somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আর্কিটেক্ট অব ইন্ডিয়া-মার্কিন-ইসরাইল ! শত্রুদের নখরাঘাতে ক্ষতবিক্ষত আমার এ দেশ! অর্ধশতাব্দীর লালিত স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে ভারত এখন মরহুম জিয়াউর রহমানের ৭ জাতি সার্ককে অকার্যকর করে ৪ জাতি আঞ্চলিক জোট বাঁধার পাঁয়তারা করছে। এই অসৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ভারতের চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ও অপর দুইটি দেশ শ্রীলংকা ও মালদ্বীপকে এই চতুর্দেশীয় বৃত্তের বাইরে রাখছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা বলতে ভারত তার সাথে ভৌগোলিকভাবে সংলগ্ন ৪টি দেশকে নিয়ে তারই মোড়লীপনায় এক নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনে অগ্রসর হচ্ছে। ভারত ছাড়া অপর তিনটি দেশ হলো নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ। এই সুদূরপ্রসারী টার্গেটকে সামনে রেখে, নিউইয়র্ক টাইমসের ভাষায়, ভারত তার পশ্চিম ফন্সন্টে অর্থাৎ পাকিস্তান থেকে তার মনোযোগ আংশিকভাবে সরিয়ে এনে পূর্বপ্রান্তে অর্থাৎ বাংলাদেশের ওপর নিবদ্ধ করছে। ‘গ্রেট পাওয়ার’ হওয়ার পথে ভারতের একান্ত অনুগামী হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশের বর্তমান আওয়ামী সরকার। ভারতের এই বহুদিনের অভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দুইটি সমুদ্র বন্দর এবং একটি নদী বন্দর দেয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশের বুকের ওপর দিয়ে একটি নয়, একাধিক ট্রানজিট এবং করিডোর দিয়েছেন।
সমুদ্র বন্দর এবং ট্রানজিটের গোড়ার কথা
স্মরণ করা যেতে পারে যে ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তান নামক যে নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয় সেই রাষ্ট্রের দুই অংশ বা অঞ্চলের মাঝখানে পড়ে যায় সুদীর্ঘ দেড় হাজার মাইলের ভারতীয় ভূখণ্ড। তখন পূর্বাঞ্চলের নাম ছিল পূর্ব বাংলা। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র চালু হওয়ার পর এই অঞ্চলের নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান। ভারত বিভক্তির অব্যবহিত পরপর দূরপাল্লায় চলাচলের মত কোনো উড়োজাহাজ পাকিস্তানের ছিল না। সুতরাং পাকিস্তানের দুই অংশে বিমান যোগাযোগ সুপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত লাহোর-ঢাকা এবং করাচী-ঢাকা যাতায়াতের জন্য ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি চায় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। কিন্তু পণ্ডিত নেহরুর তৎকালীন ভারত সরকার এই যুক্তিতে এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে যে, ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিলে ভারতের নিরাপত্তা নাকি পাকিস্তানের দ্বারা বিপন্ন হবে। একই ব্যবহার করা হয়েছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ববাংলার সাথেও। তখনও চট্টগ্রাম এবং চালনা বন্দর তৈরি হয়নি। কোলকাতা অবিভক্ত বাংলার একমাত্র সমুদ্র বন্দর। তাই পাকিস্তান সরকার ভারতকে অনুরোধ করেছিল যে, তারা যত দ্রুত পারে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর তৈরি করবে। কিন্তু সেটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার বলে মাত্র ৬ মাসের জন্য ভারত যেন পাকিস্তানকে কোলকাতা সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়। তখন পণ্ডিত নেহরুর সরকার পাকিস্তান সরকারকে জানিয়েছিল যে, ৬ মাস তো দূরের কথা ৬ ঘন্টার জন্যও পাকিস্তানকে কোলকাতা সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। সেই বিশাল ভারতকে আমাদের দুইটি সমুদ্র বন্দরই ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যৌথ ঘোষণার ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, ভারতের একস্খান থেকে অন্যস্খানে পণ্য আনা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ভারতকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করার অনুমতি দেবে। যদি তৎকালীন পাকিস্তানের মত অত্যন্ত দুর্বল রাষ্ট্রকে ট্রানজিট ও করিডোর দিলে নিরাপত্তা বিপন্ন হবে বলে ভারত মনে করে, তাহলে আজ ভারতের মত বিশাল ও শক্তিশালী দেশকে বাংলাদেশের মত ক্ষুদ্র ও দুর্বল দেশের ওপর দিয়ে ট্রানজিট দিলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিপন্ন হবে, এই হুমকির কথা প্রধানমন্ত্রী ও তার সঙ্গীরা ভুলে গেলেন কেন?
ভারতের বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ
আসলে এই পয়েন্টটি বাংলাদেশের ডেলিগেশন মোটেও ভোলেননি। তারা জেনে শুনেই বিষপান করতে গিয়েছিলেন। তারা গিয়েছিলেন ভারতের ভূ-রাজনৈতিক স্ট্রাটেজিকে সামনে এগিয়ে নিতে। তাই জেনে শুনেই তারা ভারতকে বন্দর দিয়েছেন এবং বহুমুখী করিডোর দিয়েছেন। এখন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল এবং মংলা থেকে পশ্চিম ভারতে অবাধ চলাচলে আর কোনো বাধাই থাকলো না। যেখানে কোলকাতা থেকে মিজোরামে ট্রাক-বাস পৌঁছতে পাড়ি দিতে হয় অন্তত ৮ শত কিলোমিটার পথ সেখানে এখন ভারত চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মিজোরাম পৌঁছতে পারবে। এভাবে বাংলাদেশ বিশাল ভারতের উপাঙ্গে পরিণত হলো। নেপাল, ভূটান এবং বাংলাদেশ সীমান্তে সৈন্য মোতায়েনের কোনো প্রয়োজন আর ভারতের রইলো না। ১২ লাখ জনবল সম্পন্ন বিশাল ভারতের সামরিক বাহিনীর ৭ লাখ সদস্যকে এতদিন মোতায়েন রাখতে হয়েছিল উত্তর-পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ এবং কাশ্মীর সীমান্তে। এখন আর সেটার প্রয়োজন থাকছে না। ঐ দিকে আমেরিকা প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রেখেছে পাকিস্তানকে। পাকিস্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশটিকে তালেবান ও আলকায়দা দমন অভিযানে নামতে বাধ্য করেছিল আমেরিকা। তখন যদি পাকিস্তান আমেরিকার কথা না শুনত তাহলে তারা ভারতকে দিয়ে পাকিস্তান হামলা করাতো। সে ক্ষেত্রে সেদিন আফগানিস্তানের মত পাকিস্তানও দখল হয়ে যেত। আফগানিস্তানের অনুকরণে পাকিস্তানেও বহি:শক্তির চক্রান্তে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। আজ পাকিস্তান গৃহযুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত। নিজের অস্তিত্ব এবং সংহতি সামাল দিতেই ঐ রাষ্ট্রটি পেরেশান। এই অবস্খার অবসান এত সহজেই হবে না। তাই ভারতের পশ্চিম ফ্রন্টও এখন শান্ত। ইত্যবসরে অর্থনৈতিক ফন্সন্টে ভারতের সাধিত হয়েছে বিপুল অগ্রগতি। অর্থনৈতিক অগ্রগতির ফলে সামরিক ক্ষেত্রেও বিগত এক দশকে ভারত অর্জন করেছে বিরাট শক্তি। পশ্চিম ফন্সন্টে পাকিস্তানের ভয় নাই, পূর্ব প্রান্তে বাংলাদেশ এখন এক অনুগত রাষ্ট্র। সুতরাং ভারতের সমস্ত প্রচেষ্টা এখন নিবদ্ধ রয়েছে গণচীনের সমকক্ষ হওয়ার। সকলেই জানেন যে আগামী দিনে বিশ্বে পরাশক্তি হতে যাচ্ছে গণচীন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আমেরিকা এখন বিশ্বে একক পরাশক্তি। বিশ্ব রাজনীতির পরিভাষায় তাই বর্তমান বিশ্বকে বলা হয় ইউনিপোলার ওয়ার্ল্ড, অর্থাৎ এক মেরুর পৃথিবী। কিন্তু বিগত ১৫ বছর গণচীন ৮ থেকে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে অব্যাহতভাবে। এই নব অর্জিত অর্থনৈতিক শক্তি দিয়ে গণচীন বিপুল অগ্রগতি সাধন করেছে কারিগরি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে। এই অর্থনৈতিক শক্তি অর্জনের পর গণচীনও নজর দিয়েছে তার সামরিক ক্ষেত্রে। আমেরিকাও বুঝে গেছে যে অনাগত ভবিষ্যতে দ্বিতীয় পরাশক্তি হিসেবে উঠে আসছে গণচীন। যে দিন গণচীন পরাশক্তি হবে সেদিন আটলান্টিকের ওপার থেকে উড়ে এসে এশিয়ার ওপর মাতব্বরী করা আর সম্ভব হবে না আমেরিকার। তাই বলে এশিয়ার ওপর কর্তৃত্ব শিথিলও করতে চায় না আমেরিকা। এক্ষেত্রে তারা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চায়। যেহেতু এশিয়ার দ্বিতীয় উদীয়মান শক্তি ভারত তাই যত কম সময়ে সম্ভব আমেরিকা চায় ভারতকে শক্তিশালী করে গণচীনের সমকক্ষ বানাতে। ঠিক এই জায়গায় ভারত এবং আমেরিকার স্বার্থ এবং উদ্দেশ্যের সম্মিলন ঘটেছে। আমেরিকা চায় ভারতকে গণচীনের কাউন্টারওয়েট হিসেবে ব্যবহার করতে। আর ভারতও বিশ্বসভায় পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়।
শুধুমাত্র মার্কিন সমর্থন দিয়েই পরাশক্তি হওয়া যাবে না, এটা ভারত খুব ভালভাবেই বোঝে। পরাশক্তি হতে গেলে তাকে অভ্যন্তরীণ এবং সীমান্ত নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে।
আদর্শিক ফ্যাক্টর
আজ বিশ্ব জোড়া আমেরিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে। আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান এবং ইরান, সিরিয়া, ফিলিস্তিনসহ সকলের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাস প্রতিরোধের নামে সামরিক অভিযানে অবতীর্ণ হয়েছে আমেরিকা। কমিউনিজমের পতনের পর আমেরিকার রাজনৈতিক ও আদর্শিক দুশমন হলো ইসলাম। এই স্খানেও অর্থাৎ আদর্শিক ক্ষেত্রেও আমেরিকা ইসরাইল এবং ভারতের সাথে অদ্ভূত ঐকমত্য রয়েছে ভারতের। তাই ইসরাইলের সাথে ভারতের এখন চলছে গলায় গলায় বìধুত্ব। ভারত যে বিপুল সমরাস্ত্র ক্রয় করছে তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশের যোগান দিচ্ছে ইসরাইল। ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাই আরব জাহান তথা মুসলিম জাহানের সাথে ইসরাইলের এই বৈরী সম্পর্ক। এক সময় ভারত আরব জাহানের বিভিন্ন ইস্যুতে সমর্থন দান করতো। এখন ইসরাইলের কারণে ভারতীয় কণ্ঠ নীরব।
বাংলাদেশের ৮৮ শতাংশ অধিবাসী মুসলমান। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, চেচনিয়া, আফগানিস্তান এবং ইরাকসহ মুসলিম জাহানের ওপর মার্কিন, ইসরাইল ও ভারতীয় দমন নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুসলমানরাও ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। বাংলাদেশে তাই জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামী মূল্যবোধ সম্পন্ন সরকার এই ইন্দো-আমেরিকান ডিজাইনের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। এখানে প্রয়োজন একটি ভারতপ্রেমী সরকার। সেই সরকার এই গ্র্যান্ড ডিজাইন বাস্তবায়নে হবে অন্যতম প্লেয়ার। সে জন্যই জোট সরকারকে হটিয়ে দেয়া হয়েছে। বসানো হয়েছে ভারতপ্রেমী সরকার।
বন্দর এবং ট্রানজিট প্রদানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও
ওপারে যে গ্র্যান্ড ডিজাইনের কথা বলা হলো সেটি বাস্তবায়নেরই একটি অংশ হলো ভারতকে তাদের প্রত্যাশারও বেশী পরিমাণে বন্দর এবং ট্রানজিট প্রদান। বাংলাদেশের আজাদীপাগল মানুষ, ধর্মবিশ্বাসে যাদের ৮৮ শতাংশই হলেন মুসলমান, তারা ভারত-মার্কিন চক্রান্তের অংশ হিসেবে বন্দর ও ট্রানজিট প্রদানকে কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। তবে অপরপক্ষ অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের পেছনে রয়েছে ভারত এবং আমেরিকা। তাই তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হলে দেশপ্রেমিক শক্তিসমূহের একমাত্র ভরসা হবেন এদেশের জাগ্রত জনতা। তাই এই মুহূর্তের কর্তব্য হলো শুধুমাত্র মৌখিক প্রতিবাদ নয়, গোলটেবিল, সেমিনার ও সাংবাদিক সম্মেলন নয়। তাদেরকে নেমে আসতে হবে রাজপথে। নেতা ও জনতা এক হয়ে বুলন্দ আওয়াজ তুলতে হবে-
০ জান দেবো তবুও বন্দর দেবো না
০ জান দেবো তবুও ট্রানজিট দেবো না
০ সিকিম নয় ভূটান নয়-
এদেশ আমার বাংলাদেশ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ!
এই প্রত্যাশাই...................]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29085902 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29085902 2010-01-26 10:45:59
জয়ী আজ আমি! দিল্লীর অধিপতি যে আমায় সব দিয়েছে রাজা বললেন, শোন তাহলে আমার কথা। গতকাল রাতে তোমাকেই স্বপ্নে দেখছিলাম, তুমি আর আমি দু’জনে কোথায় যেন যাচ্ছি। কিছুদূর যাওয়ার পর দুটো গর্ত দেখতে পেলাম। তার একটি মধুর গর্ত, অন্যটা বিষ্ঠার গর্ত। আমি পড়ে গেলাম মধুর গর্তে, আর তুমি পড়ে গেলে বিষ্ঠার গর্তে। এই বলে মহারাজের কি হাসি। যেন আর থামতেই চায় না। রাজদরবারের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গও হো হো করে হেসে উঠল, গোপাল সত্যিই বিপাকে পড়ে গেল আর চিন্তিতও হলো। সে তো দমবার পাত্র নয়। হঠাৎ তার মাথায় এক নতুন বুদ্ধির উদয় হলো। গোপাল বলল, মহারাজ আশ্চর্যের কথা কি বলবো আপনাকে। আমিও গতকাল রাতে একটা স্বপ্ন দেখেছি। আমার মত মানুষ সেই স্বপ্নের কথা যে কিভাবে বলবো সাহস পাচ্ছি না। যদি অভয় দেন তাহলে বলতে পারি। মহারাজ বললেন, কোন ভয় নেই বলো। গোপাল বলল, ‘মহারাজ’ আপনি যে স্বপ্নের কথা বললেন ওইটুকুই স্বপ্নের শেষ নয় আরও কিছুটা আছে। আপনি ঐ টুকু দেখেননি আপনার নিদ্রাভঙ্গ হয়েছে। আর বাকিটুকু অর্থাৎ শেষটুকু আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। মহারাজ উৎসুক নয়নে গোপালের দিকে তাকিয়ে বললেন, হ্যাঁ হ্যাঁ বলো গোপাল তারপর তুমি কি দেখলে? গোপাল বলল, তারপরে আমাদের দু’জনের যা অবস্খা হলো তাতে ওইভাবে পথ চলা যায় না। তাই আমরা কোন জলাশয়ের সìধান করলাম। কিন্তু কোথাও কোন জলাশয়ের খোঁজ পেলাম না। শেষে আর কি করবো আমি আপনার গা চাটতে শুরু করলাম আর আপনি আমার গা চাটতে শুরু করলেন। এই কথা শুনে মহারাজের বমির উদ্রেক হলো আর মনে মনে নিজেকে বললেন যে, গোপালকে জব্দ করতে যাওয়া ঠিক হয়নি। মহারাজ মুখভার করে গোপালকে কিছু পুরস্কার দিয়ে সেদিনের মত বিদায় করলেন। আমাদের দেশের শাসন ব্যবস্খায় মহারাজার জায়গায় যদি ধরি প্রধানমন্ত্রী আর গোপাল ভাঁড়ের জায়গায় যদি ধরা যায় বিরোধী দলকে তবে কি ঐ গোপাল ভাঁড়ের মতো করে বলা যাবে যে, প্রধানমন্ত্রীর গায়ের মধু চেটে বিরোধী দল পরিষ্কার করছে আর বিরোধী দলের গায়ের বিষ্ঠা চেটে পরিষ্কার করছে প্রধানমন্ত্রী। এটা যে প্রধানমন্ত্রীকে বলবে তার তো দফা রফা হয়ে যাবে। এখানে বুঝানো হয়েছে যে, সরকারেরও যেমন কথা বলার অধিকার তেমনি গোপাল ভাঁড়ের মত একজন সাধারণ নাগরিকেরও কথা বলার অধিকার আছে। দু’জনারই সমান অধিকার কিন্তু আমরা বাস্তবে তাকি দেখছি? বিশিষ্ট কলামিস্ট ফরহাদ মজহার সাহেবের একটি লিখা থেকে এখানে উল্লেখ করবো, তা পড়লেই পাঠকদের বুঝতে সুবিধা হবে (ক’দিন আগের খবর)। বিচারপতি নজরুল ইসলাম সাহেব মানবাধিকার সংস্খা ‘অধিকার’ আয়োজিত গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক সহিংসতা : রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শীর্ষক এক সভায় আইন প্রণয়ন ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের সতর্কতা প্রয়োজনীয়তা, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের নিন্দা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আরো যেসব বক্তব্য তুলে ধরেছেন তাতে তিনি বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকের মন যেমন জয় করবেন ঠিক একই সঙ্গে সারা দুনিয়ার মানবাধিকার কর্মীরাও তার সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার প্রশংসা করতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেছেন (নজরুল ইসলাম সাহেব), সরকারের মৌলিক দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের সকল অধিকার রক্ষা করা। কিন্তু সব সরকারই সেই মৌলিক দায়িত্বগুলো পালন থেকে দূরে থাকে। দ্বিতীয় তিনি বলেছেন, সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা না থাকায় সরকার তার সমালোচকদের উপর নির্যাতন করে। তৃতীয় যে বিষয়ে তিনি যে কথা বলেছেন সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘রিমান্ড’। জিজ্ঞাসাবাদের নামে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ ধারা সংশোধন করা প্রয়োজন। কারণ এই ধারার অধীনেই নির্যাতন করা হয়। একজন বিচারকের কাছ থেকে এই নির্দেশনা পাওয়া মানবাধিকার কর্মীদের জন্য সুখবর। চতুর্থ যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন সেটা হলো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেছেন, বিচার ব্যবস্খা থাকা সত্ত্বেও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হত্যা করার দায়িত্ব দেয়া আত্মঘাতী ছাড়া আর কিছুই না। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বìধ করতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরো যে কথা বলেছেন তা হলো, আইনের কপিগুলো কেরানীরা ড্রাফট করে সংসদ সদস্যদের হাতে দেন, আর সংসদ সদস্যরা তা পড়েও দেখেন না। সংসদে হাততালি দিয়ে পাস করিয়ে নেন। কিন্তু গণমাধ্যমগুলো তার বক্তব্যের আসল কথা বাদ দিয়ে মাঝখান থেকে ফলাও করে ছেপেছে, ‘কেরানীরা আইন তৈরি করেন আর মূর্খ সংসদ সদস্যরা হাততালি দিয়ে পাস করিয়ে দেন। আইনমন্ত্রী ক্ষেপে গিয়েছেন, এই বক্তব্য নাকি সংসদ সদস্যদের অবমাননা করা। আইন প্রতিমন্ত্রীর আরো অভিযোগ হাইকোর্টে কর্মরত একজন বিচারপতি হয়ে বিচারপতি নজরুল ইসলাম সীমা লংঘন করেছেন এবং সরকারি আচরণ বিধি লংঘন করেছেন। তার বক্তব্য কিছুতেই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অবকাশ নেই। একজন হাইকোর্টের বিচারপতির প্রতি আইনমন্ত্রীর কি দু:সাহসিক কথা! একজন আইনের বড় মাপের মানুষের প্রতি সামান্য একজন আইন প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের কথা কি মানায়? আবার সেই রাজা এবং গোপাল ভাঁড়ের কথা এসে গেল যে, রাজার বা প্রধানমন্ত্রীর দলের লোক হওয়ার ফলে যে কোন মানুষের তীর্যকবান নিক্ষেপ করবেন আর নিজেদেরকে ফেরেশতাতুল্য মনে করবেন। এ ব্যবস্খা কিছুদিন চলতে পারে। এরপর গোপাল ভাঁড়ের মত লোকের পাল্লায় পড়া হতে পারে। মনে রাখবেন এক মাঘে শীত যায় না। আরো বলি এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে। আর বিচারপতিদেরকে এর আগেও অপমান করা হয়েছে বিচারকের দরজায় লাথি মারা হয়েছে। ঝাড়ু মিছিল হয়েছে। এই কিছুদিন হলো বিচারকরা সরকারি দলের লোকদের অত্যাচারের প্রতিবাদে বলেছেন, আপনারা হাইকোর্ট বìধ করে দেন আমাদেরকে রিমাণ্ডে নেন। আর বলার বাকি রইল কি? গোপালের মহারাজারা আজীবন মহারাজাই থেকে যাবেন বলে আশা করছেন। তাই তো সবাইকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম সত্য কথা বললেন কেন, তাই আইন প্রতিমন্ত্রীর আঁতে-ঘা লেগেছে। হার-জিতের খেলা থাকবেই- যদি বার বার আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় যায় তবে সেটা খেলা হবে না এতে মজাও নেই। কারণ এটা স্বাভাবিকতা নয়। কিন্তু আমাদের সরকারি দলের লোকদের কোন হুঁশজ্ঞান আছে বলে মনে হয় না। যদি হুঁশজ্ঞান থাকতো তাহলে আইন প্রতিমন্ত্রী কি করে বলেন যে, আমরা যে আইন তৈরি করে দিই সে আইন ব্যাখ্যা করে তিনি জীবিকা নির্বাহী করেন। বাহ! কি সুন্দর কথা। মনে হয় দেশটা সরকারি দলের একার আর সবাই তাদের চাকর। সবকিছুই আমাদের আমাদের আর খাই খাই ভাব সরকারি দলের লেগেই আছে। ইহা মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। তাইতো হেরাক্লিটাস বলেছেন, মানুষ যা চায় সব কিছু পাওয়া তাদের পক্ষে অনুচিত। সরকারি দলের লোকেরা সবাই মহারাজা রাজাধিরাজ- দখলবাজি থেকে শুরু করে আইন আদালত পর্যন্ত দখল করে বসে আছেন। তার প্রমাণগুলো বিভিন্ন টিভি চ্যানেল খুললেই দেখা যায়। সরকারি দলের চিৎকারের চোটে বিরোধীদলের কথা আর শোনা যায় না। সরকারি দলের ব্যক্তিবর্গ বোঝাতে চায় আমরা ক্ষমতায় আছি, আমরা আওয়ামী লীগ করি, আমরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা- কাজেই আমাদের সব কাজ ঠিক, সব কথা ঠিক। বিরোধী দল মানেই তাদের সব ভুল সব বেঠিক তারা আর কখনো ক্ষমতায় আসবে না আমরা সারাজীবন ক্ষমতায় থাকবো। সম্প্রতি মহিউদ্দিন খান আলমগীর এবং বিএনপির ড. মইন খানকে টকশোতে বলতে শুনলাম যে, বিরোধী দল এক বছর সরকারের পার হলেও আন্দোলনে নামেনি বা একদিনও হরতাল ডাকেনি। আন্দোলনে নামার অনেক ইস্যু থাকা সত্ত্বেও মহিউদ্দিন খান আলমগীর সাহেব ক্ষেপে গিয়ে বললেন যে, হরতাল করতে পারবেন না, কারণ জনগণ আসবে না আপনার ডাকে। আন্দোলনে নামলে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবো। ড. মইন খান বলেছেন, আপনারা তো পুলিশ দিয়ে আমাদের প্রতিহত করবেন। আবার টিভি এক চ্যানেলে খবর দেখলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে যুদ্ধাপরাধী বলায় তিনি মানহানি মামলা করতে গিয়েছিলেন জজকোর্টে। জজকোর্টে মামলা তো নেয়নি উপরন্তু বলা যায় তাকে আওয়ামী আইনজীবীরা জোরপূর্বকই বের করে দিয়েছেন। যারা খবরে দেখেছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন। সকল আওয়ামী জয়বাংলা জয়বাংলা বলে চিৎকার করে মনে হলো তাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিলেন। পাঠকরা এই চিত্র দেখে কি মনে হয়েছে বলুন। আমরা কি আমাদের দেশে আছি না আওয়ামী রাজ্যে আছি। সর্বত্রই জোর যার মুল্লুক তার রাজত্ব। কিন্তু এর কি অবসান নেই? মনে হয় বিরোধীদলকে রাজপথে নামানোর জন্য সরকার ব্যস্ত হয়ে গেছে। যাতে করে আবার তাদের আন্দোলনের ফসলকে অর্থাৎ তাদের প্রিয় প্রভুকে (তৃতীয় শক্তি) সামনে আনা যায়। এই নির্বাচনের আগে প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দাদের এবং আমাদের দেশের গোয়েন্দাদের জরিপে দেখা গেছে যে, আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে কখনো ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তাই ঘটানো হয়েছিল এক/এগারোর নাটক। তারা যে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না তার ভুরি ভুরি প্রমাণ রয়ে গেছে।
যেমন- ১৯৭৫ পটপরিবর্তনের ২১ বছর সময় লেগেছে তাদের আর একবার ক্ষমতায় আসতে। আর এবারের নির্বাচনের আলোচনা না করে পাঠকদের উপরই তা ছেড়ে দিলাম। ক্ষমতার এত স্বাদ একাই ভোগ করবে এই সরকার এটা কি করে ভাবেন। গোপাল ভাঁড়ের মত মানুষরাও ক্ষমতায় একদিন যেতে পারে। আল্লাহ ইচ্ছে করলে ভিখারীকে মহারাজা বানাতে পারেন আবার মহারাজাকে পথের ভিখারি বানাতে পারেন-সেটা সময়ের ব্যাপার। আশা করি সরকারি দলের লোকেরা গোপাল ভাঁড়ের গায়ের সেই স্বপ্নের বিষ্ঠা চাটতে রাজি হবেন না। সময় থাকতে বুঝে নিলেই হয়। সম্মানি লোকদের সম্মান করলে সরকারি দলের লোকদের কি খুব বেশি ক্ষতি হবে? সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে যুদ্ধাপরাধী বললে তাহলে সরকারি দলে প্রধানমন্ত্রীর এক আত্মীয়কে যুদ্ধাপরাধী বলতে লজ্জা কেন? সঠিক জায়গায় সঠিক কথা বললে ভালো লাগার কথা সবার। সারাজীবন একই অবস্খায় কেউ থাকে না, এটা নিয়মও নয়। বাড়াবাড়ি জিনিসটা কখনো মঙ্গল বয়ে আনে না। তাই বলা যায় যে, জয়ের পাশাপাশি পরাজয়ের চিন্তাটাও সরকারি দলের মাথায় থাকা দরকার। জয়-পরাজয় পাশাপাশিই অবস্খান করে, আর গোপাল ভাঁড়দেরকেও মানুষ হিসেবে মূল্য দিতে হবে। তা না হলে মধু চাটা এবং বিষ্ঠা চাটার পরিণতি হতে পারে।অসম্ভব নয়!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29085234 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29085234 2010-01-25 08:50:18
৫ম সংশোধনী ও আমাদের সংসদ! দীর্ঘ পোষ্ট কিন্তু অতীব জরুরী ‘এখতিয়ার’ নিয়ে কথা উঠেছে হাই কোর্টের দেয়া বিশেষ একটি রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে। রায়টিতে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীকে বাতিল ঘোষণা করেছে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ। রায়টিকে কেন্দ্র করে এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও জোর আলোচনা চলছে, এটাই স্বাভাবিক। কারণ, যে মামলার রায় সে মামলার আবেদনে পঞ্চম সংশোধনী কোনো বিষয় ছিল না। মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল পুরনো ঢাকার মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে। এরই সূত্র ধরে ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট দেয়া রায়ে হাই কোর্টের বেঞ্চ পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল।
বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ উঠেছে প্রথম থেকে। অভিযোগ ওঠার একটি প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বিচারপতি খায়রুল হক ও বিচারপতি ফজলে কবির আসলে নিজেদের এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করে রায়টি দিয়েছেন। এটা অনেকটা জুতা সেলাই করতে গিয়ে চন্ডি পাঠ করার মতো ব্যাপার। এ যেন আগরতলা যাওয়ার নামে খাটের তলায় চলে যাওয়া! কারণ, লক্ষ্য করলে যে কেউ বুঝতে পারবেন, মুন সিনেমা হলের মালিকানা সংক্রান্ত মামলার রায় দিতে গিয়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করার সুযোগ থাকতে পারে না। অমন একটি মামলার রায়ে পঞ্চম সংশোধনীর মতো রাষ্ট্রীয় বা সংবিধানের এমন কোনো বিষয়কেও টেনে আনা সমীচীন নয়, যার সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদ জড়িত রয়েছে। কারণ, সংশোধনীসহ সংবিধান সংক্রান্ত সকল বিষয়ে এখতিয়ারও কেবল জাতীয় সংসদেরই। অন্যদিকে বিচারপতি খায়রুল হক ও বিচারপতি ফজলে কবির অযাচিতভাবে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম ধরে টান মেরেছেন, পঞ্চম সংশোধনীকে বাতিল ঘোষণা করেছেন।
উল্লেখ্য, ওই রায়ের বিরুদ্ধে চারদলীয় জোট সরকার আপিল করেছিল। সে কারণে রায়টি এতদিন স্খগিত ছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার সে আপিল প্রত্যাহার করে নেয়ায় স্খগিতাদেশ বাতিল হয়েছে। রায়টি আবার বহাল হয়েছে। বাতিল হয়ে যাওয়ার পর্যায়ে এসেছে পঞ্চম সংশোধনী। এমন অবস্খায় বিএনপি’র মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও তিনজন আইনজীবী লিভ টু আপিলের পক্ষভুক্ত হয়েছেন। ১৮ জানুয়ারি থেকে লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। ছয়জন মাননীয় বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি তাফাজ্জল ইসলাম। অন্য বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম, বিচারপতি মো. আবদুল মতিন, বিচারপতি বিজন কুমার দাস, বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন এবং বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সর্বোচ্চ আদালত যদি পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায় বহাল রাখে এবং রায়টি যদি কার্যকরী হয় তাহলে দেশের আইন ও সংবিধানের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক অনেক পরিবর্তন ঘটতে থাকবে।
সম্ভাব্য সে পরিবর্তন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে খোলামেলাভাবেই জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। গত ৪ জানুয়ারি তিনি বলেছেন, রায়টি কার্যকরী হলে সংবিধানের ১২ ও ৩৮ অনুচ্ছেদ পুনরুজ্জীবিত হবে এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল বাতিল হয়ে যাবে। আইনমন্ত্রী অবশ্য জনগণকে আশ্বস্তও করতে চেয়েছেন। সান্তবনা দেয়ার ঢঙে তিনি বলেছেন, ১২ ও ৩৮ অনুচ্ছেদ পুনরুজ্জীবিত হলেও সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ থাকবে। আইনমন্ত্রী রাষ্ট্রধর্মের ব্যাপারেও আশ্বাস দিয়েছেন। বলেছেন, ১৯৭২-এর সংবিধানে ফিরে গেলেও ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বহাল থাকবে। মন্ত্রী আরো কিছু কথাও বলেছেন। এসব কথায় পরিষ্কার হয়েছে, হাই কোর্ট বেঞ্চের দেয়া রায়কে অজুহাত ও অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করে সরকার সংবিধানে ব্যাপক সংশোধনী আনার চেষ্টা চালাবে। অন্যদিকে তথ্যাভিজ্ঞ মহল কিন্তু যুক্তিসঙ্গত বিভিন্ন কারণেই মনে করেন, হাই কোর্টের রায় অনুসারে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ বহাল থাকার কথা নয়। সরকার সুকৌশলে রাষ্ট্রধর্ম সংক্রান্ত বিধানও বাতিল করে দেবে। একই সঙ্গে ধর্মভিত্তিক দলই শুধু বাতিল হবে না, আইন ও সংবিধানে এমন আরো অনেক পরিবর্তন সরকার করবে যেগুলো জনগণের মতামত ও স্বার্থের পরিপন্থী।
এ ধরনের সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতেই জনমনে প্রবল সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ গভীর আগ্রহের সঙ্গে লিভ টু আপিলের শুনানির দিকে লক্ষ্য রাখছে। এর মধ্য দিয়েও এখতিয়ারের দিকটিই প্রাধান্যে আসতে শুরু করেছে। উদাহরণ দেয়ার জন্য এখানে বিএনপির মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের আইনজীবী টি এইচ খানের কিছু যুক্তি ও বক্তব্যের উল্লেখ করা দরকার। তাকে বেছে নেয়ার বিশেষ কারণ হলো, তিনি একজন সাবেক বিচারপতি। সুতরাং বিচারপতিদের এখতিয়ার সম্পর্কে তার ভালোভাবেই অবহিত থাকার কথা। গত ১৯ জানুয়ারি পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানিতে রায়দানকারী বিচারপতি সম্পর্কে সাবেক এই বিচারপতি বলেছেন, তিনি তো চাঁদে হাত দিয়েছেন। চাঁদে হাত দেয়ার এই এখতিয়ার তাকে কে দিয়েছে?
টি এইচ খান তার মূলকথায় বলেছেন, পঞ্চম সংশোধনী দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদে পাস হয়েছিল। সেটা বাতিল বা সংশোধন করার এখতিয়ারও একমাত্র সংসদেরই, কোনো বিচারপতির নয়। এটা একটি ‘অ্যাক্ট অব পার্লামেন্ট’, সুতরাং সংশোধনীটি বাতিল করতে হলেও আরেকটি ‘অ্যাক্ট অব পার্লামেন্ট’ই লাগবে। টি এইচ খান আরো বলেছেন, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ হাই কোর্ট বিভাগকে কিছু ক্ষমতা দিয়েছে সত্য কিন্তু তাই বলে সংসদে পাস হওয়া কোনো সংশোধনী বাতিলের ক্ষমতা দেয়নি। এই পর্যায়ে আদালত বলেছেন, পঞ্চম সংশোধনী পাস হওয়ার পর থেকে এর আওতায় যতো কাজ হয়েছে সেগুলোকে আলোচ্য রায়ে ‘মার্জনা’ করা হয়েছে। জবাবে টি এইচ খান বলেছেন, ‘মার্জনা’ করার এখতিয়ারই বা তাকে কে দিয়েছে? যেখানে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংবিধানের সংশোধনী আনতে হয় সেখানে ‘মার্জনা’ করার ক্ষমতা ও এখতিয়ার একজন বিচারপতির থাকতে পারে না।
সাবেক বিচারপতি টি এইচ খানের যুক্তি ও বক্তব্যের আলোকে পর্যালোচনায় দেখা যাবে, পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করার পাশাপাশি বিশেষ চিন্তাচালিত হয়ে কিছু কিছু বিষয়ে ‘মার্জনা’ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বাতিল করতে হলে সবই বাতিল করা উচিত। তাছাড়া প্রধান বিষয় হলো এখতিয়ার। সংবিধান এই এখতিয়ার শুধু জাতীয় সংসদকেই দিয়েছে। সংবিধান কিভাবে সংশোধন করতে হবে সে কথাও সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা আছে। প্রয়োজন পড়লে কোনো বিচারপতি বড়জোর এর ব্যাখ্যা দিতে পারেন, কিন্তু নিজেই পঞ্চম সংশোধনীর মতো কোনো ‘অ্যাক্ট অব পার্লামেন্ট’কে বাতিল করতে পারেন না। এ সম্পর্কিত উদাহরণের সংখ্যাও কম নয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি এফ কে এম এন মুনীম, বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেন এবং বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী সামরিক ফরমানের বৈধতা দিয়ে গেছেন। তারা সামরিক শাসনকে বাতিল না করে অনুমোদন দিয়েছেন। অন্য একটি বিষয়ও উল্লেখযোগ্য। সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালত হিসেবে হাই কোর্টের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা নেয়া বাধ্যতামূলক। ফলে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেয়ার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার এবং পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করার এখতিয়ার হাই কোর্টের কোনো বিচারপতির থাকতে পারে না।
অন্যদিকে বিশেষ এ রায়টিকে কেন্দ্র করেই আওয়ামী লীগ সরকার তৎপর হয়ে উঠেছে। সরকার পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ও সংবিধান সংশোধন করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে। সরকার দেশকে আবারও ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। অজুহাত হিসেবে সরকার হাই কোর্টের ওই রায়টিকে টেনে এনেছে। জনগণের মধ্যে উদ্বেগও ছড়িয়ে পড়েছে একই কারণে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনরুজ্জীবিত করা হলে মৌলিক অনেক বিষয়েই পরিবর্তন ঘটবে। এখানে উদাহরণ হিসেবে কিছু বিষয়ের উল্লেখ করা যায়। যেমন
(১) ১৯৭২ সালের সংবিধানে প্রস্তাবনার প্রথম অনুচ্ছেদে স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলা হয়েছিল, ‘জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে’ স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি। অন্যদিকে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের মাধ্যমে’ স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি।
(২) ১৯৭২ সালের সংবিধানে প্রস্তাবনার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে সংবিধানের মূলনীতি ও আদর্শ হিসেবে ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার’ কথা বলা হয়েছিল। অন্যদিকে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বলা হয়েছে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্খা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র অর্থাৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচারের আদর্শই হইবে সংবিধানের মূলনীতি’।
(৩) ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের জন্য (ক) সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা, (খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদাদান, (গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার, (ঘ) কোন বিশেষ ধর্মপালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তার উপর নিপীড়ন বিলোপ করা হবে। অন্যদিকে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদকেই সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
(৪) ১৯৭২ সালের সংবিধানে ৩৮ অনুচ্ছেদে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী কোনো সাম্প্রদায়িক সমিতি বা সংঘ কিংবা ধর্মীয় নামযুক্ত বা ধর্মভিত্তিক কোনো সমিতি বা সংঘ গঠন করার কিংবা তার সদস্য হওয়ার বা অন্য কোনো প্রকারে এ বিষয়ে তৎপরতা চালানোর অধিকার’ কোনো নাগরিকের থাকবে না। অন্যদিকে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনশৃংখলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধেসাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার’ প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।
এ ধরনের আরো অনেক মৌলিক বিষয় রয়েছে, রায়টি কার্যকরী হলে সংবিধানে যেগুলো পুনর্বহাল ও সংযুক্ত করা হবে। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পঞ্চম সংশোধনী বাতিল এবং ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কিছু ‘স্পর্শকাতর’ বিষয় ছাড়া বর্তমান সংবিধানকে সম্পূর্ণরূপে ১৯৭২-এর অবস্খানে ফিরিয়ে নেয়া হবে। এখন বোঝা যাচ্ছে, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ ও রাষ্ট্রধর্ম প্রধানমন্ত্রী বর্ণিত ‘স্পর্শকাতর’ বিষয়গুলোর মধ্যে প্রধান। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি অন্য মন্ত্রী ও নেতারাও বিভিন্ন সময়ে সরকারের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করেছেন। তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন, ঠিক কোন কোন বিষয়ে সংশোধনী আনা হবে সে সবও ঠিক করে রাখা হয়েছে। যেমন সর্বশেষ উপলক্ষে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ১৯৭২-এর সংবিধানে ফিরে গেলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ থাকবে না এবং ধর্মনিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্খাসহ রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি ফিরিয়ে আনা হবে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার আড়ালে সরকার আসলে ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বার্থ বিরোধী অবস্খানকেই সংহত করতে চাচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চয়ই কথা বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইসলামী দল ও সংগঠনগুলোর বলিষ্ঠ ভূমিকায় ভারতসহ আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যথেচ্ছভাবে ইচ্ছপূরণ করতে পারছে না। এজন্যই ১/১১-এর মাধ্যমে ক্ষমতা দখল এবং ‘রোডম্যাপ’ বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো হয়েছিল যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দেশপ্রেমিক ও ইসলামী দলগুলোকে উৎখাত করা। কিন্তু হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও একথা প্রমাণ করা যায়নি যে, বাংলাদেশের কোনো ইসলামী দল বা সংগঠন তথাকথিত সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে। একথাই বরং প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, প্রায় ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ হওয়া সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের সংবিধানে ইসলামী দল ও সংগঠনকে তৎপরতা চালানোর সুযোগ না দেয়ার সিদ্ধান্তই ছিল অগণতান্ত্রিক। এর মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে প্রথম আওয়ামী লীগ সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছিল।
অন্যদিকে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ইচ্ছা ও আশা-আকাংক্ষা পূরণের উদ্দেশ্য থেকেই পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ যুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদও একই কারণে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই মুহূর্তে ক্ষমতাসীনরা যে ‘বিসমিল্লাহ’ থাকবে বলে আশ্বাস দিচ্ছেন, তার পেছনেও রয়েছে একই কারণ। সেটা ৯০ ভাগ নাগরিক মুসলমানদের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখানো।
দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে এমন কিছু বিষয়, যেগুলোর মীমাংসা না করে সংবিধান সংশোধন করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যেতে চাইলে আওয়ামী লীগ সরকারকে প্রথমেই ঘোষণা দিয়ে স্বীকার করতে হবে, তাদের প্রাণপুরুষ মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান অনেক ক্ষেত্রেই ভুল ও অন্যায় করেছিলেন। জনগণকে একথাও জানাতে হবে যে, ১৯৭২ সালের সংবিধানও ‘অক্ষত’ ছিল না। বরং মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সংবিধানকে চার-চারবার ‘কাটাছেঁড়া’ করা হয়েছিল এবং ‘কাটাছেঁড়া’র কাজটুকু করেছিলেন স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রবর্তন করেছিলেন এবং এই আইনের যথেচ্ছ প্রয়োগ করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মিদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিলেন। এর পর পর তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব ভারতের হাতে বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বেরুবাড়ি তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু আদায় করতে পারেননি তিনবিঘা করিডোর। পাশাপাশি রয়েছে চতুর্থ সংশোধনী যার মাধ্যমে দেশে বাকশালের একদলীয় শাসন চাপানো হয়েছিল। সংসদীয় পদ্ধতির স্খলে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছিল। সমগ্র এই প্রক্রিয়া ও কর্মকান্ডের একমাত্র উদ্যোক্তা, নির্দেশদাতা, নিয়ন্ত্রক ও লাভবান ব্যক্তি ছিলেন শেখ মুজিব। সর্বময় ক্ষমতাও তার হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। ১৯৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে চাইলে মাঝখানে প্রবর্তিত বাকশাল ব্যবস্খা সম্পর্কে সরকারকে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। স্বীকার করতে হবে, শেখ মুজিব বহুদলীয় গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন। সরকারকে সেই সাথে বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল করতে হবে এবং ভারতের দখল থেকে বেরুবাড়ি ফেরৎ আনতে হবে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে, নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ ও উদ্দেশ্যকে প্রাধান্য দিয়ে তারা সংবিধানের ‘এখানে কিছু, ওখানে কিছু’ পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন। সব মিলিয়ে দেশপ্রেমিক ইসলামী শক্তিকে উৎখাত করাই তাদের লক্ষ্য। সচেতন সচেতন মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ার আসল কারণও সেটাই।
বর্তমান পর্যায়ে সংশয়ের কারণ তৈরি হয়েছে আপিল বিভাগের ব্যতিব্যস্ততা থেকে। দেখা যাচ্ছে, লিভ টু আপিল দায়েরকারীদের কোনো আবেদনই তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। যেমন নিজের অসুস্খতার কথা জানিয়ে আট সপ্তাহের সময় চেয়েছিলেন সাবেক বিচারপতি টি এইচ খান। কিন্তু আপিল বিভাগ একদিনের জন্যও সময় বাড়াতে রাজি হননি। ফলে পরদিন, ১৯ জানুয়ারি থেকেই শুনানি শুরু করতে হয়েছে। এ কার্যক্রমেও বাধার পর বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। টি এইচ খানের মতো একজন প্রবীণ আইনজীবীকেও তার পরিকল্পনা ও কৌশল অনুসারে রায়ের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরার সুযোগ দেয়া হয়নি। নির্দেশ এসেছে সংক্ষুব্ধ হওয়ার ‘সুনির্দিষ্ট কারণ’ সম্পর্কে জানানোর। ওদিকে অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতেও ‘মিলিটারি মেজাজ’ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। তিনি এমনকি নিজের আসন ছেড়ে দাঁড়ানোর আদবটুকুও আদালতকে দেখাচ্ছেন না। কথা বলছেন বসে বসে। ফলে টি এইচ খানকে বলতে হয়েছে, আইনজীবী হিসেবে তার ৫০ বছরের দীর্ঘ জীবনে তিনি এমন আর কোনো অ্যাটর্নি জেনারেলকে দেখেননি।
এসবের মধ্য দিয়ে এ আশংকাই প্রবল হয়ে উঠছে যে, আপিল বিভাগ সম্ভবত প্রথমবারের মতো ক্ষমতাসীনদের নির্দেশনার আলোকে কোনো রায় দিতে যাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, অবসরে যাওয়ার আগে নাকি রেকর্ড সৃষ্টি করে যাওয়ারও চেষ্টা চলছে! উল্লেখ্য, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও রাজনৈতিক স্টাইলে ধমক দিয়ে কথা বলার অভিযোগ উঠেছে। প্রমাণও পাওয়া গেছে। যেমন মাত্র কিছুদিন আগে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে রিমান্ডে নেয়া প্রসঙ্গে তিনি সর্বোচ্চ আদালতে ব্যঙ্গ করে বলেছেন, ‘বাবর মারা গেলে আপনারা মামলা কইরেন!’ এভাবে প্রতিটি ঘটনাতেই মাহবুবে আলম বুঝিয়ে চলেছেন যে, মনে-প্রাণেই তিনি আসলে আওয়ামী লীগ সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল। প্রসঙ্গক্রমে আওয়ামী লীগের ইতিহাসও স্মরণ করা দরকার। সর্বোচ্চ আদালতের মাননীয় বিচারপতিদের বিরুদ্ধে রাজপথে লাঠি মিছিল করা থেকে মাননীয় প্রধান বিচারপতির অফিসের দরোজায় লাথি মারা পর্যন্ত বেআইনী নানা অপকর্মের রেকর্ড একমাত্র আওয়ামী লীগেরই রয়েছে। এবারও ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ন্যায় বিচার সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সরকারের নীতি-মনোভাবের প্রকাশ ঘটে চলেছে।
সমগ্র এ প্রেক্ষাপটেই পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের বিরুদ্ধে দায়ের করা লিভ টু আপিলের ব্যাপারে গভীর সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। রায়ে যদি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটে এবং তার মাধ্যমে যদি ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার বাস্তবায়ন হয় তাহলে দেশ ও জাতিকে তীব্র সংকটের মুখে পড়তে হবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29085105 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29085105 2010-01-24 23:54:06
দেশের মানুষের চোখকে অন্যদিকে ফেরানোর সময়মত উপর্যুপরি পন্থা প্রস্তুত করেই কাজ করছে সরকার! সব মিলিয়েই দেশে এক নিরাপত্তাহীন ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এমনকি মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারেও টু শব্দটি করার সাহস পাচ্ছে না। খুন-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের মুখেও মানুষকে মাথা নিচু করে চলতে হচ্ছে। কারণ, কথা বললেই বা প্রতিবাদ জানালেই বিপদ নেমে আসতে পারে। কখন কাকে কোন্ অভিযোগে জেলের ভাত খাওয়ানো হবে- সে কথা কারো জানা নেই। সরকার যেন ঠিক এমন পরিস্থিতির জন্যই অপেক্ষায় ছিল! পরিস্থিতির সদ্ব্যবহারও সরকার যথেচ্ছভাবেই করছে। মানুষ দুরবস্থায় পড়ায় এবং বিরোধী দল এখনো আন্দোলনের উদ্যোগ না নেয়ায় সরকার একের পর এক তার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছে। এশিয়ান হাইওয়ের আড়ালে ভারতকে করিডোর ও সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করার সুযোগ দেয়া এবং তেল ও গ্যাস সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার মতো এমন অনেক পদক্ষেপই সরকার নিয়েছে ও নিতে যাচ্ছে- যেগুলো শুধু অর্থনৈতিকভাবেই দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকেও বিপন্ন করবে।
ঘটনাপ্রবাহে বিশেষ কারণে পিলখানা হত্যাকান্ডের বিচারের প্রশ্নটি গুরুত্ব অর্জন করেছে। সরকারের সুচিন্তিত সিদ্ধান্তে বিডিআর সৈনিকরা এখনো সীমান্তে প্রায় নিরস্ত্র অবস্থায় রয়েছে। ফলে হঠাৎ আক্রান্ত হলে বিডিআরের পক্ষে দেশের সীমান্ত রক্ষা করা সম্ভব হবে না। এমন অবস্থার কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। পিলখানা হত্যাকান্ডে বিক্ষুব্ধ জাতি যখন ঘাতকদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল, সরকার তখন বিডিআরের বিলুপ্তি ঘটিয়ে ভারতের সাহায্যে নতুন একটি বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। সে লক্ষ্যে কাজেও নেমে পড়েছিল সরকার। আয়োজন পাকাপাকি করতে দিল্লী সফরে গেছেন বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মইনুল ইসলাম। তার মধ্যেও বিডিআরের বিলুপ্তি ঘটানোর ব্যাপারে বিপুল উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। ‘রক্তের দাগ লেগে রয়েছে'- এমন এক বিচিত্র অজুহাত দেখিয়ে তিনি বিডিআরের পোশাক পরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত গোপনে গোপনে নতুন পোশাক পরে ছেড়েছেন। অথচ হত্যাকান্ডের রহস্য এখন পর্যন্তও সম্পূর্ণরূপে উদঘাটিত হয়নি। এখনো নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে- সব কিছুর পেছনে ভারতের কালো হাত এবং এদেশেরই একটি গোষ্ঠীর সহযোগিতা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এজন্যই ষড়যন্ত্র উদঘাটন করার এবং অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার আগে পুরো বিডিআরকে দায়ী করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ঘটনাপ্রবাহেও প্রমাণিত হয়েছে, পিলখানা হত্যাকান্ডের জন্য বাহিনী হিসেবে সম্পূর্ণ বিডিআরকে দায়ী করার সুযোগ নেই। কারণ, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে সুচিন্তিতভাবে পিলখানা হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। হত্যাকান্ড শুরু হওয়ার পর মুহূর্ত থেকে ভারতীয় প্রচার মাধ্যমের বাড়াবাড়ি এবং শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে ‘সাহায্য' করার জন্য ভারতের সামরিক প্রস্তুতির মতো বিষয়গুলোতেও পরিষ্কার হয়েছে, হত্যাকান্ডের সঙ্গে ভারতের বিশেষ সম্পর্ক ছিল। এর পর পরই হঠাৎ বিডিআরের বিলুপ্তি ঘটানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
প্রথম থেকেই দেখা গেছে, সরকার একদিকে পিলখানা হত্যাকান্ডের খুনি-ঘাতকদের গ্রেফতার করার এবং শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করে এসেছে, অন্যদিকে বেশি তৎপরতা চালিয়েছে বিডিআরকে বিলুপ্ত করার ব্যাপারে। কিন্তু দেশপ্রেমিকদের প্রতিবাদের মুখে সরকারকে সময়ে সময়ে লোক দেখানো পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। এরকম একটি পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছু কথা জানা গেছে গত কয়েকদিনে। যেমন- ২১ অক্টোবর আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ জানিয়েছেন, নবেম্বরে পিলখানা হত্যাকান্ডের- সরকারের ভাষায় ‘বিডিআর বিদ্রোহের' বিচার শুরু হবে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার জওয়ানের বিচার করার জন্য ঢাকায় চারটিসহ ছয়টি পৃথক আদালত বসবে। এছাড়া হত্যা-লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগসহ অন্যান্য অপরাধে জড়িতদের বিচারের জন্য বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত বা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। ‘বিডিআর বিদ্রোহের' সঙ্গে জড়িতদের বিচার হবে বিডিআর আইনে। এজন্য আদালত হবে বিডিআরের ডিজি'র নেতৃত্বে। তাকে সহযোগিতা করার জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হবে। এটাই বিডিআরের আইন। বিদ্রোহের অভিযোগে যে আদালতে বিচার হবে সে আদালতের নাম ‘বিডিআর আইনে গঠিত বিশেষ আদালত'। এর বিচারকও নিযুক্তি দেবেন বিডিআরের ডিজি। সরকার ‘আইনের শাসনে বিশ্বাসী' বলেই ডিজি'র নেতৃত্বে গঠিত আদালতে বিচার করা হবে। এতে নাকি নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে ১৫ জন প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এর বাইরেও ১০ জন আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়া হবে। অন্য একটি বিস্ময়কর কথাও শুনিয়েছেন আইনমন্ত্রী। যে আদালতে ‘বিডিআর বিদ্রোহের' বিচার হবে সে আদালতে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রতিদিনকার বিচার কাজ সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করা হবে আদালতের বাইরে। আইনমন্ত্রী আরো জানিয়েছেন, অক্টোবরের মধ্যেই সিআইডির তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া যাবে। সে অনুযায়ী চার্জশিট পেশ করা হবে। চার্জশিট পেশ করার পরই অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার কাজ শুরু হবে। বিডিআরের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। এ তদন্তও অক্টোবরেই শেষ হয়ে যাবে।
বিচার শুরু হওয়ার এই খবরে দেশপ্রেমিকরা কিন্তু উৎসাহিত হতে পারেননি। কারণ সরকারের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ ও জটিলতা সৃষ্টি করার মাধ্যমে পিলখানা হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার এবং ক্ষেত্রবিশেষে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সরকারের প্রভাবে সুষ্ঠু তদন্ত যেমন হতে পারেনি তেমনি প্রকৃত অপরাধীদের জন্যও পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এমন অভিযোগ ওঠার কারণ হলো, পিলখানায় সেনা অফিসারদের হত্যাকান্ডের ব্যাপারে প্রথম থেকেই সরকারকে দ্বিধান্বিত ও কম আগ্রহী দেখা গেছে। সরকার ধীরে এগোনোর কৌশল নিয়েছে এবং সে কৌশলের অংশ হিসেবে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতিটি তদন্ত কমিটির জন্যই আবার কঠিন টার্মস অব রেফারেন্স জুড়ে দিয়েছে সরকার। তাদের এখতিয়ার ও ক্ষমতাই শুধু সীমিত করে দেয়া হয়নি, গোপনে এমন আয়োজনও করা হয়েছে, যাতে কোনো কমিটিই স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে এবং প্রয়োজনীয় সকলের সহযোগিতা না পায়। এসব জানা গেছে তদন্ত কমিটিগুলোর বক্তব্যে। যেমন ২৭ মে প্রকাশিত রিপোর্টে সরকারি তদন্ত কমিটি পরিষ্কার ভাষায় বলেছে, হত্যাকান্ড সম্পর্কে ‘আরো তদন্ত হওয়া দরকার'। এর মধ্য দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা নিজেদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন। বোঝা গেছে, তদন্ত বলতে যা বোঝায় তার কিছুই কমিটিকে করতে দেয়া হয়নি। তদন্ত কমিটি এনএসআই, ডিজিএফআই, র্যা ব, সিআইডি ও এসবিসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পায়নি। কমিটিকে টিএফআই সেলের ইন্টেরোগেশন রিপোর্টও দেখতে দেয়া হয়নি। এজন্যই বাধ্য হয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা রিপোর্টে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, ‘আরো তদন্ত হওয়া দরকার'।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটিও গাইডলাইন এবং কঠিন টার্মস অব রেফারেন্সের কারণে বিস্তারিতভাবে তদন্ত করতে পারেনি। কমিটির রিপোর্টও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তদন্তকালে অনেক গোপন তথ্য বেরিয়ে এলেও এবং ক্ষমতাসীন দলের বিশেষ কয়েকজন নেতার জড়িত থাকার ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে পারলেও এখতিয়ার না থাকায় রিপোর্টে সে সবের উল্লেখ করা হয়নি। কারো ব্যাপারে কমিটি কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারেনি। সেনা তদন্ত রিপোর্টে অবশ্য এটুকু বলা হয়েছে, ওই হত্যাকান্ডের পেছনে ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। বিডিআর সদস্যরা বিশেষ কিছু রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে এসেছে। সে সব নেতার নাম এবং তাদের সঙ্গে বিডিআর সদস্যরা কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে- সবই জানতে পেরেছে সেনা তদন্ত কমিটি। আওয়ামী লীগের একজন এমপির সঙ্গে ঘাতকদের বৈঠকের প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। সেনা তদন্ত কমিটি জানতে পেরেছে, ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা ছিল ঘটনায় সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে ফেলা। সেনাবাহিনী জড়িয়ে পড়লে দেশে বিশৃংখলার সৃষ্টি হতো এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ত। এতে সেনাবাহিনী দুর্বল হয়ে যেত। রিপোর্টে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের নামে যে দীর্ঘ সময় নেয়া হয়েছে ঘাতকরা তারই সদ্ব্যবহার করেছিল।
সরকারি তদন্ত কমিটির রিপোর্টেও একই ধরনের বিশ্লেষণ রয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পড়লে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, পেছনে ছিল সুচিন্তিত পরিকল্পনা। রিপোর্টের কিছু তথ্য ও দু'চারজনের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে। যেমন ৩৯ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের মো. আশরাফুল আলম ও মো. আলমগীর শেখ জানিয়েছে, নির্বাচনের কয়েকদিন পর থেকেই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে তাদের বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে। গুলশানের একটি বাসভবনেও বৈঠকের উল্লেখ করেছে তারা। ডিএডি হাবিব তার অডিও স্বীকারোক্তিতে বলেছে, ব্যারিস্টার তাপস এবং শেখ সেলিম এমপির সঙ্গেও তারা বৈঠক করেছে। সরকারি তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রী নানক এবং এমপি তাপসের সঙ্গে ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘বিদ্রোহীদের' বৈঠক হয়েছে। সে বৈঠকেই সেনা অফিসারদের হত্যাকান্ডের চূড়ান্ত পরিকল্পনা ‘অনুমোদন' করা হয়েছিল। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতেও ব্যারিস্টার তাপস পিলখানায় প্রবেশ করেছিলেন। তদন্ত রিপোর্টের ভাষায় তার উদ্দেশ্য ছিল ‘মপিং আপ' অর্থাৎ সব কাজ শেষ করার নির্দেশ দেয়া ও আয়োজন নিশ্চিত করা। তিনি দ্রুত সব কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেও তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২৬ তারিখে এই এমপি তাপসই তিন কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা খালি করার ঘোষণা প্রচার করিয়ে জনমনে আতংক ছড়িয়েছিলেন। প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ঘাতকদের পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। সরকারি তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, পিলখানা গেইটের অদূরে পুলিশ ও র্যা ব অবস্থান নিলেও বিডিআর সদর দফতরের চারদিকের দেয়াল ছিল অরক্ষিত। ফলে ঘাতকরা নির্বিঘ্নে দেয়াল টপকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সন্ধ্যায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছিল। এতে লুটের মালামালসহ বেরিয়ে যেতেও ঘাতকদের পক্ষে সুবিধা হয়েছে।
রাজনৈতিক সমাধানের নামে সময় ক্ষেপণেও বিস্মিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। কমিটির মতে, কম করে হলেও ২৯ ঘণ্টা সময় পেয়েছিল ঘাতকরা। এ সময়ের মধ্যে তারা ধীরে সুস্থেই হত্যাকান্ড ঘটানোর, লাশ গুম করার, নির্যাতন ও লুটতরাজ করার এবং সবশেষে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। খুবই বিস্ময়কর হচ্ছে, সমঝোতা আলোচনার জন্য ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনায় যে ১৪ জন ঘাতক গিয়েছিল তাদের কারো নামই কোথাও পাওয়া যায়নি। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে রেজিস্টারে নাম লেখানো এবং সাক্ষাৎকারীর স্বাক্ষর নেয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু হত্যাকান্ডের দিন ১৪ জন বিডিআর সদস্য গেলেও তাদের কারো নামই বাসভবনের রেজিস্টারে পাওয়া যায়নি। বাসভবনের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাতেও তাদের কারো ছবি পাননি তদন্ত কর্মকর্তারা। এমনটা শুধু তখনই সম্ভব যখন পেছনে সুনির্দিষ্ট আয়োজন থাকে এবং সে আয়োজনের ভিত্তিতে ছবিগুলো মুছে ফেলা হয়। সরকারি তদন্ত কমিটির মতে বিষয়টি ‘খুবই রহস্যজনক'।
তদন্ত কমিটির দৃষ্টিতে আরো অনেক বিষয়ই রহস্যের সৃষ্টি করেছে। যেমন ডিএডি হাবিবের অডিও স্বীকারোক্তির কোনো খোঁজই পায়নি তদন্ত কমিটি। অথচ ওই স্বীকারোক্তিতে ডিএডি হাবিব জানিয়েছিল, তারা ব্যারিস্টার তাপস ও শেখ সেলিম এমপির সঙ্গে বৈঠক করেছে। ডিএডি হাবিবের সে অডিও স্বীকারোক্তি যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে! তাছাড়া হত্যাকান্ড চলার সময় এবং হত্যাকান্ডের আগে-পরে ঘাতকরা মোবাইলে যেসব কথা বলেছে সেগুলোর ভয়েস রেকর্ডও পাওয়া যায়নি। এগুলো সম্ভবত ধ্বংস করা হয়েছে। সেনা অভিযান না চালানোর সিদ্ধান্তেও বিস্মিত হয়েছে সরকারি তদন্ত কমিটি। ভৌগোলিক অবস্থান ও ঘনবসতীর যে যুক্তিকে অভিযান না চালানোর অজুহাত বানানো হয়েছে তাকে তদন্ত কমিটির কাছে ‘যুক্তিযুক্ত' মনে হয়নি। কারণ, সকাল সাড়ে নয়টায় র্যা বের প্রথম দল পৌঁছে গিয়েছিল। এরপরপর গিয়েছিল সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেডের পাঁচশ সেনা। কিন্তু ‘রাজনৈতিক সমাধানের' স্বার্থে তাদেরকে বিডিআরের ‘দৃষ্টি সীমার' বাইরে চলে যওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তদন্ত রিপোর্টের অন্য কিছু তথ্যও উল্লেখ করা দরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রিপোর্টের নির্বাচিত যে অংশটুকু প্রকাশ করেছেন তার মধ্যে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ফজলুল করিম সেলিমের নামই উল্লেখ করা হয়নি। অথচ রিপোর্টে তাদের নাম এসেছে কয়েকবার।
তদন্তের নামে এমন কিছুই যে শেষ পর্যন্ত করা হবে সে সম্পর্কে বোঝা যাচ্ছিল প্রথম থেকে। বিশেষ কোনো কারণ বা দায়বদ্ধতার কারণে সেনা অফিসারদের হত্যাকান্ডের তদন্ত ও মামলাকে মূল জায়গা থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য মন্ত্রীদের অনেককেই দৌড়-ঝাঁপ করতে দেখা গেছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত ‘খেলনেওয়ালাদের' ঘাড়ে দোষ চাপানোর মাধ্যমে তার উদ্দেশ্যের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এখানে পুলিশের সাবেক এএসপি আবদুল কাহার আকন্দকে প্রধান করে সিআইডির নামে তৃতীয় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও উল্লেখ করা দরকার। আওয়ামী লীগের ‘লোক' হিসেবে কাহার আকন্দের প্রমাণিত পরিচিতি রয়েছে। তিনি গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। অমন একজন দলীয় লোককে অবসর থেকে ডেকে এনে সিআইডির তদন্ত কমিটির প্রধান করায় সরকারের উদ্দেশ্য এবং তদন্তের পরিণতি সম্পর্কে সংশয় বেড়েছে বহুগুণে। কিছু ঘটনায় এর প্রমাণও পাওয়া গেছে। তদন্তকালে সরকারি ও সেনা তদন্ত কমিটির মতো সিআইডিও বর্তমান ও প্রাক্তন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে। বিশেষ করে এসেছে ব্যারিস্টার তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আযম ও শেখ সেলিমের নাম। কিন্তু এসব বিষয়ে তদন্ত কমিটিকে ‘ওপরের নির্দেশনা' মেনে চলতে হয়েছে। সেই সাথে যুক্ত হয়েছে তড়িঘড়ি করে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ। শুধু তা-ই নয়, সিআইডির তদন্ত কমিটিও ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতা বা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। ফলে ধরে নেয়া হচ্ছে, চার্জশীটেও তাদের কারো নাম উল্লেখ করা হবে না। অর্থাৎ তারা ‘পার' পেয়ে যাবেন। ঘটনাপ্রবাহে এর প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। যেমন প্রায় ধামাচাপা পড়ে যাওয়া সরকারি তদন্ড কমিটির রিপোর্টে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আযম ও শেখ সেলিমসহ অনেকের নামই এসেছে। কিন্তু তাদের কাউকে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেয়া হয়নি। ৩৫ জনের বেশি বিডিআর সৈনিকের বন্দি অবস্থায় রহস্যজনক মৃত্যুর বিষয়টিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ- যাদের কাছে থেকে সত্য কথা জানার সম্ভাবনা ছিল। সব মিলিয়েই এমন ধারণা শক্তি অর্জন করেছে যে, পিলখানা হত্যাকান্ডের প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারী ও ঘাতকরা তো বটেই, তাদের পৃষ্ঠপোষকরাও বিনা বিচারে ‘পার' পেয়ে যাবে।
এমন এক অবস্থার মধ্যেই পিলখানা হত্যাকান্ডের বিচার শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ফলে সঙ্গত কারণেই জনমনে সংশয় বাড়ছে। বড় কথা, দ্রুত বেড়ে দ্রব্যমূল্য ও খুন-ডাকাতিসহ নানামুখী অপরাধের মধ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে সরকার নিজেও হঠাৎ নানা অজুহাতে গ্রেফতার ও নির্যাতন বাড়িয়ে দেয়ায় এমন আশংকাই শক্তিশালী হয়েছে যে, মূল সমস্যাগুলো থেকে জনগণের মনোযোগ ঘুরিয়ে দেয়ার কৌশল নিয়েছে সরকার। বিরোধী দলের আন্দোলনবিমুখ অবস্থানকেও কাজে লাগাচ্ছে সরকার। । সবই সরকারের ইচ্ছা ও পরিকল্পনা মতো চলবে- এমন ভাবনার পরিণতি ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29034958 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29034958 2009-10-31 00:32:45
আমাদের শিক্ষানীতি যা চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে! ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি আমাদের জন্য কি আনবে? অবশেষে আমাদের জন্য কি ধর্মহীন শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরী হচ্ছে? ওপারের দাদাদের পরামর্শে যা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে তা আমাদের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে কি? এখনই আমাদের ভাবা দরকার এবং বিবেচনা করা দরকার
পাক-ভারত উপমহাদেশে বৃটিশ শাসন পূর্বকালে যে শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল তা ছিল সে সময়ের সমাজ-রাষ্ট্র ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বৃটিশ আগমনের পর এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে তাদের প্রয়োজন অনুসারে নতুন সাজে সাজাবার তারা নানা প্রচেষ্টা চালিয়েছে। ১৭৫৭ খৃস্টাব্দ হতে ঐ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত ইংরেজগণ ভারতবাসীদের শিক্ষার জন্য আদৌ মাথা ঘামায়নি। ১৭৯২ খৃস্টাব্দে সর্বপ্রথম মিঃ অলিভার-ভারতবাসীদের শিক্ষার জন্য বৃটিশ পার্লামেন্টে এক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। অবশেষে ১৮১৩ খৃষ্টাব্দে ভারতবাসীদের শিক্ষা সম্পর্কে বিবেচনা ও সুপারিশ করার জন্য এক শিক্ষা কমিটি নিয়োজিত হয়। ১৮১৪ খৃস্টাব্দে কমিটির সুপারিশ অনুসারে ভারতবাসীদের শিক্ষার জন্য বড় লাটের নামে এক আদেশ জারি করা হয়।
১৮২৩ সালে গঠিত হয় শিক্ষা কমিটি। এই কমিটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু কলেজগুলোকে উৎসাহ দানের প্রতি লক্ষ্য রাখা। উক্ত কমিটির মাধ্যমে এদেশে যে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন হয় তা ছিল মুসলমানদের জন্য প্রতিকূল, নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় মুসলমান ছাত্রদের জন্য ধর্ম সম্পর্কীয় প্রাথমিক জ্ঞান লাভের কোন ব্যবস্থা ছিল না। তা ছিল মুসলমানদের পক্ষে একটা অসহনীয় ব্যাপার। এই শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল শুধু পার্থিব স্বার্থের উপর ভিত্তি করে রচিত। এ শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আলোচনা করতে গিয়ে একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারী লিখেছেন, ‘‘ইহাতে আশ্চর্য হইবার কি আছে যে, মুসলমানরা এরূপ শিক্ষা ব্যবস্থা হইতে দূরে থাকিবে, যাহাতে তাহাদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি আদৌ লক্ষ্য রাখা হয় নাই এবং যাহাতে তাহাদের নেহায়েত জরুরি বিষয়াবলী শিক্ষারও কোন ব্যবস্থা করা হয় নাই বরং যাহা তাহাদের স্বার্থের নিশ্চিতরূপে পরিপন্থী এবং তাহাদের জাতীয় ঐতিহ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।’’
ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীন এই শিক্ষা ব্যবস্থার অসারতা প্রসঙ্গে ইংরেজ মনীষী ড. হান্টার লিখেছেন, ‘‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় মুসলমান যুবকদের ধর্মীয় শিক্ষার কোন ব্যবস্থা নাই। আমরা এ কথার প্রতি মোটেই লক্ষ্য করি না যে, হিন্দুদের মধ্যে প্রাচীনকাল হইতেই এমন একটি শক্তিশালী পুরোহিত সম্প্রদায় চলিয়া আসিতেছে, যাহারা তাহাদের ছেলেদের শিক্ষাদান এবং ধর্মীয় কর্তব্য সম্পাদন করিয়া থাকেন। কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে এমন কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব নাই... এইরূপ শিক্ষা ব্যবস্থা যাহা শুধু প্রার্থিব স্বার্থের ভিত্তির উপরই রচিত তাহা খুব অল্প জাতিরই প্রকৃতির অনুকূলে। অনেক বিশিষ্ট চিন্তাবিদের মতে আয়ারল্যান্ডে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার অকৃতকার্যতার কারণ ইহাই।
উক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ভার সর্বতোভাবে ছিল হিন্দুদের ওপর। তারা সমগ্র শিক্ষা কোর্সকে হিন্দুধর্ম ও হিন্দু ঐতিহ্যমন্ডিত করে তোলে। ফলে তা মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণ দুর্বোধ্য ও আশঙ্কাজনক হলাহল হয়ে দাঁড়ায়।
এর পরে পুনরায় ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় শিক্ষা পরিষদ। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এই পরিষদের নিয়মাবলী ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন কমিটির সঙ্গে যুক্ত। রবীন্দ্রনাথ শিক্ষাকে কোন মনীষার বাহনরূপে নয়, ব্যক্তিত্ব ও মনুষ্যত্বের সর্বময় প্রকাশ-মাধ্যমরূপে দেখতে চেয়েছিলেন, তিনি চেয়েছিলেন শিক্ষা গভীরভাবে জীবনের সঙ্গে গ্রথিত হোক এবং তা ছড়িয়ে যাক সর্বস্তরে। লোক শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে যে এ দেশের আর্থ সামাজিক বিবিধ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব এ বিশ্বাসে তিনি ছিলেন দৃঢ়মূল।
‘‘রবীন্দ্রনাথ লক্ষ্য করেছেন, পাশ্চাত্য বিজ্ঞান এবং ভারতবর্ষ আধ্যাত্ম শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছে, যে কারণে পাশ্চাত্য অশান্ত এবং প্রাচ্য দৈন্য পীড়িত। তিনি এ উভয় শিক্ষার মিলন কামনা করেছেন। এই ঐক্যের পথে বাধা তার মতে ‘ন্যাশনালিজম'। উগ্র জাতীয়তাবোধ আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদের নামান্তর। তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে নেশন গড়ে উঠল সত্যের জোরে কিন্তু ন্যাশনালিজম সত্য নয়,... স্বাজাত্যের অহমিকা থেকে মুক্তিদান করার শিক্ষাই আজকের দিনের প্রধান শিক্ষা।
‘‘প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার পথে রবীন্দ্রনাথ দেশে প্রচলিত দুই শ্রেণীর বিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করেছিলেন। রাজকীয় বিদ্যালয় তাঁর মতে কেরানিগিরির কল, অপরদিকে সামাজিক বিদ্যালয়ের পায়ে পুরানো শিকল। এ কারণে তিনি শিক্ষক পরম্পরা এবং শিক্ষা বিষয়ক নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অবরুদ্ধ শিক্ষাস্রোতকে সচল করতে চাইলেন। উদার, অসাম্প্রদায়িক গ্রহণচারী মানসিকতা দ্বারা পরিশ্রুত তাঁর ‘জাতীয় ভাবনা' :
‘‘জাতীয় নামের দ্বারা চিহ্নিত করিয়া আমরা কোনো একটা বিশেষ শিক্ষাবিদকে উদ্ভাবিত করিয়া তুলিতে পারি না। যে শিক্ষা স্বজাতির নানা লোকের নানা চেষ্টার দ্বারা নানাভাবে চালিত হইতেছে তাহাকেই ‘জাতীয়' বলিতে পারি। স্বজাতির সামনেই হউক আর বিজাতীয়ের সামনেই হউক, ফলে কোনো একটা বিশেষ শিক্ষাবিধি সমস্ত দেশকে একটা কোনো ধ্রুব আদর্শে বাঁধিয়া ফেলিতে চায় তখন তাহাকে ‘জাতীয়' বলিতে পারিব না; তাহা সাম্প্রদায়িক; অতএব জাতির পক্ষে তাহা সাংঘাতিক।’’
রবীন্দ্রনাথ সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপের বস্তুবাদী শিক্ষার ত্রুটি আলোচনা প্রসঙ্গে আরো বলেন :
‘‘আমি জানি, ইউরোপীয় শিক্ষা ও সভ্যতার মহত্ত্ব সম্বন্ধে সুতীব্র প্রতিবাদ জাগাবার দিন আজ এসেছে। এই সভ্যতা বস্তুগত ধন-সঞ্চয়ে ও শক্তি আবিষ্কারে অদ্ভুত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু সমগ্র মনুষত্বের মহিমা তোতার বাহ্যরূপ এবং বাহ্য উপকরণ নিয়ে নয়। হিংস্রতা, লুব্ধতা, রাষ্ট্রিক কূটনীতির কুশিলতা পাশ্চাত্য মহাদেশ থেকে যেরকম প্রচন্ড মূর্তি ধরে মানুষের স্বাধিকারকে নির্মমভাবে দলন করতে উদ্যত হয়েছে ইতিহাসে এমন আর কোন দিন হয়নি।’’ রবীন্দ্রনাথের নেতৃত্বে শিক্ষা কার্যক্রম ও কারিকুলামে তেমন কোন উন্নতি ঘটেনি। পরবর্তীতে শিক্ষাব্যবস্থার উপরে গান্ধীজীর নেতৃত্বে গ্রহণ করা হয় বরদা পরিকল্পনা। ১৯৩৫ সালে ভারত শাসিত আইন পাস ও চালু হলে নয়া আইন সভার নির্বাচন শুরু হয়। নির্বাচন উত্তরকালে বিভিন্ন প্রদেশে কংগ্রেস সরকার প্রতিষ্ঠা হয়। এ সময় শিক্ষানীতির ব্যাপারে মহাত্মা গান্ধীজীর নেতৃত্বে ও তত্ত্বাবধানে বরদা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এ গোটা পরিকল্পনা যে মৌলিক আদর্শ ও নীতিমালার ভিত্তিতে রচিত তার প্রধান দিকটি ছিল জাতির শিশুদের ভালো ব্যবসায়িক যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। পরিকল্পনা প্রণয়নকারীদের দৃষ্টিতে মনুষ্যত্ব ও উপার্জনের যোগ্যতা সমার্থক শব্দ। বস্তুবাদী ও ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সমগ্র পরিকল্পনাটিকে এমনভাবে প্রভাবিত করে রেখেছে যে, এর মাধ্যমে যে বংশধর শিক্ষাদীক্ষা গ্রহণ করবে, তারা নিরেট বস্তুবাদী হয়ে গড়ে উঠবে।
বরদা শিক্ষা পরিকল্পনা থেকে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাদ দেয়া হয়। বাদ দেয়ার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে গান্ধীজী বলেন : ‘‘আমরা বরদা শিক্ষা পরিকল্পনা থেকে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাদ দিয়েছি। কেননা, আজকাল ধর্মীয় শিক্ষা যেভাবে দেয়া হয় এবং যেভাবে তার বাস্তব অনুশীলন হয়ে থাকে, তাতে ঐক্যের পরিবর্তে বিভেদ সৃষ্টি হয়।’’
সকল ধর্মকে বাদ দিয়ে মহাত্মা গান্ধীর ধর্মের শিক্ষা পাঠ্য তালিকাভুক্ত করা হয়। কারণ, এরপর যে বংশধর ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষিত হয়ে বেরুবে, তাদের নৈতিক মত, বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণার উৎস হবে একমাত্র গান্ধীর ধর্ম। এর ফলে ‘‘পরবর্তী বংশধর, যারা বরদা পরিকল্পনাভুক্ত বিদ্যালয়সমূহ থেকে শিক্ষালাভ করে বেরিয়ে আসবে, তাদের ওপর বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন ভারতীয় জাতীয়তার ধারণা এত প্রবল হবে যে, তারা আপন সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার তেমন ধার ধারবে না। সুতরাং এটা নিশ্চিতভাবেই ধরে নেয়া উচিত যে, তৃতীয় বংশধর পর্যন্ত পৌঁছতে পৌঁছতে ভারত সত্যিকার অর্থে এক জাতিতে পরিণত হয়ে যাবে।’’ একই সময় মধ্য প্রদেশে অন্য একটি শিক্ষা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। তা ছিল বিদ্যামন্দির পরিকল্পনা নামে খ্যাত। এর প্রণেতা ছিলেন প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী মি. শুকলা। কংগ্রেস পার্টি ১৯৩৭ সালের ৩০ জুলাই মি. শুকলাকে সভাপতি করে পল্লী অঞ্চলে বাধ্যতামূলক সর্বজনীন শিক্ষা চালু করার উপযোগী পরিকল্পনা তৈরি করার উদ্দেশ্যে একটি কমিটি গঠন করে। মধ্য প্রদেশ বিধানসভার কংগ্রেস সংসদীয় দল ৪ ডিসেম্বর তারিখে পরিকল্পনাটির মঞ্জুরি দেয়।
পরিকল্পনাকে মঞ্জুর করার পর যে সিলেবাস পরিষদ গঠিত হয়, মধ্য প্রদেশের একজন মুসলমানকেও তার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। টেকস্টবুক কমিটিতেও একজন মুসলমান রাখা হয়নি। ফলে মধ্যপ্রদেশের শাসনাধীন মুসলমানদের আপন ভবিষ্যৎ বংশধরদের শিক্ষার ব্যাপারে কিছুই বলার স্বাধীনতা রইল না। বরোদার বিদ্যামন্দিরগুলোর জন্য শিক্ষক তৈরির ব্যবস্থা নিতে একটা ট্রেনিং স্কুল স্থাপন করা হয়। উক্ত স্কুলে মুসলমানের অবস্থা ছিল বড়ই করুণ ‘‘মধ্য প্রদেশে বিধান সভার সদস্য মৌলভী আবদুর রহমান সাহেব উক্ত ট্রেনিংস্কুল পরিদর্শনে গেলেন। তখন দেখতে পেলেন যে, হিন্দু ও মুসলমান সকলেই ধুতি পরা।... সেখানে সকল পাঠ্য বিষয় হিন্দী ও মারাঠী ভাষায় পড়ানো হয়। কেবলমাত্র উর্দু বর্ণমালা শিখানোর জন্য একজন মুসলমানকে নিয়োগ করা হয়েছে। মুসলমান ছাত্ররা যেখানে অস্পৃশ্যেদের মত থাকে। তারা আলাদা খাওয়া দাওয়া করে। পানি খাওয়ার পাত্র পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে না। প্রতিদিন বন্দে মাতরম সঙ্গীত দিয়ে স্কুল শুরু হয়। মুসলমান ছাত্রদেরকে প্রার্থনার ভঙ্গীতে হাত জোড় করে ও মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়।
এ দু'টি শিক্ষা নীতিই ছিল মুসলমানদের বিপক্ষে। ‘বরদা পরিকল্পনা ও বিদ্যামন্দির পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মুসলমানদের পক্ষ থেকে যে সব আপত্তি তোলা হয়েছে তার জবাবে অন্যান্য কথার সাথে সাথে এ কথাটাও বারবার বলা হচ্ছে যে, যে দেশে বহুসংখ্যক ধর্মের অনুসারীরা বাস করে সেখানে সকলের ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এরূপ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কেবলমাত্র সাধারণ বৈষয়িক শিক্ষার ব্যবস্থাই করা যেতে পারে আর সর্বজনীন শিক্ষা চালু করার জন্য ব্যাপকভিত্তিক বাধ্যতামূলক ও ধর্মহীন শিক্ষার ব্যবস্থা করা ছাড়া অন্য কোন কৌশল অবলম্বন করার থাকে না। তবে সাধারণ পাঠকদের অবগতির জন্য আমি বলতে চাই যে, ইউরোপের যেসব সুসভ্য দেশে ধর্মের কোনোই গুরুত্ব নেই, সে সব দেশের মধ্যে ফ্রান্স, চেকোস্লোভাকিয়া এবং অন্যান্য দু'চারটা দেশ ছাড়া কোন দেশই ভারতের মত নীতি অবলম্বন করেনি।
জার্মানীতে নাগরিকদের শিক্ষা ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। তবে এদের দৃষ্টিভঙ্গি এই যে, সকলের শিক্ষার পদ্ধতি একই রকম হওয়া চাই। এ কারণে সেখানে বেসরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠার অনুমতিও খুব কমই দেয়া হয়। তবে দেশের সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিককে তার সন্তানের নিজস্ব ধর্মমত অনুসারে শিক্ষার ব্যবস্থা দাবি করার অধিকার দেয়া হয়েছে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার সময়ের মধ্যেই এরূপ শিক্ষার ব্যবস্থা করা সরকারের কর্তব্যরূপে নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া একটি বিশেষ ধর্মমতের অনুসারীরা যদি কোন জায়গায় যথেষ্ট সংখ্যক বিদ্যমান থাকে এবং তারা তাদের ইচ্ছামত ধর্মীয় শিক্ষা লাভের নিশ্চয়তার জন্য আলাদা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানায় তা হলে সেই ব্যবস্থা করা সরকারের কর্তব্য।
ইংল্যান্ডে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর আপন উদ্যোগে নিজস্ব বিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনায় অধিকার রয়েছে। সরকারি শিক্ষা বিভাগ শুধু তার তদারক করে থাকে। এ ধরনের বিদ্যালয়কে সরকার সাহায্যও দিয়ে থাকে।
যুগোস্লাভিয়ায় প্রত্যেক স্বীকৃত ধর্মের শিক্ষার ব্যবস্থা সরকারি বিদ্যালয়ে করা হয়। সন্তানদের জন্য কি ধরনের ধর্মীয় শিক্ষা চাই, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পিতামাতার হাতেই ন্যস্ত করা হয়েছে, তাছাড়া যেখানে স্বীকৃত ধর্মসমূহের নিজস্ব শিক্ষ্যব্যবস্থা নিজেদেরই তৈরি করার অধিকার রয়েছে এবং সরকারি কোষাগার থেকে তাদেরকে সাহায্য করা হয়ে থাকে।
লিথুনিয়ার সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। কেবলমাত্র যেসব ছেলেমেয়ের পিতামাতা ধর্মীয় শিক্ষা দিতে ইচ্ছুক নয় তারাই এর ব্যতিক্রম। তাছাড়া সেখানেও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর নিজস্ব উদ্যোগে আপন বিদ্যালয় স্থাপনের অধিকার রয়েছে এবং সরকার তাদেরকে এ শর্তে সাহায্য দিয়ে থাকে যে, ঐ সব বিদ্যালয়ে সরকারি শিক্ষানীতি অনুসারে বৈষয়িক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
পোল্যান্ডের যাবতীয় সরকারি বিদ্যালয়ে এবং সরকারি আনুকূল্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক। বিভিন্ন ধর্মের স্বীকৃত সমিতিগুলোকে আপন আপন ধর্মের অনুসারীদের জন্য পাঠ্যসূচি নির্ধারণ ও বিদ্যালয়ে তাদের ধর্মীয় শিক্ষার তদারক করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
এস্তোনিয়ার ছাত্রছাত্রীদের পিতামাতার আবেদনক্রমে সরকারি বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। (Democretic constitutions of Europe by A H Mcr ley. Ps3 57)
বেলজিয়ামে প্রাইমারী পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক। সেখানে স্বীকৃতি গীর্জা কর্তৃপক্ষকে ধর্মীয় শিক্ষার তত্ত্বাবধানের জন্য নিজস্ব পরিদর্শক নিয়োগের অধিকার প্রদান করা হয়েছে।
নরওয়েতে প্রাইমারী শিক্ষা পুরোপুরিভাবে ধর্মীয় সংগঠনসমূহের কর্তৃত্বে সমর্থন করা হয়েছে। ইটালীতে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং কোন ছাত্রছাত্রী তার ব্যতিক্রম নয়-যতক্ষণ তাদের পিতামাতা ব্যতিক্রমের দাবি না জানান।
ইংল্যান্ডে ধর্মীয় সংগঠনগুলো আপন অনুসারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিজ উদ্যোগেই করে থাকে এবং সরকার তার ব্যয়ভার বহন করে। সুইজারল্যান্ডে সরকারিভাবে কেবলমাত্র সেই ধর্মের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়, যার অনুসারীরা বিদ্যালয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে যেসব সংখ্যালঘু ধর্মের ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যায় থাকে তাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে (এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, চতুর্থদশ সংস্করণ-নিবদ্ধ এডুকেশন)
‘‘ইউরোপ, আমেরিকা ও অন্যান্য সভ্যতাগর্বী দেশের উন্নততর শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের অবস্থা পর্যালোচনা করলে আমাদের সামনে একটি সত্য প্রতিভাত হয়ে ওঠে। এ সব ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠান যেসব মৌলিক ধারণা ও চিন্তাভাবনার উপর প্রতিষ্ঠিত, তা হল এই বাস্তব ও ক্ষয়িষ্ণু দুনিয়ার উন্নতি ও প্রধান্য লাভ। এছাড়া তাদের সামনে আর কোন মহৎ লক্ষ্য নেই।
আধুনিককালের প্রবণতা হল শিক্ষাকে ব্যবহারোপযোগী করতে হবে; ব্যবহারিক মূল্যের দৃষ্টিতে অধিকতর মূল্যবান, এমন শিক্ষা অর্জনই হবে লক্ষ্য। শিক্ষার আলোয় হৃদয় লোককে উজ্জ্বল, উদ্ভাসিত ও জ্ঞান-সমৃদ্ধ করে তোলা আজ আর লক্ষ্যরূপে নির্দিষ্ট থাকেনি। শিক্ষা ব্যবস্থার এই যে বস্তুতান্ত্রিকতা তা যে সঠিক নয় তা ফুটে উঠেছে প্রখ্যাত গ্রন্থকার Bevan এর Symbolism of Belief গ্রন্থে। তিনি লিখেছেন : আমরা শুধুমাত্র বাস্তবতার মধ্যে জড়িয়ে থাকতে পারি না। আমরা যখন কোন বাস্তব জীবনের পদক্ষেপ গ্রহণ করি, তখন আমাদের কর্মক্ষমতা ও তৎপরতা যাচাই করার জন্যে আমাদের নিজস্ব মৌল ধারণা-বিশ্বাসসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে বাধ্য হই। বস্তুত এ এমন একটা সত্য, যার স্বপক্ষে বহু প্রখ্যাত চিন্তাবিদের সমর্থন উদ্ধৃত করা যেতে পারে। এ থেকে এ সত্য অতি সহজেই উপলব্ধি করা যেতে পারে যে, মূলত অবস্থা ও ঘটনাবলির সুসংবদ্ধ অধ্যয়নই হচ্ছে শিক্ষা এবং তাকে কোন ব্যক্তি ও জাতির মৌল চিন্তা-ভাবনা ও মতাদর্শ থেকে কোন অবস্থায়ই বিচ্ছিন্ন করা যেতে পারে না। এ কারণেই মৌল বিশ্বাসের দিক দিয়ে মানুষে মানুষে যে পার্থক্য ধর্মবিশ্বাসের পার্থক্যের দরুন, তাকে স্বীকার করেই বিভিন্ন বিশ্বাস-অনুসারীদের শিক্ষাও বিভিন্ন হতে বাধ্য। এ সত্যকে অস্বীকার করা হলে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং তার জন্যে বিভিন্ন মৌল বিশ্বাস সম্পন্ন মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হবে।’’
অতএব যারা বস্তুবাদী শিক্ষাকে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে চালিয়ে দিতে সচেষ্টা হন তারা প্রকৃতপক্ষে গোটা মানবতার ধ্বংস সাধনে ব্যস্ত ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29027580 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29027580 2009-10-17 23:31:32
আমরা কি স্বাধীন? এ দেশের আলো বাতাসে বড় হয়ে এদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিতে হৃদয় কি কম্পন সৃষ্টি হয়? কয়েকদিন পর পুনরায় যাবার তারিখ হলো। খুব ঢাকঢোল পিটিয়ে জামাইবাবু শ্বশুরবাড়ী গেলেন। শ্বশুর-শাশুড়ি তো অস্থির। কথাবার্তায় সে কি তোড়জোড়। ওকে ডেকে বলে, পালংয়ে ভাল বিছানা পাত। তাকে ডেকে বলে, মুরগি জবেহ কর। বাজার থেকে বড় রুইমাছ নিয়ে আয়। শাশুড়ি বলে মিহি চালের ভাত পাকাতে হবে। ঐ ঘরে পালা খাসি জবেহ করতে হবে। চন্দন বাবুর মিষ্টিঘর থেকে রসমালাই, চিনি পাতা দৈ নিয়ে আসতে হবে। জামাইবাবু তো খুশিতে আত্মহারা! এবার দেশে গিয়ে সত্যি সত্যিই শ্বশুর-শাশুড়ির আতিথ্যের কথা সবাইকে বলতে পারবেন। গেলবারে তো বানিয়ে বানিয়ে বলা হয়েছে। জামাইবাবু অপেক্ষা করে করে সাতদিন পর্যন্ত শ্বশুরবাড়ীতে থাকলেন। সাতদিনে একদিনও পালং-এ শোয়া হলো না। শাশুড়ি প্রতিদিন বলতে থাকলো, এ রাতটা ভাঙ্গা চকিতে শুয়ে একটু কষ্ট কর। পালং এলে পেতে দেবো। খাবার সময় আলু ভর্তা নতুবা শুধু কাঁচামরিচ দিয়ে পান্তাভাত। তাও আধপেটে। আর আফসোস করে বলা হলো, আহ্ মুরগিটা ধরতেই পারলাম না। খাসি জবেহ করতে লোক পাচ্ছি না। শ্বশুর মহোদয় দ্বিতীয়দিন থেকে রাগতভাবে বলতে লাগলো, তোমাকে না টাকা নিয়ে আসতে বলেছিলাম। আসছো তো মিষ্টির হাড়ি নিয়ে। এখন বাজার করবো কি করে? রুইমাছ, রসমালাই, মিহি চাল বললেই তো ঘরে হেঁটে হেঁটে আসবে না। টাকা চাই টাকা। বিয়ের সময় তো একথাই ছিল। কূলীন ঘরের মেয়ে নিয়েছ- আর খালি হাতে আসবে? এখন বুঝো ঠেলা? আতিথ্য তো দূরের কথা মেয়েই রেখে দেবো!
দেশে ফিরে আসলেন জামাই বাবু। আধাপেটা খেয়ে না ঘুমিয়ে থেকে চেহারা ছেড়াবেড়া। কাউকে কিছু বলতেও পারে না। অথচ কথা বলা তার অভ্যাস। কথা বেচেই সে চলে। কি কথা কখন বলে ফেললো- তা বাছবিচারও অনেক সময় করে না। তাই বন্ধু-বান্ধব জোর করে এবারের শ্বশুর বাড়ীর মধুর হাড়ির খবর জানতে চায়। কি কি খেলেন জামাই বাবু? ‘‘আরে সে তো এক বিরাট ব্যাপার। এই ধরুন মুরগির ঝোলের পেচাল, খাসির মাংসের হাঁকডাক, রুইমাছের গল্প, রসমালাই চিনিপাতা দৈ'র গল্প, পালংয়ে শোয়ার স্বপ্ন ইত্যাদি ইত্যাদি।’’
আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনির এবারে পাঁচদিনের ভারত সফরের পর ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বিবৃতি এবং দেশে তার নিজস্ব প্রেস বিফ্রিং পড়ে ঐ গল্পটাই বার বার মনে পড়ছে। কারণ, তার সফরের সাফল্য মূল্যায়ন করলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে :
এক.
ভারত আমাদেরকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেবে। কোথা থেকে দেবে? ত্রিপুরা জোন থেকে। পশ্চিমবঙ্গে তো মারাত্মক বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে। তাহলে তাদেরকে না দিয়ে আমাদেরকে দেয়া কেন? আর পশ্চিমবঙ্গই বা নীরব কেন? এত উদার তো নিকট ইতিহাস কেন দূর ইতিহাসেও তো দেখা যায়নি? তাহলে বিষয়টা কি? বিষয়টা হলো ত্রিপুরা থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ভারত বাংলাদেশকে ব্যবহার করতে চায়। আমাদের বিদ্যুৎ গ্রিডই হবে সরবরাহ কেন্দ্র। ফলে প্রকৃতপক্ষে ভারতের বিদ্যুৎ আমাদের দেশের ভেতর পাইপ লাইনে থাকবে ব্যবহার করা যাবে না। তখন আমাদের বিদ্যুৎ গ্রিডের নিয়ন্ত্রণও পুরাপুরি বাংলাদেশের হাতে থাকবে না। ভারত এত বোকা নয় যে, তাদের একটা প্রদেশের বিদ্যুতের ভাগ বাংলাদেশের উপর ছেড়ে দেবে। বাংলাদেশকে তারা ঐতিহাসিক কারণে এত বিশ্বাসও করে না। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাবার্তায় মনে হয় না যে, বিষয়টি গভীরভাবে দেখা হয়েছে।
দুই.
আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতকে আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহারের সম্মতি দিয়ে এসেছেন। বিষয়টি জনগণের কাছে সম্পূর্ণ নতুন। বিষয়টি সরকার জনগণের সামনে কখনও প্রকাশ করেনি। সংসদেও বিষয়টি আলোচনা হয়নি। যতদূর জানা যায় জোট সরকারের আমলেও এ ধরনের ভারতীয় প্রস্তাব আসেনি। তাহলে বিষয়টি নিয়ে হোম ওয়ার্ক কোথায় হলো? সচিব পর্যায়ের কোন আলোচনার খবরও জনগণ জানে না। তাহলে কি ১/১১ ঘটানোর নেপথ্য আলোচনার ফল এটা? সেটা তো ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রের আলোচনা গোপনে হয়। প্রকাশ্যে হয় না। কারণ তাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ থাকে না।
বলা হয়েছে, আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার করে ভারত ভারি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ত্রিপুরা ও আসামে পাঠাবে। এখানে প্রশ্ন অনেকগুলো। ভারি যন্ত্রপাতির সংজ্ঞা কি? কতটন ওজনের? কাদের যানবাহনে পারাপার হবে? মনিটরিং কে করবে? আশুগঞ্জ বন্দরে যে ভারতীয়রা কাজ করবে তাদের ভিসা দান পদ্ধতি কি হবে? এ সমস্ত প্রশ্নের কোন জবাব নেই। তাহলে জনগণ শঙ্কিত হবে না কেন? জনগণ সঙ্গত কারণেই ভাবতে পারে যে, আশুগঞ্জ বন্দরে ভারতীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এটা একটা পাকাপোক্ত ব্যবস্থা মাত্র। নিজ দেশে পরদেশীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার এ পদক্ষেপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি করে সম্মতি দিয়ে আসলেন? নাকি তিনি বুঝতে পারেননি? ক্ষমতায় বসানোর ঋণ কি দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে পরিশোধ করতে হবে?
তিন.
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করা ভারতের বহুদিনের দেনদরবার। এ বন্দর ব্যবহার করতে পারলে ভারত যে সুবিধাগুলো পাবে তাহলো, ১. বাংলাদেশের ভূ-খন্ড ব্যবহার করে ভারত তার বিভিন্ন রাজ্যে বাণিজ্য সহজভাবে করতে পারবে। ২. সেভেন স্টারের সাথে যোগাযোগ সহজ হবে। ৩. চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে। ৪ বাংলাদেশের বৃহত্তম নৌঘাঁটি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিজ নজরদারিতে নিয়ে আসতে পারবে এবং শক্তিশালী নৌবন্দরের মাধ্যমে গোটা ভারত মহাসাগর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। শক্তিশালী কোন দেশের সাথে স্বার্থ ভাগাভাগি করে নিতে পারবে। আমরা বাংলাদেশীরা শুধু আফসোস করতে পারবো।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার নিয়ে অর্থবহ আলোচনা হয়েছে। বিবৃতির ভাষা থেকে বুঝা যায় যে, বাংলাদেশ-ভারত এ বিষয়ে সমঝোতা করে ফেলেছে। বাকি আছে শুধু বৃহৎশক্তির সাথে বুঝাপড়ার বিষয়টি। ভারত সফর থেকে এসে দিপুমনির দীর্ঘ আমেরিকা সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারো কারো অভিমত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বর্তমান আমেরিকা সফর যত না বাংলাদেশের স্বার্থে তার চেয়ে বেশি ভারতের পক্ষে দূতিয়ালীর বা কূটনৈতিক ঘটকালী।
চার.
সম্প্রতি ভারত সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেলট্রানজিট দেয়ার সম্মতি দিয়ে এসেছেন। এসে অত্যন্ত সাফল্যের সুরে বলেছেন, বিনিময়ে ভারত আমাদের রেলপথ উন্নয়নে সহযোগিতা দেবে। বগি দেবে, লোকমোটিভ সরবরাহ করবে, কারিগরি সহায়তা দেবে ইত্যাদি। ভারতকে রেলট্রানজিট দেয়া কি আমাদের দাবি ছিল? নিশ্চয়ই সকলে একমত হবেন যে, এটা ভারতের দাবি। আর ভারত যা আমাদেরকে দেবে তা কি বিনা পয়সায়? নিশ্চয়ই নয়। সবকিছু টাকার বিনিময়ে দেবে। হয়ত কোন কোন ক্ষেত্রে ঋণ দেবে। এর অর্থ ভারত আমাদের সাথে চুটিয়ে বাণিজ্য করবে। চুক্তির এ অংশের সাথেও বাংলাদেশের কোন স্বার্থ জড়িত নেই। বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর ঋণ পরিশোধ অথবা ক্ষমতায় রাখার নিশ্চয়তা মাত্র।
পাঁচ.
ভারত আমাদের নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি বা সৃষ্টিতে সহায়তা দেবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপুমনি তার সফর সাফল্যের আর একটি প্রমাণ জাতিকে অবহিত করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের নদীগুলোর নাব্যতা চলে গেল কিভাবে বা কি কারণে? বাংলাদেশের ৫৪টি নদীর উৎস মুখ ভারতে। ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে আমাদের ৩২টি নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এছাড়া শতাধিক গ্রোয়েন বাঁধ নির্মাণ করে ঘাটে ঘাটে স্রোতকে থামিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে প্রতিটি বছর বালুচরের সংখ্যা বাড়ছে। মাটি জমছে। নদীর এপার ওপার ভরাট হচ্ছে। এজন্য নদীর নাব্যতা নষ্ট হচ্ছে। এ সমস্যাটি ৯০ শতাংশই ভারত সৃষ্ট। তাদের সৃষ্ট সমস্যা দূর করতে তারাই আগ্রহ দেখাচ্ছে। ভারত যে নাব্যতা বৃদ্ধি বা সৃষ্টিতে এগিয়ে আসছে তাও বাণিজ্যিক স্বার্থে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সাথে বড় ধরনের তামাশা শুরু করে দিয়েছে। যা পুরোপুরি ‘গরু মেরে জুতা দান করার' মতো। এটা নাকি তাদের অধিকার। কারণ তারা আমাদের দেশকে স্বাধীন করে দিয়েছে। অবশ্যই আমরা তার জন্য চিরকৃতজ্ঞ। তাই বলে এ ধরনের আচরণ করা হবে? ভারত কি শরণার্থী পুনর্বাসন করতে গিয়ে যে খরচ করেছে তার চেয়ে আয় বেশি করেনি? হাজার হাজার কোটি টাকার যুদ্ধাস্ত্র তারা কি আমাদের দেশ থেকে নিয়ে যায়নি? বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়ার সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী বেহিসাব সম্পদ দেশে নিয়ে যায়নি? সেখানেও তো ভারত বাণিজ্য করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মনে রাখা উচিত যে, ভারতকে দেয়ার দায়িত্বের চেয়ে আজ আমাদের পাওয়ার অধিকার অনেক বেশি।
ছয়.
জনগণ সবচাইতে বেশি বিস্মিত হয়েছে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা প্রসঙ্গে। সেখানে তিনি অর্থবহ কোন আলোচনাই করেননি। বলেছেন, টিপাইমুখ বাঁধ এলাকা পরিদর্শনকারী সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে দেয়া আতিথ্যে বাংলাদেশ খুব খুশি। বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু করা হবে না বলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এ পর্যন্তই। এর বাইরে ভেতরে কোন শলাপরামর্শ হয়েছিলো কিনা দেশবাসী তা জানতে পারেনি। অথচ ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য-বিবৃতিতে এটা পরিষ্কার যে তারা এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন আপত্তি না আসায় তারা উদ্বেগমুক্ত। ভারতের টিপাইমুখ বহুমুখি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সুরমা, কুশিয়ারা, মেঘনাসহ আরো ২২টি নদী শুকিয়ে যাবে। এটা ভারত জানে ও বুঝে। তাই বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত তার ড্রেজিং বাণিজ্যে এত আগ্রহ দেখাচ্ছে। দিপুমনিরা তা জানে বিধায় মাঝে মাঝে ঘোষণা দিচ্ছেন, নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে। তাই বিষয়টি আজ অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
সাত.
বর্তমানে সর্বজনবিদিত যে, বাংলাদেশের বড় বড় সন্ত্রাসীরা বিপদ দেখলেই ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত হচ্ছে তাদের অভয়ারণ্য। বাংলাদেশ বারবার ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নিকট তাদের তালিকা পেশ করেছে। কিন্তু তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। ভারত অভিযোগ করেছে বড় বড়। কিন্তু অনুপচেটিয়া ও পরেশ বড়ুয়ার বাইরে সুনির্দিষ্ট তালিকা দিতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে কার্যকর আলোচনার প্রয়োজন। বাংলাদেশের সন্ত্রাসীরা কেন ভারতে পালায়? ভারত বিষয়টি এড়িয়ে যায় কেন? তাদের ফেরত কিভাবে আনা যায়? ইত্যাদি বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষার প্রশ্নগুলোর সমাধান দেশবাসীর কাম্য। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে বন্দী বিনিময় সংক্রান্ত বিবৃতি জাতিকে শুধু নিরাশ করেনি বরং উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাই বিষয়টি খোলাসা হওয়া প্রয়োজন।
আট.
ভারতের ভূখন্ডে ছোট একটি করিডোর দিলেই বাংলাদেশ সরাসরি নেপাল ও ভূটানের সাথে সরাসরি বাণিজ্যিক যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। ভারত তার নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে আজ পর্যন্ত এই ছোট্ট করিডোরটি দিতে রাজি হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এবারের সফরে এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এমনভাবে যৌথ বিবৃতি প্রচার করা হয়েছে যেন আমরা সফল হয়েছি। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা কি? বিবৃতিতে ‘করিডোর' শব্দ ব্যবহার না করে ‘কানেকটিভিটি' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতকে করিডোর না দিলে কি ঐ অল্প সুযোগটুকু ভারত আমাদেরকে দেবে? নাকি আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার করাকে জায়েজ করার এ এক নতুন ফর্মুলা? আসলে বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ‘তোমার বাড়িতে আমাকে ঢুকতে দাও, তাহলে আমার বাড়ির পাশ দিয়ে তুমি যেতে পারবে।'-- বিষয়টি এরকম। বড় ধরনের ধাপ্পাবাজি বলেই মনে হয়। একটি নির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণকে এভাবে অন্ধকারে রাখতে পারেন না বা জনগণকে আড়াল করতে পারেন না।
নয়.
স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অংশ দহগ্রাম, আঙ্গরপোতা। ভারতের তিনবিঘা পরিমাণ করিডোর দিয়ে সেখানে যেতে হয়। স্বাধীনতার স্থপতি মরহুম শেখ মুজিব ও ভারতের ইন্দিরাগান্ধির সাথে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারতকে বেরুবাড়ী ছেড়ে দেবে। বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশকে তিনবিঘা করিডোর ছেড়ে দেবে। বাংলাদেশ চুক্তির তিনমাসের মধ্যে তার কথা রক্ষা করেছে। কিন্তু আজও ভারত তার কথা রাখেনি। ভারতের এ ধরনের আচরণ শুধু অপ্রতিবেশিসুলভই নয়, অবন্ধুসুলভও। এটা ভারতের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক আচরণের চরম লঙ্ঘন। এ আচরণ মেনে নেয়া যায় না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখানে শক্ত ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। ছাড় দিতে দিতে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অথচ এবারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে তিনবিঘা করিডোর নিয়ে ভারত শুধু মিঠা কথা দিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছে। অর্থবহ কোন সম্মতি বা প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
সার্বিক মূল্যায়নে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এবারের ভারত সফর সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের কোন স্বার্থ এ সফরে রক্ষিত হয়নি। তবে ভারত তার স্বার্থ আদায় করে নেয়ার পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করে ফেলেছে। বাংলাদেশকে দিয়েছে কথার মারপ্যাঁচ, মিঠে মিঠে বুলি আর আতিথ্যের হাঁক-ডাক। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29013386 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29013386 2009-09-20 06:34:51
কোলা ব্যাঙ হাতীতে রূপান্তর তারপর একটি চুক্তি এবং..................... ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের তেমনি এক সরকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে ভারতের পক্ষে। এ সরকার এ পর্যন্ত যা কিছু করেছে তার কোন কিছুই বাংলাদেশের স্বার্থানুুকূলে না হলেও ভারতের স্বার্থ ব্যাপকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। সরকার ভারতকে এশিয়ান হাইওয়ের নামে করিডোর দেয়ার ব্যবস্খা করছে। ভারত একতরফাভাবে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করে নিলেও তার প্রতিবাদ না করে মন্ত্রীরা ভারতের পক্ষে অবিরাম সাফাই গাইছে। ভারত বরাক নদীর ওপরে টিপাইমুখে বাংলাদেশের জন্য মহাবিপর্যয়কর বাঁধ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিবাদ করাতো দূরের কথা মন্ত্রীরা ঐ বাঁধ দেয়ার ফলে বাংলাদেশের কি কি উপকার হবে তার একটা ফিরিস্তি দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। ভারতীয় বাহিনী সীমান্তে ত্রাস সৃষ্টির জন্য যখন তখন সেখানে পাখি শিকারের মত গুলি করে বাংলাদেশীদের হত্যা করছে। সরকারের তরফ থেকে টু শব্দটিও উচ্চারণ করা হচ্ছে না। ভারতের ইচ্ছা মোতাবেকই সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা ছাউনি সরিয়ে নিয়ে সেখানকার বাঙালী বসতি উচ্ছেদের পথ পরিষ্কার করছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ভারত বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বিডিআর বাহিনী ধ্বংস করেছে এবং সেনাবাহিনীকে দুর্র্বল করে দিয়েছে। সরকার এসব ইস্যু ফেলে রেখে বিবি তালাকের ফতোয়া খুঁজে বেড়াচ্ছে।
দেশের মধ্যে অবিরাম চলছে প্রায় সকল ক্ষেত্রে ভারতীয় খবরদারি। বাংলাদেশে নিযুক্ত উপসচিব পদমর্যাদার ভারতীয় হাই কমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বাংলাদেশের দণ্ডমুণ্ডের অধিকর্তা সেজে বসেছে।বাংলাদেশের জনগণ, দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী, সমাজ ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতেও পিছপা হননি এই রাষ্ট্রদূত। যেন বাংলাদেশ এক উপনিবেশ আর পিনাক চক্রবর্তী তার ভাইসরয় হিসেবে বাংলাদেশের শাসনকর্তা রূপে প্রতিষ্ঠিত। তার আচরণের ফলে তাকে যেখানে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া দরকার ছিল সেখানে সরকার সামান্যতম প্রতিবাদ পর্যন্ত দেখাতে সাহস পায়নি। যে সরকারের নিজেদেরই কোন আত্মমর্যাদা নেই জনগণের মর্যাদা তারা রক্ষা করবে কিভাবে?
এদিকে সরকারকে সঠিক পথে রাখার জন্য মাঝে মাঝে অতি সঙ্গোপনে বাংলাদেশ সফর করে চলে যায়। এর আগে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এয়ারপোর্টে নেমে সোজা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্বদেশে ফিরে গিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। তার সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছুই জানতো না। জানতো না প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও। ফেরার পথে তিনি সাংবাদিকদেরও কোনরূপ সাক্ষাৎকার দেননি। প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে কাউকে কিছু অবহিত করেননি। কিন্তু দেশের মানুষের জানবার অধিকার আছে প্রধানমন্ত্রীকে কি কথা বলতে এসেছিলেন ঐ ভারতীয় কর্মকর্তা। আর তা নিয়ে এত গোপনীয়তা বা কেন? জনগণ জানতে পারেনি। গত ২২ আগস্ট ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ-শ্রীলংকা-মালদ্বীপ ডিভিশনের প্রধান ও যুগ্ম সচিব টিএস ত্রিমুর্তি বাংলাদেশ সফরে আসেন। ২৩ আগস্ট তিনি বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মহাপরিচালকের সঙ্গে। সেই বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে সে কথা জানা যায়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি বলেছেন ত্রিমূর্তি ঢাকায় এসেছিলেন রুটিন বিষয়ে আলোচনা করতে। সে রুটিন বিষয়টা যে কি দীপু মনি তা আর স্পষ্ট করেননি। এ মাসেই তিন দিনের সফরে দীপু মনির নয়াদিল্লী যাওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের সাথে ভারতের অমীমাংসিত সমস্যাও বহু। সে সব সমস্যা কমিয়ে আনার উদ্যোগ তো নেই বরং ভারত তা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। দীপু মনির এই সফরকালে ভারত এশিয়ান হাইওয়ের সাথে করিডোর চুক্তি করতে চায়। চায় বন্দী প্রত্যার্পন চুক্তি। অপরাধ দমনে পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস দমনে দ্বীপক্ষীয় চুক্তি এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের বিনিময় করার চুক্তি। ওই কোন চুক্তির ফলাফলই বাংলাদেশের অনুকূলে রাখা যে সম্ভব হবে না সেটা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।
ভারতের এই কর্মকর্তা রুটিন আলোচনা করতে বাংলাদেশে এসেছিলেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবে এদেশের মানুষ ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই রয়ে গেল। ১৯/২০ কিছুই হলো না। কিন্তু ভারতকে সবকিছু দিয়ে দেয়ার জন্য এত উতলা কেন সরকার। বিনিময়ে বাংলাদেশ কী পাবে? যদি কিছুই না পায় তাহলে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে করদ রাজ্যের মর্যাদাই শুধু পাবে আর কোন লাভ হবে না। তাই দৃঢ় বিশ্বাস এদেশের মানুষ কোন অবস্খাতেই এমন পরিস্খিতি মেনে নেবে না। আসুন দেশ থেকে দালাল খেদাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29005743 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/29005743 2009-09-06 17:27:42
মঈনের আলু তত্ব এবং ফারুকের এ্যাংকার তত্ব সবমিলিয়ে জনগনের নি:শ্বাস তত্ব! ২০০৬ সালের অক্টোবরে আন্দোলনের নামে লগি-বৈঠার তান্ডব, জ্বালাও পোড়াও, ঘেরাওয়ের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম এবং দেশীয়-আন্তর্জাতিক কুশীলবদের ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতিতে ক্ষমতায় আসীন হয় ফখরুদ্দীনের সরকার। উদ্দীন সাহেবদের সু-শাসনে?? দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বেড়ে চলে। নির্যাতিত জনগণ এ অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে বাঁচার প্রত্যাশায় আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। জনগণ ভেবেছিল দ্রব্যমূল্য কমবে, চাঁদাবাজী বন্ধ হবে এবং মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। কিন্তু আশায় গুড়েবালি। প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য। মহাজোট সরকারের মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বাজারে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করছেন। দোকানে গিয়ে দাম জিজ্ঞেস করছেন। মিডিয়ার সামনে আশ্বাসবাণী শোনাচ্ছেন। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। গত ১৬ আগস্ট খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেছেন, চাঁদাবাজীর কারণে দ্রব্যমূল্য কমানো যাচ্ছে না। দু'দিন পর ১৫ আগস্ট একটি আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খানও স্বীকার করলেন চাঁদাবাজীর কারণে দ্রব্যমূল্য কমানো যাচ্ছে না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি যে বক্তব্যটি দৃঢ়ভাবে রাখলেন তা হচ্ছে চারদলীয় জোট সরকার এবং ফখরুদ্দীনের জরুরি সরকারের আমলের চেয়ে বর্তমানে দ্রব্যমূল্য অনেক কম এবং তিনি প্রশ্ন রাখলেন বিগত সরকারের আমলের তুলনায় দ্রব্যমূল্য অনেক কম নয় কি? সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকগণ হয় তো ভদ্রতার খাতিরে তার কথার জবাব দেননি। জনগণ তো টের পাচ্ছে চারদলীয় জোট সরকারের আমলের তুলনায় বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বেশি না কম!! এ প্রশ্নের জবাব মাননীয় মন্ত্রীর উপদেশ বাণীর মধ্যেই নিহিত আছে। তিনি এর দু'দিন পূর্বে রাজধানীর একটি বাজার পরিদর্শন করতে গিয়ে মসুর ডালের অতিরিক্ত মূল্য দেখে জনগণকে উপদেশ দিয়েছেন এ্যাংকর ডাল খাওয়ার জন্য। একথা সবারই জানা যে, এ্যাংকর বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় গো-খাদ্য হিসেবে, তারপরও মানুষ এখন এ ডাল খাচ্ছে। মসুর ডাল চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছিল আটান্ন টাকা কেজি, ফখরুদ্দীন সরকারের আমলে ছিল একশ' আট টাকা এবং বর্তমানে প্রতি কেজি মসুর ডাল একশ' বার টাকা। জনগণ না হয় এ্যাংকর দিয়ে ডালের চাহিদা পূরণ করবে, কিন্তু অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পরিবর্তে কি খাবে? মাছ-গোস্তের বাজারে নিম্নআয়ের মানুষ সহজে পা মাড়ান না। শাক-সবজি, তরকারির দামও আকাশছোঁয়া। ১/১১র অন্যতম মহানায়ক মঈন উ আহমদ জনগণকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বেশি করে আলু খাওয়ার জন্য এবং আয়োজন করেছিলেন হোটেল রেডিসন এ আলু মেলা আর ছিল শ খানেক রেসিপি। সে আলুও বর্তমানে ত্রিশ টাকা কেজি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
চারদলীয় জোট, ফখরুদ্দীন ও বর্তমান সরকারের সময়ের নিত্যপ্রয়োজনীয়
উপরের তুলনামূলক চিত্রের দেখা যাচ্ছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির হার অতীতের যে কোন শাসনামলের চেয়ে বর্তমানে বেশি। শুধুমাত্র চালের মূল্য ফখরুদ্দীন সাহেবের আমলের তুলনায় কিছুটা কম। বাকি সব জিনিসের দামই ঊর্ধ্বমুখী। দলীয় ভাবাপন্ন মিডিয়ার একচেটিয়া প্রচার আর বক্তব্যে বাগাড়ম্বর করলেই জনগণ আশ্বস্ত হয় না, জনগণ বাস্তবতার নিরিখে সবকিছু বিচার করতে চায়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ আজ দিশেহারা। মন্ত্রীরা স্বীকার করার পরও চাঁদাবাজী বন্ধ হচ্ছে না। বরং সরকারদলীয় ক্যাডাররা চাঁদাবাজির নতুন নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মহাসমারোহে চাঁদা আদায় করছে। বাড়ি নির্মাণে চাঁদা। রাস্তায় গাড়ি চালাতে হলে চাঁদা। ব্যবসা করতে গেলে চাঁদা। শিল্প-কারখানায় চাঁদা। এ ডিজিটাল চাঁদাবাজদের দমন না করলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোখা যাবে না। কিন্তু তা কি পারবেন সরকারের মন্ত্রী মহোদয়রা?? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আইন-শৃক্মখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদাবাজ যেই হোক তাকে গ্রেফতার করতে। সরকারদলীয় কোন নেতাকর্মীকে চাঁদাবাজী বা অন্য কোন অপরাধে গ্রেফতার করলে ঐ অফিসারের চাকরি থাকবে কি না? এর কোন নিশ্চয়তা কি তাদের দেয়া হয়েছে? কেননা ইতিমধ্যে ডিজিটাল সরকারের নেতাদের হাতে খুন হয়েছেন পুলিশের একজন ওসি। টিএনও, ডিসি, সরকারি অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কলেজের অধ্যক্ষকে মারধর করা, অপমানিত করা, তালাবদ্ধ করার ঘটনা প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায় ছাপা হচ্ছে। তবে কি এটাই ডিজিটাল পদ্ধতির দেশ পরিচালনা? জনগনকে নিয়ে মসকরা আর কত?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28999705 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28999705 2009-08-25 23:54:47
আন্চলিক টাস্কফোর্স কি টহল দেয়া শুরু করেছে? তন্মধ্যে আবার সংস্কৃতি , পানি, গ্যাস ও যদি বিকিয়ে দেয়া যায় তাহলে খারাপ... ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলে যাওয়ার কিছুদিন পর মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী ঢাকা আসেন। তিনি ‘দ্বিপাক্ষিক’ টাস্কফোর্সের পরিবর্তে ‘আঞ্চলিক’ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন দেন। টাস্কফোর্স গঠন প্রশ্নে এই ক্ষেত্রে আমেরিকা এবং ভারতের অবস্খানে ভিন্নতার আভাস পাওয়া যায়। বিডিআর বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে ৫৭ জন মিলিটারী অফিসারকে হত্যা করার পর ইস্যুটি সাময়িকভাবে তলিয়ে যায়। তখন অনেকে মনে করেছিলেন যে ভারত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে যে সম্পর্ক বিরাজমান তার ফলে টাস্কফোর্স প্রশ্নে আওয়ামী লীগের কাছে আমেরিকার সুপারিশের চেয়ে ভারতীয় দাবী প্রাধান্য পাবে। এখন দেখা যাচ্ছে সেটি সত্য হতে চলল।
ঢাকায় বিডিআর ও বিএসএফ প্রধানদের রহস্যময় বৈঠক
মাত্র গত সপ্তাহে ঢাকায় বিডিআর ও বিএসএফ প্রধানদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। বেশ কিছুদিন আগে বিডিআর প্রধান ভারতে যান এবং বিএসএফ প্রধানের সাথে বৈঠকে মিলিত হন। এরপর যখন বিএসএফ প্রধান ঢাকায় আসেন তখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভেবেছিলেন যে এটি হয়ত দুটি দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর নিয়মিত রুটিন বৈঠক। অতীতে এই ধরনের অসংখ্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সেগুলোতে কোন কাজের কাজ হয়নি। এবারও বৈঠকের আগের দিন এমনকি বৈঠকের দিনেও বিএসএফের গুলিতে বেসামরিক নিরীহ বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। এই বিষয়টি বিএসএফ প্রধানের কাছে উথাপন করা হলে তিনি বিষয়টিকে তেমন পাত্তা দেননি। সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন যে, এই ধরনের গোলাগুলি রাতে হয়ে থাকে। ঐ বৈঠক শেষেই বলা হয় যে সীমান্তে বিডিআর এবং বিএসএফ যৌথ টহল দিতে সম্মত হয়েছে।
ঐ বৈঠকের পর এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়নি। বৈঠকের ঐকমত্য অনুযায়ী তিন চার দিনের মধ্যেই এত তড়িঘড়ি করে যে ঐ সিদ্ধান্ত কার্যকরী হবে সেটা অনেকে ভাবতে পারেননি। এই যৌথ টহল সম্পর্কে বাংলাদেশীদের মনে রয়েছে অনেক প্রশ্ন, রয়েছে অনেক সংশয়। সেগুলো ধীরে সুস্খে উথাপিত হতো। কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়ে কংগ্রেস এবং আওয়ামী সরকার যে এত দ্রুত টহলদারী শুরু করবে সেটা অনেকে ভাবতে পারেননি। আগরতলা সীমান্তের ১৫ কিলোমিটার উত্তরে ভারতীয় অঞ্চলের নরশিংগড়ে যৌথ টহলের প্রয়োজন হয়েছে কেন? কোন দেশের স্বার্থে এই যৌথ টহলদারী? সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে, সরকারের বক্তব্য মোতাবেক অনেক ভারতীয় জঙ্গি বাংলাদেশ থেকে গ্রেফতার হয়েছে। সর্বশেষ গ্রেফতার হয়েছে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ এবং মাওলানা মনসুর আলী। বলা হচ্ছে যে তারা নাকি ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি। তারা নাকি ভারতের নিয়ন্ত্রণ থেকে কাশ্মীরকে মুক্ত করার সংগ্রামে যারা লিপ্ত তাদেরকে সাহায্য করতেন। তাদের অপরাধ, আফগানিস্তানকে সোভিয়েত দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করতে বহুজাতিক মুক্তি সংগ্রামী হিসেবে সেই লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশে ভারতীয়রা গ্রেফতার হচ্ছে। ভারতে কি বাংলাদেশীরা গ্রেফতার হচ্ছে? আমরা সেটা জানি না। ভারতীয় টেলিভিশন, বিশেষ করে দূরদর্শন, ইটিভি বাংলা, জি বাংলা প্রভৃতি চ্যানেল দেখি। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক সন্ত্রাসী বা জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে, এরকম খবর আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি। আমাদের টেলিভিশন চ্যানেল এবং পত্র-পত্রিকাগুলোতে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ এবং মাওলানা মনসুর আলীর গ্রেফতার নিয়ে যত হৈচৈ ও হুলস্খুল হয়, বাজার যত গরম থাকে, তেমন হৈচৈ ও হুলুস্খুল বাংলাদেশীদেরকে নিয়ে ভারতের পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যালেনগুলোতে হয় না। সে জন্যই প্রশ্ন উঠছে, দ্বিপাক্ষিক টাস্কফোর্স কেন? ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা, মনিপুরের রাজধানী ইমফল, আসামের রাজধানী গোয়াহাটি বা মিজোরামের রাজধানী আইজল প্রভৃতি স্খানে কি বাংলাদেশের সন্ত্রাসীরা লুকিয়ে আছে যে ভারতীয় বাহিনীর সাথে বাংলাদেশ বাহিনীকে ঐ সব জায়গায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশী সন্ত্রাসী খুঁজে বের করতে হবে? বাংলাদেশে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ, মাওলানা মনসুর বা দাউদ মার্চেন্টদেরকে খুঁজে বের করার জন্য ভারতীয় বাহিনীকে ঢাকায় আসতে হয়নি। তাহলে ভারতীয় বাহিনীর সাথে বাংলাদেশ বাহিনী আগরতলা বা ত্রিপুরা গিয়ে কী খুঁজছে? কাদের খুঁজছে?
আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টো অনুযায়ী এটি হওয়ার কথা ছিল আঞ্চলিক যৌথ টাস্কফোর্স। ভারত ও বাংলাদেশ বাহিনীর সাথে থাকার কথা ছিল পাক বাহিনী, নেপালী বাহিনী, লঙ্কা বাহিনী (শ্রীলংকা)। ভুটান এবং মালদ্বীপের নিয়মিত সেনা বাহিনী নাই। তাই তাদের কথা এখানে উল্লেখ করলাম না। সার্কের ৭ জাতি বাহিনীর স্খলে মাত্র দুই জাতি বাহিনী কেন? সে জন্যই শুরুতেই আশংকা প্রকাশ করেছিলোম যে তাহলে কি দ্বিপাক্ষিক অর্থাৎ ভারত-বাংলাদেশ টাস্কফোর্স গঠিত হয়ে গেছে এবং তারা অপারেশন শুরু করেছে?
এজেন্ডা বহির্ভূত সিদ্ধান্ত
বিএসএফ বিডিআরের বৈঠক হয় ৩ দিন ধরে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যৌথ টহলধারীর কোনো এজেন্ডা ছিল না। কিন্তু দেখা যায় যে তৃতীয় দিন, অর্থাৎ ১৪ জুলাই এজেন্ডায় না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে এতবড় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। এমন অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে বাংলাদেশের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত দেবে কে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিডিআর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে নাই, চিকিৎসার জন্য তখন সিঙ্গাপুরে অবস্খান করছিলেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও তখন দেশে নাই (অবশ্য পরে জানা গেছে যে তিনি পদত্যাগ করেছেন)। তাহলে বিডিআর মহাপরিচালককে এত বড় সিদ্ধান্ত দিলো কে? তাহলে বাংলাদেশের নেপথ্যে আরো কিছু ছিল কি?
কাঁটাতারের বেড়া : তাহলে কোথায় টহল?
বাংলাদেশের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন সীমান্তের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারত কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। কাঁটাতারের এই বেড়া দিতে ভারতের এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশী মুদ্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। তাহলেই বোঝা যায় যে সীমান্তের কতখানি অংশ ঘেরাও করেছে কাঁটাতারের বেড়া। এত বড় অংশ ঘেরাও করার পরেও কি প্রয়োজন হয় যৌথ টহলের? যৌথ টহলের অন্যতম উদ্দেশ্য নাকি চোরাচালান দমন। চোরাচালানকে অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পরিভাষায় বলা হয় ‘ইনফরমাল ট্রেড’ বা অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এই অনানুষ্ঠানিক ট্রেড বা ইনফরমাল বাণিজ্য কিন্তু বেড়েই চলেছে। এখন জনগণ দেখতে চায় যে দুই দেশের বাহিনীর যৌথ টহলের ফলে বাংলাদেশে ভারতের চোরাচালান বাড়ে, না কমে? অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় যে চোরাচালান বাড়বে বৈ কমবে না।
সীমান্ত রক্ষা : তাহলে প্রতিপক্ষ কে?
বিডিআরের নাম পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন নাম হচ্ছে ‘বর্ডার গার্ড’ বা সীমান্ত রক্ষী। কাদের হাত থেকে প্রাক্তন বিডিআর বা নতুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা করবে? যাদের হাত থেকে রক্ষা করার কথা, তাদের সাথেই তো ওরা মিলেমিশে টহল দিচ্ছে, যেমন দেখা যাচ্ছে ‘সমকালের’ ঐ ছবিতে। এখন দেখা যাচ্ছে যে ওরা ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে তাদের ‘জিগরী দোস্ত।’ তাহলে আর কোন সীমান্ত রক্ষা করবে? এভাবে যদি যৌথ টহল চলতে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা মিলেঝুলে চা-বিস্কুট খাবে এবং বিড়ি-সিগারেট ফুঁকবে। আর সীমান্তের গাছের ছায়ায় দুই দেশের রক্ষীরা শুয়ে বসে শীতল হাওয়ার পরশ খাবে।
ঐদিকে ভারত তার এই সীমান্ত সম্পর্কে দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে তার সামরিক শক্তি আরো বাড়াবে এবং পাকিস্তান ও চীন সীমান্তে আরো বেশী করে সেনা মোতায়েন করবে। ফলে অচিরেই সে চীনের সমকক্ষ হয়ে উঠবে এবং রাশিয়া ও চীনের সাথে সাথে নতুন পরাশক্তি হিসেবে নিজের নাম লেখাবে। সে জন্যই ভারত তার এবারের প্রতিরক্ষা বাজেট বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বাড়িয়েছে। বিপরীত দিকে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই সামরিকভাবে হীনবল হয়ে গেছে। এখন বিডিআরও পুলিশের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। নিজের শক্তি খর্ব করে পরের শক্তি বৃদ্ধির এমন উৎকৃষ্ট নজির একমাত্র বাংলাদেশেই পাওয়া যায়। এটিকেই বলে টাস্কফোর্সের কেরামতি। যা আমাদের জন্য বরাবরের মত বড় একটি হুমকি। আর তারই মাঝে আজ মন্ত্রীসভায় সংস্কৃতির দায়িত্ব দিয়ে সরকার আবারো পানি সম্পদ মন্ত্রীর মত কবে না বলেন যে, আমাদের সংস্কৃতিই ভারতের সংস্কৃতি।এতে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবেনা। দেশের মন্ত্রী সভাও গঠিত হয় ওপারের দাদাদের নির্দেশে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28986691 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28986691 2009-07-31 13:31:56
আমাদের প্রশাসনের গতি এবং ভাবনা! চিন্তা শুধু পাবলিকের। গত ১৫ জুনের একটি ঘটনা। রাত ১১টার দিকে ঢাকার বনশ্রী এলাকায় হলুদ ট্যাক্সিক্যাবে কয়েকজন লোক আসে। বনশ্রীর ২ নম্বর রোডের সি-ব্লকের একটি বাসায় এসে তাদের একজন দারোয়ানের কাছে পানি খাওয়ানোর অনুরোধ জানায়। দারোয়ান পানি খাওয়ানোর জন্য গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে লোকটি দারোয়ানের বুকে পিস্তল চেপে ধরে। এরপর কয়েকজন লোক প্লাস্টিকের তিনটি বস্তায় করে মদের বোতল, ফেনসিডিল, বিয়ার ও অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। বস্তাগুলো তারা সিঁড়ির রুমে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা দারোয়ানের কাছে নিজেদের র্যা ব সদস্য বলে পরিচয় দেয়। তারা হুমকি দিয়ে বলে কোনো কথা বলবে না। বাড়াবাড়ি করলে ক্রসফায়ারে দেয়া হবে। আর সহযোগিতা করলে ৫০ হাজার টাকার লোভ দেখানো হয়। এরপর তারা যায় ভবনের চতুর্থ তলায়। দারোয়ানকে দিয়ে ঐ তলার ফ্ল্যাটের ব্যবসায়ী ভদ্রলোককে ডাকা হয়। ব্যবসায়ী দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে তারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও ৪/৫ জন তাদের সাথে যোগ দেয়। এরা সবাই ছিল সাদা পোশাকে। বাসায় ঢুকে দরজা বন্ধ করে সবার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। ল্যান্ডফোনের তার কেটে দেয় এবং তাদের কোন শব্দ না করার নির্দেশ দেয়। এ ফাঁকে দারোয়ান নীরবে ছয় তলায় চলে যায়। ছয় তলা থেকে সে মোবাইলে বিভিন্ন লোককে খবর দেয়। বাসায় ডাকাত পড়েছে বলে চিৎকার করে। র্যা ব সদস্যরা ততক্ষণে ঘরের প্রতিটি আলমারি, সিন্ধুক ও ওয়ারড্রপের কাপড়-চোপড় তছনছ করে ফেলে। ব্যবসায়ীর স্ত্রীর বিয়ের সব স্বর্ণালঙ্কার একটি চাদরে জড়ো করে। বাসা থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয়। এরই মধ্যে অনেক লোক ডাকাত ধরার জন্য ভবনের নিচে জড়ো হয়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে এএসপি শোয়েব আহমেদ সহযোগীদের নির্দেশ দেন, যাদের কাছে RAB পোশাক আছে তারা যেন তা পরে নেয়। উপস্থিত লোকজনের কাছে শোয়েব নিজেকে বিসিএস ক্যাডার ও চৌকস র্যা ব অফিসার হিসেবে দাবি করেন। লোকজন জড়ো হওয়ায় RAB সদস্যরা আর স্বর্ণালঙ্কারগুলো নেয়নি, তারা তখন ভোল পাল্টে ফেলে। শোয়েব ওই বাসায় অভিযানের কথা বলে এক সদস্যকে মালামালের সিজার লিস্ট তৈরি করতে বলেন। বাসায় আপত্তিকর কিছু না পাওয়ায় তাদের আনা মদের বোতল, ফেনসিডিল ও বিয়ারের বোতল লিস্টে ওঠাতে থাকে। পরে রাত দেড়টায় ব্যবসায়ীকে একটি সাদা রঙের গাড়িতে করে র্যা ব ৩-এর কার্যালয়ে নিয়ে যায়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে রাত ২টার দিকে অবশ্য ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়া হয়। ব্যবসায়ী ভয়ে এতদিন কথা বলার সাহস পাননি। এখন দুঃখ প্রকাশ করে বলছেন, যারা রক্ষক তারাই যদি ভক্ষক হয়ে যায় এবং মানুষের ক্ষতি করে তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
প্রিয় পাঠক, শোয়েব আহমেদ কোন গল্প কিংবা থ্রিলার কাহিনীর চরিত্র নন, তিনি RAB এএসপি এবং বাস্তব কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। ‘দুষ্টের' দমন ও শিষ্টের পালন' তার কর্তব্যকর্ম হলেও তিনি বিপরীত কর্মকান্ডে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। শুধু অভ্যস্ত নয়, তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বনশ্রীর ঘটনার পর ২২ জুলাই আর এক ঘটনার জন্ম দেন এএসপি শোয়েব। এদিন তাজুল ইসলাম হিরন নামের এক ব্যবসায়ীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার হয় RAB ৩ -এর এএসপি শোয়েব, সেনাবাহিনীর সৈনিক সাগর চন্দ্র বিশ্বাস ও শাহীন আলম। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইয়ের ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫শ টাকা। RAB গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা জানতে পেরেছেন। শুধু RAB কিছু সদস্যই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বহু সদস্যও ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন' ভুলে গিয়ে নিজেরাই দুষ্ট হয়ে উঠেছেন। এদের একজন হলেন মতিঝিল থানার এসআই সিরাজুল ইসলাম। রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় বৃদ্ধ আকলুস মিয়ার কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন এসআই সিরাজুল ইসলাম। বৃদ্ধ এই টাকা জোগাড় করেছিলেন ছেলে নাজমুল মিয়াকে লিবিয়া পাঠানোর উদ্দেশে। উক্ত এসআই এখন সাসপেন্ড অবস্থায় আছেন।
আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতির সাথে সাথে আইন-শৃক্মখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এসব কর্মকান্ড জনমনে নিরাপত্তাহীনতাসহ এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তাদের মনে আজ একটাই প্রশ্ন, রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়ে ওঠে তাহলে আমাদের নিরাপত্তা দেবে কে? আর যখন জনগণ দেখে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখল-বেদখল কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জব্দ করার ব্যাপারে অপরাধী ও পুলিশের মেলবন্ধন তখন হতাশার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এ প্রসঙ্গে পিরোজপুরের পর্দানশীন ৩ তরুণীর ভোগান্তির কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সরকারি দলের কর্মীরা ইসলামী ছাত্রীসংস্থার ৩ তরুণীকে উত্যক্ত করলো, মোবাইল ছিনিয়ে নিল অথচ পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নিল না। উল্টো চিহ্নিত অপরাধীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পর্দানশীন ৩ তরুণীকে জেএমবি বানাবার চেষ্টা করা হলো। তাদের থানা-হাজতের ভোগান্তির পর আদালতের কাঠগড়ায় পর্যন্ত নেয়া হলো। তদন্তে অবশ্য অভিযোগের কোন সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
উন্নত জীবনের জন্যই মানুষ গণতান্ত্রিক সমাজ চায়, আইনের শাসন চায়। ভোটের সময় রাজনৈতিক দলগুলোও জনগণের আশা-আকাক্মখার সমর্থনে উন্নত সমাজ ও আইনের শাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। আর এবারের নির্বাচনে তো দিন বদলের প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে। কিন্তু দিন বদলের ওয়াদা তো শুধু কথামালায় সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন হবে যথা আচরণের, ইনসাফ ও আইনের শাসনের। কিন্তু দিন বদলের সরকারের আচরণে আবশ্যিক এই বিষয়গুলো তেমন দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না, বরং উল্টো বিষয়ের প্রতাপে আশা ভঙ্গের কারণ ঘটেছে।
দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশের সদর দফতরও অবগত। থানার এসআই, ওসি থেকে শুরু করে এসপি, ডিআইজি পর্যন্ত কিছু পুলিশ অফিসার এখন ফ্রি স্টাইলে দুর্নীতি করছেন। শীর্ষ অফিসাররা এদের দুর্নীতি সম্পর্কে অবহিত থাকার পরও দলীয় চাপের কারণে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা সরাসরি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকায় শীর্ষ অফিসাররা সবকিছু জেনেও নীরব থাকছেন। কয়েক মাস আগেও পুলিশ প্রশাসনের অবস্থা এমন ছিল না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ বাহিনীতে কয়েক দফা বড় ধরনের রদবদল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক বিবেচনায় নয় বরং দলীয় বিবেচনাই রদবদলের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ফলে দুর্নীতিবাজ দলভক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসার সুযোগ লাভ করে। আর সরকার দলীয় এমপি ও মন্ত্রীদের তদবীরে থানার দারোগার মতো মাঠ পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও রদবদল করা হয়। এসব কারণে পুলিশ প্রশাসনে চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে এখন পুলিশের পক্ষে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঠ্যাঙানো সম্ভব হলেও ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন' সম্ভব হচ্ছে না। উল্টো অনেক ক্ষেত্রে পুলিশই এখন সাধারণ মানুষের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও দেখা যাচ্ছে এক লেজেগোবরে অবস্থা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর গত কয়েক মাসের ভূমিকাও এ অবস্থার জন্য অনেকাংশে দায়ী।
বর্তমানে আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতির অবনতির আর এক কারণ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দ্বৈতশাসন। ফলে চেইন অব কমান্ডে দেখা দিয়েছে সমস্যা। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ মানছেন না জেলা পুলিশ সুপার। অন্যদিকে থানার ওসি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ মানছেন না। এতে আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটছে বলে খোদ জেলা প্রশাসকরাই মনে করছেন। এদিকে গত মঙ্গলবার মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়াবলীর কার্য অধিবেশনে জেলা প্রশাসকরা জেলার আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হিসেবে দায়ী করলেন সমন্বয়হীনতাকে। তারা আরও বলেছেন, জেলার আইন-শৃক্মখলা রক্ষার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের ওপর অর্পিত। কিন্তু এ জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ক্ষমতা তাদের দেয়া হয়নি। তদুপরি আইন-শৃক্মখলা বাহিনীর সাথে সমন্বয়হীনতা এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের অনীহার কারণে জেলা প্রশাসকরা আইন-শৃক্মখলা রক্ষায় আশানুরূপ ভূমিকা রাখতে পারছেন না। জেলা প্রশাসকদের বক্তব্যে আইন-শৃক্মখলা রক্ষার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যার কথা উঠে এসেছে তার সমাধানে সরকার কী ভূমিকা পালন করবে তা এখন দেখার বিষয়। তবে সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে দলবাজি ও দলীয় তোষণ নীতি যে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে তা সরকারের গত কয়েক মাসের কর্মকান্ড থেকে স্পষ্টভাবেই বলা চলে। প্রসঙ্গত বর্তমান সরকারের আমলে ২০০০ পুলিশ নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা যায়। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত উপ-কমিটি। কি প্রক্রিয়ায় এ নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং কোটা পদ্ধতি কীভাবে অনুসরণ করা হয়েছে তা জানিয়ে কমিটির আগামী সভায় প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যায়িত করেছে এ কমিটি।
এখানে আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বর্তমানে পুলিশের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ার একটি প্রধান কারণ হলো অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ থাকা। এছাড়া ডিসিপ্লিন ডিভিশন থাকলেও এর কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। এসব কারণে পুলিশের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমরা মনে করি এসব বিষয়ে সরকারের নজর দেয়া প্রয়োজন। সাথে সাথে পুলিশকে দলীয় বাহিনীর বদলে রাষ্ট্রের আইন-শৃক্মখলার বাহিনী হিসেবে বিবেচনার সততাও প্রদর্শন করতে হবে সরকার এবং সরকারি দল আওয়ামী লীগকেও। থানায় যেন পুলিশ প্রশাসনের ওসি কার্যকর থাকেন। সেখানে যদি আওয়ামী লীগেরও একজন ওসি থাকেন তাহলে সরকারের দিন বদলের ঘোষণাটি প্রহসনে পরিণত হবে। বিষয়টি সরকার প্রধান এবং আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা এবং তার পরিষদবর্গ উপলব্ধি করলেই মঙ্গল। আসুন দিন বদলের কথাকে বাস্তবে রূপ দেই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28986125 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28986125 2009-07-30 12:36:55
আর কত পরে আমাদের বানিজ্য বলার অপেক্ষা রাখে না, সব মিলিয়েই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল মহলের মধ্যেও তাই উদ্বেগ-আশংকা ছড়িয়ে পড়েছে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ, বিশেষ করে রফতানি আয়ের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন ও আমদানি ব্যয় মেটানোসহ জাতীয় অর্থনীতির প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। রফতানি আয়ের পরিমাণও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। যেমন প্রধান খাত গার্মেন্টস রফতানির মাধ্যমে জোট সরকারের আমলে দেশ বছরে ৯.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৬৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় করতো। তখন দ্বিতীয় স্থানে ছিল চিংড়িসহ হিমায়িত খাদ্য ২০০৬-০৭ অর্থবছরেও এ খাতে আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৬০০ কোটি টাকা। ইইউভুক্ত সব দেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও জাপানের পাশাপাশি বিশ্বের অনেক দেশেই বাংলাদেশের চিংড়ি ও হিমায়িত খাদ্যের কদর বেড়ে চলছিল। এরই ভিত্তিতে ২০১৫ সালের মধ্যে চিংড়ি ও হিমায়িত খাদ্য রফতানি থেকে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এমন সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে শুধু নয়, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থেও রফতানি আয় বাড়ানোর চেষ্টা চালানো দরকার ছিল। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা সৃষ্টি করেছিল। ফলে মাত্র এক বছরের মধ্যে তৈরি পোশাক রফতানির অর্ডার ৩৫ শতাংশ কমে গেছে। টাকার অংকে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। অন্য সব পণ্যও কম-বেশি একই অবস্থায় রয়েছে। এর কারণ হিসেবে কেবলই বিশ্ব মন্দার দোহাই দেয়ার সুযোগ থাকতে পারে না। কারণ, অর্থনৈতিক মন্দাই একমাত্র কারণ হলে চীন ও ভারত তাদের রফতানির পরিমাণ ও পণ্যের মূল্য বাড়াতে পারতো না।
অর্থাৎ চেষ্টা থাকলে রফতানি আয় বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য প্রথমে দরকার দেশের ভেতরে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার সুরাহা করা। বিশেষ করে গার্মেন্টস কারখানায় আক্রমণ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কারো পক্ষেই আর কখনো কোনো কারখানা অচল করে দেয়া সম্ভব না হয়। চিংড়িসহ হিমায়িত খাদ্যের বিরুদ্ধে ভারত ও এনজিওদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হবে। কাঁচামাল এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যেও পদক্ষেপ নেয়া দরকার। হিমায়িত খাদ্যের মতো পণ্যগুলোর জন্য সুলভে পরিবহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অর্ডার বাড়ানোর ব্যাপারে বিশেষ করে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে তৎপর করতে হবে। কারণ ব্যবসায়ীদের একার পক্ষে অর্ডার যোগাড় করা এবং প্রতিদ্বনদ্বী দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে সরকারের দিক থেকে এখনও পর্যন্ত উৎসাহিত হওয়ার মতো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কোনো সফরই রফতানি ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে অবদান রাখতে পারেনি। তিনি এমনকি বিদেশে অবস্থিত মিশনগুলোকে সক্রিয় করতে পেরেছেন বলেও জানা যায়নি। সরকারও মিশনগুলোর কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও ব্যর্থতার ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে বাংলাদেশের রফতানি তো বাড়ছেই না, বরং পাল্লা দিয়ে কমছে জনশক্তি রফতানিও। এর ফলেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয় অনেক কমে যাচ্ছে। সরকারকে অবশ্যই জরুরি ভিত্তিতে রফতানি এবং বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার না দেয়ার প্রস্তাবটি এখনো মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত হয়নি। তার আগেই পাল্টা লবিং চালাতে হবে, যাতে বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত না হতে পারে। দেশের ভেতরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করার পদক্ষেপও অবিলম্বে নেয়া দরকার]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28984617 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28984617 2009-07-27 17:13:47
এ কোন নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা? মুখে লম্বা কথা বৈ আর কিছুই নয়! বিহার রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকার বাঙ্কে বাজার শহর থেকে গ্রাম পরিষদের একজন নেতা উপেন্দ্র কুমার বলেন, এখানকার গ্রামবাসী বিশ্বাস করে, এ ধরনের আচার-অনুষ্ঠান বৃষ্টির দেবতাকে টেনে আনবে। দেবতার আশীর্বাদে তখন মুষলধারে বৃষ্টি নামবে এবং ব্যাপকভাবে ফসল ফলানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলে এটি একটি খুবই পুরনো সামাজিক রীতি। মুষলধারে বৃষ্টি না নামা পর্যন্ত এখানকার গ্রামবাসী ও কৃষকরা এ রীতি অব্যাহত রাখার প্রতিজ্ঞা করেছে।
উল্লেখ্য, বিহার রাজ্যে গত আট দশকের মধ্যে এমন খরা আর দেখা যায়নি। শুধু বিহার নয়, ভারতের আরো কয়েকটি রাজ্যেও প্রচণ্ড খরা চলছে।


আর মুসলিম সমাজের বোরকা পড়া নিয়ে নারী স্বাধীনতা আর অধিকার নষ্ট হয়। এই কথা যারা বলেন এখন ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজ্বাধারীরা কি মুখে কুলুপ এটেছেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28983486 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28983486 2009-07-25 15:38:55
দিন বদলের স্লোগান আর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কল্পনার বাস্তবায়নে কি নির্যাতনের মিটার? আজ র‌্যাব কর্তৃক বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আওয়ামী নেতারা খুব সোচ্চার হলেও এই হত্যাকাণ্ডের সূচনা করে আওয়ামী লীগ। সর্বহারা নেতা প্রতিভাবান বামরাজনীতিক সিরাজ শিকদার হত্যার মধ্য দিয়ে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিষেক করে আওয়ামী লীগ। স্বয়ং শেখ মুজিব বলেছিলেন, “কোথায় সিরাজ শিকদার?” সে সময় সংবাদপত্রে খবর বের হয়েছিল। পালিয়ে যাওয়া চেষ্টাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে সিরাজ শিকদারের মৃত্যু। সুতরাং চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলায় বোয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান লালু তবারক নামক এক যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতন করাটা নতুন কিছু নয়। সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান লালুর নির্যাতনের শিকার তবারক হোসেন (৩৬) এখন চাপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্খায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। জানা গেছে যে, বোয়ালিয়া ইউনিয়নের মো. কাউয়ুম আলীর সাথে চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান লালুর গ্রাম্য আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধ চলে আসছিল। কাউয়ুম আলীর ছেলে শ্যালো মেশিন মেকানিক্স তবারককে গভীর রাতে একদল দুর্বৃৃত্ত বেঁধে রেখে শ্যালো মেশিন চুরি করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দিতে গেলে গোমস্তাপুর থানার ওসি বাবর আলী মামলা গ্রহণ করেননি। এরপর এ ব্যাপারে চাপাইনবাবগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হলে আদালত অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্খা নেয়ার জন্য গোমস্তাপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। কিন্তু গোমস্তাপুর থানার ওসি আদালতের নির্দেশ মেনে কোন তদন্ত করেনি। ওদিকে আদালতে অভিযোগ করার কথা জানতে পেরে আওয়ামী লীগ নেতা বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান লালু উল্টো তবারককে শ্যালো মেশিন চোর সাজিয়ে গত ১০ জুলাই শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রহনপুর বাজার থেকে তবারককে ধরে নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে এবং শ্যালো মেশিন চুরি করার কথা স্বীকারের জন্য তবারককে চাপ দেয়। তবারক এতে রাজি না হলে পরের দিন শনিবার এক সালিশে সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত তাকে পিঠমোড়া করে মাটি থেকে একহাত উঁচু করে আম গাছে উল্টো করে বেঁধে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে জোরপূর্বক সাদা কাগজে তবারকের স্বীকারোক্তি আদায় করার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে আশংকাজনক অবস্খায় চাপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় শত শত মানুষের উপস্খিতিতে পুলিশের সহযোগিতায় মধ্যযুগীয় নির্যাতন চালানো হয়। আধুনিক যুগে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মানুষের উপর নির্যাতন চালানোর বিষয়টা বিস্ময়কর। সরকার প্রায় দু’সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোন কথা বলা হয়নি।
সম্প্রতি পিরোজপুরের ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ৩ জন বোরখা পরিহিতা মেয়েকে জেএমবি বলে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে যে জঘন্য নির্যাতন চালালো এবং সরকারী প্রশাসন ও স্খানীয় আদালতসহ যে অন্যায়ভাবে মেয়ে তিনটির উপর অমানবিক আচরণ করেছে তার দৃষ্টান্ত মেলা কঠিন। তাদেরকে রিমান্ডে পর্যন্ত আনা হলো। তাদের বোরখা কেড়ে নেয়া হলো। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হলো। এটাই আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য বা চরিত্র????????


তবে এভাবেই কি দিন বদল আর কাউন্সিল করে জাতির ভাগ্য পরিবর্তন হবে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28983452 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28983452 2009-07-25 14:22:58
এরাই হল ছাত্রলীগ এর এবং শেখ হাসিনার সোনার ছেলে। (ব্যান খাওয়ার সাহস নিয়েই পোষ্ট।) http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28982218 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28982218 2009-07-22 21:47:03 টিপাইমুখ বাধ এবং আমাদের অবস্থান বনাম সরকার! ব্যাপক প্রতিবাদী জনমতের চাপে প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত মিসরে অনুষ্ঠিত ন্যাম সম্মেলন উপলক্ষে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টিপাইমুখ ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং শেখ হাসিনাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের ক্ষতি হয়, এমন কোন প্রকল্প তারা বাস্তবায়ন করবেন না। কিন্তু কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংই মনিপুরের বরাক নদীর টিপাইমুখে ব্যারাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। আসাম রাইফেলস এবং ভারতের সেনাবাহিনীর প্রহরায় একটি বেসরকারি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে ভারতীয় সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশের আপত্তির মুখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী একথা বলেননি যে, যৌথ সমীক্ষা শেষে রিপোর্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সম্মতি পাবার আগে তারা টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের কার্যক্রম মুলতবি রাখবেন। তাহলে বাংলাদেশের আশ্বস্ত হবার ভিত্তিটা কী? বাংলাদেশের ক্ষতি করে ভারত কিছু করবে না, এরকম আশ্বাস ফারাক্কাসহ অন্যান্য অভিন্ন নদীর বাঁধ নির্মাণের সময়ও তারা দিয়েছিল। তাদের এসব কথা কূটনৈতিক শঠতার আড়ালে নিছক প্রতারণা হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। এজন্যই বাংলাদেশের মানুষ সরকারের আইওয়াশ ও সময়ক্ষেপণ বা ভারতের মিষ্টি কথার আশ্বাসে বিশ্বাস আনতে পারছেন না।
এদিকে টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে এক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারকে শক্ত অবস্থান নেবার আহবান জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকারের প্রতি এক আনুষ্ঠানিক আহবানে বেগম জিয়া গত শনিবার বলেছেন, ‘মাথা নোয়াবেন না। ভয় পাবেন না। আপনারা একা নন। জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখলে আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকবো।' নানা ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মাঝে দূরত্ব ও মতানৈক্য থাকলেও জাতীয় ক্রান্তিকালে জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলীয় নেত্রীর সরকারের পাশে থাকার ঘোষণা আমাদের চলমান রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। বিরোধী দলীয় নেত্রীর এই আহবান তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতারও দ্যুতি বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্ষতি করে ভারত কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে না, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে বেগম খালেদা জিয়া সাধুবাদ জানিয়ে টিপাইমুখ প্রকল্প বাতিল করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দাবী করেছেন ভারতের কাছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে একই আহবান জানান ভারতের প্রতি, তাহলে ভারত বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে বাধ্য হবে। কিন্তু টিপাইমুখ ইস্যুতে এখন পর্যন্ত সরকারের অবস্থান সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট নয়। সরকার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে সন্তুষ্ট থাকতে চাইলে তাতে ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। ভারত লক্ষ্য করছে যে, টিপাইমুখ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদল অভিন্ন অবস্থান নিতে পারেনি এবং বিরোধীদলের অতীত ভূমিকা নিয়ে সরকার এখনও দোষারোপের রাজনীতি চর্চায় ব্যস্ত।
এই পটভূমিতে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যটি বিচার করলে আশাবাদী হওয়ার কোন উপায় নেই। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেত্রীর সহযোগিতা দানের প্রস্তাবের পটভূমিতে গত শনিবার তাঁর দলের কাউন্সিল অধিবেশনের প্রস্তুতি সভায় বলেছেন, টিপাইমুখ নিয়ে বিভেদ হলে সুযোগ নেবে প্রতিবেশী। দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীও ‘সব ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ' হবার আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু এর পাশাপাশি টিপাইমুখ ইস্যুতে বিরোধী দলের গণজাগরণ সৃষ্টিকেও তিনি কটাক্ষ করেছেন। টিপাইমুখ ইস্যুতে ভারতের অবস্থান মেনে নেয়া যদি জাতীয় ঐক্যের প্রমাণ হয়, তবে সেটা কোন দেশপ্রেমিকের কাছেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। টিপাইমুখ ইস্যুতে যারা জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে আপসহীন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর মতে তারাই কী বিভেদপন্থী? নাকি যারা গোটা জাতির মতামত উপেক্ষা করে ভারতের টিপাইমুখ প্রকল্পসহ অন্যান্য ইস্যুতে দিল্লীর প্রতি মাথা নোয়ানোর নীতি অনুসরণ করছে, তারাই বিভেদপন্থী? এই প্রশ্নের মীমাংসা করতে হলেও জাতীয় স্বার্থকেই মানদন্ড হিসেবে ধরতে হবে। সরকারের এতেও জড়তা আছে বলে মনে হয়।
টিপাইমুখ কোন দলীয় ইস্যু নয়। এটা জাতীয় ইস্যু। ভারতীয়রা এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু আমরা কেন ঐক্যবদ্ধ হতে পারছি না? প্রধানমন্ত্রী বিভেদ এড়িয়ে নিজেই এব্যাপারে জাতীয় ঐক্যের একটা রূপরেখা দিতে পারেন। বিরোধীদলীয় নেত্রীর এগিয়ে আসার ফলে কাজটি সহজ হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর এগিয়ে যাবার পালা। জনগণের নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবেও এ ব্যাপারে তাঁর দায়বদ্ধতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে জাতীয় ক্রান্তিকালে কেউ দলীয় বিভেদাত্মক কথা শুনতে চায় না। সরকার টিপাইমুখসহ অন্যান্য জাতীয় ইস্যুতে ভারতের লেজুড়বৃত্তি ছেড়ে দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান নিলেই রাজনৈতিক বিভেদের মেকী দেয়ালটা আর থাকবে না। সুতরাং বিভেদের জন্য বিরোধীদলকে দোষারোপ না করে সরকারের উচিত হবে তার নীতি-অবস্থানকে পুনর্বিন্যাস করা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28981772 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28981772 2009-07-22 01:27:29
দাদাদের দাদাগিরিতে আমরা দাদাদের বলির পাঠা! আর পাঠাদের শায়েস্তা করতেই তো দাদাদের দ্বারা গঠিত মন্ত্রী পরিষদ ও সরকার! শুধু দেশের বিশিষ্টজনরাই যে পত্র-পত্রিকায় বিবৃতি ও বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে টিপাইমুখ বাঁধের বিরোধিতা করেছেন তা নয়, সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরীক রাশেদ খান মেনন এমপিও টিপাই বাঁধ নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বরাক নদীতে ভারত টিপাইমুখ বাঁধ দিলে বাংলাদেশের সুরমা ও কুশিয়ারা নদী মরে যাবে। সর্বনাশ হয়ে যাবে বাংলাদেশের। কিন্তু এ বিষয়টি সরকার বুঝতে পারছে না। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে সরকার জোরালো কোন প্রতিবাদ করছে না, মিউ-মিউ জবাব দিচ্ছে। তিনি সংসদীয় কমিটিতে বিএনপি প্রস্তাবিত বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানান। টিপাইমুখ বাঁধের ব্যাপারে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্বপূর্ণ কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা না গেলেও বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে বাংলাদেশের জনগণের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। চিঠিতে তিনি দুই দেশের অভিন্ন নদী বরাকের টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ না করার জন্য মনমোহন সিংকে অনুরোধ করেছেন। বিএনপির দফতর সম্পাদক রুহুল কবীর রিজভী আহমদ বলেন, আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও ভারতের ঐ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তুলবো। এখানে আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের জন্য বিএনপি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জনের প্রত্যাহার দাবি করেছেন। তারা নতজানু অযোগ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির পদত্যাগও চেয়েছেন।
আমাদের সমস্যা তো এক দীপু মনি নয়, মন্ত্রী বাহাদুরদের তৎপরতায় আমাদের সংকট হ্রাসের বদলে বরং গভীর হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আর এক চ্যাম্পিয়ন হলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মইনুল ইসলামের সাথে এক বৈঠক শেষে ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, ভারত আমাদের ভালো বন্ধু এবং বিএসএফও ভালো আচরণ করছে আমাদের সাথে। ভারতের বন্ধুত্ব তো আমরা চাই কিন্তু প্রশ্ন হলো তিনি এভাবে সার্টিফিকেট দিতে গেলেন কেন? ভারত কি তার কাছে এমন কোন সার্টিফিকেট চেয়েছে? আসলে কে কার বন্ধু, সে কথা প্রমাণে সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয় না, আচরণই যথেষ্ট। ভারত আমাদের কতটা বন্ধু, কী ধরনের বন্ধু তা বাংলাদেশের জনগণ ফারুক খানের কথায় বিবেচনা করবে না, বিষয়টি নিরূপিত হবে ভারতের আচরণের নিরিখেই। ফারাক্কা বাঁধের সীমাহীন ক্ষতির পর ভারত যদি আবার শক্তির দাপট দেখিয়ে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের আগ্রাসন চালায়, এশিয়ান হাইওয়ের নামে করিডোর লাভের অপপ্রয়াস চালায় এবং প্রায় প্রতিদিন সীমান্তে পাখির মত গুলী করে বাংলাদেশীদের হত্যা করে- তাহলে এমন আচরণকে জনগণ কি নামে অভিহিত করবে? নিশ্চয়ই জনগণ ফারুক খানের ভাষায় বলবে না যে, ভারত আমাদের ভালো বন্ধু এবং বিএসএফও ভালো আচরণ করছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ আমাদের সাথে কেমন আচরণ করছে তার একটা চিত্র পাওয়া যায় মানবাধিকার সংগঠন �অধিকার'-এর রিপোর্টে। অধিকার-এর হিসাব অনুযায়ী এ বছরের পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিএসএফ ৪৪ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে, গুলী চালিয়ে আহত করেছে আরো ৪৮ জনকে। অপহরণ করেছে ৯ জনকে। লুণ্ঠন ও পুশইনের বেশ কিছু ঘটনাও ঘটিয়েছে বিএসএফ। এই যদি হয় বন্ধুত্বের উদাহরণ, তাহলে শত্রুর আর প্রয়োজন আছে কী?
আসলে হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মাধ্যমে বর্তমানে ভারত বাংলাদেশের কাছে আচরণের যেসব উদাহরণ পেশ করছে তাতে বন্ধুত্বের বার্তা নেই, আছে আগ্রাসনের আস্ফালন। আর আমাদের নতজানু মন্ত্রীদের মিউ-মিউ আওয়াজে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে যেন লেন্দুপ-দর্জিদের কণ্ঠস্বর। যে মন্ত্রীরা দেশের স্বার্থ রক্ষায় নির্বিকার এবং বন্ধু রাষ্ট্রের কাছে ন্যায্য অধিকারের কথা উচ্চারণ করার সাহসও রাখে না- দেশের শাসন ক্ষমতায় তাদের কোন প্রয়োজন আছে কী? জাতির বর্তমান সংকট মুহূর্তে শুধু এই প্রশ্ন তোলাই যথেষ্ট নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও নদী রক্ষার আন্দোলনে এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে জাতিকে। পিনাক বাবুর ঔদ্ধত্যের জবাব প্রদানে যেভাবে এগিয়ে এসেছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, পানি বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, আইনজীবী, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদ- তাতে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করার প্রেরণা পেয়েছে। আমরা আশা করবো সরকার জনগণের মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের সংশোধনে প্রয়াসী হবে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার আলোকে সরকার যদি দেশের স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসে তাহলে তার পরিণতি যে কখনো শুভ হয় না তাও উপলব্ধি করতে হবে সরকারকে। জাতির এই সংকটজনক সময়ে আমরা সরকারকে বলির পাঠার সহকারী নয় জনগনের পাশে আস্থার ছায়ায় দেখতে চাই। আসুন দেশকে এই মরুময়তা, গ্যাস পাচারের ষড়যন্ত্র, কয়লা বিক্রির অভিলাষ, করিডোর দিয়ে দেশের ন্বাধীনতাকে সরাসরি হুমকি, তথাপি দেশ রক্ষার জন্য সচেতন ভাবে কাজ করি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28969270 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28969270 2009-06-25 10:35:23
এইডস একটি ঘাতক ব্যধী। এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ও দায়িত্ব সকলের। বনাম আমাদের অবস্থান। এইডস কি? এইডস (AIDS) বর্তমান বিশ্বে একটি অত্যন্ত ভয়াবহ রোগের নাম, যার কোন চিকিৎসা বা নিরাময় পদ্ধতি নেই। ১৯৮১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় দু' কোটি পঞ্চান্ন লাখ নারী-পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৪কোটি ৩ লাখ নর-নারী এইডস রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এইডস (AIDS) = অ্যাকুয়ার্ড ইমিউন ডিফিসিয়েন্সি সিন্ড্রোম (Aquired Immune Deficiency Syndrome) অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধে অক্ষমতা সৃষ্টির কারণে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়া। আর এইডস রোগের মূল কারণ হিসেবে কাজ করে এইচআইভি (HIV)। এইচআইভি (HIV)-হিউম্যান ইমিউন ডিফিসিয়েন্সি ভাইরাস (Human Immune Deficiency Virous), অর্থাৎ মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধে ক্ষুদ্র জীবাণু। কাজেই বলা যায় মানুষের শরীরে এইচআইভি (HIV) জীবাণু পরিলক্ষিত হলে তা এইডস রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এই ক্ষুদ্র জীবাণুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের শরীরে প্রবেশের পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে ফলে নরনারীর শরীরে বিভিন্ন রোগ বিশেষ করে যৌন রোগ মরণব্যাধি হিসেবে স্থায়ী ভাবে বাসা বাঁধে।
এইডস-এর কারণসমূহ ঃ এইডস কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। তবে একজন এইডস (AIDS) আক্রান্ত রোগীর কিছু ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ স্পর্শ ও শারীরিক সম্পর্কের কারণে এইডস (AIDS) হতে পারে। আমরা সচেতনতার মাধ্যমে এসব ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বা কর্মকান্ড হতে নিজেদেরকে নিরাপদে রেখে এ ঘাতকব্যাধি এইডসকে (AIDS) �না' বলতে পারি। (ক) একজন এইচআইভি (HIV) জীবাণুবাহী নরনারীর সাথে যে কোন ধরনের যৌনমিলন করলে (যৌনাঙ্গের মাধ্যমে, পায়ূপথে ও মুখে) এইচআইভি জীবাণু ঐ ব্যক্তির শরীর থেকে তার যৌনসঙ্গীর শরীরে ছড়িয়ে যায়। (খ) যার শরীরে এইচআইভি জীবাণু আছে তার রক্ত বা শরীরের যে কোন অঙ্গ -প্রত্যঙ্গ অন্যের শরীরে সংযোজন করলে এইডস হয়। (গ) এইচআইভি (HIV) জীবাণুবাহী রোগীর ব্যবহৃত সুঁচ, সিরিঞ্জ জীবাণুমুক্ত না করে অন্য মানুষের শরীরে ব্যবহার করলে এইডস (AIDS) ছড়িয়ে পড়তে পারে। (ঘ) যে সব গর্ভবতী মায়ের শরীরে এইচআইভি জীবাণু রয়েছে সে সব মায়ের রক্তের সঙ্গে ও দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর মধ্যে এ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। (ঙ) ইনজেকশনের মাধ্যমে যারা নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে এবং এইচআইভি জীবাণুবাহী একজন রোগীর শরীরে ব্যবহৃত ইনজেকশনের সুঁচ অন্যের শরীরে ব্যবহার করা হয় তখন এইডস রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। (চ) স্বামী-স্ত্রী, বন্ধু-বান্ধব বৈধ, অবৈধ্য যেকোন প্রকারে যৌনমিলনে একজনের এইচআইভি থাকলে অন্যজনের এইডস হয়ে থাকে। (ছ) এইচআইভি বহনকারী যৌনকর্মীদের সাথে যৌনমিলনের মাধ্যমে এইডস হতে পারে।
এইডস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় ঃ (ক) নর-নারীর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একজন বিশ্বস্ত ও শরীয়তসম্মত মানুষের সাথে যৌন সম্পর্ক রাখা। (খ) যদি কারোর একাধিক যৌনসঙ্গী থাকে এবং তাদের মধ্যে কারো এইচআইভি ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা থাকে তবে প্রতিবার যৌনমিলনের সময় কনডম ব্যবহার করতে হবে। (গ) একবার মাত্র ব্যবহারযোগ্য সুঁচ বা সিরিঞ্জ দ্বারা ইনজেকশন নিতে হবে। (ঘ) রক্ত নেয়ার আগে রক্ত এইচআইভি ভাইরাস মুক্ত কি না তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। (ঙ) সেলুনে চুল দাড়ি সেভ করার সময় নতুন নতুন ব্লেড ব্যবহার করতে হবে। (চ) এমনকি ট্রুথ ব্রাশ, রেজার, ক্ষুর প্রভৃতি ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হবে।
কিভাবে এইডস ছড়ায় না ঃ (ক) একই ঘরে বসবাস করলে, (খ) একই সাথে খাওয়া-দাওয়া ও খেলাধুলা করলে, (গ) একই বিছানায় ঘুমালে, (ঘ) একই বাসনে খাবার খেলে, (ঙ) একই স্কুলে পড়াশোনা করলে, (চ) মশা বা পোকামাকড়ে কামড়ালে, (ছ) হাত মিলালে বা কোলাকুলি করলে, (জ) হাঁচি, কাশি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে (ঝ) একই টয়লেটে বাথ কর্ম সম্পাদন করলে, (ঞ) একই সাথে পুকুরে সাঁতার কাটলে প্রভৃতি।
এইডস এর বিশ্ব পরিস্থিতি ঃ বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার ৫শত জন এইচআইভি (HIV) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। এই আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৮ হাজার ৫শ জন প্রতিদিন মৃত্যুর কবলে পতিত হয়। ডাক্তার আব্দুল মনসুরের তথ্যানুযায়ী ১৯৮১ সালে আমেরিকার একটি হসপিটালে প্রথম এইডস রোগি সনাক্ত করা হয় যার অসুস্থতার কারণ হিসেবে ১৯৮৩ সালে এইচআইভি নামে একটি ক্ষুদ্র জীবাণুকে দায়ী করা হয়। ২০০৫ সাল পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ লোক এই রোগে মারা গেছে। এবং বর্তমানে এ রোগে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩ লাখ। ২০০৫ সালে নতুন ভাবে প্রায় ৪৯ লাখ নরনারী এইডস রোগে আক্রান্ত হয় যার মধ্যে ৩১ লাখ ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় ৩০% নরনারী এইডস রোগে আক্রান্ত। বতসোয়ানায় ২০% এর অধিক গর্ভবতী মা এ রোগে আক্রান্ত। ২০০৫ সালে এ অঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ লোক মারা গেছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ৫৭ লাখ রোগী বর্তমানে এইডস এ আক্রান্ত হয়ে পড়েছে এবং ২০০৫ সালে মিয়ানমারে মারা গেছে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের ধারণা উন্নত দেশগুলোও উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশসমূহকে পিছিয়ে রাখার জন্য এইডস ও ক্ষুদ্র ঋণের গ্যাঁড়াকলকে আধুনিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশ ও এইডস ঃ ১ ডিসেম্বর ২০০৪ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৪৬৫ জন এইডস রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের ৪৪ জন ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে। UNAIDS-এর মতে, এ সংখ্যা ১৫শ' থেকে ২ হাজার ৫শ' হবে। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার অধীনে প্রায় ৭ হাজার ৫শ' জন সুস্থ মানুষের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়, এর মধ্যে ১৩৪ জনের রক্তে এইচআইভি (HIV) পাওয়া গেছে। যাদের ৭৪ জন ইতোমধ্যেই মারা গেছে।
সিলেটাঞ্চলে এইডস ঃ হযরত শাহজালাল (রঃ) পূণ্যভূমি সিলেটে ধর্মীয় অনুশাসন বহির্ভূত পদস্খলণের মাধ্যমে এইডস (AIDS) রোগে আক্রান্ত হওয়া অকল্পনীয়। তবে বহির্দেশে বসবাসকারী মানুষের দ্বারা এ অঞ্চলে এইডস (AIDS) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পর্যন্ত সিলেটাঞ্চলে প্রায় ১২৫ জন এইডস (AIDS) আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০/১২ জন ইতোমধ্যে মারা গেছে। এ অঞ্চলে এইডস আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ১৪ জন নারী ও ৭ জন শিশু। সিলেটের এইডস (AIDS) আক্রান্ত মহিলাদের অধিকাংশরাই স্বামীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই লোকগুলো সাধারণতঃ মধ্যপ্রাচ্যের জেদ্দাতে কর্মরত ছিল এবং স্থানীয় বিয়ানীবাজারের অধিবাসী। এছাড়া ৪ জন ট্রাক ড্রাইভার স্বামী কর্তৃক স্ত্রীরা এইডস (AIDS) রোগে আক্রান্ত হয়। একজন ভারতের করিমগঞ্জ হতে ফিরে আসা মানুষের শরীরে এইচআইভি (HIV) জীবাণু পাওয়া যায়। এছাড়া স্থানীয় হোটেলে যৌন কর্মীরা এইডস (AIDS) ছড়ানোর কাজে সহায়তা করে থাকে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলেও এ কথা সত্য, সিলেটের একজন সম্ভ্রান্ত, ভদ্র মহিলা অসুস্থ অবস্থায় বিনা পরীক্ষাকৃত রক্ত গ্রহণ করার কারণে এইডস (AIDS) রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর সন্তান বর্তমানে এইচআইভি (HIV) জীবাণু বহন করছে।
এইডস (AIDS) থেকে নিরাপদে থাকার উপায় ঃ ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ��Prevention is better than cure.�� ঘাতক ব্যাধি এইডস (AIDS)-এর হাত হতে মুক্তি নেই। তাই আমরা নিম্নোক্ত সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে নিজেদেরকে নিরাপদে রাখতে সক্ষম হতে পারি। ১। এইডস সম্পর্কে নারী-পুরুষ উভয়কে ব্যাপক হারে সচেতন করতে হবে। ২। ধর্মীয় অনুশাসনকে কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। ৩। মানুষের নীতি-নৈতিকতার মূল্যবোধ বৃদ্ধি করতে হবে। ৪। পারিবারিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি করতে হবে। ৫। নিজের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ জীবনের কথা চিন্তা করতে হবে। ৬। মালয়েশিয়ার মত সরকারি আইনের মাধ্যমে বিয়ের পূর্বে ছেলে মেয়ে উভয়ের এইচআইভি পরীক্ষা করাতে হবে। ৭। এইচআইভি দূরীকরণে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ৮। স্থানীয় হোটেলে যৌনকর্মীর মেলা মেশা বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনবোধে কনডম ব্যবহার করা যেতে পারে। ৯। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষদের তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে এইচআইভি সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। ১০। সিলেট মহানগরীতে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি মাদকদ্রব্য নিরাময় কেন্দ্র আছে যেখানে প্রতিটিতে ৩০ থেকে ৫০ জন রোগী আছে। তাদের রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত পৃথক সুঁচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।
আল্লাহ্ সীমালংঘনকারীকে পছন্দ করেন না। কাজেই আমরা প্রত্যেকে নিজে নিজের বিবেক মতো ভাল কাজ করবো, ভাল থাকবো, পরিবার, সমাজ ও দেশকে ভাল রাখবো এই হোক আমাদের স্বাধীন সোনার দেশের প্রতি প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28963974 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28963974 2009-06-13 13:17:18
ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে কলেজে মেয়েদের জিন্স প‌্যান্ট পরা নিষিদ্ধ করা হল। উদ্দেশ্য ইভ টিজিং কমানো! নিষেধাজ্ঞার হ্নপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে উত্তর প্রদেশের কানপুর শহরের দয়ানন্দ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষবলক্ষ্মৌ (ভারত) থেকে ইসলাম অনলাইন : যৌন হয়রানি বৃহ্নি রোধের চেষ্টায় ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের ৪টি কলেজের কর্তৃপক্ষ শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রীদের জিন্স এবং অন্যান্য পাশ্চাত্য রুচীর পোশাক পরিধানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর শুরু হয়েছে ১০ জুন বুধবার থেকে।
নিষেধাজ্ঞার হ্নপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে উত্তর প্রদেশের কানপুর শহরের দয়ানন্দ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মিতা জামাল বার্তা সংন্সা এএফপিকে বলেন, ��নারীদের বিরুহ্নে অপরাধ বন্ধ করার এটাই একমাত্র পথ। কানপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত আরো তিনটি কলেজও ক্যাম্পাসে জিন্সের পোশাক নিষিহ্ন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইদানিং মেয়েদের উপর �ইভ-টিজিং' নামে পরিচিত যৌন হয়রানি ভারতে মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এ সিহ্নাশ্চ নেয়া হয়েছে। দেখা গেছে, যেসব মেয়ে আটসাঁট জিন্স টাইট ব্লাউজ এবং মিনিস্কাট পরে তারাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হয়।
অধ্যক্ষ মিতা জামাল বলেন, ��কলেজ ছুটির সময় বখাটে ছেলের দল গেটে ভীর জমায়। তারা প্রায় সময় মেয়েদের সাথে আপত্তিকর অশোভন ও অশালীন আচরণ করে। তবে তাদের ঐ বাজে আচরণের শিকার হয় ঐসব মেয়ে যারা জিন্স ও শরীরের সাথে লেপ্টে থাকা টাইট পোশাক পরিধান করে। এ ধরনের ঘটনা এখন নিয়মিত ঘটে চলেছে। কলেজ গেটের বাইরেই এ ধরনের ইভটিজিং-এর একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রক্তত পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। তিনি বলেন, এরপর আমরা ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের জিন্স পরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সিহ্নাশ্চ নিয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে ইভটিজিং ঠেকাতে উত্তর প্রদেশের বহুসংখ্যক কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের জিন্স, শর্ট টাইট ব্লাউজ এবং মিনিস্কার্ট পরিধান নিষিহ্ন করেছে। ইদানিং কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা প্রতিনিয়ত বখাটে ছেলেদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। তবে নিপীড়নের শিকার অনেক কলেজ ছাত্রী মনে করছে এ সিহ্নাশ্চের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে না। শেহতা চিত্রাবেদী নামের এক কলেজছাত্রী সংবাদসংন্সা আইএএনএস কে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের এ সিহ্নাশ্চ অযৌক্তিক। তিনি বলেন কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিই ইভটিজিং বন্ধ করতে চায় তাহলে তাদের পুলিশের সাহায্যে নেয়া উচিৎ।
ছাত্রীরা এ সিহ্নাশ্চকে তাদের জন্য শাস্তি হিসেবে মনে করছে। আরেক ছাত্রী রিচা শর্মা বলছেন, কলেজ ছাত্রীদের জিন্স পরিধান করা একটি হ্নাভাবিক ব্যাপার। তিনি বলেন, মিনিস্কাট ও শট টপস, ব্লাউজের উপর নিষেধাজ্ঞার কারণটা আমি উপলব্ধি করি। কিন্তু জিন্স কেন নিষেধ করা হচ্ছে? পুরো ভারত জুড়ে অনেক কলেজ জিন্স পরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু এর প্রতিবাদ করছে ছাত্রীরা। তারা বলছে তাদেরকে জোরপূর্বক পোশাক নির্ধারিত করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু উত্তর প্রদেশের কলেজ কর্তৃপক্ষ মনে করছে ইভ-টিজিং এর সমস্যা সমাধানের এটাই যৌক্তিক পথ। মিতা জামাল বলেন, ��খুব শীঘ্রই তারা কলেজের ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত পোশাক পরিধানের বিধান চালু করতে যাচ্ছেন। এখন থেকে যারা কলেজে জিন্সের পোশাক পরে আসবে তাদের বহিষ্কার করা হোক। ��নারীদের বিরুহ্নে অপরাধ বন্ধ করার এটাই একমাত্র পথ। কানপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত আরো তিনটি কলেজও ক্যাম্পাসে জিন্সের পোশাক নিষিহ্ন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইদানিং মেয়েদের উপর �ইভ-টিজিং' নামে পরিচিত যৌন হয়রানি ভারতে মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এ সিহ্নাশ্চ নেয়া হয়েছে। দেখা গেছে, যেসব মেয়ে আটসাঁট জিন্স টাইট ব্লাউজ এবং মিনিস্কাট পরে তারাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হয়।
অধ্যক্ষ মিতা জামাল বলেন, ��কলেজ ছুটির সময় বখাটে ছেলের দল গেটে ভীর জমায়। তারা প্রায় সময় মেয়েদের সাথে আপত্তিকর অশোভন ও অশালীন আচরণ করে। তবে তাদের ঐ বাজে আচরণের শিকার হয় ঐসব মেয়ে যারা জিন্স ও শরীরের সাথে লেপ্টে থাকা টাইট পোশাক পরিধান করে। এ ধরনের ঘটনা এখন নিয়মিত ঘটে চলেছে। কলেজ গেটের বাইরেই এ ধরনের ইভটিজিং-এর একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। তিনি বলেন, এরপর আমরা ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের জিন্স পরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে ইভটিজিং ঠেকাতে উত্তর প্রদেশের বহুসংখ্যক কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের জিন্স, শর্ট টাইট ব্লাউজ এবং মিনিস্কার্ট পরিধান নিষিহ্ন করেছে। ইদানিং কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা প্রতিনিয়ত বখাটে ছেলেদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। তবে নিপীড়নের শিকার অনেক কলেজ ছাত্রী মনে করছে এ সিহ্নাশ্চের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে না। শেহতা চিত্রাবেদী নামের এক কলেজছাত্রী সংবাদসংন্সা আইএএনএস কে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের এ সিহ্নাশ্চ অযৌক্তিক। তিনি বলেন কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিই ইভটিজিং বন্ধ করতে চায় তাহলে তাদের পুলিশের সাহায্যে নেয়া উচিৎ।
ছাত্রীরা এ সিহ্নাশ্চকে তাদের জন্য শাস্তি হিসেবে মনে করছে। আরেক ছাত্রী রিচা শর্মা বলছেন, কলেজ ছাত্রীদের জিন্স পরিধান করা একটি হ্নাভাবিক ব্যাপার। তিনি বলেন, মিনিস্কাট ও শট টপস, ব্লাউজের উপর নিষেধাজ্ঞার কারণটা আমি উপলব্ধি করি। কিন্তু জিন্স কেন নিষেধ করা হচ্ছে? পুরো ভারত জুড়ে অনেক কলেজ জিন্স পরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিশ্চু এর প্রতিবাদ করছে ছাত্রীরা। তারা বলছে তাদেরকে জোরপূর্বক পোশাক নির্ধারিত করে দেয়া হচ্ছে। কিশ্চু উত্তর প্রদেশের কলেজ কর্তৃপক্ষ মনে করছে ইভ-টিজিং এর সমস্যা সমাধানের এটাই যৌক্তিক পথ। মিতা জামাল বলেন, ��খুব শীঘ্রই তারা কলেজের ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত পোশাক পরিধানের বিধান চালু করতে যাচ্ছেন। এখন থেকে যারা কলেজে জিন্সের পোশাক পরে আসবে তাদের বহিষ্কার করা হোক। ব্যপারটি দেরীতে হলেও ভারতীয়দের টনক নড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশেও এর ব্যপক প্রসার ঘটার ফলে আমাদেরও কি এরকম পথ একসময় গ্রহন করতে হবেনা? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28963623 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28963623 2009-06-12 13:00:08
নদী বাচাও....দেশ বাচাও! মানুষ বাচাও..... দেশের স্বার্থ বাচাও! প্রধানমন্ত্রী যে কোন মূল্যে নদ নদীসমূহকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন, তার প্রত্যয়টি মূল্যবান তবে যে পদ্ধতি অনুসরণের কথা বলেছেন তা ব্যয়বহুল শুধুমাত্র ড্রেজিং করে বাংলাদেশের নদ-নদীকে তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া কতটুকু বাস্তব তা পরীক্ষা সাপেক্ষ বিষয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে এক সময় একটি ড্রেজিং ডিভিশন ছিল, কাঠামোগত সংস্কারের আওতায় এবং ব্যয় বাহুল্যের কারণে এই ডিভিশন নববই এর দশকেই বিলুপ্ত হয়েছে। তাদের ৪৫টি ড্রেজার ছিল। মেরামত ও সংরক্ষণের অভাবে অচল হতে হতে এখন তা দু'তিনটিতে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নদীসমূহে এক কিলোমিটার ড্রেজিং করতে ১৫/২০ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়, তেল চুরির ঘটনাতো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এই অবস্থায় ড্রেজিং-এর মাধ্যমে আমাদের চর পড়া নদীগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হলে নতুন করে ড্রেজার ডিভিশন গঠন, ড্রেজিং এর জন্য জাহাজ ক্রয়, সেগুলোর সংরক্ষণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবত কয়েক লক্ষ কোটি টাকার প্রয়োজন যার আঞ্জাম দেয়া দরিদ্র এই দেশের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে চীনের ন্যায় নদী খননের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রমে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এ কাজে ব্যবহার করা সরকার তার নীতি পলিসি ও দলীয় সংকীর্ণতার মাধ্যমে যে ভাবে দেশবাসীকে বিভক্ত করে ফেলেছেন তাতে মানুষের কাছ থেকে স্বেচ্ছাশ্রম আদায় করা কঠিন কাজ। আবার ভারতকে বিনা বাধায় উজানে বাঁধ দিয়ে নদীর পানি প্রত্যাহারের স্বাধীনতা দিলে খনন করেও নদীগুলোকে তাদের পূর্ববস্থায় ফিরিয়ে নেয়া সম্ভবপর হবে বলে আমরা মনে করি না এই অবস্থায় দেশবাসীকে মিষ্টি কথায় না ভুলিয়ে টিপাইমুখসহ ভারত কর্তৃক পরিকল্পিত অন্যান্য নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ ও নদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন রোধকল্পে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক দেন দরবার শুরু করে প্রয়োজনবোধে আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি উত্থাপন করত দেশের স্বার্থ রক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি। এতে পরিবেশও বাঁচবে নদ-নদীগুলোও বাঁচবে। আমার দেশের এই সুন্দর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করি..........]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28962089 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28962089 2009-06-09 08:28:05 জুলুমবাজি পুলিশ রিমান্ড বাতিল হওয়া প্রয়োজন.............................. ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে বর্তমানে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে দিনবদলের চর্চা হলেও স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের সম্মানিত নাগরিকদের প্রজাতন্ত্রের জালিম পুলিশদের অমানবিক জুলুম-অত্যাচার বন্ধ করতে নির্বাচিত সম্মানিত এমপি-মন্ত্রী সাহেবগণ একটিবারও পুলিশ রিমান্ড বিষয়ে আলোচনায় দিনবদলের পালা দেখান না কেন? আপনাদের উপর কি জনসাধারণ, জনকল্যাণ ও জনস্বার্থমূলক কাজকর্মের আশা করতে পারে না? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন আইনজীবী। সম্মানিত আইন মন্ত্রী সাহেব একজন স্বনামধন্য প্রবীণ আইনজীবী। তিনি জনগণের দুঃখ-দুর্দশা জানেন। তিনি তো জুলুমবাজী পুলিশ রিমান্ড বাতিলের জন্য কেবিনেট মিটিংয়ের বিবিধ এজেন্ডায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করে ধন্যবাদ ও অভিনন্দনের পাত্র হতে পারেন।
ফৌজদারি মামলায় পুলিশরা কোর্টে বন্দীকে পুলিশের ইচ্ছামত ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে থাকে। বন্দীদের মধ্যে দুর্ভাগ্যবশত পরিস্থিতির শিকার সম্মানিত আয়করদাতা, উচ্চশিক্ষিত ভদ্রলোক, আলেম ওলামা, বিশ্ববিখ্যাত প্রফেসর, প্রাক্তন মন্ত্রী প্রমুখ সম্মানিত নিরপরাধ ব্যক্তিরা থাকেন, যাদেরকে সম্মান করার মতো জ্ঞান ও ভদ্রতা পুলিশের নেই। কোর্ট পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করলে পুলিশদের খুশীর সীমা থাকে না, যেন একটা শিকার পেয়ে গেল। পুলিশ মানুষকে যে রকম মারপিট করে, তা একটা পাগলা কুত্তাকেও করে না। একজন বন্দী প্রজাতন্ত্রের পুলিশ কর্মচারীর নিকট কি কুত্তার চেয়েও অধম? এটা কি হৃদয়বিদারক বিচিত্র কাহিনী নয়? এটাই কি সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা তথা ৩০ লাখ মুক্তি পাগল মানুষের রক্ত জীবনের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ফসল?
রিমান্ড শেষে পুলিশ বন্দীকে কোর্টে হাজির করলে, ম্যাজিস্ট্রেট ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করেন। আইন অনুযায়ী এটাই গ্রহণযোগ্য এবং বিচারের বিষয়বস্তু। পৃথিবীর সভ্যদেশে কোর্টে বাদী-বিবাদীর উকিল সাহেবদের জেরায় বন্দীর মুখ থেকে সঠিক তথ্য বের হয়ে আসে। সুতরাং বন্দীকে অনর্থক কুকুর-শিয়ালের মতো মারপিটের প্রয়োজন হয় না। পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, পুলিশ রিমান্ডের অধিকাংশ বন্দী বিচারে বেকসুর খালাস হয়ে যায়। যে সব মামলায় বন্দী খালাস হয়, সেইসব মামলায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারকে ৫/৬ বার পুলিশ রিমান্ড নিয়ে মারপিট করলে পুলিশ রিমান্ডের অতি উৎসাহ, আনন্দ ও স্বাদ মিটে যাবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28961545 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28961545 2009-06-07 23:58:10
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের পথে। যদি সংস্কারের নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলোকে দেয়া হয় তাহলে উচ্চশিক্ষার মান আগের চেয়ে নীচে নেমে যাবে। কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ছাত্রছাত্রীদের নিয়েই হিমশিম খাচ্ছে। ১৭ বছর আগে যখন কলেজগুলো বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল তখন দেখা গেছে কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরা সবসময় বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার হতো। তাদেরকে অবমূল্যায়ন করা হতো। এখন যে শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন তারাই প্রশ্নপত্র তৈরি এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন, ফলে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কোন সমস্যায় পড়তে হয় না। ১৭ বছর আগে এ সুবিধা ছিল না, পাঠ্যক্রম পরিচালনা করতেন কলেজের শিক্ষকগণ, কিন্তু প্রশ্নপত্র এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ, ফলে অনেক সময়ই দেখা যেত প্রশ্নের সাথে পাঠ্যসূচীর কোন মিল নেই, পরীক্ষার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করার অভিযোগও রয়েছে। তখন ছাত্র অসন্তোষের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিদর্শক হত্যার মত অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।
সূত্রটি আরো জানায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় ১৮শ কলেজ আছে। ২৯টি বিষয়ে অনার্স কোর্স আছে। এমন অনেক বিষয়ে অনার্স কোর্স পড়ানো হয় যা কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। এ বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব আয়ে চলে। প্রায় ২শ’ কোটি টাকার ফান্ড আছে। দুর্নীতির ধুয়া তুলে এ বিশাল প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করা হচ্ছে, কিন্তু কি সেই দুর্নীতি তা কেউ বলতে পারছে না। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী শিক্ষক কেলেংকারীর মত ঘটনা ঘটছে, অন্যান্য প্রায় সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েই কথা আছে। কিন্তু কই ঐ সব বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কারের তো কোন প্রশ্ন আসছে না? এবার ভর্তি নিয়ে কিছু কিছু কলেজে যে অল্পবিস্তর দুর্নীতি হয়েছে তার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বর্তমান সরকারের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগ ও কোন কোন ক্ষেত্রে মন্ত্রী এমপিরা দায়ী। তাদের দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে কলেজ শিক্ষক এমন কি অধ্যক্ষরা পর্যন্ত লাঞ্ছিত হয়েছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হওয়ার কারণে সারাদেশের কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা একই সিলেবাস অনুসারে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে , বারবার ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার হয়রানি থেকে রেহাই পেয়েছে, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে দেশের এক প্রান্তের কলেজের ছাত্র অপর প্রান্তে ট্রান্সফারের সুযোগ পাচ্ছে। একই শিক্ষাবর্ষের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সেশনজটের কারণে আগে পরে পাস করার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে না। বর্তমান সরকার যে একমুখী শিক্ষাব্যবস্খার কথা বলছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর সহায়ক ভূমিকা পালন করছে, তারপরও এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত কেন? এতে কার লাভ? আসুন এ প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28957307 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28957307 2009-05-29 08:40:13
বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিক্রী হবে ভারতের বাজারে! বাহবা দিতেই হয় টেকি বোদ্ধাদের এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যতিব্যস্ততা এবং মাত্র সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার জন্য আদিখ্যেতা দেখে দেশপ্রেমিকদের মধ্যে সঙ্গত কারণে প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে একযোগে সামনে এসেছে সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্যের দিকটি কারণ, বাংলাদেশের সড়ক, সমুদ্র বন্দর ও জমিন ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখানো হলেও সরকারের উদ্দেশ্য আসলে ভারতের স্বার্থ হাসিল করে দেয়া। উল্লেখ্য, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সড়ক পথে যোগাযোগ, ভ্রমণ ও বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে এশিয়ান হাইওয়ে নির্মাণের প্রকল্পটি প্রণীত হয়েছিল ১৯৯২ সালে। এর উদ্যোক্তা ছিল জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন এসকাপ (ইকনোমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক)। ২০০১ সালে সিউলে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। ২০০৩ সালের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এসকাপের ৫৮তম সম্মেলনে ৩২ দেশের মধ্যে এশিয়ান হাইওয়ে নিয়ে একটি আন্তঃরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক তৈরি করা হয়। কিন্তু সাংহাইতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৩২ দেশের মধ্যে ২৬টি দেশ সমঝোতায় স্বাক্ষর করলেও সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, উত্তর কোরিয়া ও তুর্কমেনিস্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশও এতে স্বাক্ষর করেনি। তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল। এর কারণ উল্লেখের আগে স্মরণ করা দরকার, বিএনপির বিরোধিতা ও অস্বীকৃতি সত্ত্বেও পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ সরকার এশিয়ান হাইওয়ের ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছিল। সে অনুযায়ী কাজও এগিয়ে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০০১ সালে চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশকে হাইওয়ে থেকে পিছিয়ে আনা হয়। এর কারণ, এক লাখ ৪১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের মধ্যে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যে দুটি মূল রুটের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পক্ষে নয়। সেজন্য জোট সরকার এএইচ-৪১ কে সাব-রিজিওনাল বা উপ-আঞ্চলিক রুট না করে মেইন রুট তথা এএইচ-১ বানানোর দাবি তুলেছিল। এটা করা গেলেই শুধু বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। কিন্তু ভারতের আপত্তিতে জোট সরকারের দাবি পূরণ করা হয়নি। ভারত সেই থেকে বাংলাদেশকে চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করার জন্য এসকাপের মাধ্যমে চাপ দিয়ে আসছে। মিয়ানমারের সঙ্গে কূটকৌশল খাটিয়েও ভারত বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।
উল্লেখ্য, প্রকৃত এশিয়ান হাইওয়ে হিসেবে এসকাপের পরিকল্পনায় যে মহাসড়কটি চিহ্নিত আছে সেটা জাপান থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান ও তুরস্ক হয়ে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর ভিত্তিতে চার দলীয় জোট সরকারের দাবি ছিল, শের শাহর আমলে তৈরি গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড ধরে দক্ষিণের আরাকান রোড (শাহ সুজা রোড) ও নাফ নদী হয়ে এশিয়ান হাইওয়ে মিয়ানমারের মংড়ু শহরে পৌঁছাবে এবং মংড়ু ও ইয়াকিব থেকে রাজধানী ইয়াঙ্গুন হয়ে ক্রমান্বয়ে কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংককের মধ্য দিয়ে চীন, লাউস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামকে যুক্ত করবে। এসকাপের মূল পরিকল্পনাতেও সেটাই ছিল। কিন্তু ভারতের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর এশিয়ান হাইওয়ের রুট পাল্টে ফেলা হয়েছে। এসকাপ এএইচ-১ নামে প্রধান যে রুটটি নির্ধারণ করেছে সে রুটের শুরু হবে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে এবং বেনাপোল থেকে ঢাকা ও সিলেট হয়ে রুটটি বাংলাদেশের তামাবিল সীমান্তে পৌঁছাবে। এসকাপের এএইচ-২ নামের দ্বিতীয় রুটটি পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্তে শুরু হবে এবং সেখান থেকে দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও ঢাকা হয়ে আবারও সিলেটের একই তামাবিল সীমান্তে গিয়ে শেষ হবে। এরপর হাইওয়েটি তামাবিল থেকে দুর্গম পাহাড়ী পথ বেয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং ও আসামের রাজধানী গৌহাটির পাশাপাশি মনিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম হয়ে দক্ষিণে যাবে- যে পর্যন্ত যাওয়ার পর ভারতের এশিয়ান হাইওয়ের আর কোনো প্রয়োজন থাকবে না। মিজোরাম থেকে এশিয়ান হাইওয়ে মিয়ানমারের প্রদেশ শান, কুচিন, কারেন, চিন প্রভৃতির ভেতর দিয়ে ইয়াঙ্গুন পর্যন্ত যাবে। এর ফলে বাংলাদেশকে অন্তত ২০০০ কিলোমিটার বা প্রায় ১২০০ মাইল অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হবে। অথচ চট্টগ্রাম-টেকনাফ-মংড়ু -আকিয়াব-ইয়াঙ্গুন হয়ে যেতে পারলে বাংলাদেশের জন্য ইয়াঙ্গুন পর্যন্ত দূরত্ব হবে মাত্র ৩০০ মাইলের মতো। শুধু তা-ই নয়, এসকাপের কথামতো তামাবিল-আসাম-মেঘালয় রুটে যুক্ত হতে হলে বাংলাদেশকে নিজের খরচে প্রায় ১০৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। উল্লেখ্য, অনেকটা সান্ত্বনা দেয়ার ঢঙে এসকাপ তার প্রকল্পে এএইচ-৪১ নামেও একটি রুটের প্রস্তাব রেখেছে। এর শুরু হবে খুলনার মংলা বন্দর থেকে। এটা সিরাজগঞ্জের হাতিকুমরুলের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও কাঁচপুর হয়ে প্রথমে চট্টগ্রামে এবং তার পর চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ পর্যন্ত যাবে। বাংলাদেশের জন্য লোভনীয় মনে হলেও এএইচ-৪১ নামের রুটটি রয়েছে এসকাপের সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের তালিকায়। এর বাস্তবায়ন আদৌ কখনো হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ করেছেন ওয়াকিবহাল মহল। হলেও এর মাধ্যমেও ভারতই উপকৃত হবে, বাংলাদেশ নয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের ‘অনেক বড় ক্ষতি' করার অভিযোগ তোলা হলেও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থেই চার দলীয় জোট সরকার বাংলাদেশকে এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত করতে সম্মত হয়নি। কারণ, বর্তমান রুটের বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশের স্বাধীন অবস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেবে। বাংলাদেশ আর একক রাষ্ট্রের অবস্থানে থাকতে পারবে না। বাংলাদেশ চারটি টুকরো হয়ে যাবে। তাছাড়া চারটি মহাসড়কের তিনটিই রয়েছে ভারত অভিমুখে। এগুলো দিয়ে ভারতীয়রা এবং তাদের যানবাহন ও পণ্যসামগ্রী যাতায়াত করবে। ফলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব তাদের চারণক্ষেত্রে পরিণত হবে। পৃথিবীর অনেক দেশই এ ধরনের হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। কিন্তু কোনো দেশকেই বাংলাদেশের মতো চার-চারটি টুকরো করে ফেলা হয়নি। অন্য কিছু বিষয়ও লক্ষ্য করা দরকার। বেনাপোল ও বাংলাবান্ধা থেকে তামাবিল পর্যন্ত মহাসড়কের দিকে লক্ষ্য করলে এ সম্পর্কে ধারণা পরিষ্কার হয়ে যাবে। এর পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য আসলে ভারতের জন্য বাংলাদেশের জমিন ও সড়ক-মহাসড়ক উন্মুক্ত করিয়ে নেয়া। সোজা কথায়, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতকে করিডোর পাইয়ে দেয়া। এই করিডোর পাওয়ার জন্যই ভারত বহুদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এতদিন দেশটি ট্রানজিটের আড়াল নিয়েছে, এবার এসকাপের মাধ্যমে নিচ্ছে এশিয়ান হাইওয়ের আড়াল। এ বিষয়ে বাংলাদেশের আপত্তির কারণ নিয়ে অনেক উপলক্ষেই আলোচনা করা হয়েছে। প্রধান কারণ হিসেবে এসেছে ভারতের মনোভাব। সকল পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নীতি ও মনোভাব মোটেও বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। তাছাড়া পৃথিবীর কোনো ছোট দেশই প্রতিবেশী বড় দেশকে তার ভূমি, সড়ক ও সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করতে দেয় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি সকল দিক থেকেই বিপজ্জনক। চট্টগ্রাম বন্দরের কথাই ধরা যাক। ধারণ ও পরিবহন ক্ষমতা খুব কম বলে শুধু বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনকারী জাহাজগুলোকেই বন্দরে ও বহির্নোঙ্গরে দিনের পর দিন, এমনকি মাস পর্যন্ত আটকে থাকতে হয়। কন্টেইনার জটও সেখানে নিয়মিত বিষয়। ভারতকে যদি ওই বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয় তাহলে এখনকার চাইতে শতগুণ বেশি সংখ্যক জাহাজ যাতায়াত করবে। ফলে জাহাজ ও কন্টেইনারজটও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। এশিয়ান হাইওয়ে নিয়ে চুক্তি থাকায় ভারত এ ক্ষয়ক্ষতি মানবে না। তখন সহজে বাংলাদেশের কোনো জাহাজকে বন্দরে ভিড়তে দেয়া হবে না। অগ্রাধিকার দিতে হবে ভারতীয় জাহাজগুলোকে। এক পর্যায়ে ভারতই বন্দর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিনিয়ে নেবে। ভারত একই সঙ্গে তার পণ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে চাইবে। গোপন আয়োজনে বিভিন্নস্থানে ভারতীয় পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক ও লরিতে ডাকাতি ও হত্যা-লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটিয়ে হলেও ভারত বাংলাদেশে তার সেনাবাহিনী ঢুকিয়ে দেবে।
চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দিয়ে পণ্য আনা-নেয়ার জন্য শুধু নয়, সড়ক পথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে পণ্য আনা-নেয়াকে নিশ্চিত করার জন্যও ভারত বাংলাদেশে তার সেনাবাহিনীকে নিয়ে আসবে। বাংলাদেশের সড়ক পথের দিকটিকেও বিবেচনায় রাখা দরকার। এমনিতেই আমাদের সড়ক পথ খুব বেশি দীর্ঘ নয়। তার ওপর প্রায় সবগুলো হাইওয়ে নামেই হাইওয়ে। এগুলো সব সময় থাকে জীর্ণ দশায়। প্রতি বছর প্রতিটি সড়কের বিভিন্ন স্থানে কয়েক বার করে মেরামতের কাজ করতে হয়। ছোট-বড় সেতুগুলোর অবস্থাও নড়বড়ে। তার ওপর যদি ভারতের ভারি যানবাহন চলাচল শুরু করে তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের যাতায়াত ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে। এর কারণ, এসব সড়ক-মহাসড়কে ও সেতুগুলোর ওপর দিয়ে চলাচলকারী বাংলাদেশের যানবাহনের সংখ্যা যদি ১০ হাজার হয়ে থাকে তাহলে ভারতের যানবাহনের সংখ্যা হবে অন্তত ৪০ হাজার। অর্থাৎ সড়ক ও সেতুগুলোর বহন ক্ষমতার চাইতে অনেক বেশি সংখ্যক ও বেশি ওজনের যানবাহন চলাচল করবে। ফলে সড়কগুলো এবড়ো-থেবড়ো হয়ে দেবে যাবে, অনেক সেতু ভেঙেও পড়বে। তেমন অবস্থায় নির্মাণ ও মেরামতের ঠিকাদারিও ভারতীয়রাই আদায় করে নেবে।
এভাবে কোনো বিবেচনাতেই এশিয়ান হাইওয়ের আড়ালে ভারতকে করিডোর দেয়ার এবং চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করতে দেয়ার সিদ্ধান্ত সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। এখানে পারস্পরিক আস্থার বিষয়টিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ভারত একটি সম্প্রসারণবাদী রাষ্ট্র বলে শুধু নয়, ঐতিহাসিক কারণেও বাংলাদেশ ভারতের ওপর আস্থা রাখতে পারে না। বাংলাদেশের নিরাপত্তার প্রশ্নও এসেছে একই আস্থার কারণে। ভারতের প্রতি আস্থা সৃষ্টি হওয়ার চমৎকার সুযোগ গেছে স্বাধীনতার পর। কারণ ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহায্য করেছিল। কিন্তু আস্থা তৈরির দুর্লভ সে সুযোগটিকেও ভারতই হাতছাড়া করেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থন দেয়াকে পুঁজি বানিয়ে স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রাথমিক দিনগুলো থেকেই ভারত বাংলাদেশকে অবাধ লুন্ঠনের ক্ষেত্র বানিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের নমনীয় নীতির সুযোগে ভারত হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র ও অন্যান্য সম্পদ নিয়ে গেছে। দেশ ছেয়ে গেছে ভারতীয় পণ্যে, চোরাচালান হয়েছে সর্বব্যাপী। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বিপুল ঘাটতির মধ্যে রাখা, অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করা, ভূমি ও সমুদ্রের সীমানা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি ও তা জিইয়ে রাখা এবং সীমান্তে হত্যা পর্যন্ত এমন কোনো বিষয়ের উল্লেখ করা সম্ভব নয়, যেখানে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে শত্রুতাপূর্ণ ব্যবহার না করে চলেছে। ফারাক্কাসহ বাঁধের পর বাঁধ নির্মাণ ও পানির গতিপথকে বাধাগ্রস্ত করে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পানি আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন চুক্তি লংঘন করেও ভারত বাংলাদেশকে তার আধিপত্যবাদী নীতির ইচ্ছাধীন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব কারণেই ভারতের প্রতি বাংলাদেশীদের মনোভাব বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেনি। জনগণ এখনো ভারতের ওপর কোনো ব্যাপারেই সামান্য আস্থা রাখতে পারে না। বরং এশিয়ান হাইওয়ের আড়ালে করিডোর এবং বন্দর ব্যবহার করতে দেয়ার মতো কোনো আয়োজনের কথা শুনলেই ভীত-সন্ত্রস্ত ও শংকিত হয় তারা। এই ভীতি ও আশংকা থেকেই এসেছে বর্তমান পর্যায়ের বিরোধিতা। বস্তুত ভারতের প্রতি আস্থা সৃষ্টি হওয়ার আগে এবং অবকাঠামোগতভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি না নিয়ে এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ভারতকে করিডোর ও সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করতে দেয়ার পরিণতি বাংলাদেশের জন্য হবে ভয়ংকর রকমের ধ্বংসাত্মক। তাছাড়া এশিয়ান হাইওয়ের নামে ভারত বাংলাদেশকে যেটা গেলাতে চাচ্ছে সেটা একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য চরমভাবে অসম্মানজনকও। এমন আয়োজন কোনোক্রমেই মেনে নেয়া যায় না। একে ভারতের আরো একটি মারাত্মক ধরনের শত্রুতা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। কারণ বর্তমান পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হলে লাভ হবে কেবলই ভারতের। সে ট্যাবলেটই বাংলাদেশকে গেলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারও গেলানোর চেষ্টাকে হালাল করতে চাচ্ছে। ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় করার প্রলোভনও ধ্বংসাত্মক এবং অসম্মানজনক। কথাটা ক্ষমতাসীনরা এমনভাবে বলেছেন যেন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল ভারতের কাছে ভাড়া খাটার জন্য! তাছাড়া ভারতীয়রা সব সময় নিজেদের লোকজনই সঙ্গে নিয়ে আসবে। সুইপার-চাপরাশি ও মালটানা কুলি-মজদুর ধরনের কিছু কাজ ছাড়া আর কোনো কাজেই বাংলাদেশীরা সুযোগ পাবে না। ফলে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় অংশও ভারতীয়দের পকেটেই চলে যাবে।
সব মিলিয়েই এসকাপের বর্তমান পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাংলাদেশের কোনোভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এজন্যই চার দলীয় জোট সরকার সম্মত হয়নি বরং বিরোধিতা করেছিল। দেশের স্বার্থ বিরোধী হওয়ায় চুক্তিতে স্বাক্ষর করা দূরে থাক, সমঝোতা স্মারকে অনুস্বাক্ষর পর্যন্ত করেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী একেই ‘গড়িমসি' এবং ‘রাষ্ট্রের অনেক বড় ক্ষতি' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। উল্লেখ্য, জোট সরকারের এই দেশপ্রেমিক অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ভারত বাংলাদেশকে ‘এক হাত নেয়ার' পদক্ষেপ নিয়েছিল। ভারতের প্রচন্ড চাপ ও কূটকৌশলে মিয়ানমারও বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই এশিয়ান হাইওয়ে চালু করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল। এ ব্যবস্থা অবশ্য ভারতের জন্য লাভজনক হওয়ার নয়। কারণ, এশিয়ান হাইওয়ের নামে ভারতের আসলে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে নিজের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াত করার সুবিধা আদায় করা বেশি দরকার। বাংলাদেশকে বাদ দেয়া হলে সেটা সম্ভব নয়। সুতরাং ভারত ভয় দেখালেও বাংলাদেশের ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই এরই সূত্র ধরে দেশপ্রেমিক সকল দল ও মহলও মনে করেন, বাংলাদেশকে কেবল তখনই এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত করা যেতে পারে যখন সেটি হবে মূল পরিকল্পনার ভিত্তিতে। অর্থাৎ গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড ধরে তথা টেকনাফ ও মংড়ু -আকিয়াব হয়ে ইয়াঙ্গুন পর্যন্ত। এটা করা গেলে বাংলাদেশকে অযথাই ভারতের আসাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও মেঘালয় হয়ে ঘরের কাছে পাশের বাড়ি মিয়ানমার যেতে হবে না। ঘুরতে হবে না অতিরিক্ত ২০০০ কিলোমিটার বিপদসংকুল পথ। ১০৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের ঝক্কি পোহাতে হবে না, সামলাতে হবে না বিপুল খরচের ধাক্কাও। এটা না করা হলে তার অর্থ দাঁড়াবে ভারতকে করিডোর দিয়ে দেয়া। একথা বুঝতে হবে যে, বেনাপোল ও বাংলাবান্ধা থেকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে কোনোভাবে তামাবিল হয়ে মেঘালয় পর্যন্ত যেতে পারলে ভারতের কাছে এশিয়ান হাইওয়ের এক কানা কড়িও মূল্য থাকবে না। কারণ ভারতের দরকার করিডোর, এশিয়ার উন্নয়ন নয়। বাংলাদেশের উন্নয়নের তো প্রশ্নই উঠতে পারে না। সুতরাং এশিয়ান হাইওয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশেরও কঠোর অবস্থান নেয়া দরকার। মূলত এ দৃষ্টিকোণ থেকেই চীনকে এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছিল জোট সরকার। চীন যুক্ত হলে বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারতের দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি এবং ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন চুম্বি ভ্যালি (তিববত) হয়ে বাংলাদেশ সহজেই চীনের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। এই পথে নেপালের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য করা সহজ হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের মাধ্যমে ভারত এশিয়ান হাইওয়ের যে ট্যাবলেট গেলাতে চাচ্ছে সেটা কোনোক্রমেই গেলা যাবে না। সরকারের উচিত হবে সমঝোতা স্মারকে অনুস্বাক্ষর করে পরিকল্পিত হাইওয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং একথা জানিয়ে দেয়া যে, এমন কোনো আয়োজনে বাংলাদেশ যেতে পারে না- যার মাধ্যমে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকার হওয়ার প্রশ্নই আসেনা! আসুন আমার দেশকে সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28955325 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28955325 2009-05-25 07:24:21
বাংলাদেশ! একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং এর সংবিধানের কতিপয় সংশোধনী বনাম আমাদের মুল্যবোধ! রাজনীতিতে জড়াবে কেন বিচার বিভাগ?
একটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার মামলায় রায় হতে পারে সম্পত্তি ফেরত দেয়া অথবা না দেয়া। মুন সিনেমা হলের মালিক মাকসুদ আলম তার সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার দাবিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। আইন-কানুনের সূক্ষ্ম পর্যালোচনার পর হাইকোর্ট সেই সম্পত্তি ফেরত দেয়ার পক্ষে অথবা বিপক্ষে রায় দিতে পারতেন। কিন্তু ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়ার মত হাইকোর্ট এই মামলায় অনাবশ্যকভাবে এ দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানকে টেনে এনেছেন। একই পথ ধরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দুইজন বিজ্ঞ বিচারক ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর সংগঠিত রাতের পরিবর্তনকে বেআইনি এবং সংবিধান বিরোধী বলেছেন। সম্মানিত পাঠক ভাইদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে হাইকোর্টের ঐ বিতর্কিত রায়ের উৎসমূলে।
এই মামলার উৎস
১৯৭২ সালে পুরাতন ঢাকার ওয়াইজ ঘাটে অবস্খিত ‘মুন সিনেমা’ হল সরকার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে এবং সেই সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে প্রদান করে। তখন ঐ সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য জমির মালিক জনাব মাকসুদ আলম হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। এই সম্পত্তি মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ১৯৭৭ সালে হাইকোর্ট সরকারকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে বলা হয় যে, ১৯৭৭ সালের ৭ নং সামরিক আইন বিধির (মার্শাল ’ল রেগুলেশন) বলে হাইকোর্টের ঐ নির্দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে। ১৯৯৪ সালে জনাব মাকসুদ আলম হাইকোর্টে পুনরায় রিট পিটিশন করেন। কিন্তু সেই রিট আবেদন পুনরায় প্রত্যাখ্যাত হয়। বেশ কিছুদিন পর ২০০০ সালে জনাব মাকসুদ আলম মার্শাল ’ল বিধি নং ৭-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করেন। অবশেষে ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এবং বিচারপতি ফজলে কবির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চটি শুধুমাত্র ৭ নং সামরিক বিধিই নয়, সামরিক আইন জারিকে অবৈধ ঘোষণা করে এক ঐতিহাসিক ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী রায় দেয়।
হাইকোর্টের রায় : ধান
ভানতে শিবের গীত
একটু আগেই বলেছি যে মামলাটি ছিল একটি সম্পত্তি ফেরত দেয়ার দাবিতে। হাইকোর্ট পরিষ্কার বলতে পারত যে সম্পত্তিটি মাকসুদ আলম ফেরত পাবেন কিনা। এতটুকুর মধ্যেই তার রায় সীমাবদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু তিনি সেই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে মূল সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে সর্বাত্মক রাজনৈতিক বিষয়াবলীতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন এবং একটি রাজনৈতিক রায় রচনা করেন। সেই রায়টির উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে :
১. ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট খন্দকার মোস্তাক কর্তৃক ক্ষমতা গ্রহণ, দেশের সামরিক আইন জারি এবং ১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট জারিকৃত ফরমান বলে মোস্তাক কর্তৃক প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ ছিল অবৈধ এবং সংবিধানের লঙ্ঘন। তাই পরবর্তীতে ঐ প্রেসিডেন্টের সমস্ত কার্যকলাপ ছিল অবৈধ।
২. রায়ে আরো বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম কর্তৃক প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ভার গ্রহণ ছিল সংবিধান বহির্ভূত কাজ। সুতরাং সেটি ছিল অবৈধ ও বেআইনি। প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (সিএমএলএ) হিসেবে তার নিয়োগ এবং ১৯৭৫ সালের ৮ ডিসেম্বর একজন উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (ডিসিএমএলএ) নিয়োগ ছিল সংবিধানের লঙ্ঘন, অবৈধ এবং এখতিয়ার বহির্ভূত। ফলে তার পরবর্তী সমস্ত কার্যক্রমও ছিল অবৈধ।
৩. ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তৃতীয় ফরমান বলে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের নিকট প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের ক্ষমতা হস্তান্তরের কাজটিও ছিল বেআইনী। ফলে পরবর্তীকালে সম্পাদিত তাদের যাবতীয় কার্যক্রমও ছিল অবৈধ।
৪. বিচারপতি সায়েম কর্তৃক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে প্রেসিডেন্ট নিয়োগ এবং তার নিকট প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হস্তান্তর ছিল অবৈধ এবং এখতিয়ার বহির্ভূত।
৫. ১৯৭৭ সালে ২১ এপ্রিল মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান কর্তৃক ক্ষমতা গ্রহণ যেহেতু ছিল সংবিধান বহির্ভূত এবং অবৈধ, তাই পরবর্তীকালে এ ধরনের প্রেসিডেন্টের সমস্ত কাজ ছিল এখতিয়ার বহির্ভূত এবং অবৈধ।
৬. সংবিধানে গণভোটের কোনো ব্যবস্খা নেই তাই প্রেসিডেন্ট হিসেবে জনগণের আস্খা অর্জনের জন্য মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান যে গণভোট অনুষ্ঠান করেন সেটিও ছিল অবৈধ এবং বাতিলযোগ্য।
৭. সংবিধান লঙ্ঘন আইনের চোখে একটি গুরুতর অপরাধ এবং চিরদিন অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে থাকবে।
৮. ১৯৭৭ সালের মার্শাল ’ল রেগুলেশনস্ অবৈধ এবং আইনের লঙ্ঘন।
রাজনৈতিক বিষয়ে
আদালতকে জড়াবেন না
রাজনৈতিক বিষয়ে আদালতকে জড়ালে জাতির যে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি হয়, এখন সেটাই হওয়া শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটিকে সব সময় সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। সুপ্রিম কোর্টকে সমালোচনার টার্গেট করার কথা কল্পনাই করা যায় না। অথচ আওয়ামী লীগ এখন সেটাই করছে। খন্দকার দেলোয়ার এবং আরো তিন আইনজীবীকে হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল করার জন্য ৩০ দিনের সময় দিয়েছে। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছে আওয়ামী পন্থী সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন। তারা এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের কঠোর সমালোচনা করেছে। এটি জাতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই অবাঞ্ছিত পরিস্খিতি সৃষ্টির জন্য আওয়ামী সরকার এবং হাইকোর্টের ঐ দুই বিতর্কিত বিচারপতি সমভাবে দায়ী। হাইকোর্টের ঐ দুই বিচারপতি যদি তাদের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক রায় না দিতেন তাহলে সমস্যাটির জন্মই হতো না। কিন্তু তারা অত্যুৎসাহী হয়ে একটি রাজনৈতিক থিসিস রচনা করেন। এভাবে তারা বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করেন।
বিচার বিভাগকে দ্বিতীয় পর্যায়ে তোপের মুখে ঠেলে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। হাইকোর্টের ঐ বিতর্কিত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল তদানীন্তন জোট সরকার। এবার ঐ আপিল মামলা প্রত্যাহার করার ফলে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে আতঙ্ক। কারণ পঞ্চম সংশোধনী যদি শেষমেষ বাতিল হয়েই যায় তাহলে বিনষ্ট হবে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং সৃষ্টি হবে ভয়াবহ সাংবিধানিক শূন্যতা। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের ভাষায়, দেশ নিক্ষিপ্ত হতে চলেছে এক ভয়ঙ্কর নৈরাজ্যের কবলে। আওয়ামী লীগ যদি পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করতেই চায় তাহলে বিচার বিভাগের ঘাড়ে বন্দুক না রেখে জাতীয় সংসদেই সেটা করতে পারে। কারণ জাতীয় সংসদে তাদের রয়েছে চার পঞ্চমাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। যদি পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করার জন্য আওয়ামী লীগ সংসদে একটি বিল উথাপন করে তাহলে বিরোধী দল সেখানে তাদের বক্তব্য উথাপন করতে পারবে। বিরোধী দল জানতে চাইবে যে সে ক্ষেত্রে চতুর্থ সংশোধনীর কি হবে? বাকশাল ফিরে আসবে কি না? সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’, ‘আল্লাহর প্রতি ঈমান’ প্রভৃতি মূলনীতির কি হবে? দেশ ধর্ম নিরপেক্ষতায় ফিরে যাবে কিনা? আগের মতোই সমাজতন্ত্র সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা? দেশ ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাবে কিনা? এ সকল প্রশ্নর উত্তর জাতিকে জানতে হবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28948130 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28948130 2009-05-08 22:30:47
একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়কের এরকম যোগ্যতাই প্রথমে দরকার। যাকে দেখে জনগন ভয় নয় শান্তির পরশ পাবে।
আহমাদিনেজাদের সম্পদ বলতে ১৯৭৭ মডেলের একটি পিউজিওত- ৫০৪ গাড়ি। তেহরানের দরিদ্রতম এলাকায় বেড়ে ওঠা আহমাদিনেজাদ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন পুরনো একটি ছোট বাড়ি। তার একাউন্ট ছিল শূন্য। ওই একাউন্টে পরে ইউনিভার্সিটির বেতন হিসেবে ২৫০ ডলার জমা হয়েছে। এখনো পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাড়িতে বসবাস করেন অর্থনীতি, রাজনীতি এবং কৌশলগত দিক দিয়ে তেল সমৃদ্ধ দেশ ইরানের এ প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোনো বেতনও নেন না।

সাধারণ কর্মচারীদের মতো প্রতিদিন একটি ব্যাগে করে অফিসে নিয়ে আসেন সকালের নাশতা। তাতে থাকে কিছু স্যান্ডউইচ বা রুটি, জলপাই তেল আর পনির। প্রেসিডেন্ট পত্নী নিজ হাতে প্রস্তুত করে দেন এ খাবার। প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ সরলতায় আরও নজির স্থাপন করেছেন। তার জন্য বরাদ্দ ‘দ্য প্রেসিডেন্টস এয়ারক্রাফট’ এর বদলে ব্যবহার করেন একটি মালবাহী বিমান। যাতে নেই কোনো বিশেষ ব্যবস্থা। প্রেসিডেন্টের ম্যানেজার বা সহকারীর অফিস বাতিল করেছেন। ফলে যেকোনো মন্ত্রী পূর্বানুমতি ছাড়াই তার অফিসে ঢুকে পড়তে পারেন। খরচ বাঁচানোর জন্য তিনি লাল গালিচা সংবর্ধনা, ফটোসেশন, ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন অথবা দেশের কোনো স্থান পরিদর্শনকালে বিশেষ কোনো সম্মান দেয়ার রীতি বন্ধ করেছেন। সরলতার আরও উদাহরণ রেখেছেন তিনি। তিনি বিছানার পরিবর্তে মেঝেতেই মাদুরের ওপর চাদর বা কম্বল বিছিয়ে ঘুমাতে পছন্দ করেন। বাড়িতেও তিনি মাঝে মাঝেই গেস্টরুমে মাদুর বিছিয়ে ঘুমান। নামাজ আদায় করতে যেখানে জায়গা পান সেখানে দাঁড়িয়েই নামাজ আদায় করেন। সামনের সারিতে দাঁড়াতেই হবে এমন কোনো তাগিদ তার নেই। আর খাবার খেতে দেখা যায় সবার সঙ্গে ডাইনিং রুমের মেঝেতে বসে। একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়কের এমনই হওয়া সাজে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28947681 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28947681 2009-05-07 22:23:18
আমাগো ফুলিশ বাহিনী! দু:খ দুর্দশা লাঘবের জন্য চলে ঘুষ গ্রহন প্রকল্প! আবার আরেকদিকে সরকারী দলের খড়খ হস্ত সবমিলে হ......য.......ব........র........ল.................এই হল... পুলিশকে ঢেলে সাজানো এবং আধুনিকায়নের কথা বলা হলেও তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। পুলিশ বাহিনীর নীতিনির্ধারণী কমিটির এই বৈঠকে কর্মকর্তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা নিজের এলাকায় পছন্দের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এসআই নিয়োগ ও বদলির জন্য পদস্থ কর্মকর্তাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। উক্ত বৈঠকের পর পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ?প্রথম আলো'কে বলেন, একজন মন্ত্রী তার এলাকার একটি থানায় পছন্দের ওসি নিয়োগের জন্য পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পাঁচবার ফোন করেন। পরে পুলিশ কর্মকর্তা খোঁজ নিয়ে জানেন যে, মন্ত্রীর লোকজন ওই ওসির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। এছাড়া কেউ কেউ মামলা থেকে আসামীর নাম বাদ দেয়ার জন্য তদবির করছেন। অনেকে নানা অনৈতিক প্রস্তাব দিচ্ছেন। ফলে অনেক কর্মকর্তা এখন ভয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ফোন না ধরে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই যদি হয় অবস্থা, তা হলে পুলিশ এখন দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করবেন কেমন করে? একদিকে মন্ত্রী পছন্দের ওসি চাইছেন, অপরদিকে ওসি পছন্দের থানা চাইছেন ঘুষের বিনিময়ে। মেলবন্ধনটা বেশ ভালই। এই যদি হয় দিন বদলের চিত্র তাহলে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই শুধু বাড়বে। কারণ দুর্নীতিপুষ্ট এমন মেলবন্ধনে মন্ত্রী, এমপি ও তাদের লোকদের সন্ত্রাস ও দাপট চলবে। সাধারণ মানুষ তার অধিকার হারাবে, উৎপীড়ন-নিপীড়নের শিকার হবে। কিন্তু মেলবন্ধনের ওসি ও এসআইরা তাদের পাশে দাঁড়াবে না, বরং উল্টো আচরণ করবে, প্রয়োজনবোধ করলে ঠ্যাঙাবে, হাজতে পুরবে, জেল খাটাবে। দিন বদলের সরকারের শুরুতেই যেসব আলামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে আশাহত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।
পুলিশ বাহিনীর যেসব কর্মকর্তা ও সদস্য এখনো পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রতি আন্তরিক, তাদের জন্যও তেমন ভাল খবর নেই। প্রশ্রয় পেয়ে পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, তারা পুলিশের কাজে শুধু বাধা দেয়া নয়, অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে মারধর করে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখার দুঃসাহসও দেখিয়েছে। গত ২ মে এমন ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার বক্তাবলী বাজার এলাকায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাজারে বিএনপির অফিস দখল, বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং দোকান লুটপাট ও ভাংচুর চালালে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের এই কর্তব্য পালনে রুষ্ট হয় সরকারি দল। ফলে তারা সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ না করে উল্টো হামলা চালায় পুলিশের ওপরও। এতে চার পুলিশসহ আহত হয় ২০ জন। সরকারি দলের এমন উদাহরণ নিশ্চয়ই পুলিশকে উৎসাহিত করবে না কর্তব্যকার্য সম্পাদনে।
আসলেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফ্যাসিবাদী ও সন্ত্রাসী আচরণে হতোদ্যম হয়ে পড়েছে পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যই। এ কারণেই গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর সূত্রাপুরের অর্ধশত বছরের পুরানো শিবমন্দিরটি আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকরা ভেঙে ফেললেও পুলিশ ছিল নির্বিকার। এ সময় মন্দিরের আশেপাশের লোকজনকে বেধড়ক মারধর করে তারা। থানার পেছনেই এসব ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এগিয়ে আসেনি দায়িত্ব পালনে। উল্টো সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়েছে পুলিশ- এমন অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ তো সেক্যুলার রাজনীতির কথা বলে, দিন বদলের এমন দৃশ্যে এলাকার মানুষ হতবাক!
আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির যখন অবনতি ঘটে, তখন চাঁদাবাজির তান্ডব ঘুম কেড়ে নেয় নাগরিকদের। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, দোকান মালিক, ঠিকাদার, বাড়ির মালিক, এমনকি খেটে খাওয়া মানুষও এখন চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শীর্ষ সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার ছিঁচকে মাস্তানরাও এখন মেতে উঠেছে চাঁদাবাজিতে। পুলিশ এদের নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো অবদান রাখতে পারছে না। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী দলীয় নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে স্থানীয় দুর্বৃত্তসহ অন্যদের দমনে তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা পালনে সমর্থ হচ্ছে না। আবার আইন-শৃক্মখলা বাহিনীর কিছু কিছু সদস্য স্থানীয় দুর্বৃত্তদের সমর্থন করায় সাধারণ মানুষ আইনী সহায়তা নিতেও ভয় পাচ্ছে।
দেশের আইন-শৃক্মখলা রক্ষার মহান দায়িত্ব পুলিশ বাহিনীর। কিন্তু এই পুলিশ যখন অকার্যকর হয়ে পড়ে কিংবা তাদের নৈতিক পদস্খলন হয়ে পড়ে কিংবা তাদের নৈতিক পদস্খলন ঘটে, তখন শুধু জনগণের জানমালই হুমকির মুখে পড়ে না, হুমকির মুখে পড়ে তাদের সম্ভ্রমও। তাই এখন প্রতিনিয়তই লক্ষ্য করা যাচ্ছে শাসকদলের মাস্তানদের হাতে নারীদের সম্ভ্রম ও শ্লীলতাহানির ঘটনা। সম্প্রতি নাটোরের সিংড়ায় স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে বিবস্ত্র করে ছবি তোলার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাশিনাথ দাসের ভাতিজা আওয়ামী লীগ ক্যাডার নিরঞ্জনদাস ভুলু ও তার সঙ্গীরা গত রোববার সকালে সিংড়া বাজার থেকে শাকিলা নামের ঐ কিশোরীকে তুলে নিয়ে একটি দোকানে আটকে রাখে। পরে ভুলু তার সঙ্গীসহ ঐ কিশোরীকে বিবস্ত্র করে ছবি তুলতে থাকলে কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে সিংড়া থানা পুলিশ নিজেরা কোন আইনী ব্যবস্থা না নিয়ে পরিস্থিতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অবহিত করে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি থানায় মামলা করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু থানায় যাওয়ার পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কেএমজি ফারুক বুলুর নেতৃত্বে পরিবারটিকে আটক করে মামলা না করার জন্য চাপ দেয়া হয়। বিষয়টি পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলামকে জানানো হলে তিনিও থাকেন নির্লিপ্ত। এসব ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে দাবি জানাতে থাকলে অবশেষে রাতে পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য হয়। মামলা দায়েরের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা মীমাংসার নামে চাপ দিয়ে যাচ্ছে পরিবারটির ওপর। উল্লেখ্য যে, জোড়মলিফা গ্রামের দরিদ্র পরিবারের এই মেয়েটি স্থানীয় স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়তো। বাড়ির গাভীর দুধ বিক্রি করে সে নিজের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালাতো। কিন্তু এই ঘটনার পর শাকিলার পড়াশোনার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পুলিশের ভূমিকা দেখে স্থানীয় জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, পুলিশ কি শিষ্টের বদলে দুষ্টের পালন করে যাবে? সরকারের প্রশ্রয় এবং পুলিশের নতজানু ভূমিকায় সরকারি দলের ক্যাডাররা এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা সংঘটিত করে যাচ্ছে। গত শনিবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের শুভাড্যায়। স্থানীয় যুবলীগ ক্যাডার আবুল ও রাসেলের নেতৃত্বে গোলামবাজার এলাকা থেকে এক গৃহবধূকে অপহরণ করে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আটকে রেখে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এ ব্যাপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ৬-৫-০৯ মামলা করা হয়েছে।
এতো গেল যুবলীগ ক্যাডারদের জনসেবার নমুনা। ছাত্রলীগ ক্যাডারদের দেশসেবার নমুনাতো প্রতিনিয়তই পাওয়া যাচ্ছে। গত পহেলা মে বেনাপোলে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা স্থানীয় বন্দরের শ্রমিক ইউনিয়ন অফিস ভাংচুর করে এবং শ্রমিক নেতাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় ২ মে থেকে বেনাপোল বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন। শ্রমিকরা বন্দরে সব ধরনের মালামাল খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। ছাত্রলীগ কর্মীদের আটক ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে শ্রমিকরা আরও বড় ধরনের আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে স্থলবন্দরের গুরুত্ব নতুন করে বলার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ছাত্রলীগের দাপট ও সন্ত্রাসের কারণে বন্দরের মালামাল খালাস প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ হয়ে গেল। ছাত্রলীগের এ ধরনের দেশ সেবার আদৌ কোন প্রয়োজন আছে কি? আরও দুর্ভাবনার বিষয় হলো, শ্রমিক ইউনিয়নের মে দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে যখন ছাত্রলীগ হামলা চালায়, তখন তা পোর্ট থানার ওসিকে অবহিত করা হয়েছিল। ওসি তখন সাফ জানিয়ে দেন যে, ফোর্স পাঠানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। অবস্থা যদি এমন হয় যে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা দেশব্যাপী জনগণের জানমাল ও ইজ্জতের ওপর হামলা চালিয়ে যাবে; আর পুলিশ তা দেখে যাবে এবং ক্যাডারদের সহযোগিতা করবে- তাহলে জনগণের এমন পুলিশ বাহিনীর কোন প্রয়োজন আছে কি? অথচ বর্তমান সরকার দিনবদলের ওয়াদা করে ক্ষমতায় এসেছিল, পুলিশও দিনবদলের অভিযাত্রায় কাঙ্ক্ষিত সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই কি দিনবদল ও জনসেবার নমুনা?
দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হলেও আমাদের পুলিশ বাহিনীর কোনো কোনো সদস্য এখন মেলোড্রামায় বেশ পারঙ্গম হয়ে উঠেছেন। বর্তমান সরকারের পছন্দের কাজে এরা এখন যেকোনো মাত্রায় মেলোড্রামা করতে কুণ্ঠিত নয়। সম্প্রতি মেলোড্রামার এক ঘটনা ঘটেছে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। পুলিশ তো জানে যে, বর্তমান সরকারের বিশেষ পছন্দের কাজের একটি হলো জঙ্গি দমনের প্রপাগান্ডা। এ অবস্থায় গানপাউডার উদ্ধারের তৎপরতা চালাতে পারলে তো মন্দ হয় না। এমন এক তৎপরতা চালানো হলো যাত্রাবাড়ীর রসুলপুরের সোবহান সরদারের দোকানে। গানপাউডার বিক্রির অপরাধে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলো। সোবহান সরদার এখন জেলে। এ ঘটনা নাটককেও হার মানায়। প্রকৃত ব্যাপার হলো, সোবহান সরদার মশার কয়েল তৈরির কাঁচামাল গাম-পাউডার (চকের গুঁড়া) বিক্রি করতেন। এই পাউডারের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। অথচ এই গাম-পাউডারই পুলিশের চোখে ভয়াবহ বিস্ফোরক গান-পাউডারের মর্যাদা পেল। আর যায় কোথায়, সাধারণ গাম-পাউডার বিক্রেতা পুলিশের কল্যাণে এখন জেলে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে মামলা রুজু করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশের কথিত গান-পাউডার উদ্ধার অভিযান নিয়ে এলাকায় বেশ তোলপাড়ও চলছে। এদিকে পুলিশের এই মেলোড্রামায় এলাকার জনমনে একই সাথে ক্ষোভ ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য যে, সোবহান সরদার দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ঐ এলাকায় মশার কয়েলের ব্যবসা করে আসছেন। পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদের সাথে একমত যে, মানুষের জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পুলিশের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এই কি সেই পুলিশ- যে পুলিশের বয়ান আমরা এতক্ষণ করলাম নিশ্চয়ই নয়। আমরা চাই সেই পুলিশ- যারা দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করবেন। আমাদের বর্তমান পুলিশ বাহিনীতেও তেমন পুলিশ আছেন। তবে ক্রমেই তারা সংখ্যালঘু কিংবা ব্যতিক্রমী সদস্য হয়ে উঠছেন। এ অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। আইজি নূর মোহাম্মদ সঙ্গতভাবেই বলেছেন যে, পুলিশের কাছ থেকে ভালো সেবা পেতে হলে তাদের সুযোগ-সুবিধা এবং মান-মর্যাদা বাড়াতে হবে। এ কথার সাথে কারো দ্বিমত পোষণ করার কোনো কারণ নেই। তবে এখানে আর একটি সত্য উচ্চারণ করা প্রয়োজন যে, শুধু সুযোগ-সুবিধা বাড়ালেই কিন্তু পুলিশের মান-মর্যাদা আপনাতেই বেড়ে যাবে না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28947437 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28947437 2009-05-07 11:41:18
আমার দেশের স্বাধীনতার অকাল মৃত্যু ! লাশ মরচুয়ারীতে। মালিক থাকলে যথাযথ প্রমাণ দিয়ে সম্রাজ্যবাদীদের হাত থেকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ। দেশকে রাজনীতি শূন্য করে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে তারা ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার এক নীল নকশা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। ড. ফখরুদ্দীন আহমদ বিভিন্ন সময় জাতির উদ্দেশ্যে তার ভাষণে অসাংবিধানিক সরকারের ক্ষমতা অনন্তকাল বিস্তৃত করারও নানা ফরমুলা হাজির করছিলেন। নির্বাচনের আগে রাজনীতিবিদদের এই করতে হবে, সেই করতে হবে, তাদের উপরে জনপ্রতিনিধিত্বহীন বিশেষ গোষ্ঠিকে সংবিধান সংশোধন করে ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দিতে হবে। এমনি সব উদ্ভট বক্তব্য তিনি হাজির করেই যাচ্ছিলেন ফলে সারাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সকল ক্ষেত্রে শৃংখলা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। বেঁচে থাকার অধিকারের দাবিতে জরুরি আইনের খড়গ ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ফুসে উঠছিল মানুষ। অন্ন চাই, সার চাই, বীজ চাই, বিদ্যুৎ চাই, পানি চাই, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় ক্ষমতার নাগালের মধ্যে চাই, কর্মসংন্সানের সুযোগ চাই। এমন সব দাবিতে রুখে দাঁড়াতে শুরু করেছিল জনতা। ফলে ক্ষমতা চিরন্সায়ী করার দুঃহ্নপ্ন নিয়ে ঐ হ্নৈরাচারি সরকার আর অগ্রসর হতে পারছিল না। নড়বড়ে হয়ে উঠছিল এদের তখত-এ-তাউস। ফলে তারা নির্বাচন দেবারই সিহ্নাশ্চ নিতে বাধ্য হয়।
একথা সকলেরই জানা আছে যে, বাংলাদেশে ২০০৬ সালে দেশ ধ্বংসের যে আন্দোলন শুরু করা হয়েছিল তার পেছনে ছিল সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর প্রত্যক্ষ মদদ। ঐসব শক্তির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের রাজনীতিকদের আত্মমর্যাদাহীনতা ও অদূরদর্শিতার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের শাসন , রাজনীতি, অর্থনীতি, নির্বাচন নিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছিল। পরিন্সিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে, যেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রই পরিচালনা করছে সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো। তাদের উদ্দেশ্যে ছিল দেশব্যাপী এক ভয়াবহ অরাজকতামূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। যে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা তাদের পছন্দমাফিক অনির্বাচিত, অসাংবিধানিক, অনভিজ্ঞ, জবাবদিহিতাহীন এক সরকার কায়েম করতে পারে। যে সরকার সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যবাদীদের হুকুমের দাস হিসেবে কাজ করে যাবে এবং শেষ পর্যশ্চ ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ঐ অপশক্তিগুলো মিলে বাংলাদেশে তেমনি এক বশংবদ সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। ঐসব দেশ মুখে গণতমের কথা বললেও নিজেদের স্বার্থ হাছিলের জন্য পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করতে এক সেকেন্ডের জন্যও দ্বিধা করে না। বাংলাদেশেও তারা তা করেনি। এদেশে ড. ফখরুদ্দীনের অসাংবিধানিক সরকার কায়েম করে তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল।পৃথিবীর আর কোন দেশে গণতন্ত্র নিয়ে এমন উদ্ভট নিরীক্ষা আর কখন হয়নি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনীতিকে তাবেদার সংগ্রহে তাদের খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। ফলে এখানে দু'বছরের জন্য এক স্বৈরশাসন জাঁকিয়ে বসেছিল।
সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যবাদী শক্তির নির্দেশে তারা বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে দেয়ার জন্য এমন কোন ব্যবস্থা নেই যা গ্রহণ করেনি। কিন্তু শেষ পর্যশ্চ রুখে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের মানুষ। মতলব যাই থাক তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছিল।
তখন বিপন্ন মানুষ আশার আলো দেখতে চেয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যবাদীদের বশংবদ সরকার দেশকে ঘোর অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল। তখন নির্বাচনী ঘোষণায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলেই মানুষের সকল সমস্যার দ্রক্তত সমাধানের ঘোষণা দেয়। তারা বলেছিলেন ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবেন, ৫ টাকা কেজি দরে কাঁচামরিচ। কৃষককে সার দিবেন বিনামূল্যে। বেকারত্ব দূর করতে প্রতি পরিবার থেকে একজনকে চাকরি দেবেন। বিদ্যুতের সমস্যা আর থাকবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য নিয়ে আসা হবে নাগরিকদের নাগালের মধ্যে। এইই ছিল সেই সময় সাধারণ মানুষের সবচাইতে বেশি প্রয়োজনীয় দাবি। ফলে মানুষ যে খানিকটা বিভ্রান্ত হয়নি এমন কথা বলা যাবে না।
অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বহীন সরকারের সকল কাজের ধারাবাহিকতা বর্তমান সরকারের আমলেও বজায় আছে। এই সরকারের চার মাসে ফখরুদ্দীন সরকারের গৃহিত কোন সিদ্ধান্তই একেবারে ওলট-পালট হয়ে যায়নি। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, কূটনীতির ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যবাদীদের তোষণ করার নীতি এখনও অব্যাহত আছে। ফখরুদ্দীন সরকারের আমলে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কোন প্রয়াসই এ পর্যন্ত বর্তমান সরকার গ্রহণ করতে পারেনি। ফখরুদ্দীন সরকারও যেমন মধ্যপ্রাচ্যের শ্রম বাজার ভারতের কাছে ছেড়ে দিচ্ছিল বর্তমান সরকারের আমলেও তার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। তেমনিভাবে অন্যান্য নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও চলছে একই ধারাবাহিকতা।
নির্বাচনী প্রতিশ্রক্ততি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সামান্য অগ্রসর হতে পারেনি সরকার। ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর কথা অহ্নীকার করছে। প্রতি পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে এখন আর পারবে না বলছে। বিদ্যুৎ যে দিতে পারছে না তার জন্য জোট সরকারকে জবাবদিহি করতে বলছে। বিদ্যুৎ নিয়ে আন্দোলন করলে কঠোর হাতে তা দমন করা হবে বলে সরকার হুমকি দিয়েছে এবং নির্বাচনী ওয়াদা পূরণের দাবির মুখে সরকারের মন্ত্রীরা বলেছেন যে তারা আলাদিনের চেরাগ নিয়ে আসেনি যে ঘষা দিয়েই সব সমস্যার সমাধান করে ফেলবে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিন বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে না।
ফলে জনগণের সমস্যার সমাধান শুধু পরাহতই থেকে যাচ্ছে। সরকারতো জানিয়েই দিয়েছে পারবে না তাহলে আবার কথা কি? জনগণ যদি দাবি তোলে, তাহলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। একেবারে হুবহু ফখরুদ্দীন সরকারের ভাষা। ঐ সরকারের হাতে জরুরি ক্ষমতার ডান্ডা ছিল। এই সরকারের হাতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোর আছে অগণিত সমাসীর শক্তি আছে আর পুলিশি শক্তিতো আছেই। এখন তাহলে করণীয় কী? এখন সরকারের সবচাইতে বড় করণীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা এবং যাকে খুশি তাকেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে বিচার শুরু করা। সরকার এই দুটো জরুরি কাজ নিয়ে জোর কদম এগিয়ে চলেছে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তার মন্ত্রীসভা গঠন নিয়ে দারুণ এক চমক সৃষ্টি করেছিলেন। মন্ত্রীসভার সবাই নতুন মুখ। আর সেই কারণে যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধিকমাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর মুখাপেক্ষী। ফলে বাংলাদেশে এখন রাষ্ট্রিয় সকল ক্ষমতা একমাত্র শেখ হাসিনার হাতেই। একক ব্যক্তির হাতে এই বিপুল ক্ষমতা যে স্বৈরাচারীর জন্ম দেয় তার লক্ষণ সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে। আবার যেসব আন্তর্জাতিক অপশক্তি বাংলাদেশের উপর তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে চায় তাদের গৃহীত নীতি বাস্তবায়ন করতে চায় তাদের জন্যও কাজটি সহজ। এক ব্যক্তিকে রাজি করতে পারলেই কাজ শেষ। যায় যাক আমার দেশের স্বাধীনতা! আমিতো বাবুদেরই! আমার দেশের স্বাধীনতার অকাল মৃত্যু ! লাশ মরচুয়ারীতে। মালিক থাকলে যথাযথ প্রমাণ দিয়ে সম্রাজ্যবাদীদের হাত থেকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ রইল।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28947133 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28947133 2009-05-06 17:07:28
