somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আমার তোলা কিছু ছবি
ইট ভাটার শ্রমিকের দুই ছেলে ।


ভুলগুলো যদি ফুল হয়ে যেত !


মেঘনা নদী।


হে কাক কালো কাক !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29539603 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29539603 2012-02-12 14:40:35
ফুলের কাছে ফুল চাই না পাখির কাছে গান চাই আশা আনন্দের বেদনা
গানিতিক অস্থিরতা সমস্তই ভুলে যেতে যাই
কিছু শূন্যতা বুকে বড় বেশী বাজে- অমোঘ নিষ্ঠুর
বলতে পারিনা আনন্দময় কিছু শব্দ তোমাদের মত করে
আকাশের দিকে তাকিয়ে বলি শব্দ দাও রাশি রাশি সরস্বতী ।
দৈনিক পত্রিকায় দেখি বিক্ষত ছবি- বুঝি, চলছে দুঃসময়
চারিদিকে বিক্ষিপ্ত বিষাক্ত নখের শেয়াল কুকুর- যায় হারিয়ে চাঁদ
আমি দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ স্বপ্ন দেখি]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29539308 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29539308 2012-02-11 23:54:30
মতবাদ
এই মহাবিশ্বে যে আমাদের অজানা কত কিছু আছে আমরা তাও জানিনা । সময় হয়েছে চোখ মেলে দেখবার ,সময় হয়েছে মনের যত কৌতুহল নিবারণ করবার । আমাদের কৌতুহলী তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের তৃষ্ণা নিবারণের অন্য উপায়টি হল বিজ্ঞান। মহাবিশ্বের একটি বস্তু মলিকিউল বা পার্টিকেল হচ্ছে ডিএনএ । আমরা প্রায়ই সংবাদপত্রে ডিএনএ নিয়ে নানা সংবাদ শিরোনাম দেখি । কিন্তু খুব বেশি মানুষই ডিএনএ কী তা জানার জন্য মাথা ঘামাই না । অথচ মাথা থেকে পা পর্যন্ত আমাদের শরীরের সর্বত্র রয়েছে ডিএনএ’র সদর্প কারসাজি । যখন আমাদের শরীরে নতুন কোষের জন্ম হয়, পুরনো কোষের ডিএনএ নতুন কোষের ডিএনএ গঠন নির্দেশ করে। এমনকি একটি সরলতম প্রাণীতেও ডিএনএ’র নিউক্লিক অ্যাসিডগুলো এলোমেলো অনুক্রমে থাকে । একটি বানরকে কম্পিউটারের কি-বোর্ডে বসিয়ে দিলে যেমন এলোমেলোভাবে কী চেপে অক্ষর বসাবে ঠিক তেমনি । আমরা যখন মায়ের পেটে বেড়ে উঠতে শুরু করি, তার শুরু এক আউন্সেরও কম ওজনের একটি কোষ থেকে । পরে ক্রমান্বয়ে গঠিত হয় আমাদের বাহু, হাত, পা, পায়ের পাতা, মগজ, গুর্দা, ফুসফুস, যকৃৎ, পাকস্খলী যতক্ষণ না আমরা পরিপূর্ণ দেহরূপ পাই । একটি একক কোষ থেকে বেড়ে বহু কোষ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এ কাজ সম্পন্ন হয় ।

বিংশ শতাব্দির দ্বিতীয় দশকে আমোরিকার লসএঞ্জেলেসের মাউন্ট উহলসন মানমন্দিরে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডুইন হাবল ও মিলটন হুমাস গবেষণা করে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব (THE BAG BANG THEORY ) দাঁড় করান । সে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব অনুসারে আজ হতে পনের থেকে বিশ বিলিয়ন অর্থাৎ ১৫০০ থেকে ২০০০ কোটি কোটি বছর আগে [১০০ কোটি= এক বিলিয়ন] এই অদিম অগ্নিগোলকে এক প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন বিগ ব্যাং (BIG BANG) । পদার্থ বিজ্ঞানি স্টিফেন হকিং তার বিখ্যাত বই “A Brief History of Time” এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি নিয়ে পদার্থ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তার মন্তব্য তুলে ধরেন । অ্যারিস্টটলের সময়ে বিশুদ্ধ চিন্তা দিয়ে জগতের সকল রহস্যের সমাধান করার প্রচলন ছিল । শুধু চিন্তা দিয়ে যে জগতের রহস্যের কুলকিনারা পাওয়া যায় না সেটা বহুকাল পর গ্যালিলেও এসে প্রমাণ করলেন । অ্যারিস্টটল বলেছিলেন যে ভারী বস্তু হাল্কা বস্তুর তুলনায় দ্রুত মাটিতে পড়ে । কিন্তু হেলানো তলে বস্তু গড়িয়ে গ্যালিলেও প্রমাণ করেছিলেন যে মুক্তভাবে পতনশীল বস্তুর ত্বরণ ভর-নিরপেক্ষ। এই ত্বরণই অভিকর্ষজ ত্বরণ । চিন্তা সর্ঠিক কিনা তা যাচাই করে দেখার প্রয়োজনীয়তা দার্শনিক উপলব্ধি করেন নি, কিন্তু বিজ্ঞানী করেছিলেন । সেই থেকেই বিজ্ঞানের পথ দর্শনের থেকে আলাদা ।

আবূ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-যিনি সত্যবাদী ও যার কথাকে সত্য বলে মেনে নেয়া হয়-আমাদেরকে বলেছেনঃ তোমাদের সকলের সৃষ্টি নিজের মায়ের পেটে চল্লিশ দিন যাবৎ শুক্র রূপে জমা হওয়ার মাধ্যমে শুরু হতে থাকে, পরবর্তী চল্লিশ দিন জমাট বাঁধা রক্ত রূপে থাকে, পরবর্তী চল্লিশ দিন মাংসপিণ্ড রূপে থাকে, তারপর তার কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয় । অতঃপর সে তার মধ্যে রূহ প্রবেশ করায় এবং তাকে চারটি বিষয় লিখে দেয়ার জন্য হুকুম দেয়া হয়- তার রুজি, বয়স, কাজ এবং সে কি সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগ্যবান । অতএব, আল্লাহর কসম-যিনি ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই-তোমাদের মধ্যে একজন জান্নাতবাসীর মত কাজ করে- এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এ অবস্থায় তার ভাগ্য তার উপর প্রভাব বিস্তার করে বলে সে জাহান্নামবাসীর মত কাজ শুরু করে এবং তার ফলে তাতে প্রবেশ করে । এবং তোমাদের মধ্যে অপর এক ব্যক্তি জাহান্নামীদের মত কাজ শুরু করে দেয়- এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এ অবস্থায় তার ভাগ্য তার উপর প্রভাব বিস্তার করে বলে সে জান্নাতবাসীদের মত কাজ শুরু করে আর সে তাতে প্রবেশ করে ।

প্রতিটা ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোই অলৌকিকত্বের কাহিনীতে ভরপুর । দুর্গা দেবী কতৃক মহিষাসুর বধ, নূহের নৌকা দ্বারা সমগ্র জীবকূলকে বাঁচানো, কুমারী মেরীর গর্ভে যীশুর জন্ম- এগুলো ধর্মপ্রাণ মানুষ বিনাপ্রশ্নই মেনে নেয়, কিন্তু সন্দেহপ্রবণ মানুষকে এসব কাহিনী বিশ্বাস করাতে গেলে প্রমাণ দিতে হয় । রাহুল আর প্রবীরের বই পড়ে আমে হয়ে পড়েছিলাম পুরোদস্তুর সন্দেহবাদী, তাই এহেন অলৌকিকত্বকে আমার কাছে ঘটনার বদলে রটনা বলেই মনে হল । ডারউইনের অরিজিন অব স্পিসিস বইটার জগতময় আলোড়ন আজো থামেনি। একজন গবেষক হিসাবে না। একজন মানুষ হিসাবে ডারউইনরে যে পরিমাণ মানসিক সংকট আর শারীরিক দূরাবস্থা কাটাইতে হইছে তার ইতিহাস কেউ মনে রাখে না। নিজের বড়ো মেয়েক হারিয়ে, অনেক সংগ্রাম আর প্রতীক্ষার পরো মেয়েটাকে বাঁচাতে না পেরে, ঈশ্বর মানতো না যে ডারউইন সে-ই কি না মেয়ের সুস্থ্য হবার কামনায় চার্চে গিয়া মেয়ের জন্য প্রার্থণা করে । এসকল ঘটনা আসলে মানবিক জীবনের আড়ালের গোপনের হৃদয়ের কুঠুরিতে লুকানো বিষয় । অনেক বড়ো বড়ো আবিষ্কারের নিচে চাপা পড়ে যায় সেই আবিষ্কারের পিছনের ব্যক্তি মানুষটি। তার ক্রোধ, কান্না, হতাশা । ডারউইনের বউয়ের অবদানও হয়তো কেউ মনে রাখবে না অরিজিন অব স্পিসিস পড়তে গিয়ে । কিন্তু এত সকল কাহিনী নিয়েই জন এমিয়েল তৈরি করেছেন ক্রিয়েশন সিনেমাটা । ডারউইন চরিত্রে অভিনয় করেছেন পল বিটানি । ডারউইনের সময়ে বিজ্ঞানের অগ্রগতি আজকের মতো ছিল না। সে সময় জীবকোষকে অত্যন্ত সরল মনে করা হতো – ডিএনএ আবিষ্কার তো দূরের কথা ।

মনে করা যাক ৬০ মিনিট সমান ৩০ কোটি বছর, অর্থাৎ প্রতি মিনিট সমান ৫০ লক্ষ বছর । এখন কল্পনা করা যাক ঠিক রাত বারোটার সময় সৃষ্টিহল রহস্যময় এই পৃথিবীর, তখন পৃথিবী একটি আবর্তমান গ্যাসীয় বস্তুপিন্ড । কোথাও কোন প্রাণের চিহ্ন নেই, আর থাকার কথাও নয় কারণ ঐ ঘূর্ণায়মান বস্তুপিন্ডের তাপমাত্রা ছিল আনুমানিক দশ হাজার কোটি সেন্টিগ্রেড । আস্তে আস্তে এই আবর্তমান পৃথিবী শীতল হতে থাকে । এবং এক সময় তরল হতে হতে তা জমাট বেধেছে । তৈরি হয়েছে পৃথিবীর আদিমতম সমুদ্র । ফসিল প্রমান থেকে আমরা জেনেছি যে, এপ’ দের (Ape) ধারা থেকে আরডিপিথেকাস রামিডাস (Ardipithecus ramidus) এর ধারা পৃথক হয়ে গেছে প্রায় ৫০ লক্ষ বছর আগে। আরডিপিথেকাস রামিডাস থেকে কালের বিবর্তনে বর্তমান মানব প্রজাতির সৃষ্টি । মানুষ আর শিম্পাঞ্জির পূর্বপুরুষ কিন্তু একই। ৫০ লক্ষ বছর ধরে প্রাকৃতিক নির্বাচন (Genetic drift)), জেনেতিক ড্রিফটের (Genetic Drift) চাপে- মিউটেশন ও রেপ্লিকেশন এর কারনে শিম্পাঞ্জি ও মানুষের ডিএনএ-তে সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ পার্থক্য । আবার মানুষ আর ইঁদুরের ডিএনএ তে গড়ে ৮৫% মিল আছে । এভাবে ডিএনএ এর মিল-অমিলের মধ্যে তুলনা করে বলে দেওয়া যায় যে কোন প্রজাতি মানুষ প্রজাতির খুব কাছাকাছি ।

একটা শিশুর কোন ধর্ম থাকতে পারে না, কারণ একটা শিশুর পক্ষে ধর্ম কি তা উপলব্দ্ধি করা সম্ভব নয় । কিন্তু শিশুরাও ধর্ম পালন করে, কারণ তাদেরকে ধর্ম পালন করতে বাধ্য করা হয়।আমি কোন মুসলিম শিশুকে দেখিনি খুশিমনে, স্বইচ্ছায় নামাজ পড়তে; বরং ধর্মীয় আচারাদি পালনে শিশুদের মধ্যে তীব্র বিরক্তিবোধই বেশি দেখা যায় । তবে শৈশবে শিশুদের মধ্যে যে শিক্ষার সঞ্জার করা হয়, তা থেকে পরিণত বয়সেও তারা মুক্ত হতে পারে না । তাই শৈশবে যে শিশু বাধ্য হয়ে ধর্মীয় কর্ম পালন করে, বড়কালে সে স্বইচ্ছায় সেই কর্ম পালন করে যেতে থাকে । নাস্তিক হওয়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে শৈশবের শেখানো শিক্ষাগুলো থেকে মুক্ত হতে পারা, বলা বাহুল্য এটাই সবচেয়ে কঠিন ধাপ । কোরানের কথা আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু জীববিজ্ঞানে আমরা পড়েছি কিছু প্রাণী উভলিংগ হতে পারে, আবার অনেক প্রানী শ্রেফ শরীরের অংশ থেকে সন্তানের জন্ম দেয় ।

জাকির নায়েকের ভিডিও আমি খুব কমই দেখেছি । জাকির নায়েকের সেই ভিডিও দেখে, আমাদের ধর্মবিশ্বাস কি বেড়ে গেল ? যদি না যায়, তবে আমার মত হলো এসব বক্তব্য অপ্রয়োজনীয় । কোরানের কথা মতো আমরা বিশ্বাস করি আদম হচ্ছে সরাসরি প্রথম সৃষ্টি । এখন কোরানে আদমের গায়ের রঙ, উচ্চতা, স্বাস্থ্য এগুলো তো বলে দেয়া নাই (বা ধরুন আমি পাইনি)। তাহলে প্রশ্ন হলো, কেন আফ্রিকার মানুষ কালো, ইউরোপের সাদা, আমরা ইন্ডিয়ান উপমহাদেশের মানুষ সংকর, বা বিভিন্ন দ্বীপের লোকজন খুব শক্ত/বৃহৎ দেহের অধিকারী? কোরান এই প্রশ্নের উত্তর দেয় না। এরকম আরো সহস্র প্রশ্ন আছে যার উত্তর নেই। এখন কোরান বিশ্বাস করি বলে কি এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাবে না? কোরান তো স্রষ্টার সৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতেই বলে। ডারউইনের মতবাদ বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে । ১৯৫৯ সালে ডারউইন তাঁর “On the origin of species” নামক বইয়ে প্রাকৃতিক নির্বাচন বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেন । বলতে গেলে এর পর থেকেই বিবর্তনবাদ তত্ত্বটি কিছুটা হলেও গ্রহণযোগ্যতা পায় অল্প কিছু মানুষের কাছে ।

‘মানুষ জেলে যাওয়া বা ফাঁসির মঞ্চে ওঠাকে বিরাট হিম্মত মনে করে । সমাজের গোঁড়ামিকে ভেঙে তাদের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা, জেলে যাওয়া বা ফাঁসির মঞ্চে ওঠার চেয়ে ঢের বেশী সাহসের কাজ ।’এই মহাবিশ্বে যে আমাদের অজানা কত কিছু আছে আমরা তাও জানিনা । সময় হয়েছে চোখ মেলে দেখবার ,সময় হয়েছে মনের যত কৌতুহল নিবারণ করবার । আমাদের কৌতুহলী তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের তৃষ্ণা নিবারণের অন্য উপায়টি হল বিজ্ঞান। মহাবিশ্বের একটি বস্তু মলিকিউল বা পার্টিকেল হচ্ছে ডিএনএ । আমরা প্রায়ই সংবাদপত্রে ডিএনএ নিয়ে নানা সংবাদ শিরোনাম দেখি । কিন্তু খুব বেশি মানুষই ডিএনএ কী তা জানার জন্য মাথা ঘামাই না । অথচ মাথা থেকে পা পর্যন্ত আমাদের শরীরের সর্বত্র রয়েছে ডিএনএ’র সদর্প কারসাজি । যখন আমাদের শরীরে নতুন কোষের জন্ম হয়, পুরনো কোষের ডিএনএ নতুন কোষের ডিএনএ গঠন নির্দেশ করে। এমনকি একটি সরলতম প্রাণীতেও ডিএনএ’র নিউক্লিক অ্যাসিডগুলো এলোমেলো অনুক্রমে থাকে । একটি বানরকে কম্পিউটারের কি-বোর্ডে বসিয়ে দিলে যেমন এলোমেলোভাবে কী চেপে অক্ষর বসাবে ঠিক তেমনি । আমরা যখন মায়ের পেটে বেড়ে উঠতে শুরু করি, তার শুরু এক আউন্সেরও কম ওজনের একটি কোষ থেকে । পরে ক্রমান্বয়ে গঠিত হয় আমাদের বাহু, হাত, পা, পায়ের পাতা, মগজ, গুর্দা, ফুসফুস, যকৃৎ, পাকস্খলী যতক্ষণ না আমরা পরিপূর্ণ দেহরূপ পাই । একটি একক কোষ থেকে বেড়ে বহু কোষ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এ কাজ সম্পন্ন হয় ।

বিংশ শতাব্দির দ্বিতীয় দশকে আমোরিকার লসএঞ্জেলেসের মাউন্ট উহলসন মানমন্দিরে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডুইন হাবল ও মিলটন হুমাস গবেষণা করে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব (THE BAG BANG THEORY ) দাঁড় করান । সে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব অনুসারে আজ হতে পনের থেকে বিশ বিলিয়ন অর্থাৎ ১৫০০ থেকে ২০০০ কোটি কোটি বছর আগে [১০০ কোটি= এক বিলিয়ন] এই অদিম অগ্নিগোলকে এক প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন বিগ ব্যাং (BIG BANG) । পদার্থ বিজ্ঞানি স্টিফেন হকিং তার বিখ্যাত বই “A Brief History of Time” এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি নিয়ে পদার্থ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তার মন্তব্য তুলে ধরেন । অ্যারিস্টটলের সময়ে বিশুদ্ধ চিন্তা দিয়ে জগতের সকল রহস্যের সমাধান করার প্রচলন ছিল । শুধু চিন্তা দিয়ে যে জগতের রহস্যের কুলকিনারা পাওয়া যায় না সেটা বহুকাল পর গ্যালিলেও এসে প্রমাণ করলেন । অ্যারিস্টটল বলেছিলেন যে ভারী বস্তু হাল্কা বস্তুর তুলনায় দ্রুত মাটিতে পড়ে । কিন্তু হেলানো তলে বস্তু গড়িয়ে গ্যালিলেও প্রমাণ করেছিলেন যে মুক্তভাবে পতনশীল বস্তুর ত্বরণ ভর-নিরপেক্ষ। এই ত্বরণই অভিকর্ষজ ত্বরণ । চিন্তা সর্ঠিক কিনা তা যাচাই করে দেখার প্রয়োজনীয়তা দার্শনিক উপলব্ধি করেন নি, কিন্তু বিজ্ঞানী করেছিলেন । সেই থেকেই বিজ্ঞানের পথ দর্শনের থেকে আলাদা ।

আবূ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-যিনি সত্যবাদী ও যার কথাকে সত্য বলে মেনে নেয়া হয়-আমাদেরকে বলেছেনঃ তোমাদের সকলের সৃষ্টি নিজের মায়ের পেটে চল্লিশ দিন যাবৎ শুক্র রূপে জমা হওয়ার মাধ্যমে শুরু হতে থাকে, পরবর্তী চল্লিশ দিন জমাট বাঁধা রক্ত রূপে থাকে, পরবর্তী চল্লিশ দিন মাংসপিণ্ড রূপে থাকে, তারপর তার কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয় । অতঃপর সে তার মধ্যে রূহ প্রবেশ করায় এবং তাকে চারটি বিষয় লিখে দেয়ার জন্য হুকুম দেয়া হয়- তার রুজি, বয়স, কাজ এবং সে কি সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগ্যবান । অতএব, আল্লাহর কসম-যিনি ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই-তোমাদের মধ্যে একজন জান্নাতবাসীর মত কাজ করে- এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এ অবস্থায় তার ভাগ্য তার উপর প্রভাব বিস্তার করে বলে সে জাহান্নামবাসীর মত কাজ শুরু করে এবং তার ফলে তাতে প্রবেশ করে । এবং তোমাদের মধ্যে অপর এক ব্যক্তি জাহান্নামীদের মত কাজ শুরু করে দেয়- এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এ অবস্থায় তার ভাগ্য তার উপর প্রভাব বিস্তার করে বলে সে জান্নাতবাসীদের মত কাজ শুরু করে আর সে তাতে প্রবেশ করে ।

প্রতিটা ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোই অলৌকিকত্বের কাহিনীতে ভরপুর । দুর্গা দেবী কতৃক মহিষাসুর বধ, নূহের নৌকা দ্বারা সমগ্র জীবকূলকে বাঁচানো, কুমারী মেরীর গর্ভে যীশুর জন্ম- এগুলো ধর্মপ্রাণ মানুষ বিনাপ্রশ্নই মেনে নেয়, কিন্তু সন্দেহপ্রবণ মানুষকে এসব কাহিনী বিশ্বাস করাতে গেলে প্রমাণ দিতে হয় । রাহুল আর প্রবীরের বই পড়ে আমে হয়ে পড়েছিলাম পুরোদস্তুর সন্দেহবাদী, তাই এহেন অলৌকিকত্বকে আমার কাছে ঘটনার বদলে রটনা বলেই মনে হল । ডারউইনের অরিজিন অব স্পিসিস বইটার জগতময় আলোড়ন আজো থামেনি। একজন গবেষক হিসাবে না। একজন মানুষ হিসাবে ডারউইনরে যে পরিমাণ মানসিক সংকট আর শারীরিক দূরাবস্থা কাটাইতে হইছে তার ইতিহাস কেউ মনে রাখে না। নিজের বড়ো মেয়েক হারিয়ে, অনেক সংগ্রাম আর প্রতীক্ষার পরো মেয়েটাকে বাঁচাতে না পেরে, ঈশ্বর মানতো না যে ডারউইন সে-ই কি না মেয়ের সুস্থ্য হবার কামনায় চার্চে গিয়া মেয়ের জন্য প্রার্থণা করে । এসকল ঘটনা আসলে মানবিক জীবনের আড়ালের গোপনের হৃদয়ের কুঠুরিতে লুকানো বিষয় । অনেক বড়ো বড়ো আবিষ্কারের নিচে চাপা পড়ে যায় সেই আবিষ্কারের পিছনের ব্যক্তি মানুষটি। তার ক্রোধ, কান্না, হতাশা । ডারউইনের বউয়ের অবদানও হয়তো কেউ মনে রাখবে না অরিজিন অব স্পিসিস পড়তে গিয়ে । কিন্তু এত সকল কাহিনী নিয়েই জন এমিয়েল তৈরি করেছেন ক্রিয়েশন সিনেমাটা । ডারউইন চরিত্রে অভিনয় করেছেন পল বিটানি । ডারউইনের সময়ে বিজ্ঞানের অগ্রগতি আজকের মতো ছিল না। সে সময় জীবকোষকে অত্যন্ত সরল মনে করা হতো – ডিএনএ আবিষ্কার তো দূরের কথা ।

মনে করা যাক ৬০ মিনিট সমান ৩০ কোটি বছর, অর্থাৎ প্রতি মিনিট সমান ৫০ লক্ষ বছর । এখন কল্পনা করা যাক ঠিক রাত বারোটার সময় সৃষ্টিহল রহস্যময় এই পৃথিবীর, তখন পৃথিবী একটি আবর্তমান গ্যাসীয় বস্তুপিন্ড । কোথাও কোন প্রাণের চিহ্ন নেই, আর থাকার কথাও নয় কারণ ঐ ঘূর্ণায়মান বস্তুপিন্ডের তাপমাত্রা ছিল আনুমানিক দশ হাজার কোটি সেন্টিগ্রেড । আস্তে আস্তে এই আবর্তমান পৃথিবী শীতল হতে থাকে । এবং এক সময় তরল হতে হতে তা জমাট বেধেছে । তৈরি হয়েছে পৃথিবীর আদিমতম সমুদ্র । ফসিল প্রমান থেকে আমরা জেনেছি যে, এপ’ দের (Ape) ধারা থেকে আরডিপিথেকাস রামিডাস (Ardipithecus ramidus) এর ধারা পৃথক হয়ে গেছে প্রায় ৫০ লক্ষ বছর আগে। আরডিপিথেকাস রামিডাস থেকে কালের বিবর্তনে বর্তমান মানব প্রজাতির সৃষ্টি । মানুষ আর শিম্পাঞ্জির পূর্বপুরুষ কিন্তু একই। ৫০ লক্ষ বছর ধরে প্রাকৃতিক নির্বাচন (Genetic drift)), জেনেতিক ড্রিফটের (Genetic Drift) চাপে- মিউটেশন ও রেপ্লিকেশন এর কারনে শিম্পাঞ্জি ও মানুষের ডিএনএ-তে সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ পার্থক্য । আবার মানুষ আর ইঁদুরের ডিএনএ তে গড়ে ৮৫% মিল আছে । এভাবে ডিএনএ এর মিল-অমিলের মধ্যে তুলনা করে বলে দেওয়া যায় যে কোন প্রজাতি মানুষ প্রজাতির খুব কাছাকাছি ।

একটা শিশুর কোন ধর্ম থাকতে পারে না, কারণ একটা শিশুর পক্ষে ধর্ম কি তা উপলব্দ্ধি করা সম্ভব নয় । কিন্তু শিশুরাও ধর্ম পালন করে, কারণ তাদেরকে ধর্ম পালন করতে বাধ্য করা হয়।আমি কোন মুসলিম শিশুকে দেখিনি খুশিমনে, স্বইচ্ছায় নামাজ পড়তে; বরং ধর্মীয় আচারাদি পালনে শিশুদের মধ্যে তীব্র বিরক্তিবোধই বেশি দেখা যায় । তবে শৈশবে শিশুদের মধ্যে যে শিক্ষার সঞ্জার করা হয়, তা থেকে পরিণত বয়সেও তারা মুক্ত হতে পারে না । তাই শৈশবে যে শিশু বাধ্য হয়ে ধর্মীয় কর্ম পালন করে, বড়কালে সে স্বইচ্ছায় সেই কর্ম পালন করে যেতে থাকে । নাস্তিক হওয়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে শৈশবের শেখানো শিক্ষাগুলো থেকে মুক্ত হতে পারা, বলা বাহুল্য এটাই সবচেয়ে কঠিন ধাপ । কোরানের কথা আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু জীববিজ্ঞানে আমরা পড়েছি কিছু প্রাণী উভলিংগ হতে পারে, আবার অনেক প্রানী শ্রেফ শরীরের অংশ থেকে সন্তানের জন্ম দেয় ।

জাকির নায়েকের ভিডিও আমি খুব কমই দেখেছি । জাকির নায়েকের সেই ভিডিও দেখে, আমাদের ধর্মবিশ্বাস কি বেড়ে গেল ? যদি না যায়, তবে আমার মত হলো এসব বক্তব্য অপ্রয়োজনীয় । কোরানের কথা মতো আমরা বিশ্বাস করি আদম হচ্ছে সরাসরি প্রথম সৃষ্টি । এখন কোরানে আদমের গায়ের রঙ, উচ্চতা, স্বাস্থ্য এগুলো তো বলে দেয়া নাই (বা ধরুন আমি পাইনি)। তাহলে প্রশ্ন হলো, কেন আফ্রিকার মানুষ কালো, ইউরোপের সাদা, আমরা ইন্ডিয়ান উপমহাদেশের মানুষ সংকর, বা বিভিন্ন দ্বীপের লোকজন খুব শক্ত/বৃহৎ দেহের অধিকারী? কোরান এই প্রশ্নের উত্তর দেয় না। এরকম আরো সহস্র প্রশ্ন আছে যার উত্তর নেই। এখন কোরান বিশ্বাস করি বলে কি এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাবে না? কোরান তো স্রষ্টার সৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতেই বলে। ডারউইনের মতবাদ বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে । ১৯৫৯ সালে ডারউইন তাঁর “On the origin of species” নামক বইয়ে প্রাকৃতিক নির্বাচন বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেন । বলতে গেলে এর পর থেকেই বিবর্তনবাদ তত্ত্বটি কিছুটা হলেও গ্রহণযোগ্যতা পায় অল্প কিছু মানুষের কাছে ।

‘মানুষ জেলে যাওয়া বা ফাঁসির মঞ্চে ওঠাকে বিরাট হিম্মত মনে করে । সমাজের গোঁড়ামিকে ভেঙে তাদের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা, জেলে যাওয়া বা ফাঁসির মঞ্চে ওঠার চেয়ে ঢের বেশী সাহসের কাজ ।’ অনেক লেখকই মনে করেন যে, ঈশ্বর যেহেতু আমাদের সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং ঈশ্বরের প্রতি আমাদের কিছু বিশেষ দায়িত্ব পালন করা উচিত । জীবনকে আমাদের জন্য ঈশ্বরের সর্বোত্তম উপহার হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে । জীবন যে একটি অসামান্য উপহার, এর প্রমাণ(দাবিকৃত) হিসেবে অগণিত মানুষকে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে যারা জন্ম নিতে পেরে খুশি এবং বেঁচে থাকার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেও রাজি । ঈশ্বর শুধু আমাদেরকে জীবন নামক এই অসামান্য উপহারই প্রদান করেননি, উপরন্তু ঈশ্বরের সুনিপুণ নিয়ন্ত্রনের দ্ধারা সবকিছুর অস্তিত্ব বজায় থাকছে, যার দরুণ আমরা দিনের পর দিন বেঁচে থাকছি । এই ঐশ্বরিক শক্তি ব্যতীত আমরা সহ সমগ্র মহাবিশ্ব অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে । তাই নূন্যতম পরিমাণে হলেও এই অসাধারণ উপহারের জন্য ঈশ্বরের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29536475 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29536475 2012-02-07 11:54:07
বনলতা সেন এবং বিষন্ন এক কবি'র কথামালা - ৪
১৯০১ সালে জীবনান্দের খুব কঠিব অসুখ হয়েছিল । একেবারে মরে মরে অবস্থা । কুসুমকুমারী জীবনান্দকে নিয়ে ছুটলেন লখনো, আগ্রা, গিরিডি । বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পর সুস্থ হলো বাচ্চা জীবনান্দ । ১৯০৮ সালে জীবনানন্দ ৯ বছর বয়সে বরিশালের বি এম স্কুলে ভর্তি হন । জীবনানন্দের শৈশব নিয়ে তার ছোট ভাই অশোকানন্দ লিখেছেন এবং একমাত্র ছোটবোন সুচরিতা দাশও লিখেছেন । (সুচরিতা দাশ ১৯১৫ সালে জন্মগ্রহন করেন, এ বছরই জীবনানন্দ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন । ) জীবনানন্দের বড় মামা প্রিয়নাথ দাশ ছিলেন সাব ডেপুটি কালেক্টর । স্কুলে পড়াকালীন সময়েই মায়ের প্রশ্রয়ে জীবনানন্দ দাশ বাড়িতে কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে সাহিত্যে সভা করতেন । এই আড্ডা মা কুসুমকুমারীও মাঝে মাঝে যোগ দিতেন । কুসুমকুমারী বঙ্কিমের উপন্যাস ও রামায়নের নানা চরিত্র নিয়ে আলোচনা করতেন ।

১৯১৯ সালে জীবনানন্দ ইংরেজিতে অনার্সসহ বির পাশ করেন, তারপর ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে । ১৯২২ সালে কলকাতা সিটি কলেজের চাকরির মাধ্যমে তার কর্মজীবনের শুরু । ১৯২৮ সালে জীবনানন্দ চাকরি থেকে বরখাস্ত হন । কেউ কেউ বলে কবিতায় অশ্লীলতা ছিল তার জন্য । ১৯৩০ সালের ৯ মে তিনি খুলনার রোহিনীকুমার গুপ্তের দ্বিতীয়া কন্যা লাবন্যকে বিয়ে করেন । লাবন্য ৭ বছর বয়সে তার বাবা-মাকে হারান । বিবাহের সময় লাবণ্য ঢাকার ইডেন কলেজের ছাত্রী ছিলেন । ১৯৩২ সালে দিকে জীবনানন্দ কবিতা লেখা ছাড়া লুকিয়ে লুকিতে সবার অজা্ন্তে গল্প লেখায় মন দেন । যেমন- 'প্রেতিনীর রুপকথা', 'নিরুপম যাত্রা' ইত্যাদি ।

১৯৪৬ সালের একটি ঘটনা বলি- একদিদন দুপুরের দিকে কবি বাসায় ফিরছেন । হঠাৎ দেখতে পেলেন রাস্তার লোকেরা দৌড়ে যে যেদিকে পারছে পালাচ্ছে এবং প্রতিটি বাড়ির জানালা দুমদুম শব্দে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । তিনি সামনের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন- একটা মিলিটারি ট্রাক ছুটে আসছে । ট্রাকটা এসে তার সামনে থামল । একজন অফিসার নিচে নেমে বন্দুকের নলটা কবির বুকের সামনে ধরেই জিজ্ঞাসা করলেন- আর য়্যু এ হিন্দু ? কবি উত্তর দিলেন 'ইয়েস' । অফিসারটি বন্ধুক ধরে থাকা অবস্থায় বলল, 'আই থিংক য়্যু আর দা রিংলিডার অফ দিস এরিয়া । যাষ্ গেট অন্ । কবি চিরদিন ধীর স্থির প্রকৃতির সুতরাং তিনি আর একটি কথাও না বলে ট্রাকে উঠে দেখলেন তার মতো আরও কয়েকজন হিন্দু ভদ্রলোককে আগেই ধরে আনা হয়েছে । তারা সবাই চুপচাপ বসে আছে । কবিকে উঠিয়ে ট্রাকটি বহু জায়গা ঘুরে একটি থানায় এসে থামল । সেখানে পৌছে একখানি বেঞ্চে সকলকে বসিয়ে রাখা হলো ।

রবীন্দ্রনাথ এক দীর্ঘ চিঠিতে বুদ্ধদেব বসুকে লেখেন- জীবনানন্দ দাশের চিত্ররুপময় কবিতাটি আ্মাকে আনন্দ দিয়েছে । ১৯৩৭ সালের ৫ মার্চ জীবনানন্দ দাশ 'ধূসর পান্ডুলিপি'র ( এ বইখানা রবীন্দ্রনাথকেই উৎসর্গ করা হয় ) একটা কপি রবীন্দ্রনাথকে ডালে পাঠান । আর সে সঙ্গে একটা চিঠি । চিঠিতে লিখেন-' আমি একজন বাঙ্গালী যুবক, মাঝে মাঝে কবিতা লিখি । অনেকবার দেখেছি আপনাকে, তারপর ভিড়ের ভেতর হারিয়ে গেছি । আমার নিজের জীবনের তুচ্ছতা ও আপনার বিরাট প্রদীপ্তির সব সময়ই মাঝখানে কেমন একটা ব্যব্ধান রেখে গেছে । আমি তা লংঘন করতে পারিনি । আজ যদি St Paul, কিংবা খৃষ্ট, অথবা গৌতম বুদ্ধ পৃথিবীতে ফিরে আসেন আবার, তা হলে ভীড়ে চাপা পড়ে তাদের সঙ্গে দেখা করে আসবো হয়তো, কিন্তু৮ তারপর তারা আমাকে ভিড়ের মানূষ বলে বুঝে নেবেন । প্রায় ন' বছর আগে আমি আমার প্রথম কবিতার বই একখানা আপনাকে পাঠিয়ে ছিলুম । সেই বই পেয়ে আপনি আমাকে চিঠি লিখেছিলেন, চিঠিখানা আমার মূল্যবান সম্পদের ভিতর একটি ।

জীবনানন্দের কবিতাকে অনেক সমালোচক, কবি কবিতাই মনে করতেন না । অনেকে কবিতা মনে করলেও নানা রকম দুর্নাম দিতেন জীবনানন্দের কবিতার উপর । জীবনানন্দ আধুনিক কবি । তার কবিতা বোঝার মতো আধুনিক মন মানসিকতা হয়ত সমালোচকদের মধ্যে ছিল না । জীবনানন্দ দাশের মেয়ে মঞ্জুশ্রী লিখেছেন- বাবা খুব সাদাসিদে ছিলেন । অত্যন্ত সাধারণ ধুতি পাঞ্জাবি পিরতেন । ঘরে শুধু বই আর বই আর লেখার সরঞ্জাম । বাবা অনেক রাত পর্যন্ত লিখতেন পড়তেন । মাঝে মাঝে পেন্সিল দিয়ে লিখতেন । গরমের দুপুরে বারান্দায় ইজিচেয়ারে বসে লিখতেন । জিজ্ঞেস করলে বলতেন- দেখছিস না, কী রকম ইস্পাতের মতো নীলাকাশ ।' বাবা কে কখনও পান সিগারেট খেতে দেখিনি ।

( চলবে ...)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29534794 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29534794 2012-02-04 11:35:57
রবীন্দ্রনাথের কোনো বিকল্প নাই -৫৫
কোনো উপায় না দেখে রবীন্দ্রনাথ নৌকোয় উঠলেন । মাঝিই তার জিনিসপত্র নৌকোয় তুলল । অন্ধকার রাত । পথও বেশ অনেকটা । চারদিকে শুধু জমাট অন্ধকার আর নদীর বুকে মাঝির বৈঠার ছপছপ শব্দ । এইভাবে সারারাত নৌকো বাইলো মাঝি । ধীরে ধীরে রাতের আঁধার কেটে গেল এক সময় । গ্রামের ভেতর থেকে মোরগের ডাক শোনা গেল । নৌকা তীরে এসে লাগল । মাঝি বলল, আমি এখনই আসছি । আপনি চিন্তা করবেন না । মাঝি চলে যাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথ নৌকোয় একাকী বসে রইলেন । ততোক্ষণে বেশ রোদ উঠেছে । কিন্তু মাঝির ফেরার নাম নেই । এক সময় নদীতীরে লোকজন এসে নৌকোয় রবীন্দ্রনাথকে দেখে অবাক হয়ে গেল । কবি এখানে এলেন কেমন করে ? রাতে তো ঘাটে কোনও নৌকো ছিল না । তাদের কথা শুনে রবীন্দ্রনাথ বললেন, কুঠিবাড়ির একজন প্রজা মাঝিই নৌকো করে তাকে এখানে পৌছে দিয়েছে । মাঝির নামও বললেন রবীন্দ্রনাথ । কিন্তু সেই মাঝির নাম শুনে সবাই বিস্মিত হয়ে গেল । আরে, ওই মাঝি তো ক'মাস আগে মারা গেছে ! একথা শুনে নৌকোটার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলেন রবীন্দ্রনাথ । নদীতে নৌকোটা নেই । কোন ফাঁকে যেন উধাও হয়ে গেছে । তিনি ভাবতে লাগলেন নৌকোটা অদৃশ্য হয়ে গেল কিভাবে !

রবীন্দ্রনাথের বয়স যখন ১১ বছর তখন তার প্রথম শহরের বাইরে শহরতলীতে যাবার সুযোগ হয় । তা ছিল কিশোর রবীন্দ্রনাথের জন্য এক অভিনব অভিজ্ঞতা । তখন ( ১৮৭২-৭৩ ) কলকাতার ঘরে ঘরে ডেঙ্গু জ্বর । ঠাকুর পরিবারের সবাই তাই গঙ্গার ধারে পানিহাটির এক বাগানবাড়িতে গেলেন হাওয়া বদলাতে । ওই বাগানবাড়ির কিছু দূরেই গঙ্গা । চাকরদের ঘরের সামনে একটা পেয়ারা গাছ, তার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় পাল তোলা নৌকো চলছে মাঝ গঙ্গায় । এই ছবি কবির স্মৃতিপটে উজ্জ্বল হয়েছিল আমৃত্যু । যা তার কবিতায় ধরা দিয়েছে বার বার । ষোল বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ 'ভারতী'র পাতায় (১২৪৮ বাং ) 'মেঘনাদবধ' কাব্যকে তীব্রভাবে আক্রমণ করলেন এক দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখে । রবীন্দ্রনাথ 'সবুজপত্রে' নিয়মিত কবিতা, গল্প লিখতেন । সবুজপত্রের যে গল্প নিয়ে সে যুগে সাহিত্যিক সমাজতাত্তিক মহলে সব থেকে আলোড়ন জেগেছিল সে গল্পের নাম 'স্ত্রীরপত্র' । বাংলা সাহিত্যে নারী বিদ্রোহের সূচনা হয় সবুজপত্রের রবীন্দ্রনাথের ওই গল্প থেকে ।

রবীন্দ্রনাথ অর্শ রোগের রোগি ছিলেন । তিনি এ রোগের প্রচন্ড কষ্ট পেতেন । তা ধৈর্যের সঙ্গে সহ্যও করতেন । হাসপাতালে গিয়ে অপারেশন করতে হয়েছিল । রবীন্দ্রনাথ যে খুব ভালো হোমিওপ্যাথ ছিলেন সে খবর অনেকেরই জানা নেই । ইংরেজিতে ছাপা হোমিওপ্যাথির ওপর নামকরা বই প্রায় সবই তার ছিল । শেষ জীবনে বায়োকেমিষ্টের ওপরও ঝোঁক পড়ে তার । খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন দেখে রবীন্দ্রনাথ নৈলিতানের কাছে একটি বাগানবাড়ি কিনেছিলেন ।

একবার কাজী নজরুল ইসলামকে রবীন্দ্রনাথের চেয়ে বড় কবি বলায়, নজরুল এক ব্যক্তির মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন । কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী' । সাপ্তাহিক 'বিজলি'তে প্রকাশিত হয় । ঐ সংখ্যাটি বেরুবার দিন নজরুল সম্পাদক অবিনাশ চন্দ্র ভট্রাচার্যের কাছ থেকে চার কপি কাগজ নিয়ে বললেন, 'গুরুজী'র কাছে নিয়ে যাচ্ছি '। নজরুল চলে গেলেন । বিকেলে এসে সে কাহিনী শোনালেন সবাইকে । নজরুল তার বাড়িতে গিয়ে গুরুজী গুরুজী বলে চেচাতে থাকে । ওপর থেকে রবীন্দ্রনাথ বললেন, কী কাজ অমন ষাড়ের মতো চেচাচ্ছ কেন ? কী হয়েছে ? নজরুল বললেন- আপমাকে হত্যা করবো । গুরুজী আপনাকে হত্যা করবো । রবীন্দ্রনাথ বললেন- হত্যা করবো, হত্যা করবো কি, এসো, উপরে এসে বোস । নজরুল বললেন, হ্যাঁ সত্যিই আপনাকে হত্যা করবো । রবীন্দ্রনাথ বললেন আগে বোস- চা পান খাও । নজরুল রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়িয়ে দুই হাত নেড়ে নেড়ে 'বিদ্রোহী' কবিতাটি শোনালেন । রবীন্দ্রনাথ স্তব্ধ বিস্ময়ে নজরুলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন । তার পর ধীরে ধীরে উঠে কাজীকে জড়িয়ে ধরে বুকের মধ্যে টেনে নিয়ে বললেন- হ্যাঁ, কাজী তুমি আমায় সত্যিই হত্যা করবে । আমি মুগ্ধ হয়েছি তোমার কবিতা শুনে । তুমি যে বিশ্ববিখ্যাত কবি হবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই । রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে খুব স্নেহ করতেন । নজরুল শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন পূজোর ছুটি কাটাতে সঙ্গে ছিলেন ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ।

১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিভাষণ দিতে আসেন । ৭ ফেব্রুয়ারি কবি নারায়ণগঞ্জের স্টিমার ঘাটে এলে তাকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয় । কবিকে স্বাগত জানান অধ্যাপক অপূর্ব কুমার চন্দ্র এবং অধ্যাপক মাহমুদ হাসান । করোনেশন পার্কে বক্তৃতা দেন কবি । ব্রাহ্মসমাজ মন্দির প্রাঙ্গণে 'দীপালি সংঘের' আয়োজনে প্রায় দু'হাজার মহিলার বিশাল সমাবেশে এক ঘন্টাব্যাপী বক্তৃতা দিলেন কবি । পরে বলেছিলেন, 'এতো মহিলা এমন শান্তভাবে আমাকে কোথাও অভ্যর্থনা করে নাই' । ১০ ফেব্রুয়ারী কবি কার্জন হলে The Meaning of Art শিরোনামে বক্তৃতা দেন । বলদা গার্ডেনেও বেড়াতে গিয়েছিলেন । ঘুরে ঘুরে দেখেছেন নানান গাছ গাছড়া । হঠাৎ একস্থানে থেমে একটা ক্যাকটাস গাছ কবি কৌতুহল নিয়ে দেখতে লাগলেন । পাতাহীন কান্ড সর্বস্ব গাছটিতে কয়েকটি ফুল ফুটেছিল । মুখে মুখে একটি কবিতা রচনা করে ফেললেনঃ "কাঁটায় আমার অপরাধ আছে/ দোষ নাহি মোর ফুলে/ কাঁটা থাক মোর ওগো প্রিয়তম/ ফুল তুমি নিও তুলে ।"

১৯৩০ সালে সারা প্যারিস ভেঙ্গে পড়ল কবির চিত্রকলা দেখতে । শহরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হলো রবীন্দ্রনাথের চিত্র প্রদর্শনী । জার্মান কবি হেরমান হেসসে চল্লিশ বছর বয়সে লেখা ছেড়ে ছবি আঁকা ধরেছিলেন । আসলে কিছু কিছু ভাবনা, কিছু স্বপ্ন, যা কবিতায় বলা যায় না, তখন অন্য পথ বেছে নিতে হয় ।

রবীন্দ্রনাথের একমাত্র দৌহিত্র নিতু । কনিষ্ঠা কন্যা মীরার ছেলে । নীতিন্দ্রনাথ এর মৃত্যুর খবর শুনে রবীন্দ্রনাথ মীরাকে একটি চিঠি লেখেন -" অন্ধকারে আমরা হাতড়ে বেড়াই, যাদের ভালোবাসি তাদের না জেনে ক্ষতি করি । না বুঝে কষ্ট পাই । কিন্তু সেইটেই তো শেষ কথা নয়, সেই সমস্ত ভুল-চুক দুঃখকষ্টের মধ্যে বড়ো কথাটা এই যে, আমরা ভালোবেসেছি ।.... এসেছি সংসারে, মিলেছি, তারপর আবার কালের টানে সরে যেতে হয়েছে, এমন কত বারবার হল, বারবার হবে-এর সুখ এর কষ্ট নিয়ে জীবনটা সম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে । অসহ্য দুঃখ বেদনা ঘরে ঘরে আছে, কাল প্রতিদিন তা একটু একটু করে মুছে মুছে দিচ্ছে । নিতুকে খুব ভালোবাসতুম । তাছাড়া তোর কথা ভেবে প্রকান্ড দুঃখ চেপে বসেছিল বুকের মধ্যে । আমার শোকের দায় আমিই নেব-বাইরের লোকে কি বুঝবে তার ঠিক মানে টা । ... সেখানে আমাদের সেবা পৌছায় না, কিন্তু ভালোবাসা হয়তো বা পৌছায় -নইলে ভালোবাসা এখনো টিকে থাকে কেন ?"

(চলবে...)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29534406 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29534406 2012-02-03 15:31:25
বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে এমন একজন লেখক
দুইটা জিনিস ঘটে আমাদের সমাজে- এক, কোনো কিছু জনপ্রিয় হয়ে গেলে সুধীসমাজ তাকে সন্দেহের চোখে দেখেন । আর, কেউ আইকন হয়ে গেলে তার শিল্প ও ব্যক্তিগত জীবনকে আমরা সাধারণ পাঠকেরা সমার্থক/সিনক্রোনাইজড ভাবতে আরম্ভ করি । এই দুইই ঘটেছে হুমায়ুনের ক্ষেত্রে, দুর্ভাগ্য তার, কারণ এই দুয়ের কোনোটাই তিনি ডিজার্ভ করতেন না । তিনি সাধারন, মানে সাইকো নন। সেজন্য তার লেখায় কোনদিন অস্বাভাবিক কোন বিশ্বাসের প্রচার হয় না। হুমায়ুন আহমেদ সমালোচকদের ব্যকগ্রাউন্ড চেক করলেই দেখবেন, প্রত্যেকটা হুমায়ুন আহমেদ সমালোচক কোন ধরনের বিশ্বাসে ফান্ডামেন্টালিস্ট! জানেনই তো রতনে রতন চিনে, আর যারা মানকচু ভালবাসে তাদের জন্য হুমায়ুন আহমেদ বড়ই তিক্ত । আমাদের হুমায়ূন আহমেদ শুধু বাংলা সাহিত্যের না, বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম সেরা লেখক । তার কোন স্কুল করার দরকার নাই, না কোন হাসপাতাল । তিনি এমনিতেই বাংলা সাহিত্যে হাজার বছর বেঁচে থাকবেন । তার মতো লেখক পেতে আমাদের আরো একশ বছর লাগবে । হুমায়ুন আহমেদ যিনি একটি জাতি'র কয়েকটি প্রজন্মের জীবনধারা নির্দৃষ্ট করে দিয়ে গেছেন ! ভাল পথে পরিচালিত করছেন, তাই খারাপ পথে পথিকদের কষ্ট লাগবেই । এবং ঐ কষ্ট প্রদান করে তিনি খুবই খারাপ কাজ করছেন !

হুমায়ূন আহমদের গান বলতে বাঙলা ভাষার অন্যতম প্রধান কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ রচিত গান বোঝানো হয়ে থাকে । হুমায়ূন আহমেদ মূলতঃ গান রচয়িতা বা গীতিকার নন । কেবল নাটক ও চলচ্চিত্রের প্রয়োজনে তিনি গান রচনা করে থাকেন । তার অনেকগুলো গান বেশ জনপ্রিয় । এসবের এলবাম প্রকাশিত হয়েছে । বাংলা একাডেমী পুরস্কার ১৯৮১, শিশু একাডেমী পুরস্কার
একুশে পদক ১৯৯৪, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ কাহিনী ১৯৯৩, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ১৯৯৪, শ্রেষ্ঠ সংলাপ ১৯৯৪), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), মাইকেল মধুসুদন পদক (১৯৮৭), বাকশাস পুরস্কার (১৯৮৮), হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০)
জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদক । সবার মন জয় করে তোষামোদ করে চলার মতো মানুষ হুমায়ূন আহমেদ কখনো ছিলেন না এবং হবেনও না । তার এই গুণটিই মানতে কষ্ট হচ্ছে অনেকের । হুয়ামুন আহমেদের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো মুর্খ বাঙালীকে বই পড়তে শেখানো-তা তিনি যাই লেখুন না কেন । সাহিত্যমান বিশ্লেষণ করার যোগ্যতা আমার নেই, তাই তার সাহিত্য সমালোচনা করার দৃষ্টতাও আমার নেই । হুমায়ূন আহমেদকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ।

আসলে আমাদের সাহিত্যে হুমায়ূন নিজেই একজন জাদুকর। অসামান্য জাদুকর । এমন সম্মোহনী শক্তি নিয়ে আর কেউ আসেননি । আমরা আমাদের সময়ে একজন হুমায়ূন আহমেদকে পেয়েছি । এটা অনেক বড় প্রাপ্তি । নিকট অতীতে হার্টের সঙ্গে লড়ে বিজয় ছিনিয়ে আনা প্রিয় কথক হুমায়ূন আহমেদকে এবার লড়তে হবে কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে । প্রার্থনা করি, এবারও বিজয়ী হবেন অসম্ভব ক্ষমতাবান এই সৃজনশীল মানুষটি । পাকিস্তান জন্মের পরের বছর জন্ম নেন হুমায়ূন আহমেদ৷ সাল ১৯৪৮ ৷ তারিখ ১৩ নভেম্বর৷ এক শীতের রাতে৷ জন্ম মাতুলালয়ে, নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জের কুতুবপুর গ্রামে৷ বাবা ফয়জুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি৷ ফলে অত্যধিক বাড়াবাড়ি রকমের আদরের মধ্য দিয়ে তাঁর শৈশবের দিনগুলি রাতগুলি পার হতে থাকে ৷ উনি তসলিমা নাসরিনের নির্বাসনের সমর্থন করেন না । তসলিমা সম্পর্কে হুমায়ূন আহমেদ দারুণ একটা কথা বলেছেন ।"আমাদের দেশের মেয়ে কেন বাইরে থাকবে । সে যদি কোন দোষ করে তার বিচার বাংলাদেশেই সম্ভব । স্বাধীনতা বিরোধীরা যদি পতাকা নিয়ে ঘুরতে পারে সেখানে তসলিমা বই লিখে কেন নির্বাসনে যাবে (কাঠপেন্সিল দ্রষ্টব্য) ।

ঈদের রাতে টিভিতে হুমায়ুনের নাটক না দেখলে বাঙালির কি ঈদ পরিপূর্ণ হয় ? পরিচালকরা শোবিজের নায়িকাদের সাথে আড়ালে মজা করেন,এটা এখন open secret. উনি সেটা না করে শাওনকে সামাজিক মযাদা দিয়েছেন। খ্যাতিমান লেখকরা সংসার জোড়াতালি দিয়ে continue করেন না ।বনিবনা না হলে আলাদা হয়ে যান, যেমনটা রাশিয়ার তলস্তয় করেছিলেন । after all হুমায়ুন সাহেব একজন মানুষ,ফেরেশতা নন, দোষত্রুটি থাকবেই । জেমসের গানের সুরে- এমন একটা মানুষ দেখা যে পাপ করে নাই । কে কয়টা বিয়ে করল তাতে মানুষের এত চুলকায় কেন জানি না । আমাদের ভাগ্য যে আমরা হুমায়ূন আহমেদের মত একজন লেখক পেয়েছি । যারা তার সমালোচনা করে পোস্ট দিচ্ছে তারা তার একটা পশমের সমান যোগ্যতাও রাখে না ! হুমায়ুন আহমেদ শাওনকে বিয়ে করেছেন এজন্য যাদের গা জ্বলে তাদের আসলে কিছু বলার নেই। শাওনের কাছ থেকে এমন কোন কথা শোনা যায়নি যে তিনি হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে সমস্যায় আছেন। তাহলে অন্যদের এতো সমস্যা কেন? আমাদের দেশের ভেকধারী সুশীল আর নিচু মনের নাস্তিকগুলা কাউকে ছোট করতে চাইলে প্রথমেই তার চরিত্র নিয়ে বাজে কথা বলে। এ থেকেই বোঝা যায় তাদের মনে আসলে কি আছে ।

হুমায়ূন আহমেদের পক্ষেই সম্ভব হাসির একটা বইয়ের মধ্যে এমন কয়েকটা তথ্য দিয়ে দেয়া যেইটা জ্ঞানের মোটা মোটা বইয়ের মধ্যে লুকায়া থাকে ।এই ক্ষমতাটা দুর্লভ । কারও সমালোচনায় কিছুই যায় আসে না বাংলাদেশের সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ অতুলনীয় এত্ত গুলা বছরেও কেউ তাঁর ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে নাই সেই সম্ভাবনাও নাই । মধ্যবিত্ত জীবনের ছোট ছোট হাসি, কান্না সুখ দুঃখগুলো হুমায়ূন আহমেদের মত এত অসাধারন ভাবে কেও ই তুলে ধরতে পারে, সাহিত্য পণ্ডিতরা (!) তাকে পাত্তা দিক বা না দিক হুমায়ূন আহমেদের প্রতি ভাল ভালোবাসা কোন কালেই আমরা কমবে না..। যারা হুমায়ূন আহমেদের সমালোচনা করেন তারা আগে অন্তত হুমায়ূন আহমেদের মত কিছু একটা করে দেখাক তারপর না হয় তার সমালোচনা করুক । আর হুআ ও একজন মানুষ ফেরেশতা নয় , মানুষ হিসেবে তার হয়ত কিছু ভুল থাকতেই পারে । কারো কাছে তার লেখা ভাল না লাগতে পারে । লেখা ভাল লাগা বা না লাগা ব্যক্তিগত রুচির ব্যাপার । কিন্তু হুমায়ুন আহমেদের মত লেখক আর আছেন আমাদের দেশে? এত সহজ ভাষায় লিখতে পারে কয়জন লেখক ? এসবের জন্য তাকে সম্মান জানাতেই হয় । একবার ভাবুন, হুমায়ুন আহমেদ বলে কোনো লেখকের জন্ম হয়নি । তাহলে কেমন হত? নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্য অনেক কিছু হারাতো ।

