স্বেচ্ছাচার না করা গেলে তারে স্বাধীনতা বলে না। স্বাধীনতা মানেই স্বেচ্ছাচারের অধিকার।

রবীন্দ্রগোঁজামিল ১
১৯ শে জুন, ২০১০ সকাল ৯:৫৬
ভাই রবীন্দ্রনাথ তাঁর চিত্রাঙ্গদা নৃত্যনাট্যে এই জোড়াতালি গানটি লিখেছিলেন।
সন্ত্রাসের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান ।
সংকটের কল্পনাতে হোয়ো না ম্রিয়মাণ ।
মুক্ত করো ভয় ,
আপনা-মাঝে শক্তি ধরো , নিজেরে করো জয় ।
দুর্বলেরে রক্ষা করো , দুর্জনেরে হানো ,
নিজেরে দীন নিঃসহায় যেন কভু না জানো ।
মুক্ত করো ভয় ,
নিজের 'পরে করিতে ভর না রেখো সংশয় ।
ধর্ম যবে শঙ্খরবে করিবে আহ্বান
নীরব হয়ে নম্র হয়ে পণ করিয়ো প্রাণ ।
মুক্ত করো ভয় ,
দুরূহ কাজে নিজেরি দিয়ো কঠিন পরিচয় ।
আহা কী দুর্বল এই গান! গানের বাণী অনুসরিলে এর লেখকরেও রক্ষাকল্পে আগাইয়া যাইতে ইচ্ছা হয়। কিন্তু তিনি অলরেডি অ-ভবলীলায়িত।
রবীন্দ্রনাথের আমলে বানান নিয়া শুচিতা প্রায় সকলেরই আছিল। শুচিবাইগ্রস্ত ব্রাহ্মণদের প্রভাব মেবি! তাই তাঁরও বানান সঠিক রাখার কসরৎ অত্যন্ত দেখা যায়। কিন্তু তুলনীয় ভাবে লক্ষণীয় তাঁর চিন্তার গোজামিল। ভাইবা দেখা দরকার পুরা বাংলা তাল্লুকই এই রকম কাছা-আলগা আছিল কিনা। লালনে, পরমহংসে ভিন্নতা থাকা বাঞ্ছনীয়, কারণ অ-হীনম্মন্যতা। কিন্তু ছোট আত্মার বাঙালীরা গোঁজামিল আর পরিশুদ্ধতায় এখনও অগ্রসরমান।
যা নিয়া বলতেছিলাম। এই গানে রবীন্দ্রনাথ কী করতেছেন? " আপনা-মাঝে শক্তি ধরো" বলতেছেন। কে শক্তি ধরবে? যে দুর্বল, যার শক্তি নাই বইলা প্রতীয়মান হয়, নাকি? তো সেই দুর্বলরেই আবার রবি আহবানিছেন, "দুর্বলেরে রক্ষা করো"; কী ঘটতেছে তাইলে? দুর্বলরে বলতেছেন, তারে রক্ষা করার লোক আছে। যদি দুর্বলরে অন্যে রক্ষা করবে তাইলে সেই দুর্বলরেই "আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়" বলার কারণ কী? যিনি দুর্বলরে রক্ষা করতে বলতেছেন, তিনিই, সেই দুর্বলরেই, আবার আপনা মাঝে শক্তি ধরতে বলতেছেন--মানে কিছু দুর্বল আপনা মাঝে শক্তি ধইরা অন্য দুর্বলদের রক্ষা করবে। বাস্তবে এমন হয় অবশ্য। কিন্তু প্রেরণা মূলক গানে সব দুর্বলরেই শক্তি ধরতে দিতে আপত্তি কেন! কিছু দুর্বলরে কেন শক্তিমানদের অপেক্ষায় ওয়েটিং লিস্টে হোয়াইয়া রাখা। নাকি গান লিখতে হইব, তাই লিখছিলেন?
অর্থাৎ রাজ্যের দায়িত্ব তিনি নিয়া নিছিলেন। এরে বলে জমিদারি চিন্তা। জমিদারের চিন্তা জমিদারি মূলকই হবে!
ঢাকা, জুন ১৯, ২০১০
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রবীন্দ্রনাথ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: শিক্ষামূলক! বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সোহরাব সুমন বলেছেন:
চিন্তার গোজামিল ভালই ধরছেন রাইসু ভাই!
কৌশিক বলেছেন:
হাহাহা। পইড়া আনন্দ পাইলাম। তয় ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হইলাম না।
লেখক বলেছেন: অন্যের সন্তুষ্টি বিধান তো লেখার কারণ নয়। আপনার ভিন্নমত থাকলে জানান। ব্যাখ্যাও করি নাই। পয়েন্ট ধরা হইছে।
অমিত০৯৭ বলেছেন:
কবিতা মনে পড়ে গেলো।হাউই বলে মোর কি সাহস ভাই
তারকার মুখে আমি দিয়ে আসি ছাই
বাই দা ওয়ে , আপনার গুরু ওয়ামি কেমন আছে?