সবার উপরে ডিজিটাল সত্য তাহার উপরে নাইরে নাই! সেনা মারো বিডিআর মারো! সোনার বাংলাদেশ গড়! বিডিআর হত্যাকান্ড এখন ফ্রিজের ডিপ... বিডিআর ঘাতকদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আগেই তাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী কী শর্ত দিয়েছিলেন কিংবা তারা কাদের হত্যা করেছে এবং তখনও যারা জীবিত ছিলেন তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কি আলোচনা হয়েছিল এর কোন কথাই সাধারণ মানুষ জানতে পারে নি। বিডিআর-এর ঘাতকেরা প্রায় সকল কর্মকর্তাকে হত্যা করে গণকবর খুঁড়ে তাদের মাটি চাপা দিয়েছে। তার ওপর এমনভাবে ঘাস খড় বিছিয়ে দিয়েছে যে, যেন সেটা যে গণকবর তা কিছুতেই বোঝা না যায়। অনেক লাশ তারা সুয়ারেজ লাইনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। এর মধ্যে বিডিআরের ঘাতকদের জনসাধারণের সঙ্গে মিশে গিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসেছে। সে মিছিলে শরীক হয়ে পালিয়ে গেছে শত শত বিডিআর জওয়ান। এর মধ্যে আরও এক রহস্যময় ঘটনা ঘটিয়ে দিয়েছিলেন ধানমন্ডি-হাজারীবাগ এলাকা থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। বিকেল সাড়ে তিনটা চারটা থেকেই হঠাৎ করেই টেলিভিশন স্ক্রিনে ভেসে এলো তাপসের ঘোষণা। বিডিআর সদর দফতর পিলখানার চারদিকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে যারা বসবাস করেন, তারা যেন অতিদ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে দিয়ে নিরাপদ আশ্রয় চলে যায়। তখন আর সেনাবাহিনীর বিডিআর সদরদপ্তরে হানা দেয়ার মতো কোনো পরিবেশও ছিল না, অর্থও ছিলো না। কারণ ততক্ষণে প্রধানমন্ত্রী বিডিআর ঘাতকদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে এবং তাদের অস্ত্র সমর্পণের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা। পিলখানার তিন কিলোমিটার এলাকা থেকে সকল মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ বা আহবান জানানোর কোনো কর্তৃত্ব ঐ এমপির ছিল না। এ রকম আহবান জানাতে পারতেন পুলিশ কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। তারা কেউই এ ধরনের কোনো আহবান জানাননি। টেলিভিশন সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু তারা কেউ এর দায়িত্ব নেন নি। হাজারে হাজারে মানুষ মূল্যবান জিনিসপত্র ও শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে রাস্তায় ছুটে বেরিয়ে এসেছে। রিকশা নেই, ভ্যান নেই, অন্য কোন যানবাহন নেই, তারা কেবলই ছুটেছেন নিরাপদ আশ্রয়ের সìধানে। আজ পর্যন্ত না ব্যারিস্টার তাপস, না সরকার কেউই এই রহস্যজনক ঘোষণার কোন ব্যাখ্যা দেন নি। তবে কি ঘাতক বিডিআর সদস্যদের পালিয়ে যাওয়ার সুবিধার জন্যেই ব্যারিস্টার তাপস অমন এখতিয়ার বহির্ভূত ঘোষণা প্রচার করছিলেন। সঙ্গতকারণেই সাধারণ মানুষের মনে এসব প্রশ্ন উঠবে, হয় সরকারকে এর জবাব দিতে হবে অথবা সাধারণ মানুষের মনে ঐ সংশয়ই বদ্ধমূল রূপ নেবে।
পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের ওপর পরিচালিত এই হত্যাযজ্ঞের তদন্তের ব্যাপারে সরকার আজ পর্যন্ত কোনরূপ স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে পারে নি। বরং এই হত্যাকান্ড থেকে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একের পর এক নতুন নতুন ইস্যু তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করাই চেষ্টা করেছে। প্রথমেই তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা দিয়ে দেয়া হলো যে, পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পিছনে ইসলামী জঙ্গিবাদিদের মদদ আছে। তথ্য প্রমাণ কোথায়? সে প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গেল না, তখন সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা বলতে শুরু করলেন যে, এই হত্যাকান্ডের সাথে যেসব বিডিআর সদস্য জড়িত তারা সব জোট সরকারের আমলে চাকরি পেয়েছে। জোট সরকার বেছে বেছে ইসলামী জঙ্গিদের বিডিআর-এ ঢুকিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বললেন, এদের কারোই অতীত ইতিহাস ঘেঁটে জঙ্গিবাদের সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তাছাড়া এসব বাহিনীতে নির্বাচন প্রক্রিয়াও অন্তর্ভুক্তিকরণ এমন গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে করা হয় যে, তাতে ঐ ধরনের কারো বিডিআর বাহিনীতে যোগ দেয়া সম্ভব নয়। ফলে সে বেলুনও চুপসে গেল। তখন বলা হলো, বিডিআর হত্যাকান্ডের সময় বেগম খালেদা জিয়া তার বাড়ি থেকে কালো এক গাড়িতে করে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন। অর্থাৎ এখানে প্রচ্ছন্নভাবে ইঙ্গিত করার চেষ্টা ছিল যে, এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ারও কোন না কোন সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন করে তার বাসায় পাওয়া যায়নি। এই অভিযোগের পর বেগম খালেদা জিয়া জানালেন যে, ঘটনার দিন তিনি বাড়িতেই ছিলেন। কেউ তাকে ফোন করে নি। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে, পার্লামেন্টে তার অফিসে খবর দিলেও তিনি সে খবর পেতেন। ঘটনার দিন তিনি বাড়িতেই ছিলেন। তার কোনো কালো গাড়ি নেই এবং কালো গাড়িতে করে তিনি কোথাও যানও নি। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ শে মে জিয়াউর রহমানের হত্যাকান্ডের দিন ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্খান করছিলেন শেখ হাসিনা।
এসব যখন টিকলো না তখন সরকার জোরোশোরে এক আন্দোলন শুরু করলো। সেটা হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা ১৯৭৪ সালের চুক্তি মোতাবেক শেখ মুজিবের শাসনকালেই ক্ষমা পেয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিল। শেখ মুজিবই যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগীদের বিচারের জন্য প্রণয়ন করেছিলেন দালাল আইন। সে আইনে লক্ষাধিক লোককে আটক করা হলেও বিচার করা হয়েছিল সাতশ’ জনের। সেই বিচারে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৩ সালে শেখ মুজিবই জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। ঐ সাধারণ ক্ষমায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জেল থেকে বেরিয়ে এসেছিল। হত্যা, ধর্ষণ, লুঠেরা ও অগ্নিসংযোগকারীরা ঐ সাধারণ ক্ষমার আওতাভুক্ত ছিলেন না। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের দ্বার উন্মোচিত ছিল। কিন্তু পরবর্তী দুই বছর এক মাসেও ঐ আইনে সারা দেশে একটি মামলাও দায়ের না হওয়ায় ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দালাল আইন রদ করেছিলেন।
এখন তাহলে বিচার করার জন্য যুদ্ধাপরাধী কোথায় পাবেন? সরকার বলছে, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। আর হাজার হাজার যুদ্ধাপরাধী নয়, কিছু সংখ্যক যুদ্ধপরাধীর বিচার করা হবে। তার জন্য সরকার একটা সাজসাজ রব ফেলে দিয়েছে। কিন্তু কে এই চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সে কথা সরকারের তরফ থেকে কখনো জানানো হয়নি। সরকার বলছে, এর জন্য একটি আইনজীবী প্যানেল গঠিত হবে। তাও এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হয় নি। যুদ্ধাপরাধী চিহ্নিত হয় নি, আদালত নির্ধারিত হয়নি, আইনজীবী নির্বাচন হয়নি, কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। যেন পিলখানার ঘটনার চেয়েও অনেক বেশি জরুরী এই হাওয়াই যুদ্ধাপরাধীর বিচার।
এর মধ্যে নতুন ইস্যু নিয়ে আসা হয়েছে কওমী মাদরাসা। সরকারের আইনমন্ত্রী বলেছেন, কওমী মাদরাসাগুলো জঙ্গিবাদের প্রজননক্ষেত্র। এ নিয়ে সারাদেশে এখন তীব্র প্রতিবাদের ঝড়। অর্থাৎ এই সমস্ত ইস্যু তুলে সমাজকে নানাভাবে বিভক্ত রেখে পিলখানা হত্যাকান্ডকে জনমন থেকে খানিকটা দূরেই রাখতে চাইছে সরকার। তার উপর কোনো রকম জানান না দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শিবশংকর মেনন বাংলাদেশ সফর করে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে একান্ত আলোচনা করে গেছেন। তিনি কি আলোচনা করেছেন, সেটি সরকারীভাবে প্রকাশিত না হওয়ায় তা নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। শিবশংকর নাকি বাংলাদেশ সরকারকে বলে গেছেন যে, সরকার যেন দক্ষিণ তালপট্টির ব্যাপারে জাতিসংঘে নিজেদের দাবি উথাপন না করে, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভারতের তেল-গ্যাস অনুসìধানে সহায়তা করে এবং পিলখানা হত্যাকান্ডের তদন্ত রিপোর্ট সতর্কতার সঙ্গে প্রকাশ করে। সরকার অবশ্য আগে থেকেই সতর্ক আছে। আর সে কারণেই বাণিজ্যমন্ত্রী লে. ক. (অব) ফারুক খানকে সকল তদন্ত কমিটির সমন্বয়কারী নিয়োগ করেছে, যাতে এই তদন্তের ফলাফল সরকার যা চায় তার বাইরে কিছুই বেরিয়ে আসতে না পারে।
তবে সরকারের সামনে সবচাইতে বড় সমস্যা গ্যাস বিদ্যুৎ পানি নয়, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নয়, বিশ্বাবিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের হানাহানি নয়, দেশব্যাপী টেন্ডারবাজির ঘটনাবলী নয়, তালপট্টি, তেল-গ্যাস নয়, গঙ্গার পানি প্রবাহ নয়, সীমান্তে ভারতীয় নরহত্যা নয়। তারচেয়েও বড় সমস্যা ১৯৮১ সালে দেয়া ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করা। খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে পারলে এক ফুৎকারে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বেরিয়ে আসবে পিলখানা হত্যাযজ্ঞের আসল রহস্য। সব ল্যাঠা চুকে গেল!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28946759 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28946759 2009-05-05 18:33:43
জঙ্গিবাদ ইস্যুতে নেতৃত্ব দিচ্ছে সরকার? তাহলে সমাধান করবে কারা? বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী দলের সংখ্যা কত? এ সম্পর্কে সঠিক তথ্য এবং পরিসংখ্যান কেউ দিতে পারেন না। সরকারের কাছেও সঠিক কোনো তথ্য আছে বলে আমার মনে হয় না। কারণ, সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে কোনো সময় বলা হচ্ছে যে জঙ্গিবাদী দলের সংখ্যা ৪। আবার কোন সময় বলা হচ্ছে ১২। কোন সময় বলা হচ্ছে ১২৪। কয়েকদিন আগে বলা হয়েছে ১৩১। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি হিসাব মতে জঙ্গিবাদী দলের সংখ্যা সর্বনিম্ন ৪ এবং সর্বোচ্চ ১৩১। মাঝখানে ফাঁক হলো ১২৭।
এই তো কয়েক সপ্তাহ আগে ১২টি সংগঠনকে জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত করে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই কালো তালিকাভুক্তির অর্থ আমার কাছে পরিষ্কার নয়। কালো তালিকাভুক্ত সংগঠনগুলো কি নিষিদ্ধ করা হয়েছে?

মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রদত্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার জঙ্গিবাদের কথা বললেন। এই সরকারের সিনিয়র এবং জুনিয়র মন্ত্রীরা সবাই সমস্বরে জঙ্গিবাদের কথা বলছেন। সমাজে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের নেতা জনাব আনিসুল হক তো বলেই ফেলেছেন যে, সরকার যেভাবে জঙ্গিবাদ জঙ্গিবাদ করছে তার ফলে মনে হচ্ছে যে দেশের প্রতিটি ঝোঁপঝাড়ের মধ্যেই একজন করে জঙ্গি রয়েছে। এ ব্যাপারে গত ২৫ এপ্রিল ইংরেজি ?ডেইলী স্টারে' একটি নিবন্ধ ছাপা হয়েছে। নিবন্ধটির লেখক জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। নিবন্ধটির শিরোনাম বাংলা করলে দাঁড়ায়- ??আমরা কি বাঘ বাঘ বলে চিৎকার করছি??? লেখক নিবন্ধের শেষে বলেছেন যে, বাঘ কিন্তু আসলে আসেনি। তার সারমর্ম হলো এই উপমহাদেশের ৩টি দেশ অর্থাৎ আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ বলে খুব চিৎকার করছে। তার মতে, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ নিয়ে শোরগোল তোলার একটি কারণ থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে সরকার নিজেই এই শোরগোলের নেতৃত্ব দিচ্ছে। কিন্তু তার মতে, বাংলাদেশে জঙ্গিরা খুব বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায়নি। আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমেও এ ধরনের কোন খবর নেই।
অথচ জঙ্গিবাদ কোথায় নেই? ভারতের বোম্বেতে জঙ্গি হামলায় শতাধিক ব্যক্তি মারা গেল। এই ঘটনা নিয়ে ভারতে তো রাজনৈতিক দলগুলো হৈচৈ ফেলেনি। শ্রীলঙ্কায় ২২ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চললো। এতোদিনে সেটি অবসানের পথে। নেপালে মাওবাদীরা প্রায় ১২ বছর রাজতন্ত্র উচ্ছেদের জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম করেছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭টি অঙ্গরাজ্যে অর্থাৎ ?সেভেন সিস্টার্সে, ভারতের ভাষায়, বছরের পর বছর ধরে সশস্ত্র ?বিচ্ছিন্নতাবাদী লড়াই' চলছে। পক্ষান্তরে যারা লড়াই করছে তাদের মতে এবং পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর মতে এটি হলো ?স্বাধীনতা সংগ্রাম বা মুক্তিযুদ্ধ।' ভারতীয়দের ভাষাতেই বলছি, এতো দীর্ঘ এবং ভয়াবহ বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগ্রামের পরেও ভারত এটা নিয়ে দেশে বা বিদেশে কোন হৈ-চৈ ফেলেনি। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নির্মূল করার জন্য বিশাল সামরিক শক্তি প্রয়োগসহ যা কিছু করা দরকার তার সবকিছুই তারা করে যাচ্ছে। ওখানে পরেশ বড়য়া আছে, আছে লাল ডেঙ্গা, আছে ডঃ ফিজো। বাংলাদেশে কিন্তু ফিজো, লাল ডেঙ্গা বা অরবিন্দ রাজখোয়ার মতো সংগঠক, যোদ্ধা এবং সুবিন্যস্ত দুর্ধর্ষ সংগঠন নেই। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান এবং বাংলা ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর বিচারে তাদের ফাঁসির রায় হয়। এই রায় ঘোষণার পরেও দেশের কোথাও বিন্দুমাত্রও কোন প্রতিক্রিয়া হয়নি। তারপর সেই ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হয়। তারপরেও দেশে সামান্যতম প্রতিবাদও হয়নি। এই বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যময়। ডেইলী স্টারের ঐ নিবন্ধের মতে বাংলা ভাইদের পেছনে এমন কোন শক্তিশালী মহল ছিল যারা পরবর্তীতে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। এটি কোন রাজনৈতিক শক্তি বলে মনে হয় না। এটি এমন একটি শক্তি যারা রাজনীতির দূরনিয়ন্ত্রক।
তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এরা কারা? এমন একটি ঘোলাটে এবং অস্পষ্ট পরিস্থিতিতে ভারত থেকে একটি চাঞ্চল্যকর খবর পরিবেশন করা হয়েছে। ?ইঙ্গো আমেরিকান নিউজ সার্ভিস' (আইএএনএস) নামক বার্তা প্রতিষ্ঠান ২৯শে এপ্রিল খবর দিয়েছে যে বাংলাদেশে অতি সহসাই ইসলামী জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটতে যাচ্ছে। জঙ্গিদের এই তৎপরতা পরিচালিত হবে হিজবুত তৌহিদ নামক একটি সংস্থার নেতৃত্বে। খবরে বলা হয়, ??হিজবুত তৌহিদের ৪০ জন শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান গ্রহণ করছে। এখানে তারা তাদের ১০ হাজার সশস্ত্র ক্যাডারকে সংগঠিত করবে। গত ১৩ ও ১৪ই এপ্রিল ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শিব শঙ্কর মেননের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরকার ইসলামী জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করার জন্য ১৭ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। এই টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন জনাব সোহেল তাজ।?? ভারতীয় সূত্র হতে উৎসারিত এই খবরের সত্যাসত্য সম্পর্কে আমাদের কোন মন্তব্য নেই। হিজবুত তৌহিদ নামক একটি সংগঠনের ১০ হাজার সশস্ত্র ক্যাডার রয়েছে কি না সে সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা নেই। তবে আমাদের প্রশ্ন হলো : এই ধরনের প্রতিটি চাঞ্চল্যকর এবং লোমহর্ষক খবর শুধুমাত্র ভারতীয় সূত্র হতে আসে কেন? বাংলাদেশের গোয়েন্দা সার্ভিসসমূহ কি এই খবর কনফার্ম করেছে? তাদের ভাষ্য জনগণের জানা দরকার। কারণ ১০ হাজার জঙ্গি তো আর খালি হাতে আসেনি। তাদের সাথে তাহলে ১০ হাজার অস্ত্র এসেছে। এতোগুলো গেরিলা বা যোদ্ধা বা সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা পরিকল্পনা করবে, আর ভারতের হাতে আমাদের সরকার ঝোল খাবে, এটি কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের মনে করবার যথেষ্ট কারণ আছে যে, খবরগুলোর উৎস যেমন ভারত তেমনি ঐসব জঙ্গি সংগঠন ভারতেরই সৃষ্টিতে হতে পারে। এগুলোকে বলা হয় কাউন্টার টেরোরিস্ট বগি বা পাল্টা সন্ত্রাসী কৌশল। এই কৌশল প্রয়োগ করে ইরান ও আফগানিস্তান দখল করা হয়েছে। বর্তমানে সেই কৌশলের শিকার পাকিস্তান। তাহলে পরবর্তী টার্গেট কি বাংলাদেশ?
তাহলে প্রশ্ন এদের দালাল কারা? কাদের মদদে এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28945893 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28945893 2009-05-03 18:17:08
শ্রমজীবি মানুষ বনাম আমাদের সমাজ ও সরকার! এই বন্চনার শেষ কোথায়? দুর্দশাগ্রস্ত প্রবাসী শ্রমিক সমাজের এই প্রতিচ্ছবির চেয়ে ভালো নেই দেশীয় শ্রমিক সমাজ। দেশে শিশুশ্রমের ব্যাপক ব্যবহার চলছে। ঘরের ঝিয়ের কাজ থেকে শুরু করে রি-রোলিং ও ইস্পাত কারখানার মতো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে শিশু-শ্রমিকদের দিয়ে। কোমলমতি যেই শিশুদের হাতে থাকার কথা ছিল খাতা, কলম আর বই আজ তাদের হাতে মেশিন তৈরির ভারী যম, লোহার আগুনে দগ্ধ কচি হাতগুলো। অন্যান্য শিশুর মতো যে শিশুটির অধিকার ছিল মা-বাবার আদর প্টেহে পালিত হওয়া, জীবিকার সন্ধানে সে শিশুটি আজ ফজরের আযানের শব্দে ঘুম থেকে উঠে কাজে লেগে যায়। অক্লাশ্চ পরিশ্রমের পরও সামান্য অসচেতনতায় নেমে আসে গালি-গালাজ, নির্যাতন। যে শিশুটি দুরশ্চ হওয়ার কথা ছিল, যার অধিকার ছিল অন্যান্য শিশুর মতো হেসে খেলে বড় হওয়া সেই শিশুটি যখন পরের ঘরে কাজ করতে গিয়ে অসাবধনতাবশত একটি পাত্র ভেঙ্গে ফেলে, তখন গৃহকর্ত্রী কর্তৃক অবুঝ শিশুটির উপর নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন। লোহার শিক গরম করে শরীরে সেক দেয়ার ঘটনা এই সমাজের শিশু শ্রমিকদের জন্য বিরল নয়। যে গৃহকর্ত্রীরা অপরের শিশু সশ্চানের সাথে এমন নির্মম আচরণ করেন তাদের সশ্চান কিংবা ছোট ভাই-বোন যদি এমন অসাবধানতাবশত কোন পাত্র ভেঙ্গে ফেলতো তাহলে নিশ্চয় তাদের সাথে আচরণ এমন জঘন্য হতো না। বাংলাদেশের ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার রফতানি আয়ের মধ্যে ৭০০ কোটি ডলার আয় হয় তৈরি পোশাক শিল্পে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পের শ্রমিকদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। তাদের বোনাসতো দেয়াই হয় না বরং কাজের নির্দিষ্ট বেতনও ঠিকমতো পরিশোধ করে না মালিক পক্ষ। ফলে তাদের বেছে নিতে হয় আন্দোলন। আর শ্রমিকদের এই অসশ্চোষের সুযোগ নেয় বিভিন্ন হ্নার্থান্বেষী মহল। যারা পাশ্ববর্তী দেশের বিদেশী বাজার চাঙ্গা রাখতে চায় তারা শ্রমিক অসশ্চোষের এই সুযোগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ফলে একদিকে তৈরি পোষাক শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়ে অন্যদিকে শ্রমিক বঞ্চিত হয় বেতন ভাতা থেকে তারা পরিণত হয় স্বার্থান্বেষী মহলের ক্রীড়নকে।
আমাদের এই দেশে শতকরা ৮০ ভাগ কৃষকের বাস হলেও কৃষকের অধিকার আজও আমাদের সমাজে অধরাই থেকে গেছে। আজও সারের জন্য, সেচপাম্পের মাধ্যমে জমিতে পানি দেয়ার জন্য বিদ্যুতের দাবিতে কৃষককে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করতে হয়। যে কৃষক শুধু নিজের জন্য চাষাবাদ করে না, ঝড়, বৃষ্টি, সাইক্লোন, বন্যা, খরা মোকাবিলা করে দেশের জন্য সম্পদ তৈরিতে জমিতে ফসল বুনে সেই কৃষক যখন দুঃখ দুর্দশায় পতিত হয় তখন মহান মে দিবসের কথা আমাদের মনে থাকে না, দাঁড়াতে পারি না আমরা সেই কৃষকের পাশে। আমরা সেই কৃষকের পরিশ্রমের মূল্য দিতে জানি না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ জীবন যাত্রার ব্যয় যখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না এদেশের শ্রমিক সমাজের আয়, ফলে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। কেউ একবেলা খেতে পারছে তো অন্য বেলা উপোস থাকছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাবার অবস্থা। বেতন ভাতা বৃদ্ধি না হলে এবং শ্রমিকদের এভাবে মানবেতর জীবন-যাপন চলতে থাকলে মানসিক এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হতে থাকবে শ্রমিক জনগোষ্ঠী, ফলে ব্যাহত হবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন।
কৃষক-শ্রমিক-চাষী-মজুর থেকে শুরু করে হাজারো শ্রমিকের মাঝে আমাদের বসবাস। এই সকল শ্রমিক থেকে আমরা সেবা গ্রহণ করলেও আমরা তাদের পরিশ্রমের মূল্য দিতে জানি না। জানি না তাদের মর্যাদার মূল্যায়ন করতে। আমাদের সমাজের বাথরুমের ক্লিনার (মেথর) থেকে শুরু করে বাসের হেলপার কিংবা নৌকার মাঝি সকলেরই অবস্থা একই। দেড়শত বছর আগে থেকে মহান মে দিবস পালিত হয়ে আসলেও শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে এখনো বঞ্চিত বরং নির্যাতন আর নি--ষনেণর যাঁতাকলে পিষ্ট তারা। শ্রমিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এই প্রতীকও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারেনি। শ্রমিক সমাজ কি নির্যাতন থেকে কখনই মুক্তি পাবে না? তাদের মুক্তির অধিকার কি হিমাগারে থেকে যাবে? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28945169 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28945169 2009-05-01 22:42:53
দিনবদলের নমুনা এবং বাংলাদেশের মহাজট! বনাম ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ডিজিটাল পন্থায় চাদাবাজি! বাংলাদেশেরও রয়েছে ঘরের এবং বাইরের নানা সমস্যা। এসব সমস্যার কারণে বাংলাদেশের জনগণ ৩৮ বছর পরও স্বাধীনতার সুফল থেকে বঞ্চিত। জাতীয় নির্বাচনের সময় এই বঞ্চনার কথা বেশি করে ওঠে। রাজনৈতিক দলগুলো তখন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার অনুকূলে নানা অঙ্গীকার ব্যক্ত করে, চমৎকার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। কারণ জনগণের মন জয় করতে না পারলে তো নির্বাচনে বিজয় সম্ভব নয়। ক্ষমতার লড়াইয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দল এভাবে বিজয়ী হলেও আজো সংকট জয়ে সমর্থ হয়নি তারা। ফলে বাংলাদেশের জনগণের দুর্ভোগও কমেনি।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও আবার জনগণের বঞ্চনার কথা, অভাব-অভিযোগের কথা নতুন করে ওঠে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এই বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে কাজে লাগিয়েছে। দিনবদলের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ঘরের ও বাইরের সমস্যা দূর করে জনগণকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়েছে। জনগণের বড় একটা অংশ তাদের কথায় আস্থা এনেছে, ভোট দিয়েছে।যদিও ভোটের হিসাব ছিল ডিজিটাল পদ্ধতিতে গননা করা। ভোটের ফলাফলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় গিয়েছে। জনগণ আশা করেছিল, এবার বঞ্চনা দূর হবে, মৌলিক অধিকারগুলো পাওয়া যাবে, জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে। অতীতের আচার, অনাচার ও মন্দ উদাহরণ দূর হবে। কারণ দিনবদলের অঙ্গীকারনামায় এসব কথাই বলা হয়েছে, আর দিনবদলের অর্থও তাই। তবে আমরা একথা জানি যে, দিনবদল একদিনে কিংবা এক মাসে সম্ভব নয়, এর জন্য সময়ের প্রয়োজন হয়। তবে একথাও সত্য যে, সকালটাই বলে দেয় দিনটা কেমন যাবে। অর্থাৎ সরকার এবং সরকারি দলের বিগত ১০০ দিনের কর্মকান্ড থেকে একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে, পাঁচ বছরের মেয়াদে সরকার কী করতে পারে, কতটা করতে পারে।
বিগত ১০০ দিনের কর্মকান্ডে আশাবাদের বদলে জনমনে দেখা দিয়েছে হতাশা। এখন মনে হচ্ছে আমাদের নয়, দিন বদল হচ্ছে সরকারি দলের লোকজনের। কিশ্চু মহাজোট সরকারের কোনো নেতাই যখন বলেন, ?দিনবদল মানে টেন্ডারবাজি আর হল দখল নয়' তখন এ কথার গুরুত্ব আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। শুধু জনগণকেই নয়, সরকার ও সরকারি দলকেও এ কথার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে।
গত ২৬ এপ্রিল বগুড়ায় এক কর্মী সম্মেলনে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি এবং শিক্ষা মমণালয় সংক্রাশ্চ সংসদীয় ন্সায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান এমপি বলেন, দিনবদল মানে টেন্ডারবাজি নয়, হল দখল নয়, ভর্তি বাণিজ্য নয়। দিন বদল করতে হবে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের মাধ্যমে। তিনি আরো বলেন, কৃষকরা যাতে ফসলের মূল্য পায় সেদিকে সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে। খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। আমরা তো সরকারকে সমর্থন দিয়েছি ২৩ দফার ভিত্তিতে। এর বাইরে কোনো কিছু করলে তার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। তার জন্য ওয়ার্কার্স পার্টি দায়ী হবে না। কিশ্চু প্রশ্ন হলো, মাত্র ১০০ দিনের মাথায় দিনবদলের সরকারের অন্যতম রূপকার জনাব রাশেদ খান মেনন সরকারের কর্মকান্ডের দায়-দায়িত্ব থেকে নিজেকে এভাবে আলাদা করতে চাইলেন কেন? তাহলে সরকারের রোডম্যাপ কি তার পছন্দ নয়, অথবা সরকার কি ইতোমধ্যেই এমন সব মন্দ কাজ সম্পন্ন করেছে, যার দায়-দায়িত্ব গ্রহণে তিনি ভীত? কিশ্চু শুধু কর্মীসভায় মুখের কথায় অস্বীকার করলেই তো দায়-দায়িত্ব থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। জনাব মেনন তো জাতির সামনে প্রকাশ্যেই দিনবদলের রূপকার হিসেবে নিজের পরিচয় স্পষ্ট করেছিলেন। তাই আজ যদি তিনি সরকারি কর্মকান্ডের দায়-দায়িত্ব শুধু সরকারের কাঁধেই চাপাতে চান, তাহলে তার কারণ এবং জনহ্নার্থে তার কর্তব্য সম্পাদনের উদাহরণও প্রকাশ্যে স্পষ্ট করেই বলতে হবে। কারণ তিনি তো দিনবদলের কথা বলেই নিজের জন্য এবং মহাজোট সরকারের জন্য ভোট চেয়েছিলেন। এবং জনগণও সেভাবেই তাদের ভোট দিয়েছিলেন। অতএব জনাব মেননের বক্তব্যের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
দিনবদলের সরকার যদি আসলেই দিনবদল করতে চান, তাহলে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন দরকার, দরকার সুশাসন। এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে সরকারের মাঠ প্রশাসন। কিশ্চু বর্তমানে মাঠ প্রশাসনে সরকারি দলের এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ক্যাডারদের খবরদারি চরম আকার ধারণ করায় প্রশাসন ঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) অফিস দখল, প্রশাসনিক কার্যক্রমে বেপরোয়া হস্তক্ষেপ, দাবি অনুযায়ী কাজ না করলে হত্যার হুমকি, কোথাও কোথাও হাত-পা ভেঙ্গে দেয়াসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে ভীতসমস্ত হয়ে পড়েছেন ইউএনওরা। এসব কথা উল্লেখ করে মাঠ প্রশাসন থেকে প্রত্যাহারের মাধ্যমে নিজেদের জীবন বাঁচানোর প্রার্থনা জানিয়ে সংন্সাপন মমণালয়ে ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছে শতাধিক ইউএনও। চিঠিতে তারা মাঠ প্রশাসনের অস্তিত্ব-সংকটের কথাও উল্লেখ করেছেন। আরো খারাপ খবর আছে। প্রধানমমীর অনুষ্ঠানের জন্য চাঁদাবাজিতেও নেমেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে প্রধানমমীর এক অনুষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী (ডিপিডিসি) চাঁদাবাজিতে নেমেছে। শিল্প মালিকদের সভা ডেকে চাঁদা দাবির নতুন নজির স্থাপন করেছেন ডিপিডিসি'র এমডি। এসব কীসের লক্ষণ। বাকশাল আমলে এক দল এক নেতার যে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল, তেমন চিত্রই এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি দলের এমপিদের আচরণে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা-১৯ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি তালুকদার তৌহিদ জয় মুরাদকে সংবর্ধনা দেয়ার লক্ষ্যে সাভারের অধরচন্দ্র মডেল হাইস্কুলের পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং ছাত্রীদেরকে প্রচন্ড রোদের মধ্যে আড়াই ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এছাড়া গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমমীর সাভার আগমন উপলক্ষে পুলিশ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন ন্সানে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় শত শত এইচএসসি পরীক্ষার্থী যথাসময়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এসব কি দিনবদলের লক্ষণ?
আমরা সবাই জানি দেশের বিদ্যুৎ পরিন্সিতির কথা। বিদ্যুতের সংকটের কারণে শুধু যে উৎপাদন হ?vস পাচ্ছে তা নয়, নতুন শিল্পও চালু করা যাচ্ছে না। নতুন শিল্প চালু না হলে বেকারদের কর্মসংন্সান হবে কেমন করে? আর বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনদুর্ভোগের চিত্র তো কারো অজানা নয়। অথচ প্রভাবশালীদের চাপে দু'টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ পিছিয়ে গেল। গত সপ্তাহে দু'টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ন্সাপনের দরপত্র ন্সগিত করা হয়েছে। ১৫০ মেগাওয়াট করে এ দু'টি কেন্দ্রের মধ্যে খুলনা কেন্দ্রের দরপত্র দাখিলের তারিখ ছিল ৩০ এপ্রিল ও সিরাজগঞ্জের কেন্দ্রের দরপত্রের তারিখ ছিল ২৭ এপ্রিল। অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ একটি কোম্পানীকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে সিরাজগঞ্জের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের দরপত্র ন্সগিত করা হয় এবং খুলনা কেন্দ্রের দরপত্র দাখিলের সময় দুই মাস পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। দেশে বিদ্যুতের যে অবন্সা তাতে এভাবে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি?
এতো গেল জনদুর্ভোগ লাঘবে দিনবদলের সরকারের দায়িত্বশীলতার নমুনা। দখলের স্পৃহা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্ পর্যায়ে অবস্থান করছে, তার ন্যক্কারজনক উদাহরণ পাওয়া যায় শিবমন্দির ভাঙ্গার ঘটনায়। গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর সূত্রাপুরে অর্ধশত বছরের পুরানো শিবমন্দিরটি ভেঙ্গে ফেলেছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। মন্দিরের জায়গাও আওয়ামী লীগের নজর থেকে বাদ পড়ছে না। অথচ তারা অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলে। সেক্যুলারিজমের কথা বলে। আসলে বর্তমানে সরকার এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আচরণ দেখে দিনবদলের কথা ভাবা যায় না। তাহলে নির্বাচনের আগে তারা যেসব কথা বলেছেন, তা কি শুধু কথার কথা? আর ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের কথা না হয় নাই বললাম! তাহলে কি মহাজটে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যত?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28944741 http://www.somewhereinblog.net/blog/rajniti007blog/28944741 2009-04-30 21:03:38