somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

মৃত্যু সন্নিকটে

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মনে হয় আমি বেশি দিন বাঁচবো না। শুনেছি মৃত্যুর আগে মানুষ খাবারের কোনো স্বাদ পায় না। আমি ইদানিং কোনো খাবারের স্বাদ পাচ্ছি না। বাসায়- হোটেলে, আত্মীয় স্বজনের বাসায়। সব কিছুই কেমন মাটি মাটি লাগে। সুরভি'র রান্নার বেশ নামডাক আছে। ইদানিং তার রান্নাও আমার কাছে ভালো লাগে। বেচারি মন খারাপ করে। সুরভি যেন মন খারাপ না করে, আমি এমন ভাব দেখাই তরকারি খুব মজা হয়েছে। এক আকাশ আগ্রহ দেখিয়ে বলি- আমাকে আরেক চামচ দাও। সুরভি আমার অভিনয় ধরে ফেলে। গত তিন মাসে প্রায়'ই রাতে না খেয়ে ঘুমিয়েছি। তাতে একটা উপকার হয়েছে- ওজন কমেছে। যদিও আমি মোটা না। যাই হোক, এখন হুট করে মরে গেলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে সুরভি।

স্ট্রোক জিনিসটা কি?
স্বপ্নে দেখি স্ট্রোক করে মরে গেছি। তিন মাস ধরে শুধু স্বপ্নে দেখি আমি মরে গেছি। রাতে ঘুম ভালো হয় না। তন্দ্রার মতো একটু আসে তখনই বিকট সব দুঃস্বপ্ন দেখি। খুন, রক্ত, একসিডেন্ট। মৃত আত্মীয়স্বজন। স্ট্রোক করাটা আজকাল ডাল ভাত হয়ে গেছে। গতকাল খবর পেলাম আমার এক বন্ধু স্ট্রোক করে মরে গেছে। বয়স মাত্র ত্রিশ। সকালে নয়টায় অফিসে গেছে। নিজের টেবিলে বসেই কাজ করছিল। বেলা বারোটায় স্ট্রোক করে মরে গেল! আমারও মনে হয় এরকম কিছু হবে। মৃত্যুতে আমি ভয় পাই না। মরতে তো হবেই। কিন্তু জীবনের শখ আহ্লাদ কিছুই পূরন করতে পারলাম না। খুব শখ ছিল সুরভিকে নিয়ে আমস্টারডাম যাবো, বালি যাবো, গ্রান্ড ক্যানিয়ন যাবো।

সব চেয়ে বড় সত্য হলো- মানুষের মৃত্যু কোনো ঘটনাই না। ঘর থেকে বের হলে যে কোনো সময়, যে কেউ মরে যেতে পারে। নিজের চোখে দেখলাম- আজ সকালে মগবাজার মোড়ে এক বয়স্ক মহিলা বাসে উঠতে গিয়ে বাসের চাকার নিচে চলে গেল। ভয়াবহ অবস্থা। দোষটা বাস ড্রাইভারের। লোকজন ধাক্কাধাক্কি করে বাসে উঠছে কিন্তু বাসওয়ালা বাস থামায়নি। কখনও থামায়ও না। এভাবেই আমাদের প্রতিদিন দৌড়ে দৌড়ে বাসে উঠতে হয়। বয়স্ক মহিলা বাসের সাথে তাল মিলাতে পারেনি। মুহূর্তে রক্তে ভেসে গেল চারপাশ! কয়েক মাস আগের কথা বলি- তখন মৌচাক মগবাজার ফ্লাইওভারের কাজ চলছিল পুরোদমে। আমি অফিস শেষ করে হেটে হেটে বাসায় ফিরছি। হঠাত মৌচাক মোড়ে কয়েক মন ওজনের একটা লোহার খন্ড আমার একহাত দূরে দাপাশ করে পড়লো। আর এক পা আমি সামনে বাড়ালেই মোটা রোডের খন্ডটা আমার মাথার উপরে পড়তো। মুহূর্তের মধ্যে আমার মাথা থেতলে আমি মরে যেতাম। কাজেই ঘর থেকে বের হলে যে কোনো সময় মৃত্যু হতে পারে।

একদিন আমার মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করা হবে সারা শহর জুড়ে। কাজেই যদি কোনো কারনে মরেই যাই- তাই আপনাদের কাছ থেকে আগেই বিদায় নিয়ে রাখতে চাই। আসলে দীর্ঘদিন ধরে ব্লগে থাকতে-থাকতে আপনারা আমার আত্মার আত্মীয় হয়ে গেছেন। একসময় ম্যাট্রিক পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুরব্বিদের সালাম করতো আর দোয়া চাইতো। আমি যদি হুট করে মরেই যাই- তাই আগে ভাগে আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম। অনেক সময় ব্লগে কঠিন মন্তব্য করেছি। অনেকের মন্তব্যের উত্তর দেইনি। নানান ভাবে অনেক ব্লগারকে হয়তো কষ্ট দিয়েছি। যে কনো লেখার সাথে অকারনেই নিজের ছবি দিয়ে আপনার বিরক্ত করেছি। তাই আমার সকল ভুল কর্মকান্ডের জন্য আমি ক্ষমাপ্রারথী। দয়া করে আমার কথা গুলো সস্তা আবেগের কথা ভেবে উড়াইয়ায়া দিবেন না। আপনারা সকলে ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। জয় বাংলা।

রবীন্দ্রনাথ দিয়ে শেষ করি-

সব তর্ক হোক শেষ ,
সব রাগ সব দ্বেষ ,
সকল বালাই ।
বলো শান্তি , বলো শান্তি ,
দেহ-সাথে সব ক্লান্তি
পুড়ে হোক ছাই ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:০৪
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাজিন আহমেদ আর মিডিয়ার প্রতি ক্ষোভিত ভালোবাসা

লিখেছেন মাহফুজ, ২৪ শে মে, ২০১৮ ভোর ৫:৪১




তাজিন আহমেদ। একসময়ের বেশ জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবরতো আমাদের অজানা নয় কিন্তু আমরা কি জানতাম তার অর্থনৈতিক দৈন্যদশার কথা?

কেউ জানতেন কি না জানিনা তবে আমি জানতামনা। তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের ভিআইপি সংস্কৃতি ও নাগরিক অধিকার (ফিচার)

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ২৪ শে মে, ২০১৮ দুপুর ২:৪২


কয়েকদি আগে দেশের জনপ্রিয় একটি জাতীয় পত্রিকায় নিউজ পড়ে আৎকে উঠলাম। সংবাদটি এরকম; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জরুরী সেবার যানবাহন ও ভিআইপিদের চলাচলের জন্য রাজধানীর রাজপথে আলাদা লেন করতে সড়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

✿✿✿ লেটস ফাইট উইথ কাটাপ্পা চাঁদগাজী অ্যান্ড হিজ গিনিপিগ সোলডার্স!!X(

লিখেছেন মো: নিজাম উদ্দিন মন্ডল, ২৪ শে মে, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৪


সব কিছু নষ্টদের দখলেঃ
"এদের ২ জনের(দুই নেত্রী) সমাপ্তিও দেশকে লাইনে আনতে পারবে না; মানুষকে নিজেদের অধিকারের জন্য এক হতে হবে; না হয়, শেখ হাসিনার যায়গায়, কেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখক দ্বন্দে ছন্দ আসে

লিখেছেন পবন সরকার, ২৪ শে মে, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৭


উৎসর্গঃ চাঁদগাজী আর নুরু ভাই

লাগ ভেলকি লাগ চোখে মুখে লাগ
নুরু ভাই আর গাজী
মামুনকে নিয়ে এই ব্লগে
ধরেছে চরম বাজি।

একজন কয় খুব ভালো লেখেন
আরেকজন কয় মন্দ
এই নিয়ে তো তাদের মধ্যে
শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের স্মৃতি – ১

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৪ শে মে, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩১

ঠিক কত বছর বয়সে রমজানের প্রথম রোযাটা রেখেছিলাম, তা আজ সঠিক মনে নেই। অনুমান করি, ৬/৭ বছর হবে। আরো আগে থেকেই এ ব্যাপারে উৎসাহী ছিলাম, কিন্তু আম্মা রাখতে দেন নি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×