( ‘স্বয়ং ঈশ্বরের কাছেও যে বিষয়টি বিব্রতকর, তা হল ‘ঈশ্বরবিশ্বাস’। মানুষ একদিকে যেমন বিশ্বাস করে ঈশ্বর কল্পনাতীত নির্দয় অনেক শাস্তির পরিকল্পনা করে রেখেছেন, তেমনি অপরদিকে মনে করে তিনি তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ যে বিষয়টি অর্পণ করেছেন তা হল “জ্ঞান”। মানুষের ধারণামতে, তারা যদি ঈশ্বরের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ না হয়, তাঁর প্রতি সৎ না থাকে তবে এই “জ্ঞান” অবধারিতভাবে তাদেরকে নিরীশ্বরবাদী হতে বাধ্য করবে। এই বিষয়টি আমাকে এই উপসংহারে পৌঁছাতে প্রণোদিত করে যে, নাস্তিক এবং অজ্ঞেয়বাদীরাদেরকেই ঈশ্বর সবচেয়ে বেশি ভালবাসেন। কারণ তাদের মধ্যে জ্ঞানস্পৃহা রয়েছে, এরাই সেই দল ব্যক্তি যারা ঈশ্বরকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে’।)
এই মহাবিশ্বে যে আমাদের অজানা কত কিছু আছে আমরা তাও জানিনা । সময় হয়েছে চোখ মেলে দেখবার ,সময় হয়েছে মনের যত কৌতুহল নিবারণ করবার । আমাদের কৌতুহলী তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের তৃষ্ণা নিবারণের অন্য উপায়টি হল বিজ্ঞান। মহাবিশ্বের একটি বস্তু মলিকিউল বা পার্টিকেল হচ্ছে ডিএনএ । আমরা প্রায়ই সংবাদপত্রে ডিএনএ নিয়ে নানা সংবাদ শিরোনাম দেখি । কিন্তু খুব বেশি মানুষই ডিএনএ কী তা জানার জন্য মাথা ঘামাই না । অথচ মাথা থেকে পা পর্যন্ত আমাদের শরীরের সর্বত্র রয়েছে ডিএনএ’র সদর্প কারসাজি । যখন আমাদের শরীরে নতুন কোষের জন্ম হয়, পুরনো কোষের ডিএনএ নতুন কোষের ডিএনএ গঠন নির্দেশ করে। এমনকি একটি সরলতম প্রাণীতেও ডিএনএ’র নিউক্লিক অ্যাসিডগুলো এলোমেলো অনুক্রমে থাকে । একটি বানরকে কম্পিউটারের কি-বোর্ডে বসিয়ে দিলে যেমন এলোমেলোভাবে কী চেপে অক্ষর বসাবে ঠিক তেমনি । আমরা যখন মায়ের পেটে বেড়ে উঠতে শুরু করি, তার শুরু এক আউন্সেরও কম ওজনের একটি কোষ থেকে । পরে ক্রমান্বয়ে গঠিত হয় আমাদের বাহু, হাত, পা, পায়ের পাতা, মগজ, গুর্দা, ফুসফুস, যকৃৎ, পাকস্খলী যতক্ষণ না আমরা পরিপূর্ণ দেহরূপ পাই । একটি একক কোষ থেকে বেড়ে বহু কোষ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এ কাজ সম্পন্ন হয় ।
বিংশ শতাব্দির দ্বিতীয় দশকে আমোরিকার লসএঞ্জেলেসের মাউন্ট উহলসন মানমন্দিরে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডুইন হাবল ও মিলটন হুমাস গবেষণা করে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব (THE BAG BANG THEORY ) দাঁড় করান । সে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব অনুসারে আজ হতে পনের থেকে বিশ বিলিয়ন অর্থাৎ ১৫০০ থেকে ২০০০ কোটি কোটি বছর আগে [১০০ কোটি= এক বিলিয়ন] এই অদিম অগ্নিগোলকে এক প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন বিগ ব্যাং (BIG BANG) । পদার্থ বিজ্ঞানি স্টিফেন হকিং তার বিখ্যাত বই “A Brief History of Time” এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি নিয়ে পদার্থ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তার