somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প >> পুরোনো বন্ধুদের থেকে সাবধান (১৯৯৩)

১৯ শে জুলাই, ২০০৭ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই গল্পটা ছাপা হইছিল সংবেদ, জুন ১৯৯৪ সংখ্যায়। সম্পাদক পারভেজ হোসেন। আট পৃষ্ঠার গল্প। কম্পোজ কইরা পোস্ট করতে অনেকদিন লাইগা গেল। আগের আপডেট ও অপূর্ণাঙ্গ অংশগুলা মুইছা দিলাম।
-রাইসু


পুরোনো বন্ধুদের থেকে সাবধান

১.
তো, পুরোনো আমার যে-বন্ধু সে আমাকে সকালে যোগাযোগ করে। আমি বলি, কী ব্যাপার, এতদিন কোথায় ছিলেন?

তিনি রুষ্ট হন : হারামজাদা, আপনে কইরা কইতেছো যে!

আমি ‘সরি’ বলি। সে বলে, ‘তোমার সঙ্গে দেখা করতে আসতেছি, বাসায থাকবা নাকি?’

আমি বলি আমি খুব ব্যস্ত। কিন্তু সে বলে রাতে কোনো কাজ আছে নাকি? আমি বলি, ‘কখেন?’ সে বলে, ‘রাতে।’ আমি ভয় পাই। বলি, ‘রাতে সময় হবে না, বরং দিনের বেলায়ই; এবং আমি নিজেই আসছি, তোমার ঠিকানাটা বলো।’

সে ঠিকানা বলে। আমি তার বাসায় যাই।

তার বাসা যথারীতি। বিবাহিত। কাজের মেয়ে আছে। অসুন্দর; এবং--বাগানে ডালিয়া ফুল। বাগান মানে বারান্দা। বারান্দায় অনেক টব। টবের ফাঁকে কসরৎ করে বসানো চেয়ার। সেখানে আমরা বসি। বসার পর তাকে ভালো লেগে যায়। কিন্তু ইহজনমে তাকে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। তবে কণ্ঠ কর্কশ বিধায় আগে হয়তো শুনে থাকবো।

সে বলে, ‘বড়ো সুখ লাগে বুঝলা রাইসু, তুমি প্রাপ্তিতে বড়ো সুখ হয়।’

আমি বলি, ‘তোমার কণ্ঠ বোধহয় আগে শুনে থাকবো।’

সে বলে, ‘শুয়ারের বাচ্চা!’ আমি হাসি। সে-ও হাসে। তার দাঁত সুন্দর। আমি বলি, তোমার দাঁত বোধহয় আগে কখনো দেখে থাকবো।

‘কিন্তু আগে কোনোদিনই দাঁতই ছিল না আমার!’--সে উঠে আমার ঠোঁট কামড়ে ধরে। আমার শিহরণ হয়। তার ছেলে আসে বারান্দায়। পাঁচ-ছয় বছরের শয়তান। কালো মোটা ফ্রেমের ইন্টেলেকচুয়াল চশমা। দাঁতের বিন্যাস মায়ের মতো নয়। পরস্পরবিচ্ছিন্ন। ফলে ভালো লাগে। তার মা, আমার পুরোনো দিনের বন্ধু, পরিচয় করিয়ে দেয় তার ছেলের সঙ্গে। বলে, ‘তোমার বাবা হন ইনি। হ্যান্ডশেক করো খোকা।’ খোকাবাবু হ্যান্ডশেক করে। বলে, ‘আগে কখনো দেখে থাকবো আপনাকে।’

‘আমিও।’

‘কী করছো এখন?’ তার মা জিগ্যেশ করে।

‘ছেলেটা কার আসলে?’ আমি জানতে চাই।

সে হাসে, ‘যাও বাবা ঘরে যাও।’ তার ছেলে ঘরে যায়। সে বলে, ‘তোমারই ছেলে। তা তুমি এখন কী করছো?’

আমি বলি, ‘গল্প-টল্প লিখি।’

‘আর কিছু না?’

‘না, আর কিছু না।’

‘চলো, আমার সঙ্গে ঘুরবে আজ।’ সে রিকশা নেয় এবং বলে, ‘গল্প কীভাবে লেখো, তোমার লজ্জা হয় না?’

আমি বলি, ‘গল্প লেখায় আবার লজ্জা কীসের?’

সে কিছুক্ষণ ভাবে। তারপর বলে, ‘ঠিকই বলেছো, গল্প লেখায় আবার কীসের লজ্জা?’

