somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজনীতি
২০০৬ এর ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে হাসিনার দ্বারা লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ফাসি চাই।২২৮ অক্টোবর রাজপথে হাসিনার দ্বারা লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ফাসি চাই।

তসলিমা নাসরিনের ভাগ্যবরন করতে হতে পারে ব্যরিস্টার তানিয়া আমীর কে । জাতি ঘৃনা ভরে তার বক্তব্য প্রত্যাখান করেছে। তেমনি ডাস্টবিনে ছুড়ে ফলবে দালাল গোষ্ঠীকেও!

১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বায়তুল মোকাররম মসজিদ বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ। পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জাতীয় মসজিদ হিসেবে এর মর্যাদা রয়েছে সারাবিশ্বে। অবশ্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেক মসজিদই মর্যাদাপূর্ণ, আল্লাহর ঘর, শান্তির জায়গা। এ মসজিদ থেকে প্রতিদিন পাঁচবার আযানের ধ্বনিতে মুখরিত হয় ঢাকা শহর। আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে মহান আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দেয় এ মসজিদের মুয়াজ্জিন। হাজার হাজার শান্তিপ্রিয় আল্লাহ ভীরু মুসল্লীদের জিকির আযকারে মুখরিত হয় আল্লাহর ঘর বায়তুল মোকাররম মসজিদ। দেশের উন্নয়ন, ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় এ মসজিদের রয়েছে বিরাট অবদান।
কিছু দিন আগে কতিপয় বিপথগামী লোক সারাদেশে ইসলামের নামে জঙ্গী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল, ইসলাম কায়েমের নামে বোমা হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করছিল দেশকে, তখনই এ মসজিদ থেকে ঘোষণা আসলো ইসলামের নামে জঙ্গী কর্মকাণ্ড, বোমা হামলা হারাম, ইসলামে এসব নিষিদ্ধ। ইসলামের নামে যারা এগুলো করছে তারা বিপথগামী। প্রথম আলোর আলপিনে একজন কার্টুনিস্ট মহানবী (সা:)কে ব্যঙ্গ করলে সারাদেশের তৌহিদী জনতা ক্ষোভের আগুনে জ্বলতে থাকে। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল বুঝতে পেরে হাজির হন বায়তুল মোকাররম মসজিদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় খতিব মরহুম ওবায়দুল হকের কাছে এবং তাঁর কাছে মাফ চান। মরহুম খতিব তাদের ক্ষমা করে দেন এবং ক্রোধানিðত জনতাকে শান্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। এতে তৌহিদী জনতা শান্ত হয়ে ঘরে ফিরে যান। সুতরাং দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের অবদানকে কোন অংশেই খাটো করে দেখা যায়না। অথচ গত ১১ ই আগস্ট ঢাকায় সফররত মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদের কন্যা মেরিনার উপস্খিতিতে একটি মধ্যাহ্ন ভোজে আওয়ামী লীগ নেতা ও সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের কন্যা ব্যারিস্টার তানিয়া আমির বললেন- বায়তুল মোকাররম মসজিদ জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসীদের আখড়া।