মন্তব্য তুলে ধরেন । অ্যারিস্টটলের সময়ে বিশুদ্ধ চিন্তা দিয়ে জগতের সকল রহস্যের সমাধান করার প্রচলন ছিল । শুধু চিন্তা দিয়ে যে জগতের রহস্যের কুলকিনারা পাওয়া যায় না সেটা বহুকাল পর গ্যালিলেও এসে প্রমাণ করলেন । অ্যারিস্টটল বলেছিলেন যে ভারী বস্তু হাল্কা বস্তুর তুলনায় দ্রুত মাটিতে পড়ে । কিন্তু হেলানো তলে বস্তু গড়িয়ে গ্যালিলেও প্রমাণ করেছিলেন যে মুক্তভাবে পতনশীল বস্তুর ত্বরণ ভর-নিরপেক্ষ। এই ত্বরণই অভিকর্ষজ ত্বরণ । চিন্তা সর্ঠিক কিনা তা যাচাই করে দেখার প্রয়োজনীয়তা দার্শনিক উপলব্ধি করেন নি, কিন্তু বিজ্ঞানী করেছিলেন । সেই থেকেই বিজ্ঞানের পথ দর্শনের থেকে আলাদা ।
আবূ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-যিনি সত্যবাদী ও যার কথাকে সত্য বলে মেনে নেয়া হয়-আমাদেরকে বলেছেনঃ তোমাদের সকলের সৃষ্টি নিজের মায়ের পেটে চল্লিশ দিন যাবৎ শুক্র রূপে জমা হওয়ার মাধ্যমে শুরু হতে থাকে, পরবর্তী চল্লিশ দিন জমাট বাঁধা রক্ত রূপে থাকে, পরবর্তী চল্লিশ দিন মাংসপিণ্ড রূপে থাকে, তারপর তার কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয় । অতঃপর সে তার মধ্যে রূহ প্রবেশ করায় এবং তাকে চারটি বিষয় লিখে দেয়ার জন্য হুকুম দেয়া হয়- তার রুজি, বয়স, কাজ এবং সে কি সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগ্যবান । অতএব, আল্লাহর কসম-যিনি ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই-তোমাদের মধ্যে একজন জান্নাতবাসীর মত কাজ করে- এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এ অবস্থায় তার ভাগ্য তার উপর প্রভাব বিস্তার করে বলে সে জাহান্নামবাসীর মত কাজ শুরু করে এবং তার ফলে তাতে প্রবেশ করে । এবং তোমাদের মধ্যে অপর এক ব্যক্তি জাহান্নামীদের মত কাজ শুরু করে দেয়- এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এ অবস্থায় তার ভাগ্য তার উপর প্রভাব বিস্তার করে বলে সে জান্নাতবাসীদের মত কাজ শুরু করে আর সে তাতে প্রবেশ করে ।
প্রতিটা ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোই অলৌকিকত্বের কাহিনীতে ভরপুর । দুর্গা দেবী কতৃক মহিষাসুর বধ, নূহের নৌকা দ্বারা সমগ্র জীবকূলকে বাঁচানো, কুমারী মেরীর গর্ভে যীশুর জন্ম- এগুলো ধর্মপ্রাণ মানুষ বিনাপ্রশ্নই মেনে নেয়, কিন্তু সন্দেহপ্রবণ মানুষকে এসব কাহিনী বিশ্বাস করাতে গেলে প্রমাণ দিতে হয় । রাহুল আর প্রবীরের বই পড়ে আমে হয়ে পড়েছিলাম পুরোদস্তুর সন্দেহবাদী, তাই এহেন অলৌকিকত্বকে আমার কাছে ঘটনার বদলে রটনা বলেই মনে হল । ডারউইনের অরিজিন অব স্পিসিস বইটার জগতময় আলোড়ন আজো থামেনি। একজন গবেষক হিসাবে না। একজন মানুষ হিসাবে ডারউইনরে যে পরিমাণ মানসিক সংকট আর শারীরিক দূরাবস্থা কাটাইতে হইছে তার ইতিহাস কেউ মনে রাখে না। নিজের বড়ো মেয়েক হারিয়ে, অনেক সংগ্রাম আর প্রতীক্ষার পরো মেয়েটাকে বাঁচাতে না পেরে, ঈশ্বর মানতো না যে ডারউইন সে-ই কি না মেয়ের সুস্থ্য হবার কামনায় চার্চে গিয়া মেয়ের জন্য প্রার্থণা করে । এসকল ঘটনা আসলে মানবিক জীবনের আড়ালের গোপনের হৃদয়ের কুঠুরিতে লুকানো বিষয় । অনেক বড়ো বড়ো আবিষ্কারের নিচে চাপা পড়ে যায় সেই আবিষ্কারের পিছনের ব্যক্তি মানুষটি। তার ক্রোধ, কান্না, হতাশা । ডারউইনের বউয়ের অবদানও হয়তো কেউ মনে রাখবে না অরিজিন অব স্পিসিস পড়তে গিয়ে । কিন্তু এত সকল কাহিনী নিয়েই জন এমিয়েল তৈরি করেছেন ক্রিয়েশন সিনেমাটা । ডারউইন চরিত্রে অভিনয় করেছেন পল বিটানি । ডারউইনের সময়ে বিজ্ঞানের অগ্রগতি আজকের মতো ছিল না। সে সময় জীবকোষকে অত্যন্ত সরল মনে করা হতো – ডিএনএ আবিষ্কার তো দূরের কথা ।
মনে করা যাক ৬০ মিনিট সমান ৩০ কোটি বছর, অর্থাৎ প্রতি মিনিট সমান ৫০ লক্ষ বছর । এখন কল্পনা করা যাক ঠিক রাত বারোটার সময় সৃষ্টিহল রহস্যময় এই পৃথিবীর, তখন পৃথিবী একটি আবর্তমান গ্যাসীয় বস্তুপিন্ড । কোথাও কোন প্রাণের চিহ্ন নেই, আর থাকার কথাও নয় কারণ ঐ ঘূর্ণায়মান বস্তুপিন্ডের তাপমাত্রা ছিল আনুমানিক দশ হাজার কোটি সেন্টিগ্রেড । আস্তে আস্তে এই আবর্তমান পৃথিবী শীতল হতে থাকে । এবং এক সময় তরল হতে হতে তা জমাট বেধেছে । তৈরি হয়েছে পৃথিবীর আদিমতম সমুদ্র । ফসিল প্রমান থেকে আমরা জেনেছি যে, এপ’ দের (Ape) ধারা থেকে আরডিপিথেকাস রামিডাস (Ardipithecus ramidus) এর ধারা পৃথক হয়ে গেছে প্রায় ৫০ লক্ষ বছর আগে। আরডিপিথেকাস রামিডাস থেকে কালের বিবর্তনে বর্তমান মানব প্রজাতির সৃষ্টি । মানুষ আর শিম্পাঞ্জির পূর্বপুরুষ কিন্তু একই। ৫০ লক্ষ বছর ধরে প্রাকৃতিক নির্বাচন (Genetic drift)), জেনেতিক ড্রিফটের (Genetic Drift) চাপে- মিউটেশন ও রেপ্লিকেশন এর কারনে শিম্পাঞ্জি ও মানুষের ডিএনএ-তে সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ পার্থক্য । আবার মানুষ আর ইঁদুরের ডিএনএ তে গড়ে ৮৫% মিল আছে । এভাবে ডিএনএ এর মিল-অমিলের মধ্যে তুলনা করে বলে দেওয়া যায় যে কোন প্রজাতি মানুষ প্রজাতির খুব কাছাকাছি ।
একটা শিশুর কোন ধর্ম থাকতে পারে না, কারণ একটা শিশুর পক্ষে ধর্ম কি তা উপলব্দ্ধি করা সম্ভব নয় । কিন্তু শিশুরাও ধর্ম পালন করে, কারণ তাদেরকে ধর্ম পালন করতে বাধ্য করা হয়।আমি কোন মুসলিম শিশুকে দেখিনি খুশিমনে, স্বইচ্ছায় নামাজ পড়তে; বরং ধর্মীয় আচারাদি পালনে শিশুদের মধ্যে তীব্র বিরক্তিবোধই বেশি দেখা যায় । তবে শৈশবে শিশুদের মধ্যে যে শিক্ষার সঞ্জার করা হয়, তা থেকে পরিণত বয়সেও তারা মুক্ত হতে পারে না । তাই শৈশবে যে শিশু বাধ্য হয়ে ধর্মীয় কর্ম পালন করে, বড়কালে সে স্বইচ্ছায় সেই কর্ম পালন করে যেতে থাকে । নাস্তিক হওয়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে শৈশবের শেখানো শিক্ষাগুলো থেকে মুক্ত হতে পারা, বলা বাহুল্য এটাই সবচেয়ে কঠিন ধাপ । কোরানের কথা আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু জীববিজ্ঞানে আমরা পড়েছি কিছু প্রাণী উভলিংগ হতে পারে, আবার অনেক প্রানী শ্রেফ শরীরের অংশ থেকে সন্তানের জন্ম দেয় ।
