স্বেচ্ছাচার না করা গেলে তারে স্বাধীনতা বলে না। স্বাধীনতা মানেই স্বেচ্ছাচারের অধিকার।

আত্মহত্যাকারীদের প্রতি কোনো সহানুভূতি নয়

০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৮:৫৪

শেয়ারঃ
0 0 0

"ফারজানা কবির রিতা ও তাঁর দুই সন্তানের আত্মহত্যায় নিজেদের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন সাংবাদিক শফিকুল কবির, তাঁর ছেলে রাশেদুল কবিরসহ পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ দাবি করেছে, গতকাল সোমবার মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা বলেন, তাঁরা ফারজানার দুই সন্তানের দায়িত্ব নিলে দুঃখজনক এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।" সবাইকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ / প্রথম আলো, ২৯ জুন ২০১০ "এদিকে রাশেদুল গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়ে দেন, তার সামনে রিতা যেদিন তার মাকে জুতা মারে সেদিনই তিনি রিতাকে তালাক দিয়েছিলেন।" / ভোরের কাগজ, ২৯ জুন ২০১০


যেমন মানুষ তার সন্তানদের আত্মহত্যা করতে দেয় বা করতে উদ্বুদ্ধ করে বা শাশুরীকে জুতা মারতে পারেন তেমন মানুষের কাছ থিকা আত্মহত্যায় আগ্রহী না বা জুতা চান না তেমন প্রাণীরা যদি দূরে থাকতে চায় বা নিস্তার চায় তাতে কেন সমস্যা হবে? বা যদি একান্ত ভালো মানুষ পুত্রবধূরেও নিজের সংসারে না রাখতে চান কেউ সেইটা কেন আত্মহত্যার প্ররোচনা হবে? শফিকুল কবির তাঁর পুত্রবধূর কাছ থিকা দূরে থাকতে চাইবেন সে খুবই স্বাভাবিক নাগরিক চাহিদা। যদি রিতাকে নিজের সংসারে না রাখাটা তাঁর অপরাধ হয় তাইলে সে ধরনের অপরাধ তো রিতার বাবা-মার দিককার পরিবারের সদস্যদেরও আছে। এবং শফিকুল তাঁর ছেলের ছেলে-মেয়েদের কোন বিবেচনায় লালন-পালন করবেন যেখানে তাদের মা বর্তমান আছেন বা তাঁর ছেলে রাশেদুল আছেন? রিতার নোটের কারণে শফিকুলের হেনস্তা কাম্য পদ্ধতি হইতে পারে না। শফিকুল গং অপরাধী কিনা সেইটা আগে নিকাশ হওয়ার দরকার ছিল।

২.
ভাইবা দেখা দরকার, ফারজানা কবির রিতা নিজের আত্মহত্যার আগে তার দুই সন্তানরে আত্মহত্যায় রাজি করায়ছিলেন কিনা? যদি করাইয়া থাকেন তাইলে তিনি জোড়া খুনের আসামী। নিজে তিনি আত্মহত্যা কইরা তার থিকা পলাইয়া বাঁচতে পারেন। কিন্তু দায় থিকা বাঁচেন না। সমাজ সংসার যারা চালনা করেন তাদের এই বিষয়ে দেখলাম নজর-টজর নাই। পুলিশেরও নাই। যদি তিনি সন্তানদের খুনের দায়ে দায়ী থাকেন তার বিচার আগে কইরা নেওয়া কর্তব্য।

ফলে জুরাইনের আত্মহত্যাকারী সন্তান আর তাদের মাকে এক কাতারে ফেলা ঠিক হবে না। নাবালক সন্তানদের আত্মহত্যার জন্য মা দায়ী কিনা, হাতে ধইরা আত্মহত্যা করাইছিলেন কিনা, বা তিনি আত্মহত্যার আগে তাদের হত্যা করছিলেন কিনা দেখা দরকার। মনে রাখা দরকার, এই কাণ্ডের আগেই ১১ জুন তারিখে বাবুগঞ্জে বাহেরচর গ্রামে মা রেনু বেগম তার তিন সন্তানরে খুন করার পর আত্মহত্যায় ব্যর্থ হন। (ধন্য ব্যর্থতা!) ফারজানা কবির রিতা তা দিয়া প্রভাবিত হইয়া থাকতে পারেন। নিজের সন্তানদের আত্মহত্যায় বাধা না দেওয়াটা কি হত্যাকাণ্ড নয়?


