কিছু দিন আগে কতিপয় বিপথগামী লোক সারাদেশে ইসলামের নামে জঙ্গী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল, ইসলাম কায়েমের নামে বোমা হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করছিল দেশকে, তখনই এ মসজিদ থেকে ঘোষণা আসলো ইসলামের নামে জঙ্গী কর্মকাণ্ড, বোমা হামলা হারাম, ইসলামে এসব নিষিদ্ধ। ইসলামের নামে যারা এগুলো করছে তারা বিপথগামী। প্রথম আলোর আলপিনে একজন কার্টুনিস্ট মহানবী (সা
তার এ জাতীয় বক্তব্য এ দেশে নতুন কিছু নয়। এর আগে এ রকম বক্তব্য শুনেছি, তসলিমা নাসরিন, দাউদ হায়দার, হুমায়ুন আজাদ, শাহরিয়ার কবীরদের মুখ থেকে। আযান নিয়ে ব্যঙ্গক্তি করতে শুনেছি শামছুর রাহমানকে। এরা সুযোগ পেলেই ইসলাম, ইসলামের নবী, শরীয়ত, মসজিদ, মাদরাসার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে থাকে। ওলি-আওলিয়া, ওলামা-মাশায়েখ, ইসলামী নেতাদের চরিত্র হননে এরা সিদ্ধহস্ত। এরা তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতা ও নাস্তিকতাবাদের প্রচারে লিপ্ত। ইঙ্গ-মার্কিন সাম্র্রাজ্যবাদের হোতা ইহুদী-খৃস্টান চক্রের দালাল এরা। জায়নবাদী প্রভুদের নির্দেশনা অনুসারে এরা ধর্মহীনতা, নাস্তিকতাবাদ প্রচার করে, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে, ধর্মীয় ও দেশীয় কৃষ্টি কালচারের পরিবর্তে ব্রাহ্মণ্যবাদী এবং পশ্চিমা উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার কালচার প্রবর্তনের জন্য কাজ করে চলেছে। আর তাদের এ মিশন বাস্তবায়নের একমাত্র বাধা হচ্ছে ইসলাম। মিশনকে সাকসেসফুল করার ক্ষেত্রে তারা ইসলামকে একমাত্র অন্তরায় মনে করছে। তাই ইসলামের বিরোধিতায় তারা কোমর বেঁধে নেমেছে। বিদেশী মদদপুষ্ট এনজিওগুলো এদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এসব এনজিও'র তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সভা, সেমিনার হয়। আকর্ষণীয় টাইটেলের এসব সেমিনারে আমন্ত্রিত অতিথিরা হলেন এসব তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি। এই সুযোগে তারা ইসলাম, ইসলামী মূল্যবোধ, নবী, রাসূল, শরীয়ত, মসজিদ, মাদরাসা ইত্যাদির সমালোচনা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় হচ্ছে- বায়তুল মোকাররম মসজিদকে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের আখড়া অভিহিত করে ব্যারিস্টার তানিয়া আমিরের দেয়া বক্তব্য। এর আগে আমরা তানিয়া আমিরকে দেখেছি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশোতে। তিনি ছিলেন সেই টকশোর উপস্খাপিকা। সেই অনুষ্ঠানে তিনি একজন মাওলানাকে হাজির করেছিলেন। অনুষ্ঠানে এক পর্যায়ে আলোচনা হয়, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া এবং সেই দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্খাপন করা বাংলাদেশের উচিত কি না। কথিত সেই মাওলানা ইনিয়ে বিনিয়ে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত বলেছিলেন, বাংলাদেশের উচিত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া। এতে বাংলাদেশই বেশি লাভবান হবে। অনুষ্ঠানের উপস্খাপিকাও এমনটিই আশা করেছিলেন। তারও অভিপ্রায় বাংলাদেশের উচিত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া এবং সে দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্খাপন করা। নইলে তিনি বেছে বেছে কেন এমন একজন অখ্যাত মাওলানাকে তার টকশোতে ডাকলেন। কারণ, কথিত ঐ মাওলানা এবং টকশোর উপস্খাপিকা একই মিশনের কর্মী। আর তাহলো ইসরাইলের দালালি করা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আর তাহলো- মুসলিম উম্মাহর ক্ষতি হয় এবং সেন্টিমেন্টে আঘাত লাগে এমন কোন সিদ্ধান্ত না নেয়া, এ জন্য অত্যাচারী, জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দেয়া। স্বাধীনতা পরবর্তী কোন সরকারই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। কিন্তু এ দেশের অভ্যন্তরে তানিয়া আমিরের মতো মুসলিম নামধারী কতিপয় ব্যক্তি ফিলিস্তিনের অসহায় শিশু, মহিলা, বৃদ্ধদের হত্যাকারী বর্ণবাদ রাষ্ট্র ইসরাইলের দালালিতে লিপ্ত। এতে বুঝতে অসুবিধা হয় না তানিয়া আমিরের এই ইসলাম বিরোধী গোষ্ঠীটি এ দেশে ইসরাইলেরই প্রতিনিধিত্ব করছে।
তানিয়া আমির চক্র বাংলাদেশের সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহকে মুছে ফেলতে চায়, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাদ দিতে চায়। বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম যেন সংবিধানের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে- তাদের চিন্তায়। শত সমস্যায় জর্জরিত দেশকে কোন দিক-নির্দেশনা না দিয়ে সংবিধান থেকে ইসলামকে বিদায় করতে চায় এরা। ভাবটা এমন- সংবিধান থেকে ইসলামকে বাদ দিলে দেশের সব সমস্যা মিটে যায়। কিন্তু তাদের জানা উচিত, নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশে তাদের এ আশা পূরণ হওয়ার নয়। ইমানদার মুসলমানরা তা কখনও মেনে নেবে না।
তানিয়া আমিরের জানা উচিত ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে কেউ এ দেশে টিকতে পারেনি। দাউদ হায়দার ও তসলিমা নাসরিনের পরিণতি তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন। কঠোর নিরাপত্তার বেড়াজালে আবদ্ধ সালমান রুশদীর বন্দিত্ব তিনি দেখেছেন। নিজের পরিণতি যাতে এদের মতো না হয় সেদিকে তার খেয়াল রাখা উচিত। ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে তিনি এদেশে টিকতে পারবেন না। তৌহিদী জনতা তাকে ছেড়ে দিবে না।
আমরা চাই না, তানিয়া আমির তসলিমা নাসরিনের পরিণতি বরণ করুক। আমরা চাই তিনি তার ভুল বুঝতে পারুক। তিনি যা বলেছেন- তা ক্ষমার অযোগ্য নয়।ঠিক তেমনি ভাবে নারী নীতি সম্পর্কেও তিনি ইসলামকে খাট করে বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু মাহাথির কন্যা ও ইসলাম নারীকে তার যথার্থ মর্জাদা দিয়েছে তা স্বীকার করেছেন। কিন্তু মুসলমান নামধারী কিছু প্রগতির নামে বেহায়া নারী ইসলামকে নারীর মর্জাদার স্থান মানতে নারাজ। এখনই উচিত এই দালাল গোষ্ঠিকে জাতির নিকট ক্ষমা চাওয়া। নইলে তসলিমা নাসরিনের মত ভাগ্যাবরন করতে অপেক্ষা করতে হবেনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

