কতো সহজই না ছিলো তোমার কথাগুলো,
অথচ কতো কঠিন ছিলো তাদের নিঃসরণ,
তুমি মাথা নিচু করে বসেছিলে,
তোমার মুখ বেয়ে নেমে আসা কথাগুলোর ভার
কত শত সহস্র মণ ছিলো তা বোঝা যায়নি,
তবে থেকে থেকেই আমার মনে হচ্ছিলো
যেন প্রবল কম্পনে কিছুক্ষন পর পর বিদীর্ণ চিৎকারে
দ্বিখন্ডিত হয়ে যাচ্ছিলো মাটি,
আসলে অলক্ষ্যে দ্বিখন্ডিত হয়ে যাচ্ছিলো
আমার হৃদয়খানিই,
আমি স্পষ্টই শুনতে পাচ্ছিলাম--
তোমার প্রতিটি আহত শ্বাসের শব্দ,
তোমার এক একটা কথা কী অসীম সাহসে
ধেয়ে ধেয়ে এসে টুটি চেপে ধরছিলো
তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসের,
আমি স্পষ্টই দেখতে পেয়েছিলাম তোমার গলার
ফুলে ফুলে ওঠা রগগুলো,
তোমার কথার নীল বিষে
কী অসহ্য নীলাভই না দেখাচ্ছিলো তাদের,
যেন অসহ্য যন্ত্রণায় কাতর তারা থেকে থেকেই
তোমায় মিনতি করছিলো--তুমি এবার ক্ষান্ত দাও,
তোমার কথার উষ্ণতা আজ আগুনসম, তুমি থেমে যাও,
নতুবা কিছুক্ষণ পরেই জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাব আমরা।
হায়, তুমি থামোনি সেদিন, থেমে ছিলো না তোমার
চোখ বেয়ে নেমে আসা কান্নার জলের অনিঃশেষ ঢেউগুলোও,
তোমার কান্নার জলের প্রতিটি ফোঁটার প্রতিটি পদক্ষেপ
শুনেছিলাম আমি সেদিন,
তারপরও কেনো যেন তোমায় আমি থামায়নি সেদিন,
তোমার এক একটা শব্দের উচ্চারণ যেন থেকে থেকেই
আমাদের মাঝে ব্যবধান রচনা করে যাচ্ছিলো
শত শত আলোকবর্ষ দূরের,
তবু আমি তোমায় থামাইনি সেদিন,
কেন থামাইনি তার উত্তর আজও জানা হয়নি আমার,
সেই কাল-দিনের সাক্ষী আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসকে
আমি দাঁড়া করিয়েছিলাম আমার প্রেমের কাঠগোড়ায়,
তাদের জবানবন্দী নেব বলে,
হায়! তারা সবাই চুপ করেছিলো মাথা নিচু করে, তোমার মতোই,
আমি তাই আজও বসে থাকি সেই উত্তরের আশায়,
প্রতিনিয়তই আমার কবিতার খাতায় ঝড় ওঠে,
এভাবে ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায় আমার এক একটা কবিতাও,
তবুও উত্তর খুঁজে পাওয়া হয়ে ওঠে না আমার সেই প্রশ্নটার--
কেন আমি তোমায় থামাইনি সেদিন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

