শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গি নেতার ফাঁসি কার্যকর এবং বহু জঙ্গির দীর্ঘমেয়াদি সাজার পর জেএমবির তৎপরতা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও সংগঠনটি যে মূলোৎপাটিত হয়নি তার প্রমাণ পাওয়া যায় অল্পদিনের মধ্যেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে এরপরও ধরা পড়ে জেএমবির অনেক সক্রিয় সদস্য। কিন্তু তাতেও ভ্রান্ত আদর্শের অনুসারী সংগঠনটির বিনাশ সাধিত হয়নি। গত শুক্রবার বিভাগীয় কমান্ডার মামুন গ্রেফতার না হলে হয়ত রাজধানী মহানগরীর কোনো একটি একুশের অনুষ্ঠান এদের হামলার কবলে পড়ত। বোমা হামলায় নিরপরাধ কতটি মানুষের লাশ পড়ত কে জানে! মামুন কতটা দুঃসাহসী, দুর্ধর্ষ তার প্রমাণ সে গত শুক্রবারেই দিয়েছে আটক অবস্থায়ও গাজীপুর এসপির কার্যালয়ে বোমা ফাটিয়ে। অবশ্য এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসতর্কতা, মামুনের সাহস ও দৃঢ়তার অবমূল্যায়ন অনেকাংশে দায়ী। মামুন তার সাহস ও ক্ষিপ্রতা দেখিয়ে এই প্রমাণও দিয়েছে যে, তার দেয়া তথ্যমতে ঢাকায় একুশের কোনো অনুষ্ঠানে হামলায় পূর্ব পরিকল্পনা কথার কথা ছিল না। এরা আটক না হলে অবশ্যই হামলা হতো।কমান্ডার মামুন, আল-আমীন ও গ্রেফতারকৃত অন্যান্যরা কেউ-ই স্থানীয় নয়, তারা দেশের উত্তরাঞ্চল, টাঙ্গাইল থেকে পরিবার-পরিজনসহ এসে গার্মেন্টস কর্মী বা অন্য ধরনের পেশার আড়ালে সংগঠিত ও নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই একটি বৈশিষ্ট্য থেকে জঙ্গিদের শনাক্ত করা সহজ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা জঙ্গিদের শনাক্ত ও আটকে বড় সহায়ক হতে পারে।
মামুনসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গি গ্রেফতার একটি সংবাদই পৌঁছে দিচ্ছে- জেএমবি নিষিদ্ধ ঘোষিত হলেও সংগঠনটির কার্যক্রম থেমে নেই। গোপনে গোপনে এরা সংগঠিত হচ্ছে, দলের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে এবং নাশকতামূলক কাজ শুরুর পরিকল্পনা করে যাচ্ছে। এমনি অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারের উচিত এদের তৎপরতা, গতিবিধি সম্পর্কে উদাসীন না থাকা। সামান্য অবহেলা, উদাসীনতার সুযোগে সংগঠনটি শুধু আকারে বড় হবে না, যে কোনো সময় বড় ধরনের নাশকতার ঘটনাও ঘটাবে। অবশ্যই এদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করতে হবে সারা দেশব্যাপী। অন্যদিকে এদের আদর্শগত ভ্রান্তি সম্পর্কেও ব্যাপক প্রচারণা প্রয়োজন। যাতে ধর্মের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিশেষ করে তরুণ শ্রেণীকে এরা বিভ্রান্ত করে দলভুক্ত করতে না পারে। শুধু জঙ্গি গ্রেফতার করলেই সংগঠনের মূলোৎপাটন করা যাবে না। যেসব যুক্তি দেখিয়ে, আদর্শের কথা বলে, ধর্মের দোহাই দিয়ে এরা অন্যকে দলভুক্ত করে সেসব যুক্তি, আদর্শ, ধর্মের দিকনির্দেশনার ভুল ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। এ ÿেত্রে ধর্মীয় নেতা, মসজিদের ইমামদের ভ‚মিকা অনেক কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে এদের অর্থের উৎস, এদের পৃষ্ঠপোষকদের অনুসন্ধান আবশ্যক। সকল আয়োজন দিয়েই এদের মূলের বিনাশসাধন করতে হবে বলে মনে করি।
আসুন আমরা প্রত্যেকেই আমাদের নিজস্ব এলাকার পাহাড়াদার হয়ে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে সকলকে রক্ষা করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