জাকির নায়েকের ভিডিও আমি খুব কমই দেখেছি । জাকির নায়েকের সেই ভিডিও দেখে, আমাদের ধর্মবিশ্বাস কি বেড়ে গেল ? যদি না যায়, তবে আমার মত হলো এসব বক্তব্য অপ্রয়োজনীয় । কোরানের কথা মতো আমরা বিশ্বাস করি আদম হচ্ছে সরাসরি প্রথম সৃষ্টি । এখন কোরানে আদমের গায়ের রঙ, উচ্চতা, স্বাস্থ্য এগুলো তো বলে দেয়া নাই (বা ধরুন আমি পাইনি)। তাহলে প্রশ্ন হলো, কেন আফ্রিকার মানুষ কালো, ইউরোপের সাদা, আমরা ইন্ডিয়ান উপমহাদেশের মানুষ সংকর, বা বিভিন্ন দ্বীপের লোকজন খুব শক্ত/বৃহৎ দেহের অধিকারী? কোরান এই প্রশ্নের উত্তর দেয় না। এরকম আরো সহস্র প্রশ্ন আছে যার উত্তর নেই। এখন কোরান বিশ্বাস করি বলে কি এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাবে না? কোরান তো স্রষ্টার সৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতেই বলে। ডারউইনের মতবাদ বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে । ১৯৫৯ সালে ডারউইন তাঁর “On the origin of species” নামক বইয়ে প্রাকৃতিক নির্বাচন বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেন । বলতে গেলে এর পর থেকেই বিবর্তনবাদ তত্ত্বটি কিছুটা হলেও গ্রহণযোগ্যতা পায় অল্প কিছু মানুষের কাছে ।
‘মানুষ জেলে যাওয়া বা ফাঁসির মঞ্চে ওঠাকে বিরাট হিম্মত মনে করে । সমাজের গোঁড়ামিকে ভেঙে তাদের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা, জেলে যাওয়া বা ফাঁসির মঞ্চে ওঠার চেয়ে ঢের বেশী সাহসের কাজ ।’এই মহাবিশ্বে যে আমাদের অজানা কত কিছু আছে আমরা তাও জানিনা । সময় হয়েছে চোখ মেলে দেখবার ,সময় হয়েছে মনের যত কৌতুহল নিবারণ করবার । আমাদের কৌতুহলী তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের তৃষ্ণা নিবারণের অন্য উপায়টি হল বিজ্ঞান। মহাবিশ্বের একটি বস্তু মলিকিউল বা পার্টিকেল হচ্ছে ডিএনএ । আমরা প্রায়ই সংবাদপত্রে ডিএনএ নিয়ে নানা সংবাদ শিরোনাম দেখি । কিন্তু খুব বেশি মানুষই ডিএনএ কী তা জানার জন্য মাথা ঘামাই না । অথচ মাথা থেকে পা পর্যন্ত আমাদের শরীরের সর্বত্র রয়েছে ডিএনএ’র সদর্প কারসাজি । যখন আমাদের শরীরে নতুন কোষের জন্ম হয়, পুরনো কোষের ডিএনএ নতুন কোষের ডিএনএ গঠন নির্দেশ করে। এমনকি একটি সরলতম প্রাণীতেও ডিএনএ’র নিউক্লিক অ্যাসিডগুলো এলোমেলো অনুক্রমে থাকে । একটি বানরকে কম্পিউটারের কি-বোর্ডে বসিয়ে দিলে যেমন এলোমেলোভাবে কী চেপে অক্ষর বসাবে ঠিক তেমনি । আমরা যখন মায়ের পেটে বেড়ে উঠতে শুরু করি, তার শুরু এক আউন্সেরও কম ওজনের একটি কোষ থেকে । পরে ক্রমান্বয়ে গঠিত হয় আমাদের বাহু, হাত, পা, পায়ের পাতা, মগজ, গুর্দা, ফুসফুস, যকৃৎ, পাকস্খলী যতক্ষণ না আমরা পরিপূর্ণ দেহরূপ পাই । একটি একক কোষ থেকে বেড়ে বহু কোষ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এ কাজ সম্পন্ন হয় ।
