অনেক গবেষণাও করেছেন তারা, এখনো কিছু জিনিস রহস্য ঘেরা থাকলেও জবাব মিলেছে অনেক কিছুরই
বারমুদা দ্বীপ, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আর পুয়ের্তোরিকোকে যদি তিনটি সরলরেখা দিয়ে জুড়ে দেয়া হয় তবে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ১১ লাখ ৪০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে যে বিশাল ত্রিভুজ তৈরি হয়, সেই এলাকাটাকে লোকে বলে ডেভিলস ট্রায়াঙ্গল বা বারমুদা ট্রায়াঙ্গল। ভারি দুর্নাম এই জায়গাটার। এখনো, এই একবিংশ শতাব্দীতেও জাহাজ নিয়ে নাবিকরা এ এলাকায় ঢোকার আগে পাঁচ বার সৃষ্টিকর্তার নাম জপে নয়তো বাবা মাকে স্মরণ করে। বিমান নিয়ে এই এলাকার ওপর দিয়ে কোন বৈমানিকের যদি যাওয়ার দরকার পড়ে তবে সেই বৈমানিকেরও একই অবস্থা হবে। এখন কথা হল, কেন সবাই ভয় পায় এলাকাটাকে?
এমন কি আছে সেখানে? বারমুদার বদনাম অনেক আগে থেকেই। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ দিকে স্পেনিশ অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস এই এলাকার সাগরে অস্বাভাবিক পরিমাণে ভেসে বেড়ানো সামুদ্রিক আগাছা দেখে রীতিমত ভয় ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন এ এলাকায় জাহাজ চালানো মোটেই নিরাপদ নয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বেশ কিছু জাহাজ এ এলাকায় রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য হওয়া এবং কিছু জাহাজকে অজ্ঞাত কারণে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চতুর্দিকে বারমুদার দুর্নাম রটে যায়। ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন নৌবাহিনীর ৫টি টর্পেডো বম্বার বিমান ১৪ জন আরোহী সমেত অদৃশ্য হয় এখানে। এই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া বিমানগুলোর সন্ধানে যে সি-পেস্ননটাকে পাঠানো হয়েছিল, সেটিও আর ফিরে আসেনি। এরপর ১৯৪৮ সালে ২৭ জন যাত্রী নিয়ে নিখোঁজ হল একটি ডিসি-৩ বিমান। ১৯৫১ সালে ৫৩ জন যাত্রী নিয়ে অদৃশ্য হল একটি সি-১২৪ বিমান। ১৯৬৩ সালে ৩৯ জন আরোহী নিয়ে মেরিন সালফার কুইন নামে একটি জাহাজও হারিয়ে গেল বারমুদায়।
বারমুদার ব্যাপারটা নিয়ে বই, পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন রিপোর্ট ইত্যাদিতে এতই হইচই শুরু হলো যে, বিজ্ঞানী আর সাংবাদিকরা আর চুপ করে থাকতে পারলেন না। ব্যাপক পর্যবেক্ষণের পর তারা দেখলেন, বারমুদার এই বদনামের মূল কারণ ভুল পরিসংখ্যান। কারণ, যেসব জাহাজ বারমুদা ট্রায়াঙ্গালের বাইরে নিখোঁজ হয়েছিল বা ডুবেছিল, সেসব ঘটনার দোষও এসে বারমুদার ঘাড়ে চাপছিল। বারমুদা ট্রায়াঙ্গালের মধ্যে যেসব জাহাজ নিখোঁজ হয়েছিল, সেগুলোর ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখলেন, সে সব জাহাজের কোনটা ডুবেছে খারাপ আবহাওয়ার কারণে, কোনটা ডুবেছে ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে কোন কিছু ঠাহর করতে না পেরে। যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা প্রয়োজনীয় সাজসরঞ্জামের অভাবের দরুন ডুবেছে কোন কোনটা। ১৯৪৫ সালে যে ৫টি মার্কিন জঙ্গী বিমান ১৪ জন আরোহী নিয়ে এখানে নিখোঁজ হয়েছিল, খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সে বিমানগুলোর স্কোয়াড্রন লিডার ছিলেন অত্যন্ত অনভিজ্ঞ এবং তার বিমানের কম্পাসটিও ছিল ত্রুটিযুক্ত। ঘটনার সময় আবহাওয়াও ভাল ছিল না। তাছাড়া তাদের বিমানগুলোতে জ্বালানিও ছিল খুব কম।
ব্যাপক পর্যবেক্ষণের পর বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেন যে, বারমুদা ট্রায়াঙ্গাল এলাকাতে কোন ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনার প্রমাণ মেলেনি। এই এলাকায় যত দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার প্রতিটিরই বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা আছে। বিজ্ঞানীদের এই সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও বারমুদা ট্রায়াঙ্গাল সম্পর্কে মানুষের ধারণা অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে আজো পর্যন্ত।
সূত্রঃ ইন্টারনেট, ন্যাট জিও চ্যানেল, পত্রিকা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