তার এ জাতীয় বক্তব্য এ দেশে নতুন কিছু নয়। এর আগে এ রকম বক্তব্য শুনেছি, তসলিমা নাসরিন, দাউদ হায়দার, হুমায়ুন আজাদ, শাহরিয়ার কবীরদের মুখ থেকে। আযান নিয়ে ব্যঙ্গক্তি করতে শুনেছি শামছুর রাহমানকে। এরা সুযোগ পেলেই ইসলাম, ইসলামের নবী, শরীয়ত, মসজিদ, মাদরাসার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে থাকে। ওলি-আওলিয়া, ওলামা-মাশায়েখ, ইসলামী নেতাদের চরিত্র হননে এরা সিদ্ধহস্ত। এরা তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতা ও নাস্তিকতাবাদের প্রচারে লিপ্ত। ইঙ্গ-মার্কিন সাম্র্রাজ্যবাদের হোতা ইহুদী-খৃস্টান চক্রের দালাল এরা। জায়নবাদী প্রভুদের নির্দেশনা অনুসারে এরা ধর্মহীনতা, নাস্তিকতাবাদ প্রচার করে, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে, ধর্মীয় ও দেশীয় কৃষ্টি কালচারের পরিবর্তে ব্রাহ্মণ্যবাদী এবং পশ্চিমা উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার কালচার প্রবর্তনের জন্য কাজ করে চলেছে। আর তাদের এ মিশন বাস্তবায়নের একমাত্র বাধা হচ্ছে ইসলাম। মিশনকে সাকসেসফুল করার ক্ষেত্রে তারা ইসলামকে একমাত্র অন্তরায় মনে করছে। তাই ইসলামের বিরোধিতায় তারা কোমর বেঁধে নেমেছে। বিদেশী মদদপুষ্ট এনজিওগুলো এদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এসব এনজিও'র তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সভা, সেমিনার হয়। আকর্ষণীয় টাইটেলের এসব সেমিনারে আমন্ত্রিত অতিথিরা হলেন এসব তথাকথিত প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি। এই সুযোগে তারা ইসলাম, ইসলামী মূল্যবোধ, নবী, রাসূল, শরীয়ত, মসজিদ, মাদরাসা ইত্যাদির সমালোচনা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় হচ্ছে- বায়তুল মোকাররম মসজিদকে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের আখড়া অভিহিত করে ব্যারিস্টার তানিয়া আমিরের দেয়া বক্তব্য। এর আগে আমরা তানিয়া আমিরকে দেখেছি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশোতে। তিনি ছিলেন সেই টকশোর উপস্খাপিকা। সেই অনুষ্ঠানে তিনি একজন মাওলানাকে হাজির করেছিলেন। অনুষ্ঠানে এক পর্যায়ে আলোচনা হয়, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া এবং সেই দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্খাপন করা বাংলাদেশের উচিত কি না। কথিত সেই মাওলানা ইনিয়ে বিনিয়ে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত বলেছিলেন, বাংলাদেশের উচিত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া। এতে বাংলাদেশই বেশি লাভবান হবে। অনুষ্ঠানের উপস্খাপিকাও এমনটিই আশা করেছিলেন। তারও অভিপ্রায় বাংলাদেশের উচিত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া এবং সে দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্খাপন করা। নইলে তিনি বেছে বেছে কেন এমন একজন অখ্যাত মাওলানাকে তার টকশোতে ডাকলেন। কারণ, কথিত ঐ মাওলানা এবং টকশোর উপস্খাপিকা একই মিশনের কর্মী। আর তাহলো ইসরাইলের দালালি করা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আর তাহলো- মুসলিম উম্মাহর ক্ষতি হয় এবং সেন্টিমেন্টে আঘাত লাগে এমন কোন সিদ্ধান্ত না নেয়া, এ জন্য অত্যাচারী, জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দেয়া। স্বাধীনতা পরবর্তী কোন সরকারই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। কিন্তু এ দেশের অভ্যন্তরে তানিয়া আমিরের মতো মুসলিম নামধারী কতিপয় ব্যক্তি ফিলিস্তিনের অসহায় শিশু, মহিলা, বৃদ্ধদের হত্যাকারী বর্ণবাদ রাষ্ট্র ইসরাইলের দালালিতে লিপ্ত। এতে বুঝতে অসুবিধা হয় না তানিয়া আমিরের এই ইসলাম বিরোধী গোষ্ঠীটি এ দেশে ইসরাইলেরই প্রতিনিধিত্ব করছে।
তানিয়া আমির চক্র বাংলাদেশের সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহকে মুছে ফেলতে চায়, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাদ দিতে চায়। বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম যেন সংবিধানের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে- তাদের চিন্তায়। শত সমস্যায় জর্জরিত দেশকে কোন দিক-নির্দেশনা না দিয়ে সংবিধান থেকে ইসলামকে বিদায় করতে চায় এরা। ভাবটা এমন- সংবিধান থেকে ইসলামকে বাদ দিলে দেশের সব সমস্যা মিটে যায়। কিন্তু তাদের জানা উচিত, নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশে তাদের এ আশা পূরণ হওয়ার নয়। ইমানদার মুসলমানরা তা কখনও মেনে নেবে না।
তানিয়া আমিরের জানা উচিত ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে কেউ এ দেশে টিকতে পারেনি। দাউদ হায়দার ও তসলিমা নাসরিনের পরিণতি তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন। কঠোর নিরাপত্তার বেড়াজালে আবদ্ধ সালমান রুশদীর বন্দিত্ব তিনি দেখেছেন। নিজের পরিণতি যাতে এদের মতো না হয় সেদিকে তার খেয়াল রাখা উচিত। ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে তিনি এদেশে টিকতে পারবেন না। তৌহিদী জনতা তাকে ছেড়ে দিবে না।

আমরা চাই না, তানিয়া আমির তসলিমা নাসরিনের পরিণতি বরণ করুক। আমরা চাই তিনি তার ভুল বুঝতে পারুক। তিনি যা বলেছেন- তা ক্ষমার অযোগ্য নয়।ঠিক তেমনি ভাবে নারী নীতি সম্পর্কেও তিনি ইসলামকে খাট করে বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু মাহাথির কন্যা ও ইসলাম নারীকে তার যথার্থ মর্জাদা দিয়েছে তা স্বীকার করেছেন। কিন্তু মুসলমান নামধারী কিছু প্রগতির নামে বেহায়া নারী ইসলামকে নারীর মর্জাদার স্থান মানতে নারাজ। এখনই উচিত এই দালাল গোষ্ঠিকে জাতির নিকট ক্ষমা চাওয়া। নইলে তসলিমা নাসরিনের মত ভাগ্যাবরন করতে অপেক্ষা করতে হবেনা।
২৪টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×