বর্তমান তত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে কি এমন কোন চুক্তি হয়েছিল যে আগামীতে আঁ'লীগকেই ক্ষমতায় বসানো হবে? আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্বাভাবিকভাবে সে প্রশ্নই এসে যায়| আঁ'লীগ নেতাদের কথায় মনে হয় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মুক্তি দিয়ে
এবং চারদলীয় জোটকে নির্বাচন ও সংলাপে বসানোর পরিবেশ তৈরী করে সরকার সত্যি সত্যি আঁ'লীগের সঙ্গে কৃত কোন ওয়াদা ভঙ্গ করেছে|
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেছেন, তত্বাবধায়ক সরকার জোট সরকারকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করার ষড়যন্ত্র করছে| জোট সরকারের কলঙ্ক ধুয়ে মুছে সাফ করার জন্য সরকার ক্ষমতায় এসেছিল| গত মঙ্গলবার তার বাসভবনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিল্লুর রহমান আরো বলেন, জোট সরকারের পাঁচ বছরের অত্যাচারে বাংলার মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে | জনগণ এদের পতন দেখতে চায়| জোট সরকারের কারণে ১/১১-র সৃষ্টি হয়েছিল| লেভেল প্লেয়িং এর নামে পরাজিত শক্তিকে আওয়ামী লীগের সাথে তুলনা করা হচ্ছে| আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার তুলনা করার ষড়যন্ত্র রুখতে হবে| পতিত শক্তিকে পুনর্বাসিত করার জন্য এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র চলছে| প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি সরকারের পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতা কর্মীকে হত্যা করেছে| ২১শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলার কি উদ্দেশ্যে হয়েছিল, কারা এদের সাথে জড়িত ছিল তা এখনো উদ্ঘাটন হয়নি| কেন উদ্ঘাটিত হয়নি তার জবাব সরকারকে দিতে হবে| আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনাকে কারো সাথে তুলনা করবেন না| শেখ হাসিনাকে অন্য কারো সাথে তুলনা করলে আওয়ামী লীগ মেনে নেবে না|
আওয়ামী লীগের অভিযোগ হলো তত্বাবধায়ক সরকার জোট সরকারকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করার ষড়যন্ত্র করছেঁ'- একথার উল্টো পিঠে যে কথাটি রয়েছে তা হলো, সরকারের সঙ্গে কথা ছিল তারা আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় বসাবে| কিন্তু এখন তার বরখেলাপ করে চারদলীয় জোটকে ক্ষমতায় বসাতে চাচ্ছে| এই দলের নেতারা বোধ হয় কথার উল্টো পিঠটা উল্টে দেখেননা অথবা বলার সময় তাল-জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন| একজন প্রবীণ নেতা হিসেবে জিল্লুর রহমানের বক্তব্যে জাতি অবশ্যই দায়িত্বশীলতা আশা করে| কিন্তু তার বক্তব্যের মধ্যে একধরণের হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন| চারদলীয় জোট যদি রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয় এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাতে ষড়যন্ত্রটা কোথায় হলো তা মানুষ খুঁজে পাচ্ছেনা| বরং জাতি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে যে, আওয়ামী লীগই সরকারের সঙ্গে সর্বপ্রকারের আঁতাত করে সুবিধা লুটে নিয়েছে| এগুলো সাজালে এরূপ দাঁড়াবে : সরকারের কাছে নির্বাহী আদেশ আদায় করে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন নেতার সাময়িক মুক্তিনামা নিয়ে বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্খা করা হয়েছে, দলের প্রতি অনুগত আমলাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং আদায় করে নেয়া হয়েছে, চার সিটি কর্পোরেশন ও কয়েকটি পৌরসভার নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের ফাঁকা মাঠে নির্বাচিত করে নেবার ব্যবস্খা করা হয়েছে ইত্যাদি| এরকম প্রামাণ্য চিত্র জাতির সামনে থাকা সতেñও গলার জোরে আওয়ামী লীগ দিনকে রাত আর রাতকে দিন বানাতে চায়| তারা একদিকে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে মাঠ পর্যায়ে জনগণের সামনে সরকার-বিরোধী ইমেজ বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে এভাবে চাপ সৃষ্টি করে এর ফসলটাও ঘরে তুলতে চায়| তাদের গাছেরটা খাবো, তলারটাও কুড়াবোঁ' নীতি মানুষের কাছে ধরা পড়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে|
বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড-এর কথা আওয়ামী লীগই বলে আসছে| এই বাহানায় তারা ২২ জানুয়ারীর নির্বাচনও বর্জন করে| কিন্তু এখন চারদলীয় জোট মাঠে সক্রিয় হওয়ায় তারা নাখোশ| অর্থাৎ তাদের মতে আওয়ামী লীগ ও তাদের শরীকরাই কেবল মাঠে থাকতে পারবে| তবেই সেটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে| আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী ‘জোট সরকারের পাঁচ বছরের অত্যাচারে বাংলার মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, জনগণ এদের পতন দেখতে চায়ঁ'- এটা সত্য হলে নির্বাচনেই তার ফয়সালা হবে| তাদেরকে মাঠ ছাড়া করে রেখে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগ এতো আগ্রহী কেন- জনমনে সে প্রশ্ন উঠেছে| এছাড়া আওয়ামী লীগের দাবী মতে, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার তুলনা করার ষড়যন্ত্র রুখতে হবেঁ'- এ ভাষ্যেরও কোন সারবত্তñা মিলছেনা| কারণ দুঁ'জনকে তুলনা করার বা মেলানোরও কোন প্রয়োজন দেখা যাচ্ছেনা| কেননা, খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তিনবারই পাঁচটি করে আসনে বিজয়ী হয়ে সর্বাধিক জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন| অন্যদিকে শেখ হাসিনা একবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন| নির্বাচনী আসনগুলোতে তাঁর পরাজয়েরও রেকর্ড আছে| শেষ দফায় খালেদা জিয়া দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী একটি সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেত্রী ছিলেন| আর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মামলা হয়েছে ১৪ টি| অন্যদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪টি| অতএব তূলনা করার কিছু খুঁজে পাচ্ছেননা পর্যবেক্ষকরা। জাতি আওয়ামীলীগের খিস্তিখেউড় নয় গঠনমূলক রাজনীতি প্রত্যাশা করে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

