somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানি গেম শো বিপিএল: বিপর্যস্ত ক্রিকেট : বিপরীত স্রোত

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একাধারে টেস্ট ও ওডিআইতে বিপর্যস্ত ক্রিকেটকে উদ্ধারের জন্য যখন দীর্ঘমেয়াদি সুচারু কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি ছিল, জরুরি ছিল লং-ভার্সন ক্রিকেট কাঠামো বিস্তারে বিশাল বিনিয়োগ, ঠিক তখন কিছু বিসিবি কর্মকর্তার নিজস্ব সব সমীকরণকে সহায়তা দিতে জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলো উদ্ভট, অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিপিএল।
মাত্র কয়েক মাস আগেই পর পর তিনটি সিরিজে দেশের মাঠে টেস্ট, ওডিআই ও টি-টোয়েন্টিতে যেভাবে চমর লজ্জাজনক ফল করেছে বাংলাদেশ দল, সেই বিবেচনায় বা মাপকাঠিতে একেবারে বেমানান এই বিপিএল উদ্যোগ। দেশের ক্রিকেটের পৃষ্ঠে ছুরিকাঘাত বলা যায় এটিকে।
এখন একবার ফিরে তাকান আপনারা ক্রিকেট দলের সার্বিক ফলাফলের দিকে। গত ১২ বছরে বাংলাদেশ জাতীয় দল ৭৩টি টেস্টের ৬৩টিতে পরাজিত, তিনটিতে জয়লাভ ও সাতটিতে ড্র করেছে। সবচেয়ে ভীতিজনক বিষয়টি হচ্ছে, এই ৬৩টি পরাজয়ের ৩৫টিতে ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা উপহার দিয়েছে জাতিকে। সাতটি ড্র টেস্টের পাঁচটি আল্লাহর দান অর্থাৎ বৃষ্টির কারণে।
২৬ বছরে ওডিআই ফলাফল হচ্ছে ২৫৮টি ম্যাচের ১৮৬টিতে পরাজিত, ৭০টিতে জয় এবং দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে ১৮টি টি-টোয়েন্টির ১৪টিতে পরাজয় এবং চারটিতে জয়। এখন সর্বশেষ আইসিসি র্যাংকিং দেখা যাক। টেস্ট র্যাংকিংয়ে আমাদের অবস্থান সর্বশেষ নবম অবস্থানে। অপ্রতুল টেস্ট ম্যাচ খেলায় জিম্বাবুয়ে এতে বিবেচনায় আসেনি। ওডিআইতেও আমাদের অবস্থান নবমে। আমাদের পরে রয়েছে যথাক্রমে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড, হল্যান্ড ও কেনিয়া। টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে থাকলেও ১ আগস্ট ২০১১ থেকে কোনো ম্যাচ না খেলায় আমাদের বিবেচনায় ধরা হয়নি।
বিদেশি ক্রিকেট বিশ্লেষক নেইল রে এ সপ্তাহে লিখেছেন: বিপিএল লাভজনক হলো কি না সেটা পরের কথা। বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রশ্নটি হচ্ছে, এটা বাংলাদেশের ক্রিকেট মর্যাদা রক্ষায় কী ভূমিকা রাখবে?
আমাদের সবার দীর্ঘদিনের প্রশ্নটিই করেছেন নেইল রে। দেশজুড়ে ইন্ডিয়ার রনজি ট্রফি ও পাকিস্তানের কায়দে আজম ট্রফির অদলে তিনদিনের একটা টুর্নামেন্টের দাবি আমরা করে আসছি টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর টেস্টে ফলাফল বিপর্যয় শুরু হওয়া থেকেই। সেদিকে কোনো কর্ণপাত করেনি বিসিবি কর্মকর্তার খাটা পাল্লার ব্যক্তি মুনাফাধর্মী প্রতিযোগিতা কাঠামোতে লোলুপ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে।
ওয়ার্ল্ড কাপ ক্রিকেটের অপ্রয়োজনীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পেছনে প্রায় তিন শ কোটি টাকা খরচ ও বিপিএলের পেছনে অঢেল অর্থ ব্যয় করলেও আমরা দেশের লং-ভার্সন ক্রিকেট ভিত্তিভূমি গড়ে তোলার জন্য যৎসামান্য বিনিয়োগে এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর আরও অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু গড়ে তোলার পেছনে কোনো দৃষ্টিই দিইনি। ফড়িয়াধর্মী ও ফটকাবাজারি দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন রাজনৈতিক বিবেচনায় মুখ্য পদ পাওয়া বিসিবি কর্মকর্তারা যত দিন থাকবেন, তত দিনই এভাবে খুঁড়িয়ে অপমানের বোঝা মাথায় নিয়ে চলবে আমাদের ক্রিকেট।
আইপিএলের চটুল ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে আক্রান্ত আজ ইন্ডিয়ান ক্রিকেট। টেস্ট র্যাংকিংয়ে এক নম্বর অবস্থানে উঠেছিল ইন্ডিয়া। জয়ও করেছিল ওয়ার্ল্ড কাপ কিছুদিন আগে। কমিটমেন্টের অভাব অতি ক্রিকেট ক্লান্তির ফলশ্রুতিতে পর পর দুটি সিরিজে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে লজ্জাকরভাবে সব ম্যাচ হেরেছে।
বিশ্ব ক্রিকেটে সমীহ অর্জন করার মতো মর্যাদা লাভ করতে গেলে লং-ভার্সন ক্রিকেটে স্কিল অর্জন ছাড়া বাঁচার কোনো উপায় নেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। টেস্ট ক্রিকেটটাই প্রকৃত ক্রিকেট। টেস্ট ক্রিকেটে সফল হওয়াতেই তাদের মহামুক্তি। কিছু স্বার্থান্বেষী বিসিবি কর্মকর্তার ক্রিকেটকে বাণিজ্যিকীকরণের খুঁটি হিসেবে যদি বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা ব্যবহৃত হতে থাকে, তবে দেশের ক্রিকেট মর্যাদার চলমান বিপর্যয়-প্রক্রিয়া কেবল দীর্ঘায়িত হবে দেশবাসীকে লজ্জিত করে।
আসলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে বিপিএলের অনুষ্ঠানটা একেবারে বেমানান। লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী আজ শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে নিঃস্ব, আত্মহত্যা করছে কেউ কেউ, জীবন্মৃত আরও অসংখ্য বিনিয়োগকারী, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতিতে সীমিত আয়ের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষ প্রায় দেড় বছর ধরে সঞ্চয় নিঃশেষ করে এখন ঋণ করে সংসার চালাচ্ছে, ডলারের মূল্য সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এখন এক শ টাকার দিকে ধাবমান, জ্বালানিসংকটে শিল্পকারখানা অর্ধমৃত। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তাপ সাময়িকভাবে প্রশমিত করার জন্য এই উদ্ভট বিপিএল চাপিয়ে দেওয়ার দুরভিসন্ধিটা বিসিবির যারা করছে, তাদের মূল উদ্দেশ্যটি কিন্তু ব্যক্তি-সৌভাগ্যকে আরও স্ফীত করা। এটা অমঙ্গলজনক একটা উদ্যোগ।

ইন্ডিয়ার বিপিএল অবজ্ঞা
রাজনৈতিক কারণে প্রথম আইপিএলটির পর আর কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আর সুযোগ দেয়নি ইন্ডিয়ান ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবি পাকিস্তানি তারকাদের নিয়েছে ইন্ডিয়ান ক্রিকেটারদের না পেয়ে। ইন্ডিয়ান ক্রিকেটারদের বিপিএলে নেওয়ার ব্যাপারে ইন্ডিয়ান বোর্ডকে রাজি করতে ব্যর্থ হয়েছে বিসিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ইন্ডিয়ান বোর্ডের কৌলীন্যবোধের কারণে। একই কারণে ইন্ডিয়া বাংলাদেশকে গত এক যুগে সেখানে কোনো টেস্ট বা ওডিআই সিরিজ খেলতে আমন্ত্রণ জানায়নি। ইন্ডিয়ান তারকাদের অনুপস্থিতি বিবর্ণ করেছে বিপিএলকে অনেকটাই।
আইপিএলের অভাবনীয় সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বিপিএল অনুষ্ঠিত করার কোনো যুক্তিই ছিল না বিসিবির। আর্থিক সচ্ছলতা, সাংগঠনিক পেশাদারি ভিত্তি, টিভি বিজ্ঞাপন রাজস্ব, বিশাল ব্যক্তি বৈভবময় ফ্রাঞ্চাইজ ক্রেতা ও খেলার মান ও দর্শকসংখ্যার দিক থেকে তাদের সঙ্গে আমাদের তুলনাটা একেবারে বেমানান। বাস্তবে গিয়ে দেখা গেল যে ঝকমকে আইপিএলের পাশে বিবর্ণ শীর্ণ পাণ্ডুর বিপিএল। এই বিষয়ে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ক্লাব ক্রিকেট বা বাংলাদেশে পরিচিতি ক্রিকেট স্পন্সরদের প্রায় অধিকাংশই এই টুর্নামেন্টে অনুপস্থিত। এদের অনেকেই সাধারণ ক্লাব পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতা করার বিষয়টি বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন। ফলে বিপিএলে অধিকাংশ পৃষ্ঠপোষকই বাংলাদেশের ক্রিকেট সমাজে নতুন।

