সবার উপরে ডিজিটাল সত্য তাহার উপরে নাইরে নাই! সেনা মারো বিডিআর মারো! সোনার বাংলাদেশ গড়! বিডিআর হত্যাকান্ড এখন ফ্রিজের ডিপ এ সর্ব নিম্ন স্তরে ! সবাই জয়ধ্বনি কর।
বিডিআর ঘাতকদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আগেই তাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী কী শর্ত দিয়েছিলেন কিংবা তারা কাদের হত্যা করেছে এবং তখনও যারা জীবিত ছিলেন তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কি আলোচনা হয়েছিল এর কোন কথাই সাধারণ মানুষ জানতে পারে নি। বিডিআর-এর ঘাতকেরা প্রায় সকল কর্মকর্তাকে হত্যা করে গণকবর খুঁড়ে তাদের মাটি চাপা দিয়েছে। তার ওপর এমনভাবে ঘাস খড় বিছিয়ে দিয়েছে যে, যেন সেটা যে গণকবর তা কিছুতেই বোঝা না যায়। অনেক লাশ তারা সুয়ারেজ লাইনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। এর মধ্যে বিডিআরের ঘাতকদের জনসাধারণের সঙ্গে মিশে গিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসেছে। সে মিছিলে শরীক হয়ে পালিয়ে গেছে শত শত বিডিআর জওয়ান। এর মধ্যে আরও এক রহস্যময় ঘটনা ঘটিয়ে দিয়েছিলেন ধানমন্ডি-হাজারীবাগ এলাকা থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। বিকেল সাড়ে তিনটা চারটা থেকেই হঠাৎ করেই টেলিভিশন স্ক্রিনে ভেসে এলো তাপসের ঘোষণা। বিডিআর সদর দফতর পিলখানার চারদিকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে যারা বসবাস করেন, তারা যেন অতিদ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে দিয়ে নিরাপদ আশ্রয় চলে যায়। তখন আর সেনাবাহিনীর বিডিআর সদরদপ্তরে হানা দেয়ার মতো কোনো পরিবেশও ছিল না, অর্থও ছিলো না। কারণ ততক্ষণে প্রধানমন্ত্রী বিডিআর ঘাতকদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে এবং তাদের অস্ত্র সমর্পণের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা। পিলখানার তিন কিলোমিটার এলাকা থেকে সকল মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ বা আহবান জানানোর কোনো কর্তৃত্ব ঐ এমপির ছিল না। এ রকম আহবান জানাতে পারতেন পুলিশ কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। তারা কেউই এ ধরনের কোনো আহবান জানাননি। টেলিভিশন সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু তারা কেউ এর দায়িত্ব নেন নি। হাজারে হাজারে মানুষ মূল্যবান জিনিসপত্র ও শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে রাস্তায় ছুটে বেরিয়ে এসেছে। রিকশা নেই, ভ্যান নেই, অন্য কোন যানবাহন নেই, তারা কেবলই ছুটেছেন নিরাপদ আশ্রয়ের সìধানে। আজ পর্যন্ত না ব্যারিস্টার তাপস, না সরকার কেউই এই রহস্যজনক ঘোষণার কোন ব্যাখ্যা দেন নি। তবে কি ঘাতক বিডিআর সদস্যদের পালিয়ে যাওয়ার সুবিধার জন্যেই ব্যারিস্টার তাপস অমন এখতিয়ার বহির্ভূত ঘোষণা প্রচার করছিলেন। সঙ্গতকারণেই সাধারণ মানুষের মনে এসব প্রশ্ন উঠবে, হয় সরকারকে এর জবাব দিতে হবে অথবা সাধারণ মানুষের মনে ঐ সংশয়ই বদ্ধমূল রূপ নেবে।
পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের ওপর পরিচালিত এই হত্যাযজ্ঞের তদন্তের ব্যাপারে সরকার আজ পর্যন্ত কোনরূপ স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে পারে নি। বরং এই হত্যাকান্ড থেকে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একের পর এক নতুন নতুন ইস্যু তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করাই চেষ্টা করেছে। প্রথমেই তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা দিয়ে দেয়া হলো যে, পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পিছনে ইসলামী জঙ্গিবাদিদের মদদ আছে। তথ্য প্রমাণ কোথায়? সে প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গেল না, তখন সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা বলতে শুরু করলেন যে, এই হত্যাকান্ডের সাথে যেসব বিডিআর সদস্য জড়িত তারা সব জোট সরকারের আমলে চাকরি পেয়েছে। জোট সরকার বেছে বেছে ইসলামী জঙ্গিদের বিডিআর-এ ঢুকিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বললেন, এদের কারোই অতীত ইতিহাস ঘেঁটে জঙ্গিবাদের সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তাছাড়া এসব বাহিনীতে নির্বাচন প্রক্রিয়াও অন্তর্ভুক্তিকরণ এমন গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে করা হয় যে, তাতে ঐ ধরনের কারো বিডিআর বাহিনীতে যোগ দেয়া সম্ভব নয়। ফলে সে বেলুনও চুপসে গেল। তখন বলা হলো, বিডিআর হত্যাকান্ডের সময় বেগম খালেদা জিয়া তার বাড়ি থেকে কালো এক গাড়িতে করে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন। অর্থাৎ এখানে প্রচ্ছন্নভাবে ইঙ্গিত করার চেষ্টা ছিল যে, এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ারও কোন না কোন সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন করে তার বাসায় পাওয়া যায়নি। এই অভিযোগের পর বেগম খালেদা জিয়া জানালেন যে, ঘটনার দিন তিনি বাড়িতেই ছিলেন। কেউ তাকে ফোন করে নি। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে, পার্লামেন্টে তার অফিসে খবর দিলেও তিনি সে খবর পেতেন। ঘটনার দিন তিনি বাড়িতেই ছিলেন। তার কোনো কালো গাড়ি নেই এবং কালো গাড়িতে করে তিনি কোথাও যানও নি। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ শে মে জিয়াউর রহমানের হত্যাকান্ডের দিন ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্খান করছিলেন শেখ হাসিনা।
এসব যখন টিকলো না তখন সরকার জোরোশোরে এক আন্দোলন শুরু করলো। সেটা হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা ১৯৭৪ সালের চুক্তি মোতাবেক শেখ মুজিবের শাসনকালেই ক্ষমা পেয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিল। শেখ মুজিবই যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগীদের বিচারের জন্য প্রণয়ন করেছিলেন দালাল আইন। সে আইনে লক্ষাধিক লোককে আটক করা হলেও বিচার করা হয়েছিল সাতশ’ জনের। সেই বিচারে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৩ সালে শেখ মুজিবই জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। ঐ সাধারণ ক্ষমায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জেল থেকে বেরিয়ে এসেছিল। হত্যা, ধর্ষণ, লুঠেরা ও অগ্নিসংযোগকারীরা ঐ সাধারণ ক্ষমার আওতাভুক্ত ছিলেন না। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের দ্বার উন্মোচিত ছিল। কিন্তু পরবর্তী দুই বছর এক মাসেও ঐ আইনে সারা দেশে একটি মামলাও দায়ের না হওয়ায় ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দালাল আইন রদ করেছিলেন।
এখন তাহলে বিচার করার জন্য যুদ্ধাপরাধী কোথায় পাবেন? সরকার বলছে, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। আর হাজার হাজার যুদ্ধাপরাধী নয়, কিছু সংখ্যক যুদ্ধপরাধীর বিচার করা হবে। তার জন্য সরকার একটা সাজসাজ রব ফেলে দিয়েছে। কিন্তু কে এই চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সে কথা সরকারের তরফ থেকে কখনো জানানো হয়নি। সরকার বলছে, এর জন্য একটি আইনজীবী প্যানেল গঠিত হবে। তাও এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হয় নি। যুদ্ধাপরাধী চিহ্নিত হয় নি, আদালত নির্ধারিত হয়নি, আইনজীবী নির্বাচন হয়নি, কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। যেন পিলখানার ঘটনার চেয়েও অনেক বেশি জরুরী এই হাওয়াই যুদ্ধাপরাধীর বিচার।
এর মধ্যে নতুন ইস্যু নিয়ে আসা হয়েছে কওমী মাদরাসা। সরকারের আইনমন্ত্রী বলেছেন, কওমী মাদরাসাগুলো জঙ্গিবাদের প্রজননক্ষেত্র। এ নিয়ে সারাদেশে এখন তীব্র প্রতিবাদের ঝড়। অর্থাৎ এই সমস্ত ইস্যু তুলে সমাজকে নানাভাবে বিভক্ত রেখে পিলখানা হত্যাকান্ডকে জনমন থেকে খানিকটা দূরেই রাখতে চাইছে সরকার। তার উপর কোনো রকম জানান না দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শিবশংকর মেনন বাংলাদেশ সফর করে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে একান্ত আলোচনা করে গেছেন। তিনি কি আলোচনা করেছেন, সেটি সরকারীভাবে প্রকাশিত না হওয়ায় তা নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। শিবশংকর নাকি বাংলাদেশ সরকারকে বলে গেছেন যে, সরকার যেন দক্ষিণ তালপট্টির ব্যাপারে জাতিসংঘে নিজেদের দাবি উথাপন না করে, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভারতের তেল-গ্যাস অনুসìধানে সহায়তা করে এবং পিলখানা হত্যাকান্ডের তদন্ত রিপোর্ট সতর্কতার সঙ্গে প্রকাশ করে। সরকার অবশ্য আগে থেকেই সতর্ক আছে। আর সে কারণেই বাণিজ্যমন্ত্রী লে. ক. (অব) ফারুক খানকে সকল তদন্ত কমিটির সমন্বয়কারী নিয়োগ করেছে, যাতে এই তদন্তের ফলাফল সরকার যা চায় তার বাইরে কিছুই বেরিয়ে আসতে না পারে।
তবে সরকারের সামনে সবচাইতে বড় সমস্যা গ্যাস বিদ্যুৎ পানি নয়, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নয়, বিশ্বাবিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের হানাহানি নয়, দেশব্যাপী টেন্ডারবাজির ঘটনাবলী নয়, তালপট্টি, তেল-গ্যাস নয়, গঙ্গার পানি প্রবাহ নয়, সীমান্তে ভারতীয় নরহত্যা নয়। তারচেয়েও বড় সমস্যা ১৯৮১ সালে দেয়া ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করা। খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে পারলে এক ফুৎকারে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বেরিয়ে আসবে পিলখানা হত্যাযজ্ঞের আসল রহস্য। সব ল্যাঠা চুকে গেল!
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।