৩.
"রিতার আত্মহত্যার দায় তাঁর নয় বরং অন্যদের" এই সহানুভূতির মধ্যে আত্মহত্যারে সমাজসম্মত করার, এবং তেমন তেমন অবস্থায় আত্মহত্যা করা যাইতেই পারে এই বার্তা আমরা যারা এহনো আত্মহত্যা করি নাই বা আদৌ করতে চাই না তাদের দেওয়া হইতেছে। তো রিতার আত্মহত্যার দায় যারই হউক, তার সন্তানদের আত্মহত্যার দায় রিতার নিজের—ধরা খাওয়া শফিকুল কবির বা অন্যান্যদের নয়। কারণ নাবালক সন্তানদের আত্মহত্যায় উদ্বুদ্ধ করা এবং তার সকল উপাচার তৈরি রাখা ও আত্মহত্যা নিশ্চিত করার কাজটা নিজের আত্মহত্যার আগে রিতা কইরা গেছেন। এই ব্যাপার কি হত্যাকাণ্ড নয়?

প্রতিশোধস্পৃহার কারণে আত্মহত্যা বা সন্তান হত্যার বিষয়টা পুরানো। এমন শুনছি, নিজের সন্তানরে কোপাইয়া মাইরা প্রতিপক্ষের নামে মামলা দায়ের করে লোকে। (অবশ্য গ্রামে। রক্ষা। আমরা শহরবাসী সন্তানরা বাঁইচা গেছি।) তো আত্মহত্যার মাধ্যমে যাদেরে প্ররোচনাকারী বানাইয়া তোলা হয়, তারা তাদের কৃত অপরাধের বাইরে, ইচ্ছার বিরুদ্ধেই কেমনে কেমনে অপরাধী হইয়া যায়। এইভাবে আত্মহত্যাকারী নিজের অপরাধের মালাটা জীবিত "খারাপ" লোকদের গলায় আপসে পরাইয়া দেয়। যেহেতু মৃত লোক বইলা গেছে সুতরাং তাদের খারাপত্বের ব্যাপারে এমনকি পুলিশের, এমনকি পত্রিকাগুলার, এমনকি রাষ্ট্রেরও কোনো সন্দেহ থাকে না। কোন অপরাধে কীসের শাস্তি পায় "প্ররোচনাকারী"রা? এইভাবে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ আত্মহত্যাকারীরে একটা সমাজ দিবে কিনা ভাবা দরকার। সমাজ প্রতিশোধকামীদের আত্মহত্যার দিকে ঠেইলা দিবে কিনা তাও ভাবা দরকার। "পুলিশ দাবি করেছে, গতকাল সোমবার মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা বলেন, তাঁরা ফারজানার দুই সন্তানের দায়িত্ব নিলে দুঃখজনক এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।" কিন্তু যারা দায়িত্ব নিতে আগ্রহী না তাদের উপর কেন আমরা দায় চাপাবো? একই পদ্ধতিতে রিতার সন্তানদের নানাবাড়ির লোকদের দায় নাই কেন? দায়িত্ব কেন নিতে হবে? সন্তানদের দায়িত্ব প্রথমত বাবা অথবা মায়ের। বাবা-মা জীবিত থাকলে দাদা-দাদি বা নানা-নানির নয়।

৪.
আইনত "প্ররোচনায় আত্মহত্যা"রে সিদ্ধ জ্ঞান করলে আত্মহত্যারে বৈধ গণ্য করতে হয়। তেমন প্ররোচনায় অন্যদেরও আত্মহত্যা করা কর্তব্য গণ্য করতে হয়। তেমন তেমন ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভাবে আত্মহত্যা করতে না বললে (যেমন কেউ আইসা কাউরে বললো, তুমি আত্মহত্যা করো...!), আত্মহত্যায় স্পষ্টভাবে উদ্বুদ্ধ না করলে তারে আত্মহত্যার প্ররোচনা বলা যায় কি? প্রেম আর করতে না চাওয়া, সংসার আর না চালাইতে চাওয়া, ভরণপোষণের দায়িত্ব না নেওয়া, পাবলিকলি অপমান করা এগুলারে আত্মহত্যার প্ররোচনা মাইনা নিলে কেউ যখন এইসবের কারণে আত্মহত্যা করে-না তখনও এগুলারে "আত্মহত্যার প্ররোচনা" হিসাবে অপরাধ গণ্য করতে হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আইন বড় স্যুররিয়াল, আইন আত্মহত্যার চেষ্টারে দণ্ডনীয় অপরাধ জ্ঞান করে, আবার "প্ররোচনায় আত্মহত্যা" কনসেপ্টের মাধ্যমে কী কী কারণে (অর প্ররোচনায়) আত্মহত্যা করা যায় তার তার ইঙ্গিত প্রতিষ্ঠা করে।

