একদা কবিগুরু লিখিয়াছিলেন, “তোমরা হাসিয়া বহিয়া চলিয়া যাও ...”। দুর্মুখেরা বলিয়া থাকে যে কবিগুরু নাকি উক্ত রচনাটি কোন এক বালিকা বিদ্যালয়ের সম্মুখে বসিয়া রচনা করিয়াছিলেন। তাহাদের বক্তব্য নিয়া সন্দেহ পোষন চলে তবে ইহা নিশ্চিত যে উক্ত কাব্য বালিকাদিগের উদ্দেশ্যেই রচিত হইয়াছিল। ষোড়সিদের সাঁড়াসি আক্রমনে ঘায়েল হয় নাই এমন ভদ্রলোক বোধ করি বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডে একটাও খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না। আর আমাদের মানু যে খুব একটা ভদ্রলোক নহে তাহা সে নিজেও অকপটে স্বীকার করে।
তো একদা মানুর উপরেও কবিগুরু আসিয়া ভর করিয়াছিল। তাহারা হাসিয়া বহিয়া চলিয়া যাইতো কুলুকুলুকল নদীর মতো আর মানু ছোট ছোট দীর্ঘঃশ্বাস ছাড়িতো আর ভাবিতো, “আহা যদি উহাদের সহিত কিঞ্চিত সখ্যতা গড়িতে পারিতাম”। কোন বস্তু মনে প্রাণে কামনা করিলে ঈশ্বর নাকি তাহা দান করিয়া থাকেন, ইহা আমার নহে বিবিধ মহাপুরুষগণ নানা কালে বলিয়া গিয়াছেন। মহাপুরুষদিগের কথা ফেলনা নহে। সূতরাং মানুর ভাগ্যে একদিন শিকে ছিড়িল। জনৈকা সর্বাঙ্গসুন্দরী সহপাঠিনী মানু’কে প্রস্তাব করিল যে সে মানুর সহিত বিপণী কেন্দ্রে ভ্রমন করিতে ইচ্ছা রাখে। উদ্দেশ্য এক হালি বেদানা ক্রয়। সেদিন ছিল চৈত্র মাস। প্রহর শেষের আলোয় রাঙা নহে, বেলা দ্বি-প্রহর। তথাপি মানুর বালিকার চোখে নিজের সর্বনাশ দেখিতে পাইলো। আহা এতোদিনে বুঝি পরমেশ্বর তাহার পানে মুখ তুলিয়া তাকাইয়াছেন। চকিত নেত্রে এদিক ওদিক পানে চাহিয়া সে বুঝিতে পারিল নিকটবর্তি সহপাঠিগণ অগ্নিদৃষ্টিতে তাহাকে ভস্ম করিবার প্রয়াস চালাইতেছে। সেসব মানু থোড়াই কেয়ার করে। বর্তমানে সে বালিকার সহিত রিক্সায় করিয়া দুদন্ড ভ্রমনের স্বপ্ন বুননে ব্যাস্ত।
অতঃপর সহপাঠীগণের অভিশাপ মাথায় লইয়া মানু বালিকার সহিত বেদানা ক্রয়ে চলিল। হায়! হতভাগা জানিল না সে কোন বাটে পড়িয়াছে। প্রথম ফল বিপণীতে গিয়া বালিকা এক খানা বেদানা হস্তে লইয়া এমন দৃষ্টিতে উহার পানে তাকাইয়া থাকিল যেন পৃথিবীতে উহার মতো অখাদ্য বস্তু আর দ্বিতীয়টি নাই। বেদানার প্রাণ থাকিলে সে হয়তো বলিয়া বসিতো, ধরণী দ্বিধা হও। কিন্তু উহার কথা বলিবার ক্ষমতা নাই বিধায় দোকানি নানা সুরে বেদানার গুণকীর্তন করিতে লাগিল। সহস্র প্রেমিকের লক্ষাধিক কাব্যে যাহার হৃদয় গলে না, সে কি দোকানির দুটি মিষ্ট বাক্যে ভুলিবার পাত্র? সূতরাং রফা হইল বেদানার বক্ষ চিরিয়া দেখা হইবে। যদি উহার অন্তর রক্তবরণ হয় তবেই বালিকা উহাকে গ্রহণ করিবে। ওদিকে মানুর হৃদয়ের ক্ষরিত রক্ত ততক্ষনে জমিয়া বেদানার রুপ ধারণ করিয়াছে। তাহার বক্ষ চিরিয়া দেখাইলে কি হইত সে আমি জানিনা কিন্তু বেদানার বক্ষে আশানুরুপ রক্তিম আভা মিলিল না। সূতরাং দোকানির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করিয়া তাহারা পরবর্তি ফল বিপনীর উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলো। সেখানেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। তারপর আবার সেই একই ঘটনা। ততক্ষনে মানুর হৃদয়ের ক্ষরিত রক্ত কিঞ্চিত ফ্যাকাশে হইয়া গিয়াছে। যদিওবা বেদানা পছন্দ হয় তো উহার মূল্য পছন্দ হয় না, আবার মূল্য সুবিধামতো হইলে বেদানা হয় ফ্যাকাশে। এইরুপে বালিকা সমগ্র শহর ঘুরিয়া শেষটাতে যখন উহা ক্রয় করিতে সক্ষম হইল তখন মানু আবিস্কার করিল তাহার হৃদয়ে আর এক বিন্দু পরিমান প্রেমভাব অবশিষ্ট নাই।
সেই দিন হইতে মানু বুঝিয়াছে, বালিকাদিগকে লইয়া কাব্য রচনা, স্বপ্ন বুনন সবই চলে কিন্তু বিপনী কেন্দ্রে ভ্রমন, কদাচ নহে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



