ছোটবেলায় হাতের লেখা সুন্দর করানোর জন্য মা প্রতিদিন দুপুরে নীতিবাক্য লেখাতেন। গুনে গুনে পুরো ৫ পাতা লেখা হলে তবেই ছুটি মিলতো। কথাগুলো লেখার সময় কিভাবে যেনও একেবারে মনে গেথে গিয়েছিলো। এতো বছর পরেও কথা গুলো ভুলতে পারিনা, ক্ষেত্র বিশেষে মানার চেষ্টাও করি। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে এসব নীতিবাক্যকে শুধু শুকনো কিছু কথা মালা ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। কিন্তু আমার ভুল ভেঙ্গেছে। আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদেরকে নিঃশর্ত ক্ষমা করে ক্ষমার মহত্ত্ব আরেকবার আমাদের সামনে তুলে আনলেন।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি, ধৃষ্টতা নেবেন না। এই অপরাধিগুলকে ক্ষমা করার সময় কি একবারও আপনার চোখের সামনে আপনার প্রেমময়ি স্ত্রীর মুখ খানি ভাসে নি? একবার ও কি মনে হয় নি, আপনি জেভাবে কারো পিতার খুনি কে,বা কারো স্বামীর খুনিকে ক্ষমা করে দিচ্ছেন, দু দিন পর কেউ যদি আপনার স্ত্রীর হত্যাকারীকে এভাবে ছেড়ে দেয় আপনার কেমন লাগবে? আপনার হৃদয় কি একটা বার ও আপনাকে দংশন করেনি?আয়নায় নিজের মুখটা দেখে একটু ও বিবেক তাড়িত কি হন নি আপনি?
আপনি না দেশের পতি? সংবিধানের শেষ রক্ষাকর্তা! জানি সংবিধান আপনাকে দায়মুক্তির ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু অনুচ্ছেদ ৪৬ এ আসলে কি বলা হয়েছে আপনি বিসৃত হয়েছেন? এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে 'এই ভাগে পূর্ববর্ণিত বিধানবলিতে যাহা বলা হয়েছে, তাহা সত্ত্বেও প্রয়োজনে কিংবা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে কোন অঞ্চলে শৃঙ্খলা রক্ষা বা পুনর্বহালের প্রয়োজনে কোন কাজ করিয়া থাকলে সংসদ আইনের দ্বারা সেই বেক্তিকে দায়মুক্ত করতে পারবেন কিংবা অই অঞ্চলে প্রদত্ত কোন দন্ডাদেশ, দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির আদেশকে কিংবা অন্য কোন কাজকে বৈধ করিয়া লইতে পারবেন'।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি আপনি কি বলবেন, এই আসামীগুলো এখানের কোন শর্তের মধ্যে পরে???আমি বড় অধম, বুঝি খুব ই অল্প। প্লীজ, আমি বুঝতে চাই, আমাকে বুঝিয়ে বলুন। আমার অজ্ঞানতাকে জ্ঞানের রূপ দিন।
আমি আমার অল্প জ্ঞানে কিছু জিনিস বুঝি, আপনি এক দেখাতেই বলে ফেলতে পারবেন এগুল আমার ভুল বোঝা। তাও আমি আমার মূর্খতাকে প্রকাশ করছি, আপনি শুধরে দেবেন বলে!
সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী' কিন্তু কেনও জানি মনে হচ্ছে, এখানে এই অনুচ্ছেদটা লঙ্ঘিত হয়েছে। যে ছেলেটা তার বাবার হত্তার বিচার পেল না আমি তার দৃষ্টি থেকে বলছি। অবশ্য তাহের পুত্রের কাছে এটা অবশ্যই ন্যায় বিচার।
অনুচ্ছেদ ৩১ কে বলা হয় আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার। আপনি বলুন তো এখন আমরা কিভাবে ব্বুঝব আমরা এই অধিকারের যোগ্য কিনা?
বোকার মত, মূর্খের মত কিছু প্রশ্ন করার ধৃষ্টতা দেখালাম। কিন্তু জানেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আজকাল কিন্তু অনেকের মনেই এসব প্রশ্ন উঠছে। আমরা চাই আপনি আমাদেরকে মিত্থা প্রমান করুন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাওয়া বিশেষ ক্ষমতাবলে নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। আমরা আজ বড় ক্লান্ত, আশাহত।
নজরুলের একটা কবিতা আছে না, 'কাণ্ডারি হুশিয়ার' কেনো জানি খুব কবিতাটা মনে পড়ছে। আপনি কবিতাটা জানেন তো?
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০১১ রাত ১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



