আমার রক্তাক্ত নীলিমাটায়
রক্ত শুকিয়ে শুকিয়ে একসময় জমাট বেঁধে গেলো,
নীলিমার নীল, লাল রক্তের ফুলকি ধারায়
পিছু হটতে হটতে
কোথায় যেন একদিন ভেসে ভেসে হারিয়ে গেলো,
অথচ কেউ এলো না,
কেউ এলো না ফাস্ট এইড বক্স, ছুরি, কাঁচি, ব্যান্ডেজ নিয়ে,
একটা বার এসে দেখলো না আমার নীলিমার কোন জায়গাটা
থেকে লাল রক্তের ধারাটা খরস্রোতার মতো বইতে শুরু করেছে,
আমার কোলাহলময় রাত্রিগুলোর প্রত্যেকটা
গভীর নৈঃশব্দে হারিয়ে গেলো,
রাত্রিগুলোর লাজুক প্রেমময়তা কেঁদে কেঁদে
বহুদূর থেকে ভেসে আসা বৃদ্ধ কোন এক শিয়ালের ভয়াল
ডাকের অতলান্তে হারিয়ে গেলো,
অথচ কেউ এলো না,
কেউ এলো না রাত্রির সেই লাজুক প্রেমময়তা আমাকে ফিরিয়ে দিতে,
দিনের শেষে বিষাদ সন্ধ্যাকালে কই কেউ তো
আজো এলো না আমার হৃদয়ের অন্ধ কুঠুরীগুলোতে
সন্ধা-প্রদীপ হাতে নিয়ে সন্ধ্যার আলো জ্বালাবে বলে,
এতোটাকাল আমি আমার ছোট্ট বাগানটাতে কত শত ছোট বড়
স্বপ্ন আশার অসংখ্য কুঁড়ি গেঁথে গেঁথে গেলাম,
কই আজ অবধিও তো কোন স্বর্ণালী ফড়িং
তার রঙীন পাখা মেলে মেলে এসে সেথায় নিরালায়
ঘুরে বেড়ালো না আপন আনন্দে,
হতাশা,একাকীত্ব, নিশাদ যখন আমাকে অসহায় যীশুর মতো
দুই হাত দেয়ালে রেখে বিশালাকায় সব পেরেক ঠুকে ঠুকে
আমার অন্তর আত্মার ব্যবচ্ছেদ করে গেলো অনন্ত নিরালায়,
কই তখনও তো কেউ এলো না,
এলেন না ঈশ্বরও--
পিতার মতো হয়ে নেমে এলেন না তিনি পৃথিবীর বুকে,
রক্তাক্ত তার ছেলেকে সকল বেদনার ঊর্ধ্বে তুলে নিয়ে যেতে
তাকেও কেমন যেন অপরাগ দেখালো খুব;
কেউই এলো না, কারোই হয়তো আসতে নেই,
তবু আমি একাকী এক যুবক,
পার্থিব সকল আলো আঁধারের মায়াজাল ভুলে গিয়ে,
আশা, ভালোবাসার ভিন্ন আরেকটা পৃথিবী বুকে নিয়ে,
ঝলসানো পূর্ণিমা রাতে চোয়ালটাকে একটা হাতে আটকে রেখে,
মুগ্ধ নয়নে জ্যোৎস্নাক্ষয়ী চাঁদটার দিকে চেয়ে থাকি
অন্য হাতটা খালি রেখে,
কেউ নাই বা এলো, তবু স্বপ্ন বুনি,
হয়তো ঐ চাঁদটাই এক রাতে জ্যোৎস্নার অনিঃশেষ স্রোতধারায়
ভেসে ভেসে আকাশের বুক থেকে নীরবে নেমে এসে
আমার উন্মুক্ত হাতটাতে চুমু খাবে জ্যোৎস্নার অসীম মায়াছায়ায়--
এক অপার্থিব লাজুক হাসিতে;
আমি তাই অপেক্ষায় থাকি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