লেখক বলেছেন: ওয়ামী আমার গুরু নন। ব্যক্তিগত আক্রমণ কইরা কমেন্ট লিখছেন। এইটা মুইছা দেবেন। বা দিতে অনুরোধ করবেন আমারে। নাইলে ব্লক করব।
কৌশিক বলেছেন:
এটা সম্ভব না যে সব দুর্বল একত্রে শক্তি ধারণ করবে। দুর্বলদের মধ্য থেকেই তৈরী হবে দুর্বলদের রক্ষক। নিজেই একপ্রকার বলেছেন, "বাস্তবে এমন হয় অবশ্য"। কবি এভাবেই ভেবেছেন যা খুবই স্বাভাবিক ও সরল একটা ভাবনা থেকে প্রকাশিত।
লেখক বলেছেন: "সব দুর্বল একত্রে শক্তি ধারণ" করবে না বটে, কিন্তু এইটা খুবই সম্ভব যে সব দুর্বলরেই শক্তি ধারণের জন্য আহবান করা হইল। আপনি কি বলবেন যে রবীন্দ্রনাথ হেথায় কিছু দুর্বলরে শক্তি ধারণ করতে বলছেন? তা তো না। এই আহবান সকল দুর্বলের তরে।
তো দুর্বলেরে রক্ষা করার আহবান তো শক্তিমানের উদ্দেশ্যেই করা। একই গানরে তো বলা যাবে না যে এইটা শক্তিমানদের উদ্দেশেও আবার দুর্বলদের উদ্দেশ্যেও। তাইলে গিয়া দাঁড়ায় রবীন্দ্রনাথ এই গানে শক্তিমানদেরকে বলতেছেন দুর্বলদের রক্ষা করতে (তা তিনি তো বলতেছেনই); আবার দুর্বলরে বলতেছেন শক্তি ধরতে।
তো জগত তো এই রকম আছেই। দুর্বল শক্তিমান হয় তারপরে দুর্বলদের রক্ষাকল্পে আইসা যা করার করে! তো যারা বনেদি শক্তিমান তারা যদি দুর্বলদের রক্ষা করতে আসে তাতে কী সমস্যা? কেন আগে 'দুর্বল-ছিল'রাই কেবল দুর্বলদের রক্ষা করবে!
"যা খুবই স্বাভাবিক ও সরল" ভাবনা তাতে গোজামিল থাকেই সচরাচর। কারণ মিলানোটাই সেইখানে প্রধান। আপনি একজনরে বলবেন, হে, তুমি শক্তি ধরো, তারপরে যে শক্তিমান তারে গিয়া বলবেন ঐ যে অই দুর্বলটা অইটারে রক্ষা করো। তখন রবীন্দ্র প্রভাবিত শক্তিমান রবীন্দ্র নির্দেশিত দুর্বলরে রক্ষা করতে আসবে। কিন্তু তাতে লাভ হবে না, কারণ রবীন্দ্র প্রভাবিত দুর্বল তো অন্যের দ্বারা রক্ষা পাইতে চায় না, সে আপনা মাঝে শক্তি ধরতে চেষ্টা করতেছে। তখন দুর্বলরে রক্ষাকল্পী রবীন্দ্র ছায়া-নট রবীন্দ্র বাসনারে (দুর্বলেরে রক্ষা করো...) অ্যাপ্লাই করতে না পাইরা পুনরায় গাইবে, "সন্ত্রাসের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান.../ আ ! আহা!"
হাঃ হাঃ।
অবাক মানুষ বলেছেন:
আগে ভালো করে জানুন, পড়ুন, তারপর রবীন্দ্রনাথ নিয়ে কথা বলবেন। " সন্ত্রাসের বিহ্বলতা " কোথায় পেয়েছেন? রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন " সঙ্কোচের বিহ্ববলতা " রবীন্দ্রনাথের ভুল ধরে সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে গিয়ে নিজে এই ধরনের ভুল করা হাস্যকর ব্যাপার।
লেখক বলেছেন: রবীন্দ্রনাথ পরস্পরবিরোধিতা ঘটাইছেন। তাতে কইরা তাঁর বক্তব্য বিষয় মাঠে মারা গেছে। তা জানার জন্য ঐ গানটা আমি পড়ছি, ভুইলা গেলে এইখান থিকা আবার পইড়া নেব। রবীন্দ্র রচনাবলী পইড়া তারপরে এই গানের ভুল সম্পর্কে আমার সচেতনতা ঘটবে তারপরে রবীন্দ্রনাথ নিয়া কথা বলব--এত সময় আমার নাই যে!
"সন্ত্রাসের বিহ্বলতা" পাইছি চিত্রাঙ্গদা নৃত্যনাট্যে। দুইবার পাইছি। চতুর্থ দৃশ্যে। আর "সঙ্কোচের বিহ্বলতা" আছে স্বদেশ পর্যায়ের ১১ নম্বর গানে।
এইবার নিজেরে নিয়া হাসেন।
রবীন্দ্রনাথের চেয়ে সস্তা জনপ্রিয়তায় আমার হবে না। যেখানে ভুল করার সুযোগ নাই।
ধ্রুব তারা বলেছেন:
জনাব, আপোনাকে চালাম। আপোনি উচ্চমার্গীয় কথা কয়ে থাকেন আর হ্রিদয় আনন্দে পুলকিত অয়। কিন্তু আপোনার একোটা কতা বুঝিলাম না।স্বেচ্ছাচার না করা গেলে তারে স্বাধীনতা বলে না। স্বাধীনতা মানেই স্বেচ্ছাচারের অধিকার।
সেচ্চাচারের মাজে অন্যকে লাগানো-ও (শরিয়ত অসম্মত আশি-কুশি আরকি!) তাকিতে পারে। কিন্তুক সে-টা অন্যের সাদিনতাকে পধধলিত করিয়া তাকে। তাইলে সেচ্চাচার কি-রূপে সাদিনতার ফূর্বশর্ত অইলো? সাদিনতা সবার কেত্রে ফ্রযোজ্য। দরেন আপোনি ওয়ামী-এর ... মারিতে চায়েন কিন্তু সে চায়ে না। আপোনি সেচ্চাচারি অইলে তাহার ... মারিবেন-ই, কিন্তু তাআতে কী তাআর সাদিনতা লঙক্ষিত অইতেচে না?
[এইকানে সখল নাম কাল্পনিক]
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...