( বিভিন্ন ব্লগ থেকে সংগৃহিত )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29533835 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29533835 2012-02-02 13:19:30
হাত দিয়ে স্পর্শ করি আনন্দের প্রজাপতিটিকে আমাকে মেরে ফেলো অথবা বুকে জড়িয়ে ধরো শক্ত করে
রাস্তার সব বাতিগুলো নিভে গেলেই আমি তোমার কাছে যাবো
নীল কাতান শাড়ি-কাচের চুড়ী-টিপ পরে, দরজা খোলা রেখ

তোমাকে বলি এক কবির কথা- মধ্যরাত্রে হয়ে যায় মাতাল
তারপর নারী তারপর বাণী তারপর বেদনা তারপর সকাল
সারাদিন ভর চুম্বনের দাগ গলায় মানূষ হাসায় মানূষ ভাবায়
একজন কবি অনেক সইতে পারে বইতে পারে জীবনের বোঝা

নির্বোধ লোকেরাই শুধু বেশী বেশী ভালোবাসতে পারে
তারপর কাঁদে । অসময়ের সংলাপ পীড়া দেয় কানে




( প্রচন্ড মাথা ব্যাথা নিয়ে লিখলাম । আরো কয়েক লাইন লেখার ইচ্ছা ছিল । মাথা ব্যাথার কারণে পারলাম না । আমি দেখতে চেয়েছিলাম মাথা ব্যাথা নিয়ে লিখলে লেখার মধ্যে ব্যাথা ভাব থাকে কিনা । আমি কিন্তু কবিতা লিখতে জানি না । আর সেই চেষ্টাও করি না । খুব চেষ্টা করি এলোমেলো কিছু কথা গুছিয়ে লিখতে । )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29532532 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29532532 2012-01-31 12:28:36
রবীন্দ্রনাথের কোনো বিকল্প নাই -৫৪
শর্মিলা ঠাকুরের শৈশব কেটেছে কলকাতায় । পড়াশোনা ল্যান্সডাউন রোডে সেন্ট জন ডায়োশেসন স্কুলে । পড়তে পড়তেই সিনেমায় ডা্ক । সত্যজিৎ রায়ের একের পর এক ছবিতে দুর্ধর্ষ অভিনয় । 'অপুর সংসারে' -এর সৌমিত্র চট্রোপাধ্যায়ের নায়িকা হওয়ার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি । ( সৌমিত্র চট্রোপাধ্যায়ের ডাক নাম পলু । সৌমিত্রের কন্ঠে রবীন্দ্র কবিতার আবৃত্তি চমৎকার ।) অবলীলায় জয়ের নিশান উড়িয়েছেন মুম্বাইতেও । শাম্মি কাপুরের বিপরীতে 'অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস'-এ শর্মিলার বিকিনি পরা রুপ দেখে শিউরে উঠেছে সারা দেশ । রক্ষণশীলরা ছি ছি করেছে । বলেছে, রবীন্দ্র পরিবারের কন্যা হয়ে এ কী কান্ড । লজ্জা শরমের মাথা খেতে বিবেকে বাঁধল না । সমালোচনার আগুন নিভতে সময় নিয়েছিল অনেক ।

দ্বারকানাথ ঠাকুর
------।-------------।------------।----------------।-------------------।------
দেবেন্দ্রনাথ নরেন্দ্রনাথ গিরিন্দ্রনাথ ভূপেন্দ্রনাথ নগেন্দ্রনাথ
। ।
রবীন্দ্রনাথ গুণেন্দ্রনাথ

-----------------------------------
। ।
গগনেন্দ্রনাথ অবনীন্দ্রনাথ

কমকেন্দ্র

গীতিন্দ্র
-------------------------------------------------------

শর্মিলা ঐন্দ্রিলা রমিলা
----।-------------।-----
সাঈফ আলি খান সোহা আলি খান


রবীন্দ্র দর্শন থেকে অনেক দূরে সাঈফ আর সোহা । রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর অনুরোধে বিশ্বভারতীয় প্রথম উপাচার্য হন রথীন্দ্রনাথ । রথীন্দ্রনাথের স্ত্রী প্রতিমা দেবী নিঃসন্তান । রবীন্দ্রনাথেরা ছিলেন পনের ভাই-বোন । রবীন্দ্রনাথের বড় বোন স্বর্ণকুমারী দেবী, পরিবারে তার স্থান এগারো নম্বরে ।
রবীন্দ্রনাথের শেষকৃত্যের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথের পৌত্র সুবীরেন্দ্রনাথ । নিমতলা মহাশ্মশানে রবীন্দ্রনাথের মূখাগ্নি করেন সুবীর । সেই সুবীরের পুত্র সুপ্রিয় এখনও শান্তিনিকেতনে । বয়স বাহাত্তর ।

রবীন্দ্র পরিবার বিশাল বৃক্ষের মতো । শাখা-প্রশাখা আগমন । অনেক শাখা শুকিয়েছে । কিন্তু যা আছে তাইবা কম কিসে । তা ছাড়া রবীন্দ্রনাথের উত্তরাধিকার বহনের দায়িত্ব তো আমাদেরও । অবক্ষয়ের মরুভূমিতে পিরামিডের মতো দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ । রবীন্দ্রনাথ বলতেন, 'বিশ্ব সাথে যোগে যেথায় বিহারও, সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারও' । যোগাযোগের এটাই অন্যতম সুত্র । বিশ্বকে যে আপনার করতে পারবে রবীন্দ্রনাথ তার । উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে পা ফেলতে হলে রবির আলোর বিকল্প কোথায় ।

রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন ব্রিটিশ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে। অনেক সময়ই তিনি ভারতে ব্রিটিশ শাসনকে ঈশ্বরের শাসনের সঙ্গেও তুলনা করতেন। এ কোনো দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদীর কথা হতে পারে না। যাই হোক রবীন্দ্রনাথের মতো বিশাল ব্যক্তিকে হারিয়ে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছিল। আর ব্রিটিশের লাভ হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের মতো ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের বিরুদ্ধে কিছুটা হলেও খাড়া করে দিতে। কবির এ মনোপরিবর্তনে ব্রিটিশের হাত থাকলেও থাকতে পারে। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন খুব তীব্র হওয়ার কারণে কার্জনের বঙ্গভঙ্গ এক সময় রদ হয়ে যায়। ব্রিটিশ সরকার তখন পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের সান্ত্বনা দেয়ার জন্য ঢাকায় একটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। এতেও বাঙালি হিন্দুরা ক্ষেপে যায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। এমনকি ঢাকার হিন্দুরাও চায়নি ঢাকায় একটা বিশ্ববিদ্যালয় হোক। তারা মনে করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে একটা মুসলমান বিশ্ববিদ্যালয় আর মুসলমানের ছেলেরা লেখাপড়া শিখে তাদের পাতে ভাগ বসাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের মতো বিশ্বকবিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। আজ যেসব রাখাল ছেলেদের রবীন্দ্র বিলাস পেয়ে বসেছে তারা জানে না তাদের দেবতাতুল্য মানুষটি রাখাল ছেলেরা লেখাপড়া শিখে সমাজের উপর তলায় উঠে আসুক এটা কখনোই চাননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতী প্রায় একই সময় কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু বিশ্বভারতী মুসলমান ছাত্রদের মোটেও আকর্ষণ করেনি। ঠাকুর পরিবারের অধিকাংশ জমিদারি ছিল পূর্ববঙ্গে।
রবীন্দ্রনাথও পূর্ববঙ্গে কাটিয়েছেন বহুদিন। তার পরেও মুসলমান অধ্যুষিত পূর্ববঙ্গে তিনি তার শান্তি নিকেতন প্রতিষ্ঠা করতে উত্সাহ পাননি। তিনি এটা গিয়ে তৈরি করেন বীরভূমে। প্রথমদিকে শান্তি নিকেতনে মুসলমান ছাত্রদের কোনো প্রবেশাধিকারই ছিল না। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অনেকের কাছে চাঁদা চেয়েছিলেন। হায়দরাবাদের নিজাম তাকে সে আমলে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। সেই চাঁদার সূত্রেই কিছু মুসলমান ছাত্র সুযোগ পায় শান্তি নিকেতনে লেখাপড়া করার। সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন এদের একজন। মনে রাখা দরকার, বিশ্বভারতী নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভেতর দিয়ে পূর্ববঙ্গে একটি মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজ বিকাশ হওয়ার সুযোগ পায় আর তা এ অঞ্চলের মানুষের জাগরণে বড় ভূমিকা রাখে। অর্থাত্ ইতিহাসের নিরিখে দেখতে গেলে, রবীন্দ্রনাথ নয়, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছিলেন তারাই এ অঞ্চলের মানুষের সত্যিকারের জাগরণে বড় ভূমিকা রাখেন। যা আজকের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের অন্যতম ভিত্তি। তারাই পূর্ববঙ্গের মানুষের সত্যিকারের জাতীয় চেতনার উত্স হওয়ার দাবিদার। আজকের প্রজন্ম হয়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা নওয়াব সলিমুল্লাহর নামই শোনেনি।

( চলবে ... )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29530987 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29530987 2012-01-28 21:30:22
শেষ কথা - ১২
একটা লেখা শেষ করে অনেক রাতে ঘুমিয়েছি । ভেবে রেখেছি সকাল ১২ টার আগে ঘুম থেকে উঠব না । কিন্তু সেদিন ঘুম থেকে উঠতে হলো সকাল ৭ টায় । একটা ভিক্ষুক দরজা নক করছে তো করছেই । ভিক্ষুকটার ধৈর্য রর্বাট ব্রুস এর চাইতেও বেশী । দরজা খুলে ভিক্ষুকটা্কে ভেবেছিলাম কঠিন দুই একটা কথা বলব । ভিক্ষুকটাকে দেখে মায়া লাগল, কিছুই বললাম না । শুধু বললাম- ভিক্ষাবৃত্তি আমাদের নবীজী পছন্দ করতেন না, কাজেই আমি আপনাকে ভিক্ষা দিবো না । দরজা বন্ধ করে ঝাপ দিলাম বিছানায় । তখন শুরু হলো পাশের বাড়ির ডাম ডাম শব্দ । তিল তলার কাজ চলছে । মোবাইল বাঝলো- ধরলাম । নাম্বার চিনি না, অপরিচিত একজন মেয়ে বলল- আপনি একজন বাজে লোক । খুব বাজে বলেই ফোন রেখে দিলো । গতকাল একজন অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করে বলল- রাজীব নূর আপনি একজন অসাধারন মানূষ । আপনার তুলনা হয় ।আপনাকে ভালোবাসতে ইচ্ছা করে শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছা করে- এইটুকু বলেই ফোন রেখে দিলো । এখন আমি এইসব নিয়ে মাথা ঘামাই না । কে আমাকে ভালো বলল- কে আমাকে বাজে বলল। সবচেয়ে বড় কথা আমি জানি আমি কি রকম ।

যাবো প্রাইম ব্যাংকে চলে যাই ব্র্যাক ব্যাংকে । আধা ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর মনে হয়- আমি এই ব্যাংকে কেন ? গতকাল মধ্যরাত্রে ইচ্ছা করলো নিজের গালে নিজে চড় দেই । দুইটা থাপ্পড় দেই । খুব বড় ধরনের একটা ভুল করেছি । গত এক বছরে এই ধরনের ভুল করি নাই । রাত এক টায় ড্রয়ারে হাত দিয়ে দেখি সিগারেট নাই ! আমার মাথা তো পুরাই নষ্ট । এই ভুলটা কিভাবে হলো বুঝতে পারলাম না । রাগ করে নিজেকে নিজেই দুইটা বাজে বকাও দিয়েছি । যাই হোক, আচ্ছা কেউ কি বলতে পারেন শীত কালে এত বিয়ে হয় কেন ? গত এক মাসে আমাদের ১৭ টা বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে হয়েছে । আমি একটা তে গিয়েছি, মা একটা গিয়েছে । অসহ্য । তোরা বিয়ে করবি কর আমাদের যেতে হবে কেন ? বিয়েটা হচ্ছে একান্তই দুইজনের ব্যাপার । সারা শহরের মানূষ নিয়ে DJ পার্টি করার দরকার কি ?

আমি জানি, আমি যেমন ভালো লেখালেখি করতে পারি না আবার ভালো ছবিও তুলতে জানি না । তারপরও অনেক শখ হয় কিছু লিখি কিছু ছবি তুলি । আমার লেখালেখিতে আর ছবি তোলাতে কারো উপকার না হোক সমস্যা তো হয় না । অনেক শখ করে ফেসবুকে একটা ফোটোগ্রাফী গ্রুপ খুলেছি যার নাম 'আমার ফোটোগ্রাফী' । আমাকে বলা হয়েছে ফোটোগ্রাফী গ্রুপটা বন্ধ করে দিতে । আমি ফোটোগ্রাফী নামে ধারাবাহিক ভাবে একটা লেখা লিখছি ছয় মাসে মাত্র তিন পর্ব লিখেছি । আজ আমাকে মানা করে দেওয়া হয়েছে যেন ফোটোগ্রাফী নিয়ে আর না লিখি । আমাকে যে মানা করেছে সে আমার বন্ধু । আমার বন্ধু ভালো লেখে ভালো ছবি তোলে । বন্ধুর কাছ থেকে আমি অনেক শিখেছি । বন্ধু বলল- ফোটোগ্রাফী নিয়ে লেখার ক্ষমতা আমার নেই । আমি নাকি ক্যামেরা ধরতেই জানি না । ( মাঝে মাঝে আমার এই রকমই মনে হয় ) ফোকাস এর কাজ কিছুই জানি না । ( আসলেই মাঝে মাঝে চোখে ধান্ধা হয় ) আমি মানি আমি ক্যামেরার কিছুই বুঝি না । আজ থেকে ১০ বছর পরেও আমি বলল আমি ক্যামেরার কিছুই বুঝি না জানি না । যদি ২/৩ টা পুরস্কারও পেয়ে যাই তবুও বলব আমি ফোটোগ্রাফী'র কিছুই জানি না । কোনো কিছুরই জানার শেষ নেই ।

আমার বন্ধু জ্ঞানী মানূষ । অবশ্যই আমার চেয়ে হাজার গুন না লক্ষ গুন বেশী বুঝে । আমার ভালোই জন্যই হয়তো আমাকে লিখতে মানা করছে । আমি গাধা দেখে বুঝতে পারছি না । তাই আমি আমার জ্ঞানী বন্ধুর সাথে কোনো তর্কে যাই না । আমি আমার বন্ধুর সব সময় মঙ্গল কামনা করি । যখন বন্ধুর কোনো সা্ফল্যের খবর পাই অনেক আনন্দ হয় । কিছু কিছু ব্যাপারে আমার ঘাড়ের রগ তেরা । এতই তেরা যে কুকুরের সাথে জিদ করে মাটিতে ভাত খাই । দাবা খেলাটা আমার অনেক ভালো লাগে । বিশেষ করে যখন মন্ত্রী চেক দেয় রাজা কে । রাজার আর বের হওয়ার কোনো উপায় থাকে না ছোটবেলায় দেখেছি কচ্ছপ একবার যা কামড়ে ধরে তা আর ছাড়ে না । যাই হোক, সকালে সিদ্ধান্ত নিবো ফোটোগ্রাফী গ্রুপ আর ফোটোগ্রাফী নিয়ে লেখাটা বন্ধ করবো কিনা ।

অনেকদিন আগে একটা কবিতা পড়েছিলাম- হুমায়ুন আজাদের । কবিতার নাম 'সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে' । আমার খুব পছন্দের একটা কবিতা । কিছু কিছু লাইন আজও মনে আছে- 'আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে ।/ চ'লে যাবে শহর বন্দর গ্রাম ধানক্ষেত/ মন্দির মসজিদ গির্জা নির্জন প্যাগোডা/ সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে ।/ রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না.... কাশবন একদিন নষ্টদের অধিকারে যাবে ।' যতটুকু মনে আছে লিখলাম ভুল হতে পারে ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29529566 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29529566 2012-01-26 12:01:05
সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার অভ্যাস করুন
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টরা হাজার হাজার গবেষনা করে দেখেছেন মানুষের নার্ভাস সিস্টেম বাস্তবতা ও কল্পনার মধ্যে কোনো তফাৎ করতে পারে না । সিনেমায় আমরা অভিনয় দেখে হাসি আবার কান্নায় বিষাদে মন ভরে উঠে । আপনি জানেন পুরোটাই অভিনয় । কিন্তু তারপরও উত্তেজনা বা বিষাদে রেশ কাটাতে সময় লাগে । "বেশ ভালো আছি" আপনি যদি দিনে ২০ বা ৩০ অথবা ৪০ জনের সাথে দেখা হওয়ার পর যদি একই কথা বলেন, তাহলে ৪০ বার আপনার মস্তিস্কে এই ভালো থাকার কথা বাণী যাচ্ছে । বার বার একই বাণী যাওয়ার ফলে মস্তিস্কে ভালো থাকার তরঙ্গ তৈরি হচ্ছে । ভালো থাকার আকুতি বাড়ছে । নিজের যা সামান্য আছে, সেখান থেকেই দান করুন দেখবেন এক আকাশ আনন্দ পাচ্ছেন । মনে রাখবেন- আপনার মস্তিস্ক এক সুপার কম্পিউটার ।

আপনাদের জন্য কিছু পরামর্শ - রাগটা নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে । নিজে হাজার কষ্ট পেলেও অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন । সব সময় মনে রাখা উচিত- অন্যের হৃদয়ে প্রবেশের সহজ পথ বিনয় ও সততা । একমাত্র বিনয় কোনো রকম খরচ ছাড়াই অন্যের হৃদয় কে স্পর্শ লরে । প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেকে নিজেই পর্যবেক্ষন করা উচিত । মনে করুন কেউ আপনাকে দেখছে না, তখন আপনি যে কাজটি করছেন- তার মধ্যেই আপনার আসল চরিত্র প্রকাশ পায় । আপনি অন্যদের বুঝতে চেষ্টা করুন তাহলে তারা আপনাকে বুঝতে পারবে । এই সমাজে সবাই ভালোবাসা পেতে চায়, অল্প কিছু মানূষ ভালোবাসা দিতে চায়- আপনি সেই অল্প কিছু মানূষদের একজন হোন । যদি ভাগ্যবান হতে চান - তাহলে মেঘের আড়ালে রঙধনু দেখতে চেষ্টা করুন । প্রচুর বই পড়ুন- বিশ্লেষন ও সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান সব সময় হাতের মুঠোয় রাখা উচিত । নিজের উপর বিশ্বাস রাখা খুব জরুরী ।

একটু চেষ্টা করলেই সব সময় প্রিয় মানূষদের খুশি রাখা যায় । আড্ডাতে কখনও গীবত বা পরচর্চা করবেন না । ভালো কিছু বলতে না পারলে চুপ করে থাকবেন । ভদ্র মানূষ ধর্ম নিয়ে কখনো বাড়াবাড়ি করে না । কাউকে কথা দেয়ার আগে চিন্তা করা উচিত, কথা দিলে আমি তা রক্ষা করতে পারবো কিনা । দেশকে ভালোবাসা এবং দেশের জন্য কিছু করবো এইরকম মনোভাব থাকা খুব জরুরী । আমরা মহান এক জাতি । বিশ্বের সেরা জাতিতে পরিণত হতেই হবে । কাউকে নিয়ে উপহাস করা থেকে বিরত থাকতে হবে । সাহস ও কৌশলের সাথে নিজের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে । একটি ছোট ছিদ্র বিশাল জাহাজকেও ডুবিয়ে দিতে পারে, তাই ছোট ছোট ভুলের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে । কোনো কারনে সত্য বলতে না পারলে অহেতুক মিথ্যা না বলে চুপ করে থাকা ভালো ।

পথে নামলে পথই পথ দেখাবে । মস্তিস্কে ১০০ বিলিয়ন নিউরোনের প্রতিটি ১ হাজার থেকে ৫ লাখ নিউরোনের সাথে সংযুক্ত । যত উদ্যেগী ও সাহসী পদক্ষেপের কথা ভাববেন, নিউরোনগুলো তত একটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত হবে, তত তাদের কানেকটিভিটি বাড়বে । ভুলে গেলে চলবে না, অফুরন্ত সম্ভবনার আধার আপনার মস্তিস্ক । সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় আপনাকে রক্ষা করবে চলার পথে হোঁচট খাওয়া থেকে । আমি অনেক দেখেছি- মেধাবীদের চেয়ে সাধারণ মেধার মানূষরাই ক্যারিয়ার নির্মানে সফল হন বেশি । না জানার কারণেই মানূষের ভেতর শূন্যতা সৃষ্টি হয় । তাই বাঁচতে হলে জানতে হবে । জীবনের এই শূন্যতাই দূর করছে ধর্ম । ধর্ম বলে মানূষ এসেছে স্রষ্টার (ডারউইন আপাতত বাদ )কাছ থেকে । মৃত্যুর পর মানূষ আবার স্রষ্টার কাছেই ফিতে যাবে ধর্মের মূল শিক্ষা হচ্ছে এক ঈশ্বরের উপাসনা করা, সবার সাথে ভালো আচরণ করা আর সৃষ্টির সেবা করা । তাহলেই বেহেশতে যাওয়া যাবে । ধার্মিক হতে হলে সফল হতে হবে, ধনী হতে হবে । নবীজী (স) সফল ব্যবসায়ী ও রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন । কোরআনে নামাজের পাশাপাশি যাকাত দিতেও বলা হয়েছে । হযরত ইব্রাহিম (আ) একশ উট একদিনে কোরবানি দিয়েছিলেন ।

বিশ্বের সাড়ে ছয় কোটি মানূষের মধ্যে নিজেকে অনন্য ভাবুন ।আপনার মতো হুবহু দ্বিতীয় কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না । ঈশ্বর আপনাকে এমন কিছু মেধা দিয়েছেন যা আর কাউকে দেন নি । পৃথিবী সাহসী মানূষদের জন্য তাই নিজেকে সাহসী ভাবুন । আগুন ছাই চাপা দিয়ে যতই ঢেকে রাখা হোক, সে তার শক্তি ও ঔজ্জ্বল্য ঠিকই বিকিরিণ করতে থাকে । ইতিহাসে তারাই কালজয়ী হয়েছেন যারা পূর্ব পুরুষের প্রচলিত ভ্রান্ত সংস্কার ও আচরণ-অভ্যাসের ক্ষুদ্র বৃত্ত ভেঙ্গে বেরিয়ে এসেছেন । সুখের অভাবের নামই অসুখ । মনের সুখ দেহের সব অসুখকেই ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে । নিজেকে দুঃখী ও অবহেলিত মনে করা ঠিন নয় । কল্পনার মাধ্যমেই আমরা ভবিষ্যৎ সৃষ্টি করি এবং জীবনধারা বদলাই । মনে মনে নিজেকে নায়ক ভাবুন এবং সবকিছুতেই জয়ী ভাবুন । আপাত ব্যর্থতা আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে । কোনো অবস্থাতেই ধৈর্য্য হারাবেন না । আপনি ভয় পেয়ে থেমে গেলে অন্যরা এগিয়ে যাবে । বিজয় না আসা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান । দায়িত্ব নিতে পিছপা হবেন না । যত বড় দায়িত্ব নেবেন তত বড় সুযোগ আপনার জন্য তৈরি হবে । হবেই ।

একটি বাচ্চা জন্মের পর প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে শুধু হার-পা নাড়তে পারে । একসময় সে কাত হয়, তারপর শুরু হয় হামাগুড়ি দিয়ে হাতে-পায়ে হাঁটা । এরপর সে উঠে দাঁড়ায়, হাঁটি হাটি পা পা করে । হাঁটতে গিয়ে বার বার পড়ে । বার বার উঠে দাঁড়ায়, আবার হাঁটতে শুরু করে । একসময় কারো সাহায্য ছাড়াই সে হাঁটে দৌড়ায় । আপনি ও এইভাবে লেগে থাকুন সাফল্য আসবেই । কিছু মানূষ সবসময় নিজেকে জাহির করতে ব্যস্ত থাকে । এটা ঠিক নয় । এই ধরনের মানূষকে অনুকরণ করা ঠিক নয় । কে কী বলছে না বলছে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি নিজের সম্পর্কে কী ভাবছেন । মানূষ প্রথম পরাজিত হয় তার নিজের কাছেই ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29528079 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29528079 2012-01-23 23:05:49
রবীন্দ্রনাথের কোনো বিকল্প নাই -৫৩
রবীন্দ্রনাথের অতি আদরের কন্যার নাম- মীরা দেবী । মীরা দেবীর বিয়ে সুখের হয়নি । তাকে কঠিন দুঃসময় পার করতে হয়েছে । মীরা দেবীর বিয়ের স্নান করার জন্যে গোসলখানায় ঢুকলো । সেখানে প্রকান্ড এক খোকরো সাপ কুন্ডুলী পাকিয়ে শুয়ে ছিল । সাপটি ছোবল মারার জন্য ফণা তুলেছিল । মীরার দুঃখে কাতর হয়ে রবীন্দ্রনাথ চিঠিতে তার পুত্র রথীন্দ্রনাথকে লিখেছিলেন-'আজ আমার মনে হয় সে সাপ যদি তখনি ওকে কাটত তা হলে ও পরিত্রান পেত'। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিধবা বিয়ে প্রচলন করার জন্য রথীন্দ্রনাথকে বিয়ে দেন বিধবা প্রতিমা দেবীর সঙ্গে । এই বিয়েস্মসরণীয় করে রাখার জন্য বিয়ের তারিখ বসিয়ে তার বিখ্যাত উপন্যাস গোরা উৎসর্গ করা হয় রথীন্দ্রনাথকে ।

ক্লাশে শিক্ষক ছাত্রদের প্রশ্ন করলেন, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর তারিখ কে জানে ? এক ছাত্র বলল, স্যার ২২শে শ্রাবন । শিক্ষক বললেন গাধা ! কানে ধরে বেঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে থাক । রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু নেই । কিছুদিন আগে রবীন্দ্রনাথের জন্মের সার্ধশতবর্ষ
উৎসব হয়ে গেল বিশেষ করে কোলকাতা এবং বাংলাদেশে । রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সবাই ঝাপিয়ে পড়লেন । টিভি চ্যানেল এবং দৈনিক পত্রিকা গুলো । চ্যানেল আইয়ের লাফালাফিটা ছিল একটু বেশী । চ্যানেল আই কি বোঝে না ব্যাপারটা হাস্যকর ? কেকা ফেরদৌসী ঠাকুর বাড়ির রান্না নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করলেন । আবার দেখি রাঁধতে রাঁধতে রবীন্দ্র সংগীত গাইলেন । আমাদের পরম সৌভাগ্য রবীন্দ্রনাথকে এই ধরনের অনুষ্ঠান গুলো দেখতে হয়নি । রবীন্দ্র ফ্যাশন শো হলো । টিভি চ্যানেল গুলোতে টক শো'র মেলা বসলো । শিল্পী'রা রঙতুলি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লেন । তাদের রঙতুলি থেকে নানান রকম রবীন্দ্রনাথ বের হয়ে এলেন ।

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন মৃত্যুর শেষদিনও নোবেলজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা পড়েছিলেন। এছাড়া অস্কারবিজয়ী ভারতের জনপ্রিয় সঙ্গীতস্রষ্টা এআর রহমানের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানা গেছে। মাইকেল তার নতুন অ্যালবামে দু’জনে মিলে একটি সুর সৃষ্টির পরিকল্পনা করেন। বলা হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা পড়ার মাধ্যমে জ্যাকসন ভারতের সঙ্গে একটি বিশেষ সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছিলেন ।

রবীন্দ্রনাথের ব্যাক্তিত্ব ও তার প্রতিভার বিচিত্র দানের কথা অনেকদিন থেকে আমাদের দেশে ও সমস্ত পৃথিবীতে আলোচিত হয়ে আসছে । বাংলা সাহিত্যে আধুনিক কবিতার উদয়ের আগে রবীন্দ্রনাকাব্যের আওতার থেকে বেরিয়ে পড়বার দু-একটা প্রয়াস দেখা গিয়েছিল । ইংরেজ কবিরা যেনব যুগে যুগে ঘুরে ফিতে শেক্সপিয়র- এর কেন্দ্রিকতার থেকে সঞ্চারিত হয়ে বৃত্ত রচনা করে ব্যাপ্ত হয়ে চলেছে আমাদের কবিরাও রবীন্দ্রনাথকে পরিক্রমা করে তাই করবে- এই ধারনা প্রত্যেক যুগসন্ধির মুখে নিতান্তই বিচারসাপেক্ষ বলে বোধ হলেও অনেককাল পর্যন্ত অমূলক বা অসঙ্গত বলে প্রমানিত হবে না ।

এক ফরাসি সমালোচক একবার বলেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ যখন কবিতা লেখেন, তখন ছবি আঁকেন৷ আর যখন ছবি আঁকেন, তখন লেখেন কাব্য৷ পরে রাণী চন্দের ‘আলাপচারী রবীন্দ্রনাথ'-এ পাওয়া যাবে: রবীন্দ্রনাথ বলছেন, আমার ছবিকে নন্দলাল - অর্থাৎ নন্দলাল বসু - এত বড় কেন বলে জানি না৷ ওরা আমার একটা দর্শন মাত্র৷ একদিন দেখলাম শান্তিনিকেতনের বড় বড় গাছের ডালগুলি নানারকম জন্তু জানোয়ারের মূর্তি নিয়েছে৷ ছবিতে সেই দর্শনটিই রূপায়িত করতে চেষ্টা করলাম৷

রবীন্দ্রনাথের কবিতা লিখতে গিয়ে আঁকিবুকি কাটার অভ্যাস ছিল, ইংরিজিতে যাকে বলে ‘ডুডলিং'৷ অধ্যাপক সুকান্ত চৌধুরী তাঁর ‘মেটাফিসিক্স অফ টেক্স্ট' গ্রন্থটিতে এই ডুডলিং নিয়ে আলোচনা করেছেন৷ তবে তাঁর বক্তব্য শোনার আগে রবীন্দ্রনাথের ডুডলিং'এর দু'তিনটি সহজ দৃষ্টান্ত দেওয়া যেতে পারে । এটা সত্যি একটা আশ্চর্য জিনিস এবং আমার জ্ঞানত কোনো ভাষায়, কোনো দেশে অন্য কোনো কবি বা সাহিত্যিক এটা কখনো করেননি, বা অন্য কোনো চিত্রকরও করেননি৷ ভেবে দেখুন ব্যাপারটা: একসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ দুটো কাজ করছেন৷ একদিকে তিনি একটা কবিতা লিখছেন যেটা শেষ পর্যন্ত শুধু ছাপার অক্ষরে, অর্থাৎ শুধু শব্দের সমষ্টি হিসাবেই বই'য়ে মুদ্রিত হয়ে পাঠকের কাছে যাবে৷ সেই সঙ্গে পাশাপাশি তিনি একটা ছবি আঁকছেন৷ সেই ছবিটা কিন্তু আর কেউ দেখবে না৷ সেটা শুধু কবি নিজে দেখছেন, হয়তো তাঁর খুব কাছের মানুষ দু'চারজনকে তিনি দেখাচ্ছেন৷ একদিকে যেমন কাব্যরচনার শিল্পকর্মটা করছেন পাঠককুলের কথা ভেবে, একই সঙ্গে পাশাপাশি তিনি সম্পূর্ণ নিজের কথা ভেবে যেন একটা নিজের একান্ত, ব্যক্তিগত একটা শিল্পচেতনাকে সন্তুষ্ট করার জন্য আরেকটা শিল্পকীর্তি সৃষ্টি করে চলেছেন৷ একসঙ্গে এই দুটো শিল্পের কাজ একই পাতায়, একই কলমের ডগার থেকে বেরচ্ছে, এটা একটা আশ্চর্য জিনিস৷ এবং আমার জ্ঞানত এটা একমেবাদ্বিতীয়, এটা ইউনিক৷ আর কেউ কখনো করেছেন বলে আমি জানি না৷''

( চলবে )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29526657 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29526657 2012-01-21 22:35:44
শেষ কথা - ১১
গতকাল রাত আড়াই টায় হঠাৎ মা খুব অসুস্থ হয়ে পরে । আমি মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই । বাসার কেউই জানতে পাড়লো না । দুপুরের হোটেল থেকে তরকারী এনে ভাত খেয়েছি । রাতে আবীর আলু ভর্তা আর ডাল রান্না করেছে । আমি ডিম ভেজেছি । ( খেতে খারাপ হয়নি । ) ইচ্ছা ছিল ঝামেলা না করে নুডুলস রান্না করি । মা কি হাসপাতালের খাবার খাবে নাকি বাসা থেকে রান্না করে দিয়ে আসব বুঝতে পারছি না । আব বা'র সাথেও যোগাযোগ করতে পারছি না । ( ইং ৬/৫/০৭ )

এখন বাজে রাত এক টা । একটু আগে জানতে পারলাম আমার ফুপা মারা গেছেন । পুরান ঢাকায় এই ফুপার বাসায় আমি অনেকদিন ছিলাম । তিনি আমাকে অনেক আদর করতেন । ফুপা'র জন্য খুব খারাপ লাগছে । আমি তাকে শেষ দেখা দেখতে যাবো না । গত দুই বছরে ফুপা'র সাথে আমার কোনো কথা হয়নি যদিও দেখা হয়েছে বেশ কয়েকবার । বিকেলে গেলাম চায়ের দোকানে । এই দোকান স্বামী স্ত্রী দুইজন মিলে পরিচালনা করেন । তাদের মুখের ভাষা খুবই অশালীন । ( ইং ২৭/০৭/০৭ )

সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটা সিনেমা দেখলাম । "হঠাৎ নীরার জন্য ।" নিউ মা্রকেট গেলাম জুতা কিনতে বিকেলে । আজ ২৬ রোজা শেষ হলো । ইফতারীরি সময় হওয়ার আগেই আমি ইফতারী খেয়ে ফেলি । আজও গোসল করা হয়নি । আগামীকাল আমার জন্মদিন । ভিজে ভিজে চায়ের দোকান থেকে বাসায় ফিরলাম । আকাশের অবস্থা ভালো না । বৃষ্টি হতে পারে । আজর আলী মাতব্বর এর বইটা খুঁজে পাচ্ছি না । কে নিয়েছে ? কে নিয়েছে ?? ( ইং ০৯/১০/০৭ )

একটা কৌতুক দিয়ে লেখাটা শুরু করে ছিলাম, আবার একটা কৌতুক দিয়েই লেখা টা শেষ করতে চাই- এক ধার্মিক ব্যক্তি আর এক নাস্তিক পাশাপাশি হাটছিল। ধার্মিক ব্যক্তি স্বভাবসুলভ পাশের ব্যক্তিটিকে নামাজ-রোজা এসবের ফজিলত বর্ননা শুরু করতেই নাস্তিক ব্যক্তির প্রশ্ন: আপনি আল্লাহরে বিশ্বাস করেন?
ধার্মিক ব্যক্তি একটু থতমত খেয়ে জবাব দেয়: হ্যা ।
নাস্তিক: কেন ?
ধার্মিক: বাহ, আমাদের সৃষ্টিকর্তা, আমাদের পালনকর্তাকে বিশ্বাস করবো না ?
নাস্তিক মহাশয় এবার একটা ব্যঙ্গ হাসি হেসে বললো: আপনি দেখেছেন কখনো আল্লাহকে ? আর, আল্লাহকে মানতে গেলে তো ভাগ্যকেও মানতে হয়- ভালো আর মন্দ তাহলে তো সবই আল্লাহরই কাজ- তাতে আমাদের কি কোন হাত আছে ?
নাস্তিকের প্রশ্ন দুটি শুনে ধার্মিক ব্যক্তি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর, হঠাৎ করেই একটা ইট তুলে- নাস্তিকের মাথায় মেরে বসলো ।

থানা-পুলিশ হয়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালো। বিচারক ধার্মিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনাকে ঐ ব্যক্তি দুটো প্রশ্ন করলো- আর আপনি তাকে এভাবে আঘাত করলেন ? বেচারি কত ব্যথা পেলো!
ধার্মিক ব্যক্তি: আমি তার দুটি প্রশ্নের জবাব এক ইট দিয়ে দিয়েছি ।
বিচারক: সেটা কিভাবে ? ধার্মিক ব্যক্তি: সে বলেছে যা দেখা যায় না,তা বিশ্বাস করা যায় না । তাহলে সে যে ব্যথা পাচ্ছে তা তো আপনি আমি কেউ দেখছিনা । সে শুধু অনুভব করছে।
বিচারক: আর, দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর ? ধার্মিক ব্যক্তি: ওটা তার কপালে লেখা ছিল।

(চলবে )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29526273 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29526273 2012-01-21 12:42:55
মানুষকে কেবল ভেতর থেকে বুঝতে চাই তোমার অভিমানী চোখে শুধু জল
দু'জনের ফিরে যাওয়া দু'জন দেখলাম

( একটা কবিতা লিখতে চেষ্টা করছি । কিন্তু পারছি না । তিন লাইন লিখে থামলাম । কিছুতেই আর একটা লাইনও লিখতে পারছি না । সোমবার, রাত ৮ টা । )


ভালোবাসাহীন জীবনের চেয়ে মৃত্যু অনেক সহজ
তোমার বুকে মাথা রেখে অন্যভুবনের স্বাদ পেয়েছি
যখন ভাবি তোমার বুকে আর মাথা রাখা হবে না-
তখন লাশ হয়ে যাই । কাঁদে না ছি !

( দুই লাইন লিখেই- মনে হচ্ছে অনেক লিখেছি । আজও লিখতে পারছি না । কোনো উপমা মাথায় আসছে না । মনে হচ্ছে বুকের মধ্যে কেমন চাপ চাপ কষ্ট জমাট বেঁধে আছে । মঙ্গল বার সকাল ১১ টা । )

কেউ না কেউ আমার অপেক্ষায় আছে
কাছে গেলে চুমু পাবো আলিঙ্গন পাবো
আমাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা তোমার আর ফুরাবে না
তুমি তো জানো- তুমি তো বোঝ না বোকা মেয়ে,
আমি তো হারিয়ে যাবো অন্ধকারের ভীড়ে ।

( আজও লিখতে পারছি না । মাথার ভেতরে কোনো শব্দ নেই । খুব বুঝতে পারছি আমাকে দিয়ে কিছুই হবে । ভাঙ্গা কূলার ছাই হয়েই সারা জীবন থাকতে হবে । বুধবার, সন্ধ্যা ৭ টা । )

তুমি উড়িয়ে আঁচল ছড়িয়ে সৌরব- অবহেলায়,
আমি ঝড়ের মুখে দাঁড়াব, সমুদ্রে দাঁড়িয়ে পাহাড় দেখব
আমি তোমাকে দেখব- তুমিই আমার সমুদ্র-পাহা

( অসহ্য । পারবো না । হবে না আমাকে দিয়ে । আমি শূন্য । বৃহস্পতিবার । রাত ১২ টা ৫৫ মিনিট । যাই ঘুমাই । এখন সবচেয়ে আনন্দময় সময়টা হচ্ছে ঘুমের সময়টা ।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29525042 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29525042 2012-01-19 13:09:33
টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা -১৮
১/
আমি বা আপনি মরে গেলেও পৃথিবীতে ভোর হবে, রাত হবে -সন্ধ্যা হবে । নিন্দুকেরা হাতে তালি দিয়ে চা খেতে খেতে হাসবে । আর পরিচিত'রা ক'দিন আর মন খারাপ করে বসে থাকবে ! এই শহরে যেমন আমাদের অনেক কল্যানকামী মানূষ আছে আবার নিন্দুকও কম নেই । আমি যদি আমার ইচ্ছা মতো বাঁচতে না পারি তাহলে বাঁচবো কেন ? অন্যের ইচ্ছায় বাঁচার মধ্যে কোনো আনন্দ নেই । পৃথিবীতে সবচেয়ে সহজে যে শোক ভোলা যায় তার নাম হচ্ছে- মৃত্যু শোক । এখন গভীর রাত । শহরের অর্ধেকের বেশী মানূষ ঘুমিয়ে আছে । ক্ষমতা, যশ, প্রচার, বাড়ি, ব্যবসা, টিভি, নারী, মদ এবং গালমন্দ এইসব নিয়ে আমরা আছি । কি চমৎকার ! আর যারা বড় বড় নীতির কথা বলেন, তাদেরকে বলছি- জ্ঞান আমারও কিছু কম নেই । আপনাদের মতন অবলীলায় তা বিতরণ করতে পারি না, এই যা ।

২/
"পৃথিবীর সব গল্প একদিন ফুরাবে যখন, মানুষ রবে না আর, রবে শুধু মানুষের স্বপ্ন তখন "। তোমার জন্য এক আকাশ তৃষ্ণা পুষে রেখেছি বলেই কি তোমাকে পাবো না ! আমি কি তোমার জীবন আনন্দময় করে তুলতে পারতাম না ? তুমি ধীরে ধীরে নানান ব্যবস্তা দেখে সরে পড়লে । তোমার সাথে সম্পর্ক শেষ ভাবলেই নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হয় । মানূষ জইটিল ব্যাপারগুলো খুব সহজেই বুঝে ফেলে, সহজ ব্যাপারগুলো বুঝতেই সময় নেই । কাকে ভালোবাসা বলে আমি ঠিক বুঝি না । সবকিছু মিলিয়ে তোমাকে ভালোবাসি কিনা তাও আমি ঠিক বুঝি না । বুঝতে পারছি জীবন অনেক কঠিন । ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, পাওয়া যায় না । ভেবেছিলাম তোমাকে একটি লম্বা চিঠি দিবো । তারপর ভাবলাম- না থাক । কি হবে গোটা কতক প্রানের আবেগ লিখে । কঠিন দুঃখ মানূষকে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয় ।

৩/
এই সভ্য নগরীতে আমার কোনো বন্ধু নেই । আমি নিজেই আমার বন্ধু । আমিই আমার পরিচিত । কেউ তো কখনও বন্ধুত্বের হাত বাড়ায়নি বরং দূর থেকে হাসাহাসি করেছে । গভীর রাতে টপটপ করে চোখ থেকে পানি পরে, একা ঘরে । একা থাকার এই হচ্ছে সুবিধা । কেউ দেখবে না, কেউ জানবে না । ঈশ্বরকে কখনো করুনাময় বলে মনে হয় না, মনে হয় খুব নির্মম । আমার মতো ভাগ্যবান ছেলে খুব কম আছে । তার কারন এই দুনিয়া খুব নিষ্ঠুর । এই সমাজে সত্যিকারের ভালোবাসা পাওয়া সম্ভব নয় । কিন্তু আমি পেয়েছি । এক আকাশ স্নেহ-ভালোবাসা । আমি ইচ্ছা করে অনেক কিছু থেকে সরে গিয়েছি, নিজেকে বঞ্চিত করেছি । ব্যাথ্যা সহ্য করার ক্ষমতা আমার আছে । অতি তীব্র ব্যাথ্যা আমি হাসি মুখে সহ্য করতে পারি ।

৪/
ভালোবাসা একটি মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক একটি অভিজ্ঞতা। বিশেষ কোন মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ভালোবাসা। তবুও ভালোবাসাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়। আবেগধর্মী ভালোবাসা সাধারণত গভীর হয়,বিশেষ কারো সাথে নিজের সকল মানবীয় অনুভূতি ভাগ করে নেয়া, এমনকি শরীরের ব্যাপারটাও এই ধরনের ভালোবাসা থেকে পৃথক করা যায়না। ভালোবাসা বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমন: নিস্কাম ভালোবাসা, ধর্মীয় ভালোবাসা, আত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা ইত্যাদি। আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে, যে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি অতিরিক্ত স্নেহ প্রায় সময় খুবই আনন্দদায়ক হতে পারে...এমনকি কোন কাজ কিংবা খাদ্যের প্রতিও। আর এটাই অতি আনন্দদায়ক অনুভূতিই হলো ভালোবাসা। ভালোবাসার সাধারণ এবং বিপরীত ধারণার তুলনা করে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভালোবাসাকে জটিলভাবে বিচার করা যায়। ধনাত্নক অনুভূতির কথা বিবেচনা করে ভালোবাসাকে ঘৃণার বিপরীতে স্থান দেয়া যায়। ভালোবাসায় যৌনকামনা কিংবা শারীরিক লিপ্সা একটা গৌণ বিষয়। এখানে মানবিক আবেগটাই বেশী গুরুত্ববহন করে। কল্পনাবিলাসীতার একটা ক্ষেত্র হচ্ছে এই ভালোবাসা। ভালোবাসা সাধারণত শুধুমাত্র বন্ধুত্ব্ব নয়। যদিও কিছু সম্পর্ককে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব বলেও অবিহিত করা যায় ।

৫/
দুই বন্ধুর মধ্যে কথা হচ্ছে—
প্রথম বন্ধু: জানিস, আমার আর লিজার বিয়ে হয়ে গেছে।
দ্বিতীয় বন্ধু: তাই নাকি রে! আগে তো বলিসনি। এত দিন প্রেম করলি। তা কবে তোদের বিয়ে হলো?
প্রথম বন্ধু: আমার বিয়েটা হয়েছে এ মাসের ১৬ তারিখ। আর লিজার ২৫ তারিখ।
*** *** *** ****
: বিশ্বাস করবে না হয়তে। কিন্তু সত্যি বলছি কাজী সাহেব যখন বিয়ের কলেমা পড়াচ্ছিলেন তখনই সাবের মজলিশ থেকে ছুটে পালিয়ে গেল।
: কেন, শেষ মুহুর্তে সাহস হারিয়ে ফেলেছিল বুঝি?
: না, সাহস ফিরে পেয়েছিল ।

৬/
“আল্লাহর জন্য ভালোবাসা” সম্পর্কে জাহেলী যুগে মানুষের কোন ধারণা ছিল না। স্বাদেশিকতা বংশ সম্পর্ক বা অনুরূপ কিছু ছিল তাদের পরস্পর সম্পর্কের মূল ভিত্তি। আল্লাহর বিশেষ দয়ায় ইসলামের আলো উদ্ভাসিত হল। পরস্পর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় উৎকর্ষতা আসল। ধর্মীয় সম্পর্ক সর্বোচ্চ ও সুমহান সম্পর্ক হিসেবে রূপ লাভ করল। এ-সম্পর্কের উপরেই প্রতিদান, পুরস্কার, ভালোবাসা ও ঘৃণা সাব্যস্ত হল। ইসলামের বিকাশের সাথে সাথে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ইত্যাদি পরিভাষা চালু হল । আল্লাহর জন্য ভালোবাসা-এর অর্থ হচ্ছে, এক মুসলিম ভাই অপর মুসলিম ভাইয়ের কল্যাণ ও আল্লাহর আনুগত্য কামনা করা। সম্পদের মোহ, বংশ বা স্থান ইত্যাদির কোন সংশ্লিষ্টতা এক অপরের সম্পর্কের ও ভালোবাসার মানদণ্ড হবে না। এক ব্যক্তি অন্য গ্রামে বসবাসকারী নিজ ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বের হল। মহান আল্লাহ তার জন্য পথে একজন ফেরেশতা মোতায়েন করে রাখলেন। যখন সে ফেরেশতা সে ব্যক্তির নিকটবর্তী হল, বলল তুমি কোথায় যাও ? সে বলল, এই গ্রামে বসবাসকারী আমার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করা আমার উদ্দেশ্য। ফেরেশতা বলল, তার কাছে তোমার কোন পাওনা আছে কি-না ? সে বলল, না। কিন্তু আমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। তখন ফেরেশতা বলে উঠল, নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত দূত। মহান আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে ভালোবেসেছেন যে রকম তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবেসেছ। (সহীহ মুসলিম:৪৬৫৬)

৭/
‘নাস্তিকতা’ ও ‘আস্তিকতা’ শুধুমাত্র দুটি বিপরীতার্থক শব্দ নয়। ব্যক্তিগত চিন্তা-স্বাধীনতার অধিকার বলে বিবেচনা করা হলেও এদের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সমাজে প্রতিফলিত হয়, কেননা সমাজ হচ্ছে ব্যক্তির সমষ্টি। আস্তিকতার ভিত্তি হচ্ছে স্রষ্টা প্রদত্ত নৈতিকতার গাইডলাইন (যেমন কোরান, বাইবেল ও তোরাহ)। নৈতিকতা এবং সমাজের প্রচলিত রীতি-নীতি ও আইন-কানুন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অন্যদিকে নাস্তিকতাবাদের ভিত্তি হচ্ছে বস্তুবাদ। বর্তমানে এটা বিজ্ঞানের নামে বিবর্তনবাদ তত্ত্বের খোলসে প্রচার করা হয় (বিস্তারিত বিজ্ঞান, বিবর্তনবাদ ও নাস্তিকতা)। তাই এর নৈতিকতার ভিত্তি হচ্ছে ডারউইনবাদ।

আস্তিক্য নৈতিকতা অনুযায়ী পৃথিবীর সব সমাজেই ধর্ষণ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও প্রচণ্ড শাস্তিমূলক অপরাধ। কিন্তু নাস্তিক্য/ডারউইনবাদী নৈতিকতা অনুযায়ী ধর্ষণকে পজিটিভ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়! এক জরিপে দেখা যায় ধর্ষণের মাধ্যমে প্রায় ৩০% মহিলা গর্ভবতী হয়। অন্যদিকে সহমত অনুযায়ী একবার মিলিত (consensual sex) হলে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা ২-৪%। এই পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে বায়োলজি প্রফেসর রান্ডি থর্নহীল (Randy Thornhill) ও নৃ-বিজ্ঞানী ক্রেইগ পালমার (Craig Palmer) তাদের লিখিত “Natural History of Rape” বই-এ ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদ অনুযায়ী দাবী করেন ধর্ষণ হচ্ছে প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল বা এডাপ্টিভ (Adaptive), কেননা প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে কোন প্রজাতিকে টিকে থাকার জন্য ধর্ষণ সহায়ক! পুরুষেরা নাকি ধর্ষণের মাধ্যমে তাদের জীন ছড়িয়ে দেয় যা তার বংশধারা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে! প্রাণীজগতেও ধর্ষণ বিদ্যমান। তার মানে বিবর্তনবাদীয় ধারায় এই স্বভাব মানুষও অর্জন করেছে! পরবর্তীতে তাদের এই ধারণাকে অপ-বিজ্ঞান বলে আখ্যা দেওয়া হয় (বিস্তারিত)। কিন্তু বিবর্তনবাদী সাইকোলজিষ্টরা মনে করেন তারা পলিটিক্সের শিকার। বিবর্তনবাদীয় সাইকোলজি অনুযায়ী মানবের সব স্বভাবই (মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা ইত্যাদি) এডাপ্টিভ হিসেবে গণ্য করা হয়, কেননা এগুলো প্রজাতির বংশধারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বজায় রাখতে মূখ্য ভূমিকা পালন করে।

( তথ্যসুত্রঃ আমি এবং ইন্টারনেট )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29523817 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29523817 2012-01-17 12:42:11
রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে- ১৭
সফিক বড়শী ফেলে অনেকক্ষন ধরে বসে আছে । কোনো মাছ আঁধার খাচ্ছে না । না কি মাছ নেই এই পুকুরে ? সফিক মনে মনে খুব বিরক্ত হলো । একবার তার ইচ্ছা করলো-এখান থেকে উঠে যাবে । তখনই মাথার ভেতর কে যেনো বলল- আর একটু বসে যাও, মাছ পেতে পারো । আর এখান থেকে উঠেই বা কোথায় যাবে । চারিদিক কড়া রোদ । সফিকের খুব অস্থির লাগছে । সফিক হঠাৎ দেখলে তার বড়শীর ছিপির মাথায় একটা কালো রং এর সাপ ভেসে উঠেছে । সফিক খুব ভয় পেলো । ছোট আকারের সাপটি মাথা তুলে সফিকের দিকে তাকিয়ে আছে । সফিক মনে মনে ভাবল আজ আর কপালে মাছ নেই । সফিক ছিপটি টান দিতেই সাপটি মানুষের মতন কথা বলে উঠল- ভয় পেও না, আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না, তবে এইটুকু তোমাকে বলি- এই সয়ম তোমার এখানে আসা ঠিক হয়নি, বলেই সাপটি পানির নিচে ডুব দিলো । সফিক অবাক হয়ে পানির দিকে তাকিয়ে রইল আর তখন আর একটি বড় সাপ পানির ভেতর থেকে উঠে বলল- তোমার নাম কি ? সফিক তার নাম বলল ।

সাপটি বলল- তুমি খুব ভাগ্যবান, তারপর সাপটি পানির নিচে ডুব দিলো । সফিক অবাক হয়ে বসে ভাবতে লাগল- আজ কোনো মাছ পেলাম আর আমি নাকি ভাগ্যবান । সফিক যখন ভাবল চলে যাবে ঠিক তখনই পানির ভেতর থেকে খুব সুন্দর একটা মেয়ে ভেসে উঠল । মেয়েটার মাথা ভর্তি চুল আর দুই হাত ভর্তি্ কাচের চুড়ি । মুখটা মায়া দিয়ে ভরা । সফিক অবাক চোখে তাকিয়ে থাকল । এত সুন্দর মেয়ে তার জীবনে সে দেখেনি । মেয়েটি সফিকের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলল- তুমি কি জানো তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি ?

সফিক মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল- তুমি কে ? আমি তো তোমাকে ভালোবাসি না । মেয়েটি বেশ কিছুক্ষন হেসে বলল- তুমি আমাকে ভালোবাসো না, কথাটি বিশ্বাস করতে পারলাম না । তুমি সত্যি করে বলতো এতক্ষনে তুমি আমাকে ভালোবেসে ফেলোনি ? তোমার কি ইচ্ছা হয়নি আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে ? সফিক মিথ্যা বলতে পারলো না । বলল- তোমার মত এতো সুন্দরী মেয়ে আমি আমার জীবনে দেখিনি । তোমাকে ভালো না বেসে পারি ? মেয়েটি সুন্দর এক ঝলক হাসি দিয়ে বলল, সত্য কথা বলার জন্য ধন্যবাদ । আমার পরিচয় হচ্ছে- আমি এই পুকুরের রানী, আমার অনুমতি ছাড়া এ পুকুরের কোনো মাছ খাদ্য খায় না । তোমার বড়শীতে যে খাদ্য তুমি দিয়েছ তা এই পুকুরের কোনো মাছ আমার অনুমতি ছাড়া কেউ খাবে না । তুমি কত মাছ ধরতে চাও বলো ? আমি সব ব্যবস্থা করে দিবো । শুধ মাছ নয়, অনেক মূল্যবান জিনিস তুমি চাইলে পাবে । শুধু আমার একটা কথা তোমার শুনতে হবে । সফিক বিড়বিড় করে বলল- কি কথা, বলো ? মেয়েটি বলল- আমাকে বিয়ে করতে হবে । আমি মানূষ জাতিকে বিয়ে করতে চাই । একজন ভালো মানুষকে বিয়ে করতে চাই । তোমাকে আমার খুব ভালো লেগেছে । তুমি আসার আগে আমি বটগাছটার গুড়িতে বসে রবীন্দ্র সংগীত গাইছিলাম ।ছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে পাওনি । এখন বলো, তুমি কি আমাকে বিয়ে করতে রাজী আছো ?

সফিকের মাথায় যেন এক আকাশ ভাবনা এসে জড়ো হলো । বিয়ে করবো না, একথাটা বলতে সাহস পাচ্ছে না । কেননা এতো সুন্দর মেয়ে । পুকুরের রানী'র রুপে মনে মনে সে প্রায় পাগল । তবুও বলল, তুমি হলে জলের রানী, আর আমি ডাঙ্গার মানুষ । তোমার আমার মাঝে কি করে বিয়ে হবে ? এ ও কি সম্ভব ? মেয়েটি বলল, হুম সম্ভব । যদি তুমি আমাকে মন থেকে ভালোবাসো । তোমার ভালোবাসা দিয়ে আমাকে জয় করতে পারো । যদি তোমার ভালোবাসায় খাদ না থাকে । ঠিক এই সময় সফিক দেখলো- তার চারপাশে অসংখ্য সাপ ফণা তুলে তার দিকে তাকিয়ে আছে । সফিক ভেতরে ভেতরে খুব ভয় পাচ্ছে । আবার মেয়েটির সানিধ্যে মুগ্ধ হচ্ছে । মেয়েটির কাছ থেকে যে্তে ইচ্ছা করছে না আবার থাকতেও ইচ্ছা করছে না । চারপাশ দিয়ে সাপগুলো ফণা তুলে আছে । চলে যাওয়ার সময় যদি সাপগুলো কামড় দেয়, যদি সে আর বাড়ি ফিরে যেতে না পারে, ভয়ে কিছুই বলতে পারছে না জলের দেবীকে ।

মেয়েটি সফিকের মুখের দিকে তা্কিয়ে বলল- সফিক, তুমি ভয় পাচ্ছো কেন ? আমি তোমাকে আটকিয়ে রাখিনি । তুমি ইচ্ছা করলে চলে যেতে পারো । ওরা কেউ তোমার কোনো ক্ষতি করবে না । এই বলে মেয়েটি সাপগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল- তোরা সব এখান থেকে চলে যা । আর তখনি সাপগুলো মাথা নিচু করে চলে গেলো । সফিক লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল । মনে মনে বলল, হে জলের দেবী অনেক ধন্যবাদ । এবার সফিক জলের রানীর দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট উচ্চারনে বলল- তুমি হলে রানী আর আমি হলাম একজন গরীব মানুষ । আমার ভাঙ্গা ঘরে তোমাকে কোথায় রাখবো । ভাঙ্গা ঘরে তোমাকে মানাবে না, তোমার প্রয়োজন রাজপ্রাসাদ । মেয়েটি বলল- সফিক, তুমি ধনী কি গরিব এটা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না । আমার কাছে তুমি অনেক বড়, অনেক ধনী । তুমি যদি বলো, আমি তোমাকে রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি বানিয়ে দিবো, আর তুমি যদি বলো, তোমার কুড়ে ঘরে থাকতে, আমি লক্ষ্মী মেয়ের মতন থাকব । বছরে দু'টা চুন্ডী শাড়ি তো কিনে দিতে পারবে ? সফিক বলল- শোনো হে রানী, আমি খুব গরীব মানূষ । তোমাকে আমার ভাঙ্গা ঘরে রাখব এমন সাহস আমার নেই ।

মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বলল- বুঝেছি সফিক, তুমি তোমার সমাজকে ভয় পেয়েছো । আমার মতো নারীকে কেউ মেনে নিবে না । অনেকে নানান ধরনের কথা বলবে, তুমি তা সইতে পারবে না । আবার হয়তো প্রতিবাদ করার ক্ষমতাও তোমার নেই । তবে শোনো, আমি এমন কিছু তোমার জন্য করবো যে কেউ তোমার উপর কথা বলার সাহস পাবে না । সফিক, আজ তুমি বাড়ি চলে যাও, তোমাকে জোর করে আটকে রাখতে চাই না । তুমি তোমার মা'র অনুমতি নিয়ে ফিরে এসো । কাল ফিরে এসে দেখবে, এখানে তৈরি থাকবে তোমার জন্য রাজপ্রাসাদ । আর শোনো, এবার সত্য কথা বলি, আমার জন্মের পঁচিশ বছরের মধ্যে যদি কোনো মানবজাতির পুরুষের সাথে বিয়ে না হয়- তবে আমি মারা যাবো । আগামীকাল আমার পঁচিশ বছর পূর্ণ হবে । কাল সূর্য ডোবার সাথে সাথে আমি মারা যাবো । তুমি আমার জীবনটা রক্ষা করো । আমি সারাটা জীবন তোমাকে এক আকাশ ভালোবাসায় ঘিরে রাখব । মধ্যরাত্রে চা খেতে ইচ্ছা করলে চা বানিয়ে দিবো । জলের রানীর দু'চোখ বেয়ে জল গড়াচ্ছে । মেয়েটি পুকুরে নেমে যাওয়ার আগে বলল, কাল সূর্য ডোবার আগে তুমি এসো, আমি এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে অপেক্ষায় থাকব ।

সফিকের বুকের ভেতরটা ছটফট করতে লাগল । অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটিকে আর দেখতে পেলো না । বাড়ি ফিরে সফিক মাকে সব বুঝিয়ে বলল । মা রাজি হলেন । সফিক সারা রাত অস্থিরতার মধ্যে কাটালো । একটুও ঘুম এলো না তার । একটা জীবন তার বাচাতেই হবে । শুধু জীবন বাঁচানো নয় তার জীবনও ধন্য হবে জলের দেবীর ভালোবাসা পেয়ে ।

সকালের আলো ফুটতেই সফিক ছুটে গেলো সেই পুকুরের ধারে । তখনো আকাশ পুরোপুরি ফর্সা হয়নি । পুকুরের জাগাটায় সত্যি সত্যি এক রাজপ্রাসাদ । রাজপ্রাসাদের বারান্দায় পথ চেয়ে দাঁড়িয়ে আছে- সুন্দরী এক তরুনী, তার মুখে এক আকাশ মায়া । জলের রানী । সফিক কাছে গিয়ে জলের দেবীকে জড়িয়ে ধরল । ফিসফিস করে বলল- ভালোবাসি । অনেক ভালোবাসি ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29522662 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29522662 2012-01-15 11:23:42
ফোটোগ্রাফি -৩
আমি বাঙালী, আমি বাংলাদেশী, আমি দক্ষিণ এশীয়.... কিন্তু সবার উপরে আমি একজন মানুষ... এটিই আমার পরিচয় । ক্যামেরা কিনে ছবি তুলতে শুরু করেন । শিখে যাবেন । বই পড়ে কেউ সাইকেল চালাতে শিখে না । বড় জোর ট্রাফিক নিয়ম শিখে । ফটোগ্রাফিই যদি করতে চান তাহলে: ৩.১. ম্যানুয়াল সেটিং আছে এরকম ক্যামেরা কিনেন । ৩.২. ১০+ অপটিক্যাল জুম সহ কিনবেন । ৩.৩. অবশ্যই ডিজিটাল ক্যামেরা কিনবেন । ফ্রেমিং এবং টাইমিং এর ব্যাপারে যত্নশীল হবেন । ফ্রেমিং হচ্ছে অবজেক্টটা আপনি কিভাবে ফ্রেমের মধ্যে আনছেন । সবসময় যে অবজেক্ট মাঝখানে হতে হবে এমন কোন কথা নেই । বরং ছবিটা কিভাবে তুললে দেখতে সুন্দর হবে সে ব্যাপারে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন ।

টাইমিং হচ্ছে আপনি ছবিটা ঠিক সময়ে ফ্রেমবন্দি করতে পারলেন কিনা । মাত্র এক মিলিসেকেন্ড এদিক-ওদিক হলেই আপনি খুব সুন্দর একটা শট হারাতে পারেন । কাজেই চলন্ত কিছুর ছবি তোলার সময় বা চলন্ত অবস্থায়( বাস, ট্রেন ইত্যাদি ) ছবি তোলার সময় আপনার মস্তিষ্ককে ছোটখাট একটা ডুয়াল কোরের সমগতিতে কাজ করাতে হবে... যাতে সঠিক সময়ে ফ্রেমিং ঠিক রেখে সঠিক শটটি নিতে পারেন । ছবি তোলার ক্ষেত্রে আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে লাইটিং কন্ডিশন এবং শাটার স্পিড । সঠিক সময়ে সটিক অপশনগুলো বাছাই করলে ভাল শট নেয়া সম্ভব । যেমন আপনি সকালে একরকম আলো পাবেন, বিকালে পাবেন অন্যরকম আলো । আবার রাতে খুবই কম আলো পাবেন । বেশি আলোতে ছবি তোলার সময় ফ্ল্যাশ বন্ধ করে অটো শাটার স্পিড সিলেক্ট করুন আর কম আলোতে ছবি তোলার সময় কাছের বস্তুর ক্ষেত্রে ফ্ল্যাশ চালু রেখে অটো শাটার স্পিড রাখুন এবং দূরের বস্তুর ক্ষেত্রে ফ্ল্যাশ বন্ধ রেখে ম্যানুয়াল শাটার স্পিড নির্বাচন করুন ১-১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত । এত কম শাটার স্পিডে খালি হাতে ক্যামেরা স্থির রাখা সম্ভব নয় । কাজেই এক্ষেত্রে ট্রাইপড বা অবজেক্টের সাথে সমান্তরাল কিছুর ওপর ক্যামেরা রেখে ছবি তুলুন ।
আবার ধরুন আপনি দ্রুতগতির কোন বাস বা ট্রেনে করে চারপাশের ছবি তুলতে তুলতে যাচ্ছেন । এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আলো এবং দ্রুত শাটার স্পিড অত্যন্ত জরুরী । শাটার স্পিড বেশি না থাকলে এবং আলো কম থাকলে ছবি স্পষ্ট আসবে না।

সাদা কালো ছবিতে রং নিয়ন্ত্রন করা রঙ্গিন ছবির তুলনায় অনেক সহজ । একজন দক্ষ ফোটোগ্রাফার ক্যামেরার মাধ্যমে হোক আর ফোটোশপের কারিগরি ব্যবহার করেই হোক, রং নিয়ন্ত্রন করে একটি অসাধারণ ছবি বের করে নিয়ে আসতে পারেন । রং এর আধিক্য না থাকার কারণে বিষয়-বস্তুকে মনোযোগের কেন্দ্রে আনা তুলনামুলক সহজ। এ বিগিনার্স গাইড টু ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ফোটোগ্রাফি বইটিতে সাদাকালো ফোটোগ্রাফি বিষয়ে অনেক কিছু আলোচনা করা হয়েছে । আশা করছি আগ্রহী কেউ এটা থেকে কিছু ট্রিকস জেনে কিছু এক্সপেরিমেন্ট করবেন।

ফ্রেমিং সম্পর্কে বর্তমানে আপনার নুন্যতম আইডিয়া না থাকলেও কোন সমস্যা নেই( আমার ছিল না) । কারন এইটা পুরোপুরিই প্রাক্টিসের বিষয় । আপনি কিভাবে অর্থাৎ কোন এঙ্গেলে ছবিটা তুলবেন সেটা নির্ভর করছে ফ্রেমিং এর উপর।আসলে, আপনি চোখে যতটুকু দেখছেন তার পুরোটুকু তো আর তুলতে পারবেন না । যতটুকুর ছবি তুলতে চান ততটুকুকে ফ্রেমে নিয়ে আসাই হচ্ছে ফ্রেমিং । এই তো হল সংজ্ঞা, আসলে ফ্রেমিং কি সেটা আমরা সবাই ই জানি । যেটা জানা দরকার সেটা হল কিভাবে এই ফ্রেমিং আইডিয়াটা কে ডেভলাপ করা যায়।

কবিতা লিখলেই কবি না আর ছবি তুললেই ফটোগ্রাফার না । তাহলে স্টুডিওর ক্যামেরাম্যানরাই হতো সবচেয়ে বড় ফটোগ্রাফার । আজকাল দু্‌ই হাজার টাকার মোবাইলে ক্যামেরা থাকে। তারাও ছবি তুলে । কিন্তু ফটোগ্রাফী সর্ম্পুন আলাদা একটি একাডেমিক বিদ্যা । আমাদের দেশে ফটোগ্রাফারের সংখ্যা খুবই কম। হাতে গোনা কয়েকজন । বিশ্বের অনেক দেশ আছে যেখানে ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে অনেকেই ।

ডাক্তারী পড়াশোনায় যত জন র্ভতি হয় সবাই ডাক্তার হয়না । হিসেব করলে দেখা যাবে তার দশ ভাগের এক ভাগ ফটোগ্রাফীতে র্ভতি হয়না । আর পেশা হিসেবে ফটোগ্রাফী নাই বললেই চলে। মানুষের প্রতিভা ভিন্ন মুখী । সবাই একরম হয়না । একেক জন একেক পেশায় নিজের পতিভা তুলে ধরতে পারে । আমাদের উচিত মানুষের সৃজন শীল প্রতিভাকে মুল্যায়ন করা। উৎসাহ দেয়া ।

( চলবে )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29521761 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29521761 2012-01-13 17:13:33
ভূতের বাপের নাম হামবুড়া
বাধ্য হয়ে এ অবস্থা থেকে পরিত্রানের জন্য আমাকে ডাকা হলো । গর্ব করি না কিন্তু খুব অল্প সময়ে ভূত তাড়ানোয় আমার খুব নাম-ডাক আছে । চৌধুরী বাড়ির নতুন বউ আমাকে দেখেই রাগে চোখ বড় হয়ে গেলো । চোখ মুখ খিচিয়ে আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করতে লাগল । তবুও আমি কোনো ভয় পেলাম না, এরকম অনেক দেখেছি । সারা দেশে আমার অনেক খ্যাতি আছে ।মধ্যরাত্রে আমি উঠানে শীতল পাটি বিছিয়ে বসলাম । আমার সামনে আগরবাতি জ্বলছে, চারিদিকে সৌরবে ভরে গেছে । চৌধুরী বাড়ির নতুন বউকে আমার সামনে ধরে আনা হলো । এখন নতুন বউ এর ঘাড়ে ভূত নেই । বউ এখন শান্ত-হাসি-খুশি । একজন বলল- আমাকে দেখে নাকি ভূত পালিয়ে গেছে । আমি ভীড় পাতলা করতে বললাম । নতুন বউ অজানা এক লজ্জায় মাটির দিকে তাকিয়ে আছে । এখন সে খুব শান্ত, আমি তার ঘাড়ে ভূত আনার ব্যবস্থা করলাম । যেনো আর কখনো নতুন বউকে জ্বালাতন না করে । মানুষকে যন্ত্রনা না দেয়, তার একটা উত্তম ব্যবস্থা আমি করবোই ।

আমি বিড়বিড় করে আমার সব বিখ্যাত মন্ত্রগুলো পড়তে লাগলাম । তারপর ডাকলাম আয়...আয়... আয়রে....। তাড়াতাড়ি আয়, দেরী করিস না, তাহলে আমার খুব রাগ লাগবে । চারপাশে পিনপতন নিরবতা । আমি আবার ডাকলাম- কিরে এত দেরী কেন ? তাড়াতাড়ি আয়, আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে- তোর ঝামেলা শেষ করে আবার আমাকে উত্তরবঙ্গ যেতে হবে । হঠাৎ নতুন বউ এর পেছনের বেল গাছটা নড়ে উঠল । মনে হলো কেউ একজন বেল গাছ থেকে নেমে এলো । চারিদিকে নিরবতা, শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ ছাড়া । নতুন বউ মুখ তুলে কথা বলে উঠল । আমায় ডেকেছেন কেন ? যেন সে খুব বিরক্ত ।

আমি বললাম- তোর নাম কী ? ভূত বলল আমার নাম জেনে আপনার দরকার কী ? আমি বললাম- সে কথা পরে, আগে তোর নাম বল । বেয়াদবি করবি না । আমি বেয়াদবি লাইক করি না । ভূত বলল আমার কোনো নাম নেই । আমি বললাম- ফাজলামো বাদ দে । ভূত বলল আমি ফাজলামো করছি না । আমি বললাম- তাহলে তুই নাম কইবি না ? তুই নাম ছাড়া ? ভূত বলল- হুম । আমি বললাম- তোর বাপের নামও বুঝি নাই ? ভূত বলল আছে । আমি বললাম বল, তোর বাবার নাম বল । ভূত বলল- আমার বাপের নাম হামবুড়া । আমি বললাম- ভূতের বাপের নাম হামবুড়া । এ কথা প্রথম শুনলাম । আর তোর কোনো নাম নাই, না ? ভূত বলল- আমার নাম আছে, আমার নাম হলো- চ্যাংড়া, এই বলেই ফিকফিক করে হেসে উঠল নতুন বউ । আমি রেগে গিয়ে বললাম- তয় তুই যে এতক্ষন বললি তোর নাম নেই । এখন কচ্ছিস চ্যাংড়া । তুই হলি একটা মস্ত বড় ফাজিল । বড় শয়তান । চ্যাংড়া তুই আমার সাথে ফাজলামো কচ্ছিস । এখন আমি তোর নামও জানি, তোর বাপের নামও জানি । আমার সাথে বাঘ-বন্দী খেলতে চাস ? তোর বাপের নাম হলো রাম । আর তোর নাম কবো ? না থাক ।

আমি আবার দুইটা মন্ত্র পড়ে, রেগে গিয়ে চিৎকার দিয়ে ভূতকে বললাম- তোর বাড়ি কোথায় ? ভূত বলল- কোয়েকাফ নগরীতে । আমি বললাম আচ্ছা, ভালো । ওটা তো ভূতের'ই নগরী । তুই এখানে কোথায় থাকিস ? ভূত বলল- নতুন বউ এর সাথে আর বেল গাছে । আমি বললাম- তুই নতুন বউ এর ঘাড়ে চেপে অশান্তি শুরু করলি ক্যান ? ভূত বলল- আমি কোনো অশান্তি করি নাই হুজুর । আমি বললাম- তুই ওর ঘাড়ে চেপে আসিস ক্যা ? নতুন বউকে আমার ভালো লাগছে । ভালো লাগলেই বুঝি ঘাড়ে চেপে বসতে হবে ? ওর স্বামী সংসার আছে না ? ভূত চুপ করে আছে । আমি আবার ধমক দিতে ভূত বলতে শুরু করলো- ও সেদিন সন্ধ্যায় নদীর ঘাটে পানি আনতে গেলো, মাথায় ছিল না ঘোমটা । বাতাসে চুল উড়ছিল-শাড়ির আঁচল উড়ছিল । তখন আমি স্মার্ট যুবক সেজে ওর চলার পথে দাঁড়িয়ে ছিলাম । ও আমাকে দেখে মুচকি হাসি দিয়ে ছিল । আমার খুব ভালো লেগেছিল ।

আমি বললাম- শোন- তুই নতুন বউ এর ঘাড়ে আর চাববি না । বেল গাছে আর থাকবি না । এই এলাকা ছেড়ে চলে যাবি । তোর ভঙ্গিমা ভালো না । ভূত বলল- না, আমি যাবো না । আমি থাকব । ভূতের এই কথা শুনে আমার অনেক রাগ লাগল, আমি দিলাম এক থাপ্পড় । তারপর বললাম- তোর এই এলাকায় কোনো স্থান নেই । আর যদি না যাস, তো আমি অন্য ব্যবস্থা করবো । ভূত বলল- কী ব্যবস্থা করবেন জানতে পারি ? আমি বললাম- তা পারিস । তোর মুরব্বিদের ডেকে বলে দিব । আর তাতেও যদি কাজ না হয় । তাহলে তোকে বোতলে বন্দী করে রাখব । এখন যা ভাগ । আর বিরক্ত করিস না । ভূত বলল- আমি যাবো না । আমাকে তাড়িয়ে দিবেন না বস্ । আপনার অনেক কাজে লাগব আমি । আমাকে যা বলবেন আমি তাই করবো । তবু আমাকে নতুন বউ এর কাছ থেকে আলাদা করবেন না । আমি বললাম - না । নো নেভার । তোকে শেষ বারের মতন কয়ে দিচ্ছি যা চলে যা । ভূত বলল- ঠিক আছে, আপনি মনে রাখবেন, সুযোগ পেলে আমি আপনাকে দেখে নিবো । আমাকে যেমন এলাকা ছাড়া করেছেন, আমিও আপনাকে দুনিয়া ছাড়া করবো । আমি বেশ রেগে গিয়ে বললাম- দাড়া তোকে বোতল বন্দী করছি । দেখি, তুই আমার কী ক্ষতি করতে পারিস । ভূত কটমট করে বলল- না বস্ । তার আর দরকার হবে না । আমি চলে যাচ্ছি । তখন নতুন বউ অজ্ঞান হয়ে গেলো । তারপর জ্ঞান ফেরার পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠল ।

ভোর বেলা আমি সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলাম উত্তর বঙ্গের দিকে । যাবার আগে বলে গেলাম- বউ, ঝি, বেটি- সন্ধ্যার পরে নদীর ঘাটে, পুকুর ঘাটে না যাওয়াই ভালো । তারপর আমি গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে হাঁটতে শুরু করলাম- "Allow me to say...."]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29521545 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29521545 2012-01-13 10:03:25
উঁইপোকায় খাওয়া নষ্ট সময় রহস্যময় এন্টিক ভালোবাসাবাসি, নেই প্রয়োজন
তোমার বাঁশি আর লাগে না ভালো অথবা গাঢ় চুমু
ধাধানো সুন্দরী দূরে থাক, জলন্ত সিগারেট ঠোঁটে থাক
বেইলী রোডের নাটক- তরুনীর চোখের ভরতনট্যম লাগে না ভালো,
ভালো নেই তবু ভালো থাকার অভিনয় করছি মিছেমিছি ।

অনেক রাত আমি জেগেছি-অনেক বেদনা ভুলতে গিয়ে
ভেবো না কবি'রা গাল দিতে জানে না 'খ' বলে
বাতাসে তোমার আঁচল এলোমেলো তুমি জানো না !
নিঃশেষ হতে হতে বিস্ময়ে ফিরেছি বারবার আক্ষেপে
ইচ্ছে হলে চিঠি দিও- আমার ঠিকানা নেই জেনেও
কতটা অসহায় হলে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, বুঝ ?

আমাকে কেউ বলেনি, কী কীর্তি কজলমলে ইতিহাসে
পথে সিগারেট খেতে খেতে গাল দেই ষ্টেশন মাস্টারকে
ফ্রেমে সাজাই রবীন্দ্রনাথ আর আইনষ্টাইনকে একত্রে
আদিবাসী'রা মজেছে রাশ উৎসবে নতুন জীবনে জন্য
দু'হাত পেতেছি আকাশের দিকে চেয়ে- তুমি জানো নি
একদিন এসে দেখে যেও, ঠিক তেমনি আছি আগেরই মতন ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29520097 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29520097 2012-01-10 21:44:08
রবীন্দ্রনাথের কোনো বিকল্প নাই -৫২
রাধা চক্রবর্তী এবং ফকরুল আলম রবীন্দ্র-সাহিত্য নতুনভাবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি করার জন্য দারুন একটি কাজ করেছেন । তারা 'দ্য এসেনশিয়াল টেগোর' শিরোনামে আটশো উনিশ পৃষ্টার এক খন্ডে সমাপ্ত রবীন্দ্রনাথের বিভিন্নধর্মী রচনার ইংরেজি অনুবাদ সম্পাদনা করেছেন । ( এই কাজটি সুন্দরভাবে সমাপ্ত করার জন্য তাদেরকে অনেকে সাহায্য করেছেন । ) প্রকাশ করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসের পক্ষে বেলন্যাপ প্রেস, প্রকাশকাল-২০১১ ।

১৯১৩ সা্লে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দশ বছর পুরো হতে না হতেই যখন পশ্চিমা বিশ্ব রবীন্দ্রনাথকে ভুলতে শুরু করে এবং অনেককাল পরে তার একটি হদিস বের করার জন্য বুদ্ধদেব বসু ইদ্যেগ নেন, তখন তিনি রবীন্দ্রনাথের নিজের কবিতা অনুবাদের ক্ষেত্রে কয়েকটি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করলেন । বুদ্ধদেব বললেন- রবীন্দ্রনাথ প্রথম ভুলটি করেছিলেন যে, তিনি নিজের ভালো কবিতাগুলি অনুবাদ না করে অপেক্ষাকৃত সাধারণ কবিতাগুলি অনুবাদ করেছিলেন । বুদ্ধদেব আরো বলেন-রবীন্দ্রনাথন ভালো ইংরেজি জানলেও ততটা ভালো জানতেন না, যা ইয়েটসকে প্রাথমিকভাবে আলোড়িত করলেও পরবর্তী দশোকের প্রধান কবি এলিয়টের মনোরঞ্জন করতে পারে । (বুদ্ধদেব অনুভব করতে পারেন নি যে, রবীন্দ্রনাথের মধ্যে একটি অতিকায় উচ্চাকাঙ্কা ছিল বিশ্বব্যাপী পরিচিতি থাকার ।) রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাইজ অর্জন ও তার দেহত্যাগের মধ্যকার সময়টুকুতে ইউরোপ শুধু যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ করল তা না, তারা পৌছে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জঙ্গম পরিস্থিতির সম্মুখে এবং তার মধ্যে প্রাচ্যের ঋষি কবি রবীন্দ্রনাথের শান্তির ললিত বাণী শুনবে সে ধৈর্য তখন পশ্চিমা সমাজে কোথায় !

রবীন্দ্রনাথ নিজেও তার ইংরেজি ক্ষমতা নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন না । ১৯১৫ সালের ১৮ নভেম্বর একটি চিঠিতে, ইংরেজ কবি রর্বাট ব্রিজসকে রবীন্দ্রনাথ সবিশেষ লিখলেন- তার কিছু পান্ডুলিপি দেখে যদি তিনি একটু ভাষাটা ঠিক করে দেন তাহলে তিনি খুব উপকৃত হন । রবীন্দ্রনাথ অধ্যবসায় ও অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি তার ইংরেজিকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন । রবীন্দ্রনাথ প্রায় দু'হাজার পৃষ্ঠাব্যাপী ইংরেজি লেখেন, যার প্রধানতই গদ্য, এবং সেগুলো দশ খন্ডে প্রকাশিত হয় টেগোরস ইংলিশ রাইটিংস শিরোনামে । রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন- 'মাস্টারমশাই মিটমিটে আলোয় পড়াতেন প্যারী সরকারের ফার্স্ট বুক । প্রথমে উঠত হাই, তারপর আসত ঘুম, তারপর চলত চোখ রগড়ানি । অনুবাদ করলে হয়- 'In the dim, flickering, our tutor, Mastermoshai, taught us the First Book of Pyari Sarkar. I would yawn, then become drowsy, and afterwards, rub my eyes to stay awake'.

এলিয়ট একটি সাহিত্যের একটি যুগের প্রধান কবি, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ একটি জাতির সর্বযুগের প্রধান কবি । রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তুলনা চলবে সব জাতির প্রধান কবিদের, এটা নিঃসংশয়ে বলা যায়ঃ গ্রিসের হোমার, ইয়ালির ভার্জিল এবং দান্তে, জা্র্মানির গ্যেটে, ইংরেজদের শেকসপিয়ার কিংবা ঔপন্যাসিক হলেও রাশিয়ার তলস্তয়ের সঙ্গে ।

ডারউইন প্রকৃতির যে পরিচয় উদ্ঘাটন করেছিলেন তা ভংয়কর মৃত্যুকীর্ণ, আবার একই সঙ্গে সৃজনশীলও । তার তত্ত্ব অনুসারে জীববিবর্তনের চালিকা শক্তি হলো 'প্রাকৃতিক নির্বাচন'। প্রকৃতি এখানে অন্ধ ও নির্মুখ । অনেকের কাছে এ-তত্ত্ব ছিল এক প্রচন্ড আঘাত । বার্নার্ড শ'র মতো প্রগতিশীল চিন্তকও ডারউইনের তত্ত্বকে স্বাগত জানাতে পারেন নি । তিনি লিখেছিলেন, গোটা তাৎপর্যটি অনুধাবন করলে আপনার হৃদয় বালুকাস্তূপে তলিয়ে যাবে । এ্তে আছে একটি ভয়ংকর অদৃষ্টবাদ এবং সেই সঙ্গে সৌন্দর্য ও বুদ্ধিমত্তার, শক্তি উদ্দেশ্যের, মর্যাদা ও উচ্চাখাংখার মারাত্মাক বিনষ্টি ।' রবীন্দ্রনাথের তেমন কোনো প্রতক্রিয়ার কথা আমাদের জানা নেই । তিনি কি ডারউইনবাদ অগ্রাহ্য করেছিলেন ? সম্ভবত না । প্রকৃতির নির্মম সৃষ্টিক্রিয়া তার অনেক কবিতায় কবিতায় নানাভাবে ব্যক্ত আর তারই একটি জীবনসায়াহ্নে লেখা পত্রপুট কাব্যের 'পৃথিবী' যাতে আছে প্রকৃতির দ্বৈতসত্তার পরিপক্বতর বর্ণনা এবং আমাদের যথা কর্তব্যের ইঙ্গিত ।

১৯৩৫ সালের ১৬ অক্টোবর-এ লেখা 'পৃথিবী' কবিতাটি । তখন কবির বয়স ৭৬, প্রায় নিশ্চিতই বলা যায় তিনি ততদিনে ডারউইনের তত্ত্ব সম্যক আত্তীকৃত, তার কবিতার ছত্রে ছত্রে উচ্চারিত প্রকৃতিরি নির্মম নির্মুখ স্বরুপ, জীবনের জন্য সংগ্রাম- ডারউইনি প্রতীতি । দৃষ্টান্ত হিসেবেঃ

"মহাবীর্যবতী তুমি বীরভোগ্যা,
বিপরীত তুমি ললিতে কঠোরে।
... মানুষের জীবন দোলায়িত কর তুমি দুঃসহ দ্বন্ধে ।
ডান হাতে পূর্ণ কর সুধা,
বাম হাতে চূর্ণ কর পাত্র,
তোমার লীলাক্ষেত্র মুখরিত কর অট্র বিদ্রুপে,
দুঃস্বাধ্য কর বীরের জীবনকে মহৎ জীবনে যার অধিকার ।
শ্রেয়কে কর দুরমূল্য, কৃপা কর না কৃপাপাত্রকে ।
তোমার গাছে গাছে প্রচ্ছন্ন রেখেছ প্রতি মুহূর্তের সংগ্রাম,

[ চলবে ...]

( আমি খুব দুঃখিত, রবীন্দ্রনাথের কোনো বিকল্প নাই-৫১ পর্ব লিখে শেষ ঘোষনা করেছিলাম । পরে দেখি আরো কিছু বিষয় লেখার বাকি আছে, তাই আবার লিখতে হলো । এর আগে একবার ১৮ পর্ব লিখে শেষ পর্ব ঘোষনা করেছিলাম । আরও কিছু ব্যাপার না লিখলেই নয়, তাই আবার লিখতে হলো । কিছু ঘটনা না লিখলে এই ধারাবাহিক লেখাটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে । আর অসম্পূর্ণতা আমার ভালো লাগে না ।

সবাইকে ধন্যবাদ । ভালো থাকুন । )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29519282 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29519282 2012-01-09 16:17:34
একজন বিষন্ন কবি'র কথামালা ভেবো না তুমি অপ্রয়োজনীয়, তোমার আছে কাজ
রাখো ভারসাম্য দু'পায়ের তলায়, মন্দ কিছু তো নয়
শব্দগুলো কেন বারবার ভালোবাসার কথা কয়
নিত্য সংঘাত শব্দের সাথে শব্দের কাটার মতো
তাই কি এতো বিষাদ, এতো এতো বিভ্রান্তি ?
পাখির মতন ছটফট- ঘুম আসে না সারা রাত
অযথা'ই সমস্ত শব্দ শিকড়, ছায়া স্বপ্নও সুন্দর
অযথা'ই তুমি শুধু ভালোবাসা'র কথা কও
জানি আমি পুরনো হয় না ভালোবাসার কথা
বুকের ভেতর সারারাত জুড়ে আহাজারি
ভালোবাসায় বেহায়াপনা আছে ভরপুর
বিষয়টা হাস্যকর, তবু শাক দিয়ে মাছ ঢাকা
অনেক কাজ বাকি হৃদয়ে তাই ভূমিকম্প
সমুদ্রের মতন যে যার ভালোবাসার কাছে যায়
কম্পমান শব্দ'রা কবিকে দেয় শাস্তি সারাবেলা
মানূষের হাজার আদিখ্যেতায় নূয়ে পড়ে ধরনী
নষ্ট রমনীরা মন ভরে গাল দেয় ইশ্বরকে
বোবা ঈশ্বর কি হায় কোনোদিন শুনবে না-
কবি'র কথামালা মধ্যরাত্রে জ্বলজ্বল করে জ্বলে
ঈশ্বর কি জানে না, কে লাগিয়েছে আগুন
তুমি হাসছো ? ভাবছো পাগল আর কারে বলে !
মনে রেখ, কবি'রা হলেন দেশের আত্মা ।
কবিতা না থাকলে দেশ গভীর অন্ধকারে যেত ডুবে
শহরের বাবুদের সুখ আসে রাতের অন্ধকারে
আহ হা, তোমার নামটা বেশ- বাংলাদেশ
এমন তো ছিল না গোলা হয়ে যাবে শূন্য]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29516913 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29516913 2012-01-05 20:23:23
মেঘ রোদ বৃষ্টি এবং কবিতা http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29514674 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29514674 2012-01-02 12:36:08 ভীষন অন্ধকার যক্ষ কোনোমতে চোখের জল চেপে ভাবলে মনে-মনে বহুখনঃ
নবীন মেঘ দেখে মিলিত সুখীজন তারাও হয়ে যায় অন্যমনা,
কী আর কথা তবে, যদি সে দূরে থাকে যে চায় কন্ঠের আলিঙ্গন ।"

অনেক বছর ধরে শহীদ মিনারের সামনে একটা পাগল কে বসে থাকতে দেখে সফিক । নোংরা-ছেড়া জামা পরা । চুলে দাঁড়িতে জট । সফিক সময় পেলেই পাগলটার কথা ভাবে । তার স্ত্রী রুমু'কেও এই পাগলটার কথা বলেছে । রুমু কোনো আগ্রহ দেখায়নি । রুমু'র পৃথিবীতে শুধু দুইজন তার স্বামী আর তিন বছরে বাচ্চা অর্ক । সব কিছুতেই সফিকের এক আকাশ কৌতুহল । একদিন সফিক দুপুরে লাঞ্চ করেই অফিস থেকে বের হয়ে যায় । অফিসে তার খুব অস্থির অস্থির লাগছিল । সফিক হাঁটতে হাঁটতে শহীদ মিনারের সামনে আসে । পাগলটা পাশে গিয়ে বসে । পাগলটা একবার মুখ তুলে সফিক কে দেখে একটুখানি হাসে । সফিক ভাবে পাগলের হাসিটা সুন্দর । পাগলটা ঠান্ডা গলায় সফিককে অবাক করে দিয়ে বলল- অফিস শেষ হওয়ার আগেই যে বের হয়ে এলে ! এত অস্থির কেন তুমি ।

সন্ধ্যা পর্যন্ত সফিকের সাথে পাগলটার অনেক কথা হলো । পাগলটার নাম সূর্য । সফিকের ধারণা সূর্য'র অলৌকিক ক্ষমতা আছে । সে সূর্যকে একটা সেলুন নিয়ে গিয়ে চুল- দাড়ি কাটালো । সূর্যকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর সফিকের স্ত্রী রুমু খুব চেচামেচি শুরু করলো । রুমু বলল- এই পাগল ঘরে থাকলে আমি আমার বাচ্চাকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যাবো । সূর্য সফিককে আগেই বলেছিল তোমার স্ত্রী আমাকে ঘরে ঢুকতে দিবে না । সফিক কোনো উপায় না দেখে- সূর্যকে তার বন্ধুর মেসে রেখে বাসায় ফিরলো । রাতে সফিক টেবিলে খেতে বসলে রুমু একটা কথাও বলে নি । সফিক বারান্ডা থেকে সিগারেট খেয়ে এসে দেখে রুমু শুয়ে পড়েছে । সফিক রুমুকে টেনে নিজের কাছে নেয় । রুমু ঘেমে যায় । রুমুর দিকে পাগলের মতো তাকিয়ে থাকে । চুমু খায় । সবশেষে অনেক ক্লান্তি নামে ।

পরদিন, সফিক অফিসে না গিয়ে সূর্য'র সাথে সারাটা দিন অনেক গল্প করে কাটায় । সূর্য সফিককে জানায়- তোমার স্ত্রী তোমাকে বিয়ের করার আগে একজনের সাথে তার প্রেম ছিল দীর্ঘদিন । এই কথা শুনে সফিক খুব মুষড়ে পড়ে । সে ভাবত তার স্ত্রী শুধু তাকেই ভালোবাসে । সন্ধ্যায় মেস থেকে বের হয়ে সফিক এলোমেলো হাঁটতে থাকে রাস্তায় । বারবার রুমু'র কথা মনে পড়ে । রুমু আর একজনকে ভালোবাসতো ! এই কথা কেন গোপন করেছে রুমু । রুমুকে তো সফিক কম ভালোবাসে নি । একটা সিগারেট ধরিয়ে সফিক দোতলায় উঠে যায় । অনেক বছর আগে সফিক এ বাড়িতে প্রায়ই আসত । লিলি কি এখন থাকে এ বাড়িতে ? বন্ধ দরজায় টোকা দিতেই - লিলি দরজা খুলল । লিলি দেখতে আগের মতোই আছে । লিলি সফিকের দিকে তাকিয়ে বলল তুমি ! এত বছর পর ! চার বছরে তুমি একটুও বদলাও নি ।

সফিক বলল- লিলি তুমি বিয়ে করোনি ? লিলি বলল- স্বামী, বাচ্চা থাকলে তোমাকে ঘরে ঢুকতেই দিতাম না । আমি একা । ভালোই আছি । লিলির ঘরে সব সময় বেলী ফুলের গন্ধ পাওয়া যায় । যা মনকে শান্ত করে দেয় । সফিককে দেখে লিলি অনেক খুশি হয়েছে । লিলির মুখ অপ্রত্যাশিত খুশি ঝকমক করছে । লিলি একটা দামী মদের বোতল বের করলো । যা বিশেষ অতিথিদের জন্য সব সময় লিলির ঘরে মজুদ থাকে । সফিক বিয়ের পর মদ খাওয়া ছেড়েই দিয়েছিল । কিন্তু সে আজ খাবে । তার স্ত্রী তার সাথে প্রতারনা করেছে । লিলি বলল- মদ খেয়ে আগের মতো চিৎকার চেচামেচি করবে না । আমি ভদ্র মেয়ে । এখানে আমাকে অনেক নিয়ম মেনে থাকতে হয় । সফিক আজ অনেক মদ খাবে । রুমু তার কাছে কথা গোপন করেছে । লিলি একটা রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে শোনালো সফিককে । ''আমি রুপে তোমায় ভোলাব না ।'' গান শেষ হওয়ার পর লিলি বলল- আমাকে একটা কবিতা শোনাও সফিক । সফিক আবৃত্তি করলো- "ব্যাপক ঝড়ের মতো তোমাকে ভালোবাসতে ইচ্ছা করে ।/ তীব্র ক্ষুধার মতো তোমাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকতে ইচ্ছা করে ।/ দুপুরের কড়া রোদের মতন তোমার কাছ থেকে উষ্ণতা পেতে ইচ্ছা করে ।/ বৃষ্টির অজস্র ফোটার মতন তোমার গায়ে আদরের দাগ করে দিতে ইচ্ছা করে ।"

কবিতা শেষ হতেই লিলি সফিকের বুকে ঝাপ দেয় । সফিক মনে মনে ভাবে এখন আমার মুক্তি মিলবে । ভীষন অন্ধকার থেকে মুক্তি মিলবে । লিলি সফিকের একটা হাত নিয়ে তার বুকে রাখে, বলে কি বুঝতে পারছো ? সফিক বলল- কি ? লিলি বলল- অনেক ব্যাথা । এক আকাশ ব্যাথা । লিলির ঘর্মাক্ত কপালে চুমু খায় সফিক ।

লিলির বাসা থেকে বের হয়ে সফিক টলতে টলতে নিজের বাসায় যায় । দরজা খুলেই সফিককে এক পলক দেখে রুমু বলল- তুমি মদ খেয়েছো ? সফিকের ছোট উত্তর- হুম খেয়েছি । রুমু কাঁদতে কাঁদতে বলল- কোনো মেয়ে-মানুষের কাছে যাওনি ? সফিক বলল, না । রুমু রেগে গিয়ে বলল- তোমার ঠোঁটে গালে শার্টে লিপস্টিকের দাগ কেন ? তোমার গায়ে পারফিউমের গন্ধ কেন, যা তুমি মাখো না । সফিক কোনো উত্তর খুঁজে পেলো না । বারান্দায় গিয়ে চুপ করে বসে রইল । তখন আকাশের সব মেঘ কেটে
গিয়েছে ।

পাগল সূর্য চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ভাবছে - যা করেছি ভালোই করেছি । আমার কেন সফিকের মতন সুন্দর স্ত্রী নেই । সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চা নেই । কি ক্ষতি হতো আমার যদি সফিকের মত্ সুন্দর একটা সাজানো সংসার থাকত । সফিক আমাকে বিশ্বাস করেছে, আমি তার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছি । তার সংসারে অবিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছি । সূর্য একটা সিগারেট ধরাতে ধরাতে শয়তানের মতো একটা হাসি দিলো ।

" দিলাম পরিচয় চিহ্ন, অতএব জানবে আমি আছিু কুশলে,
তোমার কালো চোখে লোকের কথা শুনে না যেন দেখা দেয় অবিশ্বাস ;
বিরহে প্রণয়ের ধ্বংস হয় নাকি, কিন্তু অভাবের প্রভাবে
আমার মনে হয় স্নেহের উপচয় মহৎ প্রেমে পায় পরিণাম ।"]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29512943 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29512943 2011-12-30 20:33:03
বনলতা সেন এবং বিষন্ন এক কবি'র কথামালা - ৩ ‘তোমারি নিজের ঘরে চ‘লে যাও‘ - বলিল নক্ষত্র চুপে হেসে
‘অথবা ঘাসের‘ পরে শুয়ে থাকো আমার মুখের রূপ ঠায় ভালোবেসে;
অথবা তাকায়ে দ্যাখো গরুর গাড়িটি ধীরে চ‘লে যায় অন্ধকারে
সোনালী খড়ের বোঝা বুকে;
পিছে তার সাপের খোলশ, নালা, খলখল অন্ধকার - শান্তি তার
রয়েছে সমুখে;

অধ্যাপনার কাজে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা ও সমাপ্তি। এমএ পাসের পর কলকাতায় কলেজের বোর্ডিংয়ে থাকার প্রয়োজন হলে তিনি আইন পড়া শুরু করেন। এ সময় তিনি ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার ব্রাহ্মসমাজ পরিচালিত সিটি কলেজে টিউটর হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯২৮-এ সরস্বতী পূজা নিয়ে গোলযোগ শুরু হলে অন্যান্য কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে তাঁকেও ছাঁটাই করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। জীবনের শেষভাগে কিছুদিনের জন্য কলকাতার একটি দৈনিক পত্রিকা স্বরাজ-এর সাহিত্য বিভাগের সম্পাদনায় নিযুক্ত ছিলেন। অধ্যাপনা করেছেন বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, যার মধ্যে আছে সিটি কলেজ, কলকাতা (১৯২২-১৯২৮), বাগেরহাট কলেজ, খুলনা (১৯২৯); রামযশ কলেজ, দিল্লী (১৯৩০-১৯৩১), ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল (১৯৩৫-১৯৪৮), খড়গপুর কলেজ (১৯৫১-১৯৫২), বারিষা কলেজ, (১৯৫৩) এবং হাওড়া গার্লস কলেজ, কলকাতা, (১৯৫৩-১৯৫৪)। তার কর্মজীবন আদৌ মসৃণ ছিল না। চাকুরী তথা জীবিকার অভাব তাকে আমৃত্যু কষ্ট দিয়েছে। একটি চাকুরির জন্য হন্যে হয়ে তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। স্ত্রী লাবণ্য দাশ স্কুলে শিক্ষকতা করে জীবিকার অভাব কিছুটা পুষিয়েছেন। ১৯৫৪ সালে অকাল মৃত্যুর সময় তিনি হাওড়া গার্লস কলেজ কর্মরত ছিলেন। দুই দফা দীর্ঘ বেকার জীবনে তিনি ইন্সুরেন্স কোম্পানীর এজেন্ট হিসাবে কাজ করেছেন এবং প্রধানত গৃহশিক্ষকতা করে সংসার চালিয়েছেন। এছাড়া ব্যবসার চেষ্টাও করেছিলেন বছরখানেক। দারিদ্র্য এবং অনটন ছিল তার কর্মজীবনের ছায়াসঙ্গী।

সম্ভবতঃ মা কুসুমকুমারী দেবীর প্রভাবেই ছেলেবেলায় পদ্য লিখতে শুরু করেন তিনি। ১৯১৯ সালে তাঁর লেখা একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা। কবিতাটির নাম বর্ষা আবাহন। এটি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার ১৩২৬ সনের বৈশাখ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। তখন তিনি শ্রী জীবনানন্দ দাশগুপ্ত নামে লিখতেন। ১৯২৭ সাল থেকে তিনি জীবনানন্দ দাশ নামে লিখতে শুরু করেন। ১৬ জুন ১৯২৫ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এর লোকান্তর হলে তিনি 'দেশবন্ধুর প্রয়াণে' শিরোনামে একটি কবিতা লিখেছিলেন যা বংগবাণী পত্রিকার ১৩৩২ সনের শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। তবে দীনেশরঞ্জন দাস সম্পাদিত কল্লোল পত্রিকায় ১৩৩২ (১৯২৬ খৃ) ফাল্গুন সংখ্যায় তাঁর নীলিমা শীর্ষক কবিতাটি প্রকাশিত হলে আধুনিক বাংলা কবিতার ভুবনে তার অন্নপ্রাশন হয়। জীবদ্দশায় তাঁর ৭টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। প্রথম প্রকাশিত ঝরাপালক শীর্ষক কাব্যগ্রন্থে তাঁর প্রকৃত কবিত্বশক্তি ফুটে ওঠেনি, বরং এতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মোহিতলাল মজুমদার ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের প্রকট প্রভাব প্রত্যক্ষ হয়। তবে দ্রুত তিনি স্বকীয়তা অর্জন করেছিলেন। দীর্ঘ ব্যবধানে প্রকাশিত দ্বিতীয় কাব্য সংকলন ধূসর পাণ্ডুলিপি-তে তাঁর স্বকীয় কাব্য কৌশল পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। বাংলা সাহিত্যের ভূবনে তাঁর বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। শেষের দিককার কবিতায় অর্থনির্মলতার অভাব ছিল। সাতটি তারার তিমির প্রকাশিত হওয়ার পর তার বিরূদ্ধে দুবোর্ধ্যতার অভিযোগ ওঠে। নিজ কবিতার অপমূল্যায়ন নিয়ে জীবনানন্দ খুব ভাবিত ছিলেন। তিনি নিজেই স্বীয় রচনার অর্থায়ন করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন যদিও শেষাবধি তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে কবি নিজেই নিজ রচনার কড়া সমালোচক ছিলেন। তাই সাড়ে আট শত কবিতার বেশী কবিতা লিখলেও তিনি জীবদ্দশায় মাত্র ২৬২টি কবিতা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও কাব্যসংকলনে প্রকাশ করতে দিয়েছিলেন। এমনকি রূপসী বাংলার সম্পূর্ণ প্রস্তুত পাণ্ডুলিপি তোড়ঙ্গে মজুদ থাকলেও তা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি জীবনানন্দ দাশ। তবে তিনি এ কাব্যগ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন বাংলার ত্রস্ত নীলিমা যা তার মৃত্যুর পর আবিষ্কৃত এবং রূপসী বাংলা প্রচ্ছদনামে প্রকাশিত হয়। আরেকটি পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হয় মৃত্যু পরবর্তীকালে যা বেলা অবেলা কালবেলা নামে প্রকাশিত হয়।

জীবদ্দশায় তার একমাত্র পরিচয় ছিল কবি। অর্থের প্রয়োজনে তিনি কিছু প্রবন্ধ লিখেছিলেন ও প্রকাশ করেছিলেন। তবে নিভৃতে গল্প এবং উপন্যাস লিখেছিলেন প্রচুর যার একটিও প্রকাশের ব্যবস্থা নেননি। এছাড়া ষাট-পয়ষট্টিরও বেশী খাতায় "লিটেরেরী নোটস" লিখেছিলেন যার অধিকাংশ এখনও (২০০৯) প্রকাশিত হয়নি।

জীবদ্দশায় অসাধারণ কবি হিসেবে পরিচিতি থাকলেও তিনি খ্যাতি অর্জন করে উঠতে পারেন নি। এর জন্য তার প্রচারবিমুখতাও দায়ী; তিনি ছিলেন বিবরবাসী মানুষ। তবে মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই তিনি বাংলা ভাষায় আধুনিক কবিতার পথিকৃতদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।। জীবনানন্দ দাশের জীবন এবং কবিতার উপর প্রচুর গ্রন্থ লেখা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে, বাংলা ভাষায়। এর বাইরে ইংরেজিতে তার ওপর লিখেছেন ক্লিনটন বি সিলি, আ পোয়েট আর্পাট‌‌ নামের একটি গ্রন্থে। ইংরেজি ছাড়াও ফরাসিসহ কয়েকটি ইউরোপীয় ভাষায় তাঁর কবিতা অনূদিত হয়েছে। তিনি যদিও কবি হিসেবেই সমধিক পরিচিত কিন্তু মৃত্যুর পর থেকে ২০০৯ খৃস্টাব্দ অবধি তাঁর যে বিপুল পাণ্ডুলিপিরাশি উদ্ঘাটিত হয়েছে তার মধ্যে উপন্যাসের সংখ্যা ১৪ এবং গল্পের সংখ্যা শতাধিক। নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলন ১৯৫২ খৃস্টাব্দে পরিবর্ধিত সিগনেট সংস্করণ বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থটি বাংলা ১৩৫৯-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ বিবেচনায় পুরস্কৃত করা হয়। কবির মৃত্যুর পর ১৯৫৫ খৃস্টাব্দের ফেব্রুয়ারী মাসে জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৫৪) সাহিত্য অকাদেমী পুরস্কার লাভ করে।

১৪ই অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে কলকাতার বালিগঞ্জে এক ট্রাম দুর্ঘটনায় তিনি আহত হন। ট্রামের ক্যাচারে আটকে তার শরীর দলিত হয়ে গিয়েছিল। ভেঙ্গে গিয়েছিল কণ্ঠা, ঊরু এবং পাঁজরের হাড়। গুরুতরভাবে আহত জীবনানন্দের চিৎকার শুনে ছুটে এসে নিকটস্থ চায়ের দোকানের মালিক চূণীলাল এবং অন্যান্যরা তাঁকে উদ্ধার করে। তাঁকে ভর্তি করা হয় শম্ভূনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। এ সময় ডাঃ ভূমেন্দ্র গুহ-সহ অনেক তরুণ কবি জীবনানন্দের সুচিকিৎসার জন প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন। কবি-সাহিত্যিক সজনীকান্ত দাশ এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর অনুরোধেই পশ্চিম বঙ্গের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় কবিকে দেখতে এসেছিলেন এবং আহত কবির সুচিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছিলেন যদিও এতে চিকিৎসার তেমন উন্নতি কিছু হয়নি। এ সময় স্ত্রী লাবণ্য দাশকে কদাচিৎ কাছে দেখা যায়। তিনি টালিগঞ্জে সিনেমার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। জীবনানন্দের অবস্থা ক্রমশঃ জটিল হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন কবি। চিকিৎসক ও সেবিকাদের সকল প্রচেষ্টা বিফলে দিয়ে ২২শে অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে রাত্রি ১১টা ৩৫ মিনিটে কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।আবদুল মান্নান সৈয়দ-সহ কেউ কেউ ধারণা করেছেন হয় আত্মহত্যাস্পৃহা ছিল দুর্ঘটনার মূল কারণ। জীবনানন্দ গবেষক ডাঃ ভূমেন্দ্র গুহ মনে করেন জাগতিক নিঃসহায়তা কবিকে মানসিকভাবে কাবু করেছিল এবং তাঁর জীবনস্পৃহা শূন্য করে দিয়েছিল। মৃত্যুচিন্তা কবির মাথায় দানা বেঁধেছিল। তিনি প্রায়ই ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কথা ভাবতেন। গত এক শত বৎসরে ট্রাম দুর্ঘটনায় কোলকাতায় মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র একটি। তিনি আর কেউ নন, কবি জীবনানন্দ দাশ। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীর মতে এ সময় দুই হাতে দুই থোকা ডাব নিয়ে ট্রাম লাইন পার হচ্ছিলেন কবি। আত্মহননের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই হাতে দুই থোকা ডাব নিয়ে গৃহে ফেরার সড়কে ওঠার জন্য ট্রাম লাইন পারি দেয়া খুব গ্রহণযোগ্য যুক্তি নয়।

অদ্ভূত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা

( চলবে...)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29512085 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29512085 2011-12-29 12:28:32
সুখবিলাস অথবা দুঃখবিলাস
এখন সে মনে করছে বাম পাশে ফেরা ঠিক হয়নি ডান পাশেই ভালো ছিল । অনেক আগে একবার তার জন্ডিস হয়েছিল । তখন তার গাঁয়ের রং হয়ে গিয়েছিল হলুদ । দেখতে কি বিচ্ছিরি লাগত । মিজান ভাবলো এখন তার এক কাপ চা খেতে হবে । তার বিলাসিতা বলতে চা আর সিগারেট । হঠাৎ তার সারা শরীর ঝিমঝিম করে উঠলো । মনে হচ্ছে কাল সারারাত সে ব্ল্যাক ডগ নামে বোতলটা খালি করে ফেলেছে । হয়তো সে রাতে খুব ভালো ঘুম দিয়েছে ।

কতদিন ধরে মিজানের কি হয়েছে সে কিছুই বুঝতে পারছে না । তার কোল বালিশ টাকে জড়িয়ে ধরলে তার মনে হয় সে একটা মেয়েকে জড়িয়ে ধরেছে । এজন্য সে কাল রাতে কোলবালিশ টা ছুড়ে মেঝেতে ফেলে দিয়েছে । মিজান ছটফট করতে লাগল । মনে হয় তার সারারাত ঘুম হয়নি । ছাই-পাশ ভাবতে ভাবতে দুপুর হয়ে গেলো । তবু মিজান বিছানা থেকে নামল না । খবরের কাগজ পড়ল না । চা খেলো না সিগারেট খেলো না । ঢক ঢক শব্দ করে কাচের গ্লাসে পানিও খেলো না । একবার আকাশের দিকে তাকালো না । তার মাথার মধ্যে একটা গান বাজছে- ' বউ আমার বাপের বাড়ি গেছে রে ,/ আমার উপর ভীষন রাগ করে / জামার বোতাম খোলা রে/ এখন আমি অফিস যাবো কি করে ।' মিজান আজ কাজে বের হলো না । মনে হচ্ছে তার অনেক জ্বর । কেন জানি মেঝে থেকে কোল বালিশ টা উঠিয়ে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করছে কিছুক্ষণ । ইদানিং মিজান ভাবছে তার মাথার সব চুল গুলো আইনষ্টাইনের মত সাদা করে ফেলবে । তখন হয়তো তার মধ্যে একটা জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব আসবে । তার মাথা ভর্তি চুল । কিন্তু তার দুঃখ হয় চুল গুলো সাদা নয় বলে ।

মিজান ভাবছে- তার গায়ের রং বিচ্ছিরি সাদা । তার হাতের শিরা গুলো সব সময় ফুলে ফুলে থাকে । তার একেবারেই সাহস নেই । সেদিন একটা রিকশাওয়ালা মিজানকে বলল রিকশায় যেতে হবে না হেঁটেই যান । তারপর বিচ্ছিরি হলুদ দাঁত বের করে হাসল । মিজান তাকে একটা চড় বসিয়ে দিতে পারলে আরাম পেতো । কিন্তু সাহসের অভাবে পারল না । সাহস নেই বলে তখন তার নিজের উপরই খুব রাগ লাগল । মিজান ইদানিং কবিতা লিখে । এবং সে ভাবে ভালোই লিখছে । তার কবিতা তে নারী-পুরুষের ভালোবাসার কথা থাকে । পাওয়া-না পাওয়ার কথা থাকে । অন্য একধরেন আনন্দময় বেদনা থাকে ।
মিজান ভাবে সে এক নিঃসঙ্গ যুবক । এটাই তার সবচেয়ে বড় সমস্যা । আবার ভাবে খারাপ মানুষের সঙ্গের চেয়ে একা থাকাই অনেক ভালো । দুনিয়া ভরে গেছে খারাপ মানুষে । সারা সকাল মিজান শুয়ে কাটাল । বিচিত্র সব গন্ধ শুনল । তার খুব অস্থির লাগার কারণে বিকেলে সে বাসা থেকে বের হলো কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করবে বলে ।

এই যে রাস্তায় এতো মানূষ হাঁটছে, মিজান এদের কাউকে চিনে না । মিজানকেও এরা কেউ চিনে না । চারিদিকে ময়লা । মানুষের ভীড় । বেশীর ভাগ মানূষের মুখই মিজানের কাছে এক রকম মনে হয় । দশ বার করে দেখলেও এইসব মুখ মনে থাকে না । নিজেকে মাঝে মাঝে রাস্তার কুকুর বলে মনে হয় । নিজের বলতে কিছু নেই তার শুধু দুঃখ ছাড়া । মিজান ভাবে দেশের ষোল কোটি মানূষ আমাকে চিনে না, তাতে আমার কি এই ভাবতে ভাবতে মিজান রাস্তার পাশের দোকান থেকে দু'কাপ চা খেল । দু'টা সিগারেট শেষ করলো । রাস্তা ভর্তি মানূষ-জন । একটা লোক অবাক চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে । মিজান রাস্তায় বের হলেই আশে-পাশের চার দিক খুব মনোযোগ দিয়ে দেখে । রাস্তা-ঘাট, আশে-পাশের মানূষ-জন, দোকান-পাট দেখে সে খুব আনন্দ পায় । আজ রাস্তায় এত মানূষ কেন ? আজ কি কোনো বিশেষ দিন ! নিজেকে যখন তার রাস্তার কুকুর বলে মনে হয় তখন তার মরে যেতে ইচ্ছা করে । মিজান আর একটা সিগারেট ধরিয়ে ভাবলো- আমি মিজান । কোনো কিছুর উপরই আমি প্রতিফলন ঘটাতে পারি না । মিজান আজ অনেকক্ষণ রাস্তায় হাঁটবে । রাস্তায় সে একটা মেয়েকে দেখতে পেলো । মেয়েটাকে তার চেনা মনে হচ্ছে । কিন্তু কোথায় দেখেছে কিছুতেই মনে করতে পারছে না ।

মেয়েটি দেখতে খুব সুন্দর । হাটছেও খুব সুন্দর করে । লাল সবুজ নীল শাড়িতে মেয়েটিকে দারুন লাগছে । মাথার চুল খোলা । মেয়েটির হাত ধরে মিজানের হাঁটতে ইচ্ছা করছে । মেয়েটিকে কোল বালিশের মতো জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করছে । মেয়েটি রাস্তায় হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল । রাস্তার নিয়ন বাতির আলো মেয়েটির চোখ মুখের উপর পড়ল । মিজান মেয়েটির পাশে গিয়ে দাড়ালো । মেয়েটি মিজানকে বলল- কিছু বলবেন । মিজান বলল- আমি কি আছি ? আপনি কি আমাকে দেখতে পারছেন ? আপনি কি আমার হাতটা একটু ছুঁয়ে দেখবেন সত্যিই আমি আছি কি না ! মেয়েটি কথা বলল না, চুপ করে আছে । মেয়েটি মুখ ফিরিয়ে নিল । মিজান বলল- এই রাস্তায় রিকশা পাওয়া যায় না । মেয়েটি এখন কোথায় চলে যাবে মিজান জানে না । মিজান চায় মেয়েটি কিছুক্ষণ তার হাত ধরে হাটুক । মেয়েটি খুব চালাক মিজান ভাবে । মিজান হাসি মুখে বলল- আমি কি তোমাকে একটা চুমু দিতে পারি ? চুমুর জন্য যদি তুমি টাকা চাও পাবে । আর যদি তুমি টাকা নাও তাহলে তোমাকে আমার অনেক জমানো কথা বলব, কারণ তোমাকে বিশ্বাস করা যায় ।

মেয়েটি চলে গেলো । মিজান একা দাঁড়িয়ে রইল । মিজান ভাবছে সত্যিই কি মেয়েটি এতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল ? যদি মেয়েটি না যেত তাহলে ঘটনা এই রকম হতোঃ
মিজান আর মেয়েটি একটি শিমুল গাছের নিচে বসত । মিজান মেয়েটির নাম জিজ্ঞেস করতো । ছন্দা । তারপর জানতে চাইত- তুমি কোথায় যাচ্ছিলে ? আমি রাস্তায় হাঁটতে বের হয়েছিলাম । তুমি কোথায় থাকো ? আমি পুরান ঢাকায় থাকি । সেখানে তোমার কে কে থাকে ? মা-বাবা আর ছোট ভাই । মেয়েটি মিজানকে বলত তুমি কই থাকো ? আমি জানি না আমি কই থাকি ! তোমার বাবা-মা ? জানি না তারা কোথায় । মেয়েটি বলল- ধুৎ তারপর হেসে মিজানের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল । মিজান বলল- আমি সবার কথা ভাবি । মেয়েটি হেসে মিজানের পিঠে হাত রাখল । তারা দুইজন হাত ধরে হাঁটতে শুরু করলো । অনেকক্ষন হেঁটে একটা লেকের সামনে বসল দুজন পাশাপাশি । মিজান মেয়েটিকে ঠোঁটে চুমু দিলো । কোথাও কেউ নেই । মেয়েটি মিজানকে জড়িয়ে ধরল অন্ধকারে । মেয়েটি মিজানকে চুমু দিলো গলায় । দুইজন দুইজনকে মোট ৮২ টা চুমু দিলো । তাও কম মনেও হচ্ছে । কারো-ই মন ভরে নি । মেয়েটি দুই হাত দিয়ে মিজানের মুখ ধরল, খুব আবেগ নিয়ে বলল- দুঃখ পেও না । মিজান বলল আমি তো তোমাকে কোনো দুঃখের কথা বলিনি । মেয়েটি বলল- আমি টের পাই তোমার এক আকাশ দুঃখ । মিজান চুপ করে অন্ধকারের মধ্যে মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে রইল ।মেয়েটি বলল- আমার সময় শেষ, আমাকে বাসায় নামিয়ে দাও । মিজান বলল আবার কখন দেখা হবে ? মেয়েটি বলল- আর দেখা হবে না । তোমার মন খারাপ ছিল তাই কিছুক্ষন তোমাকে সময় দিলাম ।

সেই নিয়ন বাতির কাছেই মিজানের ঘোর কাটল । মেয়েটির উপর মিজানের খুব মায়া লাগছে । মেয়েটি হয়তো সবার বুকে মাথা রাখার মেয়ে নয় । মিজান ভাবে সে কি বেঁচে আছে ? মেয়েটি তা প্রমাণ না করে বিদায় নিলো । মিজান বাসায় ফিরল রাত ১২ টায় । সারা ঘর অন্ধকার করে বসে থাকল । হয়তো বসে নয় দাড়িয়েই থাকল । তাতে কার কি ! আজ সারারাত মিজান কাঁদবে । তাতে কার কি ? কেউ এসে তো আর তাকে জড়িয়ে ধরে দু'টো ভালোবাসার কথা বলবে না । অন্ধকারের মধ্যে মিজান কাকে যেন বাজে দু'টা গাল দিলো । তারপর লাথি দিলো অদৃশ্য কাউকে ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29511788 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29511788 2011-12-28 22:03:21
বনলতা সেন এবং বিষন্ন এক কবি'র কথামালা - ২ 'সুরঞ্জনা, ঐখানে যেয়ো নাকো তুমি,
বোলো নাকো কথা ঐ যুবকের সাথে ।
ফিরে এসো, সুরঞ্জনা ;
নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে ।

ষোলো লাইনের এই ক্ষুদ্র কবিতাটি পড়ে আমরা ঠিক বুঝতে পারি না, এর নায়িকা মৃতা মা বিশ্বাসঘাতিনী, না কি কবিরই অপগত যৌবনের বেদনা এতে ধ্বনিত হচ্ছে- তা বোঝার প্রয়োজনও করে না ; কেননা ঐ 'ফিরে এসো' আহবানের মধ্যেই অভাবের শুদ্ধ বেদনা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে । সুধীন্দ্রনাথ দত্তের প্রেমের কবিতায় চন্ডীদাসের বা জীবনানন্দের অস্পষ্টতা নেই, তার নায়িকা সুস্পষ্টভাবে শরীর নিয়ে উপস্থিত, কিন্তু তিনি যে-বিরহের কথা বলেন তাও তার তীব্রতার চাপেই দেহের সীমা অতিক্রম করে যায় ।

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২৫ এর জুনে মৃত্যুবরণ করলে জীবনানন্দ তার স্মরণে 'দেশবন্ধুর প্রয়াণে' নামক একটি কবিতা রচনা করেন, যা বঙ্গবাণী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কবিতাটি পরবর্তীতে তার প্রথম কাব্য সংকলন ঝরা পালকে স্থান করে নেয়। কবিতাটি পড়ে কবি কালিদাস রায় মন্তব্য করেছিলেন, "এ কবিতাটি নিশ্চয়ই কোন প্রতিষ্ঠিত কবির ছদ্মনামে রচনা"। ১৯২৫ সালেই তার প্রথম প্রবন্ধ স্বর্গীয় কালীমোহন দাশের শ্রাদ্ধবাসরে প্রবন্ধটি ব্রাহ্মবাদী পত্রিকার পরপর তিনটি সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ঐ বছরেই কল্লোলে 'নীলিমা' কবিতাটি প্রকাশিত হলে তা অনেক তরুণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ধীরে ধীরে কলকাতা, ঢাকা এবং অন্যান্য জায়গার বিভিন্ন সাহিত্যপত্রিকায় তার লেখা ছাপা হতে থাকে; যার মধ্যে রয়েছে সে সময়কার সুবিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল, কালি ও কলম, প্রগতি প্রভৃতি। ১৯২৭ সালে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালক প্রকাশিত হয়। সে সময় থেকেই তিনি তার উপাধি 'দাশগুপ্তের' বদলে কেবল 'দাশ' লিখতে শুরু করেন।

প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের কয়েক মাসের মাথাতেই তিনি সিটি কলেজে তার চাকরিটি হারান। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কলেজটিতে ছাত্র অসন্তোষ দেখা দেয়, ফলাফলস্বরূপ কলেজটির ছাত্রভর্তির হার আশঙ্কাজনকহারে কমে যায়। জীবনানন্দ ছিলেন কলেজটির শিক্ষকদের মধ্যে কনিষ্ঠতম এবং অর্থনৈতিক অসুবিধার পড়ে কলেজ তাকেই চাকরিচ্যুত করে। কলকাতার সাহিত্যচক্রেও সে সময় তার কবিতা কঠিন সমালোচনার মুখোমুখি হয়। সে সময়কার প্রখ্যাত সাহিত্য সমালোচক সজনীকান্ত দাশ শনিবারের চিঠি পত্রিকায় তার রচনার নির্দয় সমালোচনায় প্রবৃত্ত হন। কলকাতায় করবার মতোন কোন কাজ ছিল না বিধায় কবি ছোট্ট শহর বাগেরহাটের প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে তিন মাস পরেই তিনি কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করেন। এ সময় তিনি চরম অর্থনৈতিক দুর্দশায় পড়েছিলেন। জীবনধারণের জন্যে তিনি টিউশানি করতেন এবং সাথে সাথে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সন্ধান করছিলেন। ১৯২৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি দিল্লির রামযশ কলেজে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। বরিশালে তার পরিবার তার বিয়ের আয়োজন করছিল এবং ১৯৩০ সালের ৯ই মে তারিখে তিনি লাবণ্য দেবীর সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ে হয়েছিলো ঢাকায়, ব্রাহ্ম সমাজের রামমোহন লাইব্রেরিতে। বিয়ের পর আর দিল্লিতে ফিরে যাননি তিনি, ফলে সেখানকার চাকরিটি খোয়ান। এরপর প্রায় বছর পাঁচেক সময় জীবনানন্দ কর্মহীন অবস্থায় ছিলেন। মাঝে কিছু দিন ইনশিওরেন্স কোম্পানির এজেন্ট হিসাবে কাজ করেছেন, ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে অর্থ ধার করে ব্যবসার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোনটাই স্থায়ী হয়নি।

১৯৩১ সালে কবির প্রথম সন্তান মঞ্জুশ্রীর জন্ম হয়। প্রায় সে সময়েই তার ক্যাম্পে কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পরিচয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং সাথে সাথে তা কলকাতার সাহিত্যসমাজে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়। কবিতাটির আপাত বিষয়বস্তু ছিল জোছনা রাতে হরিণ শিকার। অনেকেই এই কবিতাটি পাঠ করে তা অশ্লীল হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি তার বেকারত্ব, সংগ্রাম ও হতাশার এই সময়কালে বেশ কিছু ছোটগল্প ও উপন্যাস রচনা করেছিলেন, তবে তার জীবদ্দশায় সেগুলো প্রকাশিত হয়নি। ১৯৩৪ সালে তিনি একগুচ্ছ কবিতা রচনা করেন যা পরবর্তীতে তার রূপসী বাংলা কাব্যের প্রধান অংশ নির্মাণ করে। জীবনানন্দ এ কবিতাগুলো প্রকাশ করেননি এবং তার মৃত্যুর পর কবিতাগুলো একত্র করে ১৯৫৭ সালে রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

১৯৩৫ সালে জীবনানন্দ তার পুরনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্রজমোজন কলেজে ফিরে যান, যা তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। তিনি সেখানকার ইংরেজি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। সে সময়ে কলকাতায় বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র এবং সমর সেন একটি আনকোড়া নতুন কবিতাপত্রিকা বের করার তোড়জোড় করছিলেন, যার নাম দেয়া হয় কবিতা। পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যাতেই জীবনানন্দের একটি কবিতা স্থান করে নেয়, যার নাম ছিল 'মৃত্যুর আগে'। কবিতাটি পাঠ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বুদ্ধদেবকে লেখা একটি চিঠিতে মন্তব্য করেন কবিতাটি 'চিত্ররূপময়'। কবিতা পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যাতে (পৌষ ১৩৪২ সংখ্যা; ডিসে ১৯৩৪/জানু ১৯৩৫) তার কিংবদন্তিতুল্য বনলতা সেন কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এই ১৮ লাইনের কবিতাটি বর্তমানে বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতার অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। পরের বছর জীবনানন্দের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ধূসর পান্ডুলিপি প্রকাশিত হয়। জীবনানন্দ এর মধ্যেই বরিশালে সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছিলেন। ১৯৩৬ এর নভেম্বরে তার পুত্র সমরানন্দের জন্ম হয়। ১৯৩৮ সালে রবীন্দ্রনাথ একটি কবিতা সংকলন সম্পাদনা করেন, যার নাম ছিল বাংলা কাব্য পরিচয় এবং এতে জীবনানন্দের মৃত্যুর আগে কবিতাটি স্থান পায়। ১৯৩৯ সালে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয় আবু সয়ীদ আইয়ুব ও হিরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায়; এতে জীবনানন্দের চারটি কবিতা - পাখিরা, শকুন, বনলতা সেন এবং নগ্ন নির্জন হাত অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৪২ সালে কবির পিতৃবিয়োগ হয় এবং ঐ বছরেই তার তৃতীয় কবিতাগ্রন্থ বনলতা সেন প্রকাশিত হয়। বইটি বুদ্ধদেব বসুর কবিতা-ভবন হতে 'এক পয়সায় একটি' সিরিজের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয় এবং এর পৃষ্ঠাসংখ্যা ছিল ষোল। বুদ্ধদেব বসু ছিলেন জীবনানন্দের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক এবং তার সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় জীবনানন্দের বহু সংখ্যক কবিতা ছাপা হয়। ১৯৪৪ সালে তার চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ মহাপৃথিবী প্রকাশিত হয়। এর আগের তিনটি কাব্যগ্রন্থ তাকে নিজের পয়সায় প্রকাশ করতে হয়েছিল, তবে মহাপৃথিবীর জন্যে প্রকাশক পান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে প্রকাশিত এই কবিতাগুচ্ছে যুদ্ধের ছাপ স্পষ্ট।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন প্রবল হয়ে ওঠে। জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম নেতৃবৃন্দ মুসলমানদের জন্যে পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানান। এর ফলে বাংলা দ্বিখন্ডিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে, কারণ এর পূর্ব অংশ ছিল মুসলমান সংখ্যাপ্রধান আর পশ্চিমাংশে হিন্দুরা ছিল সংখ্যাগুরু। ১৯৪৭ এর দেশভাগ পূর্ববর্তী ঐ সময়টিতে বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বিভৎস রূপে দেখা দেয়। জীবনানন্দ সব সময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সপক্ষে সোচ্চার ছিলেন। কলকাতায় যখন ১৯৪৬ সালে আবার হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে কবি তখন লেখেন ১৯৪৬-৪৭ কবিতাটি। দেশবিভাগের কিছু আগে তিনি বি.এম. কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে কলকাতায় চলে যান। পরে তিনি আর পূর্ববঙ্গে ফিরে যাননি। কলকাতায় তিনি দৈনিক স্বরাজপত্রিকার রোববারের সাহিত্য বিভাগের সম্পাদনা করেন কয়েক মাস। ১৯৪৮ খৃস্টাব্দে তিনি দু'টি উপন্যাস লিখেছিলেন - মাল্যবান ও সুতীর্থ, তবে আগেরগুলোর মতো ও দুটিও প্রকাশ করেননি। এ বছরের ডিসেম্বরে তাঁর পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ সাতটি তারার তিমির প্রকাশিত হয়। একই মাসে কলকাতায় তার মাতা কুসুমকুমারী দাশের জীবনাবসান ঘটে। ইতোমধ্যেই জীবনানন্দ কলকাতার সাহিত্যিক সমাজে নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করে নিয়েছিলেন। তিনি 'সমকালীন সাহিত্যকেন্দ্র' নামে একটি সংস্থার সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন এবং এই সংস্থার মুখপত্র দ্বন্দ্ব পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক নিযুক্ত হন। মাঝে তিনি কিছুকাল খড়গপুর কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৫২ খৃস্টাব্দে তাঁর জনপ্রিয় কবিতার বই বনলতা সেন সিগনেট প্রেস কর্তৃক পরিবর্ধিত আকারে প্রকাশিত হয়। বইটি পাঠকানুকূল্য লাভ করে এবং নিখিল বঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলন-কর্তৃক ঘোষিত "রবীন্দ্র-স্মৃতি পুরষ্কার" জয় করে। ১৯৫৪ খৃস্টাব্দের মে মাসে প্রকাশিত হয় জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা। বইটি ১৯৫৫ খৃস্টাব্দে ভারত সরকারের "সাহিত্য একাডেমি" পুরষ্কার লাভ করে।

( চলবে )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29511408 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29511408 2011-12-28 11:39:49
বনলতা সেন এবং বিষন্ন এক কবি'র কথামালা - ১ মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য ; অরি দূর সমুদ্রের 'পর
হাল ভেঙ্গে যে-নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে ; বলেছে সে, 'এতদিন কোথায় ছিলেন ?'
পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন ।

জীবনানন্দ দেখতে পেয়েছিলেন এমন চোখ, যা নীড়ের মতো স্নেহে ও আশ্রয়ে পরিপূর্ণ । বিদিশার রাত্রির মতো চুল, শ্রাবস্তীর কারুকার্যের মুখ, বা- আরো আশ্চর্য- 'উটের গ্রীবার মতো কোনো এক নিস্তব্ধতা'- কালিদাসের কাব্যাদর্শ অনুসারে এ-সব উপমার কোনো অর্থই করা যাবে না, কিন্তু আমাদের কাছে এদের অর্থ সব-কিছু । শ্রাবস্তী ও বিদিশা বিষয়ে তবু বলা যায় যে এই দুই নগর যেমন লুপ্ত, সুদূর, স্মৃতিভারাক্রান্ত, তেমনি কবির জীবনে বনলতা সেন নাম্মী নারী, কিংবা তিনি মানবীও নয়, এক স্বপ্নচারিণী, যাকে কখনো পাওয়াও যাবে না, ভোলাও যাবে না । কিন্তু উটের গ্রীবার সঙ্গে নিস্তব্ধতার সম্বন্ধ কী ? এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আমরা যখন ভাশগা খুঁজে পাই না, তখনও আমরা উপমাটিকে অত্যন্ত সংগত ব'লে অনুভব করি ; এই উপমা আমাদের চিত্রবৃত্তিকে জাগ্রত ও কর্মিষ্ঠ ক'রে তোলে, তার প্রেরণায় বিশ্বের দুই সুদূরপরাহত বস্তুর মধ্যে সেতুবন্ধন সহজ হ'য়ে যায় ।

এই কথা বলেছিল তারে
চাঁদ ডুবে চ'লে গেলে- অদ্ভুত আঁধারে
যেন তার জানালার ধারে
উটের গ্রীবার মতো কোনো এক নিস্তব্ধতা এসে ।
( 'আট বছর আগের একদিন' )

বিচ্ছিন্নভাবে পড়লে অনর্থক মনে হ'তে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণ কবিতাটি যার জানা আছে তিনি বুঝতে চাইলেই বুঝতে পারবেন যে, 'উটের গ্রীবা' অদ্ভুত ব'লেই আশ্চর্য রকম সাথর্ক । মৃত ব্যক্তিকে আত্মহত্যার পরামর্শ দিয়েছিলো এই নিস্তব্ধতা ; উটের চিত্রকল্পটিতে তারই ভয়াবহতা সূচিত হয়েছে, আত্মহত্যার প্রাক্কালে নৈশ স্তব্ধতার রোমহর্ষণ । আসলে, উটের গ্রীবার উপমেয় এখানে ঠিক নিস্তব্ধতা নয়, মৃত্যু- মৃত্যুই তার ভীষন গ্রীবা বাড়িয়ে দিলো জানলা দিয়ে, পূর্ব- পঙক্তির 'অদ্ভুত' বিশেষণও কোনো এক অজানার ইঙ্গিত দিচ্ছে । উক্ত ব্যক্তির পক্ষে উট অচেনা জন্তু, উটের বাসস্থল মরুভূমি, আকার বৃহৎ ও আকৃতি অসুন্দর- এই তথ্যগুলিতে, পুরো কবিতাটি প'ড়ে ওঠার পর, আমরা লক্ষ করি এক গম্ভীর ও অশুভ ইঙ্গিত, যা কবিতাটির মূল ভাবনাকে প্রগাঢ ক'রে তোলে । যে- সার্ধম্য আমরা কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অংশে খুঁজে পাই না, তার সামগ্রিক প্রভাবে আবিষ্ট হ'তে হয় ।

ইঙ্গি্তময় উপমার একটি শর্ত হলো এই যে উপমেয় ও উপমানে কোনো যান্ত্রিক যোগ থাকবে না, একটি তির্যকভাবে অন্যটির প্রান্ত ছুঁয়ে চ'লে যাবে । অবশ্য কোনো উপমাতেই দুই অংশে কোষ-তরবারি সম্বন্ধ থাকতে পারে না ।চাঁদমুখ' বললে চাঁদের মনোহারিত্ব শুধু মনে পড়ে আমাদের, তার শৈত্য, গোলত্ব বা মৃত অবস্থা নয় ; কিন্তু রোমান্টিক কবিতায় উল্লিখিত প্রসঙ্গেই কথা ফুরোয় না, তাকে আস্তে সরিয়ে দিয়ে উপমার অভিপ্রায় আরো দূরে উত্তীর্ণ হয় । রোমান্টিক আর্ট আমাদের শিখিয়েছে বহিরিন্দ্রিয়ের প্রতি দাস্যভাব থেকে মুক্ত হপ্তে ; তার শ্রেষ্ঠ প্রতিভূদের রচনায় আমরা দেখেছি, কেমন করে কবির চিত্তে বিভিন্ন ইন্দ্রিয়ের মধ্যে সীমান্তরেখা ভেঙ্গে যায়, সব বিপরীত অনিষ্ট হয়ে ওঠে, কবি আমাদের জন্য জয় করে আনেন অজানাকে ।

জীবনানন্দ দাশ (জন্মঃ ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯, বরিশাল - মৃত্যুঃ অক্টোবর ২২, ১৯৫৪, বাংলা ৬ই ফাল্গুন, ১৩০৫) বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাংলা কবি। তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অগ্রগণ্য। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ পাদে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খৃস্টাব্দে যখন তাঁর জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম কবিতে পরিণত হয়েছেন। তিনি প্রধানত কবি হলেও বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন। তবে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে অকাল মৃত্যুর আগে তিনি নিভৃতে ১৪টি উপন্যাস এবং ১০৮টি ছোটগল্প রচনা গ্রন্থ করেছেন যার একটিও তিনি জীবদ্দশায় প্রকাশ করেন নি। তাঁর জীবন কেটেছে চরম দারিদ্রের মধ্যে। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধকাল অনপনেয়ভাবে বাংলা কবিতায় তাঁর প্রভাব মুদ্রিত হয়েছে। রবীন্দ্র-পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার প্রধান কবি হিসাবে তিনি সর্বসাধারণ্যে স্বীকৃত।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তের জেলাশহর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগণা নিবাসী। তাঁর পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৯৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে স্থানান্তরিত হয়ে বরিশালে আবাস গাড়েন। সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন। তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁর মানবহিতৈষী কাজের জন্যে সমাদৃত ছিলেন। জীবনানন্দের পিতা সত্যানন্দ দাশগুপ্তের সর্বাসন্দের দ্বিতীয় পুত্র। সত্যানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৬৩-১৯৪২) ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, বরিশাল ব্রাহ্ম সমাজের সম্পাদক এবং ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ব্রাহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক।

জীবনানন্দের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি, তাঁর সুপরিচিত কবিতা আদর্শ ছেলে (আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড়ো হবে) আজও শিশুশ্রেণীর পাঠ্য। জীবনানন্দ ছিলেন পিতামাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার ডাকনাম ছিল মিলু। তার ভাই অশোকানন্দ দাশ ১৯০৮ সালে এবং বোন সুচরিতা দাশ ১৯১৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা কম বয়সে স্কুলে ভর্তি হওয়ার বিরোধী ছিলেন ব'লে বাড়িতে মায়ের কাছেই মিলুর বাল্যশিক্ষার সূত্রপাত। ভোরে ঘুম থেকে উঠেই পিতার কণ্ঠে উপনিষদ আবৃত্তি ও মায়ের গান শুনতেন। লাজুক স্বভাবের হলেও তার খেলাধুলা, ভ্রমণ ও সাঁতারের অভ্যাস ছিল। ছেলেবেলায় একবার কঠিন অসুখে পড়েন। স্বাস্থ্যউদ্ধারের জন্যে মাতা ও মাতামহ হাসির গানের কবি চন্দ্রনাথের সাথে লক্ষ্মৌ, আগ্রা, দিল্লী প্রভৃতি জায়গা ভ্রমণ করেন।

১৯০৮ সালের জানুয়ারিতে আট বছরের মিলুকে ব্রজমোহন স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি করানো হয়। স্কুলে থাকাকালীন সময়েই তার বাংলা ও ইংরেজিতে রচনার সূচনা হয়, এছাড়াও ছবি আঁকার দিকেও তার ঝোঁক ছিল। ১৯১৫ সালে তিনি ব্রজমোহন বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগসহ ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। দু'বছর পর ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় পূর্বের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি ঘটান এবং অতঃপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার উদ্দেশ্যে বরিশাল ত্যাগ করেন। জীবনানন্দ কলকাতার নামকরা প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। ১৯১৯ সালে তিনি এ কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ. পাশ করেন। ওই বছরেই ব্রাহ্মবাদী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় তার প্রথম কবিতা ছাপা হয়। কবিতাটির নাম ছিল বর্ষ আবাহন। কবিতাটিতে কবির নাম ছাপা হয়নি, কেবল সম্মানসূচক শ্রী কথাটি লেখা ছিল। তবে ম্যাগাজিনটির বর্ষশেষের নির্ঘন্ট সূচিতে তার পূর্ণ নাম ছাপা হয়: শ্রী জীবনানন্দ দাশগুপ্ত, বিএ। ১৯২১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে দ্বিতীয় বিভাগসহ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কিছুকাল আইনশাস্ত্রেও অধ্যয়ন করেন। সে সময়ে তিনি হ্যারিসন রোডের প্রেসিডেন্সি বোর্ডিংয়ে থাকতেন। তবে পরীক্ষার ঠিক আগেই তিনি ব্যাসিলারি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন, যা তার প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত করে। ১৯২২ সালে জীবনানন্দ কলকাতা সিটি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন এবং আইনশাস্ত্র অধ্যয়ন ছেড়ে দেন।

(চলবে )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29511084 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29511084 2011-12-27 20:47:30
জীবিত মৃত
মামুন দৌড়ে সোবার ঘরে গিয়ে নিলা'র হাত শক্ত করে ধরে রাখে । নিলা'র ঘুম ভেঙ্গে যায় । নিলা আড়মোড়া ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে বলে কি হয়েছে এই ভোরবেলা ? আজ এত সকালে সাহেবের ঘুম ভাঙ্গল যে ! মামুনের অবস্থা দেখে নিলা খুব ভয় পেয়ে যায় । নিলা ভয় মেশানো গলায় বলতে থাকে -এই কি হয়েছে তোমার? কাপছো কেন ? শরীর খারাপ লাগছে ? মামুন কিছু বলল না শুধু হাত দিয়ে বারান্দার দিকটা দেখালো নিলাকে । নিলা বারান্দায় গিয়ে মৃত বাচ্চাটাকে দেখে ভয়ে চিৎকার দিয়ে মামুনকে জড়িয়ে ধরল । নিলা কাঁদতে কাঁদতে বলল, এই বাচ্চা এখানে কেমন করে এলো ? কার বাচ্চা ? কারা এখানে রেখে গেল ? মামুন ছোট্র করে বলল- আমি কিচ্ছু জানি না । আকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে । একটু পর বুয়া আসবে, ঘর ঝাড়ু দিবে । নিলা মামুনকে বললো- কাউকে কিচ্ছু জানানো যাবে না । পুলিশকেও না । পাড়া-প্রতিবেশী কাউকে না । আইন নির্দোষ মানুষকেই শাস্তি দেয় । সমাজে আমরা মুখ দেখাতে পারব না । কোনো দোষ না করেও আজ আমাদের এই পরিস্থিতি । তুমি বাচ্চাটাকে ভালোভাবে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে আপাতত কোথাও লুকিয়ে রাখো । মামুন ঠিক তাই করলো- বাচ্চাটাকে একটা বড় টাওয়াল দিয়ে পেঁচিয়ে আলমারির ভেতর লুকিয়ে রাখল ।

নাসিমা বুয়া ঘরে ঢুকেই নিলাকে বলল- কি গো ভাবী তোমার মুখ এমন শুকনো কেন ? রাতে কি সাহেব ঘুমাতে দেয় নাই ? নিলা কঠিন করে বলল- তাড়াতাড়ি তোমার কাজ শেষ করো, আজ নাস্তা বানাতে হবে । মামুন আজ অফিসে যাবে না । শুধু দু'কাপ চা বানিয়ে দিও । বুয়া চলে যাবার পর নিলা ঘরে চা নিয়ে ঢুকে দেখে মামুন মূর্তির মতো বসে আছে । নিলাকে দেখে মামুন বলল চা খাবো না । নিলা বলল- চা খাও ভালো লাগল । তারপর আসো দু'জন মিলে চিন্তা করি কি করা যায় । কেউ একজন আমাদের সাথে এই কাজটা করেছে । আমাদের ভয়ংকর একটা বিপদে ফেলেছে । মামুন বলল- কে এই শত্রু ? আমি তো কোনো দিন এমন কিছু করি নাই যে আমার শত্রু থাকতে পারে । মামুন হঠাৎ রেগে গিয়ে নিলাকে বলল- তুমি নিশ্চয়ই এমন কোনো বাজে কাজ করেছো তার জন্য আজ আমাদের এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হলো । মামুন চোখ মুখ লাল করে হঠাৎ নিলা'র গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো । নিলা ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ল ।

নিলা কি করে বলবে, অনেক বছর আগে রাজু নামের একজনের সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল । সে মানুষ টা নিলাকে দারুন আদর করতো । সেই আদর নিতে নিলা'র অনেক ভালো লাগত । পাঁচ বছর আগে নিলাকে না জানিয়ে রাজু চলে যায় লন্ডন । তারপর রাজু'র আর খোঁজ পায়নি নিলা । এই পাপের শাস্তি কি ঈশ্বর আজ দিলেন মৃত অচেনা-অজানা বাচ্চাকে দিয়ে ! এইসব ভেবে নিলা খুব কাঁদতে থাকে । মামুন এসে নিলা'র পাশে বসে বলল- নিলা তোমার কোনো দোষ নেই । তোমাকে একটা ব্যাপার বলা হয়নি । তোমাকে বিয়ে করার আগে আমি একটা মেয়েকে ভালোবাসতাম । মেয়েটার নাম ছিল চন্দ্রা । ইডেন কলেজে পড়তো । চন্দ্রার সাথে আমার অনেকবার শারীরিক সম্পর্ক হয় । কিন্তু চন্দ্রাকে আমি আর বিয়ে করি নাই । বিয়ে করি তোমাকে । চন্দ্রার অভিশাপে আজ ঈশ্বর আমাদের এই শাস্তি দিয়েছেন ।

সকাল গড়িয়ে এখন দুপুর । সকালে নাস্তা করা হয়নি । দুপুরেও কিছু রান্না করা হয়নি । তাদের আজ ক্ষুধা বোধ নেই । সারা ঘরময় কেমন বিষাদের ছড়াছড়ি । মামুন দেখল তার স্ত্রীর শাড়ি এলোমেলো হয়ে আছে । আঁচল নিচে পরে আছে । মামুন নিলা'র ভরাট বুকের দিকে তাকালো । কোমরে ভাজের দিকে তাকালো । নিলা'র চোখের পানি গাল বেয়ে বুকের উপর পরে ব্লাউজ ভিজে গেছে অনেক খানি । মামুন ভাবছে যদি পুরো ব্যাপারটা স্বপ্ন হতো । আমার আলমারিতে কোনো মৃত বাচ্চা নেই । পুরো ব্যাপারটা একটা দুঃস্বপ্ন । মামুন নিলা'র দিকে চেয়ে বলল- আমি থানায় যাচ্ছি । পুলিশকে সব খুলে বলব । আমরা কোনো অন্যায় করি নাই । তবে আমরা কেন ভয় পাচ্ছি ! কেউ হয়তো এই বাচ্চাটা আমাদের এইখানে রেখে গেছে । এখন, যা করার পুলিশ করবে । তুমি চোখ্ মুছো । তোমার চোখে পানি দেখলে আমার অনেক কষ্ট হয় । যাও গোছল করো । ফ্রেশ হও । আমি আছি, কোনো ভয় নেই ।

সন্ধ্যায় পুলিশ এসে বাচ্চাটাকে নিয়ে গেল । মামুন আর নিলা রাতে বাইরে খাওয়া-দাওয়া করলো । মামুন নিজে পছন্দ করে বেইলী রোড থেকে নিলাকে একটা নীল শাড়ি কিনে দিলো । অকারণের অনেকক্ষন রিকশা নিয়ে ঘুরলো । রাতে বাসায় ফিরে নিলা নতুন শাড়িটা পড়ে স্বামীর পাশে গিয়ে বসল । মামুন নিলাকে বুকে জড়িয়ে ধরল । ঘরের লাইট বন্ধ হয়ে গেল । শীতের রাত খুব ছোট । সময় অনেক কম । নিলা তার স্বামীর কাছ থেকে আদর নিতে নিতে মনে মনে বলল- অন্ধকারে রাজু যা, মামুনও তা । যতবার মামুন নিলাকে আদর করে তার চন্দ্রার কথা মনে পড়ে । অন্ধকারে নিলা যেমন, চন্দ্রাও তেমন । নিলা ফিসফিস করে মামুনকে বলল- আমার একটা বাচ্চা চাই ।

" তোমার অতীত জেনে আমি নই ঈর্ষিত, প্রেয়সী
বরং আমার তাতে ভালোবাসা, মুগ্ধতাই বাড়ে
আমি বুঝি কি উদার তোমার হৃদয়,
কোমলে-কঠোরে মেশা কী অদম্য প্রেম সে আঁধারে !
তোমার মোহিনী কান্না- কী অমূল্য সেই পুরস্কার !
আমার বুকে থাকো- আদর দাও- আদর নাও ।"]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29510598 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29510598 2011-12-26 22:26:18
জীবমন্দির আমর কথা শোনো, বাঁচো, আগামীকাল যতই নিকট হোক,
আজকে থেকেই এই জীবনের গোলাপগুলি কুঁড়িয়ে জড়ো করো ।"

১/
আজ একটি বিশেষ দিন । সকাল দশটা । হিমি রিকশা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে আছে অনেকক্ষন ধরে শাহবাগ যাদু ঘরের সামনে । গুল্লু আসার কথা ঠিক দশটায় । এখন সাড়ে দশটা বেজে গেছে । কিন্তু হিমির একটুও রাগ লাগছে না । সে ঠিক করেছে আজ একটু রাগ করবে না গুল্লুর উপর । আজ একটি বিশেষ দিন । হিমি আজ খুব সুন্দর করে সেজেছে । নতুন একটা লাল শাড়ি পড়েছে । কপালে বড় একটা সবুজ টিপ পরেছে । দুই হাত ভরতি পরেছে লাল-নীল-সবুজ কাচের চুড়ি । আজ একটি বিশেষ দিন । আজ হিমি আর গুল্লু কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করবে । হিমি হঠাৎ কি মনে করে আকাশের দিকে তাকাতেই গুল্লু পেছন দিক থেকে হিমির কাছে এসে বলল স্যরি দেরী করে ফেললাম । রাস্তায় এত জ্যাম ! চলো চা খাই । হিমি বলল- আচ্ছা, চলো ।

২/
সকাল বারো টার মধ্যে হিমি আর গুল্লুর বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেল । হিমি বুঝতেই পারেনি বিয়ে করা এত সহজ । দু'টা সই করলো- আর বিয়ে হয়ে গেল ! দুইজন মানুষ চিরজীবনের জন্য কাছাকাছি এসে গেলো ! এই বিয়েতে সাক্ষী ছিল গুল্লু আর হিমির চার জন কাছের বন্ধু । তারা সবাই মিলে স্টারে দুপুরে খেলো । এই বিয়ের খবর হিমি এবং গুল্লুর বাড়ির কেউ জানে না । সব বন্ধুরা বিদায় নিয়ে চলে যাবার পর হিমি আর গুল্লু ধানমন্ডি লেকে গিয়ে বসলো । হিমি বলল- আমার খুব মাথা ব্যাথা করছে । গুল্লু বলল, তুমি আমার কোলে মাথা রাখো, আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেই । হিমি গুল্লুর কোলে মাথা রাখতেই ঘুমিয়ে পড়ল । গুল্লু হিমির মুখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল- আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি । কতখানি ভালোবাসি তা তুমি কোনো দিনও জানবে না । আর তখন এক ফোটা চোখের জল হিমির গালে গড়িয়ে পড়ল । হিমির ঘুম ভেঙ্গে গেল ।

৩/
গুল্লু সন্ধ্যা ছয়টায় হিমিকে বাসায় নামিয়ে দিল । হিমি তার ঘরে ঢুকে গরম পানি দিয়ে গোছল করে এক কাপ চা খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল । এবং সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়ল । ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখল, গুল্লুকে বিচ্ছিরি চেহারার কিছু মানুষ ধরে নিয়ে যাচ্ছে । ঘুমের মধ্যেই হিমি খুব ভয় পেল । কেঁদে উঠল । এই সময় হিমির মা এসে দেখল হিমি কাঁদছে, ভয়ে তার মুখ শুকিয়ে গেছে । হিমি তার মাকে জড়িয়ে ধরল । হিমির মা হিমিকে জড়িয়ে ধরে মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল, রেডী হয়ে নাও পাত্র পক্ষ তোমাকে দেখতে আসছে । রাতে তারা খেয়ে যাবে । হিমি লক্ষ্মী মেয়ের মতন সুন্দর একটা শাড়ি পরে নিল । হিমিকে দেখে ছেলে সহ ছেলের বাবা-মা সবাই খুব পছন্দ করলো । তারা আর দেরী করতে চায়, আজই আংটি পরিয়ে দিবে । আংটি তারা সাথে করেই নিয়ে আসছে । হিমি হঠাৎ খুব অবাক হয়ে গেল ।অজানা এক ভয়ে তার মুখ শুকিয়ে গেল ।

৪/
রাত আট টা । মিরপুর রোড থেকে গুল্লু তার বাইকে করে বাসায় ফিরছে । সে সব গুছিয়ে রেখেছে বাসায় গিয়ে মাকে কিভাবে হিমির কথা টা বলবে । গুল্লু জানে তার মা সব হাসি মুখে মেনে নিবে । গুল্লু আজ খুব খুশি । তার জীবনের একটা স্বপ্ন আজ সত্যি হলো । গুল্লু মনে মনে ভেবে রেখেছে- সে হিমিকে কোনো দিনও কষ্ট দিবে । অনেক...অনেক ভালোবাসবে হিমিকে । বারবার গুল্লুর চোখে হিমি ভেসে আসছে । গুল্লু আসাদ গেট নেমে এক কাপ চা খেলো । একটা সিগারেট ধরালো । সিগারেট শেষ করে আবার তার বাইক স্টার্ট দিলো । গুল্লু সংসদ ভবনের রাস্তায় আসা মাত্র একটা মাইক্রো-বাস গুল্লুর গোন্ডাকে ধাক্কা দিলো । গুল্লু রাস্তার পাশে ছিটকে পড়লো । তার কপালের সামনের অংশ থেতলে গেল ।

৫/
হিমিদের বাসায় একটা ফোন আসে । ফোন ধরেন হিমির বাবা । অপর প্রান্ত থেকে বাবু নামের একজন ব্যাকুল হয়ে বলল- প্লীজ হিমিকে ফোনটা একটু দেন । খুব জরুরী । হিমির বাবা কঠিন গলায় বলল- আজ হিমিকে দেওয়া যাবে না । বাবু আবার বলল- তাহলে হিমিকে বলুন গুল্লু একসিডেন্ট করেছে । অবস্থা ভালো না । হিমির বাবা আচ্ছা বলে ফোন রেখে দিলো । কিন্তু সে শুভ দিনে তার মেয়েকে একটা দুর্ঘটনার কথা বলতে চহান না ।রাত দশটায় পাত্রপক্ষ খেতে বসল । খাওয়ার পর তারা হিমিকে আংটি পরিয়ে বিদায় নিবে । হিমি কি করবে সব ঠিক করে নিয়েছে । তাদের খাওয়া শেষ হলে হিমি ছেলেটিকে সব খুলে বলব ।

হাসপাতালে গুল্লুর পরিচিতজনরা সবাই ভিড় করেছে । গুল্লুর মা খুব কাঁদছে । গুল্লুর বাবা ডাক্তারদের পেছন পেছন পাগলের মতন ঘুরছে । গুল্লুর সব বন্ধুরা এক জাগায় জড় হয়ে পাথরের মতন দাঁড়িয়ে আছে । ডাক্তার জানিয়ে দিয়েছে- গুল্লুর অবস্থা ভালো না । আত্মীয় স্বজনদের খবর দেন । মনে মনে আপনারা প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন । আমরা আমাদের স্বাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি । এখন সব আল্লাহর হাতে । আমাদের আর কিছু করণীয় নেই ।

৬/
রাত সাড়ে দশটায় গুল্লুর বন্ধু হিমিকে ফোন করে গুল্লুর কথা জানায় । হিমি কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে তার বাবার কাছে এসে বলল - বাবা আমাকে ওর কাছে নিয়ে চলো । হিমি হাসপাতালে যায় । গুল্লু আছে কমায় । গুল্লুর মাথায় ব্যান্ডেজ, গলা দিয়ে গর গর শব্দ বের হচ্ছে । হিমি ডা্ক্তারকে বলল- ডাক্তার আমি যদি কিছু বলি ও কি শুনতে পাবে ? ডাক্তার বলল অবশ্যই শুনতে পাবে, তার মস্তিস্ক সচল আছে ।
হিমি বলল- আমি ওর সাথে এক মিনিট একা কিছু কথা বলতে চাই । সবাই ঘর থেকে বের হয়ে গেলো । হিমি গুল্লুর কাছে বসে এক হাত ধরে আর এক হাত গুল্লুর বুকের উপর রেখে কাঁদতে কাঁদতে বলল- তুমি আমাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারবে না । আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি ।

রাত এক টায় গুল্লু চোখ মেলে সবার দিকে তাকালো । ছোট একটু হাসি দিলো । আর কি আশ্চর্য টুক করে মরে গেল ।

" আমি তোমার স্বপ্ন এতবার দেখেছি যে আজ
আমার কাছে তোমার বাস্তব সত্তা অবলুপ্ত ।
এখন কি সময় আছে এই মৃত্য শরীরকে কাছে
পাবার এবং আমার প্রিয়তম কন্ঠের উৎস এই মুখে
চুম্বন করার ? "

( এই লেখাটি উৎসর্গ করা হলো সুরভী কে । সে খুব ভালো রান্না করতে পারে । খুব গুছানো মেয়ে । কিন্তু অনেকখানি বোকা । এই বোকা মেয়েটি ভালো থাকুক । ভালো থাকুক তার সব প্রিয় মানূষেরা । )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29507993 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29507993 2011-12-22 19:11:42
জয় বাংলা - ১৯
ক্ষমতায় আসার আগে- আওয়ামীলীগ সরকার কত নির্বাচনী ইশতিহার দিলো- তার তো কিছুই করলো না । সব বাদ দিয়ে যদি যুদ্ধাপরাধীর বিচারের কথা বলি- এত দেরী কেন ? ধর তক্তা মার পেরেক । ঝামেলা শেষ । এতো তাল বাহানা কেন ? নির্বাচনী ইশতিহার-র গলা ফাটিয়ে বলেছেন- ক্ষমতায় গেলেই আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো । আর কবে, তাদের তো যাওয়ার সময় হয়ে এলো । আর টিভি খুললেই কোনো না কোন রাজনীতিবিদদের দেখা যাবেই । কোন না কোন অনুষ্ঠানে তারা প্রধান অতিথি । কেন, তাদের কি কাজ নেই ? পৃথিবীর অন্যান্য দেশে রাজনীতিবিদদের টিভি'তে দেখা'ই যায় না সারা বছর । তারা দেশের কাজে ব্যস্ত থাকেন । তারা সত্যিকার ভাবে দেশের জন্য কাজ করেন । দেশকে ভালোবাসেন । ( একজন মানূষ মন্ত্রী না সচিব না, তারপরও সে প্রচুর টাকার মালিক । কিভাবে ? রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে । এই ধরনের মানুষের সংখ্যা কিন্তু খুব কম নয় ।)

আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪০ বছর হলো । কিন্তু এই ৪০ বছরে দেশ খুব বেশী উন্নত হয়নি । পৃথিবীর অন্যান্য দেশ খুব অল্প সময়ে উন্নতি লাভ করেছে । দুবাই, কাতার, মালোয়েশিয়া ইত্যাদি । একটা দেশে ১০/২০ টা টিভি চ্যানেল বা ১৫/২০ পত্রিকা বা ৫/৭ টা রে্ডিও বের করলেই দেশের উন্নতি হয় না । বেশীর ভাগ টিভি চ্যানেল, পত্রিকা কোন না কোন রাজনৈতিক দলের । তারা শুধু তাদের কাগজে-চ্যানেলে নিজেদের জয়গান করেন । টক শো তো তারা বড় বড় কথা বলেন । আরে...বড় বড় কথা না বলে বড় বড় কাজ করেন, তাতে দেশের মানূষের ভালো হবে । দেশের জন্য কাজ করতে হলে কি আগে ক্ষমতায় যেতে হয় ? ক্ষমতায় না থেকে দেশের জন্য কাজ করা যায় না ? বুড়ো-বুড়িদের এখন বিশ্রাম নেওয়া দরকার । যুবশক্তিকে এখন কাজে লাগাতে হবে । বুড়ো-বুড়ি গুলোর- যদি তাদের ভালো পরামর্শ থাকে দিবে । দেশের উন্নতির জন্য যাদের কে কাঁটা মনে হবে তাদের সরিয়ে দিতে হবে । এমনকি যদি ধর্মের কারনে দেশের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে ধর্ম কেও সরিয়ে দিতে হবে । সবার আগে দেশ ।

আমাদের দেশের রাজনীতিবিদ'রা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আগে পিছে দুনিয়ার গাড়ি হোন্ডা থাকে । আর অন্যদিকে সাধারণ মানূষেরা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করে । এম্বুল্যান্সে রোগী ব্যাথায় কোকায় । আমার মাঝে মাঝে মনে হয় প্রধানমন্ত্রী জানেন না- দেশের সমস্যা গুলো কি কি । কারণ প্রধানমন্ত্রীর আশে-পাশের মানূষ গুলো তাকে যা বলেন তিনি তাই-ই জানেন । মানে, চিলে কান নিয়ে গেছে- এখন চিলের পেছনে দৌড় দাও । আমার মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছা করে মন্ত্রীদের বাসে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখি, তারা দেখুক বাসের সমস্যা- রাস্তার জ্যাম । ১৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ১ ঘন্টা । এখন দরকার যোগ্য নেতৃত্ব । সেই নেতৃত্ব দিতে পারবে দেশের যুব সমাজ । মনে রাখতে হবে, সব যুব সমাজ নেশায় আক্রান্ত নয় । চরম সত্য কথা হলো- দেশের কোনো মন্ত্রীর মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা নেই । ডঃ হুমায়ূন আজাদ অনেক আগে তার একটা প্রবন্ধে লিখেছিলেন- আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা হওয়ার যোগ্যতা নেই কিন্তু সে প্রধানমন্ত্রী !

প্রতিটা সরকারী অফিসে কোনো কাজের জন্য গেলে ঘুষ দিতেই হয় । এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই । নোংরা পরিবেশ । অফিসের লোকদের নোংরা ব্যবহার । এবং কাজের ক্ষেত্রে আধুনিক নিয়ম পালন করা হয় না । বিশেষ করে সরকারী হাসপাতাল গুলোর চিকিৎসা সেবা দেখলে বমি আসে । ডাক্তার নার্সদের ব্যবহারে রোগী আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে যদি কোনো সরকারী হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীকে একটা দিন রাখতে পারতাম ! তাহলে প্রধানমন্ত্রী বুঝতে দেশের চিকিৎসা সেবা কতটা উন্নত । প্রতিটা রাজনীতিবিদের শাস্তি হওয়া উচিত । কারন তারা নিজের কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করেন নি । তারা কয় দিন পরপর বউ পোলা-পান নিয়ে বিদেশে যান মোজ মাস্তি করেন দেশের টাকায় ।

আমাদের দেশের খেলোয়াড়'রা বিদেশে খেলতে গিয়ে হেরে আসেন । দেশে এসে বলেন- আবহাওয়া এবং খাবার ভালো ছিল না । অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম, তাই ভালো খেলতে পারি নি । এয়ারপোর্ট দেখা যায়- তাদের লাগেজ ভর্তি মালামাল । তারা খেলতে যায়নি, শপিং করতে গিয়েছিল ? ওই গাধা গুলো যখন নিজের দেশের মাটিতে খেলে- তখনও কি আবহাওয়া- খাবার সমস্যা করে ? ওই গাধাদের চেয়ে বড় দোষ হচ্ছে- নির্বাচক মন্ডলীর । খেলা'র মধ্যে হার জিত থাকবেই । কিন্তু তার জন্য গরু হারা হারতে হবে ? তারপরও আমি স্বপ্ন দেখি- স্বপ্ন দেখতে আমার ভালোই লাগে । আর অপেক্ষা করি । একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে । আমরা মাথা উঁচু করে দাড়াবো । কেউ আমাদের দেখে হাসবে না । গত ৪০ বছরে আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো- স্বাধীনতা ।

( চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29506724 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29506724 2011-12-20 20:38:27
পৃথক প্লাবন
উপরের কথাগুলো ফালতু কথা । এখন আমার একটি কবিতা লিখতে ইচ্ছা করছে, লিখব । আমি যে কোনো বিষয়ই নিয়েই যখন তখন লিখতে পারি । তাছাড়া প্রতিমাসে একটা করে কবিতা না লিখলে আমার ভালো লাগে না । অনেক দিনের অভ্যাস । কথায় বলে না পুরনো অভ্যাস সহজে মরে না । এখন কবিতাটা পড়ুন-


ওগো চিরচেনা, কাগজের দলিল ছাড়া তোমার কাছে যেতে দিবে না ?
কেন বারবার এড়িয়ে যাও আমার ইচ্ছাগুলোকে, তুলে নিবো তোমাকে
তুমি জানালা খুলে দাও- আর এই আমি ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই তোমাকে আদরে
পৃথিবীর শেষপ্রান্তে যাবে পায়ে পায়ে আমার সাথে, মুছে ফেলো সমস্ত হতাশা
তোমার মনকে আমার মনের সঙ্গে শক্ত বাধনে রাখো বেঁধে প্রকৃতির মতোন ।
আমার ঘরে না আছে দরজা না আছে খিল-ইচ্ছা করলে অনেক দূর চলে যাওয়া যায়
তোমার বাস্তবতা দিয়ে আমি কি করবো- তুমিই তো আমার এক টুকরো জীবন
বিশাল আকাশের নীচে তোমার হাত দু'টি আমার বুকের উপর মেলে ধরো-
তোমার সমস্ত দুঃখ, কষ্ট- সমস্ত ভুল, না পাওয়াকে বাক্সবন্ধি করে রাখবো
কোনো সুন্দরীদের উপর তুমি রাগ করো না-আমার ঠোঁট খুঁজে নিবে তোমার ঠোঁট ।
আমি তোমার এত কাছে ছিলাম- যে অন্যদের আলিঙ্গন আর ভালো লাগে না ।
এই হু হু শীতে তোমার কি শীত করছে- তাহলে আমার কাছ থেকে উষ্ণতা নাও
চলো যাই হাত ধরে চিড়িয়াখানায়, বানরের খাচায় বাদাম ছুড়ে দেই এসাথে।
মধ্যরাত্রে তোমার কন্ঠস্বর ভেসে আসে আমার ঘরে- আনন্দের শিহরণ তোলে
সমুদ্র আর আকাশ আমাকে বলে- আমাদের মতো বিশাল তোমার ভালোবাসা
তোমার মনকে বুঝাও কোনো কিছুর জন্য আক্ষেপ না করতে-তাতে কষ্ট বাড়ে
এযুগে ভালোবাসা ঝড়ের মতন- সব তছনছ করে দেয়, দেহ এবং মোহ, হায় !
আমি ঠিক আমার মতন, আমি ঠিক তোমার মতন- তাতে কোনো ক্ষরি নেই
টেবিলের উপর বই, মেঝেতে বিড়াল কিন্তু তুমি থাকো আমার বিছানা্য় স্নিগ্ধতায়
তোমাকে ছাড়া আর অন্য কাউকে ভালোবাসতে ইচ্ছা করে না প্রিয়তমা ।
আমরা সুখী হবো- কেননা দুঃখ আমাদের সাথে লড়াই করে পারবে না
তোমাতে আমাতে রয়েছে সমস্ত বিশ্বব্রহ্মান্ড-আমাদের বিছিন্নি করা সম্ভব নয়
তোমার মসৃন বুকের উপর থাকুক আমার মাথা- বিশ্রাম করে নিই আমি,
আর তুমি যখন আমার বুকে তোমার ক্লান্ত মাথা রাখবে-বুঝবে মিথ্যুক নই আমি,
তুমি তো জানো, আমারা হৃদয় বারবার তোমাকে আঁকড়ে ধরতে চায়
শোনো, আমার হাত ধরো, আর যদি কাঁদতেই হয়- আমার কাঁধে মাথা রেখেই কাঁদো।

মনে রেখ কবি'রা হলো কুকুরের মতন স্বভাব কখনো বদলায় না ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29505792 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajib128/29505792 2011-12-19 12:45:15