ফিল্টারিং, ইউআরএল ফিল্টারিং, কিংবা প্যাকেট ফিল্টারিং। চীনের এই মহাতথ্যপ্রাচীর বিস্তৃত রয়েছে তাদের সারা দেশ জুড়েই।

খড়গহস্ত সরকারের এই তথ্য দমনের বিরুদ্ধে আশার আলো কি নেই? অবশ্যই আছে, ইন্টারনেটের প্রযুক্তিবিদেরা তথ্যের মুক্তিতে শুরু থেকেই বিশ্বাসী। তাই তথ্যখেকো সরকারদের এসব অত্যাচার এড়াতে তৈরী হয়েছে নানা কৌশল। কম্পিউটার নিরাপত্তার উপরে গবেষণার কারণে এহেন নানা পদ্ধতির কথা বিস্তারিতভাবে জেনেছি অনেকদিন ধরেই ... এগুলোর উপরে দুটি নামজাদা কনফারেন্স রয়েছে, সেখানে প্রতিবছর বিজ্ঞানীরা সেন্সরশীপ এড়াবার বিভিন্ন কৌশল উপস্থাপন করে চলেছেন।
সেন্সরশীপ এড়াবার নানা কৌশলের মধ্যে রয়েছে,


* আইপি ব্যান প্রতিরোধ (প্রক্সি সার্ভার দিয়ে এটা এড়ানো যায়),

* ডমেইন নেইম ব্যান প্রতিরোধ (সরাসরি আইপি লিখে এড়ানো যায়),

* ইউআরএল ফিল্টারিং (ওয়েব লিংক যাচাই করে নিষিদ্ধ শব্দ পেলে ব্যান করা, ভিপিএন বা এসএসএল দিয়ে এড়ানো যায়),

* প্যাকেট ফিল্টারিং (ওয়েবপেইজ সহ বিভিন্ন ডেটা প্যাকেটের ভেতরে উঁকি দেয়া, আর নিষিদ্ধ কোনো শব্দ পেলেই ঘ্যাঁচাং করে ফেলা, এড়াবার কৌশল হলো এনক্রিপশন বা তথ্যগুপ্তিকরণ)।

* অনিয়ন রাউটিং, মানে অনেকটা ভুত থেকে ভুতে পদ্ধতি। সরাসরি ফেইসবুকে যেতে সরকার বাধা দিলে তার বদলে নির্দোষ কোনো ঠিকানায় রিকোয়েস্ট পাঠানো, সেখান থেকে যাবে পরের ধাপে, এভাবে কয়েক ধাপ পেরিয়ে ফেইসবুকে যাওয়া, আর ফেরার পথে একই ভাবে সোজাপথে (যা ব্যান করা আছে) না গিয়ে ঘুর পথে ফেইসবুকের পাতাটি নিয়ে আসা, এই পদ্ধতিই হলো অনিয়ন রাউটিং (পেঁয়াজের মতোই কয়েক স্তর পেরিয়ে যাওয়া আর কি... )। আর এর সফল সফটওয়ার হলো টর। এটা ছাড়াও আল্ট্রাসার্ফ, ফ্রিগেট সহ নানা ওপেন প্রক্সি ব্যবহারকারী সফটওয়ার দিয়েও এসব বাধা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

----

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে তথ্যখেকো সরকারদের চলছে বড়োই দুর্দিন। আগে পুলিশী হুমকি বা ব্যানের ভয়ে ছাপাখানা বন্ধ করে দেয়া চলতো, কিন্তু আজ ইন্টারনেটের আমলে কোনো ওয়েবসাইটকে পুরোপুরি ব্যান করে দেয়া রীতিমতো অসম্ভব। খোদ ক্ষমতাশালী চীন সরকারও ব্যর্থ, সেখানে অন্যদের কথা বলাই বাহুল্য। ইন্টারনেট যদি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া না হয়, তবে এসব সাইট ব্যানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোটা আজ ছেলেখেলায় পরিণত হয়েছে। তথ্য দমনের যে হাজার বছরের ঐতিহ্য ধর্মগুরু বা রাজনৈতিক ক্ষমতাধরেরা বজায় রেখেছিলো, ইন্টারনেটের মুক্তিকামী তারুণ্য সেই মহাপ্রাচীরে ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে, আর নিত্য নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ভেঙে চলেছে নিপীড়নের সেই অচলায়তন।