: কিছু কিছু গল্প অবশ্য আছে, লিখতে সত্যি লজ্জা করে।

সে আগ্রহী হয় এবং আমি তাকে কিছু বলি না।

সে পুনরায় আগ্রহী হয় এবং আমি তাকে বলি। সে বলে, কী বললা বুঝলাম না। আমি তার কানের কাছে মুখ নিই এবং কিছু বলি না। সে খুব উল্লসিত হয়। বলে, ‘তাই নাকি! আমার খুব ভালো লাগছে। পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ছে। ইশ্!’

আমিও ‘ইশ্’ বলি।

সে বলে, ‘কী, ভেঙচাচ্ছো নাকি?’

আমি বলি, ‘না ভেঙচাচ্ছি না। তোমার ছেলের বয়স কতো?’

‘সাত।’

‘সাত কেন?’

‘কীভাবে বলবো! আমি কীভাবে বলবো বলো! আমার কি বলার কিছু আছে।’ সে কাঁদতে লাগে। ফলে আমি হাসতে শুরু করি। আমি তাকে বলি, ‘তোমার মধ্যে উত্তেজনা হইছে লাইলি!’

সে বলে, ‘আমি লাইলি না, আমি যুলেখা।’

আমি বলি, ‘ঐ একই কথা। যাহা লাইলি তাহা--’

‘তাহা কী? বল্ কুত্তার বাচ্চা, তাহা কী?’

সে বক্র হয়। মোচড় দিয়ে তার যৌবন প্রকাশ করে। এবং তার অবস্থান থেকে খানিক উত্থিত হয়। ফলে তার ব্যক্তিত্ব। সে বলে, ‘চুতমারানি, এটাকে প্রেমের গল্প বানাবার ধান্দায় আছো, না?’

তার গালাগালকে আমার নারীবাদ ভ্রম হয়। আমি বলি, ‘না, এটা ঠিক প্রেমের গল্প না; এটা ক্রুয়ালটির গল্প। আমি শুধু ক্রুয়ালটির গল্পই লিখতে চাই।’

‘ক’টা লিখেছো?’

‘সাতটা।’

‘আমাকে দেখাবে?’

আমি তাকে হাসি : ‘কিন্তু আমাকে দেখা করতে চেয়েছেন কেন?’

‘সব বলছি। রহো।’



২.
আমরা একটা পিজা'র দোকানে ঢুকি। সেখানে লাল চেয়ারে বসি। সে মেনু দেখে। বলে, 'ইক্সকিউস মি!' তারপর অর্ডার দেয়। টিনটেড গ্লাস দিয়ে বাইরে তাকায়। বলে, 'যে-শহরে এত রিকশা সেখানে হাই থিংকিং সম্ভব কী করে! বলো রাইসু, তুমি তো আমার ভাই হও, বলো কীভাবে সম্ভব?'

'এটাই তোমার সমস্যা?'

'না। এটা আমার সমস্যা হবে কেন? আর তোমাকে আমি কোনো সমস্যা শোনানোর জন্য ডাকি নি। আমি তোমার সংগে একটা দিন পরিব্যয় করতে চাই। অযথা আগ্রহ দেখাবে না। যা বলছি শুনে যাও।' সে তার গল্প শুরু করে : 'আমার তখন বয়স চোদ্দ। ফলে আমার এক মামার প্রেমে পড়ি। তিনি আমাকে ভূগোল পড়াতেন। বলতেন, মানুষের শরীর হচ্ছে মানচিত্র। বুঝতাম, এসব তিনি আমাকেই উদ্দেশ্য করেন। পর্বত, উপত্যকা, মালভূমি, আরো কী-সব কী-সব বলতেন। আমার তখন নতুন শরীর। এসব নোংরা শুনতে ভালোই লাগতো। তুমি বোধহয় জানো, সেই মামার সংগেই বিয়ে হয়েছিল আমার। বিয়ের পরও তাকে মামা ডাকতাম আমি।...'

'তাই নাকি!' আমি গভীর বিস্ময় প্রকাশ করি। এতে সে বিরক্ত হয়। বলে, 'ডিসটার্ব কোরো না রাইসু। যা বলছি শুনে যাও।' সে পুনরায় তার গল্প শুরু করে : 'কী বলছিলাম যেন? মামা ডাকতাম। মামা ডাকতাম, শেষে...যাই হোক, আমাদের ফ্যামেলি এ বিয়ে মেনে নেয় নি। তো, বিয়ের পর মামা আমাকে শাসন করা শুরু করলেন। আমাকে তুই করে বলা শুরু করলেন। বলতেন, "তুই তো কোনো ভালো মেয়ে না। মামার সংগে প্রেম করে বিয়ে করেছিস। তোর তো কোনো বিশ্বাস নাই।" তিনি তালা মেরে আটকে রাখতেন আমাকে ঘরের মধ্যে। গোপনে চাবি বানিয়ে নিয়েছিলাম দরজার। মামা কোনোদিন টের পান নাই। তখনই তো তোমার সংগে আমার পরিচয়। বরিশালে। মনে নেই তোমার?'

আমি 'না' বলি।

সে আমার 'না'-কে পাত্তা দেয় না। দুই হাতে ঝাপটা মেরে উড়িয়ে দেয়। দিয়ে ফিক্ করে হেসে ফেলে : গল্পটা কেমন বানালাম?'

আমি সায় দিই। সে আমাকে জিগ্যেস করে, 'তোমার কী মনে হয়, কেন একটি গল্প গল্প হয়ে ওঠে?'

আমি বলি, 'বিশ্বাসযোগ্যতা--বিশ্বাসযোগ্যতা থাকতে হয় গল্পের।'

'কিন্ত বেশিরভাগ গল্প, ভালো ভালো গল্পগুলি কি অবিশ্বাস্য নয়?'

'তাহা ম্যাডাম, তাহা।'

'কিন্তু সেসব গল্প খুবই বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাই না রাইসু সাহেব?'

আমি তার চোখের মধ্যে তাকাই : 'তুমি একটু পাগলা আছো লাইলি।'

'তো?'

'তো আমি তোমাকে ভালোবাসি।' আমি তার শিরদাড়া বরাবর আঙুল ঢুকিয়ে দেই। সে মিষ্টি করে হাসে। বলে, 'আমারো জগতে শুধু গান।' আমি জিগ্যেস করি, 'কার গান গো?'

সে হাসে। বলে, 'তোমারই।'


৩.
তার হাজব্যান্ড আসেন বারান্দায়। ভদ্রলোক ফর্শা। মাগীমার্কা চেহারা। সোডিয়ামের আলোয় তাঁর মাগীভাব প্রকট হয়। বারান্দায় এসে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে তিনি আছেন কি নেই।

আমি বলি, ‘আপনি তো নেই।’

এতে আশ্বস্ত হন তিনি। গিয়ে এক কোনায় ভাবলেশহীন দাঁড়িয়ে থাকেন। লাইলি কাচভাঙার মতো হেসে ওঠে। আমার দিকে তাকায়, ‘আমি জানতাম, আামি জানতাম তুমি বলবা।’

‘কী বলবো?’

‘এ যে বললা, তুমি আমারে ভালোবাসো।’

‘কখন বললাম?’

‘বলেছো, একটু আগে বলেছো।’

‘কিন্তু তোমাকে তো আমি জানি নাই প্রায়।’

‘কে কাকে জানে বলো?’

‘তা ঠিক,’ আমি তার হাজব্যান্ডের দিকে তাকাই। ভদ্রলোক উপদ্রবহীন তাকিয়ে আছেন আমাদের দিকে। আমি তাঁকে মৃদু হাসি। লাইলি গাল দেয়: ‘খানকির বাচ্চা!’ কাকে দেয় কে জানে। আমার ভালো লাগে। আমি ঠিক করি কোনো গল্পই আত্মহত্যা দিয়ে দিয়ে শেষ করবো না। খুনখারাবি দিয়ে শেষ হয় শুধু দুর্বল গল্পগুলি। লাইলি আমার সন্দেহে একমত হয়। আমরা ঠিক করি দু’জন মিলে কিছু গল্প লিখবো।

সে বলে, ‘আমার খুব অভিজ্ঞতা।’

আমি বলি, ‘অভিজ্ঞতা ছাড়া তো গল্প হয় না।’

সে বলে, ‘সমাজ ছাড়াও গল্প হয় না।’

আমরা সমাজ ও অভিজ্ঞতার কথা লিখবো...

আমরা আস্তে আস্তে ভাষাকে কলুষিত করে ফেলবো...

লাইলির হাজব্যান্ড এরমধ্যে একবার এলেন, ‘আমার বৌকে আপনার কেমন লাগলো?’
আমি একটু হকচক খাই। আসলে খাই না। ভাব করি খেয়েছি। তারপর লাইলির দিকে তাকাই। লাইলি হাসি-হাসি মুখ ক’রে ভাষাকে কলুষিত করে দেয়: ‘রামছাগলটা জানতে চাচ্ছে আমার টেস্ট কী রকম; বোঝো না তুমি?’

‘বুঝি তো। বুঝি। একটু নোনতা আছো তুমি।’

‘আমি নোনতা! কী কইতে চাও মিয়া?’

‘কইতে চাই, তোমার মধ্যে প্রভূত লবণের ব্যবসায় আছে।’

‘তাই নাকি! আপনার জিহ্বা অনেক বৃহৎ হইছে মনে হয়।’

‘জ্বী হয় খালাম্মা, ইহা অনেক বৃহৎ হইছে।’

লাইলির হাজব্যান্ড মাঝখানে ঢুকলেন, ‘বৃহৎ এবং ক্ষুদ্র, এটা আসলে আপেক্ষিক ব্যাপার। যাহা ক্ষুদ্র তাহাই বৃহৎ আবার যাহা বৃহৎ তাহাই ক্ষুদ্র।’

‘আপনাওে কে বললো?’ আমি জিগ্যেশ করি।

‘বললো। আছে। বইয়ে লেখা আছে।’

‘ওর সঙ্গে তুমি বাক্যালাপ করছো কেন? তুমি আমার সঙ্গে বাক্যালাপ করো।’ বলে লাইলি।

আমি লাইলি সঙ্গে বাক্যালাপ শুরু করি: ‘লাইলি, আবেগ কমিয়া যাইছে।’

লাইলি মলিন হয়, ‘এটা তো খুবই ইয়ে। তুমি ডাক্তার দেখাও না কেন?’

‘সেই জন্যেই তো আপনার কাছে আসা,’ আমি লাইলিকে তাকাই।

‘তাই নাকি! আইস, আইস, অভ্যন্তর হও।’


৪.
আমরা লাইলির শোওয়ার ঘরে ঢুকি। লাইলি গিয়ে তার বিছানায় শোয়। আমি তার পাশে বসি। সে বলে, ‘যুলেখা বাদশার মেয়ে।’ তারপর দুই হাতে জাপটে ধরে আমাকে, ‘আমার কিছু ভালো লাগে না রাইসু, আমার কিছু ভালো লাগে না।’ লাইলি তার ঠোঁট বাঁকা করে। ঢোক গেলে। চোখ পাল্টায়। তার সারা মুখ তিরতির করে। অদ্ভুত দক্ষতায় সমস্ত শরীরে ক্ষীণ ও তাৎক্ষণিক একটা ঝাঁকুনি দেয়। তারপর বলে, ‘কোনো-কোনো দিন এমন হয় না রাইসু, কী বলবো, আমার একদম মরে যেতে ইচ্ছে করে।’

‘কখন করে এটা?’

‘এই সকালের দিকে। তখন আমার খুব মরে যেতে ইচ্ছে করে। মনে হয় এই জগৎসংসার সব অর্থহীন। কেউ আমারে বুঝতে পারলো না।’

‘তারপর?’

‘তারপর আমার খালি খালি লাগে। মনে হয় শূন্য হয়ে গেছি।’

‘তারপর?’

‘তারপর আমার বন্ধুরা সব ঝাঁক বেঁধে আসতে থাকে। তুমি তো জানোই, আমার সব পুরোনো বন্ধুদের দিয়ে তৈরি আমার এই পার্সোনালিটি--এই আমি।’ লাইলি তার বুকের দিকে তাকায়। আমিও।

‘তুমি একবার ভাবো, আমার এই জীবৎকালে পুরোনো বন্ধুদের সংখ্যা কতো-কতো!’ লাইলি তার পুরোনো বন্ধুদের নাম মুখস্ত বলে যায়। দেখি আমার নামও বলছে। কিয়ৎ আশ্চর্য হই। আশ্চর্য হওয়া থামলে ফের শুরু করে সে: ‘তো, আমার এই যে পার্সোনালিটি--এটা একটা অ্যাকস্ট্রাক্ট ব্যাপার, নয় কি?’

আমি লাইলির বুকের দিকে পুনরায় তাকাই: অলওয়েজ নট, ম্যাডাম। অলওয়েজ নট।

‘সেক্ষেত্রে চিন্তা করে দ্যাখো, পাখি উড়ে গেছে কিন্তু পড়ে আছে তার ছায়া--সেই ছায়া দিয়ে আমি করবোটা কী?’

‘তুমি এইখানে পাখি পাইলা কই?’

‘এটা একটা অ্যানালজি--উদাহরণ। সবকিছু বুঝতে চাও কেন? তোমাকে না বলেছি, কেবল শুনে যাও।’

‘ঠিক আছে শুনছি। তারপর?’

