ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কর্তৃক বাংলাদেশকে প্রদত্ত সুবিধাকে কাজে লাগাচ্ছে ভিন্ন কয়েকটি দেশ। বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশে ইইউ থেকে যে জিএসপি (জেনারেশনাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স) সুবিধা প্রায় জালিয়াতির মাধ্যমে তা অন্যদেশ ব্যবহার করছে। সম্প্রতি ইইউভুক্ত দেশ বেলজিয়ামের কাস্টমস দপ্তর এ ধরনের ৮টি ঘটনা উদঘাটন করেছে। উল্লেখ্য, পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ইইউ বাংলাদেশকে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট জিএসপি সুবিধা দিয়ে থাকে। এ সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ উৎপাদিত সুতা থেকে কাপড় তৈরি করে তা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি করলে সংশ্লিষ্ট দেশের আমদানিকারক শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে। প্রকারান্তরে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা এ সুবিধা পেয়ে থাকে।
বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, বেলজিয়ামের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মালু এনভি শুল্ক ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া জিএসপি সার্টিফিকেট তৈরির মাধ্যমে হংকং থেকে পোশাক আমদানী করেছে। বেলজিয়াম কাস্টমস অথরিটির কাছে ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে জিএসপি সুবিধা নিয়ে নেয়। বেলজিয়াম কাস্টমস দীর্ঘ তদন্ত শেষে জিএসপি সার্টিফিকেটগুলো বাংলাদেশের ইপিবিতে পাঠিয়ে দেয়। ইপিবি যাচাই বাছাই শেষে সার্টিফিকেটগুলো জাল বলে সনাক্ত করে।
জানা গেছে, বেলজিয়ামের ক্রেতা মানু এনভি হংকং থেকে পোশাক আমদানি করলেও ভুয়া জিএসপি সার্টিফিকেট তারা চট্টগ্রামের বিভিন্ন কারখানার নাম উল্লেখ করে, মানু এনভি হংকং-এর এইচ সি নিটিং ফ্যাক্টরী লিমিটেড থেকে দুই দফায় ২৪ হাজার ৭২০ পিস ডেনিস জ্যাকেট আমদানি করে। কিন্তু এক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান এশিয়া এ্যাপারেলস লিঃ-এর নাম ব্যবহার করে ভুয়া জিএসপি সার্টিফিকেট-এর মাধ্যমে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে নেয়। এছাড়া মালু এনভি হংকং থেকে পোশাক আমদানির পর বাংলাদেশের যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে জিএসপি সুবিধা নিয়েছে সেগুলো হচ্ছে- মেসার্স আগামী এ্যাপারেলস লিঃ, সিয়ার্স ফ্যাশন লিঃ, নিটেক্সপো লিঃ, নীট ফ্যাশন্স লিঃ, কৃষাণ নিটিং লিঃ প্রভৃতি। জানা গেছে, বেলজিয়াম কাস্টমস এর পক্ষ থেকে মালু এনভির পণ্যের বিপরীতে ইস্যু করা জিএসপি সার্টিফিকেটগুলো ইপিবির কাছে পাঠানো হলে সেগুলো প্রাথমিকভাবে জাল বলে সনাক্ত হয়েছে। এখন বিষয়টির পুরোপুরি তদন্ত চলছে।
বাংলাদেশের কয়েকজন বড় রপ্তানিকারকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কিছু অসাধু ক্রেতা তৃতীয় দেশ থেকে পোশাক আমদানি করে জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশের জিএসপি সার্টিফিকেট ব্যবহার করছে। দুই একটি ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছে। তারা জানান, এর আগে জিএসপি কেলেংকারির কারণে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পোশাক রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছিলো। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোটা কেলেংকারির কারণে বাংলাদেশকে জরিমানা করা হয়েছিলো। সে ক্ষত শুকাতে না শুকাতে এ ধরনের জালিয়াতি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকে হুমকির মাঝে ফেলতে পারে। রপ্তানিকারকরা ওই ক্রেতা সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য সরকার এবং রপ্তানিকারকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য মানু এনভি বাংলাদেশের জিএসপি সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে দীর্ঘদিন পোশাক আমদানি করলেও বেলজিয়াম কাস্টমস প্রাথমিক ৭৯ লাখ ইউরোর রপ্তানি সন্ধান পেয়েছে।
সূত্রঃ ইত্তেফাক
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


