somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজনীতি
২০০৬ এর ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে হাসিনার দ্বারা লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ফাসি চাই।২২৮ অক্টোবর রাজপথে হাসিনার দ্বারা লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ফাসি চাই।

স্কুলে ইসলাম সম্পর্কে আমাদেরকে মিথ্যা শেখানো হতো : নওমুসলিম সোফি জেনকিন্স

১৩ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার নাম সোফি জেনকিন্স। আমার জন্ম হয়েছে ব্রিটেনের একটি নিন্ম মধ্যবিত্ত ইংরেজ পরিবারে। আমার মা একজন গৃহিণী। বাবা কাজ করতেন একটি ইলেকট্রনিক ফার্মে। বর্তমানে তিনি একটি ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের লেকচারার। তিনি ক্যাথলিক আর মা প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মমতে বিশ্বাসী। তবে তারা খুব কমই চার্চে যাতায়াত করতেন। আমাদের ঘরে ধর্ম নিয়ে কখনোই কোন আলোচনা হতো না। বাবা-মা ধীরে ধীরে যেন অনেকটা নাস্তিকে পরিণত হলেন। তবে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে আমি বড় হয়ে যদি ধর্মের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠি বা ধর্ম পালন করতে চাই গভীরভাবে তাহলে তারা আমাকে কোন বাঁধা দেবেন না। বরং তারা আমাকে সমর্থনই দিয়ে যাবেন।
আমাকে ধর্মীয় কোন শিক্ষা ঘরে দেয়া হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ছোটবেলা থেকেই আমি সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করতাম। আমাদের স্কুলে যে শিক্ষা দেয়া হতো খ্রীস্টান ধর্মের ব্যাপারে তা যে সঠিক ছিল না সে ধারণা আমার মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল ছোট থেকেই। আমি ‘পবিত্র চেতনা’ অথবা ‘যিশুখ্রীস্টে বিশ্বাস করতাম না। এসব আমার কাছে মিথ্যা মনে হতো। কিন্তু আমাদেরকে বলা হতো যে, এটাই হচ্ছে সঠিক পথ। অন্যসব ধর্ম হচ্ছে মিথ্যা। ফলে আমার মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। আপনি যখন ছোট শিশুটি থাকেন তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার বিশ্বাস থাকে যে বড়রা যা বলে, যা করে তা সবই সঠিক। কিন্তু স্কুলের শিক্ষকরা ধর্মীয় বিষয়ে যেসব কথা বলেছেন তা নিয়ে আমার মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ফলে আমি একান্তভাবেই নিজে থেকে একজন মাত্র সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করতে শুরু করি। যা সঠিক নয় তার উপর বিশ্বাস স্খাপন করার ব্যাপারে নিজেকে আমার অপরাধী মনে হতো। খুব শীঘ্রই সঠিক পথ খুঁজে পাবার ব্যাপারে আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতাম।
তারুণ্যে এসে আমি ইসলামী মৌলবাদের আতঙ্কে পড়ে গেলাম। বিশেষ করে ঐ সময়ে সালমান রুশদীর ঘটনা সারাবিশ্বের মানুষকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল। তখন মুসলমানদের নিয়ে আমার মনে ভয়ানক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আমার মনে হতে থাকে যে, মুসলমানরা সবাই উগ্রপন্থী। এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য আমি সব সময়ই সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতাম। সঠিক পথ খুঁজে পাওয়ার জন্য আমি তার সাহায্য চাইতাম। সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের ব্যাপারে আমার মনে কখনোই কোন সন্দেহ ছিল না। আমি যখন হাইস্কুলে তখন আমার এই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাতে থাকে যে, সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে আমার বিশ্বাস স্খাপন ভুল ছিল না। যদিও এই সময়ে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কিছু জানা ছিল না এবং তেমনভাবে কিছু শুনিওনি। আমি কেবল এটুকু শুনেছিলাম যে, ইসলাম একটি সহিংস ধর্ম যেখানে নারীকে ময়লা-আবর্জনার মত গণ্য করা হয়। স্কুলে আমাদেরকে শেখানো হয়েছিল যে, তরবারীর সাহায্যে ইসলামের বিস্তার ঘটানো হয়েছে (অন্যভাবে বলতে গেলে বলপূর্বক)। স্কুলে শিক্ষকরা একথাও বলতেন যে, মুসলমানরা মোহাম্মদের (সা.) উপাসনা করে। তবে স্কুলে ইসলাম সম্পর্কে আমাদেরকে যে একটি সত্য কথা শেখানো হয়েছে তা হলো মুসলমানরা এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করে। এ বিষয়টি সম্পর্কে আগে আমি কখনো শুনিনি।
