বর্তমান সরকারের মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান জনগণকে উপদেশ দিয়েছেন এ্যাংকর ডাল খাওয়ার জন্য। মসুর ডাল দাম কমাতে না পেরে মন্ত্রী মহোদয় এ উপদেশ দিয়েছেন। ১০ টাকা সের চাল, ৫ টাকা সের কাঁচা মরিচ, বিনামূল্যে সার বিতরণ এবং ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ' গড়ার মনভোলানো প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে মহাজোট। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিশ্রুতি ছিল তারা দিন বদলের রাজনীতি উপহার দিবেন। নির্বাচনী ইশতেহারকে তারা ঘোষণা করেছেন ‘দিন বদলের ইশতেহার' হিসেবে।
২০০৬ সালের অক্টোবরে আন্দোলনের নামে লগি-বৈঠার তান্ডব, জ্বালাও পোড়াও, ঘেরাওয়ের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম এবং দেশীয়-আন্তর্জাতিক কুশীলবদের ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতিতে ক্ষমতায় আসীন হয় ফখরুদ্দীনের সরকার। উদ্দীন সাহেবদের সু-শাসনে?? দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বেড়ে চলে। নির্যাতিত জনগণ এ অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে বাঁচার প্রত্যাশায় আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। জনগণ ভেবেছিল দ্রব্যমূল্য কমবে, চাঁদাবাজী বন্ধ হবে এবং মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। কিন্তু আশায় গুড়েবালি। প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য। মহাজোট সরকারের মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বাজারে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করছেন। দোকানে গিয়ে দাম জিজ্ঞেস করছেন। মিডিয়ার সামনে আশ্বাসবাণী শোনাচ্ছেন। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। গত ১৬ আগস্ট খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেছেন, চাঁদাবাজীর কারণে দ্রব্যমূল্য কমানো যাচ্ছে না। দু'দিন পর ১৫ আগস্ট একটি আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খানও স্বীকার করলেন চাঁদাবাজীর কারণে দ্রব্যমূল্য কমানো যাচ্ছে না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি যে বক্তব্যটি দৃঢ়ভাবে রাখলেন তা হচ্ছে চারদলীয় জোট সরকার এবং ফখরুদ্দীনের জরুরি সরকারের আমলের চেয়ে বর্তমানে দ্রব্যমূল্য অনেক কম এবং তিনি প্রশ্ন রাখলেন বিগত সরকারের আমলের তুলনায় দ্রব্যমূল্য অনেক কম নয় কি? সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকগণ হয় তো ভদ্রতার খাতিরে তার কথার জবাব দেননি। জনগণ তো টের পাচ্ছে চারদলীয় জোট সরকারের আমলের তুলনায় বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বেশি না কম!! এ প্রশ্নের জবাব মাননীয় মন্ত্রীর উপদেশ বাণীর মধ্যেই নিহিত আছে। তিনি এর দু'দিন পূর্বে রাজধানীর একটি বাজার পরিদর্শন করতে গিয়ে মসুর ডালের অতিরিক্ত মূল্য দেখে জনগণকে উপদেশ দিয়েছেন এ্যাংকর ডাল খাওয়ার জন্য। একথা সবারই জানা যে, এ্যাংকর বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় গো-খাদ্য হিসেবে, তারপরও মানুষ এখন এ ডাল খাচ্ছে। মসুর ডাল চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছিল আটান্ন টাকা কেজি, ফখরুদ্দীন সরকারের আমলে ছিল একশ' আট টাকা এবং বর্তমানে প্রতি কেজি মসুর ডাল একশ' বার টাকা। জনগণ না হয় এ্যাংকর দিয়ে ডালের চাহিদা পূরণ করবে, কিন্তু অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পরিবর্তে কি খাবে? মাছ-গোস্তের বাজারে নিম্নআয়ের মানুষ সহজে পা মাড়ান না। শাক-সবজি, তরকারির দামও আকাশছোঁয়া। ১/১১র অন্যতম মহানায়ক মঈন উ আহমদ জনগণকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বেশি করে আলু খাওয়ার জন্য এবং আয়োজন করেছিলেন হোটেল রেডিসন এ আলু মেলা আর ছিল শ খানেক রেসিপি। সে আলুও বর্তমানে ত্রিশ টাকা কেজি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
চারদলীয় জোট, ফখরুদ্দীন ও বর্তমান সরকারের সময়ের নিত্যপ্রয়োজনীয়
উপরের তুলনামূলক চিত্রের দেখা যাচ্ছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির হার অতীতের যে কোন শাসনামলের চেয়ে বর্তমানে বেশি। শুধুমাত্র চালের মূল্য ফখরুদ্দীন সাহেবের আমলের তুলনায় কিছুটা কম। বাকি সব জিনিসের দামই ঊর্ধ্বমুখী। দলীয় ভাবাপন্ন মিডিয়ার একচেটিয়া প্রচার আর বক্তব্যে বাগাড়ম্বর করলেই জনগণ আশ্বস্ত হয় না, জনগণ বাস্তবতার নিরিখে সবকিছু বিচার করতে চায়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ আজ দিশেহারা। মন্ত্রীরা স্বীকার করার পরও চাঁদাবাজী বন্ধ হচ্ছে না। বরং সরকারদলীয় ক্যাডাররা চাঁদাবাজির নতুন নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মহাসমারোহে চাঁদা আদায় করছে। বাড়ি নির্মাণে চাঁদা। রাস্তায় গাড়ি চালাতে হলে চাঁদা। ব্যবসা করতে গেলে চাঁদা। শিল্প-কারখানায় চাঁদা। এ ডিজিটাল চাঁদাবাজদের দমন না করলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোখা যাবে না। কিন্তু তা কি পারবেন সরকারের মন্ত্রী মহোদয়রা?? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আইন-শৃক্মখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদাবাজ যেই হোক তাকে গ্রেফতার করতে। সরকারদলীয় কোন নেতাকর্মীকে চাঁদাবাজী বা অন্য কোন অপরাধে গ্রেফতার করলে ঐ অফিসারের চাকরি থাকবে কি না? এর কোন নিশ্চয়তা কি তাদের দেয়া হয়েছে? কেননা ইতিমধ্যে ডিজিটাল সরকারের নেতাদের হাতে খুন হয়েছেন পুলিশের একজন ওসি। টিএনও, ডিসি, সরকারি অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কলেজের অধ্যক্ষকে মারধর করা, অপমানিত করা, তালাবদ্ধ করার ঘটনা প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায় ছাপা হচ্ছে। তবে কি এটাই ডিজিটাল পদ্ধতির দেশ পরিচালনা? জনগনকে নিয়ে মসকরা আর কত?
মঈনের আলু তত্ব এবং ফারুকের এ্যাংকার তত্ব সবমিলিয়ে জনগনের নি:শ্বাস তত্ব!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।