আমার প্রিয় পোস্ট

ডিজিটাল সরকারের পিডিএফ বই

২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:১৯

শেয়ারঃ
0 0

আমরা সবাই জানি কিছুদিন আগে পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে গোডাউনে আগুন লেগে কোটি কোটি টাকার বই ছাপানোর কাগজ পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী আগামী বছর সময়মতো তাদের পাঠ্যবই হাতে পাবেনা।

এ অবস্হায় ,একটি বেসকারি টিভি চ্যানেলে বিঙ্গাপনে দেখলাম যে, সরকার সময়মত সব শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার জন্য দ্রুত ওয়েবসাইটে বইগুলো ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

খবরটি দেখে প্রথমে বেশ খুশি হলাম! এই না হলো ডিজিটাল সরকার! কিন্তু পরক্ষনে , অনেকগুলা চিন্তা মাথায় জট পাকতে শুরু করলো।

১। আমাদের কত শতাংশ লোক ইন্টারনেট ব্যাবহার করছে?
২। যারা বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যাবহার করছে তারা কোথায় থাকে?
৩। যারা বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যাবহার করছে তারা সবাই কি সুষ্ঠভাবে সরকারের ওয়েব থেকে বইগুলা নামিয়ে নিতে পারবে?
৪।যে বইগুলো ফ্রি বিতরন করা হয় সব শিক্ষার্থীরা কি ওয়েব থেকে ফ্রি পাবে?
৫। এ ক্ষেত্রে কি প্রকাশকরা যারা প্রতিবছর বই নিয়ে বানিজ্য করে তারা ফ্রি বইগুলো ওয়েব থেকে নামিয়ে প্রিন্ট করে বই আকারে বিক্রি করে ডবল বানিজ্য করার সু্যোগ পাবেনা?
৬। আপনাদের কি মনে হয় এ অবস্হায় একজন প্রত্যন্ত গ্রামের অশিক্ষিত লোক তার দ্বিতীয় শ্রেনী পড়ুয়া ছেলের হাতে সময়মতো ফ্রি বই তুলে দিতে পারবে?

সরকার বলবে বই ওয়েবে ছাড়ছি আর কোন চিন্তা নাই আপাতত। ডিজিটাল বাংলাদেশে সবাই এখন নৌকা ঠেলা বাদ দিয়া কম্পিুটিং ঠেলতাছে, তারা ক্ষমতায় আসার পর ঘরে ঘরে লগির বদলে কম্পু আর ল্যাসমার্ক প্রিন্টার আছে। এক ক্লিকে , একসেট পিডিএফ বই ঘ্যচঘ্যচ করে কাগুজে বই হয়ে যাবে তাইলে আপনারা কি কইবেন??

তবে সরকারকে ধন্যবাদ এই জন্য যে, কেউ উপকৃত হোক বা না হোক এটলিষ্ট একটা সঠিক সিদ্ধান্ত ,সঠিক সময়ে, বেশি সময় না নিয়ে, নিতে পারছে।(ভবিৎতে হয়তো কখনো এরকম সিদ্ধান্তগুলোর জন্য আমরা ভালো ফল পাবো)।যাইহোক, নতুন বই দিতে দিতে মে ২০১০ হলেও ছাফাই গাইতে পারবে যে তারা এটলিষ্ট ডিজিটাল ভাবে সময়মতই বই ছাড়ছে। বি এম পি কি এটা পারতো বা করেছিলো ?? :P

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ডিজিটাল সরকারপিডিএফ বই ;
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:১৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:২০
ইন্ঞ্জিনিয়ার বলেছেন: আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর হল, নগদ যা পাও হাত পেতে নাও। পিডিএফ করে দিলে কিছু শিক্ষার্থী তো অন্তত সময়মত বই পাবে। একেবারে না পাওয়ার চেয়ে সেটা অন্তত ভাল। আর, ঐ বই নিয়ে বাণিজ্য করার সুযোগ কেউ পাবে না কারণ, যেকেউ বই ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে ব্যবসা করতে পারবে। একচেটিয়া ব্যবসা কেউ করতে পারবে না।
৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৩৬

লেখক বলেছেন: লেখাটি সামুর সাথে আমার প্রিয় প্রজন্ম ফোরামে দিছিলাম। এখানে এক ফোরামিষ্টের কোমেন্টা কপি পেষ্ট করলাম।

