এক ভদ্রলোক নতুন বিয়ে করে ফিরেছেন। বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে বলে বেড়াতে লাগলেন- ‘‘শ্বশুরবাড়ি-মধুরহাড়ি।’’ যা একখানা শাশুড়ি আর শ্বশুর না! জামাই আদর কাকে বলে। শ্রোতারা খুব মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করে। বুঝার চেষ্টা করে, এত প্রশংসা কেন? কিন্তু নতুন জামাই তথ্যবহুল কিছু বলতে পারে না। শুধু ঐ কথাগুলোই বারবার বলে, আর বলে আবার যাবো।
কয়েকদিন পর পুনরায় যাবার তারিখ হলো। খুব ঢাকঢোল পিটিয়ে জামাইবাবু শ্বশুরবাড়ী গেলেন। শ্বশুর-শাশুড়ি তো অস্থির। কথাবার্তায় সে কি তোড়জোড়। ওকে ডেকে বলে, পালংয়ে ভাল বিছানা পাত। তাকে ডেকে বলে, মুরগি জবেহ কর। বাজার থেকে বড় রুইমাছ নিয়ে আয়। শাশুড়ি বলে মিহি চালের ভাত পাকাতে হবে। ঐ ঘরে পালা খাসি জবেহ করতে হবে। চন্দন বাবুর মিষ্টিঘর থেকে রসমালাই, চিনি পাতা দৈ নিয়ে আসতে হবে। জামাইবাবু তো খুশিতে আত্মহারা! এবার দেশে গিয়ে সত্যি সত্যিই শ্বশুর-শাশুড়ির আতিথ্যের কথা সবাইকে বলতে পারবেন। গেলবারে তো বানিয়ে বানিয়ে বলা হয়েছে। জামাইবাবু অপেক্ষা করে করে সাতদিন পর্যন্ত শ্বশুরবাড়ীতে থাকলেন। সাতদিনে একদিনও পালং-এ শোয়া হলো না। শাশুড়ি প্রতিদিন বলতে থাকলো, এ রাতটা ভাঙ্গা চকিতে শুয়ে একটু কষ্ট কর। পালং এলে পেতে দেবো। খাবার সময় আলু ভর্তা নতুবা শুধু কাঁচামরিচ দিয়ে পান্তাভাত। তাও আধপেটে। আর আফসোস করে বলা হলো, আহ্ মুরগিটা ধরতেই পারলাম না। খাসি জবেহ করতে লোক পাচ্ছি না। শ্বশুর মহোদয় দ্বিতীয়দিন থেকে রাগতভাবে বলতে লাগলো, তোমাকে না টাকা নিয়ে আসতে বলেছিলাম। আসছো তো মিষ্টির হাড়ি নিয়ে। এখন বাজার করবো কি করে? রুইমাছ, রসমালাই, মিহি চাল বললেই তো ঘরে হেঁটে হেঁটে আসবে না। টাকা চাই টাকা। বিয়ের সময় তো একথাই ছিল। কূলীন ঘরের মেয়ে নিয়েছ- আর খালি হাতে আসবে? এখন বুঝো ঠেলা? আতিথ্য তো দূরের কথা মেয়েই রেখে দেবো!
দেশে ফিরে আসলেন জামাই বাবু। আধাপেটা খেয়ে না ঘুমিয়ে থেকে চেহারা ছেড়াবেড়া। কাউকে কিছু বলতেও পারে না। অথচ কথা বলা তার অভ্যাস। কথা বেচেই সে চলে। কি কথা কখন বলে ফেললো- তা বাছবিচারও অনেক সময় করে না। তাই বন্ধু-বান্ধব জোর করে এবারের শ্বশুর বাড়ীর মধুর হাড়ির খবর জানতে চায়। কি কি খেলেন জামাই বাবু? ‘‘আরে সে তো এক বিরাট ব্যাপার। এই ধরুন মুরগির ঝোলের পেচাল, খাসির মাংসের হাঁকডাক, রুইমাছের গল্প, রসমালাই চিনিপাতা দৈ'র গল্প, পালংয়ে শোয়ার স্বপ্ন ইত্যাদি ইত্যাদি।’’
আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনির এবারে পাঁচদিনের ভারত সফরের পর ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বিবৃতি এবং দেশে তার নিজস্ব প্রেস বিফ্রিং পড়ে ঐ গল্পটাই বার বার মনে পড়ছে। কারণ, তার সফরের সাফল্য মূল্যায়ন করলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে :
এক.
ভারত আমাদেরকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেবে। কোথা থেকে দেবে? ত্রিপুরা জোন থেকে। পশ্চিমবঙ্গে তো মারাত্মক বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে। তাহলে তাদেরকে না দিয়ে আমাদেরকে দেয়া কেন? আর পশ্চিমবঙ্গই বা নীরব কেন? এত উদার তো নিকট ইতিহাস কেন দূর ইতিহাসেও তো দেখা যায়নি? তাহলে বিষয়টা কি? বিষয়টা হলো ত্রিপুরা থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ভারত বাংলাদেশকে ব্যবহার করতে চায়। আমাদের বিদ্যুৎ গ্রিডই হবে সরবরাহ কেন্দ্র। ফলে প্রকৃতপক্ষে ভারতের বিদ্যুৎ আমাদের দেশের ভেতর পাইপ লাইনে থাকবে ব্যবহার করা যাবে না। তখন আমাদের বিদ্যুৎ গ্রিডের নিয়ন্ত্রণও পুরাপুরি বাংলাদেশের হাতে থাকবে না। ভারত এত বোকা নয় যে, তাদের একটা প্রদেশের বিদ্যুতের ভাগ বাংলাদেশের উপর ছেড়ে দেবে। বাংলাদেশকে তারা ঐতিহাসিক কারণে এত বিশ্বাসও করে না। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাবার্তায় মনে হয় না যে, বিষয়টি গভীরভাবে দেখা হয়েছে।
দুই.
আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতকে আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহারের সম্মতি দিয়ে এসেছেন। বিষয়টি জনগণের কাছে সম্পূর্ণ নতুন। বিষয়টি সরকার জনগণের সামনে কখনও প্রকাশ করেনি। সংসদেও বিষয়টি আলোচনা হয়নি। যতদূর জানা যায় জোট সরকারের আমলেও এ ধরনের ভারতীয় প্রস্তাব আসেনি। তাহলে বিষয়টি নিয়ে হোম ওয়ার্ক কোথায় হলো? সচিব পর্যায়ের কোন আলোচনার খবরও জনগণ জানে না। তাহলে কি ১/১১ ঘটানোর নেপথ্য আলোচনার ফল এটা? সেটা তো ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রের আলোচনা গোপনে হয়। প্রকাশ্যে হয় না। কারণ তাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ থাকে না।
বলা হয়েছে, আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার করে ভারত ভারি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ত্রিপুরা ও আসামে পাঠাবে। এখানে প্রশ্ন অনেকগুলো। ভারি যন্ত্রপাতির সংজ্ঞা কি? কতটন ওজনের? কাদের যানবাহনে পারাপার হবে? মনিটরিং কে করবে? আশুগঞ্জ বন্দরে যে ভারতীয়রা কাজ করবে তাদের ভিসা দান পদ্ধতি কি হবে? এ সমস্ত প্রশ্নের কোন জবাব নেই। তাহলে জনগণ শঙ্কিত হবে না কেন? জনগণ সঙ্গত কারণেই ভাবতে পারে যে, আশুগঞ্জ বন্দরে ভারতীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এটা একটা পাকাপোক্ত ব্যবস্থা মাত্র। নিজ দেশে পরদেশীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার এ পদক্ষেপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি করে সম্মতি দিয়ে আসলেন? নাকি তিনি বুঝতে পারেননি? ক্ষমতায় বসানোর ঋণ কি দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে পরিশোধ করতে হবে?
তিন.
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করা ভারতের বহুদিনের দেনদরবার। এ বন্দর ব্যবহার করতে পারলে ভারত যে সুবিধাগুলো পাবে তাহলো, ১. বাংলাদেশের ভূ-খন্ড ব্যবহার করে ভারত তার বিভিন্ন রাজ্যে বাণিজ্য সহজভাবে করতে পারবে। ২. সেভেন স্টারের সাথে যোগাযোগ সহজ হবে। ৩. চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে। ৪ বাংলাদেশের বৃহত্তম নৌঘাঁটি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিজ নজরদারিতে নিয়ে আসতে পারবে এবং শক্তিশালী নৌবন্দরের মাধ্যমে গোটা ভারত মহাসাগর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। শক্তিশালী কোন দেশের সাথে স্বার্থ ভাগাভাগি করে নিতে পারবে। আমরা বাংলাদেশীরা শুধু আফসোস করতে পারবো।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার নিয়ে অর্থবহ আলোচনা হয়েছে। বিবৃতির ভাষা থেকে বুঝা যায় যে, বাংলাদেশ-ভারত এ বিষয়ে সমঝোতা করে ফেলেছে। বাকি আছে শুধু বৃহৎশক্তির সাথে বুঝাপড়ার বিষয়টি। ভারত সফর থেকে এসে দিপুমনির দীর্ঘ আমেরিকা সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারো কারো অভিমত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বর্তমান আমেরিকা সফর যত না বাংলাদেশের স্বার্থে তার চেয়ে বেশি ভারতের পক্ষে দূতিয়ালীর বা কূটনৈতিক ঘটকালী।
চার.
সম্প্রতি ভারত সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেলট্রানজিট দেয়ার সম্মতি দিয়ে এসেছেন। এসে অত্যন্ত সাফল্যের সুরে বলেছেন, বিনিময়ে ভারত আমাদের রেলপথ উন্নয়নে সহযোগিতা দেবে। বগি দেবে, লোকমোটিভ সরবরাহ করবে, কারিগরি সহায়তা দেবে ইত্যাদি। ভারতকে রেলট্রানজিট দেয়া কি আমাদের দাবি ছিল? নিশ্চয়ই সকলে একমত হবেন যে, এটা ভারতের দাবি। আর ভারত যা আমাদেরকে দেবে তা কি বিনা পয়সায়? নিশ্চয়ই নয়। সবকিছু টাকার বিনিময়ে দেবে। হয়ত কোন কোন ক্ষেত্রে ঋণ দেবে। এর অর্থ ভারত আমাদের সাথে চুটিয়ে বাণিজ্য করবে। চুক্তির এ অংশের সাথেও বাংলাদেশের কোন স্বার্থ জড়িত নেই। বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর ঋণ পরিশোধ অথবা ক্ষমতায় রাখার নিশ্চয়তা মাত্র।
পাঁচ.
ভারত আমাদের নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি বা সৃষ্টিতে সহায়তা দেবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপুমনি তার সফর সাফল্যের আর একটি প্রমাণ জাতিকে অবহিত করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের নদীগুলোর নাব্যতা চলে গেল কিভাবে বা কি কারণে? বাংলাদেশের ৫৪টি নদীর উৎস মুখ ভারতে। ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে আমাদের ৩২টি নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এছাড়া শতাধিক গ্রোয়েন বাঁধ নির্মাণ করে ঘাটে ঘাটে স্রোতকে থামিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে প্রতিটি বছর বালুচরের সংখ্যা বাড়ছে। মাটি জমছে। নদীর এপার ওপার ভরাট হচ্ছে। এজন্য নদীর নাব্যতা নষ্ট হচ্ছে। এ সমস্যাটি ৯০ শতাংশই ভারত সৃষ্ট। তাদের সৃষ্ট সমস্যা দূর করতে তারাই আগ্রহ দেখাচ্ছে। ভারত যে নাব্যতা বৃদ্ধি বা সৃষ্টিতে এগিয়ে আসছে তাও বাণিজ্যিক স্বার্থে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সাথে বড় ধরনের তামাশা শুরু করে দিয়েছে। যা পুরোপুরি ‘গরু মেরে জুতা দান করার' মতো। এটা নাকি তাদের অধিকার। কারণ তারা আমাদের দেশকে স্বাধীন করে দিয়েছে। অবশ্যই আমরা তার জন্য চিরকৃতজ্ঞ। তাই বলে এ ধরনের আচরণ করা হবে? ভারত কি শরণার্থী পুনর্বাসন করতে গিয়ে যে খরচ করেছে তার চেয়ে আয় বেশি করেনি? হাজার হাজার কোটি টাকার যুদ্ধাস্ত্র তারা কি আমাদের দেশ থেকে নিয়ে যায়নি? বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়ার সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী বেহিসাব সম্পদ দেশে নিয়ে যায়নি? সেখানেও তো ভারত বাণিজ্য করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মনে রাখা উচিত যে, ভারতকে দেয়ার দায়িত্বের চেয়ে আজ আমাদের পাওয়ার অধিকার অনেক বেশি।
ছয়.
জনগণ সবচাইতে বেশি বিস্মিত হয়েছে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা প্রসঙ্গে। সেখানে তিনি অর্থবহ কোন আলোচনাই করেননি। বলেছেন, টিপাইমুখ বাঁধ এলাকা পরিদর্শনকারী সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে দেয়া আতিথ্যে বাংলাদেশ খুব খুশি। বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু করা হবে না বলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এ পর্যন্তই। এর বাইরে ভেতরে কোন শলাপরামর্শ হয়েছিলো কিনা দেশবাসী তা জানতে পারেনি। অথচ ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য-বিবৃতিতে এটা পরিষ্কার যে তারা এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন আপত্তি না আসায় তারা উদ্বেগমুক্ত। ভারতের টিপাইমুখ বহুমুখি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সুরমা, কুশিয়ারা, মেঘনাসহ আরো ২২টি নদী শুকিয়ে যাবে। এটা ভারত জানে ও বুঝে। তাই বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত তার ড্রেজিং বাণিজ্যে এত আগ্রহ দেখাচ্ছে। দিপুমনিরা তা জানে বিধায় মাঝে মাঝে ঘোষণা দিচ্ছেন, নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে। তাই বিষয়টি আজ অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
সাত.
বর্তমানে সর্বজনবিদিত যে, বাংলাদেশের বড় বড় সন্ত্রাসীরা বিপদ দেখলেই ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত হচ্ছে তাদের অভয়ারণ্য। বাংলাদেশ বারবার ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নিকট তাদের তালিকা পেশ করেছে। কিন্তু তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। ভারত অভিযোগ করেছে বড় বড়। কিন্তু অনুপচেটিয়া ও পরেশ বড়ুয়ার বাইরে সুনির্দিষ্ট তালিকা দিতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে কার্যকর আলোচনার প্রয়োজন। বাংলাদেশের সন্ত্রাসীরা কেন ভারতে পালায়? ভারত বিষয়টি এড়িয়ে যায় কেন? তাদের ফেরত কিভাবে আনা যায়? ইত্যাদি বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষার প্রশ্নগুলোর সমাধান দেশবাসীর কাম্য। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে বন্দী বিনিময় সংক্রান্ত বিবৃতি জাতিকে শুধু নিরাশ করেনি বরং উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাই বিষয়টি খোলাসা হওয়া প্রয়োজন।
আট.
ভারতের ভূখন্ডে ছোট একটি করিডোর দিলেই বাংলাদেশ সরাসরি নেপাল ও ভূটানের সাথে সরাসরি বাণিজ্যিক যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। ভারত তার নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে আজ পর্যন্ত এই ছোট্ট করিডোরটি দিতে রাজি হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এবারের সফরে এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এমনভাবে যৌথ বিবৃতি প্রচার করা হয়েছে যেন আমরা সফল হয়েছি। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা কি? বিবৃতিতে ‘করিডোর' শব্দ ব্যবহার না করে ‘কানেকটিভিটি' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতকে করিডোর না দিলে কি ঐ অল্প সুযোগটুকু ভারত আমাদেরকে দেবে? নাকি আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার করাকে জায়েজ করার এ এক নতুন ফর্মুলা? আসলে বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ‘তোমার বাড়িতে আমাকে ঢুকতে দাও, তাহলে আমার বাড়ির পাশ দিয়ে তুমি যেতে পারবে।'-- বিষয়টি এরকম। বড় ধরনের ধাপ্পাবাজি বলেই মনে হয়। একটি নির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণকে এভাবে অন্ধকারে রাখতে পারেন না বা জনগণকে আড়াল করতে পারেন না।
নয়.
স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অংশ দহগ্রাম, আঙ্গরপোতা। ভারতের তিনবিঘা পরিমাণ করিডোর দিয়ে সেখানে যেতে হয়। স্বাধীনতার স্থপতি মরহুম শেখ মুজিব ও ভারতের ইন্দিরাগান্ধির সাথে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারতকে বেরুবাড়ী ছেড়ে দেবে। বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশকে তিনবিঘা করিডোর ছেড়ে দেবে। বাংলাদেশ চুক্তির তিনমাসের মধ্যে তার কথা রক্ষা করেছে। কিন্তু আজও ভারত তার কথা রাখেনি। ভারতের এ ধরনের আচরণ শুধু অপ্রতিবেশিসুলভই নয়, অবন্ধুসুলভও। এটা ভারতের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক আচরণের চরম লঙ্ঘন। এ আচরণ মেনে নেয়া যায় না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখানে শক্ত ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। ছাড় দিতে দিতে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অথচ এবারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে তিনবিঘা করিডোর নিয়ে ভারত শুধু মিঠা কথা দিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছে। অর্থবহ কোন সম্মতি বা প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
সার্বিক মূল্যায়নে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এবারের ভারত সফর সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের কোন স্বার্থ এ সফরে রক্ষিত হয়নি। তবে ভারত তার স্বার্থ আদায় করে নেয়ার পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করে ফেলেছে। বাংলাদেশকে দিয়েছে কথার মারপ্যাঁচ, মিঠে মিঠে বুলি আর আতিথ্যের হাঁক-ডাক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