৫.
আত্মহত্যাকারীদের আবেদন বা নোটের বক্তব্য যতদিন আইনী প্রতিষ্ঠানগুলি জীবিত অপরাধীদের ব্ক্তব্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়া শুনবে ততই আত্মহত্যার হার বাড়তে থাকবে। আত্মহত্যাকারীর চরমপত্র বা নোটের মূল্য আদালতে শূন্য করা যায় কিনা বা কমাইয়া আনা যায় কিনা বিচার বিভাগীয় সংস্থাগুলি সে নিয়া ভাবনা-চিন্তা করবেন আশা রাখি। নইলে দেশে আত্মহত্যা বাড়তেই থাকবে। আত্মহত্যাকারীদের কারণে বাঁইচা থাকা ও বাঁইচা থাকতে চাওয়া মানুষের জীবনে গজব নাইমা আসবে। পরিবারসুদ্ধা লোকরে গ্রেফতার কইরা সামাজিকভাবে অসম্মান করা হবে।

মানুষ যখন জানবে নিজে মরলে অন্যরে শাস্তি দেয়া সম্ভব তখন এই পথ অনেকেরই কাছেই লোভনীয় হইয়া উঠবে।

আত্মহত্যাকারীদের প্রতি কোনো সহানুভূতি নয়। যদি ধইরা নেই আত্মহত্যা অপরাধ, তাইলে ধইরা নিতে হয় কখনোই আত্মহত্যা করার মত অব্স্থা আইনত তৈরি হয় না। ফলে কারো আত্মহত্যার জন্য অন্যদের না ঘাটানো ভালো। নৈতিক ভাবে ঘাটান সেইটা যার যার নিজের দৌড়, কিন্তু আইনগতভাবে তা অকর্তব্য হয়।

৬.
রিতা ও রাশেদুলের মৃত সন্তানদের প্রতি সমবেদনা রইল।

৩০/৬/২০১০-৭/৭/২০১০



আত্মহত্যা বিষয়ে আরো নোট:
পত্রিকাগুলা কি তরুণীদের আত্মহত্যায় বাধ্য করতেছে...?

 

প্রকাশ করা হয়েছে: মিডিয়া  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:০৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:০৩
স্বদেশ হাসনাইন বলেছেন: ভেবে পাইনা, কতটা কষ্টকর পরিস্থিতি হলে, অসহায় হলে মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয়!

যদি নিজেকে হত্যা ছাড়া কোন ভাবেই আইনের সহানুভুতি না পাওয়া যায় তবে সেই আইন, সে সমাজ চরমভাবে ব্যর্থ..

ব্রাত্য রাইসুকে ধন্যবাদ।
২. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:১৩
রামন বলেছেন: যে ব্যক্তি ভরা মজলিসে নিজ ঔরসজাত সন্তানদের অস্বীকার করে সেই পাষণ্ড নরাধমের পক্ষে সাফাই গাইতে এসেছেন ?
৩. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:১৮
দোলান বলেছেন: এ ধরনের আত্নহত্যা কাম্য নয়....আত্নহত্যা কোন সমাধান নয়....ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে চেয়ে এই মা আরও অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারতেন....সামনের দিনগুলো তাদের আরও সুন্দর হতে পারতো।
৪. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:২২
পানকৌড়ি বলেছেন: রাইসু ভাইয়ের সাথে একমত ।
৫. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:২৩
রামন বলেছেন: মা সহ দুটি নিস্পাপ শিশুর মৃত্যুর জন্য লোভী ড্রাইভার, কথিত পাষণ্ড পিতাসহ রিতার শশুর বাড়ীর সকলে কমবেশী দায়ী। বাচ্চা দুটোর সাথে এই পরিবার যে নিষ্ঠুর ব্যাবহার করছে অমানুষ ছাড়া এরকম ব্যাবহার আশা করা যায় না। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিত।
৬. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:৪১
রাজা রায় বাহাদুর যদুনাথ বলেছেন: "৬.

রিতা ও রাশেদুলের মৃত সন্তানদের প্রতি সমবেদনা রইল।

৩০/৬/২০১০-৭/৬/২০১০"

সহমত ব্রাত্যদা। লেখাটা আরো কয়েকবার পড়বো। কেননা আপনার তুলে ধরা প্রশ্নগুলো বোঝা দরকার।

আর তারিখটা একটু ঠিক করে নেবেন। ৭/৬/২০১০ এর জায়গায় সম্ভবত ৭/৭/২০১০ হবে।

ভালো থাকবেন। অনেক ধন্যবাদ।
৭. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১০:০৫
শায়মা বলেছেন: আমারও ঠিক এমনটাই মনে হয়েছে। আপনার মত করে এত সুপষ্ট করে ভাবতে পারিনি বা বলতে পারিনা হয়তো কিন্তু আমারও মনে হয় নারী বা পুরুষ যেই হোন না কেনো এমন প্রতিহিংসাপরায়ন মানুষের আত্নহত্যায় আমারও কোনো সমবেদনা নেই।

যে শুধু নিজের সন্তানদেরই আত্নহত্যায় উদ্ভুত করেনি তার আগে সুপরিকল্পিত ভাবে দেওয়ালে লিখে পরিবারের অন্যান্যদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। মৃত্যুর পরেও যেন তারা কোনোভাবেই মুক্তি না পায় সেব্যাবস্থা করে গেছে। এরকম মানুষ আর সুপরিকল্পিত খুনীর মাঝে কোনো তফাৎ নেই।

আসলেই সে জোড়া খুনের দায়ে দায়ী । শুধু তাই ই নয় মহা কুচক্রী একজন মানুষ বলেই আমার মনে হয়েছে। এমনিতে আমি নারীবাদী বলে নিজেকে মনে করি। বেশীভাগ সময় নারীদেরকেই আমার অসহায় মনে হয় তাই বলে রিতার উন্মাদনা প্রতিহিংসাপরায়নতা মেনে নিতে পারিনা।

ড্রাইভার , তার স্বামী, ২য় স্ত্রী কারো অপরাধ ভাবার আগে ভাবতে হবে রিতার মত মানুষদের আসলেই বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই এই পৃথিবীতে।

অনেকেই হয়তো বলবেন আমি এমন পরিস্তিতিতে পড়লে কি করতাম । আমি একথা অন্তত বলতে পারি জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়াই সকল সমস্যার সমাধান নয়।যদি যেতেই হয় তাও আবার তার আগে এরকম কুচক্রী খেলা খেলে? মোটেও তা কারোরই কাম্য নয় ।

অনেক আতলামী করে ফেলার জন্য দুঃখিত তবে রিতার কথা শুনলেই আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। এত সুন্দর বাচ্চা দুইটাকে কোন আক্কেলে সে এই ভাবে আতত্নহত্যায় প্ররোচিত করে আল্লাহ ছাড়া হয়তো কেউ তার উত্তর দিতে পারবেনা।
৮. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১০:২০
রেজোওয়ানা বলেছেন: খুব চমৎকার রাইসু, ভিন্ন মতের মন্তব্য গুলো মুছে ফেলে আপনি আবার প্রমাণ করলেন, আপনি................
০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১০:৪৩

লেখক বলেছেন: "আপনি প্রমাণ করলেন যে আপনি আসলেই একটা আঁতেল" -- এই ধরনের ভিন্নমত দিয়া আমি কী করব? এইটা কীসের ভিন্ন মত, আদৌ? রগড় করার জন্য আপনাদের অন্য কোথাও যাইতে হবে।

এর বাইরে, আমি ভিন্নমত শোনার কান লইয়া বইসা নাই। তর্ক করেন, নিন্দা করেন, ঠিক আছে। আমারে শুটকি রইদ দেওনের দড়ি ভাববেন না যে নানা বর্ণের ভিন্ন মতের মড়া মাছ শুকাইতে দিবেন এইখানে।

কেন ভিন্নমত শুনতে চাই না তা নিয়া পরে নোট লিখব। এই বিষয়রে ভাবনীয় কইরা তোলনের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

৯. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১০:২৬
বাবু>বাবুয়া>বাবুই বলেছেন: জন্মিলে মরিতে হবে জানিতো সবাই তবু মরণে মরনে অনেক ফারাক আছে ভাই সব মরন নই সমান - প্রতুল মুখোপধ্যয়।

কারন যা'ই হোক না কেন অত্মহত্যা সমর্থন যোগ্য নয়।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাধরের দাপটে চুপসে থাকা এ সমাজের বিবেক তখনি নাড়া দিচ্ছে যখন কেউ আত্মহত্যা করছে। অসহায়ত্ব, অভিমান, রাগ, প্রতিবাদী হয়ে উঠতে না পারার গ্লানি সব একাকার হয়ে আত্মহত্যার আশ্রয় নিচ্ছে।

"প্ররোচনায় আত্মহত্যা" কনসেপ্টে বিশ্বাস করি না। এই কনসেপ্টের মডিফিকেশন না করে বাতিল করলেই ভালো।

"আত্মহত্যাকারীদের আবেদন বা নোটের বক্তব্য যতদিন আইনী প্রতিষ্ঠানগুলি জীবিত অপরাধীদের ব্ক্তব্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়া শুনবে ততই আত্মহত্যার হার বাড়তে থাকবে। আত্মহত্যাকারীর চরমপত্র বা নোটের মূল্য আদালতে শূন্য করা যায় কিনা বা কমাইয়া আনা যায় কিনা বিচার বিভাগীয় সংস্থাগুলি সে নিয়া ভাবনা-চিন্তা করবেন আশা রাখি। নইলে দেশে আত্মহত্যা বাড়তেই থাকবে।"
---------- সহমত।
১২. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:২৪
নিভৃত পথচারী বলেছেন: পত্রিকায় এ ঘটনা পড়ার সময় আমি বারংবার অসুস্থ্য বোধ করি।এই গভীর মর্মপীড়াদায়ক ঘটনা প্রসঙ্গে আপনার মতামত জানলাম।
খুবই যৌক্তিক বক্তব্য। সকল পয়েন্টেই আপনার সাথে একমত।

আমি ঘটনাটি যেভাবে দেখিঃ

১. রিতা ছিল মানষিক রোগী। (পরিকল্পিত আত্মহত্যা তার চূড়ান্ত প্রমাণ)
২. রিতার সাহচর্যে ও ক্রমাগত প্ররোচনায় তার সন্তানরাও মানষিক বিকারগ্রস্থ হিসেবে গড়ে উঠে।
২. ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানি মানষিক রোগীরা কখনও নিজেদের অসুস্থ্যতা কোনক্রমেই স্বীকার করে না যার ফলে একজন পূর্ণবয়স্ক মানষিক রোগীকে ডাক্তারের কাছে তার ইচ্ছার রিরুদ্ধে নেওয়া জগতের কঠিনতম কাজ সমূহের অন্যতম।
৩. রিতার মত মেয়ের সাথে ধৈর্য্য সহকারে দীর্ঘ সংসার জীবন যাপনের জন্য রাশেদুল ধণ্যবাদ প্রাপ্য। রাশেদুলের পক্ষে অন্য নারীর প্রতি আসক্ত হওয়া খুব স্বাভাবিক ছিল। যদিও স্মুতির মত নারী নির্বাচন তার পক্ষে বড় ভূল ছিল।
রিতাকে নিয়মিত বড় অংকের মাসোহারা প্রদান, গাড়ী প্রদান, সুসজ্জিত ফ্ল্যাট বাড়ীতে রাখা ইত্যাদি বিষয়গুলিতে আমি রাশেদুলের দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাই।

৪. এ ধরণের আরো বহু ঘটনা আমাদের বর্তমান সমাজে চলমান যাদেরকে সন্তানসহ রিতার আত্মহননের বিষয়টি উৎসাহিত করেছে।
৫. যান্ত্রিক নগরজীবনের অন্যতম প্রধান সমস্যা মানষিক রোগীর সংখ্যাবৃদ্ধি যা বসবাস অনপুযুক্ত ঢাকা নগরীতে এখন অত্যন্ত প্রকট। আমাদের এখনও কোন সুস্পষ্ট ধারণা নেই এ ধরনের রোগীদের সাথে কিভাবে আচরণ করা উচিৎ। এ ক্ষেত্রে সকলের সচেতনতা আবশ্যক নতুবা এমন যন্ত্রনাদায়ক ঘটনা আরো প্রত্যক্ষ করতে হবে নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

সবশেষে রাশেদুল ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও সহানুভূতি জ্ঞাপন করি।

রিতা ও তার সন্তানেরা সুষ্ঠু মানষিক চিকিৎসার অভাবে যে অচিন্তনীয় ভয়ংকর কার্য করল তার প্রতিক্রিয়ায় কিছু বলার মত ভাষা বা অনুভুতি আমার নেই।


ড্রাইভার ও স্মৃতির প্রতি প্রচন্ড ক্ষোভ।

ড্রাইভার এ ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতো।
স্মৃতির প্রতি কোনও সহানুভুতি নেই

১৩. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:০২
সাইবেরিয়ান কোকিল বলেছেন: রামন বলেছেন: যে ব্যক্তি ভরা মজলিসে নিজ ঔরসজাত সন্তানদের অস্বীকার করে সেই পাষণ্ড নরাধমের পক্ষে সাফাই গাইতে এসেছেন ?
১৪. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:৪৫
শায়মা বলেছেন: আবার আসলাম পোস্টটিতে। নিভৃত পথচারীর বিশ্লেষনের সাথে একমত। খুব খুঁটিয়ে অনেকগুলো বিষয়কেই পয়েন্ট আউট করেছেন যার কোনোটিতেই দ্বীমত পোষন করা যায়না বলে আমি মনে করি।
১৬. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩২
মেহেদী_বিএনসিসি বলেছেন: আসলেই রিতার প্রতি কোন সহানুভুতি নাই, ওর স্বামী বা স্মৃতী যাই করুক না কেন......... তার জন্য শাশুরীকে জুতাপেটা.........। কথাটা জেনেই আমার মাথায় রক্ত উঠে গেল............ আমি রাশেদুলকে ধন্যবাদ দেব.......যে তার পরেও সে রিতাকে খুন করেনি.............আমি হলে হয়তো তাই করতাম.....।
আর দুজন সন্তানকে এভাবে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা মাফিক হত্যা.........উফ......আমি কল্পনা করতে পারিনা..........এটা একটা মেয়ের কাজ.........। ওকে কবর থেকে তুলে আবার ফাঁসি দেওয়া উচিৎ।
১৭. ০৬ ই জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১৫
রামন বলেছেন: ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে আত্মহত্যা করা পাপ হলেও প্রত্যেক মানুষের আত্মহত্যা করার অধিকার আছে। কিন্তু আত্মহত্যাকারীকে যদি আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করা হয় বা বাধ্যকরা হয় সেটা হত্যা করার মত আপরাধের শামীল। রিতা ও তার নিস্পাপ দুটি সন্তানের মৃত্যু সে রকমই হত্যাকাণ্ড। সন্তানদের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যাবহার করার সুযোগে পরিবারের অন্যান্যরা সমানে নির্যাতন চালিয়েছে হতভাগ্যদের উপর। প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মেয়েটি পিতার সান্নিধ্য চেয়ে আকুতি জানালেও একটা বারের জন্য পাষণ্ড পিতার মন গলেনি,ফিরেও তাকায়নি হতভাগা মেয়েটির দিকে। আজ যদি রিতা ও তার সন্তানেরা দেয়ালে কষ্টভরা লেখনি লিখে না যেত এই সমাজ আত্মহত্যার জন্য রিতাকেই দায়ী করত আর কখনো উম্মোচিত হত না ভদ্রতার লেবাসে থাকা নপংশুক, অত্যাচারীদের আসল চরিত্র।
১৮. ২৯ শে নভেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:৫৫
হাম্বা বলেছেন: স্বদেশ হাসনাইন বলেছেন: ভেবে পাইনা, কতটা কষ্টকর পরিস্থিতি হলে, অসহায় হলে মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয়!

যদি নিজেকে হত্যা ছাড়া কোন ভাবেই আইনের সহানুভুতি না পাওয়া যায় তবে সেই আইন, সে সমাজ চরমভাবে ব্যর্থ..

ব্রাত্য রাইসুকে ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩৫৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস