আমার বাংলা ভাষা ! মায়ের ভাষা রক্ষার জন্য এবং নবপ্রজন্ম কে রক্ষার জন্য এখনই উদ্যোগী হওয়া দরকার। নইলে এই রক্তাক্ত ইতিহাসের যবনিকাপাট ঘটতে পারে। আ"মরি বাংলা ভাষা!
আসছে ২১ ফেব্রুয়ারী :-
জাতির জীবনে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি একটি ঐতিহাসিক দিন। এদিন মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় জীবন বিলিয়ে দেয়ার মত ঘটনার জন্ম দিয়েছে এদেশের বীর সন্তানেরা। সম্ভবত বিশ্বে এ ধরণের ঘটনার দ্বিতীয় কোন নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সূত্র ধরে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। বাংলাভাষা পেয়েছে আন্তর্জাতিক পরিচিতি। ভাষা আন্দোলন ও মাতৃভাষা দিবসের নানা দিক নিয়েই আমাদের বিশেষ রচনা।
বাংলা ভাষার স্পৃহা বাঙ্গালির ধমনীতে ছিল সদা বহমান। কিন্তু বাংলা ভাষা নিয়ে হয়েছে বহু ষড়যন্ত্র। একমাত্র বাঙ্গালিদের সংগ্রামের কারণে এ সব ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। ফলে টিকে রয়েছে মায়ের ভাষা।
বাংলা ভাষার ভান্ডার সমৃদ্ধ হয় মুসলিম শাসকদের আনুকূল্যে। ইলিয়াস শাহী আমলে (১৩৫২-১৪১৪, ১৪৪২-১৪৮৭) সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং পরবর্তীতে হুসেইন শাহী (১৪৯৩-১৫৩৮) বাংলাভাষাকে উৎকর্ষিত ভাষায় পরিণত করতে অবদান রাখায় মুসলিম শাসনামলে বাংলাভাষা সমৃদ্ধ ভাষায় পরিণত হয়। আর বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়ার দদাবি জোরালো হতে থাকে ব্রিটিশ আমল থেকে।
১৯২১ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য লিখিত প্রস্তাব পেশ করেছিলেন নওয়াব আলী চৌধুরী। ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯২৮ সালে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব ভারতীয়’ এক সভায় ভাব ও সাহিত্যগুণে বাংলাভাষাকে এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ভাষা উল্লেখ করেছিলেন। “পাকিস্তান প্রস্তাব” গৃহিত হওয়ার আগেই বাংলাভাষাকে ভারতের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবী ওঠেছিল। ১৯৪৬ সালের ৩ জুন লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের ভারত বিভাগ পরিকল্পনা ঘোষণা হওয়ার পর উপমাহাদেশের রাজনীতিতে ভাষা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
১৯৪৭ সালের মধ্য আগস্ট ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় উপমহাদেশে ‘ভারত ইউনিয়ন’ এবং পাকিস্তান নামে দুটো সার্বভৌম দেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পূর্ব বাংলা, পানুর, বেলুচিস্তান, সিন্ধু, কাশ্মির, সীমান্ত প্রদেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিলো স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র। পাকিস্তানের প্রায় ৫৬ শতাংশ নাগরিক বাংলাভাষী হওয়া সত্ত্বেও বাংলাভাষাকে অবজ্ঞা করার চক্রান্ত করা হয় বিভিন্নভাবে। এতে বাঙ্গালি শিক্ষিত সম্প্রদায় প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম ও নুরুল হক ভূঁইয়ার একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে তমুদ্দন মজলিস নামে একটি সংগঠন। ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে হাবিবুল্লাহ বাহার চৌধুরীর সভাপতিত্বে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাহিত্য সম্মেলনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদানের প্রথম প্রকাশ্য দাবি উত্থাপিত হয়। অচিরেই এ দাবি সার্বজনীন দাবিতে পরিণত হয়। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্সে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে কায়েদ-ই-আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন- ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। এই মন্তব্য ছাত্র সমাজকে প্রচন্ডভাবে মর্মাহত করে। ২৪ মার্চ তার সম্মানে আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমার্বতন অনুষ্ঠানে তিনি আবারো বলেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত ছাত্ররা ‘না না’ বলে প্রতিবাদ জানায়, ক্রমান্বয়ে ভাষার অধিকার রক্ষার সংগ্রাম সুদৃঢ় হতে থাকে। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকালে ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন ‘উর্দুই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা হবে। পরীক্ষামুলক ২১টি কেন্দ্রে বাংলাভাষাকে আরবি হরফে লেখার প্রচেষ্টা র সফল হয়েছে, জনগণ স্বীয় উদ্যোগে নতুন নতুন কেন্দ্র খুলছে।’ এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট ও সভা আহ্বান করে। ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা জেলা লাইব্রেরিতে মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে এক সভায় গঠন করা হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদ অধিবেশনের তারিখ হওয়ায় ঐ দিন গোটা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল ও বিক্ষোভ মিছিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই কর্মসূচি বানচালের জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি অপরাহ্নে নুরুল আমিন সরকার ঢাকা শহরে একমাস মেয়াদী ১৪৪ ধারা জারি এবং সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সরকারি ঘোষণায় ছাত্রসমাজ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং ২১ ফেব্রুয়ারি (বাংলা ১৩৫৮ সালের ৮ ফাল্গুন) সরকারি আইন অমান্য করে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ছাত্রসমাজ ২১ ফেব্রুয়ারি রাজপথে নেমে আসে। তখন ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় না দিয়ে সরকারের বাহিনীগুলো আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ শুরু করলে অগনিত ছাত্র জনতা গুলিবিদ্ধ হয়। বরকত, জব্বার, রফিক, শফিউর ঘটনাস্থলেই মারা যান। ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা পূর্ব পাকিস্তান। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বিশ্ব ইতিহাসে আত্মত্যাগের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাঙ্গালি জাতি। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ সূচিত হয়।
শহীদেরা যেভাবে স্বীকৃতি পায়:-
১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত আবেগঘন ও শ্রদ্ধাভরে প্রথম শহীদ দিবস পালন করা হয়। ছাত্ররা মেডিকেল কলেজের বিলুপ্ত শহীদ মিনারের জায়গায় কালো কাপড় ও কাগজ দিয়ে প্রতীকী শহীদ মিনার বানায়। ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারিকে আনুষ্ঠানিক শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আইয়ুব খানের সামরিক সরকার ১৯৫৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি ছুটির দিবস বাতিল করে। জনগণের প্রতিবাদে মুখে ১৯৬৯ সালে এ ছুটি পুনরায় বহাল করাহয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এ ছুটি আজ পর্যন্ত বহাল আছে।
দেশে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ
২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনকারীদের ওপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গনে যে স্থানে প্রথম গুলি চালানো হয়েছিল সে জায়গায় নির্মিত হয় শহীদ মিনার। ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নির্মিত এ শহীদ মিনারের উদ্বোধক শহীদ শফিউরের পিতা। ২৬ ফেব্রুয়ারি এ শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেন আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
একুশের প্রথম কবিতা যা বলে?
‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ এই শিরোনামে একুশের প্রথম কবিতা রচনা করেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী, তিনি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টায় এ কবিতাটি রচনা করেন। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘী ময়দানে প্রথম কবিতাটি পাঠ করা হয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে আমাদের প্রাপ্ত স্বীকৃতি
২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ স্বীকৃতি পাওয়ার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সাধনা, সংগ্রামের ইতিহাস। কানাডিয়ান প্রবাসী বাংলাদেশী রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালামের প্রতিষ্ঠিত The Mother Language Loner of the world সংগঠন ১৯৯৮ সালের ২৯ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনানের কাছে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার প্রস্তাব করে একটি চিঠি পাঠান। এ চিঠিতে ফিলিফিনো, ইংরেজি, ক্যান্ডনিজ, মালয়, জার্মান, হিন্দি এবং বাংলাভাষী অর্থাৎ সাত জাতি ও সাত ভাষার দু’জন করে স্বাক্ষর করেন। এর এক বছর পর ইউনেস্কো সদর দফতরের ভাষা বিভাগের আন্না মারিয়া রফিকুল ইসলামকে ১৯৯৯ সালের ৩ মার্চ সম্মতিসূচক চিঠি লেখেন, Regarding your request to declare the 21 February as International Mother Language day. The idea is indeed very interesting.
