আমরা সবাই জানি কিছুদিন আগে পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে গোডাউনে আগুন লেগে কোটি কোটি টাকার বই ছাপানোর কাগজ পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী আগামী বছর সময়মতো তাদের পাঠ্যবই হাতে পাবেনা।
এ অবস্হায় ,একটি বেসকারি টিভি চ্যানেলে বিঙ্গাপনে দেখলাম যে, সরকার সময়মত সব শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার জন্য দ্রুত ওয়েবসাইটে বইগুলো ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
খবরটি দেখে প্রথমে বেশ খুশি হলাম! এই না হলো ডিজিটাল সরকার! কিন্তু পরক্ষনে , অনেকগুলা চিন্তা মাথায় জট পাকতে শুরু করলো।
১। আমাদের কত শতাংশ লোক ইন্টারনেট ব্যাবহার করছে?
২। যারা বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যাবহার করছে তারা কোথায় থাকে?
৩। যারা বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যাবহার করছে তারা সবাই কি সুষ্ঠভাবে সরকারের ওয়েব থেকে বইগুলা নামিয়ে নিতে পারবে?
৪।যে বইগুলো ফ্রি বিতরন করা হয় সব শিক্ষার্থীরা কি ওয়েব থেকে ফ্রি পাবে?
৫। এ ক্ষেত্রে কি প্রকাশকরা যারা প্রতিবছর বই নিয়ে বানিজ্য করে তারা ফ্রি বইগুলো ওয়েব থেকে নামিয়ে প্রিন্ট করে বই আকারে বিক্রি করে ডবল বানিজ্য করার সু্যোগ পাবেনা?
৬। আপনাদের কি মনে হয় এ অবস্হায় একজন প্রত্যন্ত গ্রামের অশিক্ষিত লোক তার দ্বিতীয় শ্রেনী পড়ুয়া ছেলের হাতে সময়মতো ফ্রি বই তুলে দিতে পারবে?
সরকার বলবে বই ওয়েবে ছাড়ছি আর কোন চিন্তা নাই আপাতত। ডিজিটাল বাংলাদেশে সবাই এখন নৌকা ঠেলা বাদ দিয়া কম্পিুটিং ঠেলতাছে, তারা ক্ষমতায় আসার পর ঘরে ঘরে লগির বদলে কম্পু আর ল্যাসমার্ক প্রিন্টার আছে। এক ক্লিকে , একসেট পিডিএফ বই ঘ্যচঘ্যচ করে কাগুজে বই হয়ে যাবে তাইলে আপনারা কি কইবেন??
তবে সরকারকে ধন্যবাদ এই জন্য যে, কেউ উপকৃত হোক বা না হোক এটলিষ্ট একটা সঠিক সিদ্ধান্ত ,সঠিক সময়ে, বেশি সময় না নিয়ে, নিতে পারছে।(ভবিৎতে হয়তো কখনো এরকম সিদ্ধান্তগুলোর জন্য আমরা ভালো ফল পাবো)।যাইহোক, নতুন বই দিতে দিতে মে ২০১০ হলেও ছাফাই গাইতে পারবে যে তারা এটলিষ্ট ডিজিটাল ভাবে সময়মতই বই ছাড়ছে। বি এম পি কি এটা পারতো বা করেছিলো ??
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



