ছবি

ফেসবুককে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে গত মাসে আত্মপ্রকাশ করেছে সামজিক যোগাযোগ সাইট গুগল প্লাস তথা জিপ্লাস। জিপ্লাস ডেভেলপের নেপথ্য কারিগরের একজন হচ্ছেন বাংলাদেশি সফটওয়্যার প্রকৌশলী জাহিদ সবুর । প্রকল্পটির অন্যতম টিম লিডার তিনি। লিখেছেন হাসান জাকির
ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগে নতুন সেনসেশন গুগল প্লাস। সামাজিক যোগাযোগে শীর্ষে থাকা ফেসবুককে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে গত মাসে আত্মপ্রকাশ করেছে গুগল প্লাস তথা জিপ্লাস। সাফল্যের বিচারে সার্চ জায়ান্ট গুগলের নতুন এই সেবা আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। পরীক্ষামূলক এবং 'ইনভাইট অনলি' হলেও সেবাটি চালুর মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় ২ কোটি ব্যবহারকারী টানতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট ট্রাফিক বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কমস্কোর। গুগল প্লাসের সফলতা নিয়ে যারা সন্দিহান ছিলেন তারাও এখন নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।
'বাজ'-এর ব্যর্থতার পর গুগলের কিছু চৌকস কর্মীর মেধা এবং শ্রমের ফসল এই জিপ্লাস। জিপ্লাস ডেভেলপের নেপথ্য কারিগরের একজন হচ্ছেন বাংলাদেশি সফটওয়্যার প্রকৌশলী জাহিদ সবুর । এ প্রকল্পের অন্যতম টিম লিডার তিনি। ২০০৭ সাল থেকে গুগলে কাজ করছেন। পড়াশোনা করেছেন অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং পরে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে [এআইইউবি]। এআইইউবির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেই যোগ দেন গুগলে। স্নাতকে সিজিপিএ-৪ [সিজিপিএ-৪ এর মধ্যে] অর্জন করে এআইইউবির ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েন সবুর। স্নাতকের ফল সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি আমার জন্য ছিল অবিশ্বাস্য। তবে স্বপ্ন এবং শ্রমের পরিপূর্ণ মিথস্ক্রিয়ায় সাফল্য অনিবার্য। সম্ভবত তারই বাস্তব রূপ আমার এই স্নাতকের ফল। এ কথাটিরই প্রতিধ্বনি যেন তার গুগলে যোগদানের গল্প। বিশ্বজয়ী বীর আলেকজান্ডারের প্রখ্যাত সেই উক্তি
ভিনি-ভিডি-ভিসি'র [এলাম-দেখলাম-জয় করলাম] মতোই জাহিদ যেন জয় করলেন গুগল। স্বপ্ন দেখতেন পৃথিবীর সেরা কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার। তরুণ এ তুর্কিকে নিজের দলে ভেড়াতে যেন মুখিয়েই ছিল গুগল! ডাক পড়ে গুগলের ব্যাঙ্গালোর [ভারত] অফিস থেকে। সেখানে যোগ দেওয়ার ৬ মাস পরই তিনি গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া অফিসে বদলি হয়ে যান।
এরপর ক্যালিফোর্নিয়ায় থেকে আবার গুগলের জুরিখ [সুইজারল্যান্ড] অফিসে স্থানান্তরিত হন তিনি। বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠান এবং বসবাসের জন্য অসাধারণ একটি শহর জুরিখ। সব মিলিয়ে দারুণ খুশি তিনি।
জাহিদ বর্তমানে গুগলের সাফল্যের মুকুটে নতুন নতুন পালক যোগ করতে কাজ করে যাচ্ছেন। গুগলে চাকরির অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি জানান, গুগলে আমার প্রথম প্রকল্প ছিল 'মেশিন ডাটাবেজ'। গুগল যে কত শত মেশিন নিয়ে কাজ করে এটি নিজের চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। শুরুতে তিনি নিজেই বিস্মিত হয়েছেন। বিস্ময় অভিভূতিতে রূপান্তরিত হয়েছে_ এই না হলে গুগল। এর পর ইউনিফরম ডাটা প্রসেসিং এবং ভিজ্যুয়ালাইজেশন নামের একটি প্রকল্পের 'টেক লিড' হিসেবে কাজ করেন। আর এর পরই গুগল প্লাস প্রকল্প নিয়ে কাজ করা। তিনি বলেন, গুগলের সবক'টি প্রকল্পে কাজ করেই অনেক আনন্দ পেয়েছি, নতুন অনেক কিছুই শেখার সুযোগ হচ্ছে এখান থেকে। গুগল প্লাস প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানান, গুগল প্লাস প্রজেক্টে কাজ করার জন্য গুগলের বেশকিছু টিম রয়েছে। এমনই একটি টিমের 'টিম লিড' হিসেবে কাজ করেছি আমি। একজন বাংলাদেশি হিসেবে গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পেরে সম্মানিত এবং গর্ববোধ করছি। এটি ভেবে ভালো লাগছে যে, গুগলে আমি বাংলাদেশেরই প্রতিনিধিত্ব করছি। তার ভালো লাগা ছুঁয়ে যায় আমাদেরও, গর্বিত আমরাও। জাহিদের জন্য শুভ কামনা। শুভ কামনা গুগল প্লাসের জন্যও। Collected

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