আমি ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মের নানা রীতিনীতি ভালোভাবে লক্ষ্য করতাম। কিন্তু এগুলো আমার কাছে মনে হতো মানবসৃষ্ট ধর্ম এবং স্ববিরোধী। কি যেন একটি অদৃশ্য শক্তি আমার মনস্তত্ত্বে আঘাত করলো। আমার মনে হতে লাগলো যে, আমি এতদিন যা শিখেছি তা সঠিক কিনা যাচাই করা প্রয়োজন। যে কথাটি আমি শুনেছি সেটা যাচাই করার কৌতূহলও আমার মধ্যে জাগ্রত হলো। স্খানীয় একটি লাইব্রেরীতে ‘এলিমেন্টস অব ইসলাম’ নামের একটি বই আমি খুঁজে পেলাম এবং অত্যন্ত সতর্কভাবে সেটি কিনে নিলাম। আমি আগে শুনেছিলাম যে, ইসলামে নারীদেরকে পুরুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করার অধিকার দেয়া হয়েছে। সেটা যাচাই করার জন্য আমি আগে বইটির নারী বিষয়ক অধ্যায়ের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলাম। পুরো অধ্যায় পড়ে আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। কারণ ইসলাম ও নারী সম্পর্কে স্কুলে আমি শিখেছি বা শেখানো হয়েছে তার সাথে এই বইয়ের বক্তব্যের কোন মিল নেই। যা আমি ইতোপূর্বে কখনো শুনিনি সেগুলো দেখতে পেলাম এই বইয়ের মধ্যে। এই বইয়ে আমি যা পড়েছি সে ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই। আমি জানি এগুলো সত্য। আমি এটাও অনুভব করতে লাগলাম যে, এতদিন ধরে সত্যের সìধান দেয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি যে প্রার্থনা করেছি তা বিফলে যায়নি। সৃষ্টিকর্তা আমার সব প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছেন এই বইয়ের মাধ্যমে। ইসলামই হচ্ছে সত্যধর্ম যার সìধান আমি এতদিন ধরে করে এসেছি। অথচ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমাদেরকে শেখানো হয়েছে যে, ইসলাম একটি ‘ভ্রান্ত ধর্ম’। ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য যেসব বইয়ে আমি এতদিন পড়েছি সেগুলো যে মিথ্যা তা আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেলো।
আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আমাকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। কিন্তু কিভাবে কি করতে হবে সে ব্যাপারে আমার কোন ধারণা ছিল না। অন্যদিকে কাউকে এ ব্যাপারে কিছু বলতেও পারছিলাম না। স্খানীয় লাইব্রেরী থেকে আমি কোরআনের অনুবাদ কপি কিনে নিলাম। কিন্তু এটি মিডিল ইংরেজীতে অনুবাদ করার কারণে আমার বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু এই অসুবিধা আমাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলাম ইসলাম গ্রহণের। সেজন্য পরবর্তী আড়াই বছর আমি ইসলামের উপর বিস্তর পড়াশোনা করেছি। ১৯৯৭ সালে মুসলিম একটি ওয়েব সাইটের চ্যাটরুম আমার জীবনকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিল। এই চ্যাটরুমে যারা অংশ নিত তারা আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে ইসলাম সম্পর্কে জানতে। তাদের কাছ থেকে আমি ইসলাম সম্পর্কে অজানা অনেক তথ্য জানতে পেরেছি এবং শেষ পর্যন্ত এই ওয়েব সাইটের মাধ্যমেই আমি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের সামনে পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সত্যের পথে এসেছি।



৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×