আমি যখন ভার্সিটিতে ভর্তি হই তখন বেশি কিছু পোলাপাইনের সাথে খাতির হয়। অনেকেই ছিল স্কুল বা কলেজ থেকে পরিচিত। প্রথম প্রথম তাদের সাথেই আড্ডা দিতাম। আস্তে আস্তে ডিপার্টমেন্টের এক ছেলের সাথে খুব খাতির হতে থাকে। পুরানো বন্ধুদের বাদ দিয়ে তার সাথেই মেলা সময় কাটাইতাম। হলে থাকতো না সে। মোহাম্মদপুরে বাসা নিয়ে থাকতো। বাবা মা ছিল সিলেটে। ওর সাথেই দেখা যেত ভার্সিটি লাইফে বেশির ভাগ সময় কাটাইছি। পাগলাটে ধরনের ছিল। এক মেয়ের প্রেমে পড়ে কিন্তু বলার সাহসে কুলায় নাই। এইটা নিয়েও মজার মজার সব পাগলামি ছিল। ওর সাথে দেখা যাইতো সারাদিন আড্ডা দিয়ে রাতে বাইরে কোথাও খাওয়া দাওয়া করে বাসায় যাইতাম ১১ টার দিকে।
পরে এক মেয়ের সাথে তার প্রেম হয়, চিটাগাঙ্গে। বেশ কয়েকবার গেছিলাম ওর সাথে। রাতে বাসে করে যেতাম, সকালে হোটেলে একটু রেস্ট নিয়ে তার বউ এর সাথে দেখা করতাম রেল স্টেশনে। সেখান থেকে ট্যাক্সি নিয়ে পতেঙ্গা। তারা বসে বসে গপ্প করতো আর আমি ঘুরে বেড়াতাম। তারপর দুপুর হলে জি এস ই মোড়ে এসে বিরিয়ানি খেতাম। তারপর আরেকটু গপ্প করে ভাবী যাইতো তার বাসায় আর আমরা হোটেলে চলে আসতাম। আর তারপর রাতের বাসে আবার ঢাকায়।
আমরা নভেম্বরে পাস করে বের হই। আর সে পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকাতে চলে যায়। যখন যায় সেইদিন বুঝেছিলাম তারে কতটা পছন্দ করি। চোখে পানি আসছিল এতো প্রিয় এক বন্ধুর সাথে আর হয়তো জীবনে আড্ডা মারা হবে না ভেবে। এখনো ওর সাথে আমার দেখা হয় নাই। মাঝে সাঝে মেইলে বা চ্যাটে বকবক হয়। কখনো ফোনেও কথা হয়। এই আর কি!
ব্লগেও আমার এক খুব প্রিয় একটা ছেলে অভিমানী আরণ্যক যাযাবর। তারেও আমি অনেক পছন্দ করি। তারেও আমি অনেক মিস করবো। ভালো থেকো।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