ক্রিকেট বিশ্লেষক নেইল রে লিখেছেন
‘বিপিএলের ব্যাপারে ইন্ডিয়ান বোর্ডের এই শীতলতার প্রধান কারণটি হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এই বোর্ড চায়নি আইপিএলের একটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিযোগিতার আবির্ভাব ঘটুক।’

স্পট ফিক্সিং বিতর্ক
মাশরাফিকে দেওয়া সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার শরিফুলের কথিত স্পট ফিক্সিং অভিযোগ তদন্তে কোনো কূলকিনারা পায়নি বিসিবি গঠিত তদন্ত কমিটি। বিসিবির সার্বিক সাংগঠনিক অদক্ষতার একটি প্রমাণ এটি। ঠিক একই সাংগঠনিক দক্ষতার অভাবে বিসিবি ইন্ডিয়ান খেলোয়াড়দের ব্যাপারে ইন্ডিয়ান বোর্ডকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে। পরে স্পট ফিক্সিং তদন্তের জন্য ডাকা হয় আইসিসি দুর্নীতি দমন কমিটির সদস্যদের। এই দুই বিদেশি কর্মকর্তার পেছনেও খরচ হবে অনেক টাকা বিসিবির। ছয়টি ফ্রাঞ্চাইজের যদি সুদক্ষ দুর্নীতি বা নিরাপত্তা প্রতিরোধ কর্মকর্তা না থাকে, তবে স্পষ্ট ফিক্সিং বাইরে থেকে বা বিদেশ থেকে কর্মকর্তা এনে ঠেকানো সম্ভব নয়।

বিপর্যস্ত ঘরোয়া ক্রিকেট
বিপিএলের কারণে জাতীয় ক্রিকেট থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার লীগ অনুষ্ঠিত করা হলেও তাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
বিপিএলের জন্য খেলোয়াড় না ছাড়ার ব্যাপারে প্রিমিয়ার লীগের ক্লাবগুলো কঠোর অবস্থানে গেলে বিসিবি তাদের প্রশমিত করার জন্য ক্লাবপ্রতি ৩০/৩৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার করে।
এই দুটি মুখ্য ঘরোয়া ক্রিকেট এখন অনুষ্ঠিত হবে বিপিএল ও এশিয়া কাপের পর বর্ষা ও গরমে এপ্রিল-মে মাসে। অর্থাৎ ঘরোয়া ক্রিকেটের বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটল এবং মুখ্য হয়ে উঠল অপ্রয়োজনীয় বিপিএল।
একইভাবে মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দোকান মালিক সমিতির চাপে তাদেরকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেবে বিসিবি। কারণ বিপিএলের জন্য তারা তাদের ব্যবসা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এখন হিসাব করুন বিপিএলের আর্থিক ঝক্কি ও সাংগঠনিক জটিলতা।

