স্বেচ্ছাচার না করা গেলে তারে স্বাধীনতা বলে না। স্বাধীনতা মানেই স্বেচ্ছাচারের অধিকার।

বিতর্ক । লেখার ভাষা :: মুখের ভাষা । ১২. সারওয়ার রেজা

১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৫

শেয়ারঃ
0 0 0


(ছবি. কমলকুমার মজুমদার)

১২. সারওয়ার রেজা

“তথাকথিত মান ভাষার মান-সম্মান লইয়া ইদানিং আমাগো অনেকের চিন্তাই রিভাইজ হইতেছে দেইখা ভালোই লাগতেছে। এইটা অনিবার্য। প্রতিক্রিয়াশীলরা কয়দিন হইল চিল্লা-ফাল্লা করতে পারব কিন্তু ঠেকানোর উপায় নাই। পয়লা পয়লা খারাপ লাগলেও আস্তে আস্তে সব সইয়া যাইব! আরে ভাই এইটাই হিস্টোরিক্যাল ডিটারমিনিজম। আমি নিজেও ছড়ায় যথাসম্ভব এই ভাষায় মানে আমার প্রকৃত ভাষায় লেখার চেষ্টা করতেছি। কারণ আমাগো মান ভাষায় অবশ্যই আমাগো মান-ইজ্জতের প্রতিফলন থাকতে হইবই।” - জগলুল হায়দার

এই ‘আমাগো মান ভাষা’ টি নির্ধারণ করছে কে? রাজধানী ঢাকার আজিজ মার্কেট বলয়ের নব্য বুদ্ধিজীবীরাই তো! যে যুক্তিতে নদীয়া-শান্তিপুরকেন্দ্রিক মানভাষাকে ম্লেচ্ছ বলার তাগিদ এঁরা অনুভব করছেন, সেই একই যুক্তিতেই তাঁদের নির্ধারিত ‘আমাগো মান ইজ্জতের প্রতিফলন’যুক্ত ভাষাটিও ব‌্যক্তিগত চর্চা হতে পারে, বাংলাদেশের মানভাষা নয়। ঢাকার মিশ্র/অবিমিশ্র ভাষার বাইরে পুরো বাংলাদেশের কথ্যরীতি পড়ে আছে ভাই। কোন বিচারে আপনারা আপনাদের এই ‘মান-ইজ্জত’কে সবার ওপর চাপিয়ে দেন? দিনাজপুরের শহর অঞ্চলের মানুষ যে ভাষায় কথা বলছে, গ্রামের লোকগুলো সে ভাষায় বলছে না, নাটোর, পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল বা চাটগাঁর লোকেদের (শিক্ষিত বা অন্ত্যজ, যাদের বিবেচনায় আপনারা স্বস্তি বোধ করেন) ভাষা অন্যরকম, ক্রিয়াপদের ব্যবহার, রসপ্রয়োগ, pun… ইত্যাদি যে প্রসঙ্গগুলো উঠেছে—সবই স্বতন্ত্র। তাদের ওপর আপনার পছন্দের মানভাষা চাপিয়ে দেয়া বা দেয়ার প্রক্রিয়া জারি হবে কেন? কেন-ই বা আপনারটাই ‘আস্তে আস্তে সব সইয়া’ যেতে হবে?! মিডিয়াটা আপনার দখলে বলে (সেটা দৈবযোগ বা যে যোগ্যতাতেই হোক না কেন)? ফারুকী, রাইসুরা জনপ্রিয় বা প্রভাবশালী হয়ে গিয়েছেন বলে? ফারুকী এবং তার ভাই বেরাদরদের জনপ্রিয়তায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘করসস্’, ‘খাইসি’, ‘হইতেসে’, ‘খাইতেছে’, ‘হেগো লগে’, ‘আমাগো’ ইত্যাদির যে সংক্রমণ নিজে দেখেছি তা কোনোভাবেই আপনাদের ‘হিস্টোরিক্যাল ডিটারমিনিজম’ হতে পারে না, কৃত্রিমভাবে আরোপিত একধরনের হেজিমনি ছাড়া।

লেখক, শিল্পী তাঁর শিল্প স্বাধীনতার অজুহাত/প্রিভিলেজ থেকে যেভাবে খুশি লিখুন, অন্যের জন্য মানভাষা নির্ধারণ করতে গিয়ে নিজেদের কুয়োর ঘেরাটোপকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা করবেন না দয়া করে। [...]

(সম্পূর্ণ বিতর্কের জন্য এখানে ক্লিক করুন।)

 

প্রকাশ করা হয়েছে: গার্হস্থ্য  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৩
তিথী ও টাটা বলেছেন: ২১ শে ফেব্রুয়ারী কিন্তু হয়েছিল মাতৃভাষার জন্য,প্রমিত বাঙলা বলার জন্য নয়। আমার মা'র বাড়ী ব্রাক্ষনবাড়িয়া আর দাদার বাড়ি কুমিল্লা তাই আমার মধ্যে কুমিল্লা আর ব্রাক্ষনবাড়িয়ার একটা মিশ্রন আছে। আমি যখন পরিবারে কথা বলি তখন এক ধরনের,বন্ধুদের সাথে যখন কথা বলি তখন আর এক ধরনের,শিক্ষকের সাথে বা কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে যখন কথা বলি তখন প্রমিত বাঙলায় কথা বলার চেষ্টা করি।

নাটক জীবনের ছবি,জীবনের প্রতিটি ঘটনাকে নাটকে ফুটিয়ে তোলা হয়,তাই নাটকের চরিত্রটি বাস্তব জীবনে যা করে বা যে ভাষায় কথা বলছে তাই নাটকে ফুটিয়ে তোলা হয়--------- কিন্তু এটাতে দোষের কি??

বাঙলাদেশের কয়টা লোক প্রমিত বাঙলায় কথা বলে?? কথ্য ভাষা আর লিখার ভাষা কিন্তু ভিন্ন তাই আন্চলিক ভাষায় কথা বললেও আমরা কিন্তু কখনোই প্রমিত বা শুদ্ধ বাংলা বলা সহজেই ভুলে যাব না।
ভয়ের কোন কারন নেই।
২. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৬
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: সব আসলে ভানুর ফ্যান
৩. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৭
পশু বলেছেন: রাইসু ভাই, আপনার সাক্ষাতকার দেখসি । একটু খেইপা সিলেন মনে হয়, কিন্তু সত্যি কথা কইসেন।

হুদাই, ভাষা নিয়া গরম হওয়ার কিসু নাই।

দুনিয়া ইংরাজী শিখতাসে। অইটা সবাইরে শিখাইতে কন। বাংলা যেমনে চলে, চলবে। কেউ কাউরে রক্ষা করতে পারে কি?

একটা লেখা লিখসি, আপনে প্রিয় লেখক, একটা কমেন্ট কইরেন।
Click This Link

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯০৪৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস