আমার প্রিয় পোস্ট

জয়ের একটি উক্তি প্রসঙ্গ আ'লীগ কারও সাথে আঁতাত করে না? কিন্তু অতীত কি বলে?

১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৭:৩৮

শেয়ার করুন:                   Facebook

বিরোধী দলের আন্দোলনের ফলে ১৯৬৯ সালে শেখ মজিবুর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত হয়ে আইয়ুব সরকারের সাথে
গোপন আঁতাতের শর্তানুযায়ী আইয়ুব আহূত গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন। যদিও শেখ সাহেব মওলানা সাহেবের কাছে বন্দিদশায় পাঠানো বার্তায় বলেছিলেন, তিনি (শেখ মুজিব) মুক্ত হয়ে মওলানা সাহেবকে সাথে নিয়েই পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে আন্দোলন করবেন, সে কথা তিনি হয়ত অবস্খার চাপে রাখতে পারেননি। ইতোপূর্বে, শেখ মুজিব সাহেবের প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ইসলামাবাদ যাওয়ার প্রস্তুতির শেষ মুহূর্ত তা বাতিল হয়ে যায়। তেজগাঁও বিমান বন্দরে শেখ মুজিবকে নিয়ে উড্ডয়নের প্রতীক্ষায় ছিলো পিআই-এর বিশেষ এক বিমান। তাজউদ্দিনসহ কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার এ বিষয়ে বিরধিতা ও জনমতকে উপেক্ষা করে শেখ সাহেব প্যারোলে পাকিস্তান যাননি। কিন্তু সরকারের শর্ত মেনে যোগ দিলেন গোলটেবিল বৈঠকে। ব্যর্থ সে বৈঠক শেষে ঢাকায় ফিরে বৈঠকে উপস্খিত অন্যদলের নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, তিনি একই সময় বয়োবৃদ্ধ রাজনীতিবিদ মওলানা ভাসানীকে রাজনীতি থেকে অবসর নিতেও পরামর্শ দেন। রাজনীতি সচেতন প্রবীণ ব্যক্তিদের এসব জানা কথা। মুজিব তনয়া শেখ হাসিনা সম্প্রতি প্যারোলে মুক্ত হয়ে চিকিৎসার নিমিত্তে গেছেন আমেরিকায়। এ নিয়ে এক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মুক্ত হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তিনি দলীয় এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করেন। একই দিন রাতে চার উপদেষ্টা তার বাড়িতে গিয়ে চলমান রাজনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ শুরু করার এক পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীনও ফোনালাপ করেন প্যারোলে সদ্যমুক্ত অসুস্খ আওয়ামী লীগ নেত্রীর সাথে। হাসিনার স্বাস্খ্য নিয়ে কোনরূপ আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে কোন পক্ষই বলেনি।
এদিকে অতি উৎসাহী কিছু আওয়ামী সমর্থক জোর গলায় বলে বেড়াচ্ছেন, প্যারোলে মুক্ত হননি হাসিনা। অথচ, সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে আট সপ্তাহের জন্য মুক্তি পেয়েছেন শেখ হাসিনা ও যেকোন সময় এ সিদ্ধান্ত বাতিল হতে পারে- যার অর্থ হলো, শেখ হাসিনাকে পুনরায় কারাগারে ফেরত যেতে হবে। এ পরিপ্রেক্ষতে কি হাসিনার সাময়িক মুক্তিকে নি:শর্ত মুক্তি বলা সঠিক হবে। দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্খিতিতে যে প্রকারেই হোক, হাসিনার সাময়িক শতর্কসাপেক্ষ মুক্তি, রাজনৈতিক অঙ্গনে সুবাতাসের ইঙ্গিতকে ইতিবাচক বলেই আমরা মনে করি। একই প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়েও সরকারের সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে। ভালো কথা। শেখ হাসিনার মত বেগম জিয়া বিদেশে চিকিৎসা নিতে না যাওয়ার তার সিদ্ধান্তে অনড়। তবে তিনি তার কারারুদ্ধ অসুস্খ দুই সন্তানকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে অনুরোধ জানিয়েছেন। অবস্খাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এ বিষয়ে সরকার অচিরেই ইতিবাচক সাড়া দিয়ে দেশে সুস্খ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করবেন, যা নাকি নির্ধারিত সময়ে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে সহায়ক হবে। দেশের তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান কারারুদ্ধ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মুক্তি এ সময় অত্যাবশ্যক। চার দলীয় জোট বেগম জিয়া ও নিজামী সাহেবের মুক্তি ছাড়া সরকারের সাথে সংলাপে যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হলেও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। অতএব বহু রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শ্যেন দৃষ্টি রয়েছে এ মুসলিম প্রধান দেশটির প্রতি। এমতাবস্খায় আচম্বিতে আমাদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কি উদ্দেশ্যে প্রাক্তন কূটনৈতিকদের নিয়ে এক মহাগুরুত্বপূর্ণ সভা করলেন, তার মাজেজা বুঝা যাচ্ছে না। এটা সর্ববিদিত, প্রাক্তন এসব কূটনীতিবিদদের কেউ কেউ ভিন্ন রাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষার বিষয়ে প্রকাশ্যে সেমিনার সিস্পোজিয়ামে নির্লজ্জ্যের মত মতামত দিয়ে থাকেন, আবার কেউ এনজিওর ছদ্মাবরণে মালটি ন্যাশনাল কোম্পানির খেদমত করে থাকেন। এটা সত্যি যে, কূটনৈতিকদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশে নিযুক্ত থাকা অবস্খায় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে কাজ করেছেন, তবে সেসব ব্যক্তি ও তাদের অর্থনৈতিক ও চাকরির নিরাপত্তার গ্যারান্টি না পাওয়া পর্যন্ত পাক সরকারি চাকরি ত্যাগ করেননি। বর্তমান পরিস্খিতিতে এ ধরনের সেলফ সেন্টারড লোকদের সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে সংশয় উপস্খিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে সব সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কিছু সেক্টর কমান্ডারও কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন, নিজেদেরকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে। সমগ্র জাতি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছে। কিন্তু এর ফল ভোগ করতে চান এসব বীর সেক্টর কমান্ডাররা। অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের প্রথম সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল সফিউল্লা সাহেব শেখ মুজবের নিহত হওয়ার ঘটনায় তার নিজ দায়িত্ব এড়াতে গিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জীবন রক্ষা করা তার দায়িত্ব ছিলো না। পঁচাত্তর পরবর্তী মোস্তাক সরকার থেকে শুরু করে এরশাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অত্যন্ত বিশ্বাস্ততার সাথে সফিউল্লা সাহেব তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদ পতনের পর তিনি লন্ডন থেকে বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়ার সাথে কথা বলতে চেয়ে ব্যর্থ হন এবং পরবর্তীতে ঢাকায় ফিরে আওয়ামী লীগের সাথে যোগসূত্র স্খাপন করে শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদের একটি আসন লাভ করেন। তার প্রবল ইচ্ছা থাকা ও তদবিরের পরও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ মন্ত্রী সভায় তাকে নেয়া হয়নি। নারায়ণগঞ্জের ত্রাস বলে চিহ্নিত শামীম ওসমানের নেতৃত্বে তিনি চট্টগ্রামগামী বেগম জিয়ার লংমার্চের গাড়িবহর পথিমধ্যে আটকিয়ে দিয়ে আওয়ামী শাসনামলে একবার লাইম লাউটে আসেন। কিন্তু বিধিবাম। তিনি ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় নেত্রীর বিরুদ্ধে তার একনায়ক সুলভ আচরণের অভিযোগ করেন এবং সংবাদপত্রে বিবৃতিতে বলেন, মনোনয়ন বাণিজ্যে অর্থ যোগান দিতে না পারায় তিনি পরিত্যক্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা পেলে এ বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বহু কাংক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতির কাছে বিরাট প্রশ্ন, মনোনয়ন বাণিজ্য কি এবার ব হবে? পেশী শক্তি কি আবার নির্বাচনে তাদের দাপট দেখাতে শুরু করবে।
এ বিষয়ে সরকারকে হুশিয়ার করতে গিয়ে ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের রোষানলে পড়েছেন। তার গণফোরামকে বাদ দিয়ে আওয়ামী নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় (এখন ১৩ দলীয়) জোট নিজেদের নির্বাচনী কৌশল ঠিক করবে।
এদিকে বোস্টনে হাসিনা তনয় সজিব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনো কারো সাথে অশুভ আঁতাত করতে পারে না। উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে প্রকাশ্যে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আওয়ামী লীগ এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০০৭ এর নির্বাচনকে সামনে রেখে খেলাফত আন্দোলনের সাথে ফতোয়া চুক্তি করে এবং ঐ সময় এরশাদের সাথে হাত মিলিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়, পরে এরশাদ নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। একই সময় ‘সাবাশ বাংলাদেশ' টিভি প্রোগ্রামের সফল প্রযোজক পরিচালক ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট প্রফেসর বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সাথে কাঁধ মিলিয়ে ২২ জানুয়ারিতে নির্বাচন বৈতরণী পার হতে চেয়েছিলেন। এর পরও বলা যাবে আওয়ামী লীগ কারো সাথে আঁতাত করে না? জাতি আঁতাত কারীদের ভাল ভাবেই চিনে। অতএব আউলা লীগ থেকে সাবধান।



 

 

  • ১৪ টি মন্তব্য
  • ২৩২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১১ জনের ভাল লেগেছে, ২ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৮:২৮
comment by: হলদে ডানা বলেছেন: সাবধান।
২. ১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৩৮
comment by: পথিক মানিক বলেছেন: অতীত এটাই বলে যে তারা যা বলে পরে মনে রাখতে পারে না। ভুলে যায় ক্ষমতার লোভে।
৩. ১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৩৯
comment by: পলটু বলেছেন: "চার দলীয় জোট বেগম জিয়া ও নিজামী সাহেবের মুক্তি ছাড়া সরকারের সাথে সংলাপে যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে"----------রাজনীতিতে শেষ কথা বইল্লা কিছু নাই

একলা একলা সংলাপে যাইতেওত পারে, পারে না?? বিনপি কিন্তু ভিলে নাই যে খালেদার গ্রফতারের পরে নিজামি কিছু কয় নাই ;)
৪. ১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৪১
comment by: স্পাইডারওয়েব বলেছেন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেষ বলে কিছউ নেই! অপেক্ষা করা ছাড়া কোন উপায় নাই, সময়ই বলে দেবে আসলে হচ্ছেটা কি?
৫. ১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৪৭
comment by: নতুন বলেছেন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেষ বলে কিছউ নেই! !!!!!!!!!!!!!!!!!!

এইটা পালটাতে হবে.....

বলতে হবে..." বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রথম ও শেষ হলো জনগন" .......... জনগন যা চাইবে তাই হতে হবে...

রাজনীতিকদের মাঝে জনগনের ভয় আনতে হবে.... :)
৬. ১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৩৭
comment by: খালিদ মাহমুদ বলেছেন: সহমত
৭. ১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৪২
comment by: পরীরমেলা বলেছেন:
অতীত এটাই বলে যে আ-লীগ যা বলে পরে তা মনে রাখতে পারে না। ভুলে যায় ক্ষমতার লোভে।
৮. ১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১০:২১
comment by: স্বপ্নশিকারী বলেছেন: সাবধান।
৯. ১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১০:৫২
comment by: দখিনা বাতাস বলেছেন: শুধু আউলা লীগ ই কি ভুলে যায়......... @ পথিক মানিক @ পরীরমেলা।

নাকি সবাই? সব দল?

সবার ইতিহাস নিয়ে টান দিলে কিন্তু আপনাদের কথাটা একটু বদলাতে হবে। বলতে বাধ্য হবেন, " কেউ কথা রাখেনি"
১০. ১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১১:০৪
comment by: পথিক মানিক বলেছেন: আসলে লংকায় যে যায় সেই যে রাবন বনে যায়।
দখিনা বাতাস পোস্টটা আউলা লীগ :) নিয়া কি না তাই এদের কথাই আলোচনা করছিলাম।
তা আপনি এ ব্যপারে একটা পোস্ট দেন না ভাই............
যেখানে সব দল নিয়ে একটা আলোচনা থাকবে।
১১. ১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১১:১২
comment by: দখিনা বাতাস বলেছেন: @ পথিক মানিক: আরো আলোচনা??????????? এক সংলাপের নামে আলোচনার কথা দিয়া তারেকের মত শত বৎসরের সেরা চোর মুক্তি পাইতাছে। আরো আলোচনার শখ আছে নাকি?
১২. ১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১১:৫১
comment by: কোপা সামছু বলেছেন: নেংটার নেই বাটপারের ভয়।
আওয়ামীলীগের নাই চুরির ভয়। এক কানের দোহায় দিয়া বহুত কিছু পার পাইছে।
১৩. ১৬ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:১১
comment by: িদদারুল আলম বাননা বলেছেন: সামছু বলেছেন: নেংটার নেই বাটপারের ভয়।
আওয়ামীলীগের নাই চুরির ভয়। এক কানের দোহায় দিয়া বহুত কিছু পার পাইছে।

অনেক অনেক ধন্যবাদ কোপা সামছু ।
১৪. ১৮ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৬:২৬
comment by: রাজনীতি বলেছেন: সবাইকে ধন্যবাদ।

 

 


আমার সোনার বাংলা ........... আমি তোমায় ভালবাসি................
বাংলাদেশ ...........আমার অহংকার।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই