somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আত্ন কথন

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ বড়ো অদ্ভুত প্রানী।মানুষ কোনো দিন দেখেনি এমন দৃশ্যও কল্পনা করলে স্পষ্ট দেখতে পায়।যেমন আমার কথাই ধরা যাক-হিমি,হিমি কে আমি কোনো দিনও দেখিনি।কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই হিমি কে আমি দেখতে পাই।আহ্ কি মায়াময় একটি মুখ।তার কপোলের বিন্দু বিন্দু ঘাম ও যেন দেখতে পাই।মেয়েটার আবার খুব রাগ কিন্তু হাসিটা দারুন।মন ভরে যায়।আমি ঠিক করেছি এই মেয়েটাকেই বিয়ে করবো।
আমি আজ দুপুরে স্বপ্নে দেখলাম-হিমি আর আমি পাহাড়ের কাছে একটা জায়গায় চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বসে আছি।হিমি পড়েছে নীল শাড়ি।ছোট ছোট সাদা ফুলে ভরা।পাহাড়টা কি সবুজ।আর আকাশ গাঁঢ়ো নীল।আমাদের সামনে চানাচুর।চায়ের সঙ্গে চানাচুর খাচ্ছি।স্বপ্নে এই সব ব্যাপার কত সহজ ভাবেই না ঘটে যায়।

এখন অনেক রাত।আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাচ্ছি।আমি এই সব আবোল তাবোল কেন লিখছি?যা যা লিখি,আমি নিজেই তা প্রত্যক্ষ করি।মাঝে মাঝে সব কিছুই আমার অবিশ্বাস্য মনে হয়।মনে হয় আমার মাথায় দোষ আছে।জরের ঘোরে এই সব ঘটছে।কিন্তু আমি ভালো করেই জানি আমার মস্তিস্ক বিকৃ্তি ঘটেনি।তবে মনের মধ্যে বারবার হতাশা বোধ জাগে।ইচ্ছা করে মরে যাই।ঘুমোতে পারি না,খেতে পারি না,প্রিয় মানুষের সাথে কথা বলতে পারি না।এই জাতীয় অস্থিরতা ও হতাশা থেকে মুক্তি পাবার জন্য আমি লিখতে পছন্দ করি,এই আশায় যে, কেউ একদিন আমার লেখা পড়ে সব কিছুই ব্যাখা করবে।এমন অনেক হয়েছে,আজ যা রহস্য,কাল তা সহজ স্বাভাবিক সত্য।

আমার রাতে ঘুম আসে না।ব্যালকনিতে চেয়ার পেতে,হাতে বই নিয়ে বসে থাকি।আমি খুব বুজতে পারি হিমি'র জন্য বিষন্ন লাগে।মাথা দপদপ করতে থাকে।আমার নিজের উপর'ই খুব রাগ হয়।জানুয়ারী মাসের রাত।কনকন করে ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগছে।আজ কি সুন্দর জ্যোস্না হয়েছে।এতো পরিস্কার আলো যে মনে হয়-অনায়াসে এই আলোতেই বই পড়া যাবে।হঠাৎ হালকা মিষ্টি একটা গন্ধ নাকে আসে।মনে হচ্ছে হাজার হাজার ঝিঁ ঝিঁ পোকা কানের কাছে মিষ্টি একটা সুর গুন গুন করছে।
আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি?ইদানিং এই জাতীয় চিন্তা আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।হয়তো আর কিছু দিন এরকম থাকলে সত্যিই পাগল হয়ে যাব।ঠিক এরকম অবস্থায় কে যেন মিষ্টি করে বলে-একটু ধৈর্য্য ধরো,সব ঠিক হয়ে যাবে,আর অল্প সময় বাকি।স্পষ্ট গলার স্বর,নিঁখুত উচ্চারন।আমার শুনতে এবং বুঝতে একটুও অসুবিধা হয় না।আমার মনের সমস্ত শক্তি দিয়ে চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করি-তুমি কে?গলা দিয়ে আমার কোনো শব্দ বের হয় না।তবুও আমি বুঝতে পারি,কেউ একজন আমাকে স্বান্তনা দেয়,সেই নরম মিষ্টি গলায়।