[quote=দক্ষিণের-মাহবুব]এ প্রসঙ্গে আমি কিছু কথা বলি। সরকারের এ উদ্যোগটি কতটা সফলতার মুখ দেখবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এর ফলে শহরের বাচ্চারা যে উপকৃত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। সমস্যা হবে গ্রামে যারা আছে। আমার বাবা ও মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। গ্রামের স্কুলের শিক্ষক হিসেবে তাদের কম্পিউটার জ্ঞান জানা থাকার কথা নয়। খবরটি যেদিন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে সেদিন বাবা আামাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলেন "ওয়েবসাইট" কি? কারণ তিনি খবরে পড়েছেন এবং টিভিতে দেখেছেন ওয়েবসাইটে বই ছাড়ার কথা। আমি তাকে যতটা সম্ভব বুঝিয়েছি। আমাদের বাড়ীটা খুব একটা প্রত্যন্ত অঞ্চলে নয়। উপজেলা শহর থেকে ৭-৮ কিলোমিটার দুরে। কম্পিউটার(ইন্টারনেট পরে) সুবিধা বাদে এমন কোন কিছু নেই যেটা আমাদের গ্রামে পাওয়া যায় না(পটুয়াখালী শহরের চেয়ে আমরা আগে পত্রিকা পাই)। কম্পিউটারের কোন কাজ করতে হলে আমাদের উপজেলা শহরে যেতে হয়। উপজেলা শহরে কম্পিউটারের দোকান আছে সর্বোচ্চ ১০০ টি। এদের মাঝে ইন্টারনেট কানেকশন আছে সর্বোচ্চ ২০ টিতে। এক পৃষ্ঠা প্রিন্ট করতে নেয় ২০ টাকা। আপনি বেশী করলে হয়ত কম নিবে। কিন্তু তাও ১২-১৪ টাকার নিচে নয়। সুতরাং হিসেব করে দেখুন একটা বইয়ের পিছনে কত টাকা খরচ হবে। যেখানে পরীক্ষার ফি ২০-৩০ টাকা দিতেই অনেক বাবা-মায়ের কষ্ট হয় সেখানে এত টাকা খরচ করে বই যোগাড় করার মত কয়টি পরিবার আপনি পাবেন?

উপরের কথাগুলো বললাম কিন্তু আমাদের গ্রাম সম্পর্কে। আমাদের উপজেলার অধীনে এমন কিছু গ্রাম/ইউনিয়ন আছে যেখানে যেতে হলে আপনাকে হয় ট্রলার/নৌকায় যেতে হবে অথবা হেটে যেতে হবে। পায়ে হাটার পথ ছাড়া কোন পথ নেই সেখানে। বিদ্যুতের কথা তো না হয় বাদই দিলাম(মূল সমস্যাটা আড়িয়াল খা নদীর কারণে)। সুতরাং এই সব এলাকায় আপনি এই বই কিভাবে পৌছাবেন? এই এলাকার মানুষ তো জানবেই না সরকার ইন্টারনেট না কিসে বই ছেড়েছে। স্কুলের শিক্ষকদের কাছে অভিভাবকগণ জিজ্ঞেস করলে তার হয়ত সর্বোচ্চ বলতে পারবে গোডাউন পোড়ার কারণে বই আসেনি। সুতরাং সরকার যতই চিল্লা-পাল্লা করুন ডিজিটাল করে ফেলবে বাংলাদেশকে। সেটা সম্ভব হবে, কিন্তু অনেক পরে। এখন পর্যন্ত শহরঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধাই নিশ্চিত করতে পারল না, গ্রামের কথা তো অনেক পরে আসছে। কলরেট নিয়ে মোবাইল কোম্পানীকে তারা যতটা চাপ দেয় ইন্টারনেট এর গতি এবং খরচ নিয়ে কিছু কি বলতে পারে না? বলবে কিভাবে, নিজেরাই তো ঠিক নাই।




এবার আমি যেখানে থাকি সেখানকার কথাই বলি, এটা একটা জেলা । লোকসংখ্যা প্রায় আট লাখ । এদের মধ্যে শহর বলতে যে জায়গাটা আছে সেখানে থাকে কমবেশি এক লাখ লোক। বাকি সবাই গ্রামে। শহরের অর্ধেক লোক তাদের মোবাইলই সঠিক ভাবে ব্যাবহার করতে জানেনা।কম্পিউটার তো অনেক দূর। কম্পিউটার সম্পর্কে কিছু লোক মনে করে এতে শুধু লেখালেখি করা যায়, কিছু লোক মনে করে এতে মোবাইলে গানটান লোড করা যায় আর ক্যামেরা দিয়ে ছবির কাজ করা যায়। খুব অল্প মানুষ আছে যারা ইন্টারনেট সম্পর্কে হালকা পাতলা জানে। শহরের সবাই যে মুর্খ তা কিন্তু না। বাসায় ইন্টারনেট ব্যাবহার করে হাতে গোনা কিছুলোক, ১০০ হবে কিনা সন্দেহ। শহরে ৫/৬ দোকানে ইন্টারনেট নেট ইউজ করা যায় পাশাপাশি তারা কোম্পোজ, রিংটোন, এমপি থ্রি, কাটপিস, নুড পিক ইত্যাদি মোবাইলে লোড করার ব্যাবসা করে। নেট ইউজারের চেয়ে এসবের কাস্টোমার বেশি। দোকানদারদের মতে এসব না রাখলে দোকানই চলবেনা।
তবে অবস্হার পরিবর্তন হচ্ছে ধিরে। এস এস সি, এইচ এস সির মতো পরিক্ষার রেজাল্ট সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন তথ্যের জন্য দোকানগুলোতে ভীড় হয় দু তিন বছর থেকে।

এটাই বর্তমান অবস্হা।

 

মোট সময় লেগেছে ২.৯৪০৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
I am not far, but alone. Like a pair of rail tracks in winter morning.............
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই