somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

বিদেশী মানব মানবী’র ভালোবাসা

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'জন মাইক্যাল' মার্কিন যুক্তরাষ্টে একটি নামকরা স্কুলে তখন দশম শ্রেনীর ছাএ।একদিন ইংরেজী ক্লাশ চলাকালে জন মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে ছিল পাশে বসা 'রোজ এন' মেয়েটির দিকে।
এই রোজ এন'ই ছিল জন মাইক্যালের খুব ভালো বন্ধু।জন মাইক্যাল,রোজ এন এর দীর্ঘ এবং সিল্কী চুলের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ভাবতো এ মেয়েটি আমার।কিন্তু রোজ এন এমন ভাবতো না তা জন মাইক্যাল'র ভালোই জানা ছিল।ক্লাশ শেষে রোজ এন,জন মাইক্যালের দিকে এগিয়ে এসে একটু মিষ্টি হেসে আগের দিনের নোট চাইলো।সেদিন রোজ এন ক্লাশে অনুপস্থিত ছিলো।জন মাইক্যাল তাকে নোট গুলো দিয়ে দিলো।রোজ এন তাকে ধন্যবাদ জানালো আর কপোলে চুমু খেলো।জন মাইক্যাল তাকে বারবার বলতে চাইলো-"আমি তোমাকে জানতে চাই,শুধু বন্ধু হিসেবে থাকতে চাই না।আমি তোমাকে ভালোবাসি কিন্তু এ কথা আর বলা হলো না।এক আকাশ ভয়,লজ্জা,দিধা এসে ভর করলো জন মাইক্যালের কাঁধে।জন মাইক্যাল জানে না কেন এমন হয়।


তখন জন মাইক্যাল একাদশ গ্রেডে।ক্রমাগত ফোন বাজছে।জন মাইক্যাল ফোন ধরলো।অপর প্রান্তে সেই মেয়েটি 'রোজ এন' কাঁদছিল।খুব নিচু সরে কিছু হয়তো বলছিলো।জন মাইক্যালের কাছে তা স্পষ্ট নয়।রোজ এন একা থাকতে চাইছিল না।তাই জন মাইক্যাল কে কাছে ডাকলো।
জন মাইক্যাল গেলো।রোজ এর পাশের সোফায় বসলো।জন মাইক্যাল তার নরম চোখের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।মনে মনে জন মাইক্যাল বললো-তুমি আমার।

দু'ঘন্টা চলে গেল।একটি ছবি শেষ হলো।খাওয়া হলো তিন প্যাকেট চিপস্।দুই গ্লাস কোক।এক পর্যায়ে রোজ ঘুমাতে যেতে চাইলো।জন মাইক্যালের দিকে তাকিয়ে বললো-সঙ্গ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।কপোলে একে দিলো একটি চুমু।জন মাইক্যাল রোজ কে বলতে চাইলো-''আমি কেবল তোমার বন্ধু হয়ে থাকতে চাই না।আমি তোমাকে ভালোবাসি।কিন্তু তা আর বলা হয় না।এক আকাশ সংশয় ভয় তছনছ করে দেয় সবকিছু।জন মাইক্যাল জানে না কেন এমন হয়।

তখন জন মাইক্যাল সিনিয়র ইয়ারে।বার্ষিক নিত্যের আগের দিন রোজ জন মাইক্যালের কাছে এলো।বললো-আমার সঙ্গী অসুস্থ তাই তার পক্ষে নৃত্যে অংশ নেয়া সম্ভব নয়।
জন মাইক্যাল বললো-আমার সঙ্গী যোগাড় হয়নি তাই আমারও সেখানে যাওয়া হবে না।পরে তারা প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হলো-তারা দু'জনে একএে সেখানে যাবে "বন্ধু হিসেবে"।তাই তারা বার্ষিক নৃত্যে অংশ নিতে গেল।

তখন রাত।জন মাইক্যাল তার দরজায় দাঁড়িয়ে অবাক চোখে দেখছিল রোজ কে।রোজ হাসি মুখে তার সচ্ছ চোখ মেলে তাকিয়ে রইলো জন মাইক্যালের দিকে।জন মাইক্যাল মনে মনে বললো-তুমি আমার।কিন্তু রোজ কখনো জন কে এমন দৃষ্টিতে দেখেনি।জন মাইক্যালের তা জানা ছিল।এক পর্যায়ে রোজ বললো-আমার খুব চমৎকার সময় কেটেছে,ধন্যবাদ।এক টুকরো চুমুও দিল।জন মাইক্যাল বলতে চাইলো-আমি শুধু তোমার বন্ধু হয়ে থাকতে চাই না।আমি তোমাকে ভালোবাসি।কিন্তু তা আর বলা হলো না।এভাবে দিন গেল,সপ্তাহ গেল, মাস গেল।

সেদিন ছিল 'গ্র্যাজুয়েশন ডে' জন মাইক্যাল দেখলো রোজ এন তার ডিপ্লোমা নেয়ার জন্য উঠে গেল মঞ্চে।অসাধারন সুন্দর লাগছে।দেখতে যেন কোন মানবী নয়,স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে কোন পরী কিংবা দেবী প্রতিমা।জন মাইক্যাল তাকে নিজের করে পাওয়ার কথা ভাবলো।কিন্তু মেয়েটি কি তা ভাবছে তার ইঙ্গিত পাওয়া গেল না।জন মাইক্যাল জানে,রোজ তার মতো কখনো ভাবে না।সনদ পএ নিয়ে সবাই চলে যাওয়ার পরে রোজ,মাইক্যালের কাছে এসে হঠাৎ কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো রোজ।জন মাইক্যাল রোজ কে জড়িয়ে ধরলো।এক পর্যায়ে রোজ মাইক্যালের কাঁধ থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে বললো- তুমি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।তোমাকে ধন্যবাদ।চুমু দিয়ে রোজ বিদায় নিলো।
জন মাইক্যাল,রোজ কে বলতে চাইলো-আমি কেবল তোমার বন্ধু থাকতে চাই না,আমি তোমাকে ভালোবাসি।এক আকাশ লজ্জা,ভয়,সংশয় ভর করলো মাইক্যালের কাঁধে।কিছুই বলা হলো না।আমি জানি না কেন এমন হয়; জন ভাবলো।

আজ জন মাইক্যাল বসে আছে একটি চার্চের বেঞ্চিতে।সেই মেয়েটির বিয়ে হচ্ছে যার নাম রোজ এন।জন মাইক্যাল তাকে নিজের করে পেতে চেয়ে ছিল।কিন্তু রোজ তাকে কখনো তেমন চোখে দেখেনি।এটা জন মাইক্যালের জানা ছিল।

চার্চ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে জন মাইক্যাল কে দেখে রোজ অবাক হয়েছিল,কাছে এসে বললো-'তুমি এসেছ!ধন্যবাদ আসার জন্য'।তার পর কপোলে চুমু খেল।জন মাইক্যালের চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়ছে।জন মাইক্যাল তাকে বলতে চাইলো-আমি কেবল তোমার বন্ধু হয়ে থাকতে চাইনি।আমি তোমাকে ভালোবাসি।কিন্তু জন মাইক্যালের তা আর বলা হলো না।সংশয় ভয় দিধা।জন জানে না কেন এমন হলো।

অনেক বছর পরে।জন মাইক্যাল তাকিয়ে আছে একটি কফিনের দিকে।সেখানে সায়িত সেই মেয়েটি 'রোজ এন'।যাকে জন ভালোবেসেছিল কিন্তু কখনো বলা হয়নি।এবারো জন মাইক্যালের চোখ থেকে টপটপ করে জল পড়ছে।ভেজা চোখে জন আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।

অনেক পরে রোজ এনের একটি ডায়েরী পাওয়া যায়।যেটি সে লিখেছিল তার স্কুল জীবনে।সেই ডায়েরীতে লেখা রয়েছে-"আমি জন মাইক্যালের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি।মনে মনে ভাবি জন আমার শুধু আমার।কিন্তু জন আমাকে কখনোই এমন দৃষ্টিতে দেখে না।তা আমি ভালো করেই জানি।আমি তাকে বারবার বলতে চেয়েছি-আমি কেবল তোমার বন্ধু হয়ে থাকতে চাই না।আমি তোমাকে ভালোবাসি।কিন্তু আমার তা বলা হয়নি।অজানা এক ভুবনের সব লজ্জা,ভয়,শংকা যেন এসে ভর করে আমার কাঁধে।আমি জানি না কেন এমন হয়।আমি চাই জন আমাকে বলুক 'তোমাকে ভালোবাসি' আর আমিও বলি ভালোবাসি।কিন্তু কিছুই ঘটে না।শুধু চোখ দিয়ে গরিয়ে পড়ে অশ্রু"।


--------------------------------------------------------------------------------
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×