টেক-মুর্খতার অবসান হোক।


লিংক

গণচীনের মহা তথ্য প্রাচীর এড়ানোর নানা কৌশল।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29166495 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29166495 2010-05-31 02:07:04
নামের বাহার, বাহারী নাম, ফরমুলাতে, ফেলেছি ঘাম (২) আগের পর্বের পর) স্কুলের ইতিহাস বইতে মোগল/পাঠান আমলের বিরক্তিকর ইতিহাস গিলতে হয়েছিলো, তাতে একটা ব্যাপার প্রায়ই দেখতাম, অমুকে তমুক জায়গার সিংহাসন দখল করে সুলতান হওয়ার পরে সমুক নাম ধারণ করেছেন।

সেই ধাঁচেই আজ থেকে আমি “জোজো মানু” নামটি ধারণ করলাম।

ঘাবড়ে গেলেন? নাহ, এটা আমার আকীকা দেয়া নাম নয়, কিংবা মায়ানগরের সিংহাসনেও চড়ে বসিনি, বরং এটা আমার আফ্রিকীয় নাম। আরো খোলাসা করে বলতে গেলে, এটা আমার ঘানার আকান গোত্রপদ্ধতির নাম।

ঘানার আকান জাতির এই নামের রীতি পশ্চিম আফ্রিকার অনেক দেশেই চালু আছে। এই পদ্ধতির চমৎকার দিকটা হলো, নাম রাখা নিয়ে কোনো ঝামেলা টামেলা নেই, “শিশুর সুন্দর নাম” জাতীয় বই, কিংবা দাদা-নানার চাপে পড়ে তুঘলকী আমলের নাম রাখারও ফ্যাকড়া নেই। পুরো নামটা চমৎকার এক ফরমুলাতে পড়ে।

দেখা যাক, ফরমুলাটা কী রকম।আকানদের নিয়ম অনুসারে নাম হবে দুই অংশের – প্রথম অংশটি হবে সপ্তাহের কোন বারে জন্ম হয়েছে, সেই বারের নাম। আর দ্বিতীয় অংশে থাকবে বাবা-মার কতো নম্বর সন্তান, সেটা।

ঘানার কফি আন্নান এর কথা নিশ্চয় মনে আছে সবার? ভদ্রলোকের নাম কফি আন্নান কেনো হলো, তা জানতে হলে ঘানার এই জাতিগোষ্ঠীর নামের কায়দাটা বুঝতে হবে। কফি মানে হলো শুক্রবার, আর আন্নান মানে চার নম্বর। সব মিলে বোঝা যায়, জাতিসংঘের এই সাবেক মহাসচিব ছিলেন বাবা-মার চার নম্বর ছেলে সন্তান, যার জন্ম শুক্রবারে।
কফি যদি মেয়ে হতেন, তাহলে তাঁর প্রথম নামটি হতো আফিয়া। দিনভিত্ত্বিক নামের তালিকাটি নিচে দিয়ে দিলাম, এই সিস্টেমে সহজেই নিজের আফ্রিকীয় নামটি বানিয়ে নিতে পারেন।

(বার) -- (ছেলের নাম) -- (মেয়ের নাম)

সোমবার – কোয়াদ্দো বা কোজো বা জোজো - আদজোয়া
মঙ্গলবার – কোয়াবেনা / কোবি – আবিনা
বুধবার – কোয়াকু/কোকু – আকুয়া/আকুবা
বৃহস্পতিবার – ইয়াউ/ইয়াবা/ বাবা/আবা – ইয়ায়া
শুক্রবার – কফি – আফিয়া
শনিবার – কোয়ামে – আম্মা / আমা
রবিবার – আকওয়াসি/ কোয়েসি/ সিসি – আকোসুয়া

আর ক্রমবাচক নামের পদ্ধতি হলো
১ম সন্তান – পিয়েসি বা বার্কো/অর্কো,
২য় সন্তান – মানু বা মাআনু
৩য় সন্তান – মেনসা বা মানসা
৪র্থ সন্তান – আনান বা আন্নান
৫ম সন্তান – নুম বা আনুম
৬ষ্ঠ সন্তান – নসিয়া বা এসিয়েন
৭ম সন্তান – আসোন বা নসোয়া
৮ম সন্তান – বতওয়ে
৯ম সন্তান – আক্রোন বা নক্রুমা
১০ম সন্তান – বদু বা বদুয়া
১১শ সন্তান – দুকু
১২শ সন্তান – দুনু
সবচেয়ে ছোট সন্তান - কাকিয়ে

আবার কী অবস্থাতে জন্ম সেটাও অনেক সময় নামের অংশ হতে পারে, যেমন মাঠে ঘাটে জন্ম হলে আফুম, যুদ্ধাবস্থায় জন্ম হলে বেকু, এরকম।

এবার বলুন তো, কোয়ামে নক্রুমা কী বারে জন্মেছিলেন, আর কত নম্বর সন্তান?

ছক তো দিয়েই দিলাম, এবার চটপট নিজের আফ্রিকীয় নামটি বের করে নিন।

-----------------------

এবার আফ্রিকা থেকে চলে আসি আমাদের পড়শী বার্মার দিকে। নামের দিক থেকে বর্মীদের মতো স্বাধীনতা আর কেউ পেয়েছে কি না সন্দেহ। বর্মী নামের কোনো সিস্টেমই নেই। এমনকি জীবনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাম ধারণ করাটাও সেখানে স্বাভাবিক। আর নাম পাল্টাতে হলে সরকারী খাতায় অফিসে দৌড়াদৌড়িরও দরকার নেই।

আর নাম? বর্মীদের অনেকেরই নাম আগে ছিলো এক syllable বিশিষ্ট। হুমায়ুন আহমেদের বইতে বোধহয় পড়েছিলাম, কারো বাচ্চার নাম “নু” রাখা নিয়ে রসিকতা। বর্মীদের কিন্তু এরকম নাম রাখারই চল ছিলো শখানেক বছর আগেও। বিংশ শতকে এসেই কেবল তারা দুইধ্বনির নাম রাখা শুরু করে। কিন্তু তার মধ্যেও অনেক অংশ আসলে “চাচা”, “আংকেল” এই ধরণের। উদাহরণ দেই, বার্মার প্রথম প্রধানম্পন্ত্রীর নাম ছিলো “উ নু” (U Nu), তাঁর নামের প্রথম অংশ উ আসলে বোঝায় “জনাব” বা “মিস্টার” (অথবা সম্মানার্থে আমরা যেমন বলি “চাচা”, সেরকম)। তাঁর আসল নামটি হলো কেবলই “নু”।

আগের উদাহরণের কফি আনানের মতোই জাতিসংঘের আরেক মহাসচিব ছিলেন বর্মী কূটনীতিক উ থান্ট। যথারীতি, তাঁর নামেরও উ অংশটি হলো জনাব, আর থান্ট হলো তার আসল নাম।

অনেক সুপরিচিত বর্মীরই নামের অধিকাংশ অংশ এরকম জনাব বা “চাচা” বা “আন্টি” এরকম বোঝায়। যেমন, মহিলাদের নামে ব্যবহৃত “দ” (Daw) এর অর্থ হলো “বেগম”। মং হলো ছোটভাই। সায়াদও হলো পণ্ডিত, বোগইয়োক মানে সেনাপতি। মিন মানে রাজা।

সুপরিচিত বর্মী রাজনীতিবিদ অং সান সু কীর নামের ব্যাপারটা অনেকাংশে আধুনিক নামকরণ রীতির উদাহরণ। গত বেশ অনেকদিন ধরেই চল শুরু হয়েছে বার্মায়, বাবা মার নাম নামের পেছনে যোগ করে দেয়া। সু কীর নামের প্রথম অংশ “অং সান” আসলে সু কীর জন্মের সময়ে তাঁর বাবার যে নাম ছিলো, সেটাই। সু হলো তাঁর দাদীর নাম। আর কী হলো তাঁর মায়ের নাম।

সুকীর বাবা অং সানের নাম জীবনের শেষদিকে এসে হয়ে যায় বোগইয়োক অং সান, কারণ ততদিনে তিনি সেনাপতি হয়ে গিয়েছিলেন। অং সানের বাবার নাম ছিলো উ ফা (মানে জনাব ফা), আর মায়ের নাম ছিলো দ সু, নামে বেগম সু।

---------------

বর্মী নামের প্যাঁচে পড়ে মাথা ঘুরতে শুরু করেছে? তাহলে চলুন ঘুরে আসি কোরীয় উপদ্বীপ থেকে।

কোরিয়ার কারো সাথে যদি পরিচয় থাকে , তাহলে প্রায় অবধারিত ভাবে বলতে পারি,তার পদবীটি হবে কিম, লী, পার্ক, চো/কো, কিংবা চ্যান (বা চ্যাং, ঝ্যাং)। কোরীয়দের পদবীর ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য একেবারেই নেই। কোরিয়ার পদবীর পরিসংখ্যানটা দেখুন, ২২% লোকের পদবী কিম, ১৪% এর লী, ৮.৫% হলো পার্ক, আর ৪% করে কো/চো এবং চ্যাং/ঝ্যাং। কোরিয়ায় মোট পদবীর সংখ্যা ২৫০টি হলেও পার্ক/লী/কিম এরা মিলে দখল করে রেখেছে ৪৫% । তাই ঠাট্টা করে বলা হয়, কোরিয়ার কোনো রাস্তাতে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে একটা ঢিল ছুড়লে সেটা মিস্টার পার্ক, মিস্টার কিম বা মিস্টার লী’র গায়ে গিয়ে লাগবেই।

গুজব চালু আছে, কোরীয়দের মধ্যে নাকি ছেলে মেয়ের পদবী এক হলে বিয়ে করা মানা।আসলে ব্যাপারটা ওরকম ভয়াবহ না, কোরিয়ার রীতি অনুযায়ী প্রতি পরিবারের পদবী ছাড়াও “বন” বলে গোত্রসূচক আরেকটা নাম আছে। বিয়ের নিয়ম হলো, বন আর পদবী এক হলে বিয়ে করা মানা। একই পরিবার বা গোত্রের মধ্যে বিয়ে এড়াতে এই রীতি চালু করা হয়েছে।

কোরীয়দের নামের আরেকটা ব্যাপার হলো প্রজন্ম নাম। মানে একই পরিবারের ভাই বোন বা চাচাতো ভাইবোনদের নামের মাঝের অংশটি এক হবে, আর সেটা হলো সেই প্রজন্মের নাম।

সব মিলে কোরীয়দের নামের ফরমুলা হলো : পদবী, প্রজন্মনাম, ব্যক্তিগত নাম

অবশ্য অনেক সময়ে ব্যক্তিগত নামটা মাঝেও বসতে পারে।

যেমন, কোরীয়ার বর্তমান নেতার নাম কিম জং ইল। এখানে কিম হলো পদবী, জং হলো তাঁর ব্যক্তিগত নাম, আর “ইল” হলো প্রজন্মের নাম। নেতার ভাইয়ের নাম কিম পিয়ং ইল। আর নেতার তিন সন্তানের নাম হলো কিম জং নাম, কিম জং চুল, আর কিম জং আন । মানে এই প্রজন্মের নাম হয়েছে জং।

