একটা কৌতুক দিয়ে লেখাটা শুরু করি - "অফিস থেকে বাড়ি ফিরে স্বামী বলল, ‘শুরু করার আগে ভাতটা দাও, খেয়ে নিই । স্ত্রী ভাত বেড়ে দিল । ভাত খেয়ে স্বামী ড্রয়িংরুমের সোফায় বসতে বসতে বলল, ‘শুরু করার আগে এক গ্লাস পানি দাও…বড্ড তেষ্টা পেয়েছে ।স্ত্রী পানি দিয়ে গেল । পানি খেতে খেতে স্বামী বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল । তারপর বলল, ‘শুরু করার আগে এক কাপ চা দাও না আমাকে । এইবার স্ত্রী গেল খেপে, ‘অ্যাই, পেয়েছ কী তুমি আমাকে, আমি তোমার চাকর ? অফিস থেকে ফিরে একটার পর একটা খালি অর্ডার মেরেই যাচ্ছ…নির্লজ্জ, অসভ্য, ছোটলোক, স্বার্থপর…স্বামী কানে তুলা গুঁজতে গুঁজতে বলে, ‘এই যে…শুরু হয়ে গেল ।
গতকাল রাত আড়াই টায় হঠাৎ মা খুব অসুস্থ হয়ে পরে । আমি মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই । বাসার কেউই জানতে পাড়লো না । দুপুরের হোটেল থেকে তরকারী এনে ভাত খেয়েছি । রাতে আবীর আলু ভর্তা আর ডাল রান্না করেছে । আমি ডিম ভেজেছি । ( খেতে খারাপ হয়নি । ) ইচ্ছা ছিল ঝামেলা না করে নুডুলস রান্না করি । মা কি হাসপাতালের খাবার খাবে নাকি বাসা থেকে রান্না করে দিয়ে আসব বুঝতে পারছি না । আব বা'র সাথেও যোগাযোগ করতে পারছি না । ( ইং ৬/৫/০৭ )
এখন বাজে রাত এক টা । একটু আগে জানতে পারলাম আমার ফুপা মারা গেছেন । পুরান ঢাকায় এই ফুপার বাসায় আমি অনেকদিন ছিলাম । তিনি আমাকে অনেক আদর করতেন । ফুপা'র জন্য খুব খারাপ লাগছে । আমি তাকে শেষ দেখা দেখতে যাবো না । গত দুই বছরে ফুপা'র সাথে আমার কোনো কথা হয়নি যদিও দেখা হয়েছে বেশ কয়েকবার । বিকেলে গেলাম চায়ের দোকানে । এই দোকান স্বামী স্ত্রী দুইজন মিলে পরিচালনা করেন । তাদের মুখের ভাষা খুবই অশালীন । ( ইং ২৭/০৭/০৭ )
সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটা সিনেমা দেখলাম । "হঠাৎ নীরার জন্য ।" নিউ মা্রকেট গেলাম জুতা কিনতে বিকেলে । আজ ২৬ রোজা শেষ হলো । ইফতারীরি সময় হওয়ার আগেই আমি ইফতারী খেয়ে ফেলি । আজও গোসল করা হয়নি । আগামীকাল আমার জন্মদিন । ভিজে ভিজে চায়ের দোকান থেকে বাসায় ফিরলাম । আকাশের অবস্থা ভালো না । বৃষ্টি হতে পারে । আজর আলী মাতব্বর এর বইটা খুঁজে পাচ্ছি না । কে নিয়েছে ? কে নিয়েছে ?? ( ইং ০৯/১০/০৭ )
একটা কৌতুক দিয়ে লেখাটা শুরু করে ছিলাম, আবার একটা কৌতুক দিয়েই লেখা টা শেষ করতে চাই- এক ধার্মিক ব্যক্তি আর এক নাস্তিক পাশাপাশি হাটছিল। ধার্মিক ব্যক্তি স্বভাবসুলভ পাশের ব্যক্তিটিকে নামাজ-রোজা এসবের ফজিলত বর্ননা শুরু করতেই নাস্তিক ব্যক্তির প্রশ্ন: আপনি আল্লাহরে বিশ্বাস করেন?
ধার্মিক ব্যক্তি একটু থতমত খেয়ে জবাব দেয়: হ্যা ।
নাস্তিক: কেন ?
ধার্মিক: বাহ, আমাদের সৃষ্টিকর্তা, আমাদের পালনকর্তাকে বিশ্বাস করবো না ?
নাস্তিক মহাশয় এবার একটা ব্যঙ্গ হাসি হেসে বললো: আপনি দেখেছেন কখনো আল্লাহকে ? আর, আল্লাহকে মানতে গেলে তো ভাগ্যকেও মানতে হয়- ভালো আর মন্দ তাহলে তো সবই আল্লাহরই কাজ- তাতে আমাদের কি কোন হাত আছে ?
নাস্তিকের প্রশ্ন দুটি শুনে ধার্মিক ব্যক্তি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর, হঠাৎ করেই একটা ইট তুলে- নাস্তিকের মাথায় মেরে বসলো ।
থানা-পুলিশ হয়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালো। বিচারক ধার্মিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনাকে ঐ ব্যক্তি দুটো প্রশ্ন করলো- আর আপনি তাকে এভাবে আঘাত করলেন ? বেচারি কত ব্যথা পেলো!
ধার্মিক ব্যক্তি: আমি তার দুটি প্রশ্নের জবাব এক ইট দিয়ে দিয়েছি ।
বিচারক: সেটা কিভাবে ? ধার্মিক ব্যক্তি: সে বলেছে যা দেখা যায় না,তা বিশ্বাস করা যায় না । তাহলে সে যে ব্যথা পাচ্ছে তা তো আপনি আমি কেউ দেখছিনা । সে শুধু অনুভব করছে।
বিচারক: আর, দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর ? ধার্মিক ব্যক্তি: ওটা তার কপালে লেখা ছিল।
(চলবে )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



