গত এক মাস কিছু লিখা হয় নি। মূল কারন-বাসা বদল। কানাডাতে বাসা চেঞ্জ করা বেশ ঝামেলার। আমাদের দেশে ও ঝামেলার। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক বেশী সস্তায় মানুষের শ্রম কেনা যায়-এদেশে পারা যায়না। আমাদের দেশে হয়ত ৫০০/১০০০ টাকা খরচ করলেই আপনাকে আর কিছু করতে হবেনা। ৩/৪ জন মানুষ আপনার সব ফার্নিচার পুরানো বাসা থেকে নতুন বাসাতে নিয়ে যাবে। এদেশে আপনাকে এরকম কারো সাহায্য নিতে গেলেই মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হবে। ভাগ্য ভাল- আমি যে শহরে থাকি সেখানে অনেক বাংলাদেশীর বাস। এরকম অবস্থায় বাংলাদেশীরা নিজেরাই নিজেদের হেল্প করেন। আমার ব্যাপারে আমি পেয়ে গিয়েছিলাম বেলায়েত ভাই কে। উনার একটা ভ্যান আছে। সেটা করেই কয়েক ট্রিপ দিয়ে বাসা চেঞ্জ করলাম। আরেক জনের কথা না বললেই নয়- নান ডু, আমাদের চাইনিজ বন্ধু। ওর সাথে ধরাধরি করে সব ভারী ভারী জিনিস পত্র নিয়ে উঠে পরলাম নতুন বাসায়।
এদেশের একটা মজার ব্যাপার – সামার শুরুর প্রথম দিকেই দেখবেন অনেক মানুষ তাদের বেশ ভাল ভাল ফার্নিচার ফেলে দিয়ে চলে যায়। কারন এগুলো নিতে যে পরিমান খরচ হবে তার চে কম খরচে নতুন ফার্নিচারি হয়ত কিনে ফেলতে পারবেন! আবার অনেকেই নতুন ফার্নিচার কিনলে পুরানো টা ফেলে দেন নির্দ্বিধায় ! এসব ফেলে দেয়া ফার্নিচার আমাদের মতন অনেকই হয়ত বাসায় নিয়ে আসি। প্রথম দিকে হয়ত সবাই একটু লজ্জ্বা পাই ! কিন্তু আমার আগের বাসার পোলিশ ল্যান্ডলর্ড- হনোরাটা বলল-এতে লজ্জ্বার কিছু নাই-এটা খুব স্বাভাবিক এ দেশে। বিদেশে এসে আমরা রনবী’র বিখ্যাত চরিত্র “টোকাই” হয়ে যাই ! কই কেও তো কিছু মনে করছেনা এ দেশে !
আমি যে সময় বাসা বদল করলাম সে সময়টা উইন্টার। চারিদিকে বরফ ! এরকম ফ্রী ফার্নিচার পাওয়াটা কঠিন - এ সময়। অগত্যা পুরনো দোকান আর “গুড উইল” থেকে সব কিছু কিনলাম। “গুড উইল” হল এমন একটা দোকান যেখানে অবস্থা সম্পন্ন মানুষ রা তাদের কাছে “অপ্রয়োজনীয়”- এমন সব কিছু দান করে দেয়- সমাজের মানুষ কে হেল্প করার উদ্দেশে। গুড উইল সেসব জিনিস নাম-মাত্র মূল্যে বিক্রী করে। এসব দোকানের জিনিস গুলো ও খারাপ না। অনেক সময় একদম নতুন জিনিস ই পাওয়া যায়। এছাড়া পুরানো ফার্নিচারের দোকান ও আছে অনেক গুলো। অনেক সময় অবশ্য রিস্ক থাকে পুরানো জিনিস কেনাতে। ভাগ্য খারাপ থাকলে পুরানো ফার্নিচারে অনেক সময় থাকে “বেড-বাগ”- আমাদের দেশের ছারপোকা আর কি ! কোন মতে একটা আপনার বাসাতে আমদানি করলেই হয়েছে ! কিছু দিনের মধ্যে সব কিছু ফেলে বাসা থেকে পালাতে হবে !
এদেশে পূরানো জিনিস কেনার আরেকটা সোর্স হল ওয়েব সাইট-“খিজিজি”। এখানকার মানুষ তাদের কিছু বিক্রীর জন্যে সম্পূর্ন বিনে পয়সায় সরাসরি বিজ্ঞাপন দেয় খিজিজি তে। আমরা ও ইচ্ছে করলে দিতে পারবো বিজ্ঞাপন। এ সাইটেও মাঝে মাঝে ঢু দেই। সরাসরি মালিক থেকে কেনার সূ্যোগ থাকাতে অনেকের ই পছন্দ এই খিজিজি।
এছাড়া সামার আসলেই দেখবেন রাস্তার মাথায় লিখা – “গ্যারেজ সেল।” অনেক মানুষ তাদের টুকটাক জিনিস নিয়ে বাসার সামনে বসে পড়ে- বিক্রীর জন্যে। অনেক বুড়ো-বুড়ি কে দেখেছি- ব্যাপারটা তারা বেশ এনজয় করে। অনেক সস্তায় অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায় এসব গ্যারেজ সেলে।
এদেশে নতুন ফার্নিচারের অনেক দাম। একটা বিছানার দাম ই হয়ত ৮০০ থেকে ১০০০ ডলার। আমাদের মতন ছাত্রদের কাছে বেশ এক্সেপেন্সিভ ! এজন্য নিজেদের প্রয়োজনেই পুরানো জিনিসের বিভিন্ন সোর্সের খবর রাখতে হয়।
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