বিংশ শতাব্দির দ্বিতীয় দশকে আমোরিকার লসএঞ্জেলেসের মাউন্ট উহলসন মানমন্দিরে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডুইন হাবল ও মিলটন হুমাস গবেষণা করে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব (THE BAG BANG THEORY ) দাঁড় করান । সে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব অনুসারে আজ হতে পনের থেকে বিশ বিলিয়ন অর্থাৎ ১৫০০ থেকে ২০০০ কোটি কোটি বছর আগে [১০০ কোটি= এক বিলিয়ন] এই অদিম অগ্নিগোলকে এক প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন বিগ ব্যাং (BIG BANG) । পদার্থ বিজ্ঞানি স্টিফেন হকিং তার বিখ্যাত বই “A Brief History of Time” এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি নিয়ে পদার্থ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তার মন্তব্য তুলে ধরেন । অ্যারিস্টটলের সময়ে বিশুদ্ধ চিন্তা দিয়ে জগতের সকল রহস্যের সমাধান করার প্রচলন ছিল । শুধু চিন্তা দিয়ে যে জগতের রহস্যের কুলকিনারা পাওয়া যায় না সেটা বহুকাল পর গ্যালিলেও এসে প্রমাণ করলেন । অ্যারিস্টটল বলেছিলেন যে ভারী বস্তু হাল্কা বস্তুর তুলনায় দ্রুত মাটিতে পড়ে । কিন্তু হেলানো তলে বস্তু গড়িয়ে গ্যালিলেও প্রমাণ করেছিলেন যে মুক্তভাবে পতনশীল বস্তুর ত্বরণ ভর-নিরপেক্ষ। এই ত্বরণই অভিকর্ষজ ত্বরণ । চিন্তা সর্ঠিক কিনা তা যাচাই করে দেখার প্রয়োজনীয়তা দার্শনিক উপলব্ধি করেন নি, কিন্তু বিজ্ঞানী করেছিলেন । সেই থেকেই বিজ্ঞানের পথ দর্শনের থেকে আলাদা ।
আবূ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-যিনি সত্যবাদী ও যার কথাকে সত্য বলে মেনে নেয়া হয়-আমাদেরকে বলেছেনঃ তোমাদের সকলের সৃষ্টি নিজের মায়ের পেটে চল্লিশ দিন যাবৎ শুক্র রূপে জমা হওয়ার মাধ্যমে শুরু হতে থাকে, পরবর্তী চল্লিশ দিন জমাট বাঁধা রক্ত রূপে থাকে, পরবর্তী চল্লিশ দিন মাংসপিণ্ড রূপে থাকে, তারপর তার কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয় । অতঃপর সে তার মধ্যে রূহ প্রবেশ করায় এবং তাকে চারটি বিষয় লিখে দেয়ার জন্য হুকুম দেয়া হয়- তার রুজি, বয়স, কাজ এবং সে কি সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগ্যবান । অতএব, আল্লাহর কসম-যিনি ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই-তোমাদের মধ্যে একজন জান্নাতবাসীর মত কাজ করে- এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এ অবস্থায় তার ভাগ্য তার উপর প্রভাব বিস্তার করে বলে সে জাহান্নামবাসীর মত কাজ শুরু করে এবং তার ফলে তাতে প্রবেশ করে । এবং তোমাদের মধ্যে অপর এক ব্যক্তি জাহান্নামীদের মত কাজ শুরু করে দেয়- এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এ অবস্থায় তার ভাগ্য তার উপর প্রভাব বিস্তার করে বলে সে জান্নাতবাসীদের মত কাজ শুরু করে আর সে তাতে প্রবেশ করে ।
প্রতিটা ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোই অলৌকিকত্বের কাহিনীতে ভরপুর । দুর্গা দেবী কতৃক মহিষাসুর বধ, নূহের নৌকা দ্বারা সমগ্র জীবকূলকে বাঁচানো, কুমারী মেরীর গর্ভে যীশুর জন্ম- এগুলো ধর্মপ্রাণ মানুষ বিনাপ্রশ্নই মেনে নেয়, কিন্তু সন্দেহপ্রবণ মানুষকে এসব কাহিনী বিশ্বাস করাতে গেলে প্রমাণ দিতে হয় । রাহুল আর প্রবীরের বই পড়ে আমে হয়ে পড়েছিলাম পুরোদস্তুর সন্দেহবাদী, তাই এহেন অলৌকিকত্বকে আমার কাছে ঘটনার বদলে