(চলবে)

(বাংলাদেশীদের নামের ফরমুলার প্রজেক্টের কথা মাথায় আছে। পরে এক সময় দেয়া হবে, আপাতত চা খেতে গেলাম বলে লেখার সময় পেলাম না, আর ব্লগের মলাটে জায়গা এতো কম , ফরমুলাটা পুরো লিখতেও পারছি না, নইলে দেখিয়ে দিয়েই ছাড়তাম ... )

(তথ্যসূত্র ও ছবি - উইকিপিডিয়া)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29124250 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29124250 2010-03-27 12:25:30
উইকিপিডিয়ার প্রথম পাতায় বাংলাদেশ, ২৬শে মার্চ, ২০১০ ইংরেজি উইকিপিডিয়া র প্রথম পাতায় গিয়েই মনটা ভরে গেলো, বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকাটা দেখে। আজ ২৬শে মার্চের নির্বাচিত ঘটনাপঞ্জীর তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস।

1971 – After the Pakistan Army attempted to curb the Bengali nationalist movement in Operation Searchlight , East Pakistan declared its independence from Pakistan to form Bangladesh (original 1971 flag pictured), starting the Bangladesh Liberation War .



বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এই ইতিহাস ছড়িয়ে যাক বিশ্ববাসীর কাছে, আর বিচার হোক যুদ্ধাপরাধী, মানবতা বিরোধী পাকিস্তান সেনাবাহিনী আর তার স্থানীয় দোসর, রাজাকার, আল-বদরদের।


সবাইকে জানাই স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29123605 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29123605 2010-03-26 06:15:22
২৬শে মার্চ, ১৯৭১ | জগন্নাথ হল | গণহত্যা

একাত্তর সালের ২৬শে মার্চে বুয়েট (তৎকালীন ইপুয়েট) এর প্রফেসর নুরুল উলা বিদেশ থেকে সদ্য আনা ভিডিও ক্যামেরাতে যে ভিডিও চিত্রটি ধারণ করেছিলেন, তার কিছু অংশ NBC News এর এই সংবাদচিত্রে স্থান পেয়েছে।

দৃশ্যপট - জগন্নাথ হল। বুয়েটের শিক্ষকদের আবাসস্থলের ঠিক পিছনে।

যে দৃশ্যাবলী দেখা গেলো এই খন্ডাংশে -- পাকিস্তান সেনাবাহিনী জগন্নাথ হলের ছাত্রদের দিয়ে অন্য ছাত্রদের মৃতদেহ সরাচ্ছে। তার পর ঐ ছাত্রদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে মেরে ফেলা হয়। একজন ছাত্র প্রথম দফায় মরেনি দেখে খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য মৃতদেহের উপরে রাইফেল ঠেকিয়ে গুলি চালানো হয়।


ডঃ উলার তোলা এই ভিডিওর মূল টেপ এখন রয়েছে তাঁর ভাগ্নের কাছে, যে ছিলো বুয়েটে আমার সহপাঠী। কিছুদিন আগে সেই টেপটার ছবি পাঠিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের গণহত্যার এ এক অনন্য দলিল।



ভবিষ্যত প্রজন্ম - ভুলে যেওনা ৭১, ভুলে যেওনা পাকিস্তান বাহিনীর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

