আজ ছাব্বিশে রমজান দিবাগত রাত লাইলাতুল কদর। পবিত্র রমজান মাসের এ রাতটি খুবই ফজিলতের। কুরআন মজিদের একটি স্বতন্ত্র সূরা রয়েছে এ সম্পর্কে। তাতে কদরের রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেয় বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই প্রতি বছর মুসলমানরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে রাতটি উদযাপন করেন। অত্যন্ত ফজিলত ও মহিমা বর্ণনা করা হলেও কুরআন বা হাদিসে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি বছরের কোন রাতটি কদরের রাত। তবে কয়েকজন বিশিষ্ট সাহাবি ও পরবর্তীকালের অনেক মনীষী রমজানের ছাব্বিশ তারিখের রাতকে লাইলাতুল কদর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূলের বর্ণিত কিছু আলামত প্রত্যক্ষ করার দাবি করেন। নইলে সাধারণভাবে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসìধানের তাগিদ এসেছে হাদিস শরিফে। এ জন্য রমজানের বিশ তারিখের পর প্রত্যেক বেজোড় রাতই লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও আমাদের সমাজে ছাব্বিশ তারিখের রাতটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটানোর নিয়ম চলে আসছে।
লাইলাতুল কদরের মর্যাদা ও মহিমার মূলে রয়েছে কুরআন মজিদ। আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তা (কুরআন মজিদ) নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে।’ অর্থাৎ কুরআন মজিদের সাথে সম্পর্কই এ রাতের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ। কুরআন মজিদের কারণেই শেষ নবী সাইয়েদুল মুরসালিন, তাঁর উম্মত শ্রেষ্ঠ উম্মত; জিবরাইল আলাইহিস সালাম ফেরেশতাকুলের নেতা, রমজান সবচেয়ে মর্যাদার মাস। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে শ্রেষ্ঠ মুসলমান বলে ঘোষণা করেছেন। কুরআনি শিক্ষা ধারণ করেই মুসলমানরা বিশ্ববাসীকে নতুন সভ্যতা ও জীবনধারার দীক্ষা দিয়েছিল। সমকালীন সাম্রাজ্যগুলোর পতন হয়েছিল কুরআন মজিদের দর্শন ও জীবনবোধের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে। মানবসমাজের উথান-পতনের কার্যকারণ, আগামী দিনে ঘটনাপ্রবাহের প্রতিক্রিয়া, শান্তিময় সমাজ গঠনের নির্দেশনা, বিবাদ নিরসনের ফর্মুলা, লেনদেন ও কায়কারবারের নীতিমালা, নৈতিকতা ও সজ্জনতার উপমা, মোট কথা মানুষের জীবন ও বিশ্বসমাজের যত দিক, ক্ষেত্র ও পর্যায় হতে পারে সব কিছুই স্খান পেয়েছে পবিত্র এ গ্রন্থে। তাই কুরআন মজিদই বিশ্বমানবতার পূর্ণাঙ্গ দিশারি গ্রন্থ। মুসলিম উম্মাহ যত দিন কুরআনকে সব আইনের উৎস হিসেবে অনুসরণ করেছিল, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের উক্তি, কর্ম ও অনুমোদনের আলোকে কুরআনি বিধান পালন করেছিল, তত দিন তারাই ছিল বিশ্বের অদ্বিতীয় শক্তি। মুসলমানরা পিছিয়ে পড়েছে আল্লাহর কিতাবের সাথে সম্পর্ক শিথিল করার কারণে। তাই লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও মাহাত্ম্য হাসিলের উপায় হবে কুরআন পাঠ, অধ্যয়ন ও চর্চায় আত্মনিয়োগ করা, কুরআনের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর করা এবং কুরআনভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা। আজকের রাত মুসলিম সমাজকে কুরআনের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানায়, এ পথেই মুসলমানদের আবার মর্যাদা লাভের সুসংবাদ শোনায়।আসুন এই মহিমান্বিত রাতে দেশ ও জাতির কল্যান কামনা করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