দর্শকশূন্য গ্যালারি
দর্শক পরিপূর্ণ স্টেডিয়ামের উৎসবমুখর পরিবেশটাই হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রধান আকর্ষণ। সেই পরিচিত পরিবেশই উজ্জীবিত খেলা খেলে তারকারা। কারণ, ক্রিকেটের এই চটলতম ভার্সনের দর্শকই হচ্ছে তরুণ বয়সী ছেলেমেয়েরা। বিপিএল ম্যাচসমূহের দর্শকশূন্য গ্যালারি দেখে লজ্জা লাগে। কারণ, সরাসরি সম্প্রচারের কারণে ক্রিকেট খেলার দেশগুলোর দর্শকেরা দেখছেন এই অদ্ভুত বিষয়টি।
দেশের বাস্তবতার সঙ্গে ক্রিকেট কর্মকর্তাদের যে আদৌ কোনো ধারণা নেই, তা প্রমাণিত হলো ক্রিকেটের দাম নির্ধারণটা দেখে। প্রথমে দুই ম্যাচের জন্য পাঁচ শ টাকা করে পরে তা কমিয়ে দুই শ টাকা করা হলো। তাতেও দর্শক এলো না মাঠে। আসলে চড়া দামে স্ন্যাকস ও পানি যেহেতু স্টেডিয়ামের ভেতর থেকে কিনতে হবে দর্শকদের, তাই যাতায়াত ভাড়াসহ এক ম্যাচে চার শ টাকার মতো খরচ হয় একজন দর্শকের। যেটা ছাত্রদের জন্য প্রতিদিন মাত্রাতিরিক্ত ব্যাপার। সঠিক হতো যদি দুই ম্যাচের জন্য টিকিটের মূল্য এক শ টাকা করা হতো। কর্তৃপক্ষ যদি সেটি অবিলম্বে না করে, তবে দুই সেমিফাইনাল ও ফাইনালটি ছাড়া বাকি ম্যাচে স্টেডিয়াম খালিই থাকবে। চিয়ারলিডারস কখনো দর্শকের বিকল্প হতে পারে না।
যদি বিদেশি সেরা তারকা সমাগম বেশি হতো ছয়টি দলে, তবে হয়তো দর্শক বাড়ত কিন্তু সেটিও হয়নি। দর্শক টানার মতো তারকা ক্রিস গেইল, মুত্তিয়া মুরালিধরন, আহমেদ সেহজাদ ও ব্রাড হগ ছাড়া আর কেউ নেই। বর্ষীয়ান জয়সুরিয়া ও চন্দরপল এখন আর দর্শক টানতে সক্ষম নন। সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক তারকা আফ্রিদিকে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস পাবে মাত্র শেষ দুটি দিনের জন্য। তারই সঙ্গে আসবেন স্বদেশি সাঈদ আজমল।

রাজস্ব ও রেমিট্যান্স
ছয়টি বিপিএল দলের ফ্রাঞ্চাইজ ক্রেতা ব্যক্তিদের বিশাল আর্থিক ব্যয়ের উৎস, তাদের ও তারকাদের নিলাম অর্থ থেকে উৎসে কর কর্তনের স্বচ্ছতা এবং বিদেশি তারকা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদেশি সাংস্কৃতিক দলের পারিশ্রমিকের অর্থ যেহেতু বৈদেশিক মুদ্রায় প্রদান করা হবে, সেই অর্থের রেমিট্যান্স বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈধ অনুমতিতে হয়েছে কি না, সেটা নিশ্চিত করা উচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ শাখার। এসব যদি না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে অন্য কোনো সরকার এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখলে ঝামেলায় পড়বে বিসিবি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষসমূহ।

অপসংস্কৃতির যথার্থ অভিযোগ
বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অপসংস্কৃতি প্রদর্শনের যে অভিযোগ এনেছে দেশের শীর্ষ সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ, তা যথার্থ। আমাদের দেশের মূল্যবোধকে আসলেই ভূলুণ্ঠিত করেছে সংগঠকেরা। এ জন্য ক্ষমা চাওয়ার যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যেই ক্ষমা চাওয়াটাই হবে সমীচীন।

সুন্দর বলেছেন বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সংগঠক মান্নান হীরা: যে অপসংস্কৃতি প্রদর্শন করা হয়েছে, সেটি ফড়িয়া ও ফটকাবাজদের সংস্কৃতি।
সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর যে অতি জরুরি বিষয়টি তোলা উচিত ছিল সেটি হচ্ছে, এই অনুষ্ঠানটির পেছনে কত কোটি টাকা দেশ থেকে চলে গেল, তা কীভাবে দেশ থেকে বিদেশে গেল এবং সেটির উৎস কী? আসলে খরচ স্ফীত করলেই মুখচেনা কিছু সংগঠক তা থেকে ফায়দা তোলার সুযোগ পায়। এসব ব্যয়ে বিদেশে অর্থ পাচারের সন্দেহ রয়েছে অনেক বিশ্লেষকের।

আজম মাহমুদ
সাপ্তাহিক বিপরীত স্রোত -এ প্রকাশিত কলাম

১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×