ভুলে যেওনা শহীদদের।

* ইউটিউব সরাসরি দেখতে সমস্যা হলে FLV ফাইলের লিংক এখানে পাবেন

(লিংকের জন্য কৃতজ্ঞতা - জালাল ভাই)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29123546 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29123546 2010-03-26 02:17:41
উইকিপিডিয়ায় ভাষা আন্দোলন - আর একটি কিশোরের স্বপ্ন আজকে ইংরেজি উইকির প্রথম পাতায় দেয়া হয়েছে মহান ভাষা আন্দোলনের তিনটি নিবন্ধের লিংক । এই তিনটি নিবন্ধের উপরেই কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে, আর আরো ভালো লেগেছে এই সুযোগে বাংলা ভাষার প্রতি অপার ভালোবাসায় স্বপ্ন দেখা কিছু তরুণের প্রত্যয়। এদেরই একজনের কথা তুলে ধরছি আজ। লেখাটি বছর আড়াই আগে আরেকবার পোস্ট করেছিলাম, কিন্তু একুশের এই প্রথম প্রহরে আমাদের আগামী প্রজন্মের প্রতি উৎসর্গ করে আবারও তুলে ধরছি এই লেখাটি।

--


তারিফ এজাজ, এক কিশোর, ঢাকার এক কলেজে সদ্য এইচএসসি পরীক্ষা পেরুনো। বছর খানেক আগে ওর সাথে ইমেইলে আমার পরিচয়। বাংলা উইকিপিডিয়া নিয়ে বিস্তর ইমেইল চালাচালি, লেখালেখির পর মুনির ভাইয়ের কল্যাণে প্রথম আলোতে এই নিয়ে কিছু নিবন্ধ বেরিয়েছিলো ২০০৬ সালের মার্চ আর এপ্রিলে।


সেই লেখার দৌলতে বেশ কিছু উৎসাহী তরুণ যোগ দেন বাংলা উইকিপিডিয়া প্রকল্পে, বিপুল উদ্যমে কাজ শুরু করেন। আর বাংলা উইকিপিডিয়ার পাশাপাশি ইংরেজি উইকিপিডিয়াতেও বাংলাদেশের উপরে নিবন্ধের কাজ শুরু করেন অনেকে।

এর মধ্যেই একদিন তারিফ ইমেইল করে আমাকে। তখন কলেজে এইচএসসিতে পড়ুয়া তারিফ জানায় তার স্বপ্নের কথা, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস দুনিয়ার সব মানুষের কাছে জানানোর স্বপ্ন। এই স্বপ্ন নিয়ে তারিফ কাজ শুরু করে। বাংলাদেশে ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো সর্বত্র ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়েনি, তাই ওকে প্রশ্ন করেছিলাম ওর ইন্টারনেট সংযোগের কথা। ওর জবাব শুনে তো আমি তাজ্জব বনে গেলাম - তারিফের কোনো কম্পিউটার নেই। গ্রামীণের মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে মোবাইল ফোন দিয়েই ও ইন্টারনেট ব্যবহার, এবং উইকিপিডিয়াতে লেখালেখি করে থাকে। এতো প্রতিকূলতার পরেও নানা বইপত্র ঘেঁটে, অনেক তথ্য যোগ করে তারিফ কাজ করে চলে ইংরেজি উইকিপিডিয়ার ভাষা আন্দোলনের নিবন্ধটির উপরে। মাঝে টেস্ট পরীক্ষা, ও অন্যান্য ব্যস্ততার মধ্যে একটু বাঁধা পড়ে এই কাজে।

ডিসেম্বরে আমি দেশে যাই এক মাসের ছুটিতে। ঐ সময় বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির আয়োজিত বিজ্ঞান বিষয়ক বক্তৃতামালায় উইকিপিডিয়ার উপরে বক্তব্য রাখি। অনুষ্ঠান শেষে এক তরতাজা কিশোর ছুটে আসে আমার কাছে। এতোদিন ইমেইলে পরিচয় ছিলো, সেদিন মুখোমুখি হলাম তারিফের। অনেক উৎসাহের
সাথে ও বলে গেলো, ভাষা আন্দোলনের নিবন্ধটিকে ইংরেজি উইকিপিডিয়ার ফীচার্ড আর্টিকলে উন্নীত করা।

এইচএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আসলে আমিই তারিফকে বারণ করি, কিছুদিন পড়ার দিকে মন দিতে। পরীক্ষা শেষে মাস দুয়েক আগে, তারিফ আবার কাজ শুরু করে নিবন্ধটার উপরে। বাংলাদেশের অনেক নিবন্ধের উপরে কাজ করা ভারতীয় বন্ধু উইকিপিডিয়ান নীরব মৌর্যের চমৎকার সম্পাদনা, আর তারিফের তথ্য যোগাড় - এই দুই নিয়ে নিবন্ধটা তরতর করে আগাতে থাকে। নীরব মাঝে ডানপন্থী ভারতীয় ট্রোলবাহিনীর চরম আক্রমণে অভিমান করে উইকিপিডিয়া ছেড়ে যায়। তখন তারিফকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসি আমরা অন্যান্যরা। ঢাকার আদিত্য কবীর, কলকাতার দ্বৈপায়ন ও রিয়ানা, এবং খুঁটিনাটি সম্পাদনায় অভিজ্ঞ অনেক বিদেশী লেখক। আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী ঘেঁটে অনেক জার্নাল ও অন্যান্য বইপত্রের রেফারেন্স বের করি। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় তারিফের চরম উৎসাহ, আর সারাদিন ধরে লেগে থাকা।

উইকিপিডিয়াতে ফীচার্ড আর্টিকেল হিসাবে নির্বাচিত হতে হলে কঠিন এক মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। দাড়ি-কমা, বাক্য, তথ্যসূত্র - সবকিছুকেই যাচাই-বাছাই এর মধ্য দিয়ে পেরুতে হয়। প্রায় মাস খানেক ধরে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগুচ্ছিলো নিবন্ধটা। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি সুসংবাদ - নিবন্ধটা ফীচার্ড আর্টিকেলের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে - এখন ইংরেজি উইকিপিডিয়ার সেরা সব নিবন্ধের তালিকাতে এটাও যুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ সম্পর্কে, আমাদের ইতিহাস নিয়ে দুনিয়ার মানুষের কাছে তথ্য যায় খুব কমই। আমরা নিজেরা না জানিয়ে অন্য বিদেশীদের সেই দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে থাকি, আর সত্যের বদলে অপপ্রচার, মিথ্যা সব কথা প্রচার করে এই সব বিদেশীরা। আমাদের ইতিহাস, আমাদের জীবন-ঐতিহ্যের কথা
প্রকাশের চেষ্টা করতে হবে আমাদেরকেই। তারিফ এজাজের মতো উদ্যমী তরুণেরা এগিয়ে আসবে, এসব সোনার ছেলেদের চেষ্টাতে আমাদের দেশের কথা

দুনিয়ার সব মানুষ জানতে পারবে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে তারিফের যেমন স্বপ্ন ছিলো, আমাদের দেশের সোনার ছেলেদের নিয়ে এটাও আমার নিজের স্বপ্ন।

(তারিখটা আজ ১৬ই জুলাই। ইমেইল ঘেঁটে দেখলাম, ঠিক এক বছর আগে, ১৫ই জুলাই, ২০০৬ তারিখে তারিফ তার ভাষা আন্দোলন প্রজেক্টের কথা বলেছিলো বাংলা উইকিপিডিয়ার মেইলিং লিস্টে)।

(তারিফ এখনো ওর সেই মোবাইল ফোনেই উইকিপিডিয়াতে লেখালেখি করে থাকে। আসলে চেষ্টা থাকলে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও অনেক কিছু করা সম্ভব।)

(প্রথম প্রকাশকাল - ১৬ ই জুলাই, ২০০৭)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29102217 http://www.somewhereinblog.net/blog/ragibhasanblog/29102217 2010-02-21 07:24:47