রটনা বলেই মনে হল । ডারউইনের অরিজিন অব স্পিসিস বইটার জগতময় আলোড়ন আজো থামেনি। একজন গবেষক হিসাবে না। একজন মানুষ হিসাবে ডারউইনরে যে পরিমাণ মানসিক সংকট আর শারীরিক দূরাবস্থা কাটাইতে হইছে তার ইতিহাস কেউ মনে রাখে না। নিজের বড়ো মেয়েক হারিয়ে, অনেক সংগ্রাম আর প্রতীক্ষার পরো মেয়েটাকে বাঁচাতে না পেরে, ঈশ্বর মানতো না যে ডারউইন সে-ই কি না মেয়ের সুস্থ্য হবার কামনায় চার্চে গিয়া মেয়ের জন্য প্রার্থণা করে । এসকল ঘটনা আসলে মানবিক জীবনের আড়ালের গোপনের হৃদয়ের কুঠুরিতে লুকানো বিষয় । অনেক বড়ো বড়ো আবিষ্কারের নিচে চাপা পড়ে যায় সেই আবিষ্কারের পিছনের ব্যক্তি মানুষটি। তার ক্রোধ, কান্না, হতাশা । ডারউইনের বউয়ের অবদানও হয়তো কেউ মনে রাখবে না অরিজিন অব স্পিসিস পড়তে গিয়ে । কিন্তু এত সকল কাহিনী নিয়েই জন এমিয়েল তৈরি করেছেন ক্রিয়েশন সিনেমাটা । ডারউইন চরিত্রে অভিনয় করেছেন পল বিটানি । ডারউইনের সময়ে বিজ্ঞানের অগ্রগতি আজকের মতো ছিল না। সে সময় জীবকোষকে অত্যন্ত সরল মনে করা হতো – ডিএনএ আবিষ্কার তো দূরের কথা ।
মনে করা যাক ৬০ মিনিট সমান ৩০ কোটি বছর, অর্থাৎ প্রতি মিনিট সমান ৫০ লক্ষ বছর । এখন কল্পনা করা যাক ঠিক রাত বারোটার সময় সৃষ্টিহল রহস্যময় এই পৃথিবীর, তখন পৃথিবী একটি আবর্তমান গ্যাসীয় বস্তুপিন্ড । কোথাও কোন প্রাণের চিহ্ন নেই, আর থাকার কথাও নয় কারণ ঐ ঘূর্ণায়মান বস্তুপিন্ডের তাপমাত্রা ছিল আনুমানিক দশ হাজার কোটি সেন্টিগ্রেড । আস্তে আস্তে এই আবর্তমান পৃথিবী শীতল হতে থাকে । এবং এক সময় তরল হতে হতে তা জমাট বেধেছে । তৈরি হয়েছে পৃথিবীর আদিমতম সমুদ্র । ফসিল প্রমান থেকে আমরা জেনেছি যে, এপ’ দের (Ape) ধারা থেকে আরডিপিথেকাস রামিডাস (Ardipithecus ramidus) এর ধারা পৃথক হয়ে গেছে প্রায় ৫০ লক্ষ বছর আগে। আরডিপিথেকাস রামিডাস থেকে কালের বিবর্তনে বর্তমান মানব প্রজাতির সৃষ্টি । মানুষ আর শিম্পাঞ্জির পূর্বপুরুষ কিন্তু একই। ৫০ লক্ষ বছর ধরে প্রাকৃতিক নির্বাচন (Genetic drift)), জেনেতিক ড্রিফটের (Genetic Drift) চাপে- মিউটেশন ও রেপ্লিকেশন এর কারনে শিম্পাঞ্জি ও মানুষের ডিএনএ-তে সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ পার্থক্য । আবার মানুষ আর ইঁদুরের ডিএনএ তে গড়ে ৮৫% মিল আছে । এভাবে ডিএনএ এর মিল-অমিলের মধ্যে তুলনা করে বলে দেওয়া যায় যে কোন প্রজাতি মানুষ প্রজাতির খুব কাছাকাছি ।
একটা শিশুর কোন ধর্ম থাকতে পারে না, কারণ একটা শিশুর পক্ষে ধর্ম কি তা উপলব্দ্ধি করা সম্ভব নয় । কিন্তু শিশুরাও ধর্ম পালন করে, কারণ তাদেরকে ধর্ম পালন করতে বাধ্য করা হয়।আমি কোন মুসলিম শিশুকে দেখিনি খুশিমনে, স্বইচ্ছায় নামাজ পড়তে; বরং ধর্মীয় আচারাদি পালনে শিশুদের মধ্যে তীব্র বিরক্তিবোধই বেশি দেখা যায় । তবে শৈশবে শিশুদের মধ্যে যে শিক্ষার সঞ্জার করা হয়, তা থেকে পরিণত বয়সেও তারা মুক্ত হতে পারে না । তাই শৈশবে যে শিশু বাধ্য হয়ে ধর্মীয় কর্ম পালন করে, বড়কালে সে স্বইচ্ছায় সেই কর্ম পালন করে যেতে থাকে । নাস্তিক হওয়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে শৈশবের শেখানো শিক্ষাগুলো থেকে মুক্ত হতে পারা, বলা বাহুল্য এটাই সবচেয়ে কঠিন ধাপ । কোরানের কথা আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু জীববিজ্ঞানে আমরা পড়েছি কিছু প্রাণী উভলিংগ হতে পারে, আবার অনেক প্রানী শ্রেফ শরীরের অংশ থেকে সন্তানের জন্ম দেয় ।
জাকির নায়েকের ভিডিও আমি খুব কমই দেখেছি । জাকির নায়েকের সেই ভিডিও দেখে, আমাদের ধর্মবিশ্বাস কি বেড়ে গেল ? যদি না যায়, তবে আমার মত হলো এসব বক্তব্য অপ্রয়োজনীয় । কোরানের কথা মতো আমরা বিশ্বাস করি আদম হচ্ছে সরাসরি প্রথম সৃষ্টি । এখন কোরানে আদমের গায়ের রঙ, উচ্চতা, স্বাস্থ্য এগুলো তো বলে দেয়া নাই (বা ধরুন আমি পাইনি)। তাহলে প্রশ্ন হলো, কেন আফ্রিকার মানুষ কালো, ইউরোপের সাদা, আমরা ইন্ডিয়ান উপমহাদেশের মানুষ সংকর, বা বিভিন্ন দ্বীপের লোকজন খুব শক্ত/বৃহৎ দেহের অধিকারী? কোরান এই প্রশ্নের উত্তর দেয় না। এরকম আরো সহস্র প্রশ্ন আছে যার উত্তর নেই। এখন কোরান বিশ্বাস করি বলে কি এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাবে না? কোরান তো স্রষ্টার সৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতেই বলে। ডারউইনের মতবাদ বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে । ১৯৫৯ সালে ডারউইন তাঁর “On the origin of species” নামক বইয়ে প্রাকৃতিক নির্বাচন বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেন । বলতে গেলে এর পর থেকেই বিবর্তনবাদ তত্ত্বটি কিছুটা হলেও গ্রহণযোগ্যতা পায় অল্প কিছু মানুষের কাছে ।
‘মানুষ জেলে যাওয়া বা ফাঁসির মঞ্চে ওঠাকে বিরাট হিম্মত মনে করে । সমাজের গোঁড়ামিকে ভেঙে তাদের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা, জেলে যাওয়া বা ফাঁসির মঞ্চে ওঠার চেয়ে ঢের বেশী সাহসের কাজ ।’ অনেক লেখকই মনে করেন যে, ঈশ্বর যেহেতু আমাদের সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং ঈশ্বরের প্রতি আমাদের কিছু বিশেষ দায়িত্ব পালন করা উচিত । জীবনকে আমাদের জন্য ঈশ্বরের সর্বোত্তম উপহার হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে । জীবন যে একটি অসামান্য উপহার, এর প্রমাণ(দাবিকৃত) হিসেবে অগণিত মানুষকে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে যারা জন্ম নিতে পেরে খুশি এবং বেঁচে থাকার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেও রাজি । ঈশ্বর শুধু আমাদেরকে জীবন নামক এই অসামান্য উপহারই প্রদান করেননি, উপরন্তু ঈশ্বরের সুনিপুণ নিয়ন্ত্রনের দ্ধারা সবকিছুর অস্তিত্ব বজায় থাকছে, যার দরুণ আমরা দিনের পর দিন বেঁচে থাকছি । এই ঐশ্বরিক শক্তি ব্যতীত আমরা সহ সমগ্র মহাবিশ্ব অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে । তাই নূন্যতম পরিমাণে হলেও এই অসাধারণ উপহারের জন্য ঈশ্বরের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত ।
আলোচিত ব্লগ
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।