আমার প্রচন্ড ক্ষিদে পেয়েছে।সমস্ত চিন্তা বাদ দিয়ে এখন আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে ক্ষুধা।ইদানিং মনে হচ্ছে আমার মস্তিস্কে কোনও অংশ ঠিক মতো কাজ করছেনা।অকেজো হয়ে গেছে।অবাস্তব সব কাহিনী ঘটছে।হঠাৎ তাকিয়ে দেখি হিমি,আমার প্রেমিকা।হাতে চায়ের কাপ নিয়ে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে।বাইরে কখন থেকে বৃষ্টি পড়ছে।আমি শুয়ে আছি আমার পরিচিত বিছানায়।আমার ঘর অগোছালো পড়ে আছে।ছোট বেলা থেকেই আমার ঘর অগোছালো।ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বই পএের জন্যই আরো বেশীই গোছালো লাগে।আগে মা মাঝে মাঝে গুছিয়ে দিতেন।

হিমি চায়ের কাপ হাতে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে থাকে,আমার দিকে।এই মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে হাজার বছর পার করে দেয়া যাবে। সেই চোখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করেই মনে হলো- এই মেয়েটি অন্য কেউ,এ হিমি নয়।যদিও সেই চোখ,সেই ঢেউ খেলানো বাদামী চুল,সেই তাকানো।আমি ভয়ে কাতর গলায় বললাম-তুমি কে? এই তুমি কে?দেখতে হিমি'র মতো হলেও তুমি হিমি নও।ভয় পেয়ে আমি মেয়েটির হাত ধরলাম।আর কি আশ্চর্য-মেয়েটি কে আমার খুব আপনজন বলে মনে হলো।হিমি'র মতো দেখতে মেয়েটি বললো- আমাকে তুমি হিমি বলেই ডাকবে।
আমার ইচ্ছা করে আমি যা বুঝি না হিমি'র কাছ থেকে বুঝে নিই।আমি চায়ে চুমুক দেই আর আঁড়চোখে তাকিয়ে দেখি হিমি অল্প অল্প হাসছে।আমার এই মুহূর্তে মেয়েটিকে সত্যি সত্যি হিমি বলেই ভাবতে ইচ্ছা করছে।আমার সবসময়ের সঙ্গী এই মেয়েটি,যার নাম হিমি।দীর্ঘ দিনের পরিচয়ে আমাদের খুব ঘনিষ্ঠতা তৈরী হয়েছে।মাঝে মাঝে আমার মনে হয়-হিমি আমার কল্পনা নয়;সত্যি সত্যি বাস্তব।এক দিন খুব সাহস করে চুমু দিলাম হিমি'র গালে।সে খুবই অবাক হয়ে গেলো।আমি খুব বুজতে পারি হিমি কতটা আন্তরিক!হিমি আমার পাশে নেই একথা আমি ভাবতেই পারি না।আমার সব ভালোবাসা নিয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়েছি হিমি'র দিকে।হিমি'র উপর আমার খুব ভরসা করতে ইচ্ছা করে।

আমি কি সব হাবি-জাবি লিখছি,নিজেই বিন্দু মাএ বুজতে পারছি না।এই রকম মুহুর্তেই হিমিকে আমার বেশী প্রয়োজন হয়ে পড়ে।সে সব কিছু আমাকে বুজিয়ে বলবে।আমার মাথায় তার মায়াময় হাত রাখবে।
এখনো প্রতিদিন উদভ্রান্তের মতো রাস্তায় রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে একসময় পথ হারিয়ে ফেলি।আমার কিছু ভালো লাগে না।সব কিছুই রহস্যময় মনে হয়।আমি হিমিকে চাই।এখন নিজেকে ছেড়ে দিয়েছি ভাগ্যের হাতে।খুব ক্লান্তি লাগে।শেষ বিকেলের লালচে আলো গাছের পাতায় চিকচিক করে।আমি ভেজা চোখে তাকিয়ে থাকি।সন্ধ্যায় আমার বুকের ভিতর হাহাকার করে উঠে।অচেনা অজানা এক গ্রহের সব শূন্যতা আমার বুকে ভর করে।
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×