‘তারপর, তারপর আমি যাদের কারণে আমি, সেই তারা তো প্রায় কেউ নেই। মানে তারা তো আর তারা নেই। তারা তো এখন না-তারা। এখন আমি কী করবো?’

‘থাকলে কী করতা?’

‘থাকলে কী করতাম সেটা তো কোনো ইয়ে না। তারা যে নেই, নেই যে, এই যে নাথিংনেস, এইটাই বড়ো। আমি এই ‘না’-টা নিয়ে প্রতিদিন সকালে দুঃখ দুঃখ করতে চাই। নস্টালজিয়া করতে চাই। কাঁদতে চাই আমি। আমি কাঁদতে চাই। আই ওয়ান্ট টু ক্রাই...’...লাইলি চিৎকার করতে করতে বিছানা ছেড়ে লাফ মেরে উঠে দাঁড়ায়। তার বৃহৎ স্বামী এবং ক্ষুদ্র সন্তান এসে দাঁড়ায় দরজার সামনে। লাইলি এবার দ্বিগুণ শব্দ করে: ভাগ্ কুত্তার বাচ্চারা! ভাগ্ এখান থেকে!!

দুই ভদ্রলোক ছিটকে পড়লে আমি গিয়ে জড়িয়ে ধরি লাইলিকে, ‘লাইলি, তোমার স্ট্রাকচারে খুব ডেডিকেশান!’

লাইলি ঝটকা মেরে সরিয়ে দেয় আমাকে, ‘ইতর কোথাকার! সুযোগ নিতে চাও? লজ্জা করে না...?’

‘স্থির হও লাইলি। স্থির হও। তোমার কী হইছে?’

‘ওর কিছু হয় নাই। আপনি আমাদের বিরক্ত করবেন না প্লিজ।’ তার স্বামী--বৃহৎ ইন্টেলেকচুয়ালটি--এইরূপ বলে। তখন লাইলির পুত্র--ক্ষুদে ইন্টেলেকচুয়াল--মাথা ঝটকায়: আমার মা তো দেখেন কতো কান্নাকাটি করে! এখন আমরা কী করবো?

আমি লাইলির ঘর ছেড়ে বের হয়ে আসি। লাইলি বলে, ‘দাঁড়াও।’

আমি দাঁড়াই। লাইলি এসে হাত ধরে আমার।


৫.
আমরা ঠিক করি- আমি আর লাইলি - আমাদের বাচ্চাকাচ্চা হলে তার নাম রাখবো হ্রাহা। লাইলি হা হা দিয়ে ওঠে: ছেলে হলে হ্রাহা, মেয়ে হলে হ্রিহি।

আমি বলি, ‘ঠিক আছে। কিন্তু বাচ্চা কিভাবে নেবো আমরা? আমরা তো বিয়ে করি নাই!’

: বাচ্চা তো হবে আমার। তোমার এতসব চিন্তার কী দরকার?

‘তা ঠিক। কিন্তু মেয়েদের তো আমি দেখি মায়ের মতো।’

: তোমাকে আর দেখার সুযোগ দেওয়া হবে না। চোখে পট্টি বেঁধে দেয়া হবে তোমার। তারপর বাচ্চা নেবো আমরা।

‘আমার এসব ভয় করে লাইলি!’

: তোমার ভয়ের কিছু নাই। যার চোখ নাই তার ভয়ও নাই।’

‘তোমার হাজব্যান্ড যদি রাগ করে?’

: ও রাগ করবে কেন? ওর চোখেও পট্টি বেঁধে দেব আমরা। যার চোখ নাই তার রাগও নাই। আর গল্পের মধ্যে সবই সম্ভব।

‘তা ঠিক, আমাদের গল্পে কতো জায়গা বড়। কত সুযোগ সেখানে!’

: অনেক সুযোগ!

‘আমরা শুধু গল্পের মধ্যেই বাস করতে চাই।’

: গল্পের মধ্যেই করতে চাই আমরা।


৬.
এবং আমরা করি।

নিয়মটা হচ্ছে: প্রথমে দুজনের চোখ কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলতে হয়। তারপর আমরা কাঁদতে থাকি। লাইলির হাজব্যান্ড এসে বলেন, ‘কী হয়েছে?’ তখন আমরা বলি যে আমরা বাচ্চা নিতে চাই।

ভদ্রলোক বলেন, প্রত্যেকেরই বাচ্চা নেওয়া উচিত। তারপর তাঁকে সাক্ষী রেখে বাচ্চা নিই আমরা। পরদিন বাচ্চা হয়। মেয়ে। বাচ্চার নাম হ্রাহা।

#




১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×