somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রবাস জীবনের টুকরো কথন- (৪)

২০ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৯:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত এক মাস কিছু লিখা হয় নি। মূল কারন-বাসা বদল। কানাডাতে বাসা চেঞ্জ করা বেশ ঝামেলার। আমাদের দেশে ও ঝামেলার। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক বেশী সস্তায় মানুষের শ্রম কেনা যায়-এদেশে পারা যায়না। আমাদের দেশে হয়ত ৫০০/১০০০ টাকা খরচ করলেই আপনাকে আর কিছু করতে হবেনা। ৩/৪ জন মানুষ আপনার সব ফার্নিচার পুরানো বাসা থেকে নতুন বাসাতে নিয়ে যাবে। এদেশে আপনাকে এরকম কারো সাহায্য নিতে গেলেই মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হবে। ভাগ্য ভাল- আমি যে শহরে থাকি সেখানে অনেক বাংলাদেশীর বাস। এরকম অবস্থায় বাংলাদেশীরা নিজেরাই নিজেদের হেল্প করেন। আমার ব্যাপারে আমি পেয়ে গিয়েছিলাম বেলায়েত ভাই কে। উনার একটা ভ্যান আছে। সেটা করেই কয়েক ট্রিপ দিয়ে বাসা চেঞ্জ করলাম। আরেক জনের কথা না বললেই নয়- নান ডু, আমাদের চাইনিজ বন্ধু। ওর সাথে ধরাধরি করে সব ভারী ভারী জিনিস পত্র নিয়ে উঠে পরলাম নতুন বাসায়।

এদেশের একটা মজার ব্যাপার – সামার শুরুর প্রথম দিকেই দেখবেন অনেক মানুষ তাদের বেশ ভাল ভাল ফার্নিচার ফেলে দিয়ে চলে যায়। কারন এগুলো নিতে যে পরিমান খরচ হবে তার চে কম খরচে নতুন ফার্নিচারি হয়ত কিনে ফেলতে পারবেন! আবার অনেকেই নতুন ফার্নিচার কিনলে পুরানো টা ফেলে দেন নির্দ্বিধায় ! এসব ফেলে দেয়া ফার্নিচার আমাদের মতন অনেকই হয়ত বাসায় নিয়ে আসি। প্রথম দিকে হয়ত সবাই একটু লজ্জ্বা পাই ! কিন্তু আমার আগের বাসার পোলিশ ল্যান্ডলর্ড- হনোরাটা বলল-এতে লজ্জ্বার কিছু নাই-এটা খুব স্বাভাবিক এ দেশে। বিদেশে এসে আমরা রনবী’র বিখ্যাত চরিত্র “টোকাই” হয়ে যাই ! কই কেও তো কিছু মনে করছেনা এ দেশে !

আমি যে সময় বাসা বদল করলাম সে সময়টা উইন্টার। চারিদিকে বরফ ! এরকম ফ্রী ফার্নিচার পাওয়াটা কঠিন - এ সময়। অগত্যা পুরনো দোকান আর “গুড উইল” থেকে সব কিছু কিনলাম। “গুড উইল” হল এমন একটা দোকান যেখানে অবস্থা সম্পন্ন মানুষ রা তাদের কাছে “অপ্রয়োজনীয়”- এমন সব কিছু দান করে দেয়- সমাজের মানুষ কে হেল্প করার উদ্দেশে। গুড উইল সেসব জিনিস নাম-মাত্র মূল্যে বিক্রী করে। এসব দোকানের জিনিস গুলো ও খারাপ না। অনেক সময় একদম নতুন জিনিস ই পাওয়া যায়। এছাড়া পুরানো ফার্নিচারের দোকান ও আছে অনেক গুলো। অনেক সময় অবশ্য রিস্ক থাকে পুরানো জিনিস কেনাতে। ভাগ্য খারাপ থাকলে পুরানো ফার্নিচারে অনেক সময় থাকে “বেড-বাগ”- আমাদের দেশের ছারপোকা আর কি ! কোন মতে একটা আপনার বাসাতে আমদানি করলেই হয়েছে ! কিছু দিনের মধ্যে সব কিছু ফেলে বাসা থেকে পালাতে হবে !

এদেশে পূরানো জিনিস কেনার আরেকটা সোর্স হল ওয়েব সাইট-“খিজিজি”। এখানকার মানুষ তাদের কিছু বিক্রীর জন্যে সম্পূর্ন বিনে পয়সায় সরাসরি বিজ্ঞাপন দেয় খিজিজি তে। আমরা ও ইচ্ছে করলে দিতে পারবো বিজ্ঞাপন। এ সাইটেও মাঝে মাঝে ঢু দেই। সরাসরি মালিক থেকে কেনার সূ্যোগ থাকাতে অনেকের ই পছন্দ এই খিজিজি।

এছাড়া সামার আসলেই দেখবেন রাস্তার মাথায় লিখা – “গ্যারেজ সেল।” অনেক মানুষ তাদের টুকটাক জিনিস নিয়ে বাসার সামনে বসে পড়ে- বিক্রীর জন্যে। অনেক বুড়ো-বুড়ি কে দেখেছি- ব্যাপারটা তারা বেশ এনজয় করে। অনেক সস্তায় অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায় এসব গ্যারেজ সেলে।

এদেশে নতুন ফার্নিচারের অনেক দাম। একটা বিছানার দাম ই হয়ত ৮০০ থেকে ১০০০ ডলার। আমাদের মতন ছাত্রদের কাছে বেশ এক্সেপেন্সিভ ! এজন্য নিজেদের প্রয়োজনেই পুরানো জিনিসের বিভিন্ন সোর্সের খবর রাখতে হয়।

(চলবে)
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×