রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঁচজন খুনিকে প্রাণভিক্ষা দিতে পারলেন না। কিন্তু তিনি কি চাইলেই প্রাণভিক্ষা দিতে পারতেন?
রাষ্ট্রধর্ম ইসলামওয়ালা রাষ্ট্রে ইসলাম প্রাণের প্রতি সংবেদনশীল; এ ব্যাপারে মুসলমানরা কেবল আল্লাহতালার উপরই নির্ভরশীল। ফলে প্রাণভিক্ষা দেওয়া না দেওয়া অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রাণভিক্ষা দানের বিষয়টি শিরকের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সংকটের মধ্যে থাকে। আমি এখনও ইসলামী চিন্তাবিদ হইয়া উঠতে পারি নাই তাই এই ব্যাপারে ইসলামী বুদ্ধিজীবীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেছি।
যদি প্রাণভিক্ষা দিতে না পারেন তাইলে রাষ্ট্রপতি কী দিবেন? তিনি আদালতের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিল করতে পারেন। সেটি তাঁর রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসাবে এখতিয়ার। তাতে কি প্রাণভিক্ষা ঘটে না। না ঘটে না। তাতে কেবল একটি নির্বাহী কার্যক্রম সাধিত হয়। ইসলামী রাষ্ট্রে আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসাবে রাষ্ট্র কর্তৃক বিধিবদ্ধ একটি নিয়মিত কার্যক্রম সাধিত হয়। প্রাণের মালিকানা তৈরি হয় না।
আপনারা জানেন "প্রাণভিক্ষা" দেওয়ার ব্যাপারে জিল্লুর রহমানের অভ্যাস রয়েছে। তিনি এর আগে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর "প্রাণভিক্ষা" দিয়েছেন। তাই তাকে সাধুবাদ। কিন্তু সকল প্রাণের ব্যাপারে তিনি সমান ভিক্ষা দেন না, দেখা গেল।
প্রাণ সংহার বা মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে মডার্ন মানুষদের আপত্তি আছে। দেশের একটি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত সম্পাদক মতিউর রহমান দেখলাম ফাঁসির পক্ষে আবাহন করছেন। তিনি লিখেছেন, "আমরা চাই সব ঘাতকের ফাঁসি কার্যকর হেক। - ন্যায়বিচারের জয়"
প্রথমত, তিনি মনে করেন এটি ন্যায়বিচার হয়েছে। আদালতের রায় ঘোষণার পর বিচার-কে ন্যায় বা অন্যায় বিচার বলা যায় কিনা সেটি এক প্রশ্ন। দুই, ন্যায়বিচার হইলে তা কি ন্যায়বিচারের জয় হওয়া বলা যায় কিনা? একদা বামপন্থীর এই ফাঁসির পক্ষে সম্পাদকীয় লৈখন কি ট্রান্সকম গ্রুপকে একটি টিভি চ্যানেল হাতে ধরাইয়া দিবে না, এই আওয়ামী লীগ আমলেই? দেখা যাক।
সকল প্রকার হত্যা ও মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আমার সোচ্চার মত জানাই। আমাকেও কি একটি টিভি চ্যানেল দেওয়া যায় না? আমি সেখানে শুধু প্রধানমন্ত্রী সঙ্গীত গাইব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

