"জনম জনম তব তরে কাঁদিব।
যতই ভাঙ্গিবে খেলা
ততই সাধিব।
তোমারি নাম গাহি
তোমারি প্রেম চাহি
ফিরে ফিরে নিতি তব চরনে আসিব।"
দিন দিন এমন হয়ে যাচ্ছি কেন আমি?অনেক ভাংচূর,অনেক জটিলতা,চেহারায় রুক্ষতার ছাপ।এত উদ্ধেগ,এত অশান্তি নিয়ে বেশী দিন বেঁচে থাকা যায় না।বুকের ভেতরটা ডিপ ডিপ করে সারাক্ষন।অদ্ভুত এক তেষ্টায় গলা বুক শুকিয়ে থাকে।আসলে কত গুলো ঘটনা আছে-যার লাগাম মানুষের হাতে থাকে না।
এখন আমি অনেক কিছু বুঝতে পারি।কেউ যখন সত্যি করে বলে ভালোবাসি,সেটা যেমন বুঝি,আবার কেউ যখন মিথ্যা করে বলে ভালোবাসি,সেটাও বুঝি।ইচ্ছে করে খালাশির চাকরি নিয়ে পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় চলে যাই হিমি কে নিয়ে।এক আকাশ আনন্দ নিয়ে রবিন সন ক্রুশোর মতো নির্জন দ্বীপে জীবন কাটিয়ে দেই।আমাজান বনের ভেতর সারাদিন ঘুরে বেড়াই।সন্ধ্যাবেলা সমুদ্রতীরে বালির বিছানায় শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে হিমিকে ভালোবাসার গল্প শুনাই।"যদি কোনোদিন যাই মেঘের ওপারে/তোমাকেও নেওয়া যেতে পারে/তারপরে পথ নেই/ফুটে আছে ফুলের প্রদীপ।"
আজ আমার মন ভালো নেই!কেউ আমাকে বুঝে না।আবার ভাবি,আমি এমন কেউ না যে আমাকে বুঝতে হবে।কিন্তু তার পরেও।এখন আমার হাতে অনেক সময়।তারপরও সারাটা দিন কি ব্যস্তই না থাকতে হয়!হিমিকে একটা চিঠি লেখা দরকার।আমি খুব বুঝতে পারছি আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না।হিমিকে বলে দিব- আমার উপর কোনো আশা করো না।আমি কারো কোনো স্বপ্ন পূরন করতে পারবো না।আসলে পৃথিবীতে কেউই খুব জরুরী নয়।যে যতই জরুরী ভাবুক নিজেকে,বা প্রিয়জনকে,তবু তাকে ছাড়াও চলে যায়।তবে খুব বুঝতে পারি এই পৃথিবীতে কিছুই টিকে থাকে না,কেবল ভালোবাসা ছাড়া।"পথ দেখাও হে স্নেহময় আলোক.../আমাকে স্থির রাখো/দূরের দৃশ্য আমার চাই না;/এক পা চলাই আমার যথেষ্ট।"
আমি প্রতি মুর্হুতে বোকামি আর প্রচুর ভুল করি।আমার সব ঝামেলার জন্য আগে আমি অন্য সকলকে দোষি করতাম,কিন্তু যত বয়স হচ্ছে,জ্ঞান লাভ করছি,আমি অনুধাবন করছি-সব দোষ আমার নিজেরই।আজ মধ্য রাত্রে হিমিকে ফোন করে বলবো- মানব মানবীর কাহিনী খুব পুরোনো।পৃথিবীর সেই প্রথম মানবী ও মানব থেকে শুরু হয়েছিল তাদের কাহিনী।এইসব কাহিনী বার বার বলা হচ্ছে।বলাই হয়ে যাচ্ছে কেবল।আজও মানব ও মানবী শুধু কাছে আসে,সরে যায়,কাছে আসে,সরে যায়,কাছে আসে...।ঘুম থেকে উঠার পর মনে হয়- আকাশের রং বদলে যাচ্ছে,বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে এসিদের গন্ধ।কী যেন হচ্ছে চারিদিকে!পৃথিবী বদলে যাচ্ছে আমার চারিদিকে!"বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান.../আমার প্রিয়ার ছায়া আকাশে আজ ভাসে.../বুঝি এলি যার অভিসারে.../মনে মনে দেখা হলো তারে...।"
আমার জীবনে একটা স্বপ্ন আছে।অনেক অপমান,ব্যর্থতা,কষ্ট,দুঃখ মুছে ফেলার স্বপ্ন।কাল রাতে স্বপ্নে দেখি- ঈশ্বর স্বর্গের চাবি আমার হাতে তুলে দিয়ে বলছেন-যা ইচ্ছে তাই করো!
হিমি শুধু পারে আমাকে মিথ্যা দোষারোপ করতে।আচ্ছা,আমার কি আন্তরিকতা নেই?ইচ্ছে করে এক লাফে গিয়ে হিমির সামনে গিয়ে দাঁড়াই।এই অবদমিত ইচ্ছা মনের মধ্যে আরও রাগ বাড়িয়ে দেয়।সত্য কথা বলতে কি হিমিকে এড়িয়ে চলার আমার কোনো শক্তিই নেই।বরং যেখানে যে অবস্থাতেই থাকি হিমিকে একটু দেখার জন্য একটু কথা বলার জন্য দিন রাত ব্যাকুল হয়েই থাকি।হিমির কাছ থেকে দূরে থাকার যন্তনা,আমি হিমিকে কি করে বোঝাই,কি করে হিমির কাছে নিজের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলি তা একদম জানি না বলেই তুমি নানা সন্দের মধ্যে থাকো।হিমির ভালোবাসাটুকু আমাকে ঘিরে আছে বলেই -আমার অনেকদিন বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করে।হিমি'ই আমার সব!অথচ হিমির উদ্ধেগ দূর করার কোনো কৌশল বা কায়দা'ই আমার জানা নেই।হিমির কাছে থেকেই জেনে নিতে হবে।
আমি একা একা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে পর পর দুটা সিগারেট শেষ করলাম।এখন মনে হচ্ছে আমার মতো নির্বোধ পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই।সেদিন রাতে স্বপ্নে দেখি,চারিদিকে ছোট বড় অনেক পাহাড়।জ্যোন্সা রাত।বেলী ফুলের মালা হাতে নিয়ে হিমি একা বসে আছে।হিমির ডান পাশে বিশাল একটা নদী।নদী আর আকাশ মিশে যেন এক হয়ে গেছে।আকাশের তারা গুলো খুব বেশী জ্বল জ্বল করছিল।বাতাসে হিমির চুল উড়ছে।এই যে হিমি আকাশের দিকে মুখ করে বসে আছে- কি যে সুন্দর লাগছে....!কিন্তু আমি ইচ্ছা করেই হিমির কাছে যাই না,মনে হলো-হিমির পাশে গিয়ে দাঁড়ালে,সব এলোমেলো হয়ে যাবে।তাই আমি দূর থেকেই হিমিকে দেখতে থাকি।
মনটা ছট ফট করে।অস্থিরতা বেড়ে যায়।বড় বেশী বিষন্ন লাগে বিশাল আকাশের নীচে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