অবশেষে angladesh National Commission for UNESSCO’ র পক্ষে সচিব প্রফেসর কফিল উদ্দিন আহমদ প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন। ইউনেস্কোর ১৬০তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশের প্রস্তাবের সপক্ষে মতামত গড়ে তোলেন। ১৮৮টি দেশ ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালনে সম্মত হয়। পরে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো তার প্যারিস অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে।
পরবর্তীতে পূর্নাঙ্গ ভাবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেল অমর একুশে :-
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এবার স্বীকৃতি পেল জাতিসংঘেরও। গত ৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। অধিবেশনে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তির জন্য সংস্কৃতি’ শীর্ষক রেজুলেশন গ্রহণের মধ্য দিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দিল জাতিসংঘ। এ রেজুলেশনটি ভারত, জাপান, সৌদিআরব, কাতারসহ বিশ্বের ১২৪টি দেশ সমর্থন করে।
বিদেশে স্থাপিত আমাদের শহীদ মিনার:-
বিদেশের মাটিতে প্রথম শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয় ২০০৬ সালের ১৬ এপ্রিল জাপানের রাজধানী টোকিওর ইকেবুকোরা পার্কে। এ শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।
আমাদের ভাস্কর্য মোদের গরব:-
বাংলা একাডেমী চত্বরে বর্ধমান হাউজের সামনে ২০০৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করা হয় “মোদের গরব” নামের ভাস্কর্যটি। এর ভাস্করের নাম অখিল পাল। ভাস্করের মডেল হলেন ভাষা শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, সফিউর ও জব্বার।
অমর একুশে এবং বাংলা একাডেমীর গৌরবময় পথচলা:-
বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হলো বাংলা একাডেমী, ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর (১৩৬২ বঙ্গাব্দের ১৭ অগ্রহায়ণ) ঢাকার বর্ধমান হাউজে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং এদেশের মধ্যবিত্তের জাগরণ ও আত্মপরিচয় বিকাশের প্রেরণায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়।
১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। পরের বছর পূর্ববাংলা আইনসভার নির্বাচনে বিজয়ী যুক্তফ্রন্ট পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু অল্পদিনেই তাদের পতন হওয়ায় সে প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়বার যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর মূখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসে (স্থাপিত ১৯০৬) বাংলা একাডেমীর উদ্বোধন করেন। এভাবে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাস্তবে রূপ লাভ করে।
বর্তমানে বাংলা একাডেমী দেশের সর্ববৃহৎ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৪০ বছরে বাংলা একাডেমী প্রকাশ করেছে ৩৫০০ বই ও পত্রিকা। গবেষণা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প ও ইংরেজি এ পাঁচটি পত্রিকা বাংলা একাডেমী থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি প্রাপ্তি:-
১৯৫৪ সালের ৯ মে পাকিস্তান গণপরিষদ বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সংবিধানের ২১৪নং অনুচ্ছেদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশের সংবিধানে প্রথম ভাগের ৩নং অনুচ্ছেদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। ১৯৮৭ সালে দেশের সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষা প্রচলনের জন্য বাংলা ভাষা আইন প্রণয়ন করা হয়।
দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার যেখানে অবস্থিত?
দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০০৪ সালের ৬ নভেম্বর। এ শহীদ মিনারের উচ্চতা ৭১ ফুট, ব্যাস ৫১ ফুট। এটি উদ্বোধন হয় ২০০৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। এ শহীদ মিনারটি বাঙ্গালি জাতির ৮টি লড়াই সংগ্রামের গৌরব বহন করে।
আর এই গৌরবময় ইতিহাসের কারনেই বাংলা ভাষার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল গুলোতেও বাংলা ভাষা শিক্ষার প্রতি এখনই গুরুত্ব দেয়া দরকার। আর তা না করলে আগামী দিনের বাংলাদেশ তার ভাষার ক্ষেত্রে স্বকীয়তা হারাবে। এবং এক পর্যায়ে এমন র্দর্লভ ইতিহাস বিকৃতি ঘটতে পারে এবং যবনিকা ঘটবে একটি জলন্ত ইতিহাসের। পাশাপাশি দেশ হয়ে পড়বে ভাষার দিক থেকে পরনির্ভরশীল। ক্ষতিগ্রস্থ হবে পরবর্তী প্রজস